Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৪১


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

৪১
দিনটা শুক্রবারই। তবে সময়টা সন্ধ্যার ৭ঃ১০। কোলাহলময় উত্তেজনা পরিবেশ। নিস্তব্ধতা নেই। বরং চারপাশে তীক্ষ্ণ প্রহরের দৃষ্টি। এলোমেলো চিন্তা ভরপিন্ড উপস্থিত সদস্যের সবার মাঝে। কৌতুহল, বিভীষিকা, উত্তেজনা যেন উপস্থিত সদস্যের মধ্যে কেউ কারও থেকে কোনো অংশে কম নয়। বরংচ ক্রমাগত বেরেই চলেছে সেই টানটান উত্তেজনাময় পরিবেশটা। খান বাড়ির বিশাল ড্রয়িংরুমে জুড়ে শুধু অস্থিরতা তোলপাড় বিরাজ করছে চারপাশে এমনটা নয়। তীব্র চাপা আর্তনাদের কান্নাও ভেসে আসছে সবার কানে দুই কিশোরীর। সকলের ভুল বোঝাবুঝি কমে নয় বরং বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। পরিস্থিতি সামলে উঠে সবাইকে বুঝাতে পারছে না বলেই কান্নার বেগ তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে জুঁই ও মায়ার। তাদের দু’জনকে ঘিরেই দাঁড়িয়ে বসে আছে উপস্থিত খান বাড়ির প্রতিটা সদস্য। বিস্ফরণের স্তব্ধ নিবাক হয়ে আছে প্রতিটা সদস্য। কিছুক্ষণ আগে প্রকাশ পাওয়া আয়ন ও জুঁইয়ের বিয়ের বিষয়টি যেন সবার মস্তিষ্কের জুড়ে বিস্ফরণের তব্দা মেরে গেল। গোলমাল লেগে গেল পরিস্থিতি সাথে সাথে মস্তিষ্কেও সবার। আয়নের ভাষ্যমতে মায়ার আয়নের বউ। মায়া আর জুঁইয়ের ভাষ্যমতে মায়া নয় বরং জুই আয়নের বউ। আর এই বিষয়টিই ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব খেলল সবার মাঝে। দিক বিবেচনা ভুলে গিয়ে উত্তেজনায় একেক পর এক চাপ সৃষ্টি করলো মায়া ও জুঁইয়ের উপর। কিন্তু বিপত্তি ঘটলো মায়া ও জুঁই দুজনেরই অল্প বয়সী কিশোরী। কিভাবে পরিস্থিতি সামলে সবার প্রশ্নের মোকাবেলা করতে হয় জানা নেই। রিদও নেই মায়ার পাশে। তাই ভয়ে আষ্টশ হয়ে কান্না বিসর্জন করছে ড্রয়িংরুমে একপাশে পাশাপাশি বসে দু’জনই। আয়ন উত্তেজনায় নিজের মাথার চুল টেনে ধরে মাথা নিচু করে বসে আছে। হেনা খান, মেহেরবান, ফিহা, নাহিদ চৌধুরী আয়নের বাবা তব্দা খেয়ে বসে আছে অনুকূল পরিস্থিতিতে পড়ে। আরাফ খান ও কম চমকায়নি যখন মায়া মুখে শুনেছিল সেদিন রাতে কথা। যে আয়নের সাথে জুইয়ের বিয়েটা হয়েছিল মায়ার নয়। থমথমে পরিবেশে নীরবে সর্তকতা সহিত অবলম্বন করলো আরাফ খান উপস্থিত সবাইকে। সবার ভীমড়ি খেয়ে যাওয়া বিষয়টি বুঝতে পারছেন তিনি। তাই তিনি নিরবতা কাটিয়ে মায়াকে নিজের কাছে ডাকলেন। মায়া উঠতে নিলেই পাশ থেকে ভয়ার্ত হাত চেপে ধরলো জুই। মায়া অসহায় দৃষ্টি জুইয়ের দিকে স্থির করতেই আরাফ বুঝতে পারলো জুইয়ের পরিস্থিতিকে ভয় পাওয়ার বিষয়টি। তিনি কথা না বাড়িয়ে নিঃশব্দে উঠে এসে বসলো মায়া জুইয়ের পাশে। জুইয়ের মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে শান্ত করে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি স্থির করলো মায়ার উপর। তিনি পুনরায় থমথমে পরিবেশের নিরবতা ভেঙ্গে বলতে শুরু করেন…

—” সেদিন রাতে ঘটে যাওয়ার সম্পূর্ণ বিষয়টি খোলে বল সোনামা। কারণ আমাদের জানতে হবে সম্পূর্ণ বিষয়টি। আসলে সেদিন রাতে তোমাদের সাথে ঠিক কি কি হয়েছিল। আয়নের ভাষ্যমতে তোমার সাথে ওর বিয়েটা হয়েছে কিন্তু তোমরা বলছো সেদিন রাতে তোমার সাথে নয় বরং জুইয়ের সাথে আয়নের বিয়েটা হয়েছিল। তাই আমাদের শুরু থেকে সবটা বলো কারণ আমাদের সত্যায়িত করতে হবে তোমাদের কথার গুলো। আয়ন ছোট নয় বুঝদার ছেলে। সে অবশ্যই আমাদের সাথে মিথ্যা বলবে না তাই না? তাই আমরা তোমাদের কথা গুলো শুনেই সত্যায়িত যাচাই করতে চাই। এখন তুমি বলো আমাদের সবটা সোনামা।

মায়া ভয়ার্ত দৃষ্টি মেলে কাচুমাচু করলো। এতক্ষণ ভয়ে কান্না করলে এখন থেমে গেছে। পাশাপাশি বসা জুইয়ের হাতটা শক্ত করে নিজের হাতের ভাঁজে নেওয়া। কারণ জুই অসম্ভব রকম ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। থেমে থেমে কান্না করছে নিঃশব্দে। মায়া শশুর বাড়ি হলেও জুইয়ের জন্য পরিবেশটা মানানসই নয়। জুই নিজের পাশে একমাত্র পরিবার হিসাবে মায়াকে ছাড়া অন্য কাউকে পাচ্ছে না বলেই। জুঁই মায়ার হাত দুটো আঁকড়ে ধরেছে স্বস্তির আশ্রয়স্থল ভেবে। মায়া ঘাড় ঘুরিয়ে জুঁইকে এক পলক দেখে তাকায় আরাফ খানের দিকে অসহায় দৃষ্টিতে। আরাফ খান চোখে ইশারায় মায়াকে আশ্বস্ত করতে মায়া ইতস্ততা সহিত বলে…

—” কি বলবো দাদাভাই? বলার মতো তো কিছু নেই। সেদিন রাতে জুই আর আমাকে একটা ছোট ঘরে বন্দী করে রাখে। জুই প্রচন্ড পায়ের ব্যথায় আমার কোলে ঢলে ছিল। পা থেকে রক্ত ঝরছিল অনেক। ব্যথায় ছটফট ও করছিল। কিন্তু তারপরও আমাদেরকে কেউ বাহিরের যেতে দিচ্ছেল না। আবার আয়ন ভাইকেও আমাদের কাছে পাচ্ছিলাম না। আমরা প্রচন্ড ভয় পাচ্ছিলাম সেই পরিস্থিতিতে। গ্রামের অনেক জোয়ান বুড়ো মহিলারা আমাদের পাহারা দিচ্ছেল। ঘন্টা পর ঘন্টা বসেছিলাম সেদিন। কিন্তু আয়ন ভাইয়ার দেখা পাচ্ছিলাম না। জুইয়ের অবস্থাও খারাপ ছিল। প্রায় তিন থেকে চার ঘন্টা পর আমাদেরকে পাহারা দেওয়ারত মহিলারা জানায় আজ জুইকে নাকি বিয়ে করতে হবে তাও আয়ন ভাইকে। যদি জুই বিয়ে না করে তাহলে নাকি গ্রামবাসি আয়ন ভাইয়াকে মেরে ফেলবে। সেদিন আমাদের জন্য বিষয়টি এতটাই ভয়ার্ত। খারাপ পরিস্থিতি ছিল যে বুঝাবার মতোন না। গ্রামের মহিলারা আমাদের আরও অনেক কিছু বলেছিল। যেমন আয়ন ভাইয়াকে নাকি মেরে রক্তাক্ত অবস্থায় গাছের সাথে বেঁধে রেখেছিল। তাই তখন সেই মূহুর্তে যদি জুই আয়ন ভাইকে না বিয়ে করে তাহলে গ্রামবাসি সবাই মিলে নাকি ভাইয়াকে মেরে ফেলতে পারে। পরিস্থিতিটা এমন ছিল যে আয়ন ভাইয়া ও নিজেদের প্রাণ বাঁচানোর জন্য সেদিন রাজি হয়েছিল বিয়ে করতে জুইয়ের মতোন। এবং তার কিছুক্ষণ পরই গ্রামের কিছু মরুবি এসে জুইয়ের সাথে আয়ন ভাইয়ার বিয়েটা পড়ানো হয়। আম…

মায়া কথা শেষ করার আগেই সামনে থেকে উত্তেজনার মুখ খুললো আয়ন। চমকানো ভঙ্গিতে বলে উঠলো মায়াকে….

—” মানে? কি বলছো তুমি এসব মায়া? আমার স্পষ্ট মনে আছে সেদিন রাতে গ্রামবাসী তোমার নাম আমাকে বলেছি বিয়ের জন্য। এবং বিয়ে পড়ানোর সময় তোমার বাবার নামও বলেছিল আমাকে তাহলে তোমার জায়গায় জুই আসলো কোথায় থেকে? তাছাড়া সেদিন রাতে আমাকে গ্রামবাসি বলেছিল তুমি নাকি নিজের নাম ঠিকানা দিয়েছিলে বিয়ে জন্য।

—” বিয়ের জন্য আমি কোনো নাম ঠিকানা দেয়নি ভাইয়া। আর না জুই দিয়েছে।

মায়া কথায় তেতে উঠে আয়ন। দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বলে…

—” মজা করছো আমার সাথে? ফাজলামো পাইছো সবকিছু। তোমরা নাম ঠিকানা না দিলে সেদিন রাতে গ্রামবাসি সঠিক তথ্য গুলো কোথায় পেয়েছিল আমাদের হ্যাঁ? এখন পরিস্থিতির চাপে পড়ে মিথ্যা বলছো আমাকে?? বিয়েটাকেও অস্বীকার করছো স্বাথপরের মতো??

আয়নের পরিবর্তীত রাগের আভাসে ভয়ার্ত হয় মায়া। খানিকটা হাসফাস করতেই প্রতিবাদীর মুখ খুললো জুই মায়াকে মিথ্যাবাদী বলায়…

—” মায়া মিথ্যা বলছে না ডাক্তার সাহেব। আর না কোনো কিছু অস্বীকার করছে। যাহ হয়েছিল সেটাই বর্ণনা করা হয়েছে এখানে না একটু কম। না একটু বেশি। আমরা কেউ কোনো রুপ তথ্য দেয়নি। কারণ কেউ আমাদের কাছে নাম ঠিকানা জন্য প্রশ্নই করেনি। কারণ তারা নাকি পূবে থেকে আমাদের সম্পর্কে অবগত ছিল।

নিজের অস্থিরতায় জোকে আয়নের জুইয়ের প্রতিবাদী স্বরটাও পছন্দ হলো না। তাই রাগে দাঁতে দাঁত চেপে ধরে বলে….

—” স্টেআপ। আমি আপনাকে প্রশ্ন করিনি। তাহলে আমাদের মাঝে তৃতীয় পার্সন হয়ে কেন কথা বলছেন? নূন্যতম ম্যানার্স শেখন নি আপনি?

আয়নের অপমান জনক কথায় গা ঝাঁকিয়ে একরাশ রাগ ফেটে পড়লো জুঁইয়ের শরীরে। কিন্তু তারপরও বড়দের সামনে বাজে ব্যবহার করলো না আয়নের সাথে বরং শান্ত থাকলো। তবে চাপা স্বরে বলে উঠলো…

—” যথেষ্ট পরিমাণ ম্যানার্স শিক্ষাটা আমার আছে ডাক্তার সাহেব। তাছাড়া এখানে আপনার ব্যক্তিগত কোনো কিছু একা আলোচনা হচ্ছে না, আমিও জড়িত আছি সম্পূর্ণ ভাবে এই বিষয়টিতে। পরিস্থিতি স্বীকার একা আপনি বা মায়া নন! আমি হয়েছিলাম সেদিন আপনাদের সাথে। তাই আপনার বিষয়টাতে কাঙ্ক্ষিত ভাবেই আমাকে আসতে হচ্ছে। তার থেকে সবচেয়ে বড় ভুলটা হয়েছে, আমি আপনার আর মায়ার কথায় কেন আমার পরিবার, আমার বাবা থেকে এতোদিন ধরে এই বিষয়টি লুকিয়ে রাখলাম। আমার উচিত ছিল আরও আগেই এই বিয়ের বিষয়টি আমার পরিবার, আমার বাবাকে জানানোর। তাহলে আজকে এই দিনটায় অন্তত আমাদের দুই বোনের পাশে আমাদের পরিবার আমাদের বাবা পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আমাদের মিথ্যা বলে সত্যায়িত যাচাই করতে না। দ্বিতীয়ত্ব ভুল হয়েছে৷ আমার মায়ার কথায় নিজের বোনের শশুর বাড়িতে চলে আসাটা। আপনি…

বিকট শব্দে থেমে গেলো জুঁই। থমথমে পরিবেশটা পুনরায় আতংকিত হয়ে উঠলো। কালক্ষণে কি হলো বুঝতেই চোখে পড়লো ফ্লোরে উপর ছড়িয়ে থাকা পড়া অসংখ্য খণ্ডিত কাঁচে টুকরো। জুইয়ের ধারালো কথার ভাজে নিয়ন্ত্রিত হারা হলো আয়ন। যার রেশ টেনেই নিয়ন্ত্রণ হারা হয়ে সোফা সামনে টি-টেবিলে উপর থাকা ফ্লাওয়ার ভাজটি স্ব-জোরে আচার মারলো ফ্লোরে। এতক্ষণ যাবত গম্ভীর মুখে বসে থাকা প্রতিটি মানুষ আতংকিত চোখে আয়নের দিকে তাকাতেই, পুনরায় আয়ন আকস্মিকভাবে করে বসলো আরও একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। জুইয়ের পাশ থেকে মায়ার বাহু
টেনে দাঁড় করিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠে আয়ন….

—” কেন অস্বীকার করছো বিয়েটাকে? কেন আমাকে স্বামী হিসাবে মানতে চাচ্ছো না তুমি? কেন মিথ্যা আশ্রয় নিচ্ছো নিজের বোনের সাথে মিলে আমাকে মিথ্যা বানিয়ে? সবকিছু ছেলেখেলা মনে হয় তোমার।

আয়নের হঠাৎ অযাচিত আচারণে মূহুর্তেই চমকে উঠে উপস্থিত সদস্যরা। আরাফ খান চমকে উঠে আয়নকে বাঁধা দিতে চাইলে অনাগ্রহ করে সে। মায়ার প্রতি জমানো দীর্ঘ দুই বছরের ভালোবাসাটা আয়নের হুট করেই মায়া মিথ্যা বানিয়ে ফেলাতে সয্য করতে পারছে না সে। মাত্রাতিক অসয্য অধৈর্যের বাহিরে চলে যায়। যার রেশ টেনেই শান্তশিষ্ট যুবকটি অশান্ত ন্যায় হয়ে উঠে। রাগে ক্রোধে গর্জে উঠে মস্তিষ্ক তাঁর। হিংস্রতা প্রকাশ পেল দু-চোখে। নিজের ক্যারেক্টারের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও তার মায়াকে চাই মানে চাই। রিদ নেই মায়াকে বাঁচানোর জন্য। এতে যেন মায়া আরও দূর্বল হলো। মায়া নিশ্চল ভঙ্গিতে ডুকরে কেঁদে উঠলো তৎক্ষনাৎ আয়নের ভয়ে। আয়নের শক্ত দু-হাতের দাবাতে নিজের নরম দু-বাহু আটকা পড়ে। তাতে প্রচন্ড রকমের ব্যথা অনুভব করে মায়া। ব্যথায় আষ্টশ হয়ে ডুকরে কেঁদে বলে উঠলো মায়া…

—” আমি ব্যথা পাচ্ছি ভাইয়া। আমাকে ছাড়ুন।

মায়া কান্নায় উত্তেজিত হলো জুঁই। তৎক্ষনাৎ পাশ থেকে উঠে বাঁধা দিতে চাইলো আয়নকে। উত্তেজনায় জুই আয়নের হাত মায়ার বাহু থেকে ছাড়াতে নিলেই আয়নের ভয়ংকর রাগের স্বীকার হতে হয় জুঁইকেও। জুইয়ের সামান্য ছুঁয়াও এই মূহুর্তে আয়নের পছন্দ হলো না। জুইয়ের আয়নকে ছুয়ার সাথে সাথে আয়ন উল্টো হাতে ঘুরে থাপ্পড় মারে জুইয়ের গালে। আয়নের শক্তপোক্ত হাতের থাপ্পড়ে ডাল সামলাতে না পেরে উল্টো ঘুরে সোফার পড়লো জুঁই। উত্তেজনায় পরিবেশ আয়নকে সামলাতে টেনে ধরলো আরাফ খান। হেনা খান, মেহেরবান, ফিহা চিৎকার করে জুইয়ের কাছে আসার আগেই মায়া দ্রুততার সঙ্গে জুইয়ের আঁকড়ে ধরে নিজের বুকের। হেনা খান জুইয়ের পাশে বসে তৎক্ষনাৎ মায়া ও জুঁই দুজনকেই একত্রে নিজের বুকে চেপে ধরতে ধরতে রাগি চোখে তাকায় আয়নের দিকে। ক্ষেপ্ত ভঙ্গিতে বলে উঠে…

—” তুই কি মানুষ আয়ন? মেয়েটার গায়ের হাত তুললি কেন? তুই এতটা অসভ্য হলি কিভাবে?

রাগে রি রি করে উঠলো আয়নের শরীরময়। জুইকে আঘাত করেছে তাতে নূন্যতম অপরাধ বোধ নেই আয়নের মাঝে। বরং মায়া তার বিয়েটা অস্বীকার করছে এতে যেন মস্তিষ্ক অচল হয়ে পড়ছে আয়নের। মেহেরবান হেনা খানের কথার পিষ্টেই সাথে সাথে থাপ্পড় বসায় আয়নের গায়ে। আকস্মিক ঘটনায় আবারও নিস্তব্ধতা চেয়ে গেলো চারপাশে। জীবনে প্রথম তিনি সন্তানের গায়ে হাত তুলেছেন। তাও উনার আদর্শ সন্তানের গায়ে। আজ পযন্ত তিনি আয়নের জন্য নূন্যতম বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি বা সমালোচনা স্বীকার হয়নি সমাজ, পরিবারের কাছে। সবসময় গর্বিত করেছেন আয়ন উনাকে। পড়াশোনা, আচার-আচরণ কাজ-কর্মে ছিল শ্রেষ্ঠত পুরুষ। কিন্তু আজ জীবনের প্রথম যেন উনাকে অসম্মান করলো নারীর গায়ে হাত তুলে। জুইকে সবার সামনে থাপ্পড় মেরে।

—” মেয়েদের গায়ে হাত তুলিস। এই শিক্ষা দিয়েছিলাম তোকে? এতটা রাগ কিসের তোর হ্যা? যে নারী জাতিকে অসম্মান করলি তুই? আমরা কি তোর কথা শুনছিলাম না? সত্যি মিথ্যা যাচাই করতাম না? তাহলে অধৈর্য হচ্ছিস কেন? কিসের এতো উত্তেজনা তোর হ্যাঁ? মেয়ে দুটো ছোট হয়তো ভয়ে বিয়েটাকে অস্বীকার করছিল। কিন্তু তুই? তুইও কি মেয়ে দুটো মতো অবুঝ ছোট ছিলিস? পরিস্থিতি বা বুঝে না শুনে কেন হাইপার হচ্ছিস?

পাশ থেকে এগিয়ে এসেন আয়নের বাবা নাহিদ চৌধুরী। আয়নের উদ্দেশ্য অন্তত গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠেন…

—” তোমার মা ঠিক বলছে আয়ন। আগে পরিস্থিতি বুঝ। কারণ তোমাদের কথা-বার্তা সবকিছুই আমাদের কাছে এলোমেলো লাগছে। তুমি বলছো গ্রামবাসী তোমাকে মায়ার নাম বলে বিয়ে পড়িয়েছে। আর মায়া জুঁই বলছে ওদেরকে গ্রামবাসি জুইকে আর তোমার নাম বলে বিয়ে পড়িয়েছে। এমনটাও তো হতে পারে তোমরা দু-পক্ষই সত্য বলছো। তোমাকে কোনো ফাঁদে ফেলা হয়েছিল সেদিন রাতে।

মায়ের থাপ্পড় আর বাবার কথায় শান্ত হলো আয়ন। নাহিদ চৌধুরী কথা গুলো আয়নের মস্তিষ্কের টনক নড়তে চমকিত হলো সে। ধরে আসা গলায় বললো আয়ন…

—” মানে?

আরাফ খান আয়নের বাহু চেয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। উনার মস্তিষ্কের জুড়ে বিচরণ করছে বেশ কিছু চিন্তা ভাবনা। যদি সেই গুলো সত্য হয় তো আয়নকে থামাবার নয়। তিনি মনে মনে বেশ কয়েকবার আল্লাহকে স্বরণ করে নিল। পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য ধৈর্য্য ধারণা ক্ষমতা আয়নকে দেওয়ার জন্য দোয়াও করলো। ততক্ষণে সামনে থেকে কারও গমগম পায়ে শব্দ ভেসে আসলো কানে। উপস্থিত সকলে মনোযোগ নষ্ট হতে চোখ ঘুরিয়ে তাকায় ড্রয়িংরুমের মেইন দরজা দিকে। মূহুর্তেই চোখে পড়লো রিদ অন্তদেশ গম্ভীর মুখখানা। সাথে তীক্ষ্ণ প্রহরে দৃষ্টি। কান থেকে ফোন নামিয়ে রিদ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে উপস্থিত সদস্যদের প্ররখ করে নিল এক পলক। বাম হাতের ঘড়িটি দেখে নিয়ে পুনরায় তাকায় সামনের দিকে। জুই মায়াকে হেনা খানের বুকে আছড়ে পড়ে কাঁদতে দেখে কপাল কুঁচকে আসে রিদের। পরিস্থিতিটা তীক্ষ্ণ প্রখরে রেখে গলা ছেড়ে ডেকে উঠলো রিদ মায়াকে ‘রিত বলে। মায়া রিদের ডাকে চমকে উঠে তৎক্ষনাৎ হেনা খানের বুক থেকে মাথা উঠিয়ে অশ্রু সিক্ত ভেজা চোখে রিদের দিকে তাকাতেই, রিদ পুনরায় বেপরোয়া ভঙ্গিতে আদর্শ স্বরুপ মায়াকে বলে উঠলো…

—” স্বামী বড্ড ক্লান্ত তোমার। অফিস করে এসেছে মাত্র। যাও তো আদর্শ বউয়ের মতো ঝটপট স্বামীর জন্য এক গ্লাস ঠান্ডা পানি নিয়ে আসু।

রিদ বলতে দেরি মায়া উঠতে দেরি ন্যায়। সবার চমকানো, ভড়কানো দৃষ্টি উপেক্ষা করলো শুধু রিদের আদর্শে। রিদের বাঁধ্যগত বউ হয়ে ধীরস্থে চলে গেলো সবার সামনে দিয়ে কিচেন রুমের দিকে। মায়া যেতেই রিদের সবাই দিকে এক পলক তাকায়। প্রত্যেকের হতবাক দৃষ্টি দেখে পুনরায় গলা ছেড়ে ডাকলো আসিফকে। কয়েক সেকেন্ডর ব্যবধানে আসিফ হাজির হলো সেখানয় দুটো ফাইল নিয়ে। রিদ ফাইল গুলো হাতে নিল না। আর না আসিফকে যেতে বললো। আসিফ ঠায় জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলো রিদের পাশে। নিজের গায়ের কালো কোটটি টেনে খোলে হাত বাড়িয়ে আসিফের কাছে দিল। একহাত দিয়ে অন্যহাতের হাতা ফোল্ড করে কুইন অবধি তুলতে তুলতে বলে উঠলো রিদ…

—” তোর বুদ্ধি বিকাশ ঘটাতে হবে আয়ন। তোর থেকে বুঝদার আমার অবুঝ বউ। স্বামী একদম আদর্শ বউ সে। আমার বাধ্যগত বউ। আচ্ছা যায় হোক। এখন কথা হলো তুই আমার বউকে বিভ্রান্ত করছিস। আপত্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলছিস সবার সামনে যেটা স্বামী হিসাবে আমার কাম্য নয়। আমি ভালো না সেটা সবাই জানে। তাই খারাপ হলেও সেটা নতুন দেখাবে না। এখন তুই বল তুই কি চাস? তোর বুদ্ধি বিকাশ কি আমি ঘটাবো নাকি তুই নিজ থেকেই প্রকাশিত হবি বিকট মস্তিষ্ক নিয়ে কোনটা?

মায়ার আচরণ। রিদের মুখে বারবার মায়াকে বউ বলে সম্মোধন করাটা ছিল উত্তেজনা পরিবেশটায় তুমুল বর্জ্যপাতের মতো। প্রত্যেকের মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো রিদ মায়ার আচারণ ও কথায়। অবিশ্বাস্য ন্যায় তব্দা খেয়ে তাকিয়ে রইলো রিদের দিকে। আয়ন দু’হাতে মুষ্টি বদ্ধ করে রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠে…

—” স্টাআপ রিদ। একদম বাজে কথা বলবি না মায়াকে ঘিরে। কিসের বউ তোর মায়া? তোর কি মনে হয় রিদ তোর হেয়ালি ভঙ্গিতে আছি আমি?

আয়নের কথায় বিরক্তি ভাজ পড়লো রিদের কপালে। বিরক্তি জের টেনে বলে উঠলো….

—” মুখস্থ বিদ্যা পড়ে ডাক্তারি পাস করেছিস নাকি বুদ্ধিও খাটিয়ে ছিলি কখনো সেই পড়াশোনায়। ছেহ একটা মাইয়া মানুষের মতো বুঝাতে হবে এখন আমায় তোকে?

টানটান উত্তেজিত পরিস্থিতি রিদের খাপছাড়া কথায় গুলো ছিল গোলকধাঁধা ন্যায় সবার কাছে। আয়ন রাগে কটমট করতেই পাশ থেকে অধৈর্য্য গলায় আওড়ায় হেনা খান জুইকে জড়িয়ে নিয়ে…

—” রিদ হেয়ালি করছিস কেন আমাদের সাথে? তোর কিছু বলার থাকলে দ্রুত বল আমাদের। শুধু শুধু কেন আমাদের এমন গোলকধাঁধায় ফেলছিস। দেখেছিস না সবাই এমনিতেই কতটা টেনশনে পড়ে আছে। নতুন করে কেন টেনশনে বাড়াচ্ছিস সবার তুই?

হেনা খানের কথায় সম্মতি জানায় আরাফ খানও। তিনি রিদকে উদ্দেশ্য করে বললেন…

—” তোর দাদী ঠিক বলছে রিদ। প্লিজ হেয়ালি না করিস না। সবাই এমনিতেই টেনশনে আছে অনেক। তাছাড়া তোর সাথে তো মায়ার বৈবাহিক সম্পর্কটা নেই। তুই নিজেই বিয়েটা বাতিল করেছিস দুই বছর আগে। তাহলে এখন কেন তুুই মায়াকে বউ বলে দ্বাবি করছিস?

রিদের সোজাসাপটা উত্তর…

—” বউকে বউ বললো না তো কি বলবো আয়নের ভাবি? বলতে পারি খারাপ যাবে না বিষয়টি। তাছাড়া যেভাবে বিয়েটা বাতিল করে ছিলাম ঠিক সেই ভাবেই কাগজ গুলো উঠিয়ে নিয়েছিলাম দুই বছর আগেই। আমার জম্ম সূত্রের বউকে কি আমি কাগজ সূত্রে ছেড়ে দিতে পারি। পারি না। তাই আমিও ছাড়িনি বউকে কোনো কালেই। প্রথম থেকে বউ ছিল সে আমার। দ্বিতীয়ত্ব যে প্রশ্ন উত্তর আয়ন আমার বউ থেকে খোঁজ করছিল এতক্ষণ যাবত ধরে। সেই প্রশ্নের উত্তর আয়ন নিজেই পেয়ে যেত শুধু একটু বিচক্ষণতা কাজে লাগালেই। আয়নের বউ কে? সেটা ওর কাবিননামা চোখ বুলালেই পেয়ে যেতো বউয়ের নামটা। পরিস্থিতি এই পযন্ত আসতোই না। সেদিন রাতে আয়নকে কাবিননামার একটা কাগজ দেওয়া হয়েছিল। যেটা এখনো অবধি ওর গাড়ির ড্রয়ারে অযত্নে পড়ে আছে। যায় হোক! তোকে আরও একটু সহজ করে দেয়। তোর বউয়ের নামের জায়গায় জুইয়ের নামটায় আছে। চাইলে কাবিননামা কাগজটা একবার চেক করে নিতে পারিস। আসিফের কাছে তোর কাবিননামা একটা কপি আছে।

রিদ কথা গুলো বলতে বলতে হাত বাড়িয়ে আসিফ থেকে আয়নের কাবিননামা কাগজ পত্র গুলো নেয়। জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে আয়নের দিকে বাড়িয়ে দিতেই, আয়ন দুরদুর বুকে এগিয়ে এসে কাঁপা কাঁপা হাতে রিদ থেকে কাবিননামার কাগজটি নিয়ে পাত্রীর নামের জায়গায় চেক করতেই চোখে পড়লো জুঁইয়ের নামটি। আয়নের গোটা দুনিয়ায় থমকে যায়। স্তব্ধ নিবাক হয়ে দাড়িয়ে পড়তেই আরাফ খান, নাহিদ চৌধুরী, মেহেরবান, ও হেনা খান জুইকে ফিহা কাছে দিয়ে এগিয়ে আসলো আয়নের কাছে কাবিননামা চেক করতে। একে একে সকালে কাবিননামা কাগজটিতে চোখ বুলাতেই স্তব্ধ নিবাক হয়ে যায়। আয়নের এবার সম্পূর্ণ বিষয়টি একে একে পরিষ্কার হতে লাগলো। বুঝতে পারলো সেদিন রাতে যা হয়েছিল সবকিছুই একটা সাজানো গোছানো ষড়যন্ত্র ছিল। আয়ন দু-হাত মুষ্টি বদ্ধ করে নিজের রাগ সংযম করার চেষ্টা করলো। নাক মুখ শক্ত করে রিদকে উদ্দেশ্য করে বললো…

—” সবকিছু তুই করেছিস তাইনা?

আয়নের হঠাৎ কথায় চমকানো ভঙ্গিতে তাকায় সবাই রিদের দিকে। প্রত্যেকের মস্তিষ্কের একটার পর একটা প্রশ্নের ঝট পাকিয়ে যাচ্ছে তীব্র ভাবে। সবাই মাথায় শুধু একটায় প্রশ্ন? রিদ তো সেদিন আয়নদের সাথে গ্রামে ছিল না। তাহলে সে কিভাবে এতো নিখুঁত ভাবে সবকিছুর বর্ণনা করছে দু-পক্ষের দিক গুলো। যেখানে আয়ন নিজেই জানে না কাবিননামা কি আছে? সেখানে রিদের কাছে কিভাবে কাবিননামার আসল কাগজটা গেল? সবচেয়ে বড় কথা হলো, এখনো অবধি তো কেউ রিদকে জানায়নি আসলে এখানে কি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে? বা আয়ন- মায়ার বিয়ের নিয়ে তারা কথা বলছিল এতক্ষণ ধরে। তাহলে রিদ কিভাবে এতটা নিখুঁত ভাবে বিশ্লেষণ করছে সবকিছু? প্রশ্ন তাকলো অনেক সবার মাথায়। রিদ উত্তর করলো না একটাও। বরং বামহাতে নিজের গলায় টাই ডিল করে, পকেট দু’হাত গজিয়ে একটা ভ্রুঁ উচু করে পাল্টা প্রশ্ন করলো আয়নকে রিদ…

—” কোনো সন্দেহ আছে তোর তাতে?

রিদের কথায় যেন বজ্রপাত হলো আয়ন সহ সকলের মাথায়। আয়ন নিজের রাগ নিবারণ করতে না পেরে সঙ্গে সঙ্গে রিদের কর্লার চেপে ধরে শক্ত হাতে। দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠে আয়ন…

—“কেন করলি এমনটা আমার সাথে। সবকিছু ছেলেখেলা মনেহয় তোর। আমার ভালোবাসা নিয়ে তোকে খেলতে দিব ভেবেছিস? এতো সহজে ছেড়ে দিব সবকিছু আমি। শান্ত থাকি। তারমানে এই না যে আমি কিছু করতে জানি না। সবকিছু ধ্বংস করে দিব যদি আমি আমার ভালোবাসা না পাই। তোকে ডিঙিয়ে হলেও নিজের ভালোবাসা আদায় করে নিব আমি। তারপরও এক চুল ছাড় দিব না কোনো কিছুতে রিদ।

আয়নের আচরণ উপস্থিত সকলে আতংকিত হয়ে এগিয়ে আসে আয়নকে রিদ থেকে ছাড়ানোর জন্য। ব্যথা হলো রিদ থেকে আয়নকে ছাড়াতে বরং আয়নের হুংকারের দমে যায় সবাই। বরং দমলো না রিদ। প্রচন্ড বিরক্তিতে তিক্ততা গলা ঝাড়লো আয়নকে…

—“আমার গরম লাগছে দূরে গিয়ে দাঁড়া আয়ন। ঘেঁষাঘেঁষি করছি কেন তুই?

রিদের খাপছাড়া কথায় আরও তেতে উঠলো আয়ন। রিদের শার্টের কর্লার আরও শক্ত করে ‘ ইউ’ বলে আরও কিছু বলতে নিবে তার আগেই থামতে আয়নকে। তার ভালোবাসার মানুষটি রিদকে ঘিরে ব্যাকুলতা, ছটফটতা চোখে বিধলো আয়নের। আয়ন চমকে উঠে রিদের বুকের দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো মায়ার ডুকরে কেঁদে উঠা মুখটা। আয়নের সমস্ত কায়া ঝাকিয়ে কেঁপে উঠলো মায়া তীব্র আতনার্দ ধনি শুনে। মায়া নিজের দু’হাতে রিদের কমড় জড়িয়ে ধরে, রিদের বুকে নিজের মুখ চেপে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠে তীব্র আর্তনাদ করছে আয়নের কাছে রিদকে বাঁচানোর জন্য….

—” ভাইয়া প্লিজ উনাকে মারবেন না। উনি কিছু করেনি। উনি কিছু জানে নাতো। আমি বলিনি কিছু। আর বলবো না সত্যি বলছি। তারপরও আপনি উনাকে মারবেন না। প্লিজ উনাকে ছেড়ে দিননা ভাইয়া। উনার কষ্ট হচ্ছে তো। উনি ব্যথা পাচ্ছেন।

কথা গুলো বলতেই বলতেই আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো মায়া রিদকে। নাক মুখ চেপে গেলো রিদের বুকের ভিতর। রিদের জন্য ঠান্ডা পানি নিয়ে আসতেই চোখে পড়েছিল আয়ন রিদের কর্লার চেপে দাঁড়িয়ে আছে মারার জন্য। আর এতেই যেন সমস্ত দুনিয়ায় থেমে যায় মায়া। রিদের সামান্য আঘাত সহনীয় নয় মায়ার কাছে। তাই রিদকে আয়ন থেকে বাঁচানোর জন্য পানির গ্লাস ফেলে দৌড়ে গিয়ে ঝাপটে ধরে রিদকে। আকস্মিক ঘটনায় কয়েক সেকেন্ড জন্য আয়ন থমকে গেলোও মায়ার পরপর কথা গুলো রিদকে নিয়ে, সেগুলো ছিল আয়নের জন্য স্তব্ধতা। রিদ মায়া ভয়টা বুঝতে পেরে ততটাই শীতল হয় মায়ার প্রতি। যতটা বিরক্ত সে আয়নের প্রতি ছিল। রিদ নিজের আদুরে ডানহাত মায়ার মাথায় বুলিয়ে মায়াকে সান্ত্বনা দিতেই আয়ন পুনরায় রিদের কর্লার টেনে ধরে মায়াকে ছুঁয়া থেকে বিরত রাখতে। আয়নের হঠাৎ টানে রিদ তাল সামলাতে না পেরে মায়া নিয়ে আয়নের দিকে ঝুঁকে যেতেই, রিদ তৎক্ষনাৎ মায়ার পিঠ জড়িয়ে ধরে নিজের দু’হাতে যাতে আয়নের শরীরের সাথে মায়ার পিঠ স্পর্শ না লাগে। হলোও তাই। মায়ার পিঠ নয় বরং রিদের হাত স্পর্শ ভাজলো আয়নের পেটের সাথে। এবার তেতে উঠলো রিদ। এতক্ষণ যাবত নিজের পরিবার বলে সে চুপ ছিল আয়নকে কিছু করার থেকে। নিজের পরিবারের সাথে ঝামেলা করতে চাই না বলে শান্ত মস্তিষ্কের বিষয়টি হ্যান্ডেল করতে চেয়েছিল কিন্তু এখন আয়নের পাগলামোটা বেশি বেশি মনে হচ্ছে তার। ছাড়া তার বউও ভয় পাচ্ছে পরিস্থিতিটাকে নিয়ে। রিদ রাগান্বিত চোখ তুলে তাকায় আয়নের দিকে। একহাতে মায়াকে আঁকড়ে রেখে রিদ অন্যহাতে আয়নের বুক বরাবর ধাক্কা দিতে দিতে রাগী কন্ঠে বলে….

—” মরার পাখ গজায়ছে তোর? দেখছিস না আমার বউ ভয় পাচ্ছে। দূরে যাহ…

.
(ঘুমে চোখ রাখতে পারছি না বলে রি-চেক করিনি। বারবার হাত থেকে ফোন পড়ে যাচ্ছে ঘুমে তাড়নায় আমার। সকালে রি-চেক করে নিব ইনশাআল্লাহ। এখন মানিয়ে পড়ে নিবেন কষ্ট করে। ধন্যবাদ সবাইকে)
.

চলিত…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply