Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৪


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৬৪
—” মেরে দেয়? দেয় মেরে! বাপ বেটি মিলে আমাকে মারার ধান্দা করেছিস? ছেড়ে দিব আমি তোদের ভেবেছিস? আমি বাঁচতে না পারলে তোদের বাপ-বেটিকে বাঁচতে দিব? জান নিয়ে দিব না! সবার আগে তোকে মারব। তোর জন্য আমার সবকিছু হারাম হয়ে যাচ্ছে। শান্তি পাচ্ছি না কোনো কিছুতে। যত নষ্টের মূল তুই।

তরতর করে কেপে উঠে রিদের হিংস্রর্তের হুংকারে মায়া। ভয়ে আষ্টশ মায়া চোখে পানি গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে। রিদের ক্ষেপ্ত ভাষা আরও ক্ষেপ্ত হলো। হিজাবের উপর দিয়ে মায়ার চুলের মুষ্টি বদ্ধ করে নিজের মুখোমুখি করল। আগের নেয় রাগে রি রি করে বলে…

—” তোর কি মনে হয়, বউ বলে ছাড় পাবি তুই? ছেড়ে দিব আমি তোকে? ভালো মানুষ মনে করেছিস আমাকে? তোর স্বামী চাই না। তোর সমাজ দেখানো! লোক দেখানো বিয়ে চাই। সেজন্য এতো নাটক করলি? কাহিনি সাজালি। আমি রাজি হলাম। এখন তোর বাপ কাহিনি শুধু করছে। আমারে কি পাগল পাইছিস? তোদের বাপ বেটির নাটক দেখার জন্য আমি বসে আছি হ্যা? তোর বাপের কাছ থেকে পারমিশন চাইছি আমি? হ্যাঁ চাইছি? তোর বাপ থেকে তার মেয়েকে চাই নাই। আমার বউকে গছিয়ে দেওয়ার জন্য আদেশ করছি। দিতে না পারলে দিবে। নয়তো আমি নিজেই নিয়ে আসব। তার পারমিশনে দরকার নাই আমার। আম…

রিদের বাকি কথা শেষ কথার আগেই মায়া জোর খাটালো। গলায় ছুরি আঁটকে আছে জেনেও পরোয়ানা করলো না। রিদের বক্ষতলে প্রাণপূর্ণ ছটফট করলো ছুটার জন্য। সফল হতে না পেরে ঝরঝর করে কেঁদে একটু সাহস দেখিয়ে বলল…

—” মেরে দিন আমাকে। দিন মেরে। আপনি তো এমনই আমাকে সহ্য করতে পারেনা না। এজন্য তো আপনি আনাকে যখন তখন মারেন। গায়ে হাত তুলেন। আদুর করেন না। সব আদুর ঐ মেহু আপুকে করেন। এখানে এসেও মারতে চাচ্ছেন। এতো মারামারি থেকে একেবারে মেরেই ফেলুন। কেন এসেছেন আমার কাছে আপনি। আমি তো আসতে বলিনি। যান আপনি ঐ মেহুর আপুর কাছেই যান। তাঁকেই বিয়ে করুন না। আমি তো বাঁধা দেয়নি। আপনি ভালো না। আপনি খারাপ। আপনি ভিষণ খারাপ। আমি বিয়ে করবো না আপনাকে। যান আপনি।

মায়ার কথা রিদ আরও শক্ত করে চেপে ধরে মায়া চুল। মায়াকে মুখোমুখি করে বলে…
—” তো কাকে বিয়ে করবি? তোর বাপের আদর্শ টাইপ ধরে আনা ছেলেদেরকে?
—” হ্যা তাদেরকেই করবো। আপনার কি? যান আপনি। ছাড়ুন আমাকে।

মায়ার প্রতিটা স্বীকারোক্তি ছিল রিদের রাগে ঘি ডালার মতোন। রিদ ক্ষেপ্ত হাতে ছুরি ছেড়ে মায়ার গাল চেপে ধরলো। রিদের শক্ত হাতের দাবিতে মায়ার গাল চেপে দাঁতের গলিয়ে ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো তৎক্ষনাৎ। মায়া গোঙ্গাল। চোখের কানিশ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। ছটফট করলো গাল ছাড়ানোর। পারলো না। রিদ মায়ার গাল টেনে উপরে মুখ করে নিজের মুখোমুখি ধরে হিংস্র বয়ানে বলল।

—” আমাকে তেজ দেখাস? জবার কেটে বোবা বানিয়ে রাখব। আমি তোকে বলেছিলাম আমার জীবনে আসতে? তুই সেচ্ছায় এসেছিস। এখন তোর আমাকে দিয়ে হয়না। আরও নাগর লাগবে। এই জন্য বেপর্দা হয়ে রাস্তা ঘাটে ঘুরে বেড়াস। কলেজে যাস। প্রাইভেটে যাস। তোর কি মনে হয় তোর খবর আমি রাখি না? জানিনা আমি তুই কি করছিস? আমি কি একটু ছাড় দিলাম! তুই তো সোজা বেহায়ামিতে নেমে গেছিস। নিজেকে সস্তা বানাচ্ছিস। আমার নিষেধ করার পরও অবাধ্য হয়ে গেলি। তাও রোজা হলি। বেপর্দায় পরপুরুষে সামনে পযন্ত গেলি। এখন বলছি আমাকে বিয়ে করবি না। কাহিনী করিস আমার সাথে! আমাকে পাগল বানিয়ে ধান্দা করছিস? তুই আমার না হলে আমি কারও হতে দিব? এতো সহজ। জান নিয়ে নিব না তোর।

রিদের দাবিয়ে ধরা হাতে চাপে মায়া ব্রিজের পিছনের দিকে খৈ হারিয়ে পড়তে নেয়। মায়া ভয়ে আতঙ্কে তৎক্ষনাৎ চেপে ধরে রিদের শার্টের কলার বাঁচার জন্য। কিন্তু এতে রিদ আরও ক্ষেপে গেল। চোখে মুখে দারুণ হিংস্র প্রকাশ পেল। মায়ার চেপে ধরা গালটা আরও চাপিয়ে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বলে…

–” উহুম! মোটেও না। একদম ছুঁয়ার চেষ্টা করবি না আমায়। আমাকে ছুয়া তোর জন্য নিষেধ। সবকিছুর শেষ সেদিনই হয়ে গেছিল। যেদিন তুই আমাকে নোংরা বলেছিলি। সবকিছুর শুরু তুই করেছিস। শেষটা এবার আমি করবো তাও খুবই ভয়ানক ভাবে। তুই শুধু খান বাড়ির বউ। আর আমার লোক দেখানো, সমাজের স্বীকৃতি প্রাপ্য বউ হবি। এর বাহিরে তুই আমার কিছু না। আর না আমি তোর কিছু হবো। দাদীর তোকে চাই। তোর সমাজ দেখানো বিয়ে চাই। আমাকে চাই না। তাই
করলাম পূরণ তোদের চাহিদা। লোক দেখানো বিয়ে আর আমার মধ্যে সেদিন তুই লোক দেখানো বিয়েটাকে বেচে নিয়েছিস। আমাকে নাকি তোর প্রয়োজন নেই। তাই আমারও তোর মতোন স্বার্থপর বউয়ের দরকার নেই। সারাজীবন তোকে আমি একাই রাখব। কিন্তু আমার বাড়িতে। তাই বলছি আমাকে ভুলেও ছুঁয়ার চেষ্টা করবি না। তোর কথা গুলো আমি ভুলিনি। আমি নোংরা! আমার স্পর্শ গুলো নোংরা! তোর শরীরে জন্য আমি তোর সাথে পড়ে থাকি। তোকে নোংরা হাতে ছুঁই। তোকে নিয়ে খেলছি ভোগ করার জন্য। আর যেন কি কি বলেছিলি? ওহ হা! তুই আমাকে ঘৃণা করিস! আমার ছুঁয়াকে ঘৃণা করিস! আমি বাজে। খারাপ। দুই দুইবার তোকে বিয়ে করেও আমার স্পর্শ তোর নোংরা লাগে। আমার থেকে দূরে থাকতে চাস। নে হয়ে গেলাম দূরে তোর থেকে। জীবনে কখনো তোকে ছুয়ে দেখবো না৷ কাছে টানতে চাইব না। তোর সব কথায় রাখলাম। তারপরও তোকে আমার সাথেই থাকতে হবে। থাকতে তুই বাঁধ্য। আমি বাঁধ্য করবো তোকে। এবার বাসায় যাবি। গিয়ে তোর রাজাকার বাপরে বলবি তুই বিয়েতে রাজি। দ্বিতীয় বার আমার কথার অবাধ্য হলে তার ফলও ভালো পাবি না। যাহ।
~~
সকাল এগোরটা। কাঠফাটা রোদের তপ্ত নগরী আশুগঞ্জ। মায়ার কলেজে বন্ধ। সেকেন্ড ইয়ারের এইচএসসি পরীক্ষা হল তার কলেজে পড়েছে। সেই সুবাদে কলেজ আজ বন্ধ। খোলা থাকতেও যে, কলেজে যেতু তেমনটা না। মায়ার মন ভালো নেই। বর্তমানে বাসায় আছে। শফিকুল ইসলাম তপ্ত রোদে ঘেমে ঘেমে বাসায় ঢুকল। বসার রুমের সোফায় বসে হাতের কাগজটি টি-টেবিলে উপর রেখে রেহেনা বেগমকে ডেকে বলল, পানি দিতে। রেহেনা বেগম কিচেনে দুপুরের রান্নায় ব্যস্ত থাকায় ফিহা পানি নিয়ে আসল উনার জন্য। তিনি হাসি মুখে পানি পান করে ফিহার মাথায় স্নেহময় হাত বুলিয়ে দেয়। ফিহাকে উনার ছেলের বউ হিসাবে অন্তত পছন্দ। বড় ঘরের মেয়ে হয়েও বেশ ভালো মানিয়ে নিয়েছেন তার পরিবারের সাথে। কোনো কিছুতে নারাজ, বা অখুশি হচ্ছে না। আল্লাহ তাদের ভালো রাখুক। তিনি ফিহাকে আরও একটি কাজ দিলেন। মায়াকে ডেকে নিচে নিয়ে আসার। ফিহা হাসি মুখে যেতে গিয়েও বেখেয়ালি চোখ গেল সোফার টেবিলের কাগজটি উপর। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে একটু করে দেখতেই চমকে উঠে ফিহা। ভয়ে বড় বড় চোখ করে দ্রুত গেল মায়া রুমে। মায়াকে ডেকে কিছু না বলে পুনরায় আসল শফিকুল ইসলামের কাছে। মায়াকে ডেকে শফিকুল ইসলাম নিজের পাশে বসালেন। ফিহা ভয়ে আতঙ্ক জড়সড় হয়ে আছে। জুই মায়ার পিছন পিছন এসেছিল নিচে বসার রুমে। পরিস্থিতি বুঝে ফিহা দ্রুত নিজের শাশুড়ীকেও ডেকে আনে কিচেন থেকে। উপস্থিত সবাই গোল করে দাঁড়িয়ে আছে শফিকুল ইসলাম ও মায়াকে ঘিরে। বিষয়টি তখনো কারও বোধগম্য হলো না ফিহাকে ছাড়া। সকলের কৌতুহল, নিরবতা ভেঙ্গে প্রথম কথা শফিকুল ইসলাম মায়াকে বললেন…

—” আব্বু যাহ করবো তোমার ভালোর জন্যই করবো আম্মু। এই বিশ্বাস আছে তো আমার উপর?
মায়া ডাগর ডাগর চোখে চেয়ে মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। শফিকুল ইসলাম প্রশান্তি অনুভব করলো নিজের মনে। স্নেহময় হাতটা মায়ার মাথা রেখে পুনরায় বলল..

—” তোমার ভালোর জন্য আজ আরও একটি কাজ করবো আমি। ঐ বাড়ির ছেলের সাথে তোমার ডিভোর্স পেপার বানিয়ে এনেছি। আমি চাই তুমি সেটাতে সাইন করো। ঐ বাড়ির সাথে আত্মীয়তা নিয়ে আমার প্রথমে আপত্তি না থাকলেও এখন আছে। বিশেষ করে ঐ বাড়ির ছেলেকে নিয়ে মূল সমস্যা। সকল বাবা মা-ই চাই সন্তানকে ভালো আদর্শ ছেলের হাতে তুলে দিতে। আমরাও তাই চাই। রিদ খান নামটা দেশের ছোট বড় সবার জানা। ভালো জন্য নয় খারাপ কাজের জন্য চিনে তাকে। রিদ খানের ভয়ে কেউ সামনে কথা বলতে না পারলেও পিছনে ঠিকই খারাপ বলে গালমন্দ করে। সবার জানা তার গুন্ডামী সম্পর্কে। দেশ-বিদেশে গুন্ডামী করে বেড়ায়। সে পেশাগত গুন্ডাদের সরদার। দেশের সকল ছোট বড় কালো কাজের সাথে তার নাম জড়িত। তার কথায় হয়। দেশের সরকার পযন্ত তাঁকে কিছু বলার ক্ষমতা রাখে না। কারণ তাদের ধারায় সরকারের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ হয়ে থাকে। এক কথা বলতে গেলে সরকারের ডানহাত, বামহাত, সামনের হাত, পিছনের হাত, সবকিছুই তাঁরা। দেশের সরকারও তাদের সাথে টক্কর নেই না। কারণ তারা দেশের সরকারকে পিছন থেকে চালায়। ঐটাকে রাজনৈতিক চাল বলে। সবাই বুঝেও বলার ক্ষমতা কেউ রাখে না তাদের আগে। দেশের আইন পযন্ত তাদের সুবিধার্থে তৈরি করা হয়। রিদ খান নামে রোজ কোথাও না কোথাও ঝামেলা হয়। খুন খারাবি হয়। মানুষ হত্যা করা তার রোজগার কাজে পরে। রিদ খানের নামে গোটা একটা কালো দুনিয়ায় আছে। যেটা দিন দিন আরও শক্তিশালি হচ্ছে। তোমাকে ছোট বেলায় যখন রিদ খানের সাথে বিয়ে দেয়। তখন সে সাধারণ একজন ছেলে ছিল। কিন্তু তোমার বিয়ের পরপরই তার রুপ পরিবর্তন হয়। তার বাবা-মায়ের মৃত্যুর জন্য পযন্ত তোমাকে দায়ী করে গুলি করে মারতে চেয়েছিল সেদিন। অথচ তুমি তখন ছয় বছরের ছিলে। আমি তোমাকে খান বাড়িতে পাঠাতে চাই নি। কিন্তু আমার বাবাকে মৃত্যুর সময় দেওয়া শেষ ওয়াদা রাখতে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তুমি যেতে চাইছিলে না বলে। আমি বলেছিলাম তোমাকে পালতে পারবো না। এর জন্য আব্বু সরি। কিন্তু আমার হাতেও অন্য কোনো অপশন ছিল না। বাবাকে দেওয়া ওয়াদা রাখতে তোমাকে পাঠিয়েছিলাম খান বাড়িতে। সাথে এই ভয়েও ছিলাম। যদি রিদ খান তোমার আসল পরিচয় জানতে পারে। তাহলে সে তোমাকে মেরে ফেলতে দ্বিতীয় বার ভাববে না। বাবা-মার মৃত্যুর খুনি দায়ী করে। আল্লাহ অশেষ রহমত তেমন কিছুই হয়নি। হয়তো রিদ খান বুঝতে পেরেছিল তুমি তখন ছোট ছিলে। অবুঝ ছিলে। তোমার হাতে কিছুই ছিল না। এজন্য তোমার ক্ষতি করেনি। কিন্তু করতে কতক্ষণ? রিদ খানকে সবাই ক্ষমতাসীন গ্যাংসার বলে জানে। ক্ষমতা আগে দয়া মায়া কারও জন্য নেই। তোমার জন্য না। আজ হয়তো তোমাকে বিয়ে করবে কিন্তু দুইদিন যেতে না যেতেই ঠিকই তোমাকে নিজের জীবন থেকে ছুঁড়ে ফেলবে। আবারও অন্য কোনো নারীতে মন্ত হয়ে যাবে। এসব গুন্ডা গ্যাংস্টাদের মন ভালোবাসা বলতে কিছু থাকে না। তারা বউ, সংসার, মায়া-মমতার বুঝে না। তারা বুঝে দুনিয়া আর কালো টাকা। আমি দীর্ঘ বছর ধরে রিদ খানের সম্পর্কে দেখে, শুনি আসছি। এক কথায় অন্তত খারাপ চরিত্রে লোক। তোমাকে মেরে ফেললেও দেশের আইন আমাদের হয়ে কথা বলবে না। তারা রিদ খানের পক্ষপাতিত করবে। কারণ জোর যার মুলুক তার। আমি বাবার দেওয়া ওয়াদা রেখেছি তোমাকে খান বাড়ির বউ করে পাঠিয়েছি। আড়াই বছর ছিলে ঐখানে ব্যাস কথা শেষ। বিয়ে হয়েছে। স্বামীর বাড়ি গিয়েছিলে। আমারও ওয়াদা রাখা হয়েছে। সারাজীবন ঐ বাড়ির ছেলের সাথে সংসার করতে হবে এমন ওয়াদা আমি করিনি। তাই তোমাকে আমি ঐ অনিশ্চিত ভবিষ্যতে পিছনে রাখবো না। আমি ডিভোর্স পেপার বানিয়ে এনেছি তুমি সাইন করে দাও। তারপর বাকিটা আমি দেখে নিব।

মায়ার চোখ টলমল করে উঠে ডিভোর্স পেপারে কাগজটি দেখে। নত মস্তিষ্কের মায়া কোলের হাত দুটোর দিকে তাকিয়ে রইলো। শফিকুল ইসলামে কথায় কোনো যুক্তি খুঁজলো না। আর না বাবাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে কিছু বলল। শুধু চুপ করে থেকে মাথা নাড়ালো। সম্মতি দিল সাইন করবে। জুই চমকে তাকায় মায়ার দিকে। এতোটা জেদ করবে মায়া বুঝতে পারেনি জুই। ভালোবাসার শর্তেও আত্মসম্মানের তাগিদে স্বামীকে এক কথায় ডিভোর্স দিবে ভাবিনি সে। পাশ থেকে ফিহারও একিই অবস্থা। অজানা ভয়ে আতঙ্কে তাকিয়ে আছে মায়ার দিকে। এই ডিভোর্স পেপার যদি রিদের কাছে যায় তাহলে কি যে হবে সেটা নিয়ে চিন্তত সে। ফিহা ধারণা মতে রিদ মায়াকে অসম্ভব ভালোবাসে। রিদ খান গোটা দুনিয়ায় জন্য খারাপ হলেও মায়ার জন্য অসম্ভব আদুরী। রিদ নিজেই মায়াকে বেশ যত্ন সহকারে খেয়াল রাখে। সেখানে ডিভোর্সে মায়ার সাইন মানেই তান্ডব। ফিহা শুকনো ঢুক গিলে মায়ার দিকে তাকায়। মায়াকে দেখে কাঁপা কাঁপা হাতে ডিভোর্স পেপারে সাইন করতে। শফিকুল ইসলাম মায়া থেকে সাইন নিয়ে উঠে দাঁড়ায় ডিভোর্স পেপার হাতে নিয়ে। তিনি যাওয়ার আগে পুনরায় মায়ার মাথায় স্নেহময় হাতটা বুলিয়ে চলে যেতে নিলেই মায়া হঠাৎ করে পিছন ডাকল উনার। শফিকুল ইসলাম দাঁড়ায়। কৌতুহল ভরা দৃষ্টিতে মায়া দিকে তাকাতেই, মায়া নত মস্তিষ্কের এগিয়ে এসে বাবা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, রিদের দেওয়া ডায়মন্ডের চুড়ি, আংটি খুলে বাবার হাতে তুলে দেয়। বিয়ের প্রথম রাতের রিদের দেওয়া উপহারের গলার রকেট-টাও খুলে শফিকুল ইসলামে হাতে তুলে দিতে দিতে মায়া বলে…

—” এই গুলোও ফিরত দিয়ে দিও আব্বু। এই গুলো তাদেরই দেওয়া। আমার এই গুলোর প্রয়োজন নেই।

শফিকুল ইসলাম অন্তত গৌরবের সহিত প্রসন্ন হেসে মায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে সবকিছু নিয়ে নিজের ঘরে দিকে যায়। উনাকে আপাতত খান বাড়িতে যেতে হবে আজই এই গুলো নিয়ে। মায়া ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। কারও সঙ্গে কোনো কথা না বলে নিস্তেজ, বুক ভারির শরীরটা টেনে নিয়ে যায় নিজের রুমের দিকে। রেহেনা বেগম তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মায়ার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। মেয়ের কষ্ট চোখে পড়ছে উনার। তিনি জানেন মায়া ঐ বাড়ির ছেলের উপর দূর্বল হয়ে পড়েছে এতো বছরে। তবে স্বামীর কথাও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। আর যায় হোক অনিশ্চিত ভবিষ্যতে দিকে মেয়েকে ঢেলে দিতে পারেন না তারা।
~~
সন্ধ্যার অন্ধকারময় আকাশে গুরি গুরি বৃষ্টি। রাস্তা ঘাটে মানুষের চলাচল আছে তবে অনেকটায় কম। মায়া খোলা বারান্দায় রেলিং উপর বসে আছে। অনেকটা কান্নায় চোখ মুখ ফুলা। নাক লাল হয়ে আছে। আজকে দুপুরের দিকে শফিকুল ইসলাম রেহেনা বেগমকে নিয়ে খান বাড়িতে গেছে মায়ার ডিভোর্স পেপার নিয়ে। এখনো বাসায় ফিরেনি। হয়তো ফিরতে আরও রাত হতে পারে। এই মূহুর্তে বাসায় শুধু ফিহা, জুই আর সে। মায়া রুম লক করে বসে আছে। কাউকে নিজের রুমে আসতে দেয়নি সেই সকাল থেকেই। বুক ফাটা আতনাদের কান্নাটা কাউকে দেখাতে ইচ্ছুক না তাই। মায়া আজ সবকিছু উপর বিরক্ত। কারও সাথে সোজা মুখে কথা বলতে পযন্ত মন নারাজ। শুধু একা থাকতে চাই। মনে তার জেদ রিদকে বিয়ে করবে না। রিদ মেরে ফেলতে চাইলে ফেলুক। তারপরও বিয়ে করবে না। এই জন্য ডিভোর্স পেপারেও সাইন করলো। সবকিছু ফিরত পাঠাল। এতো কিছুর পরও মায়া রিদের থেকে দূরে থাকতে কেন পারছে না। কেন মরণ যন্ত্রণা মনে হচ্ছে মায়ার ভিতরে ভিতরে। অসহ্য নেয় কেন ঠেকছে সবকিছু মায়া কাছে। মায়া কি করবে? কিভাবে থাকবে রিদ ছাড়া। মায়া মুখে হাত দিয়ে পুনরায় ফুপিয়ে উঠে কান্নায়।

সেদিন রিদ নিজের রাগ মায়ার সাথে দেখিয়ে চলে গিয়েছিল। তবে আসিফকে মায়া আর জুঁইকে সেইফলি বাসায় দিয়ে গিয়েছিল। বিশেষ করে মায়াকে সাবধান করে গিয়েছিল ‘মায়া যাতে বাসা থেকে বের না হয়। কোথাও না যায়। সাবধানে থাকতে। মায়া আসিফের কথা শুনে বাসা থেকে বের হয়নি এমনটা না। সে এমনই বের হয়নি বাসা থেকে মন খারাপে। মায়ার দেখাদেখি জুই দুইদিন কলেজে গেল না। বর্তমান সময় সন্ধ্যার সাতটা বাজে। মায়া মুখ ঢেকে আরও কিছুক্ষণ কান্না করে দূর্বল শরীরটা নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। দু’হাতে চোখ ভালো করে মুছে পা বাড়ায় নিচের দিকে। সারাদিন ধরে মনটা তার কু-ডাকছে। ভিতর ভিতর ছটফট করছে। মনে হচ্ছে আজ কিছু একটা খারাপ হবে মায়ার সাথে। আল্লাহ বাঁচানোর মালিক। মায়া সোজা কিচেনে গেল। বাহিরে গুরি গুরি বৃষ্টি পড়ছে। ওয়েদার ভালো নেই। জুই ফিহা রুমে আছে। মায়া নিজের জন্য অল্প খাবার প্লেটের তুলে নেয়। সারাদিন না খাওয়ার বেশ দূর্বল লাগছে নিজেকে। প্লেট খাবার সাজিয়ে ঘুরতে গিয়ে বিকট শব্দ কানে আসতেই মায়া ভয়ে লাফিয়ে উঠে, হাতের প্লেট ছেড়ে দেয় ফ্লোরে তৎক্ষনাৎ। লাগাতার ধাম ধাম শব্দে মায়ার মনে হয় তাদের গেইট হয়তো আট-দশ জন মানুষ মিলে একত্রে ভাঙ্গতে চাচ্ছে শক্তি প্রয়োগ করে। মায়া বুঝতে পারে না কারা এমন করছে। তারপরও মায়া অবুঝের মতোন তৎক্ষনাৎ প্রাণপূণ দৌড় সেদিকে। ঘরে দরজা খুলে দ্রুত গেইটের কাছে যায়। কেচি গেইট প্রায় ভেঙ্গে ফেলার উপক্রম হলো ওপাশ থেকে লাগাতার আঘাত করাতে। মায়া আতঙ্কে দ্রুত হাতে গেইটের লক খুলে দরজা টেনে ধরতেই কেউ ঝড়ে গতিতে মায়ার গলা চেপে ধরে। আকস্মিক ঘটনায় মায়া বুঝতে না পারলেও গলার উপর ব্যক্তির হাত ধরে পিছাতে লাগে পরপর। ব্যক্তিটির বলিষ্ঠ হাতে মায়ার গলা চেপে ধরে টেনে নিয়ে হিংস্রত্ব প্রকাশে ঠাস করে পাশে দেয়াল সাথে মিশিয়ে ধরে গর্জে উঠে বলে…

—” বড় বড় কলিজা নিয়ে ঘুরিস? তোর কলিজাটা কত বড় হয়েছে সেটা আজ আমি মেপে দেখব। আমাকে ডিভোর্স পাঠাস? আমাকে? তোর সাহসের দাঁত ভেঙ্গে আজ আমি যাব। তোকে কে বাঁচাই আমিও দেখবো।
.

চলিত…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply