দিশেহারা (৬৩)
সানা_শেখ
সোহার গোঙানি শুনে ঘুম ভাঙলো শ্রবণের। শ্রবণ উল্টো পাশ ফিরে শুয়ে ছিল এতক্ষণ। দ্রুত সোহার দিকে ফিরে ওর কাছে আসতে আসতে বলল,
“সোহা, এমন করছিস কেন? কী হয়েছে?”
বলতে বলতে সোহার গায়ে হাত রাখল, আর হাত রাখতেই চমকে উঠল। আগুনের মতো গরম হয়ে আছে সোহার শরীর। লাফিয়ে শোয়া থেকে উঠে লাইট অন করল দ্রুত। পুনরায় সোহার কাছে এসে ওকে ধরে উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,
“সোহা, এই সোহা, চোখ খোল। এই তোর জ্বর আসলো কখন? ডাকিসনি কেন আমাকে?”
“হু?”
“অনেক কষ্ট হচ্ছে?”
“হু।”
সোহার কপালে গলায় হাত ছোঁয়াল শ্রবণ। জ্বরের তীব্রতায় লাল হয়ে আছে সোহার ফরসা চেহারা। চোখের কোণা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে একফোঁটা দুফোঁটা করে। শ্রবণ কেমন দিশেহারা হয়ে উঠল, কী করবে না করবে ওর মাথা কাজ করছে না সোহার এই অবস্থা দেখে।
সোহার উত্তপ্ত গালে হাত রেখে ব্যাকুল হয়ে বলল,
“সোহা, এই সোহা। এই তাকা আমার দিকে।”
সোহা পিটপিট করে তাকাল একবার, শ্রবণকে নিজের উপর ঝুঁকে থাকতে দেখতে পেল। চোখ বন্ধ করে নিয়ে জ্বরের তীব্রতায় আবার গোঙাতে লাগল।
শ্রবণ সোহাকে ছেড়ে দ্রুত ফাস্ট এইড বক্স থেকে জ্বরের ঔষধ বের করল। সোহার জন্য যখন পেইন কিলার কিনতে গিয়েছিল তখন ফার্মেসীর ছেলেটা তিনটা জ্বরের ঔষধ দিয়ে দিয়েছিল। বলেছিল যদি জ্বর আসে তাহলে যেন ঔষুধ খাওয়ায় আর জ্বর না আসলে খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। ওরা যখন শুলো তখন তো সোহার জ্বর ছিল না, শরীর হালকা গরম ছিল তা-ই আর জ্বরের ঔষধ খাওয়ায়নি শ্রবণ।
জ্বরের ঔষধ খুলে হাতে নিল, আর এক গ্লাস পানি ভরে টেবিলের একপাশে রাখল। সোহার পাশে বসে ওকে শোয়া থেকে তুলতে তুলতে বলল,
“ওঠ, জ্বরের ঔষধটা খা।”
সোহা শ্রবণের বুকে শরীর এলিয়ে দিয়ে দুর্বল স্বরে বলল,
“খিদে পেয়েছে।”
ঔষুধটা সোহার মুখে পুরে দিয়ে পানির গ্লাস মুখে ধরল, সোহা পুরো এক গ্লাস পানি খেয়ে ফেলল এক চুমুকে। কাত হয়ে শ্রবণের বুকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে টি-শার্ট খামচে ধরে বলল,
“শীত লাগছে।”
“কী খাবি?”
“কিছু না।”
“খিদে পেয়েছে বললি।”
“খাব না। মাথা ঘুরছে, বমি পাচ্ছে। পুরো শরীর ব্যথা করছে।”
হুঁশে বেহুঁশে কথাগুলো বলে জ্বরের তীব্রতায় গোঙাতে লাগল আবার। শ্রবণ সোহার মাথার সঙ্গে গাল ঠেকিয়ে সোহার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। এই জ্বর কতক্ষনে কমবে? ফোন হাতে নিয়ে পাওয়ার বাটন চেপে টাইম দেখল, রাত তিনটা এগারো বাজে।
সোহা অস্থির হয়ে উঠল, দ্রুত বলল,
“ছাড়ো ছাড়ো, বমি আসছে।”
শ্রবণ কিছু বুঝে উঠতে পারল না, সোহা-ও শ্রবণের বুক থেকে সরার সুযোগ পেলোনা তার আগেই গলগল করে বমি করে শ্রবণের বুক ভাসিয়ে দিলো।
শ্রবণ রকেটের গতিতে সোহাকে বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে লাফিয়ে নেমে দাঁড়াল বিছানা ছেড়ে। গায়ে জমে থাকা বমি ফ্লোরে পড়ে গেল, সঙ্গে শ্রবণের পা দুটোও নোংরা করে দিলো। সোহা বিছানায় পড়ে বমি করছে এখনো। শ্রবণ নিজেকে সামলাতে পারল না, নিজেও গলগল করে বমি করে ফ্লোর ভাসিয়ে দিলো।
দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে আরো বমি করতে লাগল। বমি করতে করতে এখন আর গলা দিয়ে কিছু বের হচ্ছে না, শুধু ওয়াক ওয়াক করছে, মনে হচ্ছে পেটের ভুঁড়ি নাড়ি সব বেরিয়ে আসবে এখন।
গায়ের টি-শার্ট যে খুলবে সেই উপায়ও নেই। টি-শার্ট খুলতে গেলে সোহার বমি ওর মুখে লেগে যাবে। কোনো রকমে শাওয়ার অন করে ফ্লোরে ল্যাটা দিয়ে বসে পড়ল। শরীরের সব শক্তি যেন বমির সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। হাত-পা ছড়িয়ে বাচ্চাদের মতো কাঁদতে ইচ্ছে করছে এখন। এসব কী হলো! ওর সঙ্গেই কেন হলো? ছি! কী বিশ্রী জঘন্য ঘটনা! আবার ওয়াক ওয়াক শুরু করল।
গায়ের উপর বমি না করে এক গ্লাস বিষ খাইয়ে দিলেও এর চেয়ে ভালো ছিল। ছি! জঘন্য!
সব দোষ এই বিয়ের। না এই বা/লের বিয়ে করত, না এই বা/লের শিং মাছ কিনে আনত, না সোহা মাছ কা’টতে গিয়ে হাতে কাটা ঢুকাত, না সোহার জ্বর হতো, আর না তো এই বাজে বিশ্রী জঘন্য ঘটনাটা ওর সঙ্গে ঘটত।
“বা/লের বিয়ে করেছি, ভাল্লাগেনা। ও খোদা, উঠায় নাও।”
প্রায় আধা ঘন্টা পর ওয়াশরুম থেকে বের হলো শ্রবণ। শরীরে বডিওয়াশ ঘষতে ঘষতে শরীরের চামড়াই বোধহয় পাতলা বানিয়ে ফেলেছে।
ফ্লোরের দিকে নজর পড়তেই আবার ওয়াক ওয়াক শুরু করল।
কোনো রকমে নিজেকে সামলে কাবার্ডের সামনে এসে দাঁড়াল। ট্রাউজার বের করে পরে নিল দ্রুত। টাওয়েল খুলে টুলের উপর রেখে দাঁতে দাঁত চেপে সোহার কাছে এগিয়ে এলো। নিশ্চই বমি করে বিছানা ভাসিয়ে দিয়েছে।
সত্যি সত্যিই বমি করে বিছানা ভাসিয়ে দিয়েছে, সঙ্গে নিজের জামা কাপড়েও লাগিয়ে নষ্ট করে ফেলেছে। বিশ্রী গন্ধ আসছে। ঘৃণায় পেটের ভেতর মোচড়াতে শুরু করেছে আবার। সোহা ম’রার মতো পড়ে আছে, অজ্ঞান হয়ে গেল নাকি? আতঙ্কিত হয়ে হাত দিয়ে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলল,
“সোহা, এই জেগে আছিস?”
সোহা ক্ষীণ স্বরে সাড়া দিলো। শ্রবণ কী করবে ওর মাথা কাজ করছে না। সোহাকে এখন কে পরিষ্কার করবে? আর এই রুম-ই বা কে পরিষ্কার করবে? সোহা নিজেকে যে পরিষ্কার করবে সেরকম অবস্থায় নেই। জ্বরের ঔষধ খাইয়েও লাভ হয়নি, বমির সঙ্গে বেরিয়ে গেছে। ঔষুধ পেটে থাকলে এতক্ষণে জ্বর কমে যেত।
ফোস করে শ্বাস ছেড়ে সোহাকে শোয়া থেকে তুলে বসাল, আর সঙ্গে সঙ্গেই সোহার মেক্সিতে লেগে থাকা বমি শ্রবণের হাতে লেগে গেল। শ্রবণ দাঁতে দাঁত চেপে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিল। মেক্সির শুকনো অংশ দিয়ে হাত মুছে কোনো রকমে গায়ের মেক্সি খুলে দিলো। এক হাতে সোহাকে ধরে রেখে অন্য হাতে বিছানার চাদর টেনে সরিয়ে দিলো দ্রুত। শুকনো জায়গায় শুইয়ে ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে ঢেকে দিলো ভালোভাবে। ব্ল্যাঙ্কেট নিচের দিকে থাকায় ব্ল্যাঙ্কেটে বমি লাগেনি।
বিছানার চাদর তুলে নিয়ে ওয়াশরুমে রেখে এলো। ম্যাট্রেসের কিছুটা অংশ হালকা ভেজা ভেজা দেখাচ্ছে। পারফিউম এনে ভেজা স্থানে স্প্রে করে দিলো প্রথমে, তারপর সেখানে একটা শুকনো চাদর চার ভাঁজ করে বিছালো। আরেকটা চাদর এনে খাটের অর্ধেক অংশে বিছিয়ে সোহাকে সেখানে শুইয়ে বাকিটা বিছিয়ে দিলো।
বিছানা তো পরিষ্কার হলো, এখন ফ্লোর? এই ফ্লোরও এখন ওকেই পরিষ্কার করতে হবে। ভাল্লাগেনা। বিয়ে করলে কতকিছু করতে হয়! কত ঝামেলা! কত চিন্তা! আগে যখন একা ছিল কোনো চিন্তা করতে হয়নি, সন্ধ্যা হতে না হতেই ফ্ল্যাটে ফেরার তাড়া থাকেনি। আগে বাইরেই বেশি খাবার খেতো, মাঝরাত পর্যন্ত বাইরেই কাটিয়ে দিতো বন্ধুদের সঙ্গে। মাঝরাতে ফ্ল্যাটে ফিরত, ফ্রেশ হয়েই ঠাস করে শুয়ে পড়ত।
আজকে যদি একা থাকতো তাহলে এখন এসব করতে হতো নাকি? জীবনে যা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি আজকে সেসবই করছে সকাল থেকে। রাতে শোয়ার আগে হাড়ি-পাতিল থালা-বাসন সব ধুয়েছে, রান্নাঘর গুছিয়ে পরিষ্কার করেছে। আর এখন? ও আল্লাহ, এসব কী! এসব করানোর জন্য মাথায় বিয়ের ভূত ভর করিয়েছিলে?
ফ্লোর পরিষ্কার করে রুম স্প্রে দিয়ে নিল ভালোভাবে। এখন আর কোনো গন্ধ নেই। বিছানায় শুয়ে থাকা সোহার দিকে তাকাল। সোহা এখনো মৃদু স্বরে গোঙাচ্ছে।
ওয়াশরুমে এসে বালতিতে পানি নিল, বডিওয়াশের বোতল আর বালতি হাতে নিয়ে রুমে ফিরে এলো।
সোহাকে ঘুরিয়ে শুইয়ে দিয়ে মাথায় পানি ঢেলে দিলো। উতপ্ত মাথায় ঠান্ডা পানির ছোঁয়া পেতেই আবেশে চোখ বন্ধ করে নিশ্চুপ হয়ে রইল সোহা।
মাথায় পানি ঢালা হয়ে যেতেই টুলের উপর থেকে টাওয়েল এনে চুল মুছিয়ে দিয়ে বালতির পানিতে রাখল টাওয়েল। গায়ের উপর থেকে সরিয়ে নিল ব্ল্যাঙ্কেট। শীতে কুঁকড়ে গেল সোহা, কাচুমাচু হয়ে ব্ল্যাঙ্কেট খুঁজতে লাগল বিছানা হাতড়ে। ডান হাতটা আগের চেয়েও ফুলে গেছে।
শ্রবণ হাতে বডিওয়াশ নিয়ে সোহার গায়ে যেখানে যেখানে বমি লেগেছিল সেখানে সেখানে মেখে দিলো। টাওয়েলের পানি নিংড়ে ভেজা টাওয়েল দিয়ে পুরো শরীর মুছিয়ে দিলো যত্ন সহকারে। ভেজা টাওয়েলের ছোঁয়া পেয়েই চেঁচিয়ে উঠেছিল সোহা, বারবার চেষ্টা করেছে টাওয়েল সরিয়ে দিতে। শ্রবণকে বারবার বলেছে টাওয়েল সরিয়ে ব্ল্যাঙ্কেট দিতে, ওর শীত করছে।
শরীর মুছে ঠান্ডা করে ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে শরীর ঢেকে পা দুটো মুছিয়ে দিলো। কাবার্ড থেকে শুকনো মেক্সি এনে পরিয়ে ঠিক করে শুইয়ে দিয়ে ঢেকে দিলো আবার।
ওয়াশরুমে ফিরে এসে হাত-মুখ ধুয়ে নিল। রুমে এসে টি-শার্ট বের করে গায়ে জড়ালো। এতক্ষণ খালি গায়ে থাকায় পুরো শরীর হিম শীতল হয়ে গেছে। সোহা এখন একদম নিশ্চুপ হয়ে আছে, আরাম লাগছে বোধহয়।
তেলের বোতল হাতে নিয়ে সোহার কাছে এগিয়ে এলো। হাতের তালু ভরে তেল নিয়ে সোহার মাথার তালুতে ঘষতে শুরু করল আলতো হাতে। সোহা চোখ মেলে তাকাল শ্রবণের মুখের দিকে। চোখজোড়া লাল লাল হয়ে গেছে জ্বরের কারণে। ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়তে শুরু করল চোখজোড়া হতে। শ্রবণ গালে হাত রেখে বলল,
“অনেক কষ্ট হচ্ছে?”
সোহা শুষ্ক ওষ্ঠজোড়া নাড়িয়ে “না” বলল।
শ্রবণ কিছুক্ষণ পর বলল,
“তুই শুয়ে থাক আমি আসছি।”
সোহা চোখ মেলে তাকিয়ে মাথা নাড়ল দুদিকে। মৃদু স্বরে বলল,
“দূরে যেয়ো না আমার কাছ থেকে।”
“এখনই আসব।”
“না।”
শ্রবণ ঝুঁকে সোহার কপালে চুমু খেলো। ভেজা রুমালটা কপালের উপর দিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল দ্রুত পায়ে।
বেশ অনেক্ষণ পর রুমে ফিরে এলো শ্রবণ, হাতে গরম ধোঁয়া ওঠা স্যুপের বাটি। স্যুপের বাটি রেখে গ্লাসে পানি ঢেলে নিল। সোহার গালে হাত রেখে নরম স্বরে ডাকল,
“সোহা, সোহা, এই সোহা, ওঠ।”
সোহা ঘুমিয়ে পড়েছিল, শ্রবণের ডাকে পিটপিট করে তাকাল।
“ওঠ।”
“মাথা ঘুরছে।”
শ্রবণ ধরে তুলে পেছনে বালিশ দিয়ে হেডবোর্ডের সঙ্গে ঠেস দিয়ে বসাল। ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে গলা পর্যন্ত ঢেকে দিলো ভালোভাবে যেন শীত না লাগে।
স্যুপের বাটি হাতে নিয়ে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে বলল,
“হাঁ কর।”
“আবার বমি হবে।”
“হলে হবে, তুই হাঁ কর।”
“না।”
“হলে আবার পরিষ্কার করে দিবো, তুই খা। বমি করতে করতে পেট তো খালি করে ফেলেছিস।”
“পানি খাওয়ার পরেই পেটের ভেতর কেমন করছিল।”
“হাঁ কর।”
“তোমারো তো পেট খালি হয়ে গেছে।”
“আমিও খাব, তুই আগে খা।”
সোহা হাঁ করল। শ্রবণ ওকে খাইয়ে দিতে শুরু করল।
আস্তে আস্তে সবটুকু স্যুপ খাইয়ে জ্বরের ঔষধ খাইয়ে দিলো আবার, সঙ্গে একটা বমির ঔষুধও খাইয়ে দিলো। বমির ঔষুধ এখন সবসময় রুমে এনে রাখে সোহার জন্য। নিয়মিত বমির ঔষুধ খাওয়ার কারণে বমি করা অনেক কমে গেছে আগের চেয়ে।
“ওয়াশরুমে যাব।”
সোহার কথা শুনে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল শ্রবণ। এখন দাঁড়ালেই না আবার বমি করে দেয়।
“ওয়াশরুমে যাব।”
শ্রবণ সোহাকে ধরে নিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগোয়। সোহার মনে হচ্ছে পুরো দুনিয়া গোল গোল ঘুরছে। শ্রবণ ধরে রাখার পরও মনে হচ্ছে কাত হয়ে পড়ে যাবে এখনই।
সোহা ফ্রেশ হলে ওকে ধরে রুমে এনে বিছানায় শুইয়ে দিলো। ভালোভাবে ঢেকে দিয়ে বলল ঘুমোতে। নিজে স্যুপ খাওয়ার জন্য এলো ড্রয়িংরুমে। স্যুপ দুজনের জন্যই বানিয়েছিল। বমি করে ওর পেটেও কিছু নেই এখন। ফজরের আযান হয়ে গেছে, সকাল হতে বেশি দেরি নেই।
স্যুপ খেয়ে এসে রুম অন্ধকার করে সোহার পাশে শুয়ে পড়ল, সোহা ঘুমিয়ে গেছে আবার। সোহার কপালের উপর থেকে রুমালটা সরিয়ে দিয়ে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরে নিশ্চুপ হয়ে রইল। সোহার শরীর এখন শীতল হয়ে গেছে। কি জ্বরটাই না এসেছিল!
বাবু নড়ছে, শ্রবণ পেটের উপর ভালোভাবে হাত রাখল। বাবু কিছুক্ষণ নড়াচড়া করেই নড়াচড়া বন্ধ করে দিলো। শ্রবণ অন্ধকারের মাঝেই চোখ মেলে তাকিয়ে রইল। সোহা ভারী শ্বাস ফেলছে। পেটের উপর থেকে হাত সরিয়ে এনে সোহার বাম গালে রাখল। ডান লাগে আলতো চুমু খেয়ে আবার জড়িয়ে ধরে শুয়ে রইল।
চলবে………….
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১৩
-
দিশেহারা পর্ব ৮
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৮
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১০
-
দিশেহারা পর্ব ৬২
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৯
-
দিশেহারা পর্ব ৯
-
দিশেহারা পর্ব ৪৮
-
দিশেহারা পর্ব ৪৩
-
দিশেহারা পর্ব ৫১