Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ২৪


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা) সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

২৪
—” আচ্ছা তুমি কি আমার জন্য হালাল নাকি হারাম?

মায়া নিরুত্তর। রিদ আবারও বলে উঠে আগের ন্যায়…

—” হারাম হলে সেটা আমি মানিনা। আর যদি হালাল হও তাহলে আমার এখন কি করার উচিত তোমার সাথে? চুমু খাওয়া উচিত? আচ্ছা? বিয়ে তো হয়েছে অনেক দিন হলো এখন কি তোমার সাথে আমার বাসরটাও করে নেওয়া উচিত?

রিদ মোহিত হয়ে আরও গভীর ভাবে জড়িয়ে ন্যায় মায়াকে। মায়া তরতর করে কেঁপে উঠে। নিজের কম্পিত হাত রাখলো রিদের কাঁধের উপর। নিজের কাঁধে মায়ার স্পর্শ পেয়ে আরও মোহিত হয়ে উঠে রিদ। নড়েচড়ে উঠে নিজের মাথাটা হালকা উঁচু করে ঠোঁট চেপে ধরে মায়া গলায়। মায়া চমকে উঠে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে করে বসে মস্ত বড় ভুল। নিজের উত্তেজনা দমাতে না পেয়ে করে বসে অপ্রত্যাশিত কান্ড রিদের সাথে। রিদ মায়ার গলায় নিজের ঠোঁট ছুঁয়াতেই ছিটকে সরলো মায়া। নিজের দুহাতে রিদকে ধাক্কা দিয়ে মনের অজান্তেই কাঁপা হাতে ঠাস করে চড় বসালো রিদের বামগালে। এক মূহুর্তের জন্য ঝংকার তুলে সামন্য সেই চড়। থমকে যায় রিদ। সেই সাথে থমকে যায় নিস্তব্ধ নিঘুম পরিবেশ। মধ্যে রাতের দেয়াল ঘড়ির সেকেন্ডের কাটার শব্দ ছাড়া কিছুই আসলো না কানে। মূহুর্তেই যেন নিস্তিয়ে যায় আবেগিয় পরিবেশটা। মায়া নিজের অজান্তে রিদকে থাপ্পড় মারায় ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজের দুহাতে মুখ চেপে ধরে আতংকিত দৃষ্টিতে রিদের দিকে তাকিয়ে থেকে। রিদ থমকে আছে। দৃষ্টি স্থির ফ্লোরের উপর। হয়তো নিজের সাথে কি হয়েছে বিষয়টি এখনো বোধগম্য হচ্ছে না। মায়ার নিজের মাঝে ভয়ে সাথে সাথে অপরাধী বোধ কাজ করলো তীব্র। রিদের হঠাৎ ছুঁইয়া উত্তেজিত করে বসলো ভুল। কিন্তু এখন তীব্র আতংকিত হয়ে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে রিদের সামনে মুখ চেপে ধরে। মায়ার কান্নার শব্দ কানে যেতেই চোখ মুখ শক্ত হয়ে আসে রিদের। দু’হাত মুষ্টি বদ্ধ করে নিয়ে টায় জায়গায় বসে থাকে। কয়েক সেকেন্ড সময়ের ব্যবধানে বিকট শব্দে ঝংকার তুলে ডাইনিংয়ে। রিদের সামনে থাকা ডাইনিং টেবিলের উপর নুডলস প্লেটসহ, পানির বোতল, কফির মগ ছিটকে পড়লো একসাথে ফ্লোরে। রিদ রাগে ছুড়ে ফেলে সবকিছু। রাগ কমলো না বরং আরও বাড়লো। রিদের এমন কান্ডে ভয়ে লাফিয়ে উঠে মায়া। তারপরও টায় জায়গায় জড়সড় হয়ে দাড়িয়ে আছে। রিদকে সে থাপ্পড় মারতে চাইনি কিন্তু তখন মনের অজান্তেই ভুল করে মেরে ফেলেছে। ভিষণ বড় ভুল করে ফেলেছে সে। এখন কি হবে? সেটা ভাবতেই ভয়ে কান্না দলা পাকিয়ে আসছে নিজের মধ্যে। মায়া কান্নার বেগ বাড়ে। সেই সাথে বাড়ে রিদের রাগ। রিদ সবকিছু ছুড়ে ফেলে তেড়ে যায় মায়ার দিকে। শক্ত হাতে মায়ার কব্জি টেনে ধরে ঠাস করে থাপ্পড় বসায় মায়ার গায়ে। রিদের থাপ্পড়ের বেগটা এতটাই প্রহর ছিল যে মায়া তাল সামলাতে না পেরে ছিটকে পড়লো ফ্লোরে। রিদ সেদিকে তাকিয়ে থেকে রাগে রি রি করে বলে উঠলো…

—” বেয়াদবের বাচ্চা! থাপ্পড় মারলি কেন তুই? আমাকে তোর ছোট মনে হয়?

মায়া ফ্লোরে উপুড় হয়ে ডুকরে কেঁদে উঠে। হাতে চুড়িও ভাঙ্গে স্বল্প। রিদ কথা গুলো বলতে না বলতেই পুনরায় মায়ার বাহু ধরে টেনে দাঁড় করায় নিজের সামনে। নিজের দুহাতে মায়ার দুবাহু শক্ত করে চেপে ধরে মিশায় নিজের সাথে। মায়া কান্না জড়িত অশ্রু ভেজা চোখ পড়লো রিদের অগ্নি দৃষ্টিতে। রিদের লাল লাল চোখ জোড়ায় ভেসে ওঠলো প্রচন্ড রাগ ক্রুদ্ধ। মায়ার রিদকে দেওয়া থাপ্পড়টা হালকা হাতে হলেও রিদের অপমান বোধ করাটা ছিল তীব্র। আর সেই অপমান বোধে থেকেই অগ্নির মতো জ্বলে উঠা রিদের। মায়ার বাহু টেনে নিজের আরও কাছে নিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলে উঠলো….

—” থাপ্পড় মারিস আমাকে? আমার ছুঁয়া তোর এতো খারাপ লাগে? আমি ছুঁয়ে দিলেই তোর যত সমস্যা হয়? আয়নের বুকে ঢলে পড়তে তোর সমস্যা হয়না? তখন আনন্দ পাস মজা লাগে তাই না? সুখ খুঁজে পাস নাগরের বুকে। আমাকে বুকে কি আমি এসিড ছিটিয়ে রেখেছি যে আমি ছুঁলেই তোর জ্বলে উঠে শরীর? হ্যাঁ?

রিদের মুখে আয়নের নামটি শুনে আরেক দফা চমকে উঠে মায়া। আজ সন্ধ্যারাতে যে ঐ বিয়ের ঘটনাকে ঘিরে মায়া আর জুঁই একত্রে আয়নকে জড়িয়ে ধরেছিল সেটা রিদ কিভাবে জানলো সেই বিষয়টি বোধগম্য হলো না মায়ার। তবে রিদের ভয়ে প্রশ্ন করাটাও হলো না ওর। এই মূহুর্তে মায়া নিজেকে রিদ থেকে বাঁচাতে ব্যস্ত। ভয়ে আতংকে সিঁটিয়ে আছে রিদের হাতের দাবাতে। চোখের পানি ফেলছে অঝোর ধারায়। বাহুর ব্যথায় কুঁকড়ে উঠছে বারবার। ব্যথায় হালকা ছটফট করতে করতে কান্না জড়িত গলায় বললো…

—” আমার লাগছে তো ভাইয়া।

কথাটা পছন্দ হলো না রিদের। আরও শক্ত করে চেপে ধরে মায়ার দুবাহু। মূহুর্তেই ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে মায়া। চোখে টলমল পানি ন্যায়। রিদ মায়ার বাহু চেপে ধরে হালাক উঁচু করে ধরে নিজের মুখ বরাবর। মায়া দুই পায়ে ভর দিয়ে উঁচু হয়ে দাঁড়ায় রিদের সামনে। অগ্নি দৃষ্টিতে মায়ার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে বলে….

—” লাগুক! বেয়াদব নারীদের লাগায় উচিত। আমি তোর সাথে দুদিন সামান্য কি ভালো ব্যবহার করেছি, তুই তো সোজা আকাশে উড়তে শুরু করেছিস। দেমাগ দেখাস আমাকে? শরীরের তেজ বেড়ে গেছে? থাপ্পড় মারিস? জানের ভয় নেই মনে হয় তোর? তাই না? ওয়েট!

কথা গুলো বলেই ক্ষেপ্ত বংগিতে হাত বাড়িয়ে ডাইনিং টেবিলের উপর থেকে নুডলসের কাটা চামচটি হাতে তুলে ন্যায় রিদ। কয়েক সেকেন্ড ব্যবধানে মায়া বিষয়টি বুঝতে না বুঝতেই রিদ সেই কাটা চামচটি দক্ষ হাতে চেপে ধরে মায়ার গলায়। মায়া শ্বাস আটকে আসে রিদের ভয়ে। ভয়ংকর কাঁপনি দিয়ে কেঁপে উঠে মায়া সারা শরীর। এই বুঝি রিদের হাতে নিজের প্রাণটা অকালে হরালো সে। মায়ার শ্বাসকষ্টের কারণে ঠোঁট মেলে দেয়। সেই সাথে বড় বড় নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘামের রেশ। রিদ নিজের অন্যহাতে মায়ার চুলে মুষ্টি ধরে নিজের মুখ বরাবর আনে। মায়ার গলায় দক্ষ হাতে কাটা চামচটি চালাতে চালাতে ক্ষেপ্ত বংগিতে বলে উঠে..

— এবার দেয় মেরে? শেষ করি তোর রোজ রোজ কাহিনি হ্যাঁ? কি মনে হয় তোর নিজেকে? আমি পাগল তোর পিছনে? পাগল মাই ফুট! তোর মতো মেয়েদেকে রিদ খান ফিরেও দেখে না? কখনো দেখবো না।

রিদ থামে। নিজের লাল লাল চোখ জোড়া দিয়ে পুনরায় চোখ বুলাই মায়ার টলমল চোখে। মায়ার চুলের মুষ্টি ধরে হালকা ঝাকিয়ে আরও কাছে নিয়ে আসে নিজের। দুজনের উষ্ণ নিশ্বাস একে অপরের উপর আছড়ে পড়ছে সমান তালে। ডানহাতে কাটা চামচটি দক্ষ হাতে আরও জোড়ে চেপে ধরে মায়ার গলায় রিদ। গলার ব্যথায় মুখ দিয়ে মৃদু চিৎকার বের হয়ে যায় মায়ার। সেই চিৎকারটাও পছন্দ হলো রিদের। দ্বিগুণ রাগে জ্বলে উঠলো রিদের মস্তিষ্ক। তেতে উঠে বললো মায়াকে…

—” আমার ছুঁয়া তোকে ব্যথা দেয়। তোর নাগর তোকে সবসময় সুখ দেয় তাই না? যাহ! আজকের পর থেকে কক্ষনোই তোকে আমি ভুলেও ছুঁয়ে দেখবো না। তুই থাক তোর মতো করে। আমি আজই চলে যাব এই দেশ ছেড়ে! তোকে ছেড়ে। আর ফিরবো না এই দেশে। কিন্তু তারপরও তোকে আমি অন্য কারও হতে দিব না। কক্ষনো না। নিজেও সারাজীবন কুমার হয়ে থাকব।তোকেও কুমারী রাখবো। তারপরও তোকে ছাড়ব না আমি। মনে রাখিস তুই। যাহ!

কথা গুলো শেষ করেই ধাক্কা দিয়ে ছিটকে সরালো মায়াকে নিজের থেকে। মায়া গিয়ে পড়লো রিদ থেকে খানিকটা দূরে। ডাইনিং টেবিলের কোণায় গিয়ে মায়া হাতে কব্জি ঠেকলো। ছিঁলে গেল সাথে সাথে। মায়া শব্দ করে কেদে উঠে রিদের এমন আরচণের। গলার জায়গায়টাও টিরটির করে জ্বলছে মায়ার। হয়তো ছিঁলে গেছে রিদ চামচটি গলায় চেপে ধরাতে। মায়া টেবিলে উপর ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ায় কোনো রকম। শরীর এখনো ভয়ংকর কাঁপছে রিদের ভয়ে। অশ্রু ভেজা আহত দৃষ্টিতে রিদের দিকে তাকায়। তখন কানে আসলো রিদের শেষ বাণী….

—” আমাকে তুই কক্ষনোই পাবি না। আর না আমি তোকে কখনো অন্যকারও হতে দিব। তুই একা থাকবি। আমি তোকে একা রাখব সারাজীবন। আমার তোকে চাই না। ইউ আর নট মাই টাইপ। কিন্তু তোর পাশেও আমি অন্য কাউকে চাই না। না তুই আমার হবি। আর না অন্য কারও। তোর কপালে শুনি লেগে গেছে। আমার ছুঁয়া যখন তোর খারাপ লাগে তখন তুই ছুঁয়া ছাড়ায় থাকবি সারাজীবন। যাহ।

কথা গুলো বলে আর দাঁড়ালো না রিদ। রাগী পায়ে ধুপধাপ শব্দ করে চলে গেল বাহিরের দিকে। কোথায় গেল জানা নেই। মায়া পিছন থেকে অনবরত কান্নারত অবস্থায় রিদের যাওয়া দিকে তাকিয়ে থাকে। মায়া আটকাতে চাই রিদকে। মায়ার মন বলছে, মায়া রিদকে আটকালে, ঠিক রিদ আটকে যাবে। দেশ ছেড়ে যাবে না কোথাও। কিন্তু মায়ার নিজের দ্বিতীয় সত্তাটা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলছে” এই খারাপ লোকটাকে যেতে দে মায়া। খবরদার একদম আটকাবি না এই খারাপ লোকটাকে। এই লোকটা ভালো নয় ভিষণ খারাপ। তোকে মারতে চাই। আর একজন খুনি কখনোই ভালো হয়না মায়া”।

নিজের দ্বিসত্তার টানা পুড়ায় আটকানো হলো রিদকে মায়ার। পরদিন সকাল বেলা নাস্তার টেবিলে বসতেই মায়ার কানে আসলো রিদ বাড়ি ছেড়ে পুনরায় চলে গেছে কাউকে কিছু না জানিয়ে। রিদের হুটহাট কাউকে কিছু না জানিয়ে চলে যাওয়াতে হেনা খান ভিষণ কষ্ট পায় সেদিন। কারণ আর যায় হোক না কেন রিদ কখনো হেনা খানকে না জানিয়ে দেশের বাহিরে যায়নি আজ পযন্ত এমন ভাবে। রিদ বাংলাদেশে একদিন থাকুক বা এক ঘন্টা হেনা খানকে অন্তত জানিয়েই দেশ ছাড়ে সে। মায়া রিদের হঠাৎ চলে যাওয়ার কারণটা জানলেও সেদিন চুপ করে বসে ছিল সে। কাউকে কিছু বলেনি রিদ সম্পর্কে। তবে সেদিন আয়নও লন্ডনে ফিরে গিয়েছিল নিজের এক্সামের তাগিদে। জুঁই গিয়েছিল তার একদিন পর ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে। তবে মায়া আর সেদিন যেতে চাইনি জুঁইয়ের সাথে ব্রাক্ষণবাড়িয়াতে। থেকে গিয়েছিল খান বাড়িতেই। কিছুদিনের মধ্যে মায়ার রেজাল্ট বের হয়। ভালো রেজাল্ট করায় আরাফ খান মায়াকে ঢাকা কলেজ ভর্তি করায় সাপ্তাহ খানিক হলো। দিনকাল ভালো যাচ্ছে মায়ার। তবে মায়ার বড় হওয়ার সাথে সাথে তীব্র শূন্যতাও কাজ করছে নিজের মাঝে। থেকে থেকে কাঁচা হাতে ডাইরি পাতায় পাতায় নিজের অসংখ্য অনূভুতি কথা জমা করছে মায়া। লিখছে নিজের মাঝে অজানা শূন্যতাকে ঘিরে অংশে বাক্য।

চলবে

দেওয়ানা_২

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply