Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫০


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ। শেয়ারিং ছাড়া)
৫০
খানিকটা সময় নিয়েই নিচের নামলো রিদ। গায়ে গাঢ় লাল রঙ্গের টি-শার্টের সাথে কালো তাউজার। তাউজারের নিচের দুই পায়ের মধ্যে মোটা করে লাল রঙ্গের বর্ডার দেওয়া টি-শার্টের সাথে মিল রেখে। মাত্রই ফ্রেশ হয়ে আসলো ড্রয়িংরুমে সে। উদ্দেশ্য বউকে দেখা। আজ আর অফিসে যাবে না বলে ঠিক করলো রিদ। কোনো কাজও করবে না। আপাতত বউ সামলাবে সে। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা দেরি হলে গেল মনে হয়। তার বউ নিয়ে চলে গেল হেনা খান ও আরাফ খান। রিদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চারপাশটায় চোখ বুলালো। আশপাশের কাউকে দেখতে না পেরে গম্ভীর মুখে ডেকলো বাসার সার্জেন্টদের। জানতো চাইলো তার বউ কই? নত মস্তিষ্কের সার্জেন্টরা জানায় কিছুক্ষণ আগে মায়াকে নিয়ে হেনা খান ও আরাফ খান বেড়িয়ে গেছে হেনা খানের বাবার বাড়ির উদ্দেশ্য। তীব্র মেজাজ বিগড়ে গেল রিদের। গা গুলিয়ে উঠে তিরতির রাগে। আজব! তার একটা মাত্রই আপন বউ। আর তার বউকে নিয়েই কেন সবার এতো টানাটানি? ঠিকঠাক বউয়ের মুখ দর্শনটা নসীব হচ্ছেনা তার। তাছাড়া রিদ তো পারমিশন দেয়নি কাউকে। তাহলে তার বউকে নিয়ে গেল কিভাবে তারা সাথে করে? তার বউ কি তার লাগে না নাকি? প্রচন্ড মেজাজ নিয়ে তৎক্ষনাৎ বিরক্তিতে বের হয়ে যায় বাসা থেকে রিদ। বডিগার্ড, ডাইভার ছাড়ায় একাই বেড়িয়ে যায় নিজের গাড়ি নিয়ে। উদ্দেশ্য তার বউকে নিয়ে আসবে, তার কাছে। বাকিরা যার যেখানে খুশি যাক। সেটা রিদের দেখার বিষয় না। যেটা তার দেখার বিষয় সেটা হলো, তার বউ কোথাও যেতে পারবে না ইউথ আউট তার পারমিশন ছাড়া। এতদিন ছোট ভেবে ছাড় দিয়ে এসেছে বউকে। কিন্তু আর না। বউ তার ছোট না। যতোটুকু বউ হয়েছে তাতেই চলবে রিদের। বউকে এতো বড় করে করবে কি রিদ? সে তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছে? বউ ছোট ভেবে এক চুলও আর ছাড়া দিবে না আর রিদ। এবার হাড়ে হাড়ে অবাধ্য বউকে বুঝাবে রিদ কি জিনিস। শক্ত হাতে গাড়ি ঘুরালো রিদ। গাড়ির স্টিয়ারিং ঘুরাতে ঘুরাতে জিপিএস চেক করলো। আরাফ খানের ফোনের লোকেশন ট্র্যাকিং করতে করতে সেই অনুযায়ী দ্রুত গাড়ি ছুটালো রিদ। দীর্ঘ পনেরো মিনিট গাড়ি ছুটানোর পর অবশেষে দেখতে পেল আরাফ খানের গাড়িটিকে সে। দ্রুততার সঙ্গে আরও খানিকটা স্পিড বাড়িয়ে দিয়ে ব্রেক কষলো আরাফ খানের গাড়ির সাথে। হঠাৎ ধূমকেতুর মতো রিদের গাড়ি রাস্তার মাঝখানে ব্রেক কষায় তাল হারাল আরাফ খানের ডাইভার জসিম। প্রচন্ড উত্তেজনায় টানটান হয়ে সাথে সাথে ব্রেক কষায় সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লো ডাইভার, আরাফ খানসহ পিছনে বসা মায়াও হেনা খান। আকস্মিক ঘটনায় তারা সবাই বিষয়টি বুঝতে বুঝতে রিদ গাড়ি থেকে নেমে আরাফ খানের গাড়ির পিছনের দরজা খুলে দক্ষ হাতে থাবা দিয়ে, মায়ার হাত টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে ধাম করে আবারও গাড়ির দরজাটি লাগিয়ে দেয়। রিদের হঠাৎ কান্ডে চমকালো ভড়কালো হকচকিয়ে গেল সবাই। আরাফ খান গাড়ির সামনের সিটে বসা ছিল ডাইভারের সাথে। রিদের হঠাৎ কাজে হতভম্ব হয়ে তিনি দ্রুততার সঙ্গে বের হয় এবং রিদের সামনে দাঁড়িয়ে উত্তেজনার প্রশ্ন করে রিদকে বলে..
—” কি হয়েছে রিদ? তুই এখানে কেন? আর মায়াকে টানছিস কেন তুই? সবকিছু ঠিকঠাক আছে তো?

আরাফ খানের জোড়ালো প্রশ্নে হেনা খানও গাড়ি থেকে বের হতে চাইলো। কিন্তু রিদের জন্যই পারলো না। তিনি গাড়ির দরজাটা টেনে ধরতেই রিদ পুনরায় ঠাস করে লাগিয়ে দিয়ে দরজাটি। এবং আরাফ খানের উদ্দেশ্য করে বলে…
—” আমার বউ আমি নিয়ে যাচ্ছি। তুমি তোমার বউ নিয়ে যাও শশুর বাড়িতে। আমার বউ যাবে না তোমাদের সাথে।

আরাখ খান হতবাক কন্ঠে বলে…
—” মানে?
রিদের ত্যাড়া উত্তর…
—” যার যার বউ! যের যের নিয়ে যাও দাদাভাই! তুমি তোমার বউ নিয়ে যাও। আমি আমার বউ নিয়ে গেলাম। চলো বউ!
–” মানে? বউ কি ভাগাভাগি হচ্ছে নাকি? যে যার যার বউ তার তাঁরই নিতে হবে?
—” হ্যাঁ হচ্ছে ভাগাভাগি! তোমার ভাগে তোমার বউ, আমার ভাগে আমার বউ পড়ছে। এবার বউ নিয়ে যাও তো শশুর বাড়ি।
রিদের কথায় অবিশ্বাসের নেয় চোয়াল ঝুলে হা করে তাকিয়ে থাকলো আরাফ খান। হঠাৎ করে রিদের এতটা পাগলামো চোখে পড়ার ন্যায়। বিশ্বাসই যেন হচ্ছে না উনার। রিদ কোনো মেয়ে মানুষের জন্য এতটা পাগলামি করবে বলে? প্রচন্ড অবিশ্বাস্য কথা শুনালো আরাফ খানের কাছে। রিদের সেই অবিশ্বাস্য কথা গুলো হেনা খান শুনলো না। কারণ গাড়ির দরজা ও কাঁচ দুটোই লাগালো ছিল। তাই তিনি দ্রুত হাতে গাড়ি কাঁচ নামিয়ে সেখানটায় মাথা গলিয়ে বের করে উত্তেজিত কন্ঠে বলে উঠে রিদকে…
—” রিদ তুমি এখানে কেন? আর আমার সোনামাকে টানছিস কেন? ওহ কি কিছু করেছে তোর সাথে? বেয়াদবি করেছে? দেখ! ওহ ছোট মানুষ? গায়ে হাত তুলবি না বলে দিচ্ছি। দে ওকে আমার কাছে দে বলছি।
—” পারবো না।
হেনা খানের কথায় বিরক্তি প্রকাশ করলো রিদ। তবে মায়াকে ছাড়লো না বরং আরও শক্ত করে ধরে রাখলো হাতটা। মায়া রিদের ভয়ে জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে থাকলো। তার মাথায় ঢুকছে না রিদ হঠাৎ করে কেন এতটা রেগে গেল? মায়া তো আজ কিছুই করেনি তাহলে? তবে হেনা খানের মুখে রিদকে বলা, মায়ার গায়ে হাত তুলার বিষয়টি মস্তিষ্কে টনক নড়লো মায়ার। মায়া ভাবলো, সত্যিই বুঝি রিদ মায়াকে মারতে নিজের সাথে নিয়ে যেতে চাইছে। ভয়ার্ত মায়া এবার ঠোঁট উল্টিয়ে কাঁদে বসলো। এবং রিদের হাত ছুটাতে চেষ্টা করলো। কিন্তু সফল হতে না পেরে ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদে বলে উঠে হেনা খানের উদ্দেশ্য….
—” দাদী আমি উনার সাথে যাব না! তোমার সাথে যাব। আমাকে নিয়ে যাও তোমার কাছে।
মায়া কথায় রাগে রি রি করে উঠে রিদের শরীর। এই মূহুর্তে মায়ার কথাটা মোটেও পছন্দ হয়নি তার। তাই প্রচন্ড রাগে দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে রিদ…
—” শাটআপ ইডিয়ট। আর একটা কথা বললে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে যাব এখন।
রিদের কথায় আরও ভয় পেল মায়া। কান্না বেগটাও বাড়লো রিদের উঠতি রাগ দেখে। মায়া খানিকটা অধৈর্য হলো রিদের কথায়, তাই হেনা খানের উদ্দেশ্য কেঁদে বলে তৎক্ষনাৎ…
—” ওহ দাদী আমাকে বাঁচাও! আমাকে নিয়ে যাও তোমার কাছে। নয়তো তোমার নাতি আমাকে মেরে ডাস্টবিনে ফেলে দিবে বলেছে।
মায়া কান্নায় অধৈর্য ভঙ্গিতে আবারও গাড়ির দরজা খুলে বের হতে চাইলো হেনা খান। কিন্তু আবারও পারলো না রিদের জন্য। কারণ তিনি দরজা একটু ফাক করতেই পুনরায় ঠাস করে লাগিয়ে দেয় রিদ। হেনা খান গাড়ির জালানা দিয়ে মাথা বের করে উত্তেজিত কন্ঠে বলে…
—” রিদ এবার বেশি বাড়াবাড়ি করছিস কিন্তু তুই। মেয়েটা ভয় পাচ্ছে তোকে? ছাড় ওকে! দে আমার কাছে দে ওকে। তোর কি কাজ এখানে? আমার সোনামাকে দিয়ে কি করবি শুনি?
দাঁতে দাঁত চেপে বলে…
—” তোমার সোনামারকে কাঁচা খেয়ে ফেলতে নিয়ে যাচ্ছে দাদী। আমার খাওয়া শেষ হলেই দিয়ে যাব তোমার সোনামারকে। এবার যাও নিজের বাপের বাড়ির।
রিদের কথায় তৎক্ষনাৎ কান্না জড়িত গলায় বলে উঠে মায়া…
—” আমি যাব না আপনার সাথে। আমি দাদী সাথে যাব। ছাড়ুন আমাকে!
মায়ার কথায় দাঁতে দাঁত পিষে দাঁড়িয়ে রইলো রিদ। কিছু বললো না। বরং প্রচন্ড রাগে মায়াকে কোলের তুলে নিল তৎক্ষনাৎ। মায়া ছুটাছুটি করতেই রিদ হাতে বাঁধন আরও শক্ত করে চেপে ধরলো মায়াকে নিজের হাতে। মায়ার কান্না, ছটফট, চিৎকার সবকিছু উপেক্ষা করেই রিদ হনহনিয়ে চলে যায় নিজের গাড়ির কাছে। চাবি চেপে গাড়ির দরজা খুলে একপ্রকার ছুঁড়ে ফেললো মায়াকে গাড়ির ভিতর। মায়া উপুড় হয়ে গাড়ির ভিতর পড়তেই রিদ ঠাস করে দরজা লাগিয়ে গাড়ি লক করে দেয়। মায়াকে ভিতরে আটকে রেখে। রাগে তিরতির করে রিদ ড্রাইবিন সিটে এসে বসলো। সময় না নিয়ে দক্ষ গাড়ি টান দিল নিজের গন্তব্যে। মায়া সোজা হয়ে বসতে নিবে তার আগেই রিদ গাড়ি স্টাট টান দেয় যার ফলে মায়া উঠে বসার আগে আবারও ঝুঁকে পড়লো জায়গায়। রিদের ভয়ে ডুকরে কেঁদে উঠলো মূহুর্তেই। হঠাৎ করে রিদের কিহলো? কেন মায়ার সাথে এতোটা রাগ দেখাচ্ছে কিছুই বুঝতে পারলো না মায়া? অজ্ঞাত মায়া ফুপিয়ে কাঁদলো রিদের পাশের পড়ে।

আরাফ খান বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো রিদের যাওয়ার দিকে। তিনি আর কিছুই বললো না রিদকে। এমনিতেই তিনি হতবাক রিদের কাজে। নতুন করে আর কি বলবে। কিন্তু হেনা খান বড্ড অধৈর্য হলো মায়াকে নিয়ে। রিদ রেগে আছে। আর কোনো কারণে যদি রিদ মায়াকে আঘাত করে তাহলে সমস্যা হতে পারে। কারণ মায়ার পরিবার এখনো ঢাকায় আছে। শফিকুল ইসলামের কানে কথাটা গেল সমস্যা হবে প্রচুর। মায়াকেও সাথে করে নিয়ে যাবে সারাজীবনের জন্য। খান বাড়িতে আর রাখতে চাইবে না। হেনা খান সবটা ভেবেই অস্থির হয়ে রিদের পিছন পিছন ছুটতে চাইলো রিদকে থামানোর জন্য। কিন্তু পারলো না। কারণ রিদ ততক্ষণে মায়াকে নিজের সাথে করে নিয়ে চলে গেছে।
~~
রিদের গাড়ি থামলো খান বাড়ির পাকিং এরিয়াতে। খান বাড়িতে আপাতত কেউ নেই ভেবেই রিদ মায়াকে এখানে নিয়ে আসা। রিদ গাড়ি থেকে নামলো। মায়াকেও দক্ষ হাতে গাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে শব্দ বিহীন কোলে তুলে নিল ধুপ করে। মায়া কান্না জড়িত ভঙ্গিতে হকচকিয়ে গিয়ে তাল সামলাতে না পেরে তৎক্ষনাৎ গলা জড়িয়ে ধরে রিদের। বিন্দুমাত্রও ছুটাছুটি করছে না রিদের ভয়ে। তবে কান্না করতে করতে আশেপাশে তাকিয়ে পরিচিত কাউকে খুঁজছে নিজেকে বাঁচানোর জন্য রিদ থেকে। কিন্তু আপাতত মায়ার চোখে কাউকেই পড়লো না। কারণ যারা মায়াকে রিদের হাত থেকে বাঁচাবে তাঁদের কাছ থেকেই তো মায়াকে উঠিয়ে আনলো রিদ। মায়া ভিষণ দুঃখ কষ্টে জর্জরিত হয়ে রিদের গলায় নিজের মুখ গজালো কান্না করতে করতে। মায়া নিজের দুঃখ কষ্টে এতটা ভুলে গেল, আসলে সে রিদের সাথে করছেটা কি? মায়া দিব্যি রিদের গলায় মুখ গজিয়ে ফুপিয়ে কেঁদে কেঁদে উঠছে। রিদ থামে। থামে নয় থামতে হয় তাকে এক প্রকার বাঁধ্য হয়েই। তীব্র বুকের ধড়ফড়ে নড়ে উঠলো রিদের শরীর। হাত দুটো কেঁপে উঠলো আংশিক। মায়ার ভারি নিশ্বাসের সাথে সাথে নরম ঠোঁটের স্পর্শ পাচ্ছে রিদের গলাতে। একটু নয় অনেকটায় পাচ্ছে। রিদ নড়ে উঠে স্থির থাকলো আরও কয়েক সেকেন্ড। মায়া ফুপিয়ে কেঁদে উঠছে আর ক্রমাগত রিদের গলায় নিজের ঠোঁট আর নাক ছুঁয়ে দিচ্ছে। মায়ার ছুঁয়া গুলো যখন তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে, তখনই আপেক্ষিক কন্ঠে মুখ খুললো রিদ…

—” ম্যাডাম আস্তে! আমি কিন্তু মুডেই আছি। বেশি ক্ষেপাবেন না আমাকে। তাহলে ছাড়টা কিন্তু আপনিও পাবেন না। আমার সর্বনাশ হয়েছে। এবার সর্বনাশ আমি আপনারও করবো। প্রস্তুতি নিয়েন কিন্তু সর্বনাশী হওয়ার। রোজ আপনাকে কিছু কিছু ফিল করাবো। যেটা আমি ফিল করছি সেটা।

রিদের হাড় কাঁপানো কথায় মায়া কেঁপে উঠলো তৎক্ষনাৎ। তারপরও না রিদের গলা ছাড়লো আর না ঠোঁট ছুঁয়ানো বন্ধ করলো। কারণ মায়া তখনো বুঝলো না আসলে রিদ তাকে এই ঠোঁট ছুঁয়ানো নিয়ে কথা গুলো বলেছে। রিদ মায়াকে স্পষ্ট করে বলেনি মায়ার ঠোঁট ছুঁয়ানোতে রিদ অস্থির হচ্ছে সেটা। তাই মায়া একিই ভঙ্গিতে পড়ে রইলো রিদের কোলে। রিদ কিছু সময় চুপ থেকে পুনরায় ধুপধাপ পায়ে হাটলো সামনে। মায়াকে কোলে করে ড্রয়িংরুমে প্রবেশ করতেই মুখোমুখি হয় রেহেনা বেগমের। সবেমাত্রই হসপিটাল থেকে ফিরে সোফায় গা এলিয়ে বসেছিল তিনি। হঠাৎ করে রিদের কোলে মায়াকে এই ভাবে পড়ে থাকতে দেখে খানিকটা লজ্জিত হন রেহেনা বেগম। কিন্তু পর মূহুর্তে মায়ার ফুঁপানো কান্না কানে আসতে সচেতন ভঙ্গিতে উঠে দাঁড়ান তিনি। খানিকটা ইতস্ততায় জড়িয়ে চিন্তিত মুখে প্রশ্ন করলো রিদকে…
—” কি হয়েছে ওর কান্না করছে কেন? আর ওহ এইভাবে তোমার কোলে উঠেছে কেন?

রেহেনা বেগমের কথায় মূহুর্তে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় মায়ের দিকে মায়া। খুশিতে চোখ মুখ চকচক করে উঠলো রেহেনা বেগমকে নিজের সামনে দেখায়। এই বুঝি মায়ের হাত ধরে রিদের কাছ থেকে বেঁচে যাবে মায়া। মায়া তৎক্ষনাৎ রিদের গলা ছেড়ে নিজের মায়ের দিকে তাকিয়ে হাত বাড়াতে চাইলে রিদ আরও জোরে চেপে ধরে মায়াকে নিজের সাথে। আতংকিত মায়া রিদের হাতের চাপ পেতেই ভয়ার্ত দৃষ্টি বিলাই রিদের চোখের দিকে। রিদ দাঁতে দাঁত পিষে রক্তচুক্ষে তাকায় মায়ার দিকে। এতেও মায়া থামলো না। বরং চেষ্টা চালিয়ে গেল। নিজের মায়ের দিকে তাকিয়ে মায়া কিছু বলবে তার আগেই রেহেনা বেগম মায়াকে শাসিয়ে বলে উঠে…
—” এখনো কোলে উঠে বসে আছিস কেন? নাম! কথা আছে আমার তোর সাথে।
রেহেনা বেগমের কথায় মায়ার চোখে মুখে আশার আলো ফুটলেও রিদের জন্য মায়ার সেই খুশিটা বেশিক্ষণ ঠিকলো না। রিদ গম্ভীর মুখে দায়সারা জবাব দিল…
—” আপনি পরে কথা বলবেন আপনার মেয়ের সাথে। আপনার মেয়েকে এখন আমার প্রয়োজন।
রিদের কথায় ইতস্তত বোধ করলো রেহেনা বেগম…
—” রিক্তা কাঁদছে। হয়তো ওহ তোমাকে কোনো বিষয় নিয়ে ভয় পাচ্ছে। ওকে নামাও। আমার সাথে কিছুক্ষণ থাকুক। কান্না বন্ধ হয়ে স্বাভাবিক হলে, তোমার সাথে না-হয় দেখা করবে।
রিদ নিষেধ করতে গিয়েও না করলো না। বরং কপাল কুঁচকে কিছু একটা ভেবে মায়াকে নামিয়ে দিল। রিদ থেকে ছাড়া পেতেই মায়া দৌড়ে গিয়ে রেহেনা বেগমের পিছনে লুকালো। কান্না থেমে গেছে ততক্ষণে মায়ার। রিদ নিজের রাগে দু-হাত মুষ্টি বদ্ধ করে মায়ার দিকে কটকট করে তাকালো। কিছু না বলে হনহন করে সামনের দিকে যেতে গিয়েও দুই কদম পিছিয়ে রেহেনা বেগমের পিছনে দাড়ালো রিদ। মায়ার দিকে হালকা ঝুঁকে মৃদু স্বরে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে উঠে…
—” একবার শুধু হাতে পেয়ে নেয়। মেরে সত্যি সত্যি ডাস্টবিনে ফেলে দিব এমন বেয়াদব বউকে।

রিদ আর দাঁড়ালো না। সোজা নিজের রুমে গেল। যে রাগে বের হয়েছিল রিদ তার থেকে দ্বিগুণ ছটফট করতে করতে রুমে আসতে হলো তার। বেয়াদব বউ! স্বামী বুঝে না! স্বামী মন বুঝে না! তার সুন্দর মূহুর্তেটাকে ভয় পেয়ে নষ্ট করে দিল। সে ভয় দেখালেই ভয় পেতে হবে তার বেয়াদব বউকে? সে কি বুঝে না? তার স্বামীর কি চাই তার থেকে? এই জন্যই হাঁটু বয়সী বউয়ের প্রেমে পড়লে এমনটাই হওয়া উচিত তার সাথে। তখন রিদ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে আবারও পিছনে ফিরে মায়ার দিকে তাকিয়ে ছিল। মায়া তখনো রেহেনা বেগমের শাড়ির আঁচল ধরে দাঁড়িয়ে ছিল তবে আড়চোখে রিদকে দেখছিল। বউয়ের চুরা চোখের দেখাটা নিয়েও রিদের বেহায়া মনটা বউ, বউ তখন।
ছটফট করছিল বউকে টেনে নিজের কাছে নিয়ে আসা। আর করবেই বা না কেন? রিদের বেয়াদব বউ আজ শাড়ি পড়েছে না? বউ শাড়ি পড়লে কি স্বামী ছুঁয়াটা জরুরি না। রিদের জন্য তো জরুরি ছিল। কিন্তু ছলনাময়ী বউটার জন্য তো কিছুই হলো না রিদের। বলতে পারলো না তার দীর্ঘ আটাশ বছরের ধৈর্য্য দেয়াল ভেঙ্গেছে। অধৈর্য হয়েছে। মনে তৃষ্ণা জেগে বউ নিয়ে। কিন্তু রিদের কিছুই আর বলা হলো না বউকে। এতে সব দোষ তার ছলনাময়ী বউয়ের। তাকে অস্থিরতার সাগরে ভাসিয়ে দিব্যি মায়ের আঁচলে লুকালো। ছেহ! ইচ্ছা তো করছে এমন ছলনাময়ী বউকে তার সাথে পিষে ফেলতে। কেন বুঝতে পারছে না সেটাই বুঝাতে চাই? রিদ আর থাকলো না বাসায়। বরং রিদ বুক ভারির দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে পুনরায় রেডি হয়ে চলে যায় অফিসে। যার জন্য বাসায় থাকতে চাইলো সে দিব্যি মায়ের আচল ধরে বসে আছে এখন। তাছাড়া এখন যদি রিদ জোর করে মায়াকে নিজের কাছে আটকে রাখে তাহলে সবাই অন্য কিছু ভাববে। রিদ মায়ার সাথে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে এমনটা ধারণা করবে। দ্বিতীয়ত্ব মায়ার মা রেহেনা বেগম ধারণা করতে পারে যে রিদ জোরপূর্বক মায়ার সাথে শারিরিক সম্পর্কে জড়িত হচ্ছে। মায়ার সম্মতি নেই বলেই রিদের কোলে তখন কান্না করছিল। রিদ সবটা ভেবে সাময়িক সময়ে জন্য চুপ করে যায়। আপাতত সে ঝামেলা চাচ্ছে না। কারণ মায়ার পরিবার রিদের বেশ একটা সুবাদার মনে হয়না। ভবিষ্যতে রিদের সাথে মায়াকে নিয়ে ঝামেলা হবে এতটা নিশ্চিত রিদ। তবে তারও চিন্তা নেই, আর যায় হোক না কেন? এতো সহজে সে বউকে কোনো কালেই ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়।
~~
রেহেনা বেগমের কোলে মাথা রেখে সোফায় শুইয়ে আছে মায়া। চোখে পাতা পুনরায় টইটম্বুর নোনাজলে। তবে এবারের কান্নাটা নিজের জন্য নয়। বরং রেহেনা বেগমের করা প্রশ্নে জন্য এই কান্নাটার মূল কারণ। রেহেনা বেগমের মায়াকে কথা বলতে না দেখে পুনরায় অধৈর্য মুখ খুললো তিনি। মায়াকে জোড়ালো প্রশ্ন করে বলে…
—” রিক্তা তুই কি আমাকে কিছু বলবি নাকি? দেখ! মিথ্যা বলার চেষ্টা করবি না কিন্তু? এমনিতেই আমি টেনশনে আছি প্রচুর তোর বাবাকে নিয়ে। জুই আমাকে সবটা বলেছে বিকালে। তবে অল্প! সবটা জানে না জুই। তুই সবটা জানিস এটাও বলেছে। তুই নাকি আগের থেকেই সবটা জানিস আরিফ আর ফিহার সম্পর্কের কথা। এখন তুই আমাকে সোজা সোজা খুলে বল সবটা। নয়তো তোর বাবার কানে গেলে বিষয়টি কি হবে বুঝতে পারছিস তুই?

রেহেনা বেগমের অস্থিরতায় উঠে বসলো মায়া। চোখ ভরতি জল নিয়ে রয়েসয়ে বলে আরিফ ও ফিহার সম্পর্কের কথা গুলো সবটা। রেহেনা বেগম মায়ার কথায় মূহুর্তেই দু’হাতে মাথা চেপে ধরে সোফায় বসে রইলো কিছুক্ষণ। হঠাৎ যান্ত্রিক কন্ঠে বলে…

—” তুই আমাকে আরও আগে কেন বললি না এসব বিষয়ে?
—” আগে জানতাম না আম্মু। আব্বুকে যেদিন হসপিটালের ভর্তি করানো হয় তার পরদিনই জানতে পারি।
—” তাহলে সেদিনই কেন জানালি না আমাকে এই বিষয়টা?
মায়া কাচুমাচু করে বলে…
—” তুমি আব্বুকে নিয়ে টেনশনে ছিলে তাই বলতে পারিনি তো?? এখন কি ভাইয়া সাথে ফিহার আপু বিয়েটা হবে না আম্মু??
রেহেনা বেগমের কাটকাট উত্তর…
—” না!
চমকে উঠে মায়া বলে…
—” কেন আম্মু?
দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে তিনি পুনরায় বলে রেহেনা বেগম…
—” কারণ তোর আব্বুর খান বাড়ির সাথে সম্পর্কটা পছন্দ না। তাছাড়া তিনি এমনিতেই তোর প্রাপ্ত বয়স্কর হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তোর আঠারো বছর হলেও এখান থেকে নিয়ে যাবেন। হয়তো শুধু তুই একবার মুখ ফুটে বললেই তোর আব্বু খান বাড়ির সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে এখনই নিয়ে যাবেন। এই স্বামী! এই সংসার তোর না। খান বাড়ির সাথে সম্পর্ক গুলোও তোর রিক্তা। তুই সাময়িক সময়ে জন্য আছিস এখানে। সেখানে পুরাতন সম্পর্কের মূল্য নেই সেখানে নতুন কোনো সম্পর্কে তোর আব্বু জড়াবেন না কখনোই।

মায়া চমকে উঠে নিজের মায়ের কথায়। তাঁকে খান বাড়ির থেকে নিয়ে যেতে চাই তার বাবা। তার মিস্টার ভিলেন থেকে মায়াকে আলাদা করতে চাই? কিন্তু কেন? যখন মায়া খান বাড়িতে আসতে চাইনি নিজের পরিবার ছেড়ে! তখন তো তার বাবাই জোর করে পাঠিয়ে ছিল এই খান বাড়িতে। মায়ার আত্মসম্মানে লাগার মতো কিছু শক্ত কথাও শুনিয়ে ছিল তার বাবা। যার জন্য মায়া দাদা-দাদির হাত ধরে এক প্রকার বাধ্য হয়েই তার মিস্টার ভিলেনের বউ হয়ে আসে খান বাড়িতে। সেদিন অনিচ্ছুক ভাবে খান বাড়িতে আসলেও আজ তো মায়া সেচ্ছায় থাকতে চাই তার মিস্টার ভিলেনের সাথে। তাহলে কেন তার বাবা তাকে নিয়ে যেতে চাচ্ছে? সেতো থাকতে পারবে না তার মিস্টার ভিলেনকে ছাড়া। আবার সে তার বাবার আদেশও অমান্য করতে পারবে না কখনো। তাহলে কি করবে মায়া? কি করা উচিত! মায়া কি পারবে সারাজীবন তার মিস্টার ভিলেনকে ছাড়া একা থাকতে? মায়ার নিজের ভাবনার মাঝেই চোখের জল গড়িয়ে পড়লো গাল বেয়ে কোলের উপর। কষ্ট গুলো দলা পাকিয়ে আসলো গলায়। তাই ঠোঁট কামড়িয়ে কোনো রকম কান্না গুলো আটকানোর চেষ্টা করলো মায়া। আপাতত সে নিজের মায়ের সামনে কান্না করতে চাই না। নিজের কষ্টটা নিজের মধ্যেই চেপে রাখতে চাই।

মাথা নিচু করে স্থির বসে রইলো রেহেনা বেগম। টেনশনে মাথা ফেটে পড়ছে উনার। একদিকে হ্যার্ট দূর্বল স্বামী অন্য দিকে উনার শান্ত শিষ্ট ভালো ছেলেটা। কার পক্ষ নিবেন তিনি। স্বামীর মন তিনি বুঝেন। কখনোই খান বাড়ির সাথে নতুন সম্পর্কে জড়াবে না। অন্য দিকে উনার হীরার টুকরো শান্ত ছেলে আরিফ। শত কষ্ট পেলেও জীবনেও মুখ ফুটে কাউক কিছু বলবে না। নিরবে সয্য করবে সবটা। তাছাড়া মেহেরবানও এই সম্পর্কটা নিয়ে অসম্মতি জানিয়েছেন ইতিমধ্যে। সেই জায়গায় তিনি স্বামীকেই বা কিভাবে বুঝাবেন ছেলের হয়ে। কেউ তো মানবে না। বিষয়টি সম্পূর্ণ জটিলতা ধারণ করেছে। সামলানো দায়। একা কাকে বুঝাবেন তিনি। উনার ছেলে ভালোবাসতে জানে, আঁকড়ে রাখতে জানে সবাইকে। সেখানে উনার ছেলের ভালোবাসাটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে শুধু অর্থ- সম্পদের জন্য। উনার ছেলে আরিফ কি টাকা কামাই করে না? খান বাড়ির মেয়েকে কি সুখে রাখতে পারবে না উনার ছেলে? এতটা অপদার্থ মনে করেন মেহেরবান উনার এতো ভালো ছেলেটাকে। রেহেনা বেগম আজ জীবনের প্রথম বড্ড অসহায় মনে করলো নিজের। কেন উনাদেরও খান বাড়ির মতো অর্থ সম্পদ থাকলো না। এই অসীম টাকা পয়সা থাকলে হয়তো উনার ছেলেটা এতো কষ্ট পেতেন না। ভালোবাসার মানুষ নিয়ে হয়তো সুখী হতো। কেউ বাঁধা দিতো না আর। আর না উনার ছেলেকে ভালোবাসা বিহীন ধুঁকে ধুঁকে কাটাতে হতো সারাটা জীবন। আচ্ছা ভালোবাসা ছাড়া কি তিনি আরিফকে সংসারী করাতে পারবে তো? নাকি বিয়ে করবে না বলে জেদ করবে সারাজীবন। রেহেনার বেগমের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠলো হঠাৎ করে। তিনি মেহেরবানের কথা মাথায় রেখে ভাবেন কাল ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে গিয়েই স্বামী সাথে কথা বলবে আরিফের অন্য কোথাও বিয়ে নিয়ে। নতুন বউ পেলে হয়তো সবকিছু ভুলতে সহজ হবে আরিফের জন্য। তিনি মোটেও কষ্ট পেতে দিবেন না নিজের ছেলেকে খান বাড়ির মেয়ের জন্য। এমনিতেই মায়াকে খান বাড়িতে পাঠিয়ে গত আড়াই বছর ধরে উনার সংসারে সুখটা থেকেও নেই যেন। উনার স্বামী টেনশন করতে করতে শেষ পযন্ত হ্যার্ট অ্যাটাক করলো। ছেলেটাও চট্টগ্রাম থেকে বাসায় আসতে চাই না বাবার সাথে রাগ করে। শুধু ছোট দুটো বোনের জন্য আসে মাঝেমধ্যে। রেহেনা বেগমের বড় মেয়েটাও তো নারাজ। সবাই নারাজ। সেখানে রেহেনা বেগম নতুন করে কোনো ঝামেলায় আর জড়াবেন না। যাহ করার খুব দ্রুতই সবকিছু করবেন তিনি।
~~
রাত এগারো ছুঁই ছুঁই। মায়া ড্রয়িংরুমে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ালো বিষন্ন ভগ্নহৃদয় নিয়ে। গায়ে এখনো সন্ধ্যার শাড়িটি জড়ানো। রেহেনা বেগম আরও এক ঘন্টা আগেই বিদায় নিয়ে হসপিটালের চলে গেছে। কিন্তু মায়া তখনো ড্রয়িংরুমে থেকে উঠেনি নিজের বিষন্নতায়। রিদকে ছেড়ে যাওয়ার কল্পনায় বিগত একঘন্টা জায়গায় বসে ছিল মন্ত হয়ে। রেহেনা বেগম চলে গেল হসপিটালের। আজ রাতটা তিনি স্বামী ও ছেলের পাশে থেকে হসপিটালের কাটাবেন বলে স্থির করেন। এবং সেই চিন্তা অনুযায়ী চলে গিয়েছিল তখন। মায়ার সাথে দীর্ঘ সময় আলোচনা করে আরিফ ও ফিহার সম্পর্কে জেনে নিল। এবং রেহেনা বেগমকে হসপিটালের আরাফ খানই নিয়ে গেলো তখন। তবে আসার সময় হসপিটাল থেকে জুইকে সাথে করে নিয়ে আসবেন এমনটাও বলে গেল। রিদ মায়াকে নিয়ে চলে আসার পর উনারাও আর যায়নি হেনা খানের বাপের বাড়িতে। টেনশনে ছিল রিদ মায়াকে না আবার আঘাত করে বসে সেই ব্যাপারে। তবে বাসায় এসে মায়াকে সুস্থ অবস্থায় রেহেনা বেগমের পাশে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল হেনা খান। আপাতত এই মূহুর্তে বাসায় আর কেন নেই মায়া আর হেনা খান ছাড়া। হেনা খান কিচেনে আছে সার্ভেন্টদের নিয়ে রান্নার কাজে। তবে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক ডেকে মায়াকে বলে গেল শাড়ি খুলে নরমাল কাপড় পড়তে। কিন্তু বরাবরই মায়া বিষন্ন মনে বসে ছিল এতক্ষণ যাবত ড্রয়িংরুমে। তাই আবারও হেনা খানের ডাক পড়তেই বিষন্ন ভগ্নহৃদয়ে উঠে দাঁড়ালো মায়া। মনে সাথে সাথে শরীর ও পা দুটো কাঁপছে অনবরত দূর্বলতায়। রিদকে ছেড়ে যাওয়া দূর্বলতায়। মায়া দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে কোনো রকম দূর্বল শরীরটা টেনে উঠতে লাগলো সিঁড়ি বেয়ে। শাড়িতে বারবার পা ভেজে যাচ্ছে তারপরও সামনে দিকে হেঁটে যাচ্ছে মায়া উদাস মনে। চোখে জল নেই। কান্নাও নেই। শুধু গুমোট দহনের উত্তাপে পুড়ছে মায়া। মায়ার কিশোরী বয়সের প্রথম ভালো লাগা তার স্বামী। এই বাড়িতে আসার পর থেকেই স্বামী নামক মানুষটিকে প্রচন্ড ভালো লাগে তার। কারণ মায়া তো জানতো সে সারাজীবনের জন্য এই বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই জানতে পারলো মায়া সারাজীবনের জন্য নয় বরং সাময়িক সময়ের সম্পর্কে আছে সে। মায়াকে কেন কেউ এতোদিন বলেনি, সে সাময়িক সময়ের জন্য এই খান বাড়িতে এসেছিল। তাহলে তো আর মায়া ভুলেও স্বামীর দিকে তাকাতো না। স্বামীকে নিজের পছন্দ বানাতো না। বরং সবসময়ই দূরে দূরে থাকতো স্বামী নামক মানুষটি থেকে। আপসোস! কেউ মায়াকে বলেনি। বলেনি যে এই স্বামী, স্বামী ঘর, স্বামীর সংসার কিছুই মায়ার না। সবকিছুই পর। শুধু দুইদিনের সাময়িক সময়ের জন্য সম্পর্ক গুলো ছিল। স্বামী নামক মানুষটিকে ভুলে থাকতে পারবে কিনা জানে না মায়া। তবে আজ থেকে চেষ্টা করবে মায়া! মন প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করবে রিদ থেকে দূরে থাকতে। তার মিস্টার ভিলেনের প্রতি সব ভালো লাগা গুলোকে মন থেকে মুছে ফেলতে। মায়া নিজের চিন্তা ভাবনায় হুঁচট খেল। পরে যেতে নিলেই দূর্বল শরীর সিঁড়ির পাশ চেপে ধরে নিজের ব্যালেন্স ঠিক করলো। এবং দম নিয়ে পুনরায় দূর্বল শরীরে এলোমেলো পায়ে সিড়ি উপরে উঠে কয়েক কদম হেটে নিজের রুমের দরজা টেনে ভিতরে প্রবেশ করতেই, তখনই ঝড়ের বেগে আরও একজন মায়ার পিছন পিছন মায়া রুমে প্রবেশ করে দরজাটা ভিতর থেকে লক করে দেয়। আকস্মিক ঘটনায় বিষন্ন উদাসীন মায়া চমকে উঠে পিছন ফিরে তাকাতেই চোখে পড়লো রিদকে। রিদ দরজা লাগিয়ে পিছন ফিরে মায়ার দিকে তাকিয়ে মাতাল করা বাঁকা হাসিতে হেসে সুর টেনে বলে উঠে…
—” হ্যালো ম্যাডাম! ভালো আছেন।
হৃদয়ভাঙ্গুর মায়া হঠাৎ করে রিদকে নিজের সামনে দেখে চমকালেও ভয় পেল না বিন্দুমাত্র। বরং ব্যথিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো বুক ফাটা কষ্টে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মায়া এই মূহুর্তে রিদকে দেখে ভিষণ ভয় পেত। হয়তো পালাতেও চাইতো। কিন্তু এই মূহুর্তে সেসব মায়ার মাথায় কাজই করছে না। যেটা মায়ার মাথায় কাজ করছে সেটা হলো তার স্বামী, তার না। মায়ার না। রিদের সাথে সংসারটাও মায়ার না। মায়ার এই সুন্দর স্বামীটা অন্য কোনো নারীর। কোন নারীর? নিশ্চয়ই সেই নারী মায়ার চেয়ে ভাগ্যবান। যার ভাগ্যে মায়ার মিস্টার ভিলেন থাকবে। মায়ার দৃষ্টি বেপরোয়ানা হয়ে স্থির থাকলো রিদের উপর। রিদ মায়ার দৃষ্টিতে নিজের দৃষ্টি স্থির করে এগিয়ে আসলো মায়ার দিকে। হাতে কোটটা ঢিল মেরে মায়ার রুমের সোফায় ফেলে তৎক্ষনাৎ দু’হাতে মায়ার কমড় টেনে নিজের কাছে টানতে টানতে বাঁকা হাসিতে বলে…
—” কি ম্যাডাম ভয় পাচ্ছেন যে? আমার আপনাকে খেয়ে ফেলতে আপত্তি নেই নাকি আপনার হুমম কোনটা? কি খেয়ে ফেলি আপনাকে?
মায়া উত্তর করতে পারলো না দলা পাকিয়ে আসা কষ্টের কারণে। অন্য সময় হলে মায়া ভয়ে সিঁটিয়ে যেত রিদের এমন কথায়। কিন্তু এখন রিদের কথা গুলো মায়ার কান অবধি পৌছালেও মস্তিষ্ক অবধি পৌছাতে পারছে না। বরং শক্ত হয়ে দাড়িয়ে আছে টইটম্বুর চোখে। মায়া ব্যথিত শান্ত দৃষ্টিতে অশান্ত ন্যায় তাকিয়ে থাকলো রিদের মনোমুগ্ধকর মুখশ্রীতে। রিদ এবার মায়ার চোখে মুখে উপচে পড়া উদাসীনতা দেখলো। তাই রিদ দুষ্টুমী রেখে কপাল কুঁচকে তাকায় মায়ার ব্যথিত দৃষ্টিতে। আপাতত বুঝতে পারছে না, তার বউ কি কোনো কারণে এখন কষ্টে আছে নাকি? রিদ বুঝার চেষ্টা করলো মায়াকে! একহাতে মায়ার কমড় জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে অন্য হাতটা রাখলো মায়ার গালে। রিদ খানিকটা ঝুঁকে মায়ার নাকের সাথে নিজের নাকটা হালকা ঘষা দিতেই মায়া কেঁপে উঠে তৎক্ষনাৎ নিজের দু’হাতে রিদের কমড়ের দুপাশের শার্টের ভাজ শক্ত করে আঁকড়ে ধরে চোখ বন্ধ করে নিয়ে। রিদ থামলো না মায়াকে স্পর্শ করা থেকে। বরং জারি রাখলো। রিদ মায়ার নরম তুলতুলে সফট গালে নিজের নাক চেপে ধরে নেশাক্ত ঠান্ডা ভিজা কন্ঠে ডেকে উঠলো মায়াকে…
—” বউ!
মায়া এবার তুমুল কষ্টে কান্না গুলো দলা পাকিয়ে আসে গলায়। রিদের মুখে বউ ডাকটা শুনে। মায়া তো এই মানুষটারই বউ হয়ে থাকতে চাই সারাজীবন । কিন্তু ভাগ্য আদৌ সহায় হবে কখনো মায়ার? মায়া তো তার বাবার আদেশ কখনোই ফেলতে পারবে না। বাবা একবার আদেশ করলেই তো ছেড়ে চলে যেতে হবে তার এই মিস্টার ভিলেনকে রেখে। মায়া চলে গেলে নিশ্চয়ই তার মিস্টার ভিলেনও তাঁকে আর খোঁজার চেষ্টা করবে না? এমনি এমনি ভুলে যাবে মায়াকে। যেমনটা মায়া বিগত দু’মাস ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে থাকার পরও রিদ খোঁজ নেই নি তার। ঠিক সেই ভাবেই মায়ার মিস্টার ভিলেন মায়াকে ভুলে যাবে হয়তো। মায়ার চিন্তা ভাবনার মাঝেই রিদ পুনরায় ডাকলো মায়াকে। মায়ার গালে নিজের নাক দিয়ে স্লাইড করতে করতে সেই আগের নেয় মাতাল কন্ঠে ডাকলো…
—” অ বউ!
মায়া এবারও উত্তর করলো না। বরং দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট গুলো চেপে রাখতে চাইলো রিদের সামনে তাই। রিদও থেমে থাকলো না। মায়াকে আরও শক্ত করে চেপে ধরে আগের ন্যায় আদুরে কন্ঠে বলে উঠে…
—” বউ স্বামী তোমার ডাকছে কিন্তু! আমার বউয়ের কি মন খারাপ হুমম?

রিদের মুখে বারবার বউ শব্দটাতে ধৈর্য্য ভাঙ্গে মায়ার। চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় রিদের বক্ষতলে হু হু শব্দ করে কেঁদে উঠে চাপা কষ্টে। রিদ মাথা তুলে তাকাই মায়ার দিকে। মায়ার হঠাৎ এতটা কান্নার মানেটা বোধ গম্য হলো না রিদের কিছুতেই। বরং রিদের এক মূহুর্তে জন্য মনে হলো রিদের ছুঁয়াই হয়তো মায়া এমন ভাবে কেঁদে উঠলো। তাহলে রিদের ছুঁয়া কি তার বউয়ের পছন্দ না? ভাবনার মাঝেই রিদের চোয়াল শক্ত হয় মূহুর্তেই। তার বউ তার ছুঁয়াই সয্য করতে পারছে না? অসয্য লাগছে এখনই? এতটা অপছন্দের পাত্র রিদ তার বউয়ের? মাত্র কয়েক দিনেই রিদের জন্য সব ভালো লাগার মোহটা তার বউয়ের চোখ থেকে সরে গেলো? এতটা টুটকো ছিল সবকিছু? রিদের বদলিত চেহারায় হিংস্রতা ফুটলো যেন তৎক্ষনাৎ। চোখের কার্নিশ লাল হতে শুরু করলো। ধীরেই নিজের হাতে বাঁধন শক্ত থেকে শক্ত করে মায়াকে নিজের বুকের সাথে পিষ্ট করলো। দমবন্ধকর পরিস্থিতিতে মায়ার হাড় যেন ভেঙ্গে রিদের বুকের সাথে মিশে যাওয়ার উপক্রম হলো। দাঁতে দাঁত চেপে লেগে যাচ্ছে মায়ার রিদের শক্ত করে চেপে ধরায়। ছটফট করাটাও অসাধ্য সম্ভব হলো মায়া জন্য। তবে মুখে গোঙ্গানি করতে লাগলো। রিদের কাছ থেকে ছুটতে ছটফট করলো প্রাণপূণ্য। এতে করে রিদ আরও ক্ষেপ্ত হলো যেন। তাই তৎক্ষনাৎ রিদের চিবিয়ে চিবিয়ে গলার স্বরটা কানে আসলো মায়ার ..

—” কাঁদছিস কেন তুই? এখনই আমার ছুঁয়া তোর অসয্য লাগছে? মাত্র দুই দিনেই আমার প্রতি সব ভালো লাগা কেটে গেছে তোর চোখ থেকে? আমাকে পাগল বানিয়ে তুই নাটক করিস এখন?

রিদের রেগে যাওয়াটা বুঝলো মায়া। তারপরও দু’হাত ছুটিয়ে ছটফট করলো রিদকে নিজের থেকে সরানোর জন্য। কিন্তু রিদের শক্তির সাথে পারলো না বিন্দুমাত্রও। মায়া কিভাবে বুঝাবে রিদকে যে রিদ তার নয়। অন্য কারোর। মায়ার বাবা মায়াকে রিদের হতে দিবে না কখনোই। নিয়ে যাবেন এখানে থেকে। তাহলে অথযা আগবাড়িয়ে মায়া বাড়ানোর লাভ কি একে অপরের প্রতি? কষ্ট বাড়া ছাড়া কি কমবে মায়ার? বরং এখন থেকে মায়াকে রিদ কাছ থেকে দূরে থাকতে সাবধান করে গেছে মায়ার মা রেহেনা বেগম। মায়াতো সেটাই করতে চাইছে। তাহলে কেন বুঝতে পারছে না তার মিস্টার ভিলেন সেটা? তবে মায়া দূরে থাকবে। ভিষণ দূরে দূরে থাকবে রিদ থেকে। মায়ের কথাও রাখবে সে। মায়া রেহেনা বেগমের বলা কথার রেশ টেনে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে রিদের উঠতি রাগটা আরও বাড়িয়ে দেয়, বেশ কিছু উগ্র কথা বলে রিদকে। মায়া কেঁদে উঠে বলে…

—” হ্যাঁ! আমার আপনাকে আর ভালো লাগে না। ভিষণ অসয্য লাগছে। এবার ছাড়ুন আমাকে। দূরে যান আমার থেকে। আমি থাকতে চাই না আর আপনার সাথে। আমি মুক্তি চা….
বাকি কথা গুলো বলার সুযোগ পেল না মায়া। তার আগেই রিদ শক্ত হাতে মায়ার গলা চেপে ধরে মূহুর্তেই দেয়ার সাথে মিশায়। রিদের চোখে মুখে উপচে পড়া হিংস্রতায় রাগে রি রি করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠে…

—” তোকে তোর চৌদ্দ গোষ্ঠী সহকারে লাইনে দাঁড় করিয়ে এসিড ছিটিয়ে আগুনের পুড়িয়ে মারবো। চিনিস আমাকে? নাটক করিস? আমাকে ভালো মানুষ মনে করেছিস তুই হ্যাঁ? ওয়ার্নিং করেছিলাম না? জীবনের কখনো কোনো পরিস্থিতিতে ছেড়ে যাব এই কথাটি না বলা জন্য। দেমাগ দেখাস আমাকে? তোর দেমাগের দার দারি আমি? তোর কি মনে হয়? আমাকে বাধ্য করে এখন তুই পালিয়ে বাঁচবি আমার হাত থেকে। তোর কলিজাটা ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবো না আমি। বউ বলে ছাড় পাবি আমার কাছে থেকে। এতো সহজ রিদ খানকে দেওয়ানা বানিয়ে চলে যাওয়াটা। আমি হতে দিব? তার আগেই ধ্বংস করে দিব না আমি সবকিছু! তোকে বাঁচিয়ে রাখব? মেরে ফেলবো না আমি।

রিদ শক্ত হাতে গলা চেপে ধরাতে মায়ার চোখ উল্টে আসার উপক্রম। অনবরত কাশতে কাশতে রিদের হাত থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফট করতে লাগলো মায়া। গলা চেপে ধরায় মায়ার চোখ মুখ টকটকে লাল হয়ে উঠলো তৎক্ষনাৎ। নিশ্বাসটা বন্ধ হয়ে আসলো ক্রমাগতই। মায়ার গাল গড়িয়ে অঝোর ধারায় পানি পড়তে পড়তে ছটফট করতে থাকলো রিদের বক্ষতলে। রিদও থামলো না। রিদের রাগে পিষ্ট হওয়া মায়াকে রিদ আরও জোড়ালো ভাবে গলা চেপে ধরতেই, মায়া এবার নেতিয়ে পড়তো রিদের হাতের উপর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসায়। মায়ার করুণ অবস্থাতে রিদের হঠাৎ টনক নড়লো। তাই তৎক্ষনাৎ নিজের হাতের বাঁধন ঢিল করতেই মায়া লুটিয়ে পড়লো রিদের বুকে উপর। প্রচন্ড দূর্বলতায় মায়ার শরীরের আর অবশিষ্ট রা না থাকায় ঐ অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে থাকলো রিদের বুকের উপর মায়া। আর থেমে থেমে হা হয়ে বড় বড় নিশ্বাস টানা চেষ্টা করতে লাগলো। তবে রিদ বিন্দুমাত্র ধরার চেষ্টা করলো না মায়াকে আর না জায়গায় থেকে নড়ার চেষ্টা করলো। বরং রাগে দুহাত মুষ্টি বদ্ধ করে রিদ ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকলো। দু’জনই নিরব। তবে মায়ার বড় বড় নিশ্বাসের শব্দ ভারি খাচ্ছে রুম জুড়ে। দুজন স্থির জায়গায় দাঁড়ানো। কেউ বিন্দুমাত্র নড়াচড়া করছে না। এক মিনিট! দুই মিনিট! তিন মিনিট! গোটা দশ মিনিট হলো স্থির হয়ে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে দুজন। রিদের রাগ শান্ত হয়নি তখনো। তবে ততক্ষণে মায়া কিছুটা শান্ত হয়ে এলো। দূর্বল শরীরে কিছু শক্তি আসলো মায়া। তাই রয়েসয়ে ধীরস্থে নিজের কাঁপা কাঁপা হাত দুটো রিদের বুকের উপর রাখল মায়া। এবং রিদের বুকে নিজের মাথা ঠেকানো অবস্থায়ই, মায়া কিছুটা শক্তি খাটিয়ে, রিদের শার্টের কলারের দুপাশ আঁকড়ে ধরে টেনে ছিঁড়ে উম্মুক্ত করলো রিদের প্রশস্ত বুক। রিদের উম্মুক্ত বুকে এবার মায়া নিজের নাক মুখ চেপে ধরে, দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো রিদের কমড়। মায়ার বুক ফাটা কষ্টে নিঃশব্দে কেদে উঠে কাঁপা কাঁপা স্বরে বলতে শুরু করলো মায়া রিদকে…

—” কেন আমাকে আগে বলা হয়নি আপনি আমার না এই কথাটি মিস্টার ভিলেন। কেন বলা হয়নি? আমার আপনাকে ছাড়া সারাজীবন একা থাকতে হবে সেটা? আমার কষ্ট হচ্ছে তো। আমার ভিষণ কষ্ট হচ্ছে! কি করে থাকবো আমি আপনাকে ছাড়া। দেখুন না আমার এখনই দম বন্ধ হয়ে আসছে। নিশ্বাসটাও আটকে আসতে চাইছে গলায় আপনাকে ছাড়া। আপনি আমার না! এই কথাটা বিশ্বাস করতেও আমার মরণ যন্ত্রণা সামিল মনে হচ্ছে। আপনি আমাকে ছেড়ে যাবেন! আমাকে ভুলে যাবে, বা অন্য নারীকে নিয়ে সংসার করবেন কোনো কিছুই কেন আমি মানতে পারছি না মিস্টার ভিলেন। আপনি কেন আমার হলেন না? আমার যে আপনাকেই চাই! আমার আপনাকেই লাগবে মিস্টার ভিলেন! খুব করে লাগবে। প্লিজ আপনি সবাইকে বলুন না আমার আপনাকে দিয়ে দিতে। আমি তো আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। একটু না। আমি মরে যাব আপনি হীনা। আমার আপনাকেই লাগবে। প্লিজ আপনি আমার হয়ে যান না মিস্টার ভিলেন। প্লিজ!

কথা গুলো বলতে বলতেই আবারও ডুকরে কেঁদে উঠে মায়া রিদের বক্ষতলে। মায়া রিদকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে গেলেও পারলো না রিদের হঠাৎ কান্ডে। হৃদয়ভাঙ্গুর মায়া বুঝতে সময় লাগলো আসলে তার সাথে কি হচ্ছে। কিন্তু বুঝতে বুঝতে ততক্ষণে মায়া ঠোঁট চলে গেলো রিদের ঠোঁটের ভাঁজে। রিদ মায়াকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে খানিকটা ঝুঁকে পড়লো মায়ার ঠোঁটের উপর। মন্ত হলো মায়ার ঠোঁটে ভাঁজে ভাঁজে। দীর্ঘ দিনের তৃষ্ণার্ত হঠাৎ করে খাবারের সন্ধান পেলে যেমন বড্ড উম্মাদ আচরণ করে নিজের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য! রিদের অবস্থা অনেকটা তাই-ই হলো মায়ার ঠোঁটের উপর। বড্ড উম্মদ দেখালো রিদকে। গভীর থেকে গভীর হলো রিদের ছুঁয়া মায়ার শরীরে। রিদ হুশে আছে নাকি বেহুশের আচরণ কি জানি? তবে স্তব্ধ মায়া তখনো কান্না ভুলে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো শূন্যে। মায়ার শকট হওয়াটা এতটাই, তাঁকে যে আসলে রিদ চুমু খাচ্ছে এই বিষয়টিই তখনোও বুঝে আসলো না মায়ার। শকটের মধ্যেই শুধু একবার চোখে আওড়িয়ে নিজের অবস্থান বুঝার চেষ্টা করলো মায়া। আপাতত মায়া দেয়ালের সাথে মিশে আছে মনে হলো। আচ্ছা! রিদ কি তাহলে মায়াকে আবারও দেয়ালে সাথে চেপে ধরেছে নাকি? স্তব্ধ মায়া সজাগ হলো যখন রিদ কিস করতে করতে হাত বাড়িয়ে মায়ার হাত খোপা করা চুল গুলো খুলে দিল। এবং মূহুর্তেই কাঁধ ছড়িয়ে মায়ার হাঁটু অবধি চুল গুলো ঝরঝর করে যখন পড়লো তখন। এবার যেন হতবাক বিস্ফোরণে মায়ার মাথায় বোম ফুটলো। আকাশ ফেটে বজ্রপাত হলো যেন মায়ার মাথায়। নিশ্বাসটা যেন আটকে আসলো তখনই। মরার উপক্রম মনে হলো মায়ার মূহুর্তেই। হতভম্ব মায়া তৎক্ষনাৎ খানিকটা নড়েচড়ে উঠলো রিদের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্যে। একবার! দু-বার! তিনবার! বেশ কয়েকবার ছটফট করে উঠে মায়ার রিদের বক্ষতলে। এতে কটে বেশ অসুবিধা হলো রিদের। তাই রিদ আরও শক্ত হাতে মায়াকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিয়ে এক সেকেন্ড থেমে আদুরে গলায় বলে..
—” উহুম!কলিজা নড়ে না।
কথাটা বলতে বলতে পুনরায় মন্ত হলো রিদ মায়ার ঠোঁটের ভাঁজে। বিস্ফোরণে মায়া এবার নড়াচড়া করতেও ভুলে গেল। রিদের হাতের ছুঁয়া যখন মায়ার শাড়ির বেধ করে তার উম্মুক্ত পেটে, কমড়ে পড়লো তখনই সমস্ত সত্তা নাড়িয়ে তরতর করে কেঁপে উঠে মায়া। চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে শক্ত করে চেপে ধরে রিদের ছেঁড়া শার্টের পাশ। গুটি কয়েক মিনিট পার হতেই রিদ থামে। মায়ার ঠোঁট ছেড়ে দেওয়ার পূবে শব্দ করে চুমু খেলো রিদ। একবার! দুইবার! মায়া তখনো রিদের মধ্যে আটকে আছে। রিদ চোখ তুলে তাকায় মায়ার বন্ধ চোখের পাতার দিকে তার প্রায় সাথে সাথেই মায়াও পিটপিট করে তাকায় রিদের থেকে ঠোঁট ছাড়া পেয়ে। মায়া চোখ খুলে তাকাতেই রিদের শান্ত দৃষ্টির সাথে চোখ মিলল মায়ার। এবং তার প্রায় সাথে সাথে মায়ার চোখে পড়লো রিদের ঠোঁটে কোণে লেগে থাকা মায়ার লাল লিপস্টিক দাগটা। মায়া চমকে উঠে লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে মূহুর্তেই সিঁটিয়ে গেল। শরমে মরণ হয়ে মায়া নিজের নাক মুখ খিঁচে তৎক্ষনাৎ দু’হাতে মুখ ঢেকে ফেললো গভীর লজ্জায়। মায়াকে লজ্জা পেতে ঠোঁট প্রসারিত করে হাসে উঠে রিদ। চোখে মুখে প্রকাশ পেল দুষ্টমীর আভাস। অনেকটা জোরপূর্বক রিদ মায়া হাত টেনে মুখ থেকে সরাতে সরাতে বলে উঠে…

—” হ্যালো ম্যাডাম!
তীব্র লজ্জায় মায়া নাক মুখ খিঁচে চোখ বন্ধ করে আবারও দু’হাতে নিজের মুখে ঢেকে বলে…
—” উফফ! লজ্জা লাগছে আমার!
রিদ শব্দ করে হেঁসে আবারও একিই কাজ করলো মায়ার সাথে। জোরপূর্বক মায়ার হাত টেনে দেয়ালের সাথে চেপে ধরতে ধরতে বলে…
—” আহ! কেন লজ্জা পাচ্ছেন আপনি?
মায়া আর রিদের দিকে তাকানোর সাহস করতে পারলো না তীব্র লজ্জায়। তাই চোখ বন্ধ করে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে মুখ ফিরে নিয়ে বলে..
—” উফফ! আমি কি প্রেম করছি?
রিদের হেঁসে ঝুকে পড়ে মায়ার মুখ বরাবর। মায়ার গালে নিজের নাক আলতো ছুয়ে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলে…
—” হ্যাঁ আপনি প্রেম করছেন।
—” ইশশ!

চলিত…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply