Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬০(প্রথমাংশ+শেষাংশ)


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৬০_প্রথমাংশ
রাত প্রায় এগারো-টার ঘরে। মেহমানদের ভিড় এতক্ষণে ছাঁদে পড়ে গেলো হলুদের অনুষ্ঠান করা করা নিয়ে। নাচ-গান হৈ-হুল্লোড়ে মাতামাতি। মিউজিক মুখর পরিবেশ। মায়া মাত্রই ছাঁদ থেকে নিচে নেমে যেতে চাইল।। উদ্দেশ্য কিচেনে যাবে। ঠান্ডা পানি পান করবে। জ্বরময় শরীরে তৃষ্ণায় ধুঁকছে গলা। গলা ভেজানো দরকার বলেই হেনা খানের আঁচল ছেড়ে একাই নিচে নামতে চাইল। কিন্তু ছাঁদের সিঁড়ি কাছে আসতেই দেখলো রিদকে ছাঁদের উপর উঠতে। গায়ে তার নরমাল ড্রেসআপ। টি-শার্ট টাউজার। ফিহার হলুদের অনুষ্ঠানের অ্যাটেন্ড করতে যে ছাঁদে আসেনি তা রিদের ড্রেসআপ ও বিরক্তকর ফেসটা দেখেই বুঝতে পারলো মায়া। কপালে সূক্ষ্ম বিরক্তির ভাঁজ। চোখ মুখ কুঁচকে কারও অনুসন্ধানের খুঁজ করে ছাঁদের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে ধুপধাপ পায়ে। মায়া দেখলো সিঁড়ি ঘরের উপর থেকে রিদকে উঠতে। রিদ মায়াকে দেখা আগেই আস্তে করে সরে গেলো সেখান থেকে। লুকিয়ে পড়লো দরজার পাশে প্যান্ডেলের পিছনে। রিদ তপ্ত বিরক্তি নিয়ে ছাঁদে উঠে আসলো। মন মেজাজ দুটোই বিগড়ে আছে কাল থেকে। অকারণে বউয়ের সাথে ঝামেলা ভালো লাগছে না তার। শত কাজ ফেলে যদি বাড়িতে এসে বউয়ের মুখ দর্শন করাটাই নসীব না হয়। তাহলে মেজাজ এমনই বিগড়ায়। বাসায় এসেছে প্রায় ঘন্টা পেরিয়ে দেড় – ঘন্টা হলো তার। কাজের চাপে সবে গোসল সেরে অর্ধ মাথা মুছেই বের হয়েছে বউ খোঁজার উদ্দেশ্য। আপাতত এই মূহুর্তেই বউ লাগছে। দরকার পড়লে বউকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে রুমে বসে থাকবে সে। সারারাত কারও বের হওয়ার দরকার নেই। দুজন বন্দী হয়ে থাকবে। না খাবে। না বের হবে। সবকিছু কিছু আজ রুমেই চলবে। তারপরও আজকে এর শেষ দেখেই ছাড়বে সে। চুপ থেকে তাকে ইগনোর করাটা আজ বের করবে। ছোট বলে সবকিছুতে যে রিদ ছাড় দিবে সেটাও না। একটা বেহায়া মন তো তারও আছে। সেটা সারাক্ষণ শুধু বউ বউ করে সেটাতো বুঝতে হবে তাই না।

রিদ বিরক্তির দু-কদম আগাতেই হঠাৎই পিছন থেকে কেউ ঝাপটে ধরলো তাঁকে। রিদ থামে। বিগড়ে যাওয়া মেজাজ হুট করেই শান্ত হয়। ভাবলো তার বউ। পিছনের মানুষটিকে চিন্তিতে কয়েক সেকেন্ড দেরি করলো রিদ। সেটাই দ্বিতীয় ভুলের কারণ হলো।
পিছনের নারীটি রিদের পেট জড়িয়ে ধরে পিঠে উপর কপাল ঠেকাতেই রিদ শান্ত মেজাজে বলল…

—” রাগ পড়েছে তোমার!
—” হুমম!
রিদ চমকায়। অপরিচিত কন্ঠস্বর কানে বাজতেই রিদ ঝটকা মেরে নিজের পেট থেকে মেয়েটির হাতের বাঁধন খুলে পিছনে তাকাতেই চোখে পড়লো মেহুর জোরপূর্বক লাজুক হাসি। রিদের শান্ত হওয়া মেজাজটা পুনরায় বিগড়ে গেলো মেহুকে দেখে। রিদের মেহুকে চিন্ততে কয়েক সেকেন্ডের ভুলটা যেন আরও গাঢ় আগুনের ঘর করলো রিদ মায়াও সম্পর্কে। রিদের অজান্তে। মায়ার জানা। প্যান্ডেলের পিছন থেকে সবটাই শান্ত চোখে দেখলো মায়া। রিদের শান্তস্বরে কথা গুলোও শুনলো মেহুর প্রতি। কিন্তু বিষয়টি মায়া সহ্য করতে না পেরে হঠাৎই ফুপিয়ে উঠা কান্নায় দু-হাতে নিজের মুখ চেপে ধরে শব্দ আটকালো। কাউকে শুনতে দিল না। কতটা ভালোবাসা মিশানো কন্ঠেস্বর ছিল ‘রাগ পড়েছে তোমার ‘ এই কথাটিতে। এতটা শান্ত আচরণ তো মায়ার সাথেও করতো রিদ। অথচ সময়ে ব্যবধানে আজ মেহুর প্রতি তার যত্ন। মায়ার জন্য সামান্য একটু সময় হয়না তার। সকাল নয়টা হতে হতে বাসা ছাড়ে। রাত বারোটা-একটা ছাড়া বাসায় ফিরে না। মায়ার সাথে শুধু রিদের নাস্তার টেবিলে একটু-আধটু দেখা হয় তাও মায়ার ঘুরঘুর করে যায় বলে। নয়তো সেটাও হতো না। রাতে মায়া ঘুমিয়ে পড়লে বাসায় ফিরে সারাদিন খবর থাকে না। অথচ মেহুর সাথে তার রোজকার চলাফেরা। সারাদিন একসঙ্গে কাটায়। রাতে বাসাও একসঙ্গে ফিরে। ডিনার করে। এখন সবাই সামনেই জড়িয়ে ধরছে। যত্ন সহকারে কথা বলছে। কই দুটো মানুষের সামনেই তো রিদ মায়ার সাথে কথা বলতে চাই না। সবাইকে তাড়িয়ে দিয়ে তারপর লুকিয়ে ভাবে কথা বলে। অথচ আজ প্রকাশে তাদের ভালোবাসা বিনিময়? মেহুকে তো প্রকাশ্যে টানছে। ভালোবাসার মানুষ বলে পরিচয়ও দিচ্ছে। তাহলে মায়ার প্রকাশ্যে স্ত্রী মর্যাদা চাওয়াটা কি অপরাধ ছিল? মায়া তো রিদের সব শর্ত মানতেও প্রস্তুত। পায়ে শিকল পড়ে হলেও প্রকাশ্যে সংসার করতে ইচ্ছুক তাহলে সে কেন মানতে চাচ্ছে না। মেহু আপুর জন্য? মায়া কি শুধু ছলনা? ছলনা হবে কেন? মায়াকে তো স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে.. সে কখনো মায়াকে ভালোবাসেনি। ভালোবাসবেও না। সে মেহুকে ভালোবাসে। রুম থেকেও সেদিন অপমান করে বের করে দিয়েছিল। আঘাত করেছে। তাহলে মায়া কেন তাদের পিছনে পড়ে থাকবে। মায়ার কি কান্না করাটা উচিত হবে? বড্ড বেহায়ামি লাগছে না দু’জনের সম্পর্কে তৃতীয় জন্য হয়ে। থাক তাদের মতো করে দুজন। আপাতত মায়ার প্রয়োজন কি এখানে? মায়া গুমোট কান্নায় নীরবে নেমে যেতে চাইলো ছাঁদ থেকে। রিদ দাঁতে দাঁত চেপে তেড়ে গেলো মেহুর দিকে। আঙ্গুল উঠিয়ে মেহুকে শাসানোর আগেই চোখ গেলো সামনে। মায়াকে চুপচাপ ছাদের সিঁড়ি ধরে নিচে নেমে যেতে দেখে রিদ কপাল কুঁচকায়। মায়ার পিছন নিতে গিয়ে তাড়াহুড়োই রিদ আঙ্গুল উঠিয়ে রাগান্বিত স্বরে শাঁসালো মেহুকে। কঠোর বাক্য বলল….

—“ফর দ্য লাস্ট টাইম মেহু। নেক্সট টাইম ভুলেও আমায় ছুঁয়ার চেষ্টা করবি না। আজ ছেড়ে দিলেও কাল কিন্তু ছাড়বো না। শরীরে এসিড ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দিব। বারবার বলেছি আমি বিবাহিত। আমার বউ চাই! বউয়ের ভালোবাসা চাই। তাই ডোন্ট প্লে মাইন্ড গেম উইথ মি। স্টে এওয়ে ফ্রম মি!

রাগান্বিত ভঙ্গিতে দুকদম এগোতেই পিছন থেকে পুনরায় শুনা গেল মেহুর কাতর কন্ঠেস্বর…
—” রিদ আমাদের তিন বছরের রিলেশনশিপ ছিল। সেটাকে তুমি এখন ভুলে যেত পারও না। তাও তোমার সো কল্ড দুইদিনের বউয়ের জন্য।

রিদ কপাল কুঁচকে পিছন মেহুর ঘুরে দাঁড়ায়। কপালে আছড়ে পড়া ভেজা চুল গুলো পিছনে ঠেলে দিল। মেহুর দিকে তাকাতেই দেখল তার মোহিত অপলক দৃষ্টি রিদের প্রতি। রিদ বিষয়টিতে তেমন পাত্তা দিল না। মেয়েরা তাকে হা হয়ে গিলে খাবে এমনটা যেনই স্বাভাবিক। রিদ মেহুর দৃষ্টি অপেক্ষা করে গলা ঝেড়ে পরিষ্কার করে শান্তস্বরে হুমকি বার্তাস্বরুপ বলে উঠে…

—” দেখ! প্রথমত্ব তোর এই তিন বছরের রিলেশনশিপ ! ভালোবাসা এইটা নিয়ে সাইড কাট তুই। তুই প্রপোজ করেছিস। আমি উত্তর দেয়নি। তুই আমার নীরবতাকে ভালোবাসা বলে চালিয়েছিস তিন বছর। সেটা তোর সমস্যা। আমার না। আমি তোকে কখনো বলিনি, যে আমি তোকে ভালোবাসি। রুম ডেট করেনি! আর না আমি তোর সাথে কখনো রাতভর ফোনে কথা বলে পার করেছি। অফিসিয়ালি কাজ ছাড়া আমাদের বছরও দেখা হয়নি। তোর আমার নাম, ক্ষমতার দরকার ছিল যেটা তুই প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে এসেছিস আজ পযন্ত। আমি তোকে পারিবারিক লোক বলে এতোদিন ছাড় দিয়েছি এসেছি। আগে দিতে পারি যদি তুই আমার পারসোনাল লাইফে না ঢুকিস। আমি ততক্ষণ তোর সাথে ভালো থাকবো যতক্ষণ পযন্ত আমার মনে হবে সব ঠিকঠাক আছে। কিন্তু যেদিন মনে হবে তোর জন্য আমার পারসোনাল লাইফের সমস্যা হচ্ছে! সেদিন তোর ভালোবাসা, আর তুই! দুটোই নিস্তেজ প্রাণহীন হয়ে পড়বি। ‘ক্ষমা করা’ শব্দটা কিন্তু আমার ডিকশনারিতে নাই! জীবনে কখনো ক্ষমা করি নাই কাউকে বউ ছাড়া। রাগের বশে মাঝেমধ্যে বউকেও আঘাত করে ফেলি। এবার ভাব! আদুরে বউ যদি ছাড় না পাই তুই পাবি কখনো? তাই সাবধান! ভালো হয়ে যাহ। আমার সন্দেহের লিস্টে পড়িস না। নিজের প্রাণ বাঁচা।

রিদের শান্তস্বরের হিম শীতল কথায় মেহুর হাড়সহ ভয়ে কেঁপে উঠে শরীরময়। রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যায় তীব্র ভয় কম্পন। রিদ সম্পর্কে একটু বেশিই অবগত মেহু। কালো দুনিয়ায় নতুন নতুন বেতাল বাদশাহ হিসাবে পরিচিত পাচ্ছে সে। ক্ষমতা- পাওয়া, প্রতিপত্তি সবকিছুই যেন তরতর করে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তার। কি নিদারুণ নিষ্ঠুর মানুষ হিসাবেও পরিচিত সে সেই দুনিয়ায়। যা বলে তাই করে। কথা কাজে এক। নড়চড় কখনোই হয় না। বিচক্ষণ ক্রিমিনাল মাইন্ডের মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে হুমকিও দিবে না। তারমানে মেহুকে সন্দেহ দৃষ্টিতে দেখছে সে? মেহু আতঙ্কে উঠে ভয়ার্ত চোখে রিদের দিকে তাকাতেই দেখলো রিদ ততক্ষণে ছাঁদে সিঁড়ি ধরে নিচে নেমে যাচ্ছে। রিদকে চলে যেতে দেখে স্বস্তিরশ্বাস নিল মেহু। ভয়ডর নিয়ে হলেও সূক্ষ্ম ভাবে নিজেদের কার্য সফল করতে হবে। কারণ এর পিছনে অনেক বড় একটা গ্রুপের হাত রয়েছে। চাইলেও বের হওয়া সম্ভব না। বের হতেও চাই না সে। মেহু ধীর হাতে ফোনের ইনবক্সে গিয়ে গটগট করে কালো অক্ষরের গুটি কয়েকটি বাক্য লিখে মেসেজ পাঠালো কারও উদ্দেশ্যে। তারপর সূচালো দৃষ্টি তুলে চারপাশটা হাল্কা পযবেক্ষণ করে অন্য পাশে গেলো। তাদের আরও অনেক কিছু করা বাকি। রিদ খানের নায়িকাকে বিশেষ কারও হাতে তুলে দেওয়া বাকি। এতো অল্পতে কি ভয় পেলে তাদের চলবে। রিদ খান সবকিছু জানতে পারলে তোহ তাদের জন্য খারাপ হবে। না জানলে হবে কিভাবে? চারপাশ থেকে এতো সূক্ষ্ম ভাবে জাল বুনা হয়েছে যে ছিঁড়ে বের হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাছাড়া মেহুর তো রিদকে চাই। ভালোবাসার জন্য নাহয় একটু ক্রিমিনাল সেও হলো। এবার দাবার গুটি হিসাবে শুধু মায়াকে নয় তার পরিবারকে ঢানতে হবে। রিদ খানের দূর্বলতা বলে কথা একটু মজা তারাও নিবে। সবকিছুর শুরুটা যখন এতটা নিখুঁত ভাবে হয়েছে তাহলে শেষটা অবশ্যই হৃদয় বিদারক হবে।
~
মানুষহীন ড্রয়িংরুম পার হয়ে কিচেনের দিকে হাঁটতেই মায়ার লম্বা চুলে হঠাৎই টান পড়ায় অস্পষ্ট স্বরে চিৎকার ‘আহ’ বেরিয়ে আসে মায়ার মুখ থেকে। হাত দিয়ে মাথা পিছনে চেপে ধরে পিছন ঘুরতে গিয়েও ঘুরলো না মায়া। কাঙ্ক্ষিত মানুষটির উপস্থিত বুঝতে পেরে স্থির হলো৷ মাথার পিছন থেকে হাতটা সরিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়লো। প্রতিক্রিয়াও জানালো না আর। রিদের উপস্থিতি বুঝতে পেরেই শান্ত হয়ে গেল মায়া। নড়লো না। শরীর শক্ত করে ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো জেদ ধরে। গুমোট কান্না গুলো চোখ পাকিয়ে নোনাজলে দরদর। কাজল কালো চোখ থেকে টুপ করে জল গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে শাড়ির উপর। দুইজন স্থির। রিদ তপ্ত মেজাজ তো মায়া গুমোট উত্তাপে। নীরব শব্দ বিহীন শ্বাস গুলো যেন দুজনের মধ্যকার মানঅভিমানের বাক্য প্রকাশ করছে একে অপরের হয়ে। দীর্ঘ নীরবতায় দুজনই পার করলো পাঁচটা মিনিট। মায়া না ঘুরে অপেক্ষা করলো রিদের চুল ছেড়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু রিদ ছাড়লো না। বরং মায়ার জেদে নীরব সম্মতি জানিয়ে সেও দাঁড়িয়ে রইলো চুল ধরে। না রিদ কথা বলছে। আর না মায়াকে যেতে দিচ্ছে। মায়া জেদ দেখিয়ে এবার যেতে চাইল সামনে। দু-কদম হাঁটতেই পুনরায় তার লম্বা চুলে টান পড়তেই সে আবারও দাঁড়িয়ে গেল। বিরক্তি রেশ টেনে চাপা রাগ হলো। কিন্তু সেটা প্রকাশ করলো না। এবারও মায়া শান্ত থাকলো। মনোবল শক্ত করে রিদকে এড়িয়ে পুনরায় সামনে হাঁটল নিঃশব্দে। রিদও মায়ার পিছন পিছন গেল বউয়ের লম্বা চুল ধরে। এই মূহুর্তে বউয়ের সাথে কথা বলাটা সঠিক মনে করলো না রিদ। এই মূহুর্তে রিদের কথা বলা মানেই পুনরায় ঝামেলা সৃষ্টি করা দুজনের মধ্যে। এমনই গত দুইদিনের বিষয়ে ধরে এবং কিছুক্ষণ আগে মেহুর সাথে তার ঘটা ঘটনা নিয়ে এখন কথা বললে আরও ভুল বুঝাবুঝি হতে পারে। রিদ এই প্রথম বোকা বউয়ের জেদ্দি রাগকে ভয় পেল। দেখা যাবে বউ তার অবুঝতায় রিদকে উল্টাপাল্টা কিছু বলে বসবে। আর রিদ সেই রাগের বশে জোর হাতে আঘাত করে বসবে তাকে। পরিস্থিতি তখন আর বিগড়ে যাবে। সমস্যা তখন তারই হবে। মান-অভিমানে তখন আরও একটা রাত পার হবে তার। তার চেয়ে বরং বউ রাগ করছে করুক। রিদেরি কথা বলাই দরকার নাই। বউ শান্ত হলে নাহয় বুঝানো যাবে সবকিছু। এখন না।

মায়া কিচেনে যেতে যেতে জোরপূর্বক রিদ হাত থেকে নিজের চুল ছাড়িয়ে খোঁপা করে নিল। পিছনে না ঘুরে সোজা কিচেন গেল। রিদও পিছন পিছন দাঁড়ালো।মায়া ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা পানির বোতল হাতে নিতেই রিদ সেটা কেঁড়ে নিলো খাওয়ার জন্য। মায়া বিরক্ত বা হতাশ হলো না। এমন একটা ভাব করলো যেন রিদ এই সময়ে এমনটাই করবে সেটা আগে থেকেই জানতো মায়া। স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই ঠান্ডা পানির দ্বিতীয় বোতলটি তুলে নিল হাতে। সেল্ফ থেকে গ্লাস নিয়ে পানি ঢেলে খেতেই রিদ পুনরায় মায়াকে বিরক্ত করলো। ঠাস করে মায়ার হাত খোঁপা করা চুল গুলো ছেড়ে দিল। ঝরঝর করে মায়ার সিল্কি চুল গুলো পিঠ ছড়িয়ে হাঁটুতে গিয়ে ঠেকতেই। রিদ মায়ার মুখ থেকে অর্ধ খাওয়া পানির গ্লাসটি কেঁড়ে নিলো। নিজেও খেতে লাগলো। কিন্তু মায়া এবারও রিদের সবকিছু শান্ত ভাবে নিল। বিরক্তি বোধ না করে পুনরায় অন্য একটি গ্লাস টানলো নিজের কাছে। বোতল থেকে পানি টালতেই রিদ আবারও বিরক্ত করলো। মায়ার কানের ঝুমকোই টোকা মারল। গাল টেনে দিল। মায়াকে এতেও প্রতিক্রিয়া জানাতে না দেখে রিদ আরও একটি কাজ করলো। ব্লাউজের পিছনের ফিতা ঠাস করে খুলে দিল। মায়া এবার প্রতিক্রিয়া জানালো। চমকে উঠে পিছন না ঘুরে দ্রুত হাতে শাড়ির আঁচল টেনে পিঠ ঘুরে দিতে গিয়ে পুনরায় বাঁধা পেল রিদের থেকে। রিদ মায়ার শাড়ির আঁচল ধরে মায়াকে পিঠ ঘুরতে বাঁধা দিল। মায়া রিদ থেকে শাড়ি আঁচল ছাড়াতে বার কয়েক টানাটানি করলো কিন্তু রিদ ছাড়লো না। তাই বাধ্য হয়েই হাল ছেড়ে দিয়ে বোতলে মুখ লাগিয়ে এবার পানি খেতে চাইল যেহেতু রিদ মায়াকে ঠিকঠাক পানি খেতে দিচ্ছে না তাই। মায়ার পানি খাওয়া মধ্যেই রিদ মায়ার কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস স্বরে একটু করে বলে উঠে…
—” দেশের প্রতি এতো ভালোবাসা তোমার? সোজা লাল সবুজ পতাকা পতাকা হয়ে ঘুরছো?

মায়া কপাল কুঁচকায় রিদের কথায়। লাল সবুজ পতাকা হয়ে ঘুরছে এর মানেটা বুঝতে না। গায়ে তার কলাপাতা রঙ্গা শাড়ি। মানে সবুজ রঙই। কিন্তু লাল রঙ্গের তো সে কিছু পড়লো সারা শরীর জুড়ে তাহলে? লাল সবুজ পতাকা হলো কিভাবে? মায়ার কৌতূহল জাগলেও পিছন ঘুরে প্রশ্ন করলো না রিদকে। মান-অভিমানে চুপ থাকলো। কিন্তু রিদ যেন মায়ার নিশ্চুপ মনের কৌতূহলটা বুঝতে পারলো। মায়ার সর্তকের কান খাঁড়া করলো রিদ কি বলে সেটা শুনার জন্য। কিন্তু তার আগেই মায়াকে প্রচুর চমকে দিয়ে করে বসলো এক অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ। মায়ার কাঁধের দৃশ্যমান লাল ফিতা ধরে ‘ঠাস’ শব্দ করতেই মায়া আতঙ্কে উঠে। রিদ কোন ইঙ্গিত করে তাকে এতক্ষণ লাল সবুজ পতাকা বলছিল বিষয়ে বুঝতে পেরেই লজ্জা সিঁটিয়ে দ্রুত হাতে কাঁধের ব্রাউজ টেনে অবশিষ্ট ফিতাবন্ধনী ঢাকলো কাপড়ের তলে। মায়া ছিঃ লজ্জা জনক পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার আগেই রিদ আরও একটি অপ্রত্যাশিত কাজ করলো মায়ার সাথে। মায়াকে বিরক্ত নাস্তানাবুদ করে করে ‘ঠাস করে মায়ার অপর পাশে কাঁধের শাড়ির পিন খুলে দিতেই আঁচল খুলে দরদর করে পড়লো ফ্লোরে। লজ্জায় আড়ষ্ট মায়া আতঙ্কে উঠলো রিদের এমন অপ্রত্যাশিত কাজে। হাতের বোতলটিও ততক্ষণে জায়গায় পেল পায়ের কাছে ফ্লোরে। আতংকিত হাতে মায়া তৎক্ষনাৎ শাড়ির আঁচল উঠাতে চাইলো ফ্লোর থেকে। কিন্তু তার আগেই রিদ মায়ার বাহু টেনে নিজের দিকে ফিরালো অবশেষে। মায়াকে দু’হাতে ঝাপটায় ধরে নিজের বক্ষতলে ঢেকে নিলো মায়ার ছোট নরম দেহটি। মায়া লজ্জায় অস্তিত্ব হলো ভিষণ। রিদের বাহু বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য ছটফট করতেই রিদের হাতের বাঁধন আরও দৃঢ় হলো মায়ার প্রতি। মায়া মুখ রিদের বুকের সাথে চেপে যেতেই খানিকটা শান্ত হলো সে। রিদ ছাড়বে না বুঝতে পেরে শান্ত হয়ে আসতেই কানে কর্ণধার হলো জুঁইয়ের চমকানো সুর..

—” রিক্ত.. সরি! সরি! সরি! আ আমি.. আমি কিছু দেখিনি…
কিচেন জুইয়ের হঠাৎ আগমন ছিটকে সরলো মায়া রিদ। রিদ বিরক্তি নিয়ে পিছন ঘুরে তাকাতেই মায়া দ্রুত হাতে ফ্লোর থেকে শাড়ি আঁচল তুলে গায়ে জড়ালো।
পরিস্থিতিতে উত্তাপে লজ্জিত নুইয়ে পড়ে পিছনে ঘুরে যায় মায়া। জুইও হঠাৎ এমন পরিস্থিতির স্বীকার হবে বুঝতে না পেরে থতমত খেয়ে যায়। জুইয়ের আচানক আগমনটা রিদের পছন্দ হলো না। সারাদিন পর বউকে কাছে পেয়েছিল সে। আর সেই মূহুর্তেই জুইয়ের বেটু দেওয়াটা ছিল রিদের মেজাজ বিগড়ে যাওয়া কারণ। রিদ রাগলো কিন্তু প্রকাশ করলো না। পরিস্থিতি বুঝে বিরক্তির চুপ থাকলো। দোষ দিলনা কাউকে। শুধু ঘাড় ঘুরিয়ে মায়াকে এক পলক দেখে গুমোট শ্বাস ফেলে জুঁইকে পাশ কাটিয়ে চলে গেল বাহিরের। রিদ যেতেই জুই এগিয়ে আসলো। মায়া পিছনে দাঁড়িয়ে গুঁতো দিল মায়ার কমড়ে। মায়া চমকে উঠে পিছনে তাকাতেই চোখে পড়লো জুঁইয়ের দুষ্ট চেহারাটা। মায়া হালকা চোখ ঘুরিয়ে আশেপাশে রিদ দেখতে না পেয়ে স্বস্তিরশ্বাস ফেললো। নিজেকে শান্ত করে ফ্লোর থেকে শাড়ির পিন নিয়ে আঁচলে গুজাতেই শুনা গেল জুইয়ের দুষ্টুস্বর।
—” কি বোনু কি চলে হুমম??
মায়া তপ্ত মেজাজ দেখিয়ে বলে…
—” প্রতিবন্ধী তুই দেখস না বাড়িতে বিয়ে চলে।
—” উদি! আমি কি তোরে বিয়ের কথা বলছি। নাকি কিচেন কি চলে সেটা বলছি।
—” আপাতত কিচেনের ফ্রিজ চলে শুধু। গ্লাস বন্ধ আছে। চাইলে সেটাও চলাতে পারিস তুই। আর কিছু?
—” মাইয়া মজা লস আমার সাথে। কথা ঘুরাস তুই? এজন্য তুমি বাড়িতে যাও নাই আমাদের এতো বলার পরও। আহ! জামাই পাগল মাইয়া। ভাইয়াও কি রোমান্টিক মানুষ। বউকে সঙ্গ দিতে সোজা কিচেনে উফ! তোর কি সিস্টেম ঠিক হয়ে গেছে রিতু?

মায়া বিরক্তর কপাল কুঁচকে বলে…
—” অন্যের সিস্টেম ঠিক করার মনোযোগ না দিয়ে নিজেরটা ভাব। জামাই কিন্তু একটা তোরও আছে। ডাক্তার মানুষ! সিস্টেম সম্পর্কে নলেজটা মনে হয় তার একটু বেশিই আছে মাথায় সবার থেকে। আমার সাথে লাগলে! তোর সিস্টেমের খবর কিন্তু তার কানে যেতে দেরি হবে না। বেশি কিছু বললো না! সুন্দর সাবলীল ভাষা বললো ‘তোর সিস্টেম বেশি চলে। শুধু একটু টাইট-ফাইট দেওয়ার জন্য। ব্যস!
মায়ার কথায় খানিকটা ভয়ার্ত হলো জুঁই। নরম হয়ে আসা গলায় বললো…
—” তুই এমনটা করতে পারবি আমার সাথে বইন?
—” আমি অনেক কিছু করতে পারি! আমার সাথে লাগতে আসবি সোজা চার লাইন বেশি বানিয়ে বিচার যাবে তোর জামাইর কানে। আমি কিন্তু জানি আপনাদের মধ্যে আজকাল কি চলে। তাই খোঁচা একটা আমিও দিতে পারি মনে রাইখেন!

—” তোরে সবাই যতটা বোকা ভাবে, ততটা বোকা কিন্তু তুই নস। আমি কিন্তু জানি তুই যে কতটা গভীর জলের মাছ।

মায়া জুইয়ের কথায় তৎক্ষনাৎ উত্তর করলো না। বরং ফ্লোরে পড়ে থাকা পানি বোতলটা উঠালো। ব্লাউজের পিছনের ফিতাটাও বাঁধলো। তারপর জুঁইয়ের কুঁচকানো দৃষ্টি সাথে নিজের দৃষ্টি স্থির করে বললো…
—” সবকিছুতে প্রতিবাদ করতে আমি জানি না। বাস্তব সম্পর্কে জ্ঞানও কম। হয়তো অল্পতে মানুষকে ভালোও বেসে ফেলি। কিন্তু এর মানে এই না যে আমি বোকা। অল্প একটু জ্ঞান আমারও আছে। এবার আমার সহজ-সরলতারকে কেউ যদি বোকা ভাবে তাহলে সেটা তার সমস্যা! আমার না। একটা মাথা আমারও আছে। বেশি না হলে অল্প জ্ঞান নিয়ে হলেও চলি।
—” তাহলে তুই মানছিস তুই যে গভীর জলের মাছ।
—” আমি ছাদের যাচ্ছি তুই আয়।
মায়া কয়েক কদম হেঁটে সামনে এগোতেই পিছনে থেকে পুনরায় ডেকে উঠে জুঁই…
—” উত্তরটা দিবি না?
মায়া দাঁড়িয়ে পড়ে পিছনে ঘুরে তাকালো জুঁইয়ের দিকে। বিনা দ্বিধায় নিজ বাক্যে বললো…
—” উত্তরটা আমার কথার মধ্যেই ছিল। তুই ধরতে পারিস নি। আমি বলেছি! আমি মানুষকে অল্পতে ভালোবাসতে জানি। তার মানে এই না যে আমি সবাইকে অল্পতেই বিশ্বাসও করি। মানুষকে ভালোবাসাটা হিউম্যান নেচারের মধ্যে পড়ে। দয়া-মায়া থেকে সহানুভূতি সৃষ্টি হয়ে ভালোবাসা হয়। কিন্তু বিশ্বাস শব্দটা সবাইকে করা যায় না। কারণ বিশ্বাস শব্দটা মায়া-দয়ার সহানুভূতির মধ্যে পড়ে না। এটা সম্পূর্ণ মাইন্ড জনিত বিষয়। আর্দশ বাবার মেয়ে আমিও হয়। আত্মসম্মান বোধ আমারও আছে। সহজে সবকিছু ছেড়ে দিব না অন্তত।
মায়ার কথা গভীরতা বুঝতে জুই খানিকটা দ্বিধা নিয়ে বললো…
—” তুই কি ভাইয়া উপর কোনো বিষয় নিয়ে রেগে আছিস রিতু? আমি লক্ষ করেছি বিষয়টি? কিছু হয়েছে তোদের মধ্যে?
—” কিছু না! তুই আয়। আমি যাচ্ছি ছাঁদে।

মায়া কিচেন থেকে বের হয়ে ড্রয়িংরুম ধরে আগালো সিঁড়ি বেয়ে উপরে যাওয়ার জন্য। নিচের পরিবেশটায় অনেকটা নিরব। ছাদে মেহমানদের ভিড় জমে আছে। সেখানে ছেলে-মেয়েদের দল বেঁধে নাচ গান হচ্ছে তাই। ছাদের মিউজিক নিচে আসছে তবে ততোটা না। মোটামুটি ঠিকঠাক। মায়া বিষন্ন মনে আরও খানিকটা আগাতেই কারও গোঙ্গানির শব্দ কানে আসতেই থেমে যায়। সর্তকের কান খাঁড়া করে এগিয়ে যায় শব্দের উৎস ধরে নিচে গেস্ট রুমে দিকে। সন্দেহ দিয়ে কৌতূহল বশত হালকা হাতে গেস্ট রুমে দরজায় ধাক্কা দিতেই চোখে পড়লো দুজন মানুষের ধস্তাধস্তি জাবরদস্তি অবস্থা।
.
(রি-চেক করিনি)

চলিত….

দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৬০_দ্বিতীয়াংশ
মায়া কিচেন থেকে বের হয়ে ড্রয়িংরুম ধরে আগালো। সিঁড়ি বেয়ে উপরে যাওয়ার জন্য। নিচের পরিবেশটায় অনেকটা নিরব। ছাদে মেহমানদের ভিড় জমে আছে। সেখানে ছেলে-মেয়েদের দল বেঁধে নাচ গান হচ্ছে। ছাদের মিউজিক নিচে আসছে তবে ততোটা না। মোটামুটি শান্ত ঠিকঠাক। মায়া বিষন্ন মনে আরও খানিকটা আগাতেই কারও গোঙ্গানির শব্দ কানে আসতেই থেমে যায়। সর্তকের কান খাঁড়া করে এগিয়ে যায় শব্দের উৎস ধরে নিচে গেস্ট রুমে দিকে। প্রবল সন্দেহ নিয়ে কৌতূহল বশত হালকা হাতে গেস্ট রুমে দরজায় ধাক্কা দিতেই চোখে পড়লো দুজন মানুষের ধস্তাধস্তি জাবরদস্তি অবস্থা।

মায়া আঁতকে উঠল রুমের ভিতরের পরিবেশটা দেখে। নেত্রকোণায় ভেসে উঠে একজন অর্ধবয়স্ক মোটাতাজা নাড়িভুড়ি ওয়ালা লোক ও মালাকে একসঙ্গে দেখে। লোকটি জোরপূর্বক মালার সাথে খারাপ কাজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে ক্রমাগত। লোকটি মালার মুখ চেপে ধরে জোরজবরদস্তি করছে। যার ফলে মুখ চেপে ধরায় গোঙ্গানির শব্দ হচ্ছে। মায়া আঁতকে উঠে তৎক্ষনাৎ দরজা ঠেলে রুমের ভিতরের ঢুকলো। দ্রুত পদে এগিয়ে এসে উত্তেজিত ভঙ্গিতে পিছনে থেকে লোকটির শার্টের কলার টেনে ধরে মালাকে ছাড়ানোর জন্য। যাহ দারুণ লোকটি মালার সাথে বেশ একটা সুবিধা করতে না পেরে অর্ধবয়স্ক লোকটি মালা মুখ চেপে ধরে ঘুরে তাকালো মায়ার দিকে। প্রচন্ড রেগে মায়াকে হাত দিয়ে ধাক্কা মারতেই মায়া খেই হারিয়ে ছিটকে পড়লো টেবিলের কোণায়। ব্যথা বের। কাচের চুড়ি ভেঙ্গে হাতে ঢুকলো তারপরও সাহস হারালো না। ব্যথায় মনোযোগও হলো না। মালাকে বাঁচাতে হবে। এতটা মাথায় রেখেই প্রচন্ড সাহসী হলো মায়া। দ্রুত পদে উঠে দাঁড়ালো টেবিলের কোণা থেকে কাঁচের ফ্লাওয়ার ভাজটি হাতে নিয়ে। দিক বিবেচনা না করে জোরহাতে আঘাত করলো লোকটির মাথায়। লোকটি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে মাথা চেপে ফ্লোরে পড়ে যেতেই, মায়া লোকটিকে ডিঙ্গিয়ে বিছানার কাছে এসে মালাকে টেনে তুলে বুকে জড়িয়ে ধরে। ভরসার আশ্রয় স্থল পেয়ে মালা মায়ার কমড় জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠে বলে….
—” আ..আপা আপপামনি এ..এই লোকটা… এ এই ললোকটা…
ভয়ে আর কান্নায় মালা কথা গুলো বারবার গলায় জড়িয়ে যাচ্ছিল। মায়া বিষয়টি বুঝতে পেরে মালা পিঠে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে ব্যস্ত গলায় বললো…
—” মালা আপু। ভয় পেয়েও না। আমি আছি তো তোমার পাশে। তোমার কিছু হবে না। চল আমার সাথে। আমা… আহ!

মায়া কথা গুলো শেষ করার আগেই বয়স্ক লোকটি শক্ত হাতে মায়াকে টেনে আকস্মিক ভাবে থাপ্পড় মারলো মায়ার বামগালে। মায়া পুনরায় ফ্লোরে ছিটকে পড়তেই উত্তেজিত ভঙ্গিতে গেস্ট রুমে আরও একজন ছেলে ঢুকল চিল্লাচিল্লি শব্দে। ছেলেটি খুব সম্ভবত বয়স্ক লোকটির বডিগার্ড হবে। পাহারাদার হিসাবে এতক্ষণ দরজার বাহিরেই ছিল। কিন্তু তার অন্যমনষ্করের কারণে মায়া ঢুকে যায় গেস্ট রুমে ভিতর। যার জন্য এতসব ঝামেলা হয়। মায়াকে আঘাত করতে দেখে মালা হতভম্ব হয়ে যায় ভয়ে চুপসে গিয়ে। তরতর করে কাঁপতে থাকে ভয়ে আষ্টশ হয়ে। এতক্ষণ একটি লোক ছিল বলে মায়া জন্য সহজ ছিল মালাকে বাঁচানো। কিন্তু এবার দুজন লোক হলো। মালা বাঁচবে তো আজ? নাকি মালা সাথে সাথে মায়াও ক্ষতি করবে এই দুজন লোক মিলে। মালার ফুপিয়ে উঠা কান্নার মধ্যে লোকটি রাগে তরতর করে কেঁপে উঠে হুংকার ছাড়ে। মায়ার আঘাতে লোকটি মাথার পিছনে থেকে তাজা রক্ত দরদর করে পড়ছে ঘাড় বেয়ে। মেজাজ বিগড়ে যাওয়া কারণে মায়া চুলের মুটি ধরে টেনে তুলে ফ্লোর থেকে। ছেলেটির উদ্দেশ্য চেতে বলে…
—” কুত্তা*চা তোদের বলছি দরজার বাহির পাহারা দিতে। কই মরছিলি হারামখোরের বাচ্চারা? এই মাইয়া রুমে ভিতর ঢুকলো কিভাবে? ধর এই মাইয়ারে। আটকা যতক্ষণ না আমার কাজ শেষ হচ্ছে। তারপর এই মাইয়ারে দেখছি কি করা যায়।
—” জ্বিই বস!

ছেলেটি দ্রুত পদে এগিয়ে আসলো মায়ার দিকে।লোকটি তেজি হাতে অনেকটা ধাক্কা মেরেই ছেলেটির হাতে তুলে দিল মায়াকে। পুনরায় ঝাপিয়ে পড়লো মালার উপর। মালা চিৎকার করতেই আগের মুখ চেপে ধরলো তার। ধস্তাধস্তি পযার্য়ের মায়াও চিৎকার করে লোকটিকে থামতে বললো। কিন্তু লোকটি শুনলো না। তবে মায়াকে আটকে রাখা ছেলেটি এবার মায়ার দু-হাত পিছনে একত্র করে মুচড়ে ধরে অন্যহতে মুখ চেপে ধরলো চিৎকার করে থেকে। মায়া গোঙ্গাল। ছটফট করলো ছুটার জন্য। কিন্তু নিজেকে ছাড়াতে ব্যথ হলেও মনের সাহস হারালো না বিন্দুমাত্র। একটা সময় পিছনের ছেলেটিও খানিকটা লালসা হয়ে উঠলো। সুন্দর মেয়েকে কাছে পেয়ে তাঁকে একটু ছুঁয়ে দেখার অধম সুযোগটা লুপে নিতে চাইল। পিছন থেকে মায়ার দুহাত একহাতে মুচড়ে ধরে রেখে ঝুঁকে পড়লো মায়ার কাঁধে উপর। মায়ার চুলের উপর দিয়ে বডিগার্ডটি নিজের লালসা ঠোঁট মায়ার কাঁধে ছুঁয়ানোর আগেই, ধুপ করে মায়া ফ্লোরে বসে পড়লো কৌশল খাঁটিয়ে। আকস্মিক ঘটনায় ছেলেটি খেই হারাতেই মায়ার একহাত ছুটে যায়। সেই সুযোগটায় কাজে লাগালো মায়া। শক্ত হাতে ঠাস করে টেনে ধরলো ছেলেটির পা। খেই হারিয়ে চিৎ হয়ে উল্টে পড়লো ফ্লোরে উপর। ছেলেটি চিৎকার করতেই মায়া আর একটি সাহসীর কাজ করলো। কিছুক্ষণ আগে অর্ধবয়স্ক লোকটিকে আঘাত করা মোটা শক্ত কাঁচের ফ্লাওয়ার ভাজটি ফ্লোর থেকে সাথে সাথে আঘাত বসালো বডিগার্ডটির দূর্বল জায়গায়। গুপ্তস্হানে। যৌনাঙ্গ চেপে ধরে বডিগার্ডটি চিৎকার করতেই মায়া কাঁচের টপটি নিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ছেলেটি শুয়া থেকে উঠে বসতে বসতে মায়া আবারও হাত ঘুরিয়ে ভারি মারলো ছেলেটি কপাল বরাবর। প্রচন্ড চিৎকারে আবারও লুটিয়ে পড়লো ফ্লোরে উপর কপাল চেপে। গড়াগড়ি করে ছেলেটি ফ্লোরে লুটপাট খেতেই মায়ার পরপরই একিই জায়গায় দক্ষ হাতে কর্ড়া আঘাত বসালো বারবার। ছেলেটি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে গোঙ্গাল। মায়াকে আটকাতে ধাক্কা দিতে চাইল। কিন্তু পারলো না। মায়া সুযোগ বুঝে ততক্ষণে পিছিয়ে গিয়ে আবারও আঘাত করলো একিই জায়গায়। বডিগার্ডটির মাথাটা প্রায় তেতে গেছে মায়ার পরপর একিই জায়গায় আঘাত করাতে। অজ্ঞান হয়ে যাবে হয়তো কয়েক সেকেন্ডর ব্যবধানে। মায়াকে যেন আজ একটু নয় অনেকটায় সাহস দেখালো। রাগী রগচন্ডি তেজস্বী নারী হলো। রক্তের ভয়ংকর ফোবিয়া মেয়েটি আজ রক্ত জড়াতে ব্যস্ত। রাগে শরীর কাপছে তরতর করে। সেই একিই রক্ত লাল ফ্লাওয়ার ভাজটি হাতে নিয়ে এগিয়ে গেল বিছানার দিকে। বামহাত লোকটির শার্টের কলার টেনে ধরে ডানহাতে শক্তি প্রয়োগ করে ভারি মারলো মাথায়। আঘাত পাওয়া জায়গায় পুনরায় আঘাত পেল লোকটি। মাথা ধরে চিৎকার করতেই মায়া শক্ত হাতে লোকটির শার্টের কলার ধরে টেনে হেঁচড়ে মালা উপর থেকে ফ্লোরে ফেলল। সময় না নিয়ে মায়া আরও একটি চমৎকার কাজ করলো লোকটির সাথে বুদ্ধি খাঁটিয়ে। লোকটির কিছু বুঝে উঠার আগেই মায়া একে পর এক দক্ষ পায়ের হিল চালালো লোকটির গুপ্তস্থানের উপর। ছেলেদের দূর্বল স্থান বুঝে মেয়েদের রক্ষা কার পথ অবলম্বন করলো মায়া। কাজেও দিল বেশ। লোকটি দুহাতে গুপ্তস্হান চেপে ধরে ফ্লোরে গড়াগড়ি করে চিৎকার করার শব্দের উৎস ধরে তৎক্ষনাৎ রুমে প্রবেশ করে জুঁই। রক্ত অবস্থায় দুজন পুরুষকে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়তে দেখে আতংকে সে। উত্তেজিত ভঙ্গিতে মায়ার দিকে ছুটে আসতেই থেমে যায় মালাকে বিধস্ত অবস্থা বিছানায় দেখে। জুইয়ের মস্তিষ্ক টনক নড়ে মালার বিধস্ত অবস্থা দেখে। পরিস্থিতি বুঝতে বেশ বেগ পেতে হয়নি জুইয়ের। কিচেন থেকে সে সোজা ছাদের চলে গিয়েছিল। মায়াকে ছাঁদে কোথাও না পেয়ে পুনরায় নিচে চলে আসে মায়ার খুঁজে। কিন্তু নিচে আসতেই কারও গলা ফাটা চিৎকারের শব্দের দৌড়ে আসে সে গেস্ট রুমে। আর এসেই চোখে পড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় অপরিচিত পুরুষদের। জুই উত্তেজিত ভঙ্গিতে মায়ার দিকে তাকায়। মায়ার চেহারায় রাগ- রগচন্ডি সাহসীকতা প্রকাশ করছে এই মায়া কোনো সাধারণ বোকা বা দূর্বল নারী হতে পারে না। যার এতটা রাগ- সাহস থাকতে পারে সেই নারী আর যায় হোক না কেন! অবশ্যই দূর্বল নারী হতে পারে না। চেহারার হিংস্রত্ব প্রকাশ করছে তার সাহসীকতার কথা। জুই হতভম্ব হলো। মায়া লোকটিকে ছেড়ে দ্রুত হাতে মালাকে পুনরায় বিছানা থেকে টেনে নিজের কাছে আনলো। পাশ থেকে ওড়না নিয়ে মালার গায়ে জড়িয়ে দিতেই বুঝলো মালার দূর্বল শরীরে তরতর করে কাঁপনিটাকে। মায়া শক্ত করে মালাকে জড়িয়ে ধরে আশস্ত করতে চাইলো। কিন্তু পুনরায় বিপত্তি ঘটে আরও দুজন বডিগার্ডে হঠাৎ আগমনে। তাদের গায়েও একিই পোষাক। তার মানে এই দুজন লোকও এদের লোক। মালা ভয়ে আতংকে উঠে মায়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। শব্দ করে কেঁদেও ফেলে। মায়া তেজস্বী চোখে তাকালো আগমনকৃত দুজন পুরুষের দিকে। দূর্বল হলো না। সাহস হারালো না। আর না ভয় পেল। কিন্তু তখনই শুনা গেল ফ্লোরে পড়ে থাকা অর্ধবয়স্ক লোকটির চিৎকার করা কথা গুলো। নিজের গুপ্তস্থান চেপে ধরে আগত দুজন বডিগার্ডের উদ্দেশ্য চিৎকার করে বলছে…

—” সুমন মামুন দ্রুত দরজা লাগা। মেয়ে দুটোকে দ্রুত আটকা। বিশেষ করে সবুজ শাড়ি পড়া মেয়েটাকে ধর তোরা। আজকে এই মেয়েকে জানে মেরে তারপর বিদায় হবো। আগে তাড়াতাড়ি! দরজা লাগিয়ে আয়।

লোকটি কথা অনুযায়ী ছেলে দুটো একটি দৌড়ে দরজা লাগাতে যায়। কিন্তু ততক্ষণে শুনা গেল মায়া চতুর কন্ঠে জুইয়ের উদ্দেশ্যে বার্তা….
—” জুই দ্রুত আটকা ছেলেটিকে! দরজা লাগাতে দিস না। বিপদে পড়বো।

জুই তাই করতে চাইলো। কিন্তু ছেলেটিকে বাঁধা দিতে গিয়ে অপর ছেলেটির হাতে আটকা পড়ে গেল অনাহেষে। জোড়াজুড়ি বাজলো দুজনের মধ্যে। মালা পরিস্থিতির চাপে পড়ে ভয়ে আরও ঝাপটে মায়ার পেট। মায়া ভয় পেল না। সাহসীই থাকলো। কিন্তু তৎক্ষনাৎ অধৈর্যের হাতে কাঁচের ভাজটি ছুঁড়ে মারলো দরজা লাগাতে চাওয়া বডিগার্ডটির উপরে। পিঠে উপর শক্ত কিছুর আঘাত পাওয়ার তৎক্ষনাৎ লুটিয়ে পড়লো ছেলেটি ফ্লোরে। এতে করে জুইকে চেপে ধরে রাখা ছেলেটি আরও ক্ষেপ্ত হলো মায়ার এহম সাহসীকতা দেখে। জুইকে ছেড়ে তৎক্ষনাৎ তেড়ে আসলো মায়াকে মারতে। মায়া দ্রুত মালাকে টেনে নিজের কাছ থেকে সরাতে সরাতে ব্যস্ত কন্ঠে বললো….
—” মালা আপু কান্নার জন্য পরে সময় পাবে। প্লিজ এখন একটু সাহসী হও। আমাদের তোমার সাহায্যের প্রয়োজন। নয়তো আমরা কেউ এই মূহুর্তে বেঁচে ফিরতে পারব না। প্লিজ আপু মনোবল শক্ত করে আমাদের সঙ্গ দাও! সাহায্য করো আমাদের দ্রুত উঠো।

মায়ার ব্যস্ত কথার মধ্যে দিয়েও ছেলেটি ততক্ষণে মায়াকে ধরে ফেলে। মালাকে সহ মায়াকে টেনে হেঁচড়ে বিছানার পাশ থেকে ফ্লোরে ফেলে। মালা নিজেও পড়লো মায়ার সাথে। কিন্তু ভয়ে ডরে মায়ার কমড় ছাড়ছে না। যার জন্য মায়া চাইলেও উঠে কিছু করতে পারছে না। মালা ভয় পেয়ে মায়াকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরার কারণে মায়া অনেকটায় অসহায় হলো। ছেলেটিও সেই সুযোগ লুপে নিয়ে মায়াকে আঘাত করতে চাইল। পাশ থেকে সোফার ছোট টি-টেবিল তুলে মায়ার মাথায় আঘাত বসাতে চাইল। কিন্তু তার আগেই আঘাতের শিকার হলো জুইয়ের হাতের। জুই জোরহাতে পিছন থেকে আকস্মিক ধাক্কা মারলো ছেলেটিকে। যার দারুণ টেবিল সহ উল্টে পড়ে ফ্লোরে ছেলেটি। ততক্ষণে মায়াও মালাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। জুই পুনরায় উল্টে পড়া ছেলেটিকে আঘাত করতে চাইল কিন্তু তার আগেই বাঁধা দেয় দরজার সামনের পড়ে থাকা দ্বিতীয় ছেলেটি। জুইকে আটকে ধরতেই মায়া চিৎকার করে বলে…
—” জুই জোড়াজুড়ি করিস না। কৌশল অবলম্বন কর। দূর্বল জায়গায় খুঁজ দ্রুত।
জুই মায়ার কথার অর্থ বুঝলো। এই মূহুর্তে জোড়াজুড়ি করা মানেই নিজের শক্তি অপচয় করা। একটা ছেলের সাথে শক্তিতে কখনোই একটা মেয়ে পেরে উঠবে না। সেটা জানা সবার। সেখানে যদি ছেলেগুলো বলিষ্ঠবান দেহের বডিগার্ড হয় তাহলে তো পাড়ার প্রশ্ন উঠে না। সেই পন্থায় এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই একটা নারীকে শান্ত হয়ে যাওয়াটায় উত্তর কাজ। কারণ তুমি জোর করলে সেও জোর খাটাবে। তার চেয়ে বরং সাময়িক সময়ের জন্য তুমি শান্ত হয়ে অপর মানুষকে সুযোগ করে দাও। সে তোমাকে শান্ত হয়ে যেতে দেখে সেও শান্ত হয়ে যাবে। ভাববে তুমি দূর্বল হয়ে পড়েছো। তার এই ভাবনাটাকে তোমার বুদ্ধি অস্ত্র বানিয়ে আক্রমণ করো তার দূর্বল জায়গায় ধরে। হয় চোখে নয়তো গোপন অঙ্গে। তাহলে সাময়িক সময়ে জন্য সামনের মানুষটিও খৈ হারিয়ে তোমাকে ছেড়ে দিবে। আর এতে করেই তুমি পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হবে। বারবার একিই জায়গায় আঘাত করো বিশেষ করে দূর্বল স্থান বুঝে গোপন অঙ্গে। জুই বুঝলো মায়ার ইঙ্গিত বহন কথা। জোড়াজুড়ি আপাতত সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখলো। শান্ত হলো। ছেলেটি জুইয়ের দু-হাত চেপে ধরতে জুই পায়ের হিল বসালো ছেলেটির পায়ে। আর্তনাদে চিৎকার করে জুইকে ছেড়ে নিজের পা ধরতেই জুঁই আরও একটি দক্ষ কাজ করলো। দু’হাতে নখ দাবিয়ে খামচে ধরলো ছেলেটির দু-চোখে। গলা ফাটিয়ে চিৎকার করলো ছেলেটি। অন্ধ হাতে জুঁইকে ধাক্কা মারলো ফ্লোরে। জুঁই উল্টো পড়লো ফ্লোরে যেহেতু হাতে কোনো অস্ত্র বা লাটি নেই আঘাত করার জন্য! সেহেতু খালিহাতে বলিষ্ঠ বডিগার্ডদের সাথে লড়াই করাটাও বোকামি। দু-চোখ চেপে ধরে ছেলেটি চিৎকার করতেই চেতে উঠে অন্য বডিগার্ডটি। ফ্লোর থেকে উঠে তেড়েফুঁড়ে আসে মায়ার দিকে। যত নষ্ট মুল এই পুচকি মেয়েটি। চার চারটা পুরুষ মানুষকে রক্তক্ত করাটা সাধারণ কথা না। আজ এই পুচকি মেয়ে তেজ ভাঙ্গবে। শারীর থেকে মাথাটা আলাদা না করলে তার পুরুষ জাতির কলঙ্ক হবে।

প্রথম ছেলেটি হিংস্রত্ব রুপ ধারণা করলো মায়ার জন্য। সাহসী মায়াকে প্রাণে মারার জন্য তেড়ে আসলো। পাশ থেকে অর্ধবয়স্ক লোকটিও গোপন স্থান দু’হাতে চেপে ধরে কাতরাতে কাতরাতে উঠে দাঁড়ালো। দুইদিক থেকেই মায়ার জন্য বিপদ বাড়লো। তারপরও মায়া সাহস হারালো না। নিজেকে দূর্বল মনে করা মানেই তিনটা জীবন নিয়ে বিপদে সম্মুখীন হওয়া। মায়া যেমন তেমন! তার সাথে এখন মালা আর জুঁই দুজনই আছে। তাদের হেফাজতে জন্য হলেও মনোবল শক্ত রাখা উচিত। মায়ার চেহারায় নিদারুণ কঠিনতম বাঘিনীর ন্যায় রাগ ফুটে আছে। টানা হেঁচড়ায় মায়ার শরীরে এখনো দরদর ঘাম ঝড়ছে। কপালের দুই কানিশ বেয়ে ঘাম ঝড়ে গলা থেকে ব্লাউজের সাথে মিশে যাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। মায়ার গায়ের সবুজ ব্লাউজটাও ঘামে ভিজে কালো হয়ে গেছে। দু-চোখে ঝলঝল করছে তেজি রাগে। ভয় বিহীন স্থির হয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলো সে। নিজের হাতের মুষ্টিতে শাড়ির এক্সট্রা পিনও চেপে রাখলো। অন্য হাতে বাঁধনে মালা হাতটা চেপে ধরে। একটা সুযোগ! সোজা সেই পিন ফুটাবে ছেলেটির চোখে। তেড়ে আসা ক্ষেপ্ত বডিগার্ডটি দক্ষ হাত চালাতে চাইল মায়ার গলায়। কিন্তু তার আগেই অন্য কারও দাবাং হাতে থাবায় শিকার হয় সে। পিছন থেকে ছেলেটির ঘাড় চেপে ধরে টেনে রুমের ডেসিংটেবিলের আয়নায় মাথা ঢুকিয়ে দেয় তৎক্ষনাৎ। ঘটনার আকস্মিকতায় বডিগার্ডটি মুখে মস্তকে বিঁধল অসংখ্য সূক্ষ্ম কাচ ভাঙ্গা। চিৎকার করে কাতরাতে কাতরাতে ছেলেটিও তৎক্ষনাৎ লুটিয়ে পড়লো ফ্লোরে। বডিগার্ডটির সারা মুখে মাথায় অঝোরে রক্ত স্রোত দেখা গেল। উপস্থিত সবাই আঁতকে উঠল। মায়াও খানিকটা ভড়কে গেল আকস্মিকতায়। কিন্তু তেজি চোখে রিদকে দেখে শান্ত হয়ে গেল। রিদ এবার হিংস্রত্ব দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকালো জুঁইয়ের পাশের বডিগার্ডটির দিকে। কয়েক সেকেন্ড ব্যবধানের সেই বডিগার্ডটিরও অবস্থাও করুন হলো! কাঁচের টি-টেবিলের ভারি খেয়ে। রক্ত আর গলা ফাটা চিৎকারের ধ্বনি রুম জোরে বিরাজমান হলো তীব্র। উত্তেজিত পরিবেশটা আরও উত্তেজিত হলো রিদের আগমনে। রিদ এগিয়ে আসলো মায়ার দিকে। মায়ার বাহু টেনে নিজের বুকের মেশালো। হিংস্রত্ব লাল চোখ তুলে মায়ার গাল ধরে এদিক সেদিক ঘুরালো। আর কোথায় কোথায় আঘাত পেয়েছে সেটা দেখার জন্য। মায়ার নরম মসৃণ গালে পুরুষালী হাতের পাঁচ আঙ্গুলের লাল কালচে ছাপটা রিদের চোখে পড়লো স্পষ্ট। বিগড়ানো মেজাজটা আরও বিগড়ে গিয়ে একহাত অর্ধবয়স্ক লোকটিকে গলা চেপে ধরে দেয়ালে মেশালো তৎক্ষনাৎ। অন্যহাতে মায়াকে নিজের বুকে ধরে রেখেই। হিংস্র গলায় আওড়ালো ভয়ংকর বাণী। দাঁতে দাঁত পিষে বললো…

—” হারামির বাচ্চারা। দশ-টা মিনিটের জন্য বউটাকে রেখে যেতে পারলাম না। আঘাত করে ফেললি। ঘর আমার! বাড়ির আমার! বউ আমার! তুই আঘাত করলি কোন সাহসে? তোর কলিজা কত বড় হয়েছে আজই মেপে দেখবো আমি।

রিদের রাগী হিংস্র চেহারায় আতকে উঠলো অর্ধবয়স্ক লোকটি। মায়া যে রিদের বউ হবে সেটা যদি ঘুণাক্ষনেও টের পেত সে! তাহলে আঘাত করা তো দূর চোখ তুলে তাকানোর সাহসও করতো না। তাছাড়া মেয়েটিও কম না। চার চারটা পুরুষ মানুষের সাথে লড়াই করা সাধারণ নারীর কাজ নয়। সেতো একটু মজা নিতে চেয়েছিল খান বাড়ির কাজের মেয়ের সাথে। সেজন্য তো কাজের অজুহাত মেয়েটি রুমে ডেকে এনেছিল। সফল হয়ে যেত! মাঝখান থেকে যদি এই পিচ্চি মেয়েটি বাঁধা না দিত। কিন্তু সব কথা এক কথা। মার খেলো সে। এখন প্রাণটাও তাঁকেই হারাতে হবে। রিদ খানের বউয়ের গায়ের হাত দেওয়ার দায়ে। সেকি জানতো নাকি রিদ খানের মতো গ্যাংস্টারে বউ থাকতে পারে। তাও এতো ছোট মেয়ে। অসম্ভব না? রিদের হাত থেকে লোকটি নিজের গলা ছাড়ানোর চেষ্টা করে রকম বলে উঠে….

—” মিস্টার খান বিশ্বাস করুন আমি এই মেয়েকে ছুঁয়েও দেখিনি। উল্টো এই মেয়ে আমাদের সবাইকে মেরেছে। আঘাত করেছে। প্লিজ আপনি আমার কথা বিশ্বাস করুন।

লোকটির কথা শেষ হতে না হতেই মায়া ডুকরে কেঁদে উঠলো রিদের বক্ষতলে মুখ গুঁজে। সাহসী মায়া যেন হুট করেই আদুরী হয়ে গেল রিদের আঁজলা তলে এসে। রিদের ভালোবাসা পেয়ে। দু’হাতে রিদের পেট জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠে বলল…

—” এই লোকটা! এই লোকটা ভিষণ খারাপ! মালা আপুকে বাজে ভাবে ছুঁতে চেয়েছে বারবার। আমি বাঁধা দিতে চেয়েছি বলে আমাকেও থাপ্পড় মেরেছে। উনার বডিগার্ড আমাকে আঁটকে রাখতে চেয়েছিল। আপনি এই লোকটা ছাড়বে না। উনার শাস্তির প্রয়োজন।

মায়া কথায় শেষ হতে না হতেই হুংকার ছাড়লো রিদ আসিফের উদ্দেশ্য। আসিফ রিদের পিছন পিছন এই গেস্ট রুমেও প্রবেশ করেছিল। মূলত রিদ আসিফের সাথে বাড়ির সিকিউরিটি নিয়ে কথা বলে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করছিল বাহির থেকে! তখনই কানে যায় গেস্ট রুম থেকে কারও চিৎকার। উত্তেজিত হয়ে দ্রুত পদে এগিয়ে আসতেই চোখে পড়ে মায়াকে বডিগার্ড ছেলেটি আঘাত করতে আসার দৃশ্যপট। ব্যস মেজাজ তখনই বিগড়ায় রিদের। তার বউ! তার সম্পদ! যেখানে কারও দৃষ্টি ও পছন্দ না। সেখানে বউকে আঘাত করা মানেই ধ্বংসাত্বক। রিদের হুংকারে আসিফ এগিয়ে আসার সাথে সাথে গেস্ট রুমে আরও একজনের প্রবেশ ঘটে। খানিকটা অস্থির উত্তেজিত ভঙ্গিতে। গেস্ট রুমের দরজা ধরে ভিতরে প্রবেশ করতেই আয়নের চোখে পড়লো উপস্থিত সবার রক্তাক্ত নাজেহাল অবস্থাটা। আয়ন হতভম্ব হয়। বর্তমান পরিস্থিতি আপাতত তার বোধগম্য হচ্ছে না। এতক্ষণ যাবত এখানে কি হয়েছে সবটাই তার অজানা। আয়ন রিদকে কারও গলা চেপে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে চারপাশে চোখ বুলিয়ে পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করে। তখনই চোখ যায় বিছানার এককোনায় জুঁইকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায়। আয়ন কপাল কুঁচকে জুইয়ের দিকের তাকাতেই দেখল। হাতের লাল কাঁচের চুড়ি ভেঙ্গে রক্ত ঝড়ছে সেখান থেকে। আয়ন দ্রুত পদে এগিয়ে এসে জুঁইয়ের হাতটা নিজের হাতে নিয়ে ব্যস্ত কন্ঠে বললো..

—” জুই কি হয়েছে এখানে? আপনি হাত কাটলেন কিভাবে?

আয়নের ব্যস্ত কন্ঠে চমকায় জুঁই। চোখ তুলে আয়নের দিকে তাকাতেই রুমের আরও কয়েক জোড়া দৃষ্টি পড়ে আয়নের দিকে। আয়ন কপাল কুঁচকায় সবার দৃষ্টি ভিড়ে। তখনই শুনা গেল রিদের পুনরায় চিৎকার করা উগ্রবাদী কন্ঠেস্বর আসিফের উদ্দেশ্য…
—” আসিফ!
থেমে যাওয়া পদগুলো দ্রুত চালিয়ে এগিয়ে এসে বলে…
—” জ্বিই ভাই!
—” এই হারামির বাচ্চারে ফুটন্ত গরম পানিতে সিদ্ধ করবি। ততক্ষণ পর্যন্ত সিদ্ধ করবি, যতক্ষণ না এর হাড় থেকে মাংশ আলাদা হচ্ছে।
—” কিন্তু ভাই এই হারুন সাহেব তো আমাদের লোক হয়! উনাকে…
রিদ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় আসিফের দিকে। রিদের হিংস্রত্ব লাল চোখের দাবিতে দমে যায় আসিফ। কথা না বাড়িয়ে কোনো রকম সম্মতি দিয়ে বলে…
—” জ্বিই ভাই! হয়ে যাবে…
~~
অবস্থাটা রিদের রুমেই। রিদ তপ্ত মেজাজ মায়ার হাতে ব্যান্ডেজ করছে। মায়াকে টি-টেবিলের উপর বসিয়ে রিদ বসলো সোফায়। দুজনই মুখোমুখি বসা। রিদ মনোযোগ মায়ার দু’হাতে কাটা স্থান গুলোতে। বিগত একটা সাপ্তাহ ধরে লাগাতার বউটা তার আঘাতের শিকার হচ্ছে। দু-বারের হামলায় হাতে-পায়ে কপালে আঘাত পেল। দুদিন আগে সে রাগের বশে আঘাত করলো। আজ আবার অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে দু’হাতে পুনরায় চুড়ি ভেঙ্গে কেটে আসলো। ছোট একটা দেহের এতটা আঘাত যেন রিদের বুক চিনচিন করছে গুমোট ব্যথায়। বউকে এতো আদুরে আগলে রেখেও বারবার আঘাত পাচ্ছে বলেই রিদের মেজাজ বিগড়ানোর কারণ হচ্ছে। কপালের দৃশ্যমান রাগের ভাজ গুলো আরও দৃঢ় হলো। মেজাজ দেখিয়ে মায়ার হাতের সব কয়েকটা চুড়ি খুলে ফেলতে ফেলতে বললো…
—” বালের চুড়ি আর পড়বা না। আগে হাত ভালো হোক তারপর এসব চুড়ি-টুড়ি পড়বা। দেখি খুলো…

মায়ার হাতের সব কয়েকটা কাচের চুড়ি খুলে ফেলতে চাইল রিদ। মায়া দিলও খুলতে। কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন রিদ তারই পড়িয়ে দেওয়া মায়ার হাতে সাদা ডায়মন্ডের চুড়ি জোড়া টেনে ধরলো খুলে ফেলার জন্য। মায়া আঁতকে উঠলো। এতক্ষণ গুমোট কান্নায় চুপ করে বসে থাকলেও এবার চুপ থাকলো না। প্রচন্ড অস্থির ভঙ্গিতে নিজের হাত টানলো রিদের থেকে। রিদকে বাঁধা দিয়ে বললো…
—” একদম আমার চুড়িতে হাত দিবে না। এই গুলা আমার চুড়ি। আমি পড়ে থাকব। আপনি ছাড়ুন আমার হাত।
—” হাত ভালো হোক! তারপর পড়িও। এখন খোল।
—” একদম না। ছাড়ুন আমার হাত।

মায়া জোর করতেই রিদ বিরক্তি চোখ তুলে তাকায় মায়ার দিকে। সাথে সাথে চোখে ভাজলো মায়ার বামগালের থাপ্পড়ের লাল কালছে দাগ গুলো। অশান্ত রিদ রাগে পুনরায় কটমট করলো। মায়ার গাল চেপে নিজের কাছে টানলো তৎক্ষনাৎ। আকস্মিক ঘটনায় মায়া ঝুঁকে পড়লো রিদের দিকে। নিজের শরীরে ভাসাম্য বজায় রাখতে রিদের উরুতে দু’হাত ঠেকিয়ে ভর দিলো। মুখোমুখি হলো রিদের মুখ বরাবর। রিদ মায়া গাল নাড়িয়ে ব্যথা দেখতে চাইল। দেখলো ও। কিন্তু মায়ার বেগতিক শরীরের কম্পনে রিদ বিরক্তির কপাল কুঁচকায়। তেড়া কন্ঠে বলে..

—” আমি কিছু করছি তোমাকে? এতো কাঁপছ কেন? কাঁপা-কাঁপি বন্ধ করো। নয়তো ভয়ংকর কিছু করে ফেলবো তোমার সাথে। এমনিতেই মেজাজ চড়ে আছে। কোন দিকের রাগ কোন দিকে গিয়ে গড়াবে নিজেও জানি না। চুপচাপ থাকো। আমাকে দেখতে দাও।

মায়া কম্পন কমলো না রিদের হুমকি বার্তায়ও। কমবে কিভাবে? এতো কাছ থেকে কি কেউ কাউকে দেখে নাকি? মায়া মুখে রিদের তপ্ত গরম নিঃশ্বাস আছড়ে পড়ছে বারবার। যেটা মায়া নিজের নিশ্বাসের সাথে গ্রহণ করছে বলেই, তার পিঠের শিরাধারা বয়ে যাচ্ছে শীতল রক্তের স্রোত। রিদের দুই উরুতে ভর দেওয়া মায়ার হাত দুটো তরতর করে কেঁপে উঠছে বারবার। যার দারুণ রিদের উরুর মাংসপেশিও মৃদু নড়ছে। মায়ার কান্ড রিদ চোখ বন্ধ করে গুমোট শ্বাস ফেলে, মায়ার গাল টেনে নিজের কপালের কপাল ঠেকালো। দু’হাতে আঁজলে মায়ার দুগাল আঁকড়ে ধরে মানসিক শান্তির জন্য চোখ বন্ধ করে রাখলো। কিন্তু মায়ার জন্য স্থির থাকতে পারলো না। মায়া ছটফট করে হঠাৎই রিদকে ধাক্কা দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। রিদ থেকে পালানোর জন্য বন্ধ রুমের দরজা দিকে দৌড় লাগালো। দ্রুত হাতে লকের পাসওয়ার্ড টাইপ করতে গিয়ে ধরা পড়লো রিদের কাছে। রিদ পিছন থেকে মায়ার কমড় জড়িয়ে ধরে শূন্যতে তুলতেই, মায়া ভয়ার্ত চিৎকার করে উঠে ছটফট করলো রিদের হাত থেকে নিজের শরীর ছুটানোর। কিন্তু রিদ ছাড়লো না মায়াকে। বরং আরও চেপে ধরে রুমের লাইট নেভাল একহাতে। বাহিরের কর্ড়া লাইটিংয়ের আলোয় আলোকিত রুমের ভিতরটা। কোনো কিছু দেখতে বেগ পেতে হচ্ছে না। সবকিছুই মৃদু আলোয় স্পষ্ট। ধস্তাধস্তি মধ্যে এক পর্যায়ে! রিদ এক অপ্রত্যাশিত কাজ করে বসলো মায়ার সাথে। ঘটনা আকস্মিক হওয়ায় মায়া কিছুক্ষণের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। ছটফট বন্ধ করে স্থির হয়ে যায়। আজ নিয়ে দ্বিতীয় বার সে রিদের এমন গভীর স্পর্শের শিকার হচ্ছে। মায়া কিছু ভাবতে পারলো না আর। তার আগেই অনুভব করলো রিদের বলিষ্ঠ হাত দুটো তার কমড় জড়িয়ে ধরে উপরে তুলছে। মায়া খেই হারিয়ে রিদের পেটের সাইডের টি-শার্টের ভাজ আঁকড়ে ধরলো দু’হাতে শক্ত করে। নিজের শরীরের তাল সামলাতে দু’পা উচু করে বুড়ো আঙ্গুলে ভর দিলো। রিদ একটু বেশিই লম্বা হওয়ায় অনেকটা ঝুঁকে পড়ে মায়ার উপর। মন্ত হলো মায়ার ঠোঁটের ভাঁজে ভাঁজে। মায়ার কম্পিত শরীর ছেড়ে দেয় কাঁপতে কাঁপতে। রিদ আঁকড়ে ধরে মায়ার ছোট দেহ! আবদ্ধ করে নিজের শরীরে সাথে। গুটি কয়েক মিনিট পার হতেই রিদ ছেড়ে দিল মায়ার ওষ্ঠদয়। রিদ ছাড়তেই মায়ার পা ধুপ করে ফ্লোরে লাগলো। প্রচন্ড হাঁপাতে হাঁপাতে মায়া কপাল ঠেকালো রিদের প্রশস্ত বুকে। ভয়ংকর নিরবতা চেয়ে গেল চারপাশে। দু’জনের ঘনঘন নিশ্বাস ছাড়া কিছু শুনা যাচ্ছে না রুমময় জোড়ে। রিদ একহাত মায়ার কমড়ে রেখে অন্যহাতটা তুললো মায়ার মাথায়। মায়ার অস্থিরতা, মায়ার লজ্জা, বুঝতে পেরে রিদ মৃদূ হাসলো। আদুরে হাত মায়ার মাথায় বুলিয়ে দিতে দিতে একটু করে বললো…
—” আমিই তো! লজ্জা পাচ্ছো কেন?

মায়া নাড়লো না। লজ্জায় আরও সিঁটিয়ে গেল রিদের সাথে। জোর হাতে শক্ত করে চেপে ধরলো রিদের টি-শার্টের দুপাশ। রিদ মায়ার নীরব ব্যাকুলতার লজ্জাটা বুঝলো। মায়ার ঘনঘন নিশ্বাসে আরও মোহিত হলো রিদ। মায়াকে নিয়ে বিছানার পাশে বসলো। জোরপূর্বক মায়াকে রিদের কোলে বসিয়ে পেট জড়িয়ে ধরে রিদ। মায়া লজ্জায় নেতিয়ে পড়ে রইলো রিদের বুকে মাথা রেখে। নড়াচড়া করলো না। তখনই মায়ার কানে ভাজলো রিদের নেশাক্ত কন্ঠেস্বর সেদিনকার মতোই৷ যেদিন রিদ প্রথম মায়াকে আজকে মতো গভীর ভাবে ছুয়ে ছিল। রিদ বলল…
—” আমার বউয়ের এতো সাহস?
—” হুম!
—” আমার কিন্তু ভালো লেগেছে!
মায়া উত্তর করলো না। চুপ থাকলো রিদ পুনরায় বললো…
—” শাড়ি পড়েছ?
—” হুম!
—” তাহলে আমার কাছে আসছিলে না কেন? আমি অপেক্ষা ছিলাম তোমার!
মায়া উত্তর করলো না। রিদ পুনরায় বলল…
—” এখনো রাগ করে আছো?
ভুলে যাওয়া বিষয়টি গুলো পরপর মাথায় আসলো মায়ার। দুজনের মধ্যেকার মান-অভিমানের বিষয়টি মনে পড়লো তৎক্ষনাৎ। মায়া ভিষণ অভিমানী হলো। নিজের লজ্জা ভুলে রিদকে নিজের থেকে দূরে সরাতে চাইল।

—” রাগ করতেও অধিকারে প্রয়োজন হয়। আমার আপনার উপর কোনো অধিকার নেই। আমার রাগ করার বারণ। অধিকার খাটানো বারণ। আপনি আমার না। আপনি মেহুর আপু। আমার অধিকার থাকলে আপনি এতক্ষণে আমার হয়ে যেতেন। আমি তো এখনো নিজের অধিকার পাইনি স্ত্রী হয়ে। তাহলে আপনার উপর কি খাটাব। ছাড়ুন আমাকে। আমি ছাদের যাব।

মায়া ছটফট করলো তীব্র থেকে তীব্র। কিন্তু রিদ ছাড়লো না। মায়ার অধিকার শব্দটা বলার পর থেকে এক অন্য রিদ আবিষ্কার করলো মায়া। অচেনা এক ভিন্ন রিদ। যার আরচণ বা ছুঁয়ায় মায়া অবস্তু নয়। যার নিশ্বাসেও যেন মাদক মেশানোর। মায়া গগন কাপিয়ে কেঁপে উঠে রিদের বেতাল স্পর্শে। মায়া অনুভব করলো তার ব্লাউজের ফিতায় টান পড়েছে। স্তব্ধ ভয়ার্ত মায়া আঁতকে উঠে কিছু বলার আগেই তার জায়গায় হলো বিছানায় রিদের বলিষ্ঠ দেহের নিচের। মায়া অবুঝ কথার তলে যেন রিদও খেই হারিয়ে ফেললো মূহুর্তে। দিক! সময়ের বিবেচনা না করেই মায়ার মধ্যে ডুবে গিয়ে মোহিত হয়ে গেল। মাথায় তার আপাতত মায়ার উষ্ণ ছুঁয়া ছাড়া আর কিছু নেই। নরম হাতে মায়াতে মন্ত হলো গভীর ভাবে। মায়া গোঙ্গাল। ছটফট করলো। বন্ধ লাইটের মতোন রিদের মস্তিষ্কের বাতিও যেন নিভে আছে এই মূহুর্তে। দীর্ঘ বিশ মিনিট পার হতেই যেন রিদের মস্তিষ্কের লাইট জ্বলে উঠলো ফোনের বিদঘুটে কর্কশ শব্দে মাধ্যমে। ততক্ষণে অনেকটায় দেরি হলো দু’জনের মধ্যে। বেশ কিছু না হলেও অনেক কিছুই ঘটলো দুজনের। রিদ লাল লাল চোখ জোড়া তুলে পাশে ফোনটির দিকে তাকাতেই হঠাৎ সে চমকে উঠল নিজের নিচে মায়ার দিকে তাকিয়ে। প্রচন্ড উত্তেজিত ভঙ্গিতে অস্পষ্ট স্বরে তৎক্ষনাৎ আওড়ালো শিট! শিট! শিট!
মায়াকে ছেড়ে দ্রুততা সঙ্গে উঠে অস্হিরতায় খালি গায়ে দৌড়াল ওয়াশরুমের দিকে। এতটা কনমসেন্স! কন্ট্রোললেস সে কিভাবে হতে পারে। শিট!

রিদ দৌড়াতেই মায়া উঠে বসে। শূন্য চোখে রিদের দৌড়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে দ্রুত ফ্লোর থেকে রিদের টি-শার্ট তুলে নিজে পড়ে নিল। অগোছালো শাড়ির আঁচল বিছানা থেকে টেনে এলোমেলো নিজের গায়ে জড়ালো চাদরে মতোন। দ্রুত পদে সেও দৌড়ালো বাহিরের যাওয়ার জন্য। কাঁপা কাঁপা হাতে দরজার লক টাইপ করে বাহিরে দৌড়াতে চাইল। কিন্তু তার আগেই ধাক্কা খেল মেহুর সাথে। হয়তো রিদের রুমেই আসতে চাচ্ছিল মেহু। কিন্তু মায়াকে রিদের রুম থেকে এলোমেলো শাড়ি আর সাজে দৌড়ে বের হতে দেখে কপাল কুঁচকা মেহু। সে কিছু মায়াকে বলবে তার আগেই মায়া দৌড়ে পালায় নিজের রুমে দিকে। মায়ার গায়ে রিদের টি-শার্ট দেখে কিছুটা আন্দাজ করতে পারে দুজনের মধ্যে কি হতে পারে। রাগী মেহুর ফুসফুস করে চেতে উঠে। দ্রুত সবকিছু না করলে এবার লিমিট ক্রস করে ফেলবে দুজনই।
.

চলিত…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply