দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৯
দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২
লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া
২৯
সময়টা ১২ঃ৪৫। মাথার উপর কাটফাটা রোদ। ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনপথ। খাঁ খাঁ তপ্ত রোদে ব্যস্ত জননগরী। তারপরও সবাই যার যার রুটিন অনুযায়ী নিজের কর্মসূচিতে ব্যস্ত। ভ্যাপসা গরমটাও যেন এতটুকু কারও কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারছে না। জনপথের রাস্তা গুলো ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামঝট পাকিয়ে আছে। গাড়ি ঘুড়ার পেপু শব্দের অতিষ্ঠ মানব নগরী। দ্বিধা নেই কারও। বিরক্তিতা নিয়েও অতিষ্ঠতায় পেরিয়ে যথারীতি ফিরতে চাই নিজের গন্তব্যে। তাদের দলেরই একজন মায়া। সেই অতিষ্ঠতা মাঝেও ট্র্যাফিক জ্যামে বসে আছে সে। একা নয়, সঙ্গী সাথী হিসাবে হেনা খান, ফিহা রয়েছে। গায়ে কলেজ ড্রেস পরিহিত। কারণ কলেজের পূর্বটা এখানো শেষ হয়নি মায়া। অধ্যায়ন পাঠ বহাল রয়েছে ক্লাসময়ে। ইতি ঘটলো না ক্লাসের। তার পূর্বক্ষণেই ক্লাসের ভঙ্গ করে মায়াকে নিয়ে আসলো হেনা খান উর্দিত কলেজের প্রিন্সিপালকে বলে। হঠাৎ কিজন্য হেনা খান মায়াকে জরুরি তলবে কলেজ থেকে নিয়ে আসলো তাও ঠিকঠাক জানা নেই তাঁর। তবে ফিহা কাছ থেকে এতটা জানতে পারলো। হেনা খান নাকি তাদের দু’জনকে এই অসময়ে মার্কেটে নিয়ে যাবেন। অনিহা করল না মায়া তবে কৌতুহল ছিল তীব্র। কেন হেনা খান এই অসময়ে কাটফাটা রোদের মধ্যে তাদের মার্কেটে নিয়ে যেতে চাচ্ছেন সেই বিষয়ে? কৌতূহল দমাতে না পেরে প্রশ্ন করেছিল মায়া, উত্তর দেয়নি হেনা খান। শুধু বললো ‘অনেকদিন ধরে মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করা হয়না উনার। তাই শপিং করতে যাচ্ছেন ব্যস। আর প্রশ্ন করলো না মায়া। চুপচাপ থাকলো। এরিই মধ্যে হেনা খান পুনরায় জানালো ‘তাঁরা আগে আরাফ খানের অফিস প্রদর্শনে যাবে। ঠিক প্রদর্শন না, বলতে গেলে হেনা খান নিজের স্বামী ও নাতির জন্য দুপুরের লাঞ্চ বক্স নিয়ে যাচ্ছেন। আরাফ খানের তথ্য অনুযায়ী, আজকে রিদ নিজের অফিস ছেড়ে একদিনের জন্য উনার অফিসে বসবে, খান গ্রুপের জরুরি ডিল সাইন করার জন্য। সেই অনুযায়ী এখন রিদের অবস্থান আরাফ খানের অফিসের মিটিং কক্ষে। দুপুর লাঞ্চ দু’জন একসাথেই করবে। সেই সুবাদে হেনা খান তাদের জন্য ঝটফট হাতে রান্না করে লাঞ্চ বক্স নিয়ে যাচ্ছেন স্বামীর অফিসে। সাথে নিজের যাচ্ছেন নিজেদের সবার খাবারও। অনেকদিন পর সবাই একসাথে দুপুরের লাঞ্চ করবে বলে। খাওয়া দাওয়া সেরে ফিহা আর মায়াকে নিয়ে মার্কেটে উদ্দেশ্য যাবেন তিনি, এমনটা ধারণা উনার। মায়ার অনূভুতি স্বাভাবিক। কোনো নড়চড় নেই। হ্যাঁ রিদকে কালকের রাতের বিষয়টা নিয়ে ভয় করলেও, নিজেকে নিরাপদ মনে করছে পাশে হেনা খানকে পেয়ে। মায়ার ধারণা রিদ আর যায় করুক না কেন? অন্তত হেনা খানের সামনে ওকে কিছু করতে পারবে না সে। যদিও আঘাত করতে চাই তাহলে হেনা খান পাশে থাকবে রিদ থেকে তাঁকে বাঁচানোর জন্য। মায়া নিশ্চিত মনে অনল বসে রইল। স্বাভাবিক বংগিতে গাড়ির কাঁচ বেধ করে তাকায় ব্যস্ত নগরীর দিকে। অনেকটা সময় নিয়ে অবশেষে পৌছায় আরাফ খানের অফিসের বিল্ডিংয়ের পাকিং এরিয়াতে। গাড়ি থেকে নেমে জমিনে দাঁড়াতেই, মায়ার চোখের দৃষ্টিতে বাজলো বিল্ডিংয়ের উপরে শিষ্যের দিকে বড় বড় অক্ষরে লেখা ‘খান গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রি’। মায়া বুঝল চোখের সামনে বিশাল বড় বিল্ডিংটিই আরাফ খানের অফিসালয়। কথা না বাড়িয়ে হেনা খানের পিছন পিছন যেতে লাগলো সে। টিফিন বক্স হাতে ডাইভার সামনে সামনে হাঁটছে তাদের। মায়া স্বস্তির মনোনয়নে যেতে যেতে চারপাশের পাকিং এরিয়াতে চোখ বুলাই নীরবে। চোখে পড়লো সারিবদ্ধ ভাবে জায়গায় জায়গায় কার, বাইক দাঁড়ানো কোম্পানি ইমপ্লয়দের।
যথারীতি লিফট করে হেনা খানের সাথে থার্ড ফ্লোরে উঠে মায়া। অসম্ভব সুন্দর মার্জিত স্কয়ার সিস্টেম অফিসটিতে সবাই ব্যস্ততায় কাজ চালাচ্ছেন যার যার ডেক্সে বসে। জুতার গমগম শব্দে উপস্থিত কর্মীদের মনোযোগ টনক নড়ল। মনোযোগ নড়ে কৌতূহলী দৃষ্টি স্থির হলো তিন মানবীর উপর। তবে সবার দৃষ্টির কেন্দ্র বিন্দু হেনা খান নয় বরং মায়া আর ফিহা। হেনা খান কোম্পানি ইমপ্লয়দের সাথে পূর্ব পরিচিত থাকায় এই মূহুর্তে সবার দৃষ্টি কেন্দ্র বিন্দু অনাহেষেই মায়া আর ফিহা ছিল।
কনফারেন্স রুম।গম্ভীর পরিবেশ। অন্ধকারময় রুমটিতে এক টুকরো সাদা আলোয় আলোকিত চারপাশ। চোখের সামনে ঝলমলে সাদা পর্দায় একের পর এক স্লাইডস পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই নিভিত আলোয় অস্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে প্রত্যেকের গম্ভীর মনোভাব। ইয়ঙ্গার যুবকটি উপস্থিত সদস্যদের প্রজেক্টের ডিজাইন প্রেজেন্টেশন করছেন দক্ষতা স্বরুপ। রিদ তাদের মূল কেন্দ্র বিন্দু। মূলত এই প্রজেক্টটি দিয়েই তাদের অপূর্ণ উদ্দেশ্য গুলো পূর্ণ হবে। সেই মনোভাবে যুবকটি তার বাবার কোম্পানির হয়ে কাজ করছে। আজকে তার ফাইনাল ডেট। দীর্ঘদিন পূর্বেই ডেট ফিক্সড করা হয়েছিল খান গ্রুপের সাথে। কিন্তু রিদ খানের সানিধ্য পাচ্ছিল না বলে প্রত্যেকটা ডেটই পিছানোর মূল কারণ। কাজে মার্জিত ভুলক্রটিও চাইনা বলে গুরুত্ব দিয়ে একের পর এক প্রজেক্টের ডিটেইলস দেখাচ্ছে যুবক ছেলেটি নিজেই।
থমথমে নিস্তর পরিবেশে কালো চেয়ারটিতে গা হেলিয়ে আছে রিদ। সূক্ষ্ম চোখে মনোযোগ সহকারে স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে। দৃষ্টি গম্ভীর। বাচন বংগি চুপ। বামহাতের কুইন চেয়ার হাতলে ঠেকিয়ে ঠোঁটের উপর রাখা। ডানহাতে কাঁচের কিউব বল ধরা। যেটা থেকে থেকে নিজের সামনে কালো কাঁচের টেবিলের উপর রাউন্ড রাউন্ড ঘুরাচ্ছে রিদ। তাতে শব্দ হচ্ছে গুমোট গুমোট। কিন্তু রিদ সেদিকে মনোযোগী নয়। এতে করে নিস্তব্ধ পরিবেশে সামান্য গুমোট শব্দটাও কানে ঝংকার তুলার ন্যায়। বার কয়েক মনোযোগ নষ্ট হয় প্রদর্শিত ছেলেটির। ধাতস্থ হয়ে নিজেকে সংযম করে পুনরায় নিজের কাজে মনোযোগী হয় সে। সেই সাথে উপস্থিত সদস্যরাও। সামান্য শব্দটা নিষেধ করার জন্যও কেউ মুখ খোলছে না রিদের ভয়ে। আরাফ খান বসা ঠিক রিদের পাশের চেয়ারটিতে। উনার দৃষ্টি স্থির সাদা পর্দার স্কিনে। শব্দবিহীন থমথমে গম্ভীর পরিবেশে হঠাৎ মুখ খললো রিদ। গম্ভীর স্বরে বলে উঠলো…
—” মিটিং ইজ ওভার। ইউ ক্যান গো নাউ।
রিদের গম্ভীর মুখে কথায় আলো জ্বলে উঠলো তাৎক্ষণিক অন্ধকার রুমটিতে। উপস্থিত সদস্যরা চমকালেন, বিষন্নয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন রিদের গম্ভীর মুখের দিকে। ঘাবড়ে টেনশনে সহিত বলে উঠলো যুবক ছেলেটির বাবা সৈয়দ সেন।
—” কি বলছেন মিস্টার আব্রাহাম। প্রজেক্ট দেখানো শেষ হয়নি এখনো? তাহলে?
রিদ বিরক্তির চোখ তুলে তাকায় সামনে সৈয়দ সেনের দিকে। তার করা প্রশ্নটি পছন্দ হয়নি রিদের। গম্ভীর মুখে
রিদ কিছু আওড়াবে তার আগেই বেখেয়ালি চোখ পড়ে সামনে দেয়ালে স্বচ্ছ কাঁচ বেঁধ করে বাহিরে। সাদা কলেজ ড্রেস পরিহিত মায়া দুহাতে চকলেটের ঝুড়ি বুকের সাথে ঝাপটে ধরে রিদের অফিসের কেবিন থেকে বের হচ্ছে সে। দেখেই বুঝায় যাচ্ছে চকলেটের ঝুড়ি ভারে হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে মায়া। বেতাল হাটার সাথে গাল ফুলিয়ে মুখ ভর্তি চকলেট চাবাচ্ছে সে। রিদ যেন চমকালো মায়াকে এই মূহুর্তে কলেজে নয় বরং অফিসের মহলে দেখে। দ্রুততার সঙ্গে হাত ঘড়িটা দেখে নিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পুনরায় তাকায় মায়ার দিকে। রিদ ভাবে, মেয়েটা কি পাগলামো করতে করতে অফিস অবধি চলে আসলো একা একা? এমনটা তো হওয়ার কথা নয়! মেয়েটা চাইলেও তো কোথাও একা বের হতে পারার কথা না? সে সিকিউরিটি দিয়ে রেখেছে মেয়েটার পিছনে। তাছাড়া মেয়েটা কলেজ থেকে বের হওয়ার সময় তাঁকে কেউ ইনফর্ম করেনি কেন? রিদের দৃষ্টি গাঢ় হয়। বিরক্তি রেশ কাটিয়ে কুঞ্জিত কপালে তাকায় মায়ার কর্মকান্ডের দিকে। রিদের স্থির দৃষ্টির মধ্যে দিয়ে মায়া হাঁটতে হাঁটতে পুনরায় থেমে যায়। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়ার মতো ভেবে গোল গোল চোখে তাকালো চকলেটের ঝুড়িটি দিকে। স্থির দৃষ্টিতে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরে পুনরায় রিদের কেবিনের দিকে। রিদ কপাল কুঁচকায়। মায়াকে পুনরায় নিজের রুমের দিকে যেতে দেখে তীক্ষ্ণতা চেয়ে যায় নিজের মাঝে। গলা খাকিয়ে সৈয়দ সেন রিদের মনোযোগ আর্কষণ করে মূহুর্তেই। মনোযোগ ভস্ম হতেই সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ায় রিদ। গম্ভীর মুখে সৈয়দকে উদ্দেশ্য করে বলে….
—” নট ইন্টারেস্টেড ইউর প্রজেক্ট।
দ্রুততা সঙ্গে সাদা পর্দার সামনে থেকে বলে উঠলো সৈয়দের ছেলে জিহাদ সেন।
—” মিস্টার খান মিটিং শুরু হয়েছে মাত্র দশ মিনিট হয়েছে। তাহলে সম্পূর্ণটা প্রজেক্ট না দেখে কিভাবে ডিসিশন নিচ্ছেন আপনি??
বিরক্তি ভাজ পড়ে রিদের কপালে। স্বল্প জ্ঞানী মানুষ কোনো কালেই তার পছন্দ নয়। অনেক কিছু ডিটেইলসে বুঝাতে হয় এদের। সেই ফালতু সব সময় বহন করার মতো ধৈর্য তার নেই। যেখানে মেধা তালিকা ছোট সেখানে এতোবড় প্রজেক্ট কিভাবে সামলাবে সে? রিদ বিরক্তিতে কটাক্ষ করে বলে উঠে ছেলেটিকে…
—” সম্পূর্ণ খাবার খেয়ে তারপর খাবারের টেস্টের ধরণ বলাটা অর্থহীন ব্যক্তির নিরন্তর কাজ। ডিল পছন্দ হয়নি মানে রিজেক্ট।
ঊনর্দিত জ্বলিত অগ্নিমশাল মতো জ্বলে উঠলো জিহাদ। অনেকটা দিনের কষ্ট, পরিশ্রমের ফলে আজকের প্রেজেন্টেশন গড়া তার। সেটা না দেখেই সোজা রিজেক্ট করে দিচ্ছে রিদ খান। এতটা অহংকার তার টাকার, প্রতিপত্তি, ক্ষমতার? মানুষকে মানুষ, কষ্টকে কষ্ট বলে মনে হয়না তাঁর। নিজেকে সংযম করতে না পেরে আংশিক তেতে উঠলো যেন রিদের সামনে। সেটায় কাল হয়ে দাঁড়ালো জিহাদের পরিবর্তী পদক্ষেপে। খানিকটা তেজ দেখালো রিদকে। মুখে আওড়ালো শক্ত বাণী…
—” আপনি মজা নিচ্ছেন মিস্টার খান। কোনো কিছু না দেখে সোজা রিজেক্ট করে দিচ্ছেন প্রজেক্টটা। আপনি জানেন কতটা কষ্ট করা হয়েছে এই প্রজেক্টটির জন্য?
নাচানো কিউব বলটা শক্তিতে হাতে চেপে ধরে রিদ নিজের হাতের পিষ্টিতে। রাগান্বিত চোখ দুটো তুললো জিহাদের দিকে। কুঞ্জিত কপালে সহিত তিক্ততা নিয়ে বললো…
—” তো আমি কি করবো? ফালতু প্রজেক্টের জন্য তিনশ কোটি টাকা তোর বাপ দিবে? নদীর তীরে বালুর উপর ফ্যাক্টরির জন্য তিনশ কোটি টাকা নয় বরং পাঁচশ কোটি টাকায় গিয়ে গড়াবে। ফ্যাক্টরি তৈরি করার পরও তার নিশ্চিয়তা নেই। যেকোনো সময় প্লাবিত বন্যায় বালু ধুয়ে যেতে পারে নদীর পানির সাথে। ফ্যাক্টরি সাথে সাথে ফ্যাক্টরি মালও নদী তলদেশে যাবে। তার ক্ষতিপূণর কে দিবে তোর বাপ? তোর চৌদ্দ গুষ্টির প্রোপার্টি বিক্রি করেও আমার অর্ধ হাজার কোটি টাকার শোধ উঠবে না। তোর কি মনে হয় আমি গাছ কেটে ক্ষমতার আসনে বসে আছি। কিছু বুঝি পলিটিক্স? তোর আমার কোম্পানির সাথে ডিল নয় বরং আমার সাথে ডিলে থাকতে চাস। তোদের পিছনে একজন গ্যাংস্টারে হাত থাকলে অনাহেষেই নিজেদের বাকি ব্যবসা গুলো দেখতে পারবি। পলিটিক্স থেকে শুরু করে দেশের লোকাল গুন্ডা পযন্ত তোদের কোনো কাজে বাঁধা দিবে না আমার নামে। তোদের ডিল নয় আমার ক্ষমতা চাই। তাই গলা নিচে। নয়তো গলা থাকবে কিন্তু তেজ দেখানো জন্য তুই থাকবি না।
রিদকে রেগে যেতে দেখে দ্রুততা সঙ্গে এগিয়ে আসে আরাফ খান। শান্তনার স্বরুপ কিছু বলতে যাবে তার আগেই উত্তেজিত বংগিতে বলে উঠে সৈয়দ।
—” মিস্টার আব্রহাম প্লিজ আমার ছেলের উপর রাগ করবেন না। আপনি যেমনটা ভাবছেন তেমনটা নয়। আসলে ওহ এই প্রজেক্টি নিয়ে অনেক দিন ধরে পরিশ্রম করছে তো তাই আপনার রিজেক্টের সাথে উঁচু গলায় কথা বলে ফেলেছে। প্লিজ আপনি রেগে যাবেন না ওহ উপর। আমি ক্ষমা চাচ্ছি ওর হয়ে আপনার কাছে।
বাবার কথা শুনলেন না জিহাদ। রিদের বলা প্রতিটা কথায় সত্য। তাই বলে দমে গেল না রিদের সম্মোহে পুনরায় একি তেজ দেখিয়ে বলে উঠলো রিদের সামনে…
—” ফালতু সব কারণ দেখাচ্ছেন মিস্টার খান। প্রজেক্ট রিজেক্ট করার যথাযথ কারণ নয় এটা। নদী কাছে থাকলেই যে বন্যা হবে এমনটাও নয়। আমি বলছি বন্যা হবে না। তখন আপনি কি এক্সকিউজ দেখাবেন প্রজেক্ট সাইন করাতে। অন্যতায় আপনার ক্ষমতায় যদি আমরা ব্যবসা করতে পারি তাহলে ক্ষতি কিসের? আপনার সাথে ডিলে তো আছিই আমরা।
রিদের রাগান্বিত দৃষ্টি মূহুর্তেই শান্ত হয়। আস্তে করে নিজের হাতের কিউবটা টেবিলে উপর রেখে টেনে নিজের গায়ের শার্ট ঠিক করতে করতে শান্ত কন্ঠে বলে….
—” তোর সাহসের তারিফ করতে হবে। আমার সাহায্য চাই আবার আমাকেই তেজ দেখাস। আচ্ছা! চল তোর ডিল ডান! সাইন করলাম তোর প্রজেক্টে। তার আগে ছোট একটি কাজ করবি তোরা বাপ ছেলে দুজন আমার। কাজটা আসিফ বুঝিয়ে দিবে তোদের। ওয়েট!
আসিফ? একটা দলীল নামা তৈরি কর যেখানে শর্ত হিসাবে লিখবি, স্বর্গীয় শ্রী সৈয়দ সেন ও তাঁর ছেলে সুউত্তম কুমার জিহাদ সেন সেচ্ছায়, খুশিমনে তাদের স্থাবর-অস্থাবর, সম্পত্তি – প্রপার্টি, প্রজেক্ট সকল কিছু আমার নামে লিখে দিচ্ছেন। এবং তার বিনিময়ে আমি রিদ খান এই প্রজেক্ট হতে পাঁচ % শেয়ার দান করছি স্বর্গীয় শ্রী সৈয়দ সেন ও তার ছেলের নামে।
রিদের কথার প্রেক্ষিতে সম্মতি জানিয়ে তাৎক্ষণিক বলে উঠে আসিফ…
—” ভাই স্বর্গীয় কেন? সৈয়দ সেন তো এখনো বেঁচে আছে তাহলে?
—” ডিল সাইন করার পর হার্ট অ্যাটাক মারা যাবে বেচারা। তাই আগবাগ স্বর্গীয় লিখে রাখবি আরকি।
রিদের কথায় ভয়ে আষ্টশ হয়ে যায় সৈয়দ। রিদ সম্পর্কে তাদের ধারণা আছে। এবং রিদের পাওয়ারকেই কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবসাটা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন তিনি এটাও সত্য। কিন্তু ছেলের বোকামির জন্য সবকিছু হারাতে হবে এবার রিদের হাতে। তাই ভয়াৎ দৃষ্টিতে উত্তেজিত কন্ঠে বারবার রিদের কাছ থেকে ক্ষমা চাচ্ছেন তিনি। রিদ শুনলো না তার করা অনুরোধ বাণী গুলো। কর্ড়া আদেশে আসিফকে বলে বের হয়ে যা কনফারেন্স রুম থেকে। আরাফ খান হতভম্ব দৃষ্টিতে এতক্ষণ রিদের কঠোরতা দেখে। রিদকে বের হয়ে যেতে দেখে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে হাতের ইশারায় সৈয়ন সেনকে আশ্বস্ত করে তিনিও রিদের পিছন পিছন ছুটে যায়। বাহিরে এসে রিদের পিছন থেকে ডেকে বলে উঠেন তিনি….
—” কি করছিস রিদ ডিল পছন্দ না হলে রিজেক্ট করে চলে আয়। অযথা উনাদের ভয় দেখাচ্ছিস কেন?
দাঁড়ালো না রিদ। চোখ মুখ শক্ত করে সামনের দিকে ধুপধাপ পা ফেলে হাঁটতে হাঁটতে বললো…
—” আই মিন ইট দাদাভাই। আমি কোনো রোড সাইড গুন্ডা নয় যে ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দিব। আমি ছেড়ে দিতে শিখিনি। তাছাড়া সহজে সবাইকে ছেড়ে দিলে রিদ খান নামক কাউকে তাঁরা ভয় পারে না। মানুষের মন থেকে রিদ খানের নামের ভয় কমে আসবে। নিজের ক্ষমতা বহাল রাখতে কিছু মানুষ বুলি, পিষ্ট আমাদের হাতে হতেই হয়। এটা সাধারণ ব্যাপার। ক্ষমতা আসনে ঠিকে থাকতে হলে মানুষের মনে ভয় থাকাটা জরুরি। তারজন্য এসব সাধারণ ব্যাপার দাদাভাই।
আরাফ খান নাহুশ হলেন রিদের বাচন বংগিতে। রিদের এমন বেপরোয়া জীবন মোটেও পছন্দ নয় উনার। তাই তিনি অনেক চেষ্টা করেও রিদকে ফেরাতে পারেনি এই জীবন থেকে। বরং উল্টো হয়েছে রিদ নিজেই পরিবারের সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তিনি এখন চুপ থাকেন রিদকে কিছু বলে না। নিরাশ হয়ে অসন্তুষ্টি বংগিতে আবারও বললো আরাফ খান।
—” রিদ এমনটা যাতে নাহয় নিজের পরিবার হারিয়ে ফেললি। নিজের প্রিয় জিনিসটাও তোর ক্ষমতার অতলে হারিয়ে গেলো চিরতরে। প্রিয়জন ছাড়া! পরিবার ছাড়া! থাকতে পারবি তো শুধু ক্ষমতা দাপটে?
রিদ উত্তর করলো না আরাফ খানের পরপর প্রশ্নে। মোট কথা! তার প্রশ্ন গুলোই পছন্দ হয়নি। বিরক্তির ভাজ কপালে ফেলে চলে যায় নিজের কেবিনের দিকে। আরাফ খান হতাশ দৃষ্টি আওড়ায় রিদের যাওয়া দিকে। নীরবে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে তিনিও নিজের কেবিনে ঢুকে যায় পরপরই।
~~
কেবিনের দরজা টেনে রুমে প্রবেশ করতেই খানিকটা চমকে উঠে রিদ। বিরক্তি ভাজ পড়া কপালটা মূহুর্তেই শীতল হয়ে যায় সামনের দৃশ্য দেখে। এতক্ষণ যাবত বিগড়ে যাওয়া মেজাজটাও চটিয়ে শান্ত হয়ে আসে মায়াকে দেখে। যতোটা তিক্ত ছিল তখন কনফারেন্স রুমে ততটাই নরম শীতল হয়ে আসে মায়াকে দেখে। সে দেখেছিল মায়াকে নিজের কেবিনে চকলেট ঝুড়ি দু’হাতে ঝাপটে ধরে ঢুকতে। রিদ আসতে চেয়েছিল তখন কিন্তু উটকো কথোপকথন কারণে মাথা থেকে ছুটে গিয়েছিল মেয়েটি তার কেবিনে ঢুকিছে। রিদ হালকা ঘাড় বাঁকা করে উঁকি মেরে দেখে মায়া চকলেটের ঝুড়ির নিয়ে কি করছে? বুঝতে পারে মায়া চকলেট নিজের এপ্রোনের দুই পকেটে ঢুকাচ্ছে যতটা পারছে ততটা। মায়াকে দেখে বুঝাই যাচ্ছে সে এই মূহুর্তে চকলেট চুরি করাই মহা ব্যস্ত। যার কারণ রিদের আগমনও টের পাইনি সে। রিদ আস্তে করে রুমের দরজা লক করে দেয় ভিতর থেকে। পকেটে দুহাত গজিয়ে দরজার সামনে হেলিয়ে দাঁড়ায়। মনোযোগ সহকারে দেখতে থাকে মায়ার চুপিসারে চুরি করার কর্মকাণ্ড।
সময় নিয়ে রিদের আনা সুস্বাদু চকলেট গুলো মায়া নিজের জায়গায় জায়গায় এপ্রোনের পকেট গুলোতে ঠেসে ঠুসে উচু করে চকলেট ঢুকিয়ে উঠে দাঁড়ায় সে। নিজের ছোট ছোট হাত দুটোতে একত্র করে যতগুলো সম্ভব চকলেট নিয়ে বুকের সাথে চেপে ধরে পরে যাওয়া ভয়ে। ধীরে গতিতে সামনের দিকে ঘুরে দাঁড়ায় মায়া। ব্যস্ততায় দুগাল উচু করে এখানো মুখভর্তি চকলেট চাবাচ্ছে সে। রিদকে দেখলো না মায়া। দৃষ্টি স্থির নিজের বুকের দুহাতে চেপে ধরা চকলেট গুলোর উপর। ধীর পায়ে দুই কদম এগোতেই কানে আসলো রিদের কন্ঠ। মায়া চমকালো, ভড়কালো, হতভম্ব হয়ে সামনে তাকাতেই চোখে পড়লো রিদের নিবাক বংগি।
—” কি ম্যাডাম? চুরি করা শেষ?
মুখ ভর্তি চকলেট নিয়ে চোয়াল ঝুলে যায় মায়ার। চাবানো বন্ধ করে হা হয়ে তাকিয়ে থাকে রিদের দিকে। চোখে মুখে আতংকিত ভাব চুরি ধরা পড়ার ভয়ে। নীরবে চুরি করতে গিয়েও ধরা পড়ে যাবে রিদের সামনে তার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না মায়া। কে, কার? চকলেট গুলো তাও জানা নেই মায়ার। হাঁটতে হাঁটতে ভুল বশত চলে আসে এই রুমে। ভাগ্যক্রমে রুমে এসে চকলেট ঝুড়ি দেখে ফেলে। ঝুড়িতে বড় বড় অক্ষরে মায়া নিজের নামটা দেখে প্রথমে মনে করে এই ঝুড়ি ভরা চকলেট তারজন্যই এনেছেন আরাফ খান। তাই কোনো দিক বিবেচনা না করে ঝুড়ির পকেট ছিঁড়ে খেতে শুরু করে। কিছুটা খাওয়ার পর নিজের মনে করে ঝুড়িটা সাথে করে নিয়েও গিয়েছিল সে। মধ্যে রাস্তা থেকে ফিরে আসলো এই ভেবে যদি এটি তাঁর দাদাজানের নাহয়ে অন্যকারও হয় তো? তাহলে নিশ্চয় যার চকলেট সে না পেয়ে মন খারাপের কান্না করে বসবে মায়ার মতো করে? তাই মায়া দয়ালু মনে পুনরায় ফিরে এসে জায়গায় চকলেট জায়গায় রেখে দিল ঠিকই, কিন্তু নিজের জন্য বেশ কিছু চকলেট চুরি করে নিল যতটা মায়ার হাতে, পকেটে, মুখে নিচ্ছে ততটা। কিন্তু অত্যাশিত ভাবে রিদের আগমন ঘটায় ধরা পড়ে গেলো সে। রিদ মায়াকে চোয়াল ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কয়েক কদম এগিয়ে আসে মায়ার দিকে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে মায়াকে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত পরখ করে ভ্রুঁ কুঁচকে বলে উঠলো…
—” দিনে দুপুরে ডাকাতি তাও আবার আমার চকলেট উপর? সাংঘাতিক চোর তো আপনি ম্যাডাম?
মায়ার চুরিকৃত চকলেটের মালিক রিদ নামটা শুনে মূহুর্তেই চোখ যেন কোঠা থেকে বের হয়ে আসার উপক্রম মায়ার। ভুল জায়গায় ভুল চুরিটা করে ফেলেছে সে? এখন রিদ ভাইয়াকে কিভাবে বুঝ দিবে সে? তার জীবনে যত ভুল আছে সব কেন রিদ ভাইয়ার সামনেই হয়? অন্য কারও সাথে কেন হয়না? মায়া একরাশ কষ্ট ভারাক্রান্তে জর্জরিত হলো ভাবলো, তাঁর রিদ ভাইয়া নিশ্চিত তাকে ভুলন্তর কন্যা ভাবছে। নাহয় ভুলন্তচুর। নিজের ভাবনায় কষ্ট লাগলো মায়ার। ভয়ভীত চোখ তুলে তাকালো রিদের কুঁচকানো চোখের দিকে। মুখের চকলেট চিবুলো ধীরে ধীরে। কি বলবে রিদকে ভেবে পেল না। মুখের ভাষা যেন হারিয়ে গেল গলায়।
অস্থির চোখ দুটো রিদের থেকে সরিয়ে এক পলক দেখে নিল নিজের হাতের চকলেট গুলো মায়া। কিছু একটা ভেবে নিল মনে মনে। নিজের ভাবনায় চট করে চোখ তুলে তাকায় রিদের দিকে তাৎক্ষণিক সমাধানে আস্তে করে এগিয়ে দেয় নিজের হাতের চকলেট গুলো রিদকে। রিদ বুঝলো না মায়ার মনোভাব। কপাল কুঁচকে তাকায় মায়া দিকে। মায়া রিদের কুঁচকানো কপালে ভাব চোখে ইশারায় বুঝায় চকলেট গুলো নিতে। যথারীতি রিদ দুহাত মেলে ধরতেই মায়া নিজের হাতের সকল চকলেট ঢেলে দেয় একত্রিত দুহাতে ভাঁজে। একে একে মায়ার নিজের এপ্রোনের পকেটে হাত ঢুকিয়ে চকলেট বের করে রাখছে রিদের দু’হাতের ভাঁজে। সম্পূর্ণ চকলেট রিদকে ফিরিয়ে দিতে দিতে মুখের খাওয়া চকলেট গুলোও শেষ হয়ে যায় মায়া। রিদের হাতে চকলেট গুলো তুলে দিয়ে অপরাধী গলায় আস্তে করে বলে উঠলো…
—” আমি চুরি করিনি।
কপাল কুঁচকে এক পলক চকলেট গুলো দেখে নিল রিদ। মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে…
—” প্রবাদটা এমন হয়ে গেল না যে, চোর বলছে আমি রাতে চুরি করবো না আপনি দরজা জানালা খোলে ঘুমান?
মায়া হাসফাস করলো। নিজের সাফাইয়ে মিথ্যা বলে উঠলো রিদকে…
—” সত্যি বলছি চুরি করিনি আমি। শুধু চকলেটের ঝুড়িটা নিচে পড়ে ছিল তাই আমি উঠে রেখেছিলাম। পরে ভাবলাম আমি চলে যাওয়ার পর যদি কেউ চকলেট গুলো চুরি করে ফেলে তাই নিজের সাথে করে নিয়ে যাচ্ছিলাম সেইফ রাখার জন্য।
মায়ার কথায় একটা ভ্রুঁ উঁচু পাশের ঝুড়িটা দেখে ন্যায় রিদ।
—” আচ্ছা! তারজন্যই বুঝি, ঝুড়ি ছিঁড়ে মুখে আর পকেটে রেখে চকলেটের হেফাজতে করছিলেন আপনি?
পুনরায় যুক্তি দেখিয়ে বললো মায়া…
—” ঝুড়িটা ওজন ছিলতো অনেক। নিতে কষ্ট হচ্ছিল আমার। তাই একটু করে প্যাকেট ছিঁড়ে চকলেট গুলো পকেটে রেখেছিলাম সেইফ রাখা জন্য।
—” আচ্ছা! কিন্তু ঝুড়ির হাল বেহাল দেখেতো মনে হচ্ছে না আপনি একটু করে ছিঁড়াছেন ম্যাডাম?
আড়চোখে তাকায় মায়ার পাশের টেবিলের দিকে। ঝুড়ি হতে এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে চকলেট পড়ে থাকাতে দেখে ঠোঁট উল্টায় মূহুর্তে। রিদের সামনে না বুঝার ভান ধরে ইনোসেন্ট চেহারায় বললো…
—” আমি একটু করেই ছিড়ে ছিলাম। বাকি প্যাকেটা কিভাবে ছিঁড়লো আমি কি জানি।
—” সেটায় তো? নিশ্চিত চকলেট গুলোর হাত পা ছিল তারজন্য নিজেই লাফাতে লাফাতে ঝুড়ির প্যাকেট ছিঁড়ে বের হয়ে গেছে তাই না?
আগের ন্যায় ঠোঁট উল্টিয়ে বললো…
—” আমি কি জানি।
—” আহ ম্যাডাম! আপনি আর আপনার যুক্তি দুটোই অসাধারণ। তাই চোরকে মনে ধরছে আমার। আপনাকে বাঁধিয়ে ফ্রেম করে দেয়ালে টাঙ্গিয়ে রাখবো। আজকাল এমন সুন্দরী ইনোসেন্ট চোর পাওয়া বিরল। আমি পাইছি তাই হাত ছাড়া করার যাবে না মোটেও।
আতংকিত চোখে মেলে তাকায় মায়া। ভয়ে জড়সড় হয়ে দাঁড়ায় রিদের সামনে। নিজেকে বাঁচানোর জন্য পুনরায় যুক্তি দেখিয়ে বললো মায়া…
—” আমি কি ইচ্ছা করে চুরি করতে চাইনি তো? চকলেটের ঝুড়ি আমার নাম ছিল তাই নিজের মনে করে নিয়েছি। বিশ্বাস না করলে আপনি দেখুন চকলেট ঝুড়িতে আমার নাম লেখা। দেখুন! (ঝুড়িটা দেখিয়ে)
রিদ স্বীকার উক্তিতে বলে…
—” জ্বিই! ঐটা আমার শশুরের মেয়ের নাম।
মায়ার ভয় বাড়লো। বুঝতে পারলো ভুল জায়গায় ভুল চুরিটা করে ফেলেছে সে। এখন রিদ ভাইয়ার থাপ্পড়ও খেতে হবে ফ্রিতে। রিদের শক্ত হাতের থাপ্পড় গুলো মনে করতেই উত্তেজিত বংগিতে চট করে নিজের দুগাল ঢেকে ন্যায় দুহাতে বাঁচা জন্য। রিদের সামনে থমথমে বংগিতে দাঁড়িয়ে নিজেকে বাঁচানো জন্য পুনরায় যুক্তি দেখিয়ে অপরাধী গলায় রিদকে বলে উঠে…
—” নামে নামে জমে টানে দাদী বলে। তাই নামে নামে জমে টানতে পারলে নামে নামে চকলেটও টানে ভাইয়া। আপনার গার্লফ্রেন্ডের নামের সাথে আমার নাম মিল আছে। তাই আমিও এই চকলেটের ভাগ অধেক পাই ভাইয়া।
মায়ার মুখে পরপর ভাইয়া ডাকটা পছন্দ হলো না রিদের। বিরক্তি বাড়ে সেই সাথে বাড়ে রাগও। নিষেধ করার পরও মেয়েটির আগবাড়িয়ে ভাইয়া ডাকটা মোটেও পছন্দ হয়না তার। তাই তপ্ত মেজাজ দেখিয়ে মায়াকে বলে উঠলো তাৎক্ষণিক রিদ…
—” এই মেয়ে বারবার ভাইয়া ডাকবা না। তোমার কোনো ভাইয়া টাইয়া হয়না আমি। সম্পর্ক সূত্রে স্বামী ডাকবা নয়তো না।
রিদের রাগান্বিত কথায় চুপসে যায় মায়া। কোনো রুপ বাক্য না বয়ে নীরবে মায়া দুলিয়ে সম্মতি জানায় রিদকে। মায়ার সম্মতি বুঝে মূহুর্তেই শান্ত হয় রিদ। কিন্তু মায়ার পূর্বের কথার রেশ টেনে পুনরায় বলে উঠে…
—“বুঝিয়েন কিন্তু ম্যাডাম! চকলেটের অধেক ভাগ নেওয়া মানে আমার গার্লফ্রেন্ড অধেক ভাগ নেওয়া। মানে আমার গার্লফ্রেন্ডের অধেক অধিকার। এখন আমার গার্লফ্রেন্ড আমার সাথে যা করে আপনিও কিন্তু তাই তাই করবেন আমার সাথে। না করা যাবে না কিন্তু। কি পারবেন তো করতে?
মায়া রিদের কথার অর্থ বুঝলো কি বুঝলো না তা ধারণা নেই রিদের। তারপরও মায়া নিজের মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায় রিদকে। অথাৎ ‘সে পারবে ‘ রিদ বাঁকা হাসে। মূলত চকলেট গুলো রিদ মায়ার জন্যই আনিয়ে ছিল। সকালে মায়া চকলেট খাওয়ার জন্য বায়না করেছিল হেনা খানের কাছে। রিদ শুনেছিল সেটা। চকলেট গুলো এমনিতেই রিদ এখন বাসায় পাঠাতো আসিফকে দিয়ে মায়ার কাছে। কিন্তু তার আগেই মায়া নিজেই চকলেট অবধি পৌছে গেছে। রিদের তিক্ততা মনটা শীতল হয় যখন মায়ার চকলেটের মাখোঁ মাখোঁ মুখখানা দেখে। মনে হয় এই নারীতেই তার সকল ক্লান্তির অবসান। এই মেয়ে পাগলামিতে কেটে যাবে দিনের পর দিন তাঁর।
রিদ দুই কদম এগিয়ে গিয়ে হাতের চকলেট গুলো পুনরায় ঝুড়িতে রেখে লাফিয়ে উঠে বসে টেবিলে উপর। হাতে ইশারায় মায়াকে ডাকে নিজের কাছে…
—” এদিকে আসো।
চলিত……
Share On:
TAGS: দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২, রিক্তা ইসলাম মায়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা) সিজন ২ পর্ব ১
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৫
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ৬
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৮
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৬
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ২৭
-
ডাকপ্রিয়র চিঠি পর্ব ১৪
-
দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ১ গল্পের লিংক
-
দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৭