দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬১
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৬১
আজ ফিহার বিয়ে। সকাল থেকেই খান বাড়ির সদস্যরা মেহমানদারিতে ব্যস্ত। বাড়ির সকল ছেলেরা বাহিরে দিকটা সামলালেও বাড়ির ভিতরে দিকটা মেয়েদের হাতে। খান বাড়িতে মেহমান সদস্যে ভরপুর হয়ে আছে। প্রতিটা কক্ষেই রয়েছে মেহমান। সকাল এগারোটার নাগাদ হতেই তোড়জোড় চলছে মেয়ে ছেলেদের রেডি হওয়ার তাগদার বিষয়টি। মায়া নিজের রুমে বসে রইলো। কাল রাতের ঘটনার পর সে আর বাহিরে বের হয়নি। লজ্জায় মরি মরি হয়ে রাত থেকে এখন অবধি বিছানায় পড়ে রইলো আষ্টশ হয়ে। লজ্জায় ফিহার হলুদের অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করলো না। বাহানা দিল শরীর খারাপে। জুই রাত সাড়ে এগারোটার নাগাদ সবাইকে নিয়ে চলে গিয়েছিল বাড়িতে। আরিফের হলুদের অনুষ্ঠান শুরু করতে হবে বলে। এমনিতে অনেকটা দেরি হয়েছিল সবকিছুর ঝামেলায়। জুঁই মায়ার রুমে এসেই মায়া থেকে বিদায় নিয়ে গেল। মায়া তখনো রুম থেকে বের হলো না। নিজের রুমেই থাকলো। রিদের সামনে পড়তে চাইনি তাই। কারও মুখে রিদের নামটা শুনলেও যেন লজ্জায় কুঁকড়ে উঠছে গাঢ় অস্থিরতায়। মায়া বালিশ চেপে মুখ গুঁজায়। রাতের ঘটনা পুনরায় মনে পড়তেই মৃদু শরীর কেঁপে উঠে অদ্ভুত শিহরণে। রিদের ছুঁয়া। রিদের অদ্ভুত স্পর্শে মায়া পূব পরিচিত নয়। কাল রিদ হুট করে এমন কিছু করবে সেটা ঘুণাক্ষরেও ধারণা করেনি সে। সবকিছুই ছিল মায়ার জন্য অন্য রকম। যেটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। হেনা খান মায়ার কপালে হাত রাখতেই মায়া চমকে উঠে তাকায় সেদিকে। মায়ার শরীরে জ্বর না থাকায় খানিকটা স্বস্তির হন তিনি। রাতে মায়ার হুট করে শরীর খারাপে বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তত ছিলেন তিনি। মালার সাথে ঘটে যাওয়ার বিষয়টিও পরে কানে এসেছিল উনার। মালাকে সার্ভেন্ড রুমে দেওয়া হয় রেস্টের জন্য। মানসিক ভাবে মালার স্বস্তির দরকার বলে, আপাতত বিয়ে সংক্রান্ত সকল কাজ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে মালাকে। এতো কর্ড়া সিকিউরিটি মধ্যেও যে এমন কিছু হবে সেটা আসলে উনারাও ধারণা করেনি। সবকিছুই ছিল অপ্রত্যাশিত। উনারা সত্যি অনুতপ্ত। খান বাড়ির বিশ্বস্ত সঙ্গীদের নিরাপদ রাখাটা উনাদের দায়িত্ব ছিল। যেটা উনারা পারেনি। তবে মায়া সেক্ষেত্রে উনাদের মান রেখেছে। ছোট হয়েও একজন নারীর সম্মান বাঁচিয়ে। ঝুঁকে মায়া কপালে চুমু খেয়ে আদুরে হাত বুলালো মায়ার মাথায়।
ফিচেল গলায় বলেন…
—” সোনামা উঠ গোসল করবি। এগারোটা বাজে। বাড়ির সকল ছেলে-মেয়ে রেডি হচ্ছে বিয়ের জন্য। আর তুই পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস? নিজের ভাইয়ের বিয়ে অথচ তোরই খবর নেই। আয়! উঠ! গোসল করবি।
মায়াকে টেনে বিছানায় বসান তিনি। মায়া এলোমেলো চুল গুলো গুছিয়ে খোঁপা করে দিলো। মায়ার গায়ে নীল ওড়না চাদরে মতো জড়িয়ে রাখল শরীরে। হেনা খান মায়াকে ছেড়ে কবাট থেকে সিঁদুর লাল রঙ্গা লেহেঙ্গাটি নামিয়ে বিছানায় রাখলো। উনার পছন্দ করা সেদিনকার লেহেঙ্গাটি এটি। মায়াকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে তিনি পুনরায় তাড়া দিয়ে বলে…
—” কিহল বসে আছিস কেন যাহ গোসল করে আয়।
—” কিভাবে গোসল করবো দাদী। বাড়ির সব কয়েকটা রুমেই তো মানুষ। ওয়াশরুমও খালি নেই। আমার ওয়াশরুমও টিয়া গোসল করছে। তারপর ছায়া যাবে।
—” আমাদের ওয়াশরুমে তোর দাদাভাই আছে। তারপর হয়তো আয়নের আব্বু যাবে। বাকি রুম গুলো খালি নেই মনে হয়! মেহমানরা আছে। নিহা, মালিহা, শাহেবা সবাই যার যার রুমে আছে। ফিহার ওয়াশরুমও বন্ধ ফিহা নিজেই গোসল করছে। তো কি করবি এখন?
—” দাদী তুমি যাও! আমি পরে গোসল করে নিব।
—” পরে গোসল করলে আরও দেরি হবে। এমনই বরযাত্রী দুটোর নাগাদ আসার কথা। এখন এগারোটা বাজে। সময়মত গোসল না করলে রেডি হবি কখন শুনি?
—” তো কি করবো এখন আমি? ওয়াশরুম খালি নেই! গোসল করবো কি করে?
হেনা খান থেমে কপাল কুঁচকে কিছু একটা ভেবে চট করে, মায়াকে টেনে দাঁড় করায়। লেহেঙ্গা কাপড় গুলো মায়ার হাতে গুঁজে দিতে দিতে বলে…
—” রিদের ওয়াশরুমটা খালি আছে। ওর রুমে কারও যাওয়া পারমিশন নেই। কিন্তু তুই যেতে পারবি! তোর সমস্যা নেই। যাহ গিয়ে গোসল সেরে আয়। দ্রুত!
মায়া আঁতকে উঠে হেনা খানের কথায়। দ্রুত গলায় বললো…
—” অসম্ভব! আমি উনার রুমে যাব না দাদী। তোমার নাতি আমাকে উনার ওয়াশরুম দেখলে রেগে যাবে। আমি যাব না উনার রুমে! দরকার হ…
মায়ার কথা শেষ করার আগেই হেনা খান বাঁধা দিয়ে পুনরায় বলে উঠে…
—” রিদ বাসায় নেই মনে হয়। কোথায় আছে তাও জানি না। হয়তো অফিসে চলে গেছে। সকালের নাস্তার পর আর দেখিনি। এবার তুই যাহ! গিয়ে গোসল করে আয়! কথা বাড়াস না। এমনিতেই অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। গোসল করে সোজা ফিহার রুমে যাবি। মেকাপ আর্টিস্ট থেকে সেজে নিবি কেমন। তাদের বলে রেখেছি তোর কথা। যাহ এবার!
—” দাদী প্লিজ! আমি পড়ে গোসল করি না! উনার রুমে যেতে আমার ভয় করে।
–” তোকে যেতে বলছি যাবি। গোসল করে চলে আসবি এতো কথা কিসের। যাহ!
~
কাপড় নিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে বুথে লক টাইপ করে রুমে প্রবেশ করলো মায়া। প্রচন্ড ভয় ও অস্তিত্ব ফিল করছে রিদের সামনে পড়বে বলে। যদিও হেনা খানের বলেছে রিদ বাসায় নেই। তারপরও কিছুতেই যেন স্বস্তির হতে পারছে না সে কালকের বিষয়টি নিয়ে। ভয়ে পা টিপে টিপে রুমে ঢুকে ভয়ার্ত চোখ বুলালো চারপাশে। রিদকে আশেপাশে কোথাও দেখতে না পেয়ে অনেকটা স্বস্তিরশ্বাস ফেলল সে। ঘুরে ওয়াশরুমের দিকে যেতেই বেখেয়ালি চোখ বিছানায় পড়ল। প্রচন্ড গতিতে শরীরে কম্পন ধরলো কাল রাতের বিষয়টি পুনরায় মনে হতে। লজ্জায় আষ্টশ হয়ে তৎক্ষনাৎ দৌড় লাগালো ওয়াশরুমের দিকে। যাহ দারুণ রিদের বারান্দাটা দেখা হলো না মায়া, কেউ আছে কিনা। মায়া ওয়াশরুমের ডুকে ঠাস করে দরজা চাপিয়ে দাঁড়ায়। লক না করেই পিঠে ঠেকাল ওয়াশরুমের দরজায়। দরজার উচ্চ শব্দ কানে আসতেই রিদ কান থেকে ফোন উঠিয়ে পিছনে থাকায়। বারান্দা থেকে হালকা উঁকি মেরে দেখলো রুমে কে এসেছে এই অসময়ে। পুরো রুম খালি পেল। তবে ওয়াশরুমের দরজাটা খানিকটা নড়তে দেখলো। রিদ কপাল কুঁচকে। তার রুমে এই অসময়ে তার পারমিশন ছাড়া কারও ঢুকার কথা নয়। তাছাড়া রুমও পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করা! গুটি কয়েকটি মানুষ ছাড়া সেই পাসওয়ার্ড কারও জানার কথা না। রিদ কপাল কুঁচকে গম্ভীর মুখে পুনরায় ফোন আলাপে মনোযোগী হয়। এই ফোন কলটি তার জন্য অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বলে। মায়া দরজায় পিঠ লাগিয়ে অস্তিত্বে হাসফাস করে হাতের কাপড় গুলো চেপে ধরলো। কয়েক কদম এগিয়ে উঁকি মারলো ওয়াশরুমের ভিতরে দরজা ধরে রিদের ড্রেসিংরুমে। সেখানটা ও খালি পেয়ে মায়া স্বস্তিরশ্বাসে ঠোঁট প্রসারিত করে হাসল। না রিদ নেই। শান্তিতে স্বস্তিতে গোসল করতে পারবে মায়া। মায়া উৎফুল্লর হলো। খুশি মনে গুনগুন করতে করতে ওয়াশরুমের হেঙ্গলে নিজের কাপড় গুলো রাখল ভাজ করে। নিজের গায়ের ওড়নাটাও খুলে রাখলো সেখানটায়। না মামা গত দুইদিনের মতো আজ উদাসীন বা রাগ করে নেই। ভাইয়ের বিয়ে। উদাসীন বা মন খারাপে বিয়েটা মিস করতে চাই না বলে নিজের মধ্যে সহজ হলো। রিদকে নিয়ে রাগ-ক্ষোভটাও পাশে রাখল। আপাতত বিয়ের দিনটা ভালোই ভালোই কাটাতে চাই সে। মায়া ঘুরঘুর করে ওয়াশরুমে চারপাশে ঘুরলো। একপাশ থেকে অন্য পাশ গেল সাবান, শেম্পু, ফেসওয়াশ খুঁজতে। কিন্তু ওয়াশরুমে পুরুষলী প্রসাধনী ছাড়া অন্য কিছুই পেল না। হতাশ মায়া নিরাশ হলো না। পুরোদমে অনুসন্ধানের খুঁজ চালালো রিদের ওয়াশরুম জোড়ে। রিদের গোছানো ওয়াশরুমটা মূহুর্তেই অগোছালো করে ফেললো খুঁজ করে করে। অবশেষে থামলো দরজার কর্ণারে থাকা ছোট সাদা ওয়ারড্রবের কাছে। একে একে সবগুলো ড্রয়ার খুঁজ করে করে নিজের জন্য মেয়েলি জিনিসপত্র না পেলেও, রিদের বেশ কিছু পার্সোনাল জিনিসপত্র হাতে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। গোল গোল চোখে দু’হাতের মুঠোই ভরতি লেজার দিকে তাকালো। সবগুলোই ইনটেক নতুন। আরও আছে লাস্ট ড্রয়ারে ভিতরে ভরতি। কিন্তু এতোগুলা লেজার দিয়ে করে কি? মায়া কিছু একটা ভেবে নিজের দুষ্ট চিন্তার জন্য, লজ্জা লাফিয়ে উঠে দু’হাত ভরতি লেজার নিয়েই মুখ ঢেকে নিলো তৎক্ষনাৎ। শরমে মরণ হতেই খট করে ওয়াশরুমে দরজা শব্দ করে ঢুকলো রিদ। মায়া চমকে উঠে অল্প একটু হাত ফাঁক করে উঁকি মেরে রিদকে দেখল থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। লজ্জায় জীর্ণ হয়ে মায়া তৎক্ষনাৎ পুনরায় মুখ ঢেকে নিল লেজার ভরতি দু’হাতেই। রিদ খানিকটা থমথমে খেয়ে গেলো মায়াকে এই মূহুর্তে এখানে দেখে। ছোট ছোট চোখ করে মায়ার হাত ভরতি লেজার দেখে হালকা কপাল কুঁচকা রিদ। মায়ার লজ্জা বুঝে শান্ত স্বাভাবিক থাকলো সে। কিছু না বলে মায়ার দিকে এগিয়ে আসলো। মায়ার হাত টেনে লেজার গুলো নেওয়ার চেষ্টা করলো। মায়া দিলো না। বরং চমকে উঠে জোর খাটিয়ে নিজের দু’হাত রিদের হাত থেকে ছাড়িয়ে নিল। রিদ মায়ার হাত থেকে লেজার গুলো নিতে চাওয়াটা মায়া তৎক্ষনাৎ বুঝলো না। মায়া মনে করলো রিদ রোজকার মতো মায়াকে নিজের কাছে টানতে চাইছে। জড়িয়ে ধরার জন্য। মায়া নিজের লজ্জায় লজ্জায় হাতের চেপে ধরা লেজার গুলোর কথাও ভুলে গেল এক মূহুর্তে। রিদ কপাল কুঁচকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো মায়ার দিকে। মায়া রিদের দৃষ্টি প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরবর্তী অল্প সময়ে বুঝলো! যখন রিদের দৃষ্টি অনুসরণ করে নিজের দুহাত ভরতি লেজার গুলোর দিকে তাকালো তখন। মায়া চমকালো! লজ্জা পেল! তৎক্ষনাৎ রিদের দিকে তাকিয়ে উত্তেজিতের ব্যস্ত গলায় বললো…
—” আমি চুরি করছিনা তো। এই গুলা আমার আছে!
মায়া বেফাঁস বোকা কথায় রিদ থমথমে খেয়ে গেল। ধমক স্বরে বলল…
—” স্টেআপ ইডিয়ট!
মায়া তখনো বুঝলো না রিদের হঠাৎ ধমকে উঠার কারণটা। ভাবলো রিদ রোজকার মতোই হয়তো তাকে ধমকাচ্ছে। কিন্তু রিদকে চলে যেতে দেখে মায়ার মস্তিষ্কে পরিষ্কার হলো নিজের বলা কথাটা। মায়ার এই গুলা আছে! লাইক সিরিয়াসলি! মায়া লেজার আছে সেটা রিদকে বলতে হবে? বলার জন্য আর কোনো কথা খুঁজে পেল না সে। খুঁজে খুঁজে মায়াকেই এমন বিচ্ছিরি পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তাও রিদের সামনে? নিশ্চয়ই রিদ এখন মায়াকে আর লেজারকে জড়িয়ে উল্টাপাল্টা চিন্তা করছে। ছিঃ ছিঃ কি বাজে! দাঁড়িয়ে থেকে ঠোঁট ভেঙ্গে নিঃশব্দে কেঁদে উঠে মায়া। দৃষ্টি তার মুঠো ভরতি লেজারে দিকে! এই গুলা সে তখন মুখেও লাগিয়েছে রিদের সামনে! মায়ার লজ্জা থেকে ডিপ্রেশন হচ্ছে বেশি এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে। কান্না করার মধ্যেই মায়া পুত করে শব্দ করলো। খালি পেট হওয়ায় ভুরভুর করছিল পেট গ্যাসটিকে। যেহেতু মায়া বাথরুমেই আছে তাই নিশ্চিন্তে করে ফেললো আস্তে করে। খালি পেটে আবারও একটা করে ফেললো পরপর। কিন্তু হতভাগী মায়ার পরিবেশ দূষণ করেও শান্তি পেল না রিদের জালাই। হুট করেই মায়া আবিষ্কার করলো রিদ তার একদম পিছনে। তারমানে রিদ তখন বাহিরে যায়নি। বরং তার পিছনে গিয়েছিল। ওয়াশরুমের হেঙ্গল থেকে নিজের কাপড় নিচ্ছে মানে মায়া যে এতক্ষণ ফুস ফুস শব্দ করে পরিবেশ দূষণ করলো সেটাও শুনেছে নিশ্চয়ই! অবশ্যই শুনেছে পিছনে তো দাঁড়িয়ে আছে! মায়া লজ্জা অস্তিত্বে আঁড়চোখে একবার রিদের দিকে তাকালো। রিদের এমন একটা ভাব যেন এই মূহুর্তে এখানে কিছুই হয়নি। সবই ঠিকঠাক! মায়ার পরিবেশ দূষণ করার বিষয়টি যেন শুনেনি। নাকেও লাগেনি! মনোযোগ দিয়ে নিজের কাপড় উঠিয়ে রাখছে যেগুলো মায়া অগোছালো করে নিচে ফেলেছিল। রিদ স্বাভাবিক থাকলেও মায়া আর স্বাভাবিক থাকতে পারলো না। প্রচন্ড অস্তিত্ব ফিল করে লজ্জা লেজার, কাপড় ফেলে কোনো রকম ওড়না টেনে দৌড়ে পালালো ওয়াশরুম থেকে সোজা নিজের রুমে। একদিনে এতো ডিপ্রেশন মায়া নিবে কিভাবে? ওয়াশরুমেও শান্তি নেই! খুঁজে খুঁজে সকল ডিপ্রেশনের ভাগীদার মায়াকেই কেন হতে হবে? ছিঃ কি বিচ্ছিরি কান্ড! লজ্জায় মায়ার শরমে মরণ হচ্ছে না আবারও? একবার না! দুই দুইবার পরিবেশ দূষণ করলো তাও রিদকে পিছনে রেখে? ছিঃ ছিঃ! একটা ডিপ্রেশন কাটাতে না কাটাতে আরও একটা যোগ হলো মায়ার জন্য! সেতো ঠিকঠাক জায়গায় ওয়াশরুমেই ছিল। তার দোষ কোথায়? উফফ!
~~
বিকাল চারটা ছুঁই ছুঁই। পশ্চিম আকাশে সূর্য ঢলে পড়েছে। চারদিকে আজানের ধ্বনি বাজছে। শফিকুল ইসলাম বরযাত্রীসহ খান বাড়িতে এসেছে প্রায় ঘন্টা দেড়েক আগে। ইতিমধ্যে বরযাত্রীর খাবারে পূবটাও বেশ চুকানো হয়ে গেছে। এবার বিয়ের জন্য তোড়জোড় চলছে। স্টেজে আরিফের পাশাপাশি ফিহাকে বসানোর হয়েছে। ফিহার হলুদের স্টেজ ছাঁদে করলেও বিয়ের মেনু করা হয়েছে খান বাড়ির বাগানের এরিয়াতে। দুজনের মধ্যে ড্রেস কোডের কালারটা মিল রাখল! পিচ কালার। ফিহার গায়ে গাঢ় পিচ কালারের হেবি লেহেঙ্গা জড়ানো। জুয়েলারিও একিই রঙ্গা। হেবি সাজে গায়ে আর মাথায় দুটো আলাদা আলাদা ওড়না টানা। আরিফ হালকা কালারে শেওরানি পড়ল সাদা প্যান্ট দিয়ে। শেওরানির দুপাট্টা রাজশাহী স্টাইলে কাঁধে থেকে মুড়িয়ে হাতে ভাজ করা। অসম্ভব সুন্দর দেখাল দুজনকে একত্রে। কিন্তু ভালোবাসা কাপল একসঙ্গে দীর্ঘ সময় নিয়ে বসে থেকেও একে অপরের সঙ্গে কথা হচ্ছে না। আরিফ বেশ কয়েকবার কথা বলার চেষ্টা করেছিল কিন্তু ফিহা উত্তর দেয়নি। চুপ থেকে ছিল। বিষন্ন আরিফও দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে চুপ করে যায়। চারপাশ থেকে আগত মেহমানদের সাথে হাল্কা পাতলা কথা চালায়। কৌশল বিনিময় করে। ছবি তুলে। ফিহাও সেম কাজ করছে। হাসি মুখের সবার সাথে পোস্ট দিয়ে ছবির তুলছে। আগত মেহমানদের কথার উত্তর করছে। শুধু আরিফকেই ইনগো করছে। এমনত অবস্থায় আরও কিছুক্ষণ পার হতেই আরিফ, অস্থিরতায় গলার কাছের শেওরানির উপরে বোতামটি খুলে দিয়ে স্বস্তিরশ্বাস ফেলে ফিহার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল। ফিহা বেশ শান্ত শিষ্ট হয়ে বসে আছে তার পাশে। আরিফ বুঝতে পারছে না তাকে কেন এতটা ইগনোর করছে। বিয়েতে কি মত নেই। সেকি বিয়ের জন্য তাড়াহুড়ো করে ফিহার উপর জোর খাটালো? ফিহার মতামত তো নেওয়া হয়নি আরিফের। সেকি ভুল করল। তাহলে কি ফিহার মত পরিবর্তন হয়েছিল আরিফকে নিয়ে? যেটা সময়ে অভাবে বলতে পারেনি তাকে। আরিফের বুক কেঁপে উঠে। অস্থির হাত দুটো শীতল বরফে নেয় ঠান্ডা হয়ে উঠলো। যদি বিষয়টি সত্যি হয়! তাহলে আরিফ কি করবে? ফিহাক যেতে দিবে বিয়ে না করে? অবশ্যই যেতে দিবে সে! কোনো মেয়েকে জোর করে বিয়ের করার মধ্যে পুরুষত্ব প্রকাশ পায় না। সে কাউকে জোর করবে না। আরিফ ভালোবাসতে জানে। ভালোবাসা যদি না পায় তাহলে জোর করার প্রশ্ন উঠে না। বরং সবকিছু মেনে নিয়ে ফিহাকে মুক্ত করে দিবে। চাপা আর্তনাদে বুক ভারির চিনচিন ব্যথা অনুভব করল আরিফ, বুকের বাম পাশে। অস্থিরতার ঘাম কপাল বেয়ে পড়তেই হাত বাড়িয়ে সামনে টেবিল থেকে টিস্যু নিয়ে মুছল। ঠোঁট গোল করে অস্থিরতার গুমোট শ্বাস ফেলে পুনরায় তাকাল ফিহার শান্ত শিষ্ট চেহারার দিকে। মনের দ্বিধা কাটিয়ে কোনো রুপ ভনিতা ছাড়া সরাসরি বলে উঠে…
—” দেখ ফিহু বিগত কয়েক দিন যা হয়েছে আমাদের জীবনে, সেটা আমি চাইলেও পরিবর্তন করতে পারব না। সেই ক্ষমতা আমার নেই। তবে চাইলে এই বিয়ে বন্ধটা করতে পারব। তোমার যদি আমাকে নিয়ে মন পরিবর্তন হয়ে থাকে! তাহলে আমায় বলতে পারো। আমি মেনে নিব তোমার সকল ডিসিশন। বরযাত্রী নিয়ে ফিরে যাব। তারপরও তোমার মনে বিরুদ্ধে বিয়েটা আমি করব না। এন্ড সরি! তোমাকে এই পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য। আমার আরও আগে উচিত ছিল তোমার মতামত নেওয়ার। ভুল হয়ে গেছে। তার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। তবে এবার তোমার ডিসিশনই আমার ডিসিশন হবে। বিয়ে না করতে চাইলে নির্দ্বিধায় বলতে পারো। আমি মেনে নিব সেটা। তবে তুমি চুপ থাকলে! আমি তোমার সম্মতি ধরে নিয়ে চলে যাব বরযাত্রীসহ।
আরিফের আদর্শ কথা তলে টইটম্বুর হলো ফিহার আঁখিদয়। এটা কোনো কথা! ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করার জন্য কতটা কাঠখড় পোহাতে হয়েছে তাঁকে। এখন বিয়ের শেষ মূহুর্তে এসে বলছে ফিহা বিয়ে করতে না চাইলে বিয়ে বন্ধ করে দিবে। ফিহার রেগে থাকার কারণ আছে বলেই সে রেগে আছে। কিন্তু তার রেগে থাকার কারণ না খুঁজে বলছে, ফিহার মন পরিবর্তন হয়েছে। মনে জমানো কষ্টট তরতর করে বাড়লো আরিফের প্রতি। অভিযোগ নয়নে তাকাল আরিফে দিকে। ভালো তো শুধু ফিহাই বেসেছিল আরিফকে। সেতো ভালোবাসিনি ফিহাকে। ভালোবাসলে কখনোই এসব বলতে পারতো না। বরং ফিহার মন বুঝার চেষ্টা করতো। আরিফ কপাল কুঁচকায় ফিহার চোখের পানি দেখে। সে আরও কিছু বলবে তার আগেই ফিহা রাগের দুঃখ তেজি হাতে ধুপ করে কিল বসালো আসিফের উরুতে। আকস্মিক ঘটনায় আরিফ চমকে উঠে উরু ঘষতে ঘষতে ফিহার দিকে তাকাতেই ফিহা রাগে কটমট করে। আরিফ বিষয়টি প্রথমে বুঝতে না পারলেও কয়েক সেকেন্ডের অন্তত বুঝে নিল ফিহার রাগ করার কারণটা! কিন্তু ফিহার সামনে অবুঝ সাজল। না বুঝার ভান ধরে হতবাক কন্ঠে বলল..
—” আরে মারছো কেন? বিয়ে করবে না বলে এজন্য বরকে মেরে ঝগড়া বিবাদ পাকাতে চাচ্ছো তুমি?সাংঘাতিক মেয়ে তো তুমি।
আরিফের তেঁড়া কথা ফুসে উঠে ফিহা জোর হাতে পুনরায় একিই জায়গায় কিল বসল ধুপ করে। আরিফ খুবই মৃদু স্বরে আতনাদ করল পা ঘষে। ফিহা রাগে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল…
—“এক মাঘে শীত যায়না মনে রেখ। এখনের কথা গুলো না আমি ভুলব! আর না তোমাকে ভুলতে দিব। সময় আমারও আসবে। জাস্ট ওয়েট।
ফিহার রাগ বুঝতে পেরে আরিফ দুষ্টু হাসল। ফিহাকে নিয়ে মনের সংশয় দূর হতেই স্বস্তির হলো সে। যাক আরিফ ভুল করেনি। ভালোবাসার মানুষ তারই আছে। বিয়ের হোক তারপরও রাগ অভিমানটা না-হয় পরে দেখা যাবে। তবে এই মূহুর্তে বিয়ের আনন্দ মাটি করতে চাইল না। হালকা পাতলা দুষ্টুমী তো করাই যায় বউয়ের সাথে। আরিফ দুষ্টু হেঁসে মুখে দারুণ সিরিয়াস ভাব টেনে বলল..
—” তারমানে তুমি এই বিয়েটা করছো! নাকি করছো না। কোনটা? আগে আমাকে সিওর করো। তারপর না-হয় এক বছরে কয়টা মাঘ মাস আছে সেটা চিন্তা করব। তোমার যেহেতু মাঘ মাস পছন্দ তাহলে আমারও পছন্দ। তবে আমার শর্ত একটাই! শীত বলে বেশি, আর গরম বলে কম, ভালোবাসা চলবে না কিন্তু। সমান সমান ভালোবাসতে হবে। নয়তো ঋতুস্য নারাজ হতে পারে। ভাববে আমরা তাদের মধ্যে সহিষ্ণুতার বৈষম্য ভেদাভেদ করছি। শীতে ভালোবাসা-ভাসি বেশি করি, আর গরমে কম। আমি আবার নীতিবান মানুষ। অনৈতিক কাজ কিন্তু আমার ধারা হবে না ফিহু। বারো মাস একিই ভালোবাসার রাখতে হবে। তাহলেই আমার নীতি আদর্শ সবকিছুই ঠিকঠাক থাকবে।
ফিহা রাগে কটমট করে তাকাল আরিফে দিকে। আরিফ দারুণ হেঁসে এক চোখ মারল। ফিহা খানিকটা লজ্জা, রাগে, দুঃখে, ঘুরে বসল অন্য দিকে। দু’জনের মধ্যে আর বনাবনি হলো না। দলের দলের মানুষ এসে ছবি তুলছে বর- বউয়ের সাথে। এর খানিক বাদেই শফিকুল ইসলাম, আরাফ খান, নাহিদ চৌধুরী, আয়ন, সোহাগ, সবাই মিলে কাজীকে নিয়ে হাজির হয় তাদের কাছে। স্বস্তিরে কাজি সাহেব বিয়ে পড়ানোর পর ফিহাকে কবুল বলতেই, ফিহা ফটাফট তিন কবুল বলে দেয়। বলা তো যায় না, যদি সত্যি সত্যি আরিফ বিয়েটা বন্ধ করে দেয় তো? আরিফ দুই ঠোঁট চেপে হাসি থামাল। তাঁকে কবুল বলতে বললে সেই সুন্দর করে রয়েসয়ে ধীরস্থিরে বলল। তাড়াহুড়ো করলো না। পুরুষরা সবাই বিয়ে পড়িয়ে যেতেই তোড়জোড় করে এসে বসলো জুই মায়া দু’জন দুপাশে। মায়া আরিফের পাশে আর জুঁই ফিহার পাশে। এতক্ষণ যাবত তাদের জন্যই ঘুরঘুর করছিল বিয়ে শেষ হওয়া নিয়ে। অবশেষে শেষ হতেই উৎফুল্লতা দেখা গেল দুজনের মাঝেই। মায়া তো ফিহার পক্ষ ধরে গেইটেও দাঁড়িয়ে ছিল। ভাইয়ের থেকে মোটা অংকের টাকাও উসুল করল। তারপর থেকেই সারা বাড়ি টইটই করছে লেহেঙ্গার দুপাশ আঁকড়ে ধরে। ক্ষনে ঘুরঘুর করে বাপ-ভাইয়ের পাশে থাকছে। তো অন্যবার হেনা খানের আঁচল ধরে ঘুরঘুর করছে। মাঝেমধ্যে আরাফ খানের চারপাশেও দেখা যায় ঘুরঘুর করতে। এখন মূলত ছায়া-টিয়া সঙ্গ ধরে জুঁইকে নিয়ে ঘুরছে। বিয়ে বাড়িতে সেজেগুজে ঘুরঘুর করা ছাড়া অন্য অবশিষ্ট কাজ নেই কারও হাতেই। তবে মায়া সকলের আগেপিছে ঘুরঘুর করলেও রিদের চারপাশেও ভিড়ছে না। মূলত রিদই তাকে ভিড়তে দিচ্ছে না। রিদের সাথে মায়ার সকালের পর দুপুরে দিকে বেশ কয়েক বার দেখা হয়েছে। তবে দূর থেকে চোখাচোখি হয়েছে ব্যস। ফিহার বিয়ের জন্য রিদকে আজ বাড়িতেই দেখা গেল। বিয়ের ফাংশনে তেমন একটা এটেন্ড করিনি। দূরে দূরে থেকেছে। বাড়ি ভরতি মেহমান হওয়ায় মায়ার থেকে সেচ্ছায় দূরে দূরে থাকছে। দেখা সাক্ষাৎ বা কথা কোনোটায় করছে না। অনেকটা এরিয়ে ইগনো করছে মায়ার সেইফটির কথা চিন্তা করে। মায়া ভাইয়ের বিয়ের উল্লাসে মন্ত হয়ে এক মূহুর্তের জন্য রিদকে ভুলে গেল। মেতে থাকল আমেজেই। আরিফ ফিহার জুঁইয়ের সাথে স্টেজে বসে ফুটো পোস্ট দিয়ে ছবি তুলতে লাগল একে পর এক। তক্ষুনি মায়ার জন্য খান বাড়ির ভিতর থেকে ডাক আসায় সে আরিফের পাশ থেকে উঠে গেলো ভিতরে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে যখন মায়ার সন্ধান পাওয়া গেল না। তখন জুইও ফিহার পাশ থেকে উঠে নেমে গেল স্টেজ থেকে। মায়ার উদ্দেশ্য বাগানের রাস্তা ধরে আগালো ভিতরে। সিঁদুর রঙ্গা লাল লেহেঙ্গা জড়ানো গায়ে তার। লেহেঙ্গার দুপাশ হাল্কা আঁকড়ে ধরে খুঁড়ে খুঁড়ে হাঁটছে পায়ের ব্যথায়। হিল পড়ার কারণে পা অনেকটা ছিলে চামড়া উঠে লাল হয়ে গেছে। ঠিকঠাক হাঁটতে পারছে না বলেই মায়ার কাছে আসা নরমাল জুতার জন্য। জুই সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে। সিঁড়ি আর রুমের সামনে খালি জায়গায়, করিডোর ধরে বামে মুড়ে এগোতে সামনে পেল রাবারের খালি স্যান্ডেল। সদ্য ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে রাবারের জুতা জোড়া মায়ারই। হয়তো কেউ ব্যবহার করে ভেজিয়ে এখানে রেখে গেছে। জুই কিছু না ভেবেই নিজের পায়ের হিল গুলো খুলে ভেজা জুতা জোড়া পড়ে নিল। পায়ের শান্তি অনুভব করতে স্বস্তিরশ্বাস ফেলে এগোতেই পুত শব্দে চমকে উঠল সে। না সে পরিবেশ দূষণ করেনি। বরং তার পড়া ভেজা জুতা জোড়া থেকে পুত শব্দটা আসল। জুই লেহেঙ্গা উঁচিয়ে পায়ের দিতে তাকায়। রাবারের ভেজা জুতা হওয়ায় ফ্লোরের টাইলসের সাথে চ্যাপ্টে লেগে যাচ্ছে বারবার। যার জন্য জুই কদম ফেলতেই পুত পুত পাদের শব্দ করছে পা উঠাতে চাইলে। এবার কেউ যদি জুতার দিকে লক্ষ করে তাহলে বুঝতে পারবে আসলে পুত পুত শব্দটা জুই নয় বরং জুতা থেকে আসছে। জুই চমকে চারপাশে তাকায়। সাংঘাতিক ব্যাপার! এখন কেউ যদি জুইকে এমনত অবস্থায় দেখে তাহলে নিশ্চিত ভাববে জুই পরিবেশ দূষণ করতে করতে হাঁটছে। জুই আতঙ্কের চোখ উঁচিয়ে ভালো করে আশেপাশে দেখল। না কেউ নেই। সে নিরাপদ! লেহেঙ্গা থেকে হাত ছেড়ে সামনের দিকে এগোতে থাকে জুতার পুত পুত শব্দ নিয়েই। যেহেতু আশেপাশে কেউ নেই তাই শব্দ হলেও সমস্যা নেই। হোক শব্দ! কিন্তু জুইয়ের ধারণা তৎক্ষনাৎ ভুল হয় আয়নের আগমনে। জুই কয়েক কদম হাঁটার পর বুঝতে পারলো তার পিছনে কেউ আছে। মনে হওয়ার দারুণ চমকে উঠে পিছনে তাকাতেই চোখে পড়লো আয়নের বিস্ময়কর চেহারার ছোট ছোট চোখ দুটো। জুই দাঁড়ায়। প্রথমে কয়েক সেকেন্ড সময় নিল আয়নের বিস্ময়কর চেহারার মানেটা বুঝতে। বুঝতে পেরেই যেন কয়েক গুণ বেশি চমকে উঠে নিজের পায়ের দিকে তাকাল জুই। লম্বা লেহেঙ্গার নিচে পায়ের ভেজা জুতা জোড়া দেখা যাচ্ছে না। একদমই না। ফ্লোরে উপর ফুলে লেহেঙ্গা পরে থাকায় পুত পুত শব্দটা আসলে কোথায় থেকে হচ্ছে সেটাও হয়তো বুঝা যাচ্ছে না। জুই চমকায়! হকচকিয়ে গেল মিইয়ে যাওয়া লজ্জায়। প্রচন্ড অস্তিত্ব ফিল করে দ্রুত ঘুরে সামনের দিকে হাটতে চাইল। কিন্তু তাতেও বিপত্তি হলো পুত পুত শব্দ কারণে। জুই কয়েক কদম হেঁটে রাগে দুঃখের ঠাস করে ফ্লোরে বসে পড়ে লজ্জায়। না সে আর হাঁটবে না। এই অসভ্য জুতার ম্যানারস, কমনসেন্স, বলতে কিছুই নেই। সে কিছু না করেও আজ তাকে পুত পুত পাদুরি বানাল লুচু ডাক্তারে কাছে। এতো বড় অপবাদ সে নিবে কিভাবে। নিশ্চয়ই এই লুচু ডাক্তার উল্টা পাল্টা ভেবে এখন তাকে কথা শুনাবে বস্তার বস্তা। লজ্জা জনক পরিস্থিতির শিকার হয়ে ঠোঁট ভেঙ্গে কান্না আসছে জুঁইয়ের। আয়ন জুঁইয়ের ধারণা সঠিক প্রমাণ করে ব্যস্ত সুরে বলল..
—” জুই আপানার কি গ্যাসের সমস্যা হচ্ছে?
এবার সত্যি সত্যি কান্না করা উচিত না জুইয়ের। কিছু না করেই সোজা পেট খারাপের উপাধি পেয়ে গেল সে, এই অসভ্য জুতার জন্য। না আর মেনে নেওয়া যাচ্ছে না। দুঃখের কষ্টে হাঁটুতে মাথা গুঁজে দিল লজ্জায়। তখনই শুনা গেল আয়নের পুনরায় কথা..
—” জুই আপনি ঠিক আছেন? পেটে কি বেশি সমস্যা হচ্ছে আপনার? আসুন উঠে আসুন দেখি!
আয়নের কথা উত্তর না করে শক্ত হয়ে হাঁটুতে মাথা গুঁজে পড়ে রইলো জুই। যাহ হবার হোক আজ সে এখান থেকে উঠবে না। এবার এই লোক ডাকতে ডাকতে গলা ফাটিয়ে ফেললোও জুই মাথা তুলে তাকাবে না। এটা কোনো কথা! জুতার শব্দ আর মানুষের শব্দের মধ্যে পার্থক্য বুঝে না। আয়ন কপাল কুঁচকে থেমে জুইয়ের লজ্জাটা বুঝতে পেরে কুটিল হাসল। মূলত জুইয়ের সাথে একটু মজা নেওয়াটায় ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। সফল হতে পেরে পুনরায় মজা করে বলল…
—” আমি কিছু মনে করিনি জুই। আপনি আসুন আমার সাথে। পেট খারাপ হতেই পারে। আপনার হলো। সমস্যা কোথায়। বরং ভালো হলো আপনার একজন ডক্টর বিয়াই থেকে। আমি হাটের ডাক্তার হলেও কিন্তু আপনার পেটের চিকিৎসা ভালোই করতে পারব।পরিবেশ দূষণ না করে নিয়ন্ত্রণ করার ঔষধ দিব আপনাকে। আসুন!
আয়নের বেগতিক কথায় রাগে ফুসে উঠে জুঁই। এটা কোনো কথা কিছু হয়নি তারপরও পেট খারাপে রোগী হয়ে গেল। জুই আগেই জানতো! এই লুচু ডাক্তার তাকে উল্টা পাল্টা কথা শুনাবে। জুই মাথা তুলে রাগী দৃষ্টিতে তাকায় আয়নের দিকে। ফুসে উঠে বলে…
—” আমার পেট খারাপ না। আপনার মাথা খারাপ। মানুষ আর জুতা শব্দের মধ্যে পার্থক্য বুঝেন না। আপনার ডাক্তারীর আমার দরকার নেই। যান আপনি।
—” গেলে হবে নাতো জুই। জরুরি কথা নিয়ে এসেছি আপনার কাছে। আচ্ছা যায় হোক! শুনে ভাল লাগল আপনার পেট খারাপ হয়নি। বিয়ে ছেড়ে আমাকেও আর আপনার সেবা করতে হবে না। আসলে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে রেখেছিলাম বউ ছাড়া পর নারীর সেবা-টেবা করব না কখনো। শুধু বউকেই ভালোবাসব। আর সেবা-যত্ন করব। আপনি বিয়াইন বলে মানবতার দেখাতে চাইছিলাম।
জুই ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকায় আয়নের দিকে। ভবিষ্যত বউকে নিয়ে কত আয়োজন। কত চিন্তা তার! আচ্ছা বউ তো জুইও হয় তার। তাকে নিয়ে একটু চিন্তা হওয়া উচিত না। ভবিষ্যত বউয়ের চিন্তায় চিন্তায় তাকে বিয়াইন বানিয়ে দিল। সেবা যত্ন না করে মানবতার খুঁটা দিল। জুইয়ের এক মূহুর্তের জন্য মনে হলো, না তার সত্যি সত্যি পেট খারাপ হওয়ার দরকার ছিল। তাহলে ডক্টর সাহেব সুন্দর প্রতিজ্ঞাটা ভঙ্গ হয়ে যেত। জুইও শান্তি পেত। সারাদিন বউ! বউ! করা ডক্টরের প্রতিজ্ঞা ভাঙ্গায় মুখটা কেমন হতো দেখা দরকার ছিল তার। জুইয়ের ফ্যালফ্যাল দৃষ্টির মধ্যে আয়নের ডাক আসে নিচের থেকে বরযাত্রী বিদায় করতে। আয়ন যেতে গিয়েও গেল না। বরং হাঁটু গেঁড়ে বসে জুইয়ের সম্মোহ বসল। তাড়াহুড়ো দেখিয়ে বলল…
—” ওহ! জুই আপনাকে তো বলাই হয়নি। আমার আজকেও ফর্সা করে একটা লাল টুকটাকে মেয়েকে পছন্দ হয়েছে। আপনি কিন্তু আমার সেটিং করাবেন দ্রুত কেমন। শীত কিন্তু চলে এসেছে। বউ কিন্তু লাগবে।
আরে আপনি লজ্জা-টজ্জা পড়ে পাবেন। আগে আমার কথা গুলো শুনুন। ভাবছি বউয়ের জন্য বিশাল শপিং করবো। বড় থেকে ধরে বউয়ের ছোট ছোট কাপড় গুলোও কিনবো। নয়তো বউ আবার আমাকে আনরোমান্টিক ভেবে চলে গেলে। তখন আর বউ পাবো না আমি। আমি আবার বউ পাগল মানুষ। রিস্ক নিতে চাই না। বউয়ের ছোট ছোট কাপড় গুলা আগেই কিনব। রোমান্টিক হবো। আর ঐ যে বউয়ের ছোট ছোট কাপড় গুলো কেনার সময়, আপনি কিন্তু আমাকে সাহায্য করবেন কেমন। আচ্ছা যায় হোক! এবার আমি চলে যাচ্ছি। আমার আবার অনেক কাজ বোনের বিয়ে নিয়ে। ওহ যাওয়ার আগে আরেকটা কথা আপনাকে বলে যায়। আপনার কাঁধে কাপড়ের নিচে কালো কালো ফিতার মতোন, কি যেন উঁকি দিচ্ছে, ওটাকে ভিতরে টানুন। দেখা গেল সবাই তো আর আমার মতো ভালো মানুষ না। যে দেখেও কিছু বলবে না। চুপ থাকবে। আমি আবার মানবতার খাতিরে জানালাম। বিয়াইন বলে কথা। আচ্ছা বিয়াইন আসি! বাই!
আয়নের নির্লজ্জ কথায় লজ্জায় মিইয়ে যায় জুই। বুক ধড়ফড়ে আড়ষ্ট হয়ে দ্রুত হাতে কাঁধে কাপড় টানল। লজ্জা মুখ ঘুরিয়ে পাশে তাকাল ততক্ষণ! যতক্ষণ না আয়ন এখান থেকে প্রস্থান করছে। আয়ন দুষ্টু হেসে গটগট পায়ে চলে যেতেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় জুঁই। লজ্জিত চেহারা লাল হয়ে উঠছে তার। বুকের ভিতর চাপা ধড়ফড় কাজ করে আয়নের এমন বেগতিক ঠোঁট কাটা কথাবার্তা শুনলে। সবকিছু বলেও বলছে সে ভালো মানুষ! সে কিছু বলেনি। তার সকল মানবতা, খাতির শুধু জুইকে নিয়েই।
—” ঝুন্নু কি হয়েছে। মধ্যে রাস্তায় প্রতিবন্ধীদের মতো বসে আছিস কেন?
জুই মাথা তুলে তাকায় মায়ার দিকে। দুজনের গায়ে সেইম সেইম লেহেঙ্গা জড়ানো। জুই কিছুক্ষণ আগের কথা মনে করে ঠাস করে উঠে দাঁড়াতেই, জুতা থেকে পুনরায় পুত শব্দ হতেই মায়া ছিটকে দুই কদম দূরে সরে দাঁড়িয়ে নাক চেপে বলে…
—” ছিঃ ইয়াক! কি গন্ধ।
মায়া কথায় চেতে উঠে জুঁই। লাইক সিরিয়াসলি! জুতার শব্দেও বুঝি গন্ধ ছড়ায়? এবার বেশি বেশি হয়ে গেলো না জুইয়ের অপমানটা! প্রথমে জুতা! তারপর অসভ্য ডাক্তার! এখন মায়া! জুই রেগে ফ্লোরে টাইলস থেকে টেনে রাবারের একটা জুতা আলাদা করে মায়ার দিকে ছুঁড়ে মারতে মারতে বলে…
—” কুত্তী মানুষ আর জুতার শব্দের মধ্যে পাথক্য বুঝিস না। তোর এই অসভ্য জুতার জন্য আজ আমার ইজ্জতের ফালুদা হইছে। আমার নাকি পেটে সমস্যা। ওষুধ দিবে! লাইক সিরিয়াসলি? তুই আর তোর জুতা দু’টোই আস্ত ডিপ্রেশন।
—” তার মানে তুই পাদ দেসনি?
রাগে কটমট করে বলল…
—” না।
মায়া নাক ছেড়ে দিতে দিতে বলে…
—” ওহ! এই জন্যই নাকে গন্ধ বাতাস লাগেনি!
শক্ত গলায় চেঁচাল জুই…
—” রিতুওও!
~~
জুই নিজের জন্য মায়ার থেকে নিচু ফ্লাটের জুতা পড়ে নিচে চলে গেল। কিছু সময়ের মধ্যে বরযাত্রীসহ বউকে নিয়ে বের হয়ে যাবে তারা। মায়া নিজের কবাট লাগাল। জুইকে জুতা দিয়ে একটু ওয়াশরুমে গেল। বরযাত্রীর বিদায়ের সময় নিচে থাকতে হবে তাঁকে। ওয়াশরুমের কাজ শেষে করে বের হতেই মুখোমুখি হলো মেহু। মায়া চমকে উঠে নিজের বিছানার দিকে তাকিয়ে কপাল কুঁচকে বলে…
—” আপু তুমি এখানে?
মায়া বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ায় মেহু। মায়ার মুখোমুখি হয়ে কান্না জড়িত গলায় বলল…
—” তোমার সাথে অন্তত জরুরি কিছু কথা ছিল মায়া।
আই নিড ইউর হেল্প।
চিন্তিত কপাল কুঁচকায় মায়া। আগের ন্যায় প্রশ্নত্তোর গলায় বলে…
—” কাঁদছো কেন আপু? কি কথা বলো।
~~
ফিহাকে বরযাত্রীর গাড়ির ভিতর বসানোর সঙ্গে সঙ্গে কোথা থেকে মায়াও দৌড়ে এসে ফিহার পাশে বসল। এলোমেলো চুল গুলো ঢাকতে মাথায় হিজাব আর মুখে মাক্স পড়া। চোখ দুটো লাল হয়ে আছে। ধীরে ধীরে ফুলেও যাচ্ছে চোখের নিচ -উপর। দুগালের থাপ্পড়ের দাগ গুলো লুকানোর জন্যই হয়তো, এই অসময়ে মুখে মাক্স লাগিয়ে হুট করেই ফিহার পাশে বসে পড়েছে বাড়িতে চলে যাবে বলে। আয়ন ফিহাকে গাড়িতে বসিয়ে ঝুঁকে থাকা অবস্থায় দেখলো মায়াকে। মায়ার চোখের লেপ্টানো কাজলের অবস্থা দেখে তক্ষুনি আয়ন চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন করে বলল…
—” কি হয়েছে মায়া? কোনো সমস্যা?
গলায় পাকিয়ে আসা কান্নাটা গিলে ফেলেও মায়া কথা বলতে পারলো না কষ্টে। তীব্র কান্নায় গলা ধরে আসছে। মায়া মাথা নাড়িয়ে অসম্মতি জানালো আয়নকে। যে কিছু হয়নি! আয়ন সন্দেহের বশে আরও কিছু বলবে আর আগেই আয়নের হাতের নিচ দিয়ে আচানক গাড়ির ভিতর প্রবেশ করলো জুই। মায়ার বিপরীতে ফিহার পাশে বসে পড়ল। আয়ন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে জুইয়ের দিকে তাকাল। দুই বোন দুই দিকে বসে আছে ফিহার পাশে। আরিফ মায়ার পাশের দরজা টেনে ভিতরের উঁকি মারতেই দেখল ফিহার দুপাশে দু’জন বসে আছে। তার বসার জন্য অবশিষ্ট জায়গায় নেই পিছনে। আরিফ কিছু বলবে তার আগেই মায়া আগাম বার্তায় শুনায়…
—” আমি নামতে পারব না ভাই। জুইকে বলো নামতে। নয়তো তুমি অন্য গাড়ি দিয়ে আসো। তারপরও আমি নামবো না।
মায়া কথায় আরিফ চুম করে যায়। তবে মায়ার ভাঙ্গা গলা ও লাল লাল চোখের দিকে তাকায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে। সন্দেহ বশে সে কিছু বলবে তার আগেই অপর পাশ থেকে আবারও শুনা গেল আয়নের কন্ঠের স্বর জুইয়ের উদ্দেশ্য..
—” জুই তাহলে আপনি নেমে পড়ুন। অন্য গাড়িতে যাবে। চলুন।
—” না আমি নামব না। ওহ নামবে! এই রিতু নাম। তোর না এটা শশুর বাড়ি! আমি হলাম বরযাত্রী মানুষ। আমাকে সম্মান দিয়ে সুন্দর করে গাড়ি থেকে নেমে পর দেখি! যাহ তো!
জুইয়ের কথায় মায়া চেতে উঠে বলে…
—” সম্মান আমি না তুই আমারে দিবি! সম্পর্কে শশুর বাড়ির তোর হয় আমার না। তুই আয়ন ভাইয়ার বউ। ফিহা আপুর ভারি! এবার তুই আমারে সম্মান দিয়ে গাড়িতে থেকে নাম। যাহ।
মায়া যুক্তিতে থমথমে খেয়ে যায় ফিহা, আয়ন, জুই। ফিহার ভয়ে দ্রুত ঘাড়ঘুরিয়ে মায়ার পাশের দরজা দিকে তাকাতেই দেখল আরিফ অন্য দিকে ঘুরে কারও সাথে কথা বলতে ব্যস্ত। ফিহা স্বস্তির শ্বাস ফেলতে আয়ন বলে..
—” মায়া থাকুক! আপনি আমার সাথে আসুন জুই।
আয়নের কথায় জুই ফোঁড়নকেটে বলে…
—” না আমি শুভ ভাইয়ার গাড়িতে যাব না। উনার সাথে আমার সিরিয়াস ঝগড়া চলছে। এখন উনার গাড়িতে গেলে আমার ঝগড়া থাকবে না। তাই আমি এই গাড়িতেই যাব।
আয়ন ঠাস করে দরজা বন্ধ করে দেয় জুঁইয়ের পাশের। এই মেয়ে কথায় কথায় শুভ! শুভ! করে। আয়ন বলেছে নাকি তাকে শুভে গাড়িতে করে যেতে। আজব! না থাক এই মেয়ে এবার এই গাড়িতেই যাবে অন্য গাড়িতে যাওয়া দরকার নেই। অজ্ঞাত আরিফ গিয়ে বরযাত্রী সামনে সিটে বসল ড্রাইভারের সাথে। কয়েক সেকেন্ড ব্যবধানে গাড়িটিও চলল আশুগঞ্জের উদ্দেশ্য। পিছনে রয়ে গেল খান বাড়ির। আর মায়ার এক বুক ভাঙ্গা স্বপ্ন।
মায়া আসার সময় সবার থেকে বিদায় নেওয়ার সময় অনেকটা কেঁদে ছিল। সবাই ভেবেছিল হয়তো মায়া দুইদিনের জন্য খান বাড়ির ছেড়ে নিজের বাড়িতে যাচ্ছে, ভাইয়ের বিয়ের বউভাতের ফাংশন অ্যাটেন্ড করতে। বউভাত শেষ করে আরিফ ফিহার সাথে মায়াও হয়তো পুনরায় ফ্রিযাত্রায় ঢাকা চলে আসবে। তাই মায়ার কান্নায় হেনা খান হেসে মজা করে উড়িয়ে দিলেও মেহু জানতো মায়া চিরতলে খান বাড়ির দরজা ছাড়ছে। সেই সাথে রিদও জানতো। মূলত রিদই তাকে খান বাড়ির থেকে চিরতরে বের হয়ে যেতে বলেছে।
সবকিছু ভাঙ্গার শব্দ হয়। মন বা স্বপ্ন ভাঙ্গার শব্দ নেই। কিন্তু অনুভবে কষ্টটা হয় খুবই কঠিন। অসহ্যনীয়। এই ব্যথার ঔষধ নেই। কিন্তু আঘাতটা গভীরতম হয়। মায়ার ক্ষেত্রেও তাই। ছোট হয়েও দম মেরে সহ্য করে বসে আছে সবার সাথে। কিছুক্ষণ আগে অনেক কিছু হয়েছে মায়ার সাথে। যেটা ছিল খুবই ভয়াবহ। ও কঠিন বাস্তবতা মায়ার জন্য। মায়া অশান্ত মনে গাড়ির জালানা দিয়ে বাহিরে তাকায়। অন্ধকারময় ধরণীর বুকে অল্প সল্প কৃত্তিম আলোর মেলা দেখা যাচ্ছে। মায়া মাক্স টেনে থুতির নিচে নামায়। শ্বাসরুদ্ধ হয়ে থাকা নিশ্বাসটা হা করে টানে নিজের মাঝে। আটকে থাকা চোখের জল গুলোও গরগর করে গাল বেয়ে অঝোরে গড়াতে লাগলো। দুগাল হালকা জ্বলে উঠে থাপ্পড়ে জায়গায় নোনাজল পড়তেই। মায়া কান্নায় ফুপায়। শরীরও মৃদু কেঁপে কেঁপে উঠে ফুঁপানিতে। গাড়িতে সফট মিউজিক থাকায় মায়ার ফুঁপানো কান্না কারও কানে গেল না। আজ অনেক কিছু হয়েছে মায়ার জীবনে। এক মূহুর্তে বদলে গেছে মায়ার জীবন। মায়ার চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে কিন্তু পারছে না পরিস্থিতির দায়ে পড়ে। আজ মায়া চিরতলে হেরে গেছে। রিদ নিজে মায়াকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে তার জীবন থেকে। তাদের মধ্যেকার সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। আজ মায়া শুধু খান বাড়ির সাথে নয়, রিদের সাথেও সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে গাড়িতে উঠেছে। এই যাত্রাই শেষ যাত্রা মায়ার। আর কখনোই ফিরবে না ঐ খান বাড়িতে। মরে গেলেও না। এবার মায়ার প্রচন্ড আত্মসম্মানবোধে লেগেছে বিষয়টি। তাছাড়া রিদ নিজেই সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছে মায়ার সঙ্গে। অবশিষ্ট কিছুই নেই তাদের মধ্যে। মায়া মুক্ত! মায়াকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী অন্য কারও সঙ্গে সংসারী হতে বলেছে। রিদের অপেক্ষায় না থাকতে বলেছে৷ ভয়ংকর আগুনে। ভয়ংকর ভাবে ফাটল ধরলো রিদ মায়ার সম্পর্কে। হয়তো এই রেশ টেনে অতীত ভয়ংকর পাতা খুলবে তাদের জীবনে।
.
চলতি…
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৫
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৭
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ৪৩
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫৯
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩০
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৪
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৬