দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৫
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৬৫
ব্যক্তিটির বলিষ্ঠ হাতে মায়ার গলা চেপে ধরে টেনে নিয়ে গেল দেয়ালের দিকে। মায়ার পা পিছিয়ে যেতে লাগে তো ব্যক্তিটির পা আগাতে লাগলো। হিংস্রত্ব প্রকাশে মায়াকে ঠাস করে, টেসে ধরে দেয়াল সাথে মিশিয়ে গর্জে উঠে বলে…
—” বড় বড় কলিজা নিয়ে ঘুরিস? তোর কলিজাটা কত বড় হয়েছে সেটা আজ আমিও মেপে দেখব। আমাকে ডিভোর্স পাঠাস? আমাকে? তোর সাহসের দাঁত ভেঙ্গে আজ আমি যাব। তোকে কে বাঁচাই আমিও দেখবো।
মায়ার আটকে আসা নিশ্বাসের তাগিদে ছটফট করে রিদের হাতটা ছুটাতে চাইল নিজের গলা থেকে অনবরত কাশতে কাশতে। রিদের সাথে জোড়াজুড়িতে সফল হলো না। রিদের বুক দু-হাত ঠেকিয়ে আচানক জোর হাতে ধাক্কায় দেয়। ঘটনা আকস্মিক হলেও রিদকে দূরে সরাতে সক্ষম হলো না মায়ার। তবে মায়ার গলায় রিদের হাতটা কিছুটা হাল্কা হয়ে যায় ঘটনার আকস্মিকতায়। তাতে মায়া সুযোগ বুঝে ছুটে পালাতে চাইলো রিদের হাত থেকে বাসার ভিতরে। এতেও মায়া সফল হতে পারেনি রিদের হঠাৎ অনবরত গুলি বর্ষণে। রিদের হিংস্রতা যেন আজ আকাশ ছুঁয়েছে মায়ার ডিভোর্স পেপার পাঠানোতে। রিদ এক হাতে বন্দুকের টিগার চেপে সাথে সাথে দক্ষ হাতে ফায়ার চালালো মায়ার চারপাশে এলোপাতাড়িতে। ভয়ে আতঙ্কে মায়া দিশেহারা হয়ে প্রাণপূর্ণ চিৎকার করে উঠে তৎক্ষনাৎ। রিদের গুলি বর্ষণের শব্দে ভিতরের ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে আসে উঠানের জুই ও ফিহা। মায়ার ভয়ার্ত আতনাদের চিৎকার ও রিদের অনবরত গুলি বর্ষণে আতঙ্কিত হয়ে যায় তাঁরা দুজনও। কি করবে বুঝে না পেরে দুজনই ছুটে দৌড়ে যেতে চাইলো ভয়ার্ত মায়ার দিকে। কিন্তু তার আগেই দুজনের পথ আঁটকে দাঁড়ায় রিদের বডিগার্ডরা। জুই হামলা, মারামারি, গুলি জীবনের প্রথম দেখায় ভয়ে আষ্টশ হয়ে মায়ার জন্য কেঁদে উঠে তখনই। সে শুনেছে রিদ খারাপ। কিন্তু এতটা ভয়ানক হবে মায়ার জন্য সেটা কখনোই ভাবেনি। জুই শব্দ করে কেঁদে উঠতেই ফিহা তাকে একহাতে জড়িয়ে দিয়ে তৎক্ষনাৎ চিৎকার করে ডেকে উঠে রিদকে…
—” ভাই কি করছো তুমি? থামো প্লিজ। এটা আমার শশুর বাড়ি। মায়া ভয় পাচ্ছে।
রিদের ফায়ার থামে। কিন্তু রাগ নয়। হিংস্র লাল চোখ গুলো এবার তাক হয় ফিহার দিকে। রিদকে মাত্রাতিক রেগে থাকতে দেখে শুকনো ঢুক গিলল ফিহা। বডিগার্ডের কাছে বন্দী দশায় থেকে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে…
—” ভাই তুমি…
ফিহার কথা শেষ হবার আগেই শুনা যায় রিদের ক্ষেপান্তর কন্ঠের স্বর..
—” একদম না। এক্সট্রা জ্ঞান দিবি না। আর না মাঝখানে কথা বলার চেষ্টা করবি। তাহলে ফলাফল ভালে হবে না।
রিদের হুমকে দমে যায় ফিহা। এই মূহুর্তে রিদের সাথে কথা বলা মানেই পরিস্থিতি আরও বিগড়ানো। ফিহা চুপ হলো। অসহায়ত্ব প্রকাশ করলো মায়ার জন্য। মায়া তখনো রিদের ভয়ে সিঁটিয়ে কান্না করছে বাড়ির উঠানের আম গাছের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে। রিদের গুলি শব্দ থামতেই পুনরায় পালাতে চাইলো ভয়ে। কিন্তু এবার কপাল সহায়তা হলো না তার। রিদের বডিগার্ডরা চারদিক থেকে ঘিরে ধরলো। মায়া এবার অন্য দিকে দৌড়াতে চাইলে, রিদ হাতে আটকা পড়লো। রিদ মায়ার বাহু টেনে চেপে ধরে আম গাছটির সাথে। যার ফলে মায়া গাছের সাথে ভারি খেয়ে পিঠের মেরুদণ্ডে ও মাথায় প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করে, গোঙ্গাতেই, রিদ আরও ক্ষেপ্ত হলো। দক্ষ হাতে মায়ার গাল চেপে ধরে মুখের ভিতর টেসে ঢুকালো নিজের হাতের বন্দুকটি। বন্দুকের আঘাতে মায়া ঠোঁট কেটে রক্ত পড়লো তৎক্ষনাৎ। রিদের হিংস্রতের দাবিতে মায়াও জান যেন এবার বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো রিদের ভয়ে। কপালের তরতর ঘাম, চোখের পানি ও গুরি গুরি বৃষ্টি ফোটার সাথে মিশ্রিত হয়ে যাচ্ছে মায়ার। রিদের হিংস্রত্ব চেহারায় মায়া ভয়ে তরতর করে কেঁপে চোখের পানি ছেড়ে দিল রিদের হাতে। মায়া কথা বলার রা রইলো না একটুও। রিদ মায়ার মুখের উপর ঝুকে রাগে তিরতির করে বলে উঠে…
—” আমি বলেছিলাম আমার বিরুদ্ধিতা করবি না। তারপরও কেন করলি? কে তোকে সাহস দেয় আমাকে ডিভোর্স পাঠানোর। আমাকে চোখে পড়ে না তোর। জানে ভয় নেই। আমাকে ডিভোর্স পাঠাস? তোর জন্য শান্তি পাচ্ছি না কোনো কিছুতে। আমার আরামের কাজ গুলো হারাম হয়ে যাচ্ছে শুধু তোর জন্য। আর তুই আমাকে ডিভোর্স পাঠাস? নাগর জুটিয়েছিস এখানে এসে? আমি শান্তিতে থাকতে না পারলে, তোকে শান্তিতে থাকতে দিব? আমার ঘুম না হলে তোকে ঘুমাতে দিব? ডিভোর্স পাঠিয়েছিলি না আমাকে? দাঁড়া! তোর ডিভোর্স আজকে তোকেই খাব আমি। আসিফফ!
রিদের চিৎকার করা ডাকে তৎক্ষনাৎ ডিভোর্স হাতে দৌড়ে আসে আসিফ…
—” জ্বিই ভাই!
রিদ মায়াকে ছেড়ে সোজা হয়ে দাড়িয়ে আসিফ থেকে ডিভোর্সের কাগজ নিয়ে মায়ার মুখের দিকে ছুঁড়ে মারলো। মায়া চমকে উঠে, হিচকি তুলে কাঁদতে থাকে নত মস্তিষ্কের রিদের সামনে দাঁড়িয়ে। মায়ার এই রিদকে ভিষণ ভয় করছে। হাড় কাঁপানো ভয় লাগছে। মায়ার সাথে বিগত দুইদিন ধরে রিদ এমন বাজে ব্যবহার করছে। যেটা আগে কখনো করেনি রিদ। মায়ার এই রিদকে চাই না। এই রিদ ভালো না মায়ার জন্য। এই রিদ ভিষণ খারাপ। রাগী, বদমেজাজি আর মায়াকে আঘাত করে শুধু। মায়া চাই না এমন বদমেজাজি খারাপ রিদকে। মায়া ডুকরে কেঁদে উঠলো রিদের ভয়ে আষ্টশ হয়ে। মায়ার গায়ে ছুড়ে মারা ডিভোর্স পেপারটি পড়লো পায়ের কাছে ফ্লোরে। রিদ মায়াকে ডিভোর্স পেপারটি তুলতে না দেখে পুনরায় হুংকার ছেড়ে বলে…
—” তুল কাগজটি।
মায়া ভয়ে আতঙ্কে জড়সড় হয়ে ঝুকে কাঁপা কাঁপা হাতে ডিভোর্সের কাগজটি তুলে নেয় হাতে। নাক টেনে হিচকি তুলে সোজা হতেই পুনরায় শুনা গেল রিদের গলায় স্বর।
—” এবার খাঁ তোর ডিভোর্স।
মায়া চমকে রিদের দিকে অশ্রু সিক্ত চোখে তাকায়। ঠোঁট ভেঙ্গে পুনরায় কেঁদে উঠে রিদের পাষাণ কথায়। হাতের উল্টো পিঠে ঠোঁটের রক্তটুকু মুছে রিদের দিকে তাকিয়ে ‘খাবে না’ বলে নাহুচ করতে চাইল। কিন্তু রিদ মায়াকে বলতে না দিয়ে আবারও সে বলল। রাগে দাঁতে দাঁত পিষে বলে…
—” না করবি। পুনরায় মার খাবি। খেতে বলছি তোকে আমি। খাবি!…. খাঁ!
ভয়ে মায়া আর কিছুই বলতে পারল না রিদকে। হিচকি তুলে কেঁদে, কাঁপা কাঁপা হাতে ডিভোর্সের কাগজটি ছিঁড়তে গিয়ে দেখলো তার হাতের রক্ত কাগজের উপর লেগে গেছে। মায়া পুনরায় রিদকে তাকিয়ে ঠোঁট ভেঙ্গে কেঁদে অযুহাত দেখিয়ে বলল..
—” কাগজে রক্ত লেগে গেছে। আমি রক্ত ওয়ালা কাগজ খায় না তো। এটা ফেলে দেয়?
রিদ কটমট করে তাকিয়ে বলে..
—” না তুই এটাই খাবি। সাইন করার সময় সমস্যা ছিল না তোর। এখন খেতেও সমস্যা হবে না। যেখানটায় সাইন করেছিস? সেখানটা ছিঁড়ে খাবি এখন।
মায়া কেঁদে কেঁদে ডিভোর্সের সাইন করা জায়গাটা ছিঁড়ে মুখে দিল। বিদঘুটে ভাবে নাক মুখ ছিটকে তৎক্ষনাৎ মুখ থেকে বের করে পাশে ফেলে দিয়ে বলল..
—” ইয়াক! থু! মজা না।
আসিফ ছোট ছোট চোখ করে মায়ার দিকে তাকায়। সিরিয়াস সময়ে মায়া কথা গুলো মজা করা মনে হলো। কিন্তু মায়া যে মজা করছে না সে জানে। যার দুনিয়ার খেয়াল নাই এক রত্তি ও। সবকিছু মজা ভাবে নেয়। এমনটা একটা অবুঝ মেয়ের ভালোবাসায় দেওয়ানা হলো স্বয়ং গ্যাংস্টার রিদ খান। সত্যিই দারুণ! বিগত একমাস নিজের ভালোবাসার মানুষকে সেইফ রাখতে রিদ খান কি কি করেছে তার একমাত্র সাক্ষী হলো আসিফ নিজেই। যাকে এতোটা ভালোবাসে সে, তার কাছ থেকে ডিভোর্স মেনে নেওয়াটা সত্যিই কষ্টকর। তাছাড়া মায়াই বা কি দোষ? সেতো এই মূহুর্তে বিশাল ষড়যন্ত্রের চক্রের শিকার। সেকি আর জানে নাকি, তাকে নিয়ে কত বড় ফাঁদ পাতা হয়েছে রিদ ভাইকে দূর্বল করার জন্য। জানে না। জানলে নিশ্চয়ই ডিভোর্স পেপারে পাঠিয়ে বোকামি করতো না। মারটা খেতো না এখন। কিন্তু তাকে জানানোও নিষেধ। রিদ ভাই নিষেধ করেছে। কারণ মায়াকে জানানো মানেই শত্রু পক্ষকে সচেতন করে দেওয়া যে, রিদ খান পূবে থেকেই তাদের বুনা ষড়যন্ত্রের ফাঁদ সম্পর্কে অবগত। মায়ার অবুঝ। হয়তো তার থেকে ইনিয়ে বিনিয়ে কথা জেনে মায়ার ক্ষতি করে বসবে বলেই রিদ ভাই জানতে দেয়নি এতো দিন। তাছাড়া এমনটাও হতো যে, মায়া কারও না কারও সাথে নিজের অবুঝতায় পেটের কথা সব শেয়ার করে ফেলতো বলেই রিদ ভাই মায়াকে শুরু থেকেই ভুল বুঝাবুঝির মধ্যে রেখেছে। সবটা খুলে বলেনি। বরং মায়াকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে শত্রু পক্ষকে বুঝিয়েছে তাঁরা সফল হয়েছে রিদ খান থেকে মায়াকে আলাদা করতে। মেহু আব্দুল্লাহ আর মায়ার মধ্যে হওয়া সকল ঘটনাই রিদ ভাই শুরু থেকে জানতো। জেনে বুঝেই মেহুকে সুযোগ দিতো মায়ার চারপাশে ভিড়ার। রিদ ভাই সবসময় মায়ার প্রতি এক্সট্রা কেয়াফুল ছিল। মায়ার সবকিছু সে নিজ দায়িত্বে তদারকি করে এসেছে এতো দিন। মায়াকে নিয়ে সবসময় সচেতন থাকতো। এই জন্য বিষয়টি শুরুতে বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু মেহু মনে করতো রিদ খান কোনো কিছু অবগত নয়। আসলে মেহুকে এমনটা বুঝানো হতো বলেই সে এমনটা বুঝতো। রিদ খান বুঝাতো। আর বাকি রইলো এখন রিদ ভাইয়ের দুনিয়াকে জানিয়ে ঘটা করে বিয়ে করার বিষয়টি। অবশ্য তার পিছনেও যথেষ্ট কারণ আছে। আসিফ মনস্তাত্ত্বিক বিষয়ে চিন্তা করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনরায় তাকালো সামনে। আপাতত সে কারও পক্ষপাতিত করলো না। চুপ করে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকলো। পাশ থেকে রিদ মায়ার কথায় তৎক্ষনাৎ কটমট করে বলে…
—” কথা বাড়াবি। গাল ফাটিয়ে থাপ্পড় খাবি। আমাকে ডিভোর্স পাঠানোর আগে মনে ছিল না তোর?
রিদের কথা এবার মায়া নড়েচড়ে উঠে খানিকটা। রিদের কথায় কথায় মায়াকে আঘাত করাটা মানতে না পেরে, প্রকাশ করলো বিগত একমাসে মেহুর কথা গুলো। কাঁদতে কাঁদতে বলল…
—” না আমার কিচ্ছু মনে ছিল না। বেশ করেছি ডিভোর্স দিয়েছি। মারার সময় আমি। আর প্রেম করার সময় মেহু আপু কেন? আমাকে না মেরে নিজের প্রেমিকার কাছে যান। তাঁকে গিয়ে মারুন! আদুর করুন। আমার কি? আমি দেখেছি আপনাদের দুজনের একত্রে
ছবি, ভিডিও, মেহু আপুর ফোনে। এতো প্রেম দুজনের মধ্যে থাকলে আমার কাছে কেন আসেন? বারবার আঘাত করতে। যান আপনি, আপনার মেহু প্রেমিকার কাছে। আমার কাছে কি? আমিও আপনার মতো করে অন্য কারও সাথে প্রেম করবো আপনার চোখে…
‘ঠাস’ মায়ার কথা সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই রিদের দাবাং হাতে থাপ্পড় পড়ে মায়ার বামগালে। মায়ার পরপুরুষে সাথে প্রেম করতে চাওয়াই রিদ থাপ্পড়টা মারে রাগের বশে। মায়া রিদের রাগ আরও বাড়িয়ে দিয়ে গালে হাত দিয়ে ভ্যা ভ্যা করে কেঁদে উঠে বলে…
—” অসভ্য লোক খালি মারে। আমি যাব না আপনার বাড়ি। করব না আপনাকে বিয়ে। খাব না আপনার ভাত। যান।
‘ঠাস’ এবারও বাজিয়ে পড়লো মায়ার ডানগালে অপর থাপ্পড়টি রিদের হাতে। মায়া এবার ডানগালে হাত দিয়ে কেঁদে রেগেমেগে বলে উঠে…
—” আমি জীবনেও করবো না আপনার সংসার। আপনার ভাতও আমি খাব না। খাব না! খাব না! যান তো আপনি।
মায়ার প্রতিটা উক্তিতে বাজিয়ে মারে মায়ার গালে থাপ্পড় রিদ। এবারও তাই মারলো। পুনরায় বামগালে। মায়া দু’হাতে দুগাল ধরে রিদের ভয়ে দমে গিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে উঠে, রিদকে সম্মতি গরগর করে বলে…
—” করবো তো আপনার সংসার। করবো! খাবো তো আপনার ভাত। আপনাকেই বিয়ে করবো আর কাউকে না। সত্যি বলছি।
মায়ার সহজ সরল স্বীকারোক্তিতে রিদ আর মারলো না মায়াকে। দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করে রাগ কন্ট্রোল করলো। কটমট করে তাকালো মায়ার নেয়। মায়া তখনো দু-হাত গালে ঠেকিয়ে কাঁদছে অনবরত। রিদ দাঁতে দাঁত পিষে বলে…
—” ফর দা লাস্ট টাইম বলছি। আমাকে জ্বালাবি না। ছেড়ে যাওয়ার কথাও মুখে আনবি না। আজ যেটা করিনি। সেটা কাল করবো না এমনটা না। মেহু আমার কেউ না। কারও সাথে আমার লেনদেন নাই তুই ছাড়া। তাই তুই আমার থেকে ইহকালেও ছাড় পাবি না। যত জেদ করবি। ততই বাধ্য করবো তোকে আমি। তোকে আমার হাত থেকে বাঁচানোর মতো ক্ষমতা কারও নেই। তোর বাপেরও না।
মায়া দু-গালে হাত দিয়ে হিচকি তুলে কাঁদতে কাঁদতে বলে…
—” তা.. তাহলে আপনার মেহু প্রেমিকা সাথে ঐ ভিডিও গুলা কি?
—” বলছি না। আমার তুই ছাড়া কারও সাথে লেনদেন নাই।
—” আমি বিশ্বাস করি না। আমি দেখেছি ফিহা আপুর বিয়ের দিন মেহু আপুর ফোনে ছবি, ভিডিও আপনাদের দু’জনের। কেমন কেমন সব ছবি ছিল।
—” তোর বিশ্বাস নাই বলেই আজ আমি তোর থেকে দূরে। আগামীতেও থাকবো। হাজার বার বলবো ভালোবাসি না তোকে আমি। ভালোবাসবও না। তারপরও তোর আমার সাথেই থাকতে হবে। সংসার করতে হবে। তুই আর তোর বাপ! কি করিস আমার তাও দেখে নিব আমি। শুরু থেকেই জানতাম তোর আর মেহুর বিষয়টি। তারপরও চুপ ছিলাম কিছু কারণ বশত। কিন্তু তুই সেদিন সত্যতা যাচাই না করে। আমাকে কিছু জিগ্যেসা না করে। সোজা নোংরা অপবাদ দিয়ে দিলি। যেটা সহ্য হয় নাই তাই মার খাইছিস। আগামীতে খাবি! যদি মানুষ না হোস। এবার তোর বাপকে বলিস আমার মুখোমুখি না হতে। যদি হয় তাহলে তোর বাপ বলে, তাকেও ছেড়ে দিব না আমি। দাদী কাল আসবে পুনরায় বিয়ে তথ্য নিয়ে। সোজা বিয়েতে রাজি হবি। তিরিং বিরিং করবি, বা আমার কানে ‘না ‘ কথাটা আসবে! তখন দেখবি কতটা ভয়ানক আমি হয়! আর তুই কতটা সহ্য করতে পারিস আমাকে।
রিদ রেগেমেগে তিরতির মেজাজে সেখান থেকে বের হতে গেলে দুজন বডিগার্ড এসে দ্রুত গেইট খুলে দেয়। রিদ রাস্তায় বের হয়ে চারপাশে মানুষ জনের ভিড় দেখতে পারলো। সে রাগে কটমট করে তাকাতেই সেখানকার মানুষজন বিনা শব্দের যার যার মতো করে কেটে পড়ে। সবাই রিদ খানকে চিন্তে পেরেছে বলেই বিনা শব্দে চলে গেল। নয়তো এতক্ষণে হাঙ্গামা তারাও করতো রিদের সাদা। রিদ রাগী হাতে গাড়ির পিছনের দরজা খুলে বসতেই আসিফ দৌড়ে এসে ড্রাইভারের সাথে বসলো। রিদ রাগের তিরতির করে করে গলার কাছের শার্টের বোতাম গুলো টেনে খুলে সিটে গা এলিয়ে দিয়ে আসিফের উদ্দেশ্য করে বলে…
—” কাজ হয়েছে?
দ্রুত উত্তরে বলল আসিফ..
—” জ্বিই ভাই হয়েছে। এদের পিছনে আফজাল তালুকদারের বড় ছেলের হাত আছে ভাই। বাবার মৃত্যু প্রতিশোধ থেকে সবকিছু করছে। সাথে তাদের নারীর পাচার করার ব্যবসাটাও আপনার জন্য বন্ধ হয়ে আছে বিদায়, প্রতিশোধের নেশায় কয়েক জন্য বড় বড় নেতাদের নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চক্র করছে মেহুকে দিয়ে। তাদের উদ্দেশ্য মূলত আপনাকে আঘাত করা। যার জন্য ভাবিকে মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করছে।
আসিফের কথায় তৎক্ষনাৎ অসম্মতি জানালো রিদ। নিজের ক্রিমিনাল মাইন্ড চালিয়ে বলল…
—” উহুম! কারণ আরও কিছু আছে আসিফ। আফজাল তালুকদারের ছেলের এতো সাহস বা ক্ষমতা হবে না আমার বিরুদ্ধতা করার। কয়েকজন নেতাকে নিয়ে সামান্য ক্ষমতার ভর ধরে আমার মতো গ্যাংস্টারে পিছনে লাগবে না। যুক্তিতে পরছে না বিষয়টি আমার। খুঁজ কর। ওদের পিছনে মাস্টার মাইন্ড অন্য কেউ হবে। সে নিজেকে আত্মা গোপন রেখে আমার মাইন্ড ডাইভার্ট করতে চাচ্ছে। ব্যাপার না। আমরাও বুঝালাম আমরা ভিষণ বোকা। তারা অতিচালাক। এক কাজ কর। পাখিকে খেইল দেখিয়ে খাঁচায় বন্দী কর। তাদের বুঝতে দে আমরা আসলেই কিছু বুঝিনি। সাথে আরও একটা কাজ করবি! আমার বিয়ের কার্ড প্রত্যেকের বাসায় নিজ দ্বায়িত্বে পাঠাবি তুই। মিস জেন না হয়। মেহুকে খবর পাঠা আমি বিয়ে করছি তোর ভাবিকে। আগুন ছড়িয়ে দে সবদিকে। সাথে আমাদের বিয়ের কার্ডে বড় করে তোর ভাবির নামটা লিখে দিবি যাতে তাদের পড়তে সমস্যা না হয়। বুঝতে পারছিস আমি কি বুঝাতে চাইছি?
রিদের কথায় গুলো তৎক্ষনাৎ বুঝতে পারলো না আসিফ..
—” না ভাই।
রিদ বিরক্তি নিয়ে বলে…
–” প্রেমে পড়ে বলদ হয়ে গেছিস তুই।
—” সরি ভাই।
রিদ সিটে শরীর ছেড়ে বসে কপালে হাত ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করতেই গাড়িটি চলতে শুরু করলো। আশুগঞ্জের মুড় বেড়িয়ে যেতেই হঠাৎ করে রিদ গম্ভীর কণ্ঠে পুনরায় ডেকে উঠলো আসিফকে…
—” আসিফ।
–” জ্বিই ভাই।
–” আমার উপর বিশ্বাস রাখতে পারবি যেকোনো পরিস্থিতিতে…
তুমুল আত্মা বিশ্বাসে মাথা নাড়ালো আসিফ। দৃঢ়তা সাথে বলল…
—” জ্বিই ভাই অবশ্য রাখতে পারবো। কিন্তু এ কথা কেন বলছেন ভাই। কিছু হয়েছে? আমি কোনো ভুল করেছি?
রিদ চোখ বন্ধ রেখে কপালের হাত ঠেকানো অবস্থায় গম্ভীর কণ্ঠতে বলে…
—” আমার যদি ভুল না হয়। ওদের নেক্সট টার্গেট তুই হবি।
—” আমি?
~~
মায়াকে ধরে বসে আছে জুঁই। দুই বোন কাঁদছে তবে কান্নার কারণটা ভিন্ন। জুই রিদের ভয়ে মায়ার জন্য কাঁদছে। আর মায়া কাঁদছে রিদের আঘাতের ব্যথা পেয়ে আর তার আচরণে। ফিহা গ্লাস ভরতি পানি এনে মায়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে..
—” নে ধর! আগে পানিটা খেয়ে শান্ত হয়ে ফটাফট বল রিদ ভাইয়ের সাথে তোর কি ঝামেলা হয়েছে।
ফিহার কথায় মায়া উত্তর না করলেও জুই করলো তৎক্ষনাৎ। খানিকটা রাগি মিশ্রিত কন্ঠে বললো…
—” ভাবি মায়া কাঁদছে। এসব কথা পরের জন্য থাক। তোমার ভাই ভালো না। বাবা ঠিকই বলে। আসলেই রিদ খান অনেক খারাপ লোক।
মায়া কান্না থামে জুইয়ের কথায় রিদকে খারাপ বলছে বলে। মায়া কিছু বলবে তখনই জুইকে চুপ করিয়ে দিয়ে ফিহা বলে…
—” তুই চুপ থাক জুঁই। রিদ ভাইকে রাগতে দেখেছিস। কিন্তু আমি জানি, ভাই নিজের আপন মানুষজনের সাথে এমনই এমনই কখনো রাগ করে না। কোনো কারণ ছাড়া। তাছাড়া দুজনের মধ্যে ঝামেলাটা কি নিয়ে হয়েছে তার কারণ মায়া আজও বলেনি আমাদের। তবে আমি নিশ্চিত মায়াই কোনো গোলমাল করেছে ভাইয়ের সাথে। তুই নিজেও মায়াকে ভালো করে চিনিস। সোজা কাজ সোজা ভাবে হয়না ওকে দিয়ে। সবকিছু ব্লান্ডার করে দম নিবে সে। এবারও হয়তো তাই করেছে। সাথে জেদও ধরছে ভাইয়ের কাছে ফিরবে না। রিদ ভাইয়ের ভালোবাসা ওর চোখে পড়ছে না।
মায়া কান্নার মধ্যেই উঠে বলে…
—” তোমার ভাই আমাকে ভালোবাসে না ফিহা আপু। এই কথা আমাকে সে এক কোটিবার বলছে। আজকে ও তোমাদের সামনে বলেছে আমাকে। তাহলে আমি কেন তার কাছে ফিরে যাব। তোমার ভাই মেহুকে ভালোবাসে! আর আমাকে খালি মারে। বাজে লোক! আজকেও মেরেছে আমায়। তুমি বলো! কেউ কাউকে ভালোবাসলে মারতে পারে? কই আব্বু তো আম্মুকে মারে না। দাদাজান দাদীকে মারে না। আরিফ ভাইয়া ও তোমাকে মারে না। আমিও তো তোমার ভাইকে মারি না। ভালোবাসলে কেউ কাউকে মারে না আপু।উনিও(রিদ) তো মেহু আপুকে মারে না। তারমানে উনি মেহু আপুকে ভালোবাসে আর আমাকে ঘৃণা করে। তুমি জানো, আজ পযন্ত তোমার ভাই আমার মন রক্ষাতে একটা বারও বলেনি ভালোবাসি কথাটা। খালি বলে! রিত অবাধ্য হবে না। রিত অবাধ্য হবে না! আরে ভাই, উনার বাধ্যকতা কিসে সেটাও তো কিছু বলে না। এবার তুমি বলো! উনি না বললে আমি কিভাবে বুঝবো উনার বাধ্যকতা কিসে? বুঝিনা বলেই তো এতো মারে আমাকে। বুঝলে এতো মারতে পারতো? মায়া লাগতো না আমার জন্য। মন পুড়তো না উনার। আমি যে ব্যথা পায় সেটা বুঝতো না বলো। আমাকে লোহা মনে করে উনি।
মায়ার অভিযোগ বুঝে ফিহা পুনরায় বলে উঠে…
—” দেখ মায়া! রিদ ভাই রগচটা মানুষ। রাগী বদমেজাজি, কথা কম বলে। তুই সবটা জেনেই রিদ ভাইয়ের পিছনে গেলি! ভালোবাসলি! এখন ভাই নিজেই তোর জন্য পাগল। আমরা কেউ তোর মাথায় বন্দুক ঠেকায় নাই ভাইকে ভালোবাসতে। তুই নিজে থেকে ভাইকে ভালোবাসলি। বরং আমরা সবাই চেয়েছিলাম তোকে রিদ ভাই থেকে আলাদা রাখতে। অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে। কিন্তু তুই রিদ ভাইয়ের জন্য পাগল বিদায় আমরা সবাই চুপ করে গেলাম। রিদ ভাইয়ের প্রফেশন লাইফ সম্পর্কেও তুই প্রথম থেকেই অবগত ছিলি। তোর থেকে কোনো কিছু লুকায়িত ছিল না। তাহলে এখন ভাইকে মেনে নিতে সমস্যা কোথায় তোর? এখন কেন তুই রিদ ভাইয়ের সম্পর্কে আমাদের কাছে অভিযোগ তুলছিস? রিদ ভাই আট দশটা সাধারণ ছেলের মতো না। সে উগ্র মেজাজীর মানুষ। কেউ তার কথা না শুনলে রেগে যায়। আঘাত করে বসে। তোর ক্ষেত্রে তাই। রাগে বশে তোকে আঘাত করেছে। তবে আজ যেটা আমি তোদের কথায় লক্ষ করেছি, সেটা হলো, প্রথমে তুই-ই সুযোগ করে দিস ভাইকে তোকে আঘাত করতে। তুই রাগ দেস। আর ভাই ধৈর্য হারিয়ে আঘাত করে। তোর একটাই কথা। ভাই বলেছে, সে তোকে ভালোবাসে না। অথচ ভাইয়ের প্রতিটা কাজে যে তোর জন্য এক সমুদ্র ভালোবাসা প্রকাশ পায়। সেটা তোর চোখে পড়ে না। তুই আঁটকে আছিস ভাই তোকে ভালোবাসি কথাটা মুখে বলতে হবে। তারপর তোর বিশ্বাসে ধরবে ভাই সত্যিই তোকে ভালোবাসে। নয়তো না। আজ ভাইয়ের মারটা তোর মনে থাকলো, বেশ ভালো কথা। কেন মারলো সেটা মরে থাকে না তোর? তুই নিজেই তো ভাইয়ের রাগের মধ্যে ঘিঁ ঢালছিলি! বিয়ে করবি না! সংসার করবি না! ভাইয়ের ভাত খাবি না! বলে,বলে। ডিভোর্স সাথে গহনা গুলো পাঠিয়ে ভাইয়ের রাগের ষোল কলা পূরণ করলি। ভাই তোকে ভালোবাসে বিদায় বারবার নিজে তোর কাছে ছুটে আসছে! ফ্যামিলিকেও তোর জন্য পাঠাচ্ছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে। কেন তুই বুঝতে পারছিস না ভাই তোকে ভালোবাসে বিয়ে করতে চাই সেটা।
মায়া নরম হলেও রিদের প্রতি পাহাড় সমান অভিযোগ কমলো না। নিজের মনের ভিতর লুকিয়ে রাখা রিদকে নিয়ে সকল অভিযোগ প্রকাশ করলো ফিহার সামনে মায়া…
—” আমি তোমার ভাইকে ভালোবাসি বলেই তো তার পিছন পিছন ঘুরঘুর করি। তাহলে তোমার ভাই কেন আমাকে বুঝে না তুমি বলো। তোমার ভাই আমাকে কেন বলে সে মেহুকে ভালোবাসে। আমাকে না। তাহলে আমি কেন বুঝতে যাব তাঁকে। মেহু আপুর সাথে সকাল বিকাল, দুপুর, রাতে সকল সময় কাটায় সে। আর আমার বেলায় সব ব্যস্ততা থাকে তার। আমাকে সময় দেয় না। আমি কথা বলতে গেল ধমক খেতে হয় কথায় কথায়। আজ পযন্ত উনি আমাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যায়নি আমার মন রক্ষাতে একবারও না। অথচ মেহু আপুর সাথে রোজ বাহির থেকে ঘুরে আসে। ধমক, থাপ্পড়, বাজে কথা সময় আমি! আর ভালোবাসা দেখানোর সময় মেহু কেন হবে তুমি বলো। আমি না গেলে, সে আগ বাড়িয়ে দুইদিন তিনদিন পযন্ত আমার কাছে আসে না কথা বলতে। ব্যস্ততা দেখায়। আমার কষ্ট হয়না বুঝি? তোমার ভাই বলে তুমি এখন পক্ষপাতিত করছো উনার। আজ যদি আরিফ ভাই তোমার সাথে এমন করতো তুমি মেনে নিতে? তারপর উনার প্রেমিকা এসে রোজ রোজ আমাকে বলে, আমি নাকি উনার ঘাড়ে জোর করে পড়ে আছি। উনি আমাকে চাই না। উনার মায়ের পছন্দ নাকি মেহু আপু আমি না। তাহলে এতো কিছুর পরও আমি কেন উনার কাছে পরে থাকবো তুমি বলো।
মায়ার রিদকে নিয়ে আকাশ সমান অভিযোগটা বুঝলো ফিহা। মায়া ছোট। ভালোবাসা নতুন নতুন হাবুডুবু খাচ্ছে। তাছাড়া রিদ মায়ার স্বামী। ভালোবাসাটাও জায়েজ। সম্পূর্ণ দোষ মায়াকে দেওয়া যায় না। মায়ার আবেগি মন রিদ থেকে ভালোবাসা চাই। এবার রিদ কেন মায়াকে কাছে না টেনে দূরে রাখছে এবার সেটাও রিদ বলতে পারবে। তবে রিদের দরকার ছিল মায়াকে আলাদা ভাবে বুঝানোর। তাহলে হয়তো মায়ার ভুল বুঝাবুঝিটা কমতো। এতো ঝামেলা হতো না। তাছাড়া
মায়ার প্রতিটা কথায় রিদের ভালোবাসা না পাওয়ার গাঢ় অভিমানটাই প্রকাশ করছে বারবার। রিদ কেন মায়াকে ভালোবাসি কথাটা মুখে বলছে না তাও বুঝতে পারছে না ফিহা। একটা বার অন্তত মায়াকে মুখে ভালোবাসি কথাটা বলে দিলে, মায়া এতোটা জেদ করতো না হয়তো। খান বাড়ির থেকে ফিরেও আসতো না। রিদের কাছে থাকতো। ফিহা রিদের এই বিষয়টি মাথায় ঢুকল না। তবে মায়ার বলা লাস্ট কথাটাতে কপালে কুঁচকে আসে ফিহা। সে বলল..
—” তোকে কে বলেছে, তুই রিদ ভাইয়ের আম্মুর মানে মামির পছন্দ করা মেয়ে না? আমার জানা মতে, ছোট বেলায় তোকে মামি নিজে রিদ ভাইয়ের জন্য পছন্দ করে বউ বানিয়ে ছিল। তাহলে!
—” তুমিও আমার মতো করে কিচ্ছু জানো না ফিহা আপু। আমিও প্রথমে মনে করেছিলাম, উনার আম্মুর পছন্দ আমি ছিলাম। কিন্তু মেহু আপু আমাকে বলেছে, আন্টির আমাকে নয় মেহু আপুকে পছন্দ করতেন উনার(রিদ) জন্য। আমি নাকি শুধু দাদা-দাদি পছন্দ ছিলাম।
—” তোকে একজন বললো আর তুই বিশ্বাস করবি কেন শুনি। আমাদেরকে জিগ্যেসা করেছিস এই বিষয়ে কখনো?
—” আমি মেহু আপুর একা কথায় বিশ্বাস করেনি ফিহা আপু। উনার মা-বাবা ও আমাকে বলেছে মেহু আপুই নাকি তোমার ভাইয়ের জন্য ঠিক করে গেছেন উনার মা। তাহলে তুমিই বলো আমি কেন বিশ্বাস করবো না। বড় মানুষরা কি কখনো মিথ্যা কথা বলে? উনারা তো বড় মানুষ! গুরুজন ছিল। তাই তো আমার বিশ্বাস হয়েছে উনাদের কথা।
মায়া ঘুরপাক কথায় ফিহা স্পষ্ট বুঝতে পারলো মায়াকে মেহুর পরিবার ভুল বুঝিয়েছে বোকা পেয়ে। হয়তো নিজের মেয়েকে রিদের ঘাড়ে চাপাতে চাই বলে। ফিহার তীব্র সন্দেহ হলো মায়াকে আর কি কি বুঝানো হয়েছে মেহুর পরিবার সেটা জানতে। তাই ফিহা কৌশলে মায়া থেকে নিতে চাইল মেহুর বলা প্রতিটি কথা।
—” বেশ! তুই বুদ্ধিমতি আদর্শ মেয়ে। গুরুজনদের সম্মান করিস। ভালো কথা! এবার চট করে বলে ফেল কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল তোর আর ভাইয়ের মধ্যে। খবরদার মিথ্যা কিন্তু বলবি না। শুরু থেকে সবটা বলবি।
ফিহা কথায় মায়া চুপ করে যায়। নিজের কালো ওড়না দিয়ে নাক মুছে ঘুরে বসে। যার অর্থ ‘সে বলবে না কিছু ‘
ফিহা খানিকটা রাগি হাতেই টেনে মায়াকে নিজের মুখোমুখি বসিয়ে জোর গলায় বলে…
—” দেখ মায়ু জেদ করবি না। এই জেদের কারণে ভাইয়ের হাতে আরও মার খাবি তুই। ভাই তোকে ছাড়বে না এতোটুকু নিশ্চিত থাক তুই। এবার ডিভোর্সের কথা ভুলে ভালোই ভালোই বল কি হয়েছিল সেদিন। তুই আমাকে সবটা বললে হয়তো আমরাও তোকে ভালো মন্দটা কোনটা সেটা বুঝাতে পারবো। কে এখানে আসল দোষী সেটাও বুঝতে পারবো। যদি রিদ ভাই দোষী হয় তাহলে নানুমার কাছে বিচার দিব তোকে মারার জন্য কেমন। যাতে করে নানাভাই-নানুমা রিদ ভাইকে খাবার না দেয় তোকে মারার দায়ের। এবার বল সবটা প্লিজ।
এতক্ষণ যাবত রিদকে নিয়ে মায়া মন ভরা অভিযোগ থাকলেও। এবার ফিহার বিচার দেওয়া কথাটাই মায়ার সেই মন থেকে তৎক্ষনাৎ ঘোর প্রতিবাদ জানাল তাকে। রিদকে কেন কেউ খাবার দিবে না! রিদ যে না খেয়ে থাকতে পারে না সেটা কি তারা জানে না, নাকি?
ফিহা কথার মায়া তৎক্ষনাৎ প্রতিবাদী জানিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বলে…
—” না আপু। তুমি দাদা-দাদিকে উনার নামের বিচার দিও না প্লিজ। উনি তো না খেয়ে থাকতে পারে না। উনার সুগারের সমস্যা হয়। বিপি ও লো হয়ে যায়। প্লিজ তুমি দাদীকে কিছু বলো না কেমন।
মায়ার রিদের প্রতি যত্ন ও সচেতন হওয়ার বিষয়টিতে বিরক্তি প্রকাশ করলো ফিহা। এই মাত্র যে মেয়ে তার স্বামীর নামে কেঁদেকুটে নালিশ দিচ্ছিল। এখন সেই মেয়ের স্বামীর প্রতি এক্সট্রা দরদ দেখে খানিকটা বিরক্তি প্রকাশ পেল ফিহা চেহারায়…
—” জাতে পাগল তালে ঠিক আছিস তুই। জামাইর কাছে যাবি না। আবার কেউ তোর জামাইকে কিছু বলতেও পারবে না। জামাই পাগল মাইয়া। এখন বল সেদিন কি হয়েছিল।
মায়া নড়েচড়ে বসে এক এক করে সবকিছু খুলে বলে মেহুর সাথে ঘটে যাওয়ার সকল বিষয়ে কথা গুলো। মায়ার কথা শুনে এবার জুইও চোখ মুছে সিরিয়াস হয়। মনোযোগ সহকারে শুনতে থাকে মায়ার কথা গুলো। মায়া শুরু থেকে সবকিছু বলতে বলতে এসে থামে ফিহার বিয়ের দিনের ঘটনায়। মায়াকে থামতে দেখে কৌতূহল ভরা কন্ঠে প্রথমে জুঁই বলে উঠে…
—” থামলি কেন তারপর বল।
মায়া নড়েচড়ে বসে। ফিহা বিরক্তি চেপে বলে…
—” কিহল বল। আমার বিয়ের দিন কি হয়েছিল তোর রিদ ভাইয়ের সাথে? নিশ্চিত বড় কোনো ব্লান্ডার করেছিলি তুই না।
মায়া খানিকটা নড়েচড়ে বসে ধীরে বলতো শুরু করলো..
—” তোমার বিয়ের দিন মেহু আপু আমার কাছে এসেছিল ফোন হাতে। আমি ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আপুকে কান্নাকাটি করতে দেখলাম। আমি জিগ্যেসা করাতে সে বলল’ উনি(রিদ) নাকি মেহু আপুর সাথে ব্রেকআপ করতে চাই আমাকে নিয়ে। আমাকে একরাতে বিছানায় নিতে চাই এজন্য। মেহু আপু সেটা মানতে পারিনি বলে, উনাকে(রিদ) বুঝানোর চেষ্টা করে আমি ছোট মানুষ আমাকে ছেড়ে দিতে। কিন্তু তোমার ভাই নাকি এর জন্যও মেহু আপুকে থাপ্পড় মারে আমার তারিফদারি করে কথা বলায়। উনি(রিদ) নাকি মেহু আপুকে বলেছে, আমাকে একরাতের সঙ্গী করে ছুড়ে ফেলবেন নিজের জীবন থেকে তারপর মেহু আপুকে বিয়ে করবেন। মেহু আপু মেয়ে হয়ে, অন্য মেয়ের সাথে নিজের ভালোবাসার মানুষকে ভাগাভাগি করতে পারবে না বলে আমাকে বলেন, আমি যেন সবকিছু ছেড়ে-ছুড়ে দূরে কোথাও চলে যায় তাদের জীবন থেকে। মেহু আপু আমাকে সাহায্য করবেন দূরে কোথাও পালিয়ে যেতে। সেদিন তোমার ভাইয়ের সাথে মেহু আপুর কিছু অন্তর অঙ্গে গোপন ছবি ও ভিডিও আমাকে দেখায়৷ খুবই বাজে ছিল বিষয়টি। আমার সব সহ্য হয় কিন্তু তোমার ভাইয়ের কারও সাথে বিন্দুমাত্র ঘেঁষে দাঁড়ানোটাও আমার সহ্য হয়না। আর সেই জায়গায় ছবি ভিডিওতে ছিল উনার আর মেহু আপুর লাজলীলা। উনি মানতে না পারলে আমি কেন মানবো উনারকে অন্য কারও সাথে। অসম্ভব। আমি এসব কিছু দেখে সহ্য করতে না পেরে রাগের বশে উনার রুমে চলে যায় সেদিন।
মায়া বলতে বলতে পুনরায় থেমে যায়। উদ্বিগ্নতায় চেপে রাখতে না পেরে ফিহা ও জুঁই একসঙ্গে বলে উঠে…
—” তারপর?
মায়া কাচুমাচু করে পুনরায় বলে উঠে…
—” মেহু আপু আমাকে যা বলেছিল আমিও সেই সব কথা গুলো উনাকে বলি। তবে মেহু আপুর নাম বলিনি। আপুই নিষেধ করেছি কারণ তোমার ভাই নাকি মেহু আপুকে আঘাত করবে নিজের প্ল্যান ভেঙ্গে যাওয়ায়। উনি তখন নিজের রুমে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিল। আমি প্রথমে গিয়ে সোফার উপর থেকে উনার ল্যাপটপ ফেলে দেয় রাগে। উনি দৌড়ে এসে আমাকে ধরে থামাতে চাইলে! আমাদের মধ্যে অনেকটা ধস্তাধস্তি হয়ে যায়। আমি উনার শক্তি সাথে উঠতে না পেরে শান্ত হতেই আমাকে জড়ায় ধরার চেষ্টা করেন উনি। আমার রাগও তখন আকাশ সমান ছিল উনার প্রতি। সাথে মেহু আপুর বলা কথা গুলোও মাথা ঘুরছিল। উনি আমাকে ঠেকিয়ে বিষয়টি মানতে না পেরে শব্দ করে কেঁদে ফেলি। উনি এক মূহুর্তের জন্যও আমাকে শান্ত করার চেষ্টা না করে ঐভাবে বুকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল বলে আমার আরও রাগ হয়। আর সেই রাগের বশে মুখে যা আসে তাই বলি উনাকে। বিশেষ করে মেহু আপু কথা গুলোই বেশি বলেছিলাম। উনি আমাকে একরাতের ভোগ করার জন্য ছুঁয়ে জড়িয়ে আছে। আমার উনার ছুঁয়া গুলো নোংরা লাগে। উনাকে নোংরা লাগে। উনি আমাকে নোংরা হাতে ছুঁয়ে দেয় বলে আমার ঘৃণা লাগে উনার প্রতি। উনি ভালো না। উনি গন্ডা। আমি উনার সাথে থাকতে চাই না। ইত্যাদি ইত্যাদি বলেছিলাম। আমাকে ছেড়ে দিতে এক মূহুর্তে সময় নিল না উনি। আর না আমাকে আঘাত করতে। সেখানেই কারণ ছাড়া দুটো থাপ্পড় মেরেছিল আমায়। এতে করে আমার আরও কষ্ট লাগে। উনি আমার কষ্ট বাড়িয়ে দেয়, আমার বলা সকল কথার সায় জানিয়ে। উনি জোর গলায় আমাকে সম্মতি দিয়ে বলে। উনি সত্যি আমাকে একরাতের ভোগ করার জন্য এতো দিন নাটক করেছিল। আমার মতো মেয়েকে একরাতের সঙ্গী করা যায় কিন্তু সারাজীবনের জন্য বউ বানানো যায় না। উনি আমাকে নয় উনি মেহু আপুকে শুরু থেকে ভালোবাসতেন। আমিও নাকি সবার মতো করে উনার আভিজাত্যে লোভে পরে পিছন পিছন ঘুরঘুর করতাম তার। আমাকে উনার জীবন থেকে, খান বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে পযন্ত বলেছে। আমি রাগে অপমানে তোমাদের সাথে এই বাসায় চলে আসি। তারপরটা তোমাদের সবার তো জানো।
মায়ার কথা শেষ হতে ফিহা ধুপ করে ফ্লোরে বসে পরে মাথা হাত দিয়ে। বিষন্নতা বিস্মিত হয়ে বলে…
—” আল্লাহ গো! মায়ারে তুই রিদ ভাইরে এতো কথা বলেও যে আজও জীবিত আছত সেটাই তোর বড় কপাল। তোরে যে ভাই এখনো জবাই করা নাই সেটাই অনেক। এতো বড় ব্লান্ডার করে বসে আছিস। আবার রিদ ভাইকে দোষ দিচ্ছিস। আল্লাহ গো আমার মাথা ঘুরাচ্ছে ।
—” আমি কিছু করেনি আপু। শুধু শুধু আমাকে দোষ দিবা না আমি দেখেছি দুজনের জড়াজড়ি ছবি ও ভিডিও। ছিঃ কি বাজে।
—” অন্যের কথা বিশ্বাস করে ভাইকে কিভাবে অপবাদ দিতে পারিস? আগে অন্তত একটা বার ভাইকে জিগ্যেসা করতে সে এসব করেছে কিনা? তা না করে সোজা একটা পর একটা অপরাধ দিয়ে দিলি। তারপর আবার বললি, ভাই নোংরা! ভাইয়ের ছুয়া তোর নোংরা লাগে। ভাই তোকে নোংরা হাতে ছুঁই। তোর ঘৃণা লাগে ভাইকে। এবার তুই আমারে বুঝা, ভাই তোকে দুই দুইবার বিয়ে করার পরও তার ছুঁয়া তোর জন্য নোংরা হয় কিভাবে? তুই ছোট থেকেই রিদ ভাইয়ের বউ ছিলি। এবার ভাই যদি স্বামী অধিকার নিয়ে তোর সাথে সংসার করতে চাইতো! তাহলে এতে গুনা বা অপরাধ কিছুই হতো না। বড়রাও কিছু বলতো না। তাছাড়া আজকেও ভাই বলে গেছে তুই ছাড়া ভাইয়ের অন্য কারও সাথে লেনদেন নাই। তারমানে ভাই তোকে ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসে না। তুই সহজ জিনিসটা সহজ ভাবে বুঝিস না কেন? মানছি ভাই বিষয় গুলো কমপ্লিকেটেড করে রেখেছে। তোকে কোনো কিছু না বলে অন্ধকারে রাখছে। তাই বলে তুই ভাইকে বুঝার চেষ্টা করি না মায়া। এখানে তো ভাই তোর আত্মসম্মানে আঘাত করেনি। বরং তোর কথা গুলোতে ভাই রাগের বশে সম্মতি দিছে শুধু ব্যস। এখানে তোর না! ভাইয়ের আত্মসম্মান থাকা দরকার। ব্লান্ডার তুই করেছিস।আমার তো মনে হচ্ছে এখন রিদ ভাইয়ের আত্মসম্মান নেই। এতো বাজে কথা শুনার পরও সে তোর কাছে বারবার ফিরে আসছে বিয়ে প্রস্তাব নিয়ে। এখন তোর যদি কপাল ভালো থাকে তাহলে ভাই সব ভুলে সংসার করবে নয়তো সারাজীবন বউ বানিয়েও রটকিয়ে রাখবে দেখিস।
ফিহার কথায় মায়ার মস্তিষ্কের লাইট টং জ্বলে উঠে। বিগত একমাসের পোষ করা রাগ ঝরঝর করে ভেঙ্গে বরাফের নেয় গলতে শুরু করে। ভাবতে লাগে, রিদ আসলেই রিদ মায়াকে বাজে কথা গুলো বলেনি। বরং মায়াই আগে শুরু করে ছিল। রিদ শুরু মায়ার কথা রাগে সম্মতি দিয়ে বলেছিল। সে সত্যি মায়াকে একরাতে জন্য ভোগ করতে চাই। সে মেহুকে ভালোবাসে। কিন্তু বাড়ির থেকে বের হয়ে যেতে তো মায়াকে সত্যিই সত্যিই বলেছিল তাহলে! আচ্ছা মায়া কি এখন ভুল? সে কি ভুল করেছে? যদি করে থাকে তাহলে মেহুর দেখানো ছবি ভিডিও গুলো কি ছিল? এই গুলোও কি মিথ্যা? মায়ার চেহারায় মূহুর্তেই খুশি ঝলক দেখা যায়। রিদকে পুনরায় ফিরে পাবার আশায় মনে মনে এই দোয়া করে নিল। যেন ফিহা বলে দেয় এই ছবি ভিডিও গুলো ও মিথ্যা। তাহলে মায়া আর থাকবে না এখানে। কালই চলে যাবে তার মিস্টার ভিলেন কাছে। মায়ার মনে এক বুক আশার নিয়ে দু’হাতে চোখের জল মুছে এগিয়ে এসে ফিহার পাশে ফ্লোরে বসে বলল…
—” আচ্ছা আপু! লাস্ট একটা কথা কেমন! তুমি বলো না ঐ ছবি ভিডিও গুলো কি মিথ্যা ছিল উনার আর মেহু আপুর?
ফিহা কপাল থেকে হাত সরিয়ে মায়ার চেহারার দিকে তাকালো। অনেকটা কান্নাকাটির ফলে চেহারাটা লাল হয়ে আছে। তাছাড়া রিদের দেওয়া তিনটা থাপ্পড়ের চিহ্নও গালে ফুটে উঠছে কালো হয়ে। ফিহা দেখলো, মায়া চোখে মুখে স্পষ্ট পুনরায় আশার আলো রিদকে ফিরে পাবার। রিদের কাছে যাওয়া তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও। ফিহা মায়ার উতলা বুঝতে পেরে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বলে…
—” দেখ আমি জানি না কিছু। রিদ ভাইয়ের মেহু আপুর সাথে রিলেশন ছিল কিনা। তবে এই মূহুর্তে এতটা বলতে পারি। রিদ ভাইয়ের বর্তমান দুনিয়া বলতে তুই ছাড়া অন্য কেউ না। রিদ ভাই হয়তো মুখে বলছে না! তাতে কি? তার কাজে তো প্রকাশ করছে সে তোকে পাগলের মতো ভালোবাসে। আগামীতেও বাসবে। তুই ভাব! যদি ভাই মেহু আপুকে ভালোবাসতো। তাহলে তোকে তৃতীয় বারের মতো আবারও বিয়ে করতে রাজি হতো? তাছাড়া রিদ ভাই মেহু আপুকে ভালোবাসলে এখনো কেন বিয়ে করলো না? অথচ তোকে এই নিয়ে তিনবার বিয়ে করে যাচ্ছে। এই থেকে কি প্রকাশ পায় না, তোকে রিদ ভাই ভালোবাসে। এখন তার মুখে বলা লাগবে ভালোবাসা শব্দটি। তাছাড়া মেহু আপুর সাথে ছবি ভিডিও গুলো সত্য নাকি মিথ্যা সেটা তুই ভাইয়ের সাথে কথা বলে নিস। দেখ মায়া! পাস্ট ইজ পাস্ট। ভাই তোকে প্রেজেন্টে অনেক ভালোবাসে। সেই ভালোবাসার জন্যই নাহয় সবকিছু ঠিকঠাক করে নেয়। জেদ না করে বিয়েতে রাজি হয়ে যাহ। প্লিজ!
ফিহার কথায় ডুকরে কেঁদে উঠে মায়া। নিজের ভুল বুঝতে পেরে এখন কষ্টটা যেন বেশিই হচ্ছে। মায়া কি তাহলে সত্যিই তার মিস্টার ভিলেনকে ভুল বুঝলো। মায়া কেঁদেকুটে ফিহা কাছে আবদার জানালো এই মূহুর্তে রিদকে কল করতে। ফিহা স্পষ্ট ভাষায় জানালো, রিদের নাম্বার ফিহার কাছে নেই। কারণ রিদ নিজের পার্সোনাল নাম্বার কাউকে দেয় না প্রয়োজনীয় মানুষজন ছাড়া। ফিহা কথা মায়া হাত-পা ছড়িয়ে কাঁদার উপক্রম হলো। মায়ার এই মূহুর্তেই রিদকে লাগবে। লাগবে মানে লাগবেই। মায়ার মন ছটফটে কেঁদেকুটে বারবার ফিহার কাছে আবদার জানাতে লাগলো রিদের সাথে মায়ার একটু করে কথা বুলিয়ে দিতে। ফিহা অসহায় হলো মায়ার ব্যাকুলতা দেখে রিদের জন্য। মায়া কাদতে কাঁদতে হঠাৎ কিছু মনে পড়ার মতো করে ফিহাকে বলল, ‘হেনা খানকে কল করতে এখন। ফিহা তাই করলো। হেনা খান কল দিল। প্রথমে ধরলো না। দ্বিতীয়বারে মতো কল করতেই ওপাশ থেকে রিসিভ হলো। মায়া তৎক্ষনাৎ ফিহার কাছ থেকে ফোন কেঁড়ে নিয়ে নিজেই কথা বললো প্রথমে। বেশ আদুরে সহিত কেঁদেকুটে বুক ভাসিয়ে হেনা খানকে জানালো মায়াকে নিয়ে যেতে তাদের কাছে। সে ঐ বাড়ির সবাই মিস করছে তাই। মায়া কেঁদে কেঁদে কথার মধ্যে হেনা খানকে জানালো সে বিয়েতেও রাজি। মায়া কথায় তৎক্ষনাৎ খুশিতে আটখানা হলো হেনা খান। মায়াকে পুনরায় নিজেদের কাছে ফিরে পাবে সেই আনন্দে তিনিও জানান,, বিয়ের তথ্য নিয়ে তিনি কাল সবাইকে সাথে করে আসবে মায়ার বাড়ির। কথায় কথায় বেশ কথাই হলো দুজনের মধ্যে। মায়া নিজের জড়তার কারণে রিদের নাম্বারটা চাইতে পারলো না হেনা খানের কাছ থেকে। অনেকটা সময় মায়া হেনা খানের সাথে কথা বলে ফোন তুলে দিল ফিহার হাতে, রিদের নাম্বার চাইতে হেনা খানের কাছ থেকে। ফিহাও তাই করলো। কথায় কথায় হেনা খানের কাছ থেকে রিদের নাম্বারটা নিল। ফিহা রিদের নাম্বারে কল করতেই বুঝতে পারলো রিদের ফোন সুইচ অফ। একবার! দুবার! বেশ অনেক বার কল করলো। প্রতিবারই ফোন বন্ধ পেল। ফিহা মায়াকে এই কথাটা জানাতেই পুনরায় কেঁদে উঠে মায়া। ফিহা মায়ার ব্যাকুল মনকে শান্ত
করতে ঝাপটে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বুঝাতে লাগলো,, ‘কাল খান বাড়ির থেকে সবাই আসলে তখন মায়া কথা বলতে পারবে রিদের সাথে। মায়া শান্ত হলো। কাল রিদের সাথে মায়ার দেখা হবে ভেবেই উৎফুল্লর হলো। কিন্তু তার প্রায় সাথে সাথে মায়া চমকে উঠে ফিহা জুইয়ের উদ্দেশ্য বলল..
—” ফিহা আপু আমি ঐ বাড়িতে যেতে চাইলে আব্বু কষ্ট পাবে তো। এখন আমি কি করবো? আমিতো ভুল করে ফেলছি দাদীর কাছে বিয়ের জন্য রাজি হয়ে। আব্বুকে এখন আমি কি বললো? আব্বু নিশ্চয়ই আমার উপর রেগে যাবে আপু। প্লিজ! ফিহা আপু তুমি দাদীকে না করে দাও না, কাল আমাদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে না আসতে। আমি আব্বু বিরুদ্ধে গিয়ে উনাকে(রিদ) বিয়ে করতে পারবো না তো।
মায়া কথা গুলো বলতে বলতে আবারও কেঁদে উঠে। আজ যেন চোখের পানিতে সমুদ্র বানাবে মায়া। ফিহা বুঝতে পারে মায়ার পরিস্থিতিটা। কিন্তু শফিকুল ইসলামকে এখন কি বলবে তারা। মায়া তো নিজেই সম্মতি দিয়ে ডিভোর্সে সাইন করেছিল। শফিকুল ইসলামের উপর বিশ্বাস আছে বলে। এখন যদি মায়া নিজের কথা থেকে নিজেই মুড়ে যায়, তাহলে অবশ্যই শফিকুল ইসলাম বাবা হিসাবে কষ্ট পাবেন। ভুল বুঝবেন মায়াকে। ফিহা জুই দুজন চিন্তত হলো শফিকুল ইসলামকে নিয়ে।
.
(মায়া- রিদকে নিয়ে কারও মধ্যে আর কোনো কনফিউশন বা প্রশ্ন থাকলে। কমেন্টে অবশ্যই জানাবেন। ধন্যবাদ)
চলিত…
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ +বর্তীতাংশ)
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮০
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ১২
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪০