Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৩০


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা) সিজন_২

লিখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

৩০
রিদ দুই কদম এগিয়ে গিয়ে হাতের চকলেট গুলো পুনরায় ঝুড়িতে রেখে লাফিয়ে উঠে বসে টেবিলে উপর। হাতে ইশারায় মায়াকে ডাকে নিজের কাছে…

—” এদিকে আসো।

মায়া ধীর পায়ে এগিয়ে যায় রিদের সামনে। দৃষ্টি নত করে তাকায় খালি ফ্লোরে দিকে। রিদ শীতল গভীর দৃষ্টিতে পরখ করে নিল মায়াকে। তপ্ত রোদের হালকা লাল হয়ে যাওয়া মায়ার চেহারাটায় চোখ বুলালো এক দৃষ্টিতে। ঘোর লাগা কন্ঠে বললো….

—” কার সাথে এসেছো?

দৃষ্টি নত রেখে মিনমিন গলায় বললো…
—” দাদীর সাথে।

রিদ মায়ার নত চোখে পাপড়িতে নিজের চোখ বুলালো। মায়ার চোখের ঘন কালো পাপড়ি গুলো মোহিত করলো রিদকে। রিদ এক দৃষ্টিতে তাকায় মায়ার মৃদু কম্পিত চোখের পাতায়। রিদের বেসামাল দৃষ্টি আওড়ায় মায়ার গোলাপি ওষ্ঠদয়ে। পাষান্ড বুক যেন কেঁপে উঠলো রিদের। মনে জাগ্রত হলো অপ্রত্যাশিত এক ইচ্ছা। দৃষ্টি গভীরতা বাড়লো। হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিতে চাইলো মায়া ওষ্ঠদয়ে লেগে থাকা অবশিষ্ট চকলেটের উপর। কি ভেবে মূহুর্তেই গুটিয়ে নিল নিজের সেই হাতটা। মায়া থেকে নিজের দৃষ্টি সরিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে পাশে তাকায়। অস্থিরতায় চট করে নিজের চোখ বন্ধ করে বুক ফুলিয়ে বার কয়েক নিশ্বাস টানে রিদ। নিজেকে শান্ত করে পুনরায় তাকায় মায়ার দিকে। বক্স থেকে টিস্যু নিয়ে এগিয়ে দেয় মায়ার দিকে শান্ত কন্ঠে বলে….

—” ঠোঁট পরিষ্কার করে নাও। চকলেট লেগে আছে।

মায়া হাত বাড়িয়ে টিস্যু নিল রিদের থেকে। কিন্তু রুমের কোথাও আয়না চোখে না পড়ায় খানিকটা হাসফাস করলো। টিস্যু হাতে এদিক ওদিকে তাকালো। সন্ধানী চোখ দুটোতে আয়নার দেখা না মিলায় আঁড়চোখে তাকালো রিদের দিকে। চোখ মিলল দুজনের। মায়া তাৎক্ষণিক নিজের দৃষ্টি নত করে মিনমিন গলায় বললো রিদকে…

—” আয়না??
—” তোমার পিছনে।

মায়া কথা বাড়ালো না। বাঁধ্য কন্যার ন্যায় রিদের কথা অনুযায়ী ঘুরে নিজের মুখ পরিষ্কার করে নিয়ে সামনে ঘুরে দাঁড়াতেই রিদ স্নিগ্ধ কন্ঠে বললো…

—” চকলেট গুলো খেতে ভালো লেগেছে??
মায়া তাৎক্ষণিক মাথা নাড়িয়ে বললো..
—” হুমম।
রিদের ভালো লাগলো মায়ার উত্তরটা। মোহিত কন্ঠে বললো…
—” তোমার জন্যই ছিল। যাওয়া সময় সাথে করে নিয়ে যাবে কেমন।

‘তোমার জন্য ছিল’ কথাটি মায়ার কর্ণধার হলো। মায়া কি চমকালো রিদের ‘তোমার জন্য ছিল’ কথাটিতে। হ্যাঁ ভিষণ চমকালো। ধাতস্থ হলো মনের সুপ্ত অনুভূতি গুলো। সেই সাথে মাথায় জাগ্রত হলো অবাধ্য চিন্তা গুলো। চকলেট গুলো কি তাহলে তারজন্যই তার রিদ ভাইয়া নিয়ে এসেছিল? তার রিদ ভাইয়া তো নিজের আপনজন ছাড়া অন্য কাউকে কিছু দেয় না। সে তো বিগত দুই বছরের দেখিনি রিদ ভাইয়া কাউকে কিছু দিতে। তবে দাদা বলে রিদ ভাইয়া নাকি দাদা-দাদির সব খরচ বহন করে। গিফটও দেয়। কিন্তু রিদ ভাইয়ার একান্ত ব্যক্তিগত আপনজনদের, যাদের রিদ ভাইয়া নিজের ব্যক্তিগত মানুষ বলে মনে করে, তাদের ছাড়া তিনি কাউকে একটুকরো সুতাও গিফট করেন না সেটাও দাদী বলে। কিন্তু তার বেলা তো তাঁর রিদ ভাইয়া পুরো চকলেটের ঝুড়ি গিফট করে ফেললো। প্রশ্ন জাগলো? তাহলে কি সে রিদ ভাইয়ার একান্ত ব্যক্তিগত মানুষ হয়?? রিদ ভাইয়ার প্রিয় আপনজন???মায়া চমকালো নিজের চিন্তায়। বিস্মিত কন্ঠে পরপর প্রশ্ন করে বললো..

—” আমার জন্য? আপনি এনেছেন? কিন্তু আপনি তো প্রিয় মানুষ ছাড়া কাউকে কিছু দেননা? তাহলে আমি কি আপনার প্রিয় বাতিল বউ স্বামী???

রিদ উত্তর দিল না মায়াকে। আগের ন্যায় শীতল বংগিতে হালকা ঝুঁকে মায়ার মুখে আলতো ফুঁ দিল। মায়া কেঁপে উঠলো যেন। তাৎক্ষণিক দু’হাতে এপ্রোনের দুপাশ আঁকড়ে ধরলো। কম্পিত চোখের পাতা বন্ধ করে নিল হিচকে। রিদ শীতল দৃষ্টিতে দেখলো মায়ার মৃদু ছটফট। প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে নিজের মতো করে প্রশ্ন করলো মায়াকে। ঠান্ডা সতেজ নির্মল গলায় বললো রিদ…

—” কলেজ থেকে এখানে এসেছো??

রিদকে প্রসঙ্গ পাল্টাতে দেখে চোখ পিটপিট করে তাকায় মায়া। মায়ার অশান্ত চোখ মিলল রিদের শীতল দৃষ্টিতে। রিদের দৃষ্টির গভীরতার সাথে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে সক্ষম হলো না মায়া। অস্থির বংগিতে পুনরায় নিজের দৃষ্টি নত করে। মিনমিন গলায় উত্তরে বলে…
—” হুমমম। দাদী নিয়ে এসেছে কলেজ থেকে। বললো মার্কেটে যাবেন তিনি আমাকে নিয়ে।
রিদ খানিকটা কপাল কুঁচকালো। তীক্ষ্ণ কন্ঠে বললো…
—” এই অসময়ে মার্কেট?
—” হুমমম।
রিদের কুঞ্জিত ললাটের ভাজ গুলো মূহুর্তে মিলে গেল ললাটেই। নিজের তীক্ষ্ণ কন্ঠ খাদে নামিয়ে শান্ত স্বরে বললো…
—” কিছু লাগবে তোমার??
অসম্মতিতে মাথা নাড়ালো মায়া। মিহি কন্ঠে বললো…
—” নাহ।
অধিকার বোধ নিয়ে তৎক্ষনাৎ প্রশ্ন করলো রিদ….
—” আমার লাগবে নিয়ে আসতে পারবে তুমি???

চোখ তুলে সামনে তাকায় মায়া। সাথে সাথে চোখের দেখা মিলল রিদের শীতল গভীর দৃষ্টির। দুই সেকেন্ডর মধ্যে পুনরায় দৃষ্টি নত করে অসম্মাতি প্রকাশ করলো রিদের সামনে। বললো…
—” আমি বুঝব না। দাদী বুঝবে। আপনি দাদীকে বলুন নিয়ে আসবে আপনার জন্য।
অসন্তুষ্টির গলা ঝাড়লো রিদ। দৃঢ় গলায় বললো…
—” উহুম! তুমি ছাড়া কেউ বুঝবে না আমারটা। দাদীকে দিয়েও হবে না আমার তুমি ছাড়া। আমার তোমাকেই লাগবে। তাই তোমাকেই আনতে হবে আমার জন্য।

মায়া খানিকটা ইতস্তত বোধ করলো। আজ পযন্ত সে নিজের জন্য সুতাও কিনেনি পছন্দ করে, সেখানে এতোবড় দ্বায়িত্ব দিচ্ছে রিদ। কি থেকে কি কিনে আনতে হবে তাও জানে না সে। কিন্তু বারবার রিদের সম্মোহে না করাটা মায়ার মনে ভয় সংযম করছে। যদি রিদ রেগে যায় তো? মায়া ভয়ে হাসফাস করলো কিছুটা। তবে সম্মতি জানালো তার মধ্যেই। বললো..
—” বলুন! কি আনতে হবে আপনার জন্য?

রিদ পুনরায় হালকা ঝুঁকে পড়লো মায়ার দিকে। মায়া ধাতস্থ হয়ে চমকালো, ভড়কালো। তটস্থ চোখে তাকাতেই ধারালো মোহিত গলায় বললো রিদ…
—” এমন কিছু যার স্মরণে থাকবে তুমি?? কি পারবে আনতে???

মায়ার তটস্থ চোখ গুলোতে বিষন্ন খেলা করলো গাঢ় ভাবে। রিদের স্মরণে মায়াকে রাখতে চাওয়াটা ভিষণ ধাতুস্থ করলো মায়াকে। গ্যাপে পড়ে যাওয়া প্রশ্ন গুলো পুনরায় করলো রিদকে মায়া। চকিত মনে বললো…
—” আমি কি আপনার প্রিয় বাতিল বউ! স্বামী???

রিদ হালকা নড়েচড়ে সোজা হয়ে বসলো। মায়ার বারবার একিই প্রশ্নে সে অপদস্তক হলো। তাই বিরক্তি টানলো মুখে। মূহুর্তেই চোখের শীতলতা কাটিয়ে তিক্ততা জড়ালো চোখে মুখে। তপ্ত মেজাজ দেখিয়ে বলে উঠলো…
—” কোনো প্রিয় বউ টউ নও তুমি আমার। প্রচন্ড অপ্রিয়, অপছন্দ মানুষ তুমি আমার। বুঝেছ???

রিদের হঠাৎ রুপ পরিবর্তনের কারণটা ধরতে পারলো না মায়া। অসহায় দৃষ্টিতে রিদের কথার সম্মতি জানালো মাথা নাড়িয়ে। চুপ থাকলো সে। কিন্তু রিদের রুপ পরিবর্তনের সাথে সাথে কথার ধরণও দৃষ্টি সবই বদলালো তৎক্ষনাৎ। মায়া বুঝলো না কিছু। তবে রিদের চোখের শীতলতা কাটিয়ে দুষ্টমি খেলা করলো আংশিক। রসিয়ে রসিয়ে আবারও মায়াকে বললো রিদ….

—” আচ্ছা? শুনলাম আপনি নাকি আমার দশটা বাচ্চার প্লেনিং আছেন ম্যাডাম? আমার টাকা মেরে খাওয়ার ধান্দায় কথাটা কি সত্য হুমম?

ভুলে যাওয়া বিষয়টি মনে পড়তেই চমকালো মায়া। রাতে মায়া বলার কথা গুলো যে রিদ শুনেছিল সেটা এতক্ষণ যাবত ভুলে বসেছিল মায়া। কিন্তু রিদ বলাতে পুনরায় স্মৃতিচারণ হলো। সেই সাথে ভয়ার্ত হলো আঁখিচরণ। শুকনো ঢুক গিলে পালানোর ধান্দা করলো মূহুর্তেই। ভয়ার্ত চোখ দুটো রিদের থেকে লুকানোর চেষ্টায় মায়া এদিকে সেদিক তাকালো নত হয়ে। রিদের গাঢ় তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মায়ার কর্মকান্ডের দিকে। কালবিলম্ব না করে তৎক্ষনাৎ দৌড়ে পালিয়ে যেতে চাই মায়া। কিন্তু ভাগ্য সহায় না হওয়ায় মূহুর্তেই আটকা পড়লো রিদের ঝুলন্ত পা দুটোর ভাঁজের মধ্যে। মায়া রিদের সামনে নিকটবর্তী দাঁড়িয়ে থাকায়, খুব সহজেই রিদ নিজের দুপা দিয়ে মায়াকে ঝাপটে ন্যায়। হতভম্ব মায়া স্বর্ণাৎয়ে ফিরার আগেই রিদ নিয়ে পা দিয়ে মায়াকে টেনে নিজের উপর ফেলে। রিদের আকস্মিক ঘটনায় মায়া তাল সামলাতে না পেরে উপুড় হয়ে পড়তে চাই রিদের বুকে। কিন্তু পড়তে পারলো না। তার আগেই রিদ নিজের পিছন দিকে ঝুকে পড়ে থামিয়ে দেয় মায়াকে। নিজের পায়ের বন্ধনীতে মায়াকে আটকিয়ে রেখে গাঢ় নিষিদ্ধ কন্ঠে বলে উঠে…

—” ডোন্ট! ছুঁয়া যাবে আমাকে।

তৎক্ষনাৎ স্বর্ণাভে ফিরলো মায়া। নিজেকে গজিয়ে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো তবে রিদের পায়ের বন্ধনী থেকে মুক্তি পেল না। মায়া মাথা ঘুরিয়ে নিচে তাকায়। নিজের চারপাশে রিদের পায়ের বন্ধনীর দেখলো ভয়ার্ত চোখে। রিদ আগের ন্যায় অনড়। মায়াকে পা দিয়ে চেপে ধরে বসে আছে। মায়া ভয়ার্ত দৃষ্টি বিলাই রিদের বদলিত চেহারার দিকে। রিদ মায়ার দৃষ্টি পরোয়া না করে সোজা হয়ে বসতে বসতে নিজের ধাঁচে বললো…

—” একদম ছুঁয়ার চেষ্টা করবে না আমাকে। ছুঁয়া-ছুঁয়ি পর্বটা আপাতত স্টপে আছে। যেদিন আমার ছুঁয়া তোমার ব্যথা বা অসয্য লাগবে না। সয্য করতে পারবে সেদিন ছুঁয়ে দিব তোমাকে তার আগে নয়।

মায়া চোখ তুলে করুন দৃষ্টিতে তাকায় রিদের দিকে। বুঝতে পারে রিদ সেদিন রাতের বিষয়টা এখনো মনে ধরে রেখেছে। হয়তো কষ্ট পেয়েছিল সেদিন রাতে তার করা আচরণে। মায়া কিছু বললো না চুপ থাকলো। রিদ পুনরায় বলে উঠলো…

—” তো যাহ বলছিলাম। আপনার আমার দশটা বাচ্চাকে নিয়ে প্লেনিংটা সেই লাগছে। যাকে বলে মনে ধরছে ভিষণ। কিন্তু পয়েন্ট হলো! আমার যতদিন না দশটা বাচ্চা হওয়ার শেষ হচ্ছে ততদিন অবধি আমি আপনার টাকা মেরে খাব। অথাৎ, আমার সমানে সমান দশটা বাচ্চা না হওয়া অবধি প্রতি মাসে আপনি আমাকে আমার প্রতিটা বাচ্চার জন্য টেক্স দিতে হবে। আমার সমান দশটা বাচ্চা হওয়ার পর নাহয় আমি দিব আপনাকে। আমি ব্যবসায়িক মানুষ তাই হিসাব নিকাশ করলাম। আপনি আমার থেকে টাকা মেরে খাওয়ার ধান্দায় থাকলে আমি কেন আপনার টাকা মেরে খেতে পারবো না? আপনি তো আমার থেকে দ্বিগুণ অর্থবান ব্যক্তি তাহলে আপনাকে ছাড় দিয়ে লাভ আছে? লাভ নেই তো।

রিদের যুক্তিতে হতবুদ্ধ মায়া। বিষন্নে অবাক হয়ে সঙ্গে সঙ্গেই বললো…
—” আমি বড়লোক???

পুনরায় যুক্তি দেখিয়ে বললো রিদ…

—” অবশ্যই আপনি বড়লোক মানুষ। আপনার স্বামী বড়লোক! আপনার দাদা শশুর, দাদী শাশুড়ী বড়লোক! সাথে আপনার বাবা-মা, বড় ভাই মিলিয়ে বড়লোক। সব বড়লোকে মধ্যে বড়লোকি হলেন আপনি। কারণ সবার জয়েন্ট টাকা আসে আমার হাতে। প্রতিটা মানুষই টাকা দেয় আপনাকে। তাহলে আপনি গরীর কোথায়? আপনি তো আমার থেকে দ্বিগুণ বড়লোক। আর বড়লোকি মানুষের টাকা মেরে খাওয়া ফরজ কাজ। দিন দিন টাকা বের করুন, যাহ পকেটে আছে তা বের করুণ দ্রুত। নয়তো আমাকে টেক্স না দেওয়ার দায়ে আপনাকে আমি বেঁধে রাখবে আমার টেবিলের কোণায়। বুঝেছেন আপনি? দিন এবার।

রিদ হাত পাতলো মায়া সামনে। কিন্তু তাৎক্ষণিক কিছু মনে পড়তেই ভুল শুধালো রিদ। পুনরায় বলে উঠলো….

—“ওহ আরেকটা কথা! বাচ্চা গুলো কিন্তু আমার হবে না আমার বউয়ের হবে ইনশাআল্লাহ। দোয়া করবেন কিন্তু কেমন। যেন তাড়াতাড়ি হয়ে যায় বাচ্চা গুলো আমার বউয়ের।

মায়া কি বুঝলো রিদের দেখানো হিসাব নিকাশ। নাকি বুঝলো রিদের অনাগত বাচ্চা কাচ্চা জন্য দোয়া চাওয়ার ইঙ্গিতটা। তবে এতটা বুঝলো সে রিদের থেকে আসলেই দ্বিগুণ বড়লোক মানুষ। সবাই তো তাঁকে টাকা দেয় হাত খরচ করার জন্য। কিন্তু তার রিদ ভাইয়াকে কি কেউ টাকা দেয় মায়ার মতো করে। মায়া খালি মস্তিষ্কের কথা গুলো আওড়ানোর মধ্যে দিয়েই পুনরায় তাড়া দিল রিদ।

মায়া ভয়ভীত হলো ভিষণ। শুকনো ঢুক গিলে ভয়ার্ত চোখ মিলাল রিদের চোখে। সঙ্গে সঙ্গে রিদ চোখের ইশারায় মায়াকে টাকা বের করতে বললো। মায়া আষ্টশ হয়ে জড়সড় হাত ঢুকালো নিজের এপ্রোনের পকেটে। একটা পকেটে খালি থাকলেও অন্য পকেট থেকে সাতাইশ টাকা বের করলো গলার আইডি কার্ডসহ। টাকা, আইডিকার্ডসহ রিদের পাতিত হাতের উপর রাখলো মায়া। রিদ কপাল কুঁচকে তাকায় মায়ার অগোছালো পুরাতন কুঁচকানো টাকা গুলোর দিকে। অর্ধ ছেঁড়া বিশ টাকার নোটের সাথে পাঁচ টাকার একটা পয়সাও রয়েছে, সেই সাথে রয়েছে অল্প নতুন দুই টাকার নোট একটা। সবমিলিয়ে সাতাইশ টাকা। রিদ এক পলক টাকা গুলো দেখে নিয়ে মায়ার দিকে তাকাতেই, কপালের ভাঁজ গুলো আরও গাঢ় হয় যখন দেখলো মায়া নিজের এপ্রোনের বোতাম গুলো এক এক করে খুলছে তাঁর সামনের।

মায়া ধীর হাতে এপ্রোনের সকল বোতাম খুলে নিয়ে চট করে এপ্রোনের নিচে পরিহিত ফ্রকের একপাশের পকেটে হাত গজায় সে। মায়ার বেখেয়ালি আচরণের কারণে তৎক্ষনাৎ এপ্রোনের বামপাশে কলারটা মায়ার বাম কাঁধের নিচে পড়ে যায়। যার ফলে মায়ার জামার একটা পাশ দৃশ্যমান হয় রিদের চোখে। গলা থেকে মায়ার পেট অবধি ঘেমে যাওয়া সাদা ড্রেসটা ভিজে লেপ্টে আছে গায়ের সাথে। তারজন্য দৃশ্যমান হয়ে যায় মায়ার নিষিদ্ধ কিছু জায়গায়। কাঙ্ক্ষিত ভাবে মায়ার অনাকাঙ্ক্ষিত জায়গায় চোখ পড়লো রিদের। রিদ দৃষ্টি সরালো না। বরং গাঢ় করলো। তবে চোখ ঘুরালো কিছুটা চারপাশেও। তাকালো উপরে মায়ার কাঁধের দৃশ্যমান ফিতাবন্ধনীর দিকে। রিদের চোখের এক সমুদ্র গভীরতাটা বাড়লো। মায়া দেখলো না রিদের সেই চোখের গভীরতাটা। যদি দেখতো তাহলে নিশ্চিত এতটা বেখেয়ালি হতে পারতো না রিদের সম্মোহে। হয়তো লজ্জা পেত। ভিষণ লজ্জা যাকে বলে! কিন্তু আফসোস মায়া নিজের কাজে এতটাই ব্যস্ত যে, কারও অশান্ত, সমুদ্রের ন্যায় গভীরতা দৃষ্টিটাও পরখ করতে পারলো না বিন্দুমাত্র।

মায়া নিজের মতো করে ফ্রকের ভিতরের পকেট হতে টাকা বের করে রিদের হাতে রাখলো। রিদকে হাত সরাতে না দেখে চোখ তুলে তাকালো মায়া। রিদের ধ্যান কোথায় আছে বুঝতে সক্ষম না হয়ে হাসফাস করলো খানিকটা। তাই পরিশিষ্ট অর্থ রিদকে দান করে মিনমিন গলায় বললো…
—” আর নেই তো…

মায়ার কথায় নিজের হাতে দিকে দৃষ্টি স্থির করলো রিদ। বিষন্নতা এখনো কাটেনি। ঘোর লেগে আছে চোখে মুখে। বুকের কম্পনটা ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে। দুই ঠোঁট ফাঁক করে গোপনে নিশ্বাস টানে রিদ। জান যায় যায় অবস্থা তার অল্পতেই। এই অনূভুতি গুলো রিদের সাথে এই প্রথম প্রথম হচ্ছে। সে বুঝতে পারছে তার গ্যাংস্টার জীবন বউ নামক কলঙ্কের দাগ লেগে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। কাউকে নিজের চরম দুর্বলতা বানাচ্ছে সে, যেটা তাঁর জীবনের শিষ্য ভুল বলে ধরা হবে। গ্যাংস্টার জীবনে কাউকে দুর্বলতা বানানো একপর্যায়ে পাপ বলে ধরা হয়। কারও প্রেমে পড়াও ঘোর বিপদ। কিন্তু সে সকল নিয়ম ভঙ্গ করছে ধীরে ধীরে যেটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। তার এই মেয়েটাকে এতটা প্রশ্রয় দেওয়াটাও মোটে ঠিক হচ্ছে না। এখন যদি এই মেয়েটার থেকে সরে না দাঁড়ায় তাহলে ভবিষ্যতে তারজন্য জন্য প্রচন্ড বিপদ জনক হয়ে উঠবে। একমনে কথা গুলো ভেবে নিজেকে স্বাভাবিক করলো রিদ। নিজের হাতের টাকার গুলোর দিকে পুর্ণ্য দৃষ্টি করতেই চোখে পড়লো, একটা পাঁচশ টাকার নোটের সাথে একটা পঞ্চাশ টাকার নোটে। রিদ টাকা গুলো সব রেখে দিল নিজের কাছে। টেবিলের উপর টাকা গুলো রেখে ফিরতি তাকালো মায়ার দিকে। আবারও চোখ পড়লো মায়ার শরীরের অনাকাঙ্ক্ষিত ভাঁজে ভাঁজে দৃশ্য গুলোতে। রিদ হাত বাড়িয়ে মায়ার কাঁধের নিচে পড়ে যাওয়া এপ্রোনের কলারটা টেনে মায়া গলা অবধি ঢেকে দিতে দিতে বললো….

—” আপনি ছোট সাজেন ইচ্ছাকৃত ভাবে। আপনাকে দেখে আমার ছোট মনে হয়না। ভিষণ বড় মনে হয়। আমাকে বেকাবু করবেন না বলছি কারণ নিতে পারবেন না আমার বেসামাল আচরণ। আমি লাগামহীন ঘোড়ার ন্যায়। ছুটে গেলে সামলাতে পারবেন না আপনি।

মায়া কি বুঝলো রিদের কথার অর্থ। হ্যাঁ বুঝলো। খুব করে বুঝলো। কিন্তু ধরা দিল না। চোখে মুখে লাল লাল আভা ছড়িয়ে পড়লো লজ্জায়। তারপরও বোকা সাজলো রিদের সম্মোহে। শরীরের মৃদু কম্পন সাক্ষী হলো মায়া বুঝধারের বিষয়টিতে। তারপরও বোকা ন্যায় তাকালো। রিদ ছুঁলো না মায়াকে। তবে এক এক করে মায়ার এপ্রোনের সকল বোতাম লাগাতে লাগাতে বললো….

—” বাই দ্যা ওয়ে! নাইস কালার। তবে সাদা সাথে সাদা কার্লারটায় যায় বেশি মনে হয় তাই না??

রিদের রসিয়ে কথার সারাংশ সারমর্ম কি মায়া বুঝলো? কিন্তু শরীরের দ্বিগুণ কম্পন তো তাই বলছে। যে এই নারী রিদের সব কথার অর্থ বুঝতে পেরেছে। কিন্তু চোখে মুখে ফুটালো না কিছুই। রিদের থেকে বাঁচতে চাই এই মূহুর্তে। নিতে পারছে না আর কিছু সে। তাই নিজের উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগালো তাৎক্ষণিক। মাথা নিচু করে কম্পিত শরীরের কোনো রকম নিজের একটা হাত উঁচু করে দুই আঙ্গুল দেখালো রিদকে। কম্পিত স্বরে টেনে টেনে বললো….

—” দুই যাব আমি…

রিদ বুঝলো না মায়ার দুই আঙ্গুল দেখানোর মানে কি? আর না বুঝলো মায়া দুই যাব কথার অর্থ। এপ্রোনের বোতাম লাগাতে লাগাতে কপাল কুঁচকে পুনরায় প্রশ্ন করল মায়াকে। বললো…
—” দুই কি?

মায়া হতাশ চোখ তুলে তাকালো রিদের দিকে। করুন কন্ঠে বললো….
—” দুই জানেন না আপনি??
—” না! জানার কথা ছিল আমার??
—” হুমম। দুই মানে ইয়ে যাব আমি….
—” ইয়ে কি??
—” ইয়ে মানে দুই আরকি( বিরক্তি হয়ে)
—” তাহলে দুই কিরে বাবা?? দুইই বা কই যে তুমি যেতে চাচ্ছে এতো করে? দুই কি কোনো এরিয়া? বল আমি নিয়ে যাব।

রিদের উত্তরের নাহুশ হলো মায়া। রিদ দুই মানে বুঝে না সেটার জন্য চরম বিরক্তি প্রকাশ করলো রিদের সামনে। রিদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি মূহুর্তেই খাদে নেমে এলো যখন দেখলো মায়া নাহুশ বংগিতে বিরক্তি হয়ে যাচ্ছে। রিদ অনুচিত হলো, নিজেকে দোষ দিতে থাকলো একমনে, সামান্য দুই মানে বুঝতে পারছে না সে? নিশ্চয়ই দুই মানে বিশাল কিছু বুঝাতে চাইছে মেয়েটা। কিন্তু সে অক্ষত মতো দুই জিনিসটাই চিনতে পারছে না।
রিদ বিরক্তিতা ঝেড়ে পুনরায় বললো…

—” কি সমস্যারে বাবা! বুঝিয়ে না বললে বুঝব কিভাবে দুই কি??

মায়া কিছু বললো না সোজাসাপটা বললো।
—“আমি ওয়াশরুম যাব ছাড়ুন।
—” তাহলে দুই যাবে না??
—জানি না। ছাড়ুন।

মূহুর্তেই রিদ পায়ের বন্ধনী খুলে দিল। রিদ ওয়াশরুম দেখিয়ে দিতেই মায়া সেদিকে গটগট পায়ে হেঁটে চলে গেল খানিকটা রেগে। রিদ বুঝলো মায়ার রাগান্বিতর কারণটা তারপরও তাড়া দিয়ে মায়াকে পিছনে ডেকে বললো….

—” দুই মিনিটে মধ্যে আসবে কিন্তু।
মায়া শুনলো না রিদের কথা। একে তো সে দুই যাচ্ছে তারপর আবার বলছে দুই মিনিটে মধ্যে আসতে। লোকটা এতো বোকা কেন সামান্য দুই মানে বুঝে না সে? দুই কি কখনো দুই মিনিটের মধ্যে শেষ করার যায়? মায়া চলে যেতেই রিদ আসিফকে কল লাগায়। আসিফ রিসিভ করে ‘হ্যালো’ বলতে না বলতেই প্রশ্নের সম্মোহনী হয় রিদের। রিদ কালবিলম্ব না করে আসিফকে জিজ্ঞেসা করে বললো…

—” আসিফ দুই কিরে??
আসিফ বুঝলো না তার অর্থ কিন্তু তৎক্ষনাৎ উত্তর দিল ফোনের ওপাশ থেকে বললো…

—” জ্বিই ভাই ‘ টু’ হয়…
রিদ বিরক্তি নিয়ে বললো…
—” তোর কি মনে হয়? ‘দুই মানে টু হয় এটা আমি জানি না। তুই আমারে পড়ালেখা শেখাস??
—” সরি ভাই! ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু আপনি কোন দুইয়ের কথা বলছেন? কোনো পাসওয়ার্ড বা পিনকোড নাকি ভাই?

রিদ দীর্ঘ নিশ্বাস ফেললো। গভীর চিন্তত গলায় বললো…
—” তোর ভাবি বিগত যাবত ধরে দুই দুই করতাছে। আমি বুঝতে পারছি না বলে গাল ফুলিয়ে রাগ করে আছে আমার সাথে? এখন তুই বলতো কি করি আমি? দুইয়ের সন্ধান পায় কোথায় থেকে???

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply