দিশেহারা (০৫)
সানা_শেখ
কাজি অফিসের সামনে এসে গাড়ি থামায় হাসান। অফিসের সামনে আগে থেকেই শ্রবণের আরো চারজন ফ্রেন্ড অপেক্ষা করছে। ওদের দেখে হাসান পেছন ফিরে তাকিয়ে বলে,
“ওরা এখানে কেন? তুই ওদেরও আসতে বলেছিস?”
“হ্যাঁ।”
শ্রবণ গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়ায়। ঘুরে এসে দাঁড়ায় সোহার পাশের দরজার কাছে। দরজা খুলে দিয়ে বলে,
“বের হ।”
সোহা ভয় পেলেও সাহস যুগিয়ে বলে,
“আমি তোমাকে বিয়ে করবো না। আমি বাড়িতে যাব।”
“ভালোয় ভালোয় বলছি বের হ নয়তো তোর কি অবস্থা করবো আমি নিজেও জানি না।”
“তুমি কেনো এমন করছ? কী ক্ষতি করেছি তোমার?”
“অনেক, হিসেব করে শেষ করা যাবে না। বেরিয়ে আয় এখন, লেট হয়ে যাচ্ছে।”
সোহা বের হয় না। শ্রবণ সোহাকে টেনে বের করে হিড়হিড় করে টানতে টানতে এগিয়ে যায় ভেতরের দিকে।
ওর পেছন পেছন ওর ফ্রেন্ডরাও আসে।
ভাগ্যক্রমে কাজি অফিসে এখন আর কোনো মানুষ নেই। আজকে কী শ্রবণ চৌধুরী একাই বিয়ে করবে নাকি?
শ্রবণ ওর এক ফ্রেন্ডের দিকে হাত বাড়ায়। ছেলেটা একটা খাম শ্রবণের হাতে দেয়।
কাজির সাথে কথা বলে পেপার্স রেডি করতে বলে ওনার পাওনা পরিশোধ করে দেয় আগেই।
সোহার কান্না শুনে ওর ইচ্ছে করছে ঠাটিয়ে একটা চড় বসিয়ে দিতে। এই ন্যাকা কান্না ওর একদম সহ্য হয় না আগে থেকেই।
কাজি সাহেব শ্রবণের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“দেনমোহর কত লিখবো?”
“আপনার যা ইচ্ছে হয় লিখে দিন।”
পাশ থেকে শ্রবণের এক ফ্রেন্ড বলে,
“কোটিপতি পাত্র তাই কোটি টাকা লেখেন।”
“দেনমোহর পরিশোধ না করলে স্ত্রীর কাছে যেতে পারবে না।”
শ্রবণ বিরক্তি মাখা স্বরে বলে,
“ওকে তো ছুঁবোই না আমি।”
হাসান বিস্ময় নিয়ে বলে,
“তাহলে বিয়ে করছিস কেন?”
“দখল করে রাখছি।”
“মানে?”
শ্রবণ হাসানের কথার উত্তর দেয় না। কাজির দিকে তাকিয়ে বলে,
“দেনমোহর লেখার প্রয়োজন নেই তাহলে।”
“অল্প হলেও দিতে হবে।”
শ্রবণ নিজের পাঞ্জাবি আর প্যান্টের পকেট হাতড়ে যা পায় তাই বের করে। দুই হাজার পনেরো টাকা।
কাজির দিকে তাকিয়ে বলে,
“দুই হাজার পনেরো টাকা লিখুন।”
সোহার ডান হাত উঁচু করে ধরে হাতের মুঠোয় টাকা গুলো ধরিয়ে দিয়ে বলে,
“এই যে ধর তোর দেনমোহরের টাকা।”
পাশ থেকে এক ফ্রেন্ড বলে,
“কোটিপতি হয়ে তুই মিসকিনের চেয়েও কম দেনমোহর দিলি শ্রবণ। কম করে হলেও দশ লাখ দেওয়া উচিত ছিল।”
শ্রবণ বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে বলে,
“মাথা খারাপ না করে চুপ করে থাক তো।”
কাজি সাহেব পেপার্স রেডি করে দুজনের দিকে এগিয়ে দেন। সোহার দিকে কলম এগিয়ে দিয়ে বলেন,
“এই জায়গায় সই করে দাও।”
সোহা চোখ তুলে কাজি সাহেবের দিকে তাকায়। সোহার দু চোখ বেয়ে অবিরাম পানি গড়িয়ে পড়ছে। দু’দিকে মাথা নাড়িয়ে কান্না জড়ানো গলায় বলে,
“এই বিয়ে আমি করবো না।”
শ্রবণ ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে সোহার দিকে তাকায়। চোয়াল চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“এক মিনিটের মধ্যে সই করবি নয়তো—।”
শ্রবণের আঙুলের চাপে সোহার মনে হচ্ছে চোয়ালের হাড় ভেঙে যাবে এখনই।
শ্রবণ পুনরায় বলে,
“সই কর দ্রুত, বিয়ে তোর আমাকেই করতে হবে সেটা মস্তিষ্কে গেঁথে নে।”
সোহা শ্রবণের হাত সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
শ্রবণ নিজেই হাত সরিয়ে নেয়। সোহার হাতে কলম গুঁজে দিয়ে বলে,
“দ্রুত কর।”
সোহা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে এই শ্রবণ নামক জালিমের হাত থেকে ওর রক্ষা নেই। শুধুমাত্র স্পর্শ ওকে ভালোবাসে বলে এভাবে জোর করে বিয়ে করবে?
চোখের পানি ফেলতে ফেলতেই এলোমেলো কাঁপা কাঁপা হাতে সই করে দেয়।
শ্রবণ সময় না নিয়ে দ্রুত সই করে দেয়।
ধর্মীয় ভাবেও বিয়ে টা হয়ে যায়। বিয়ের সাক্ষী শ্রবণের দু’জন ফ্রেন্ড।
বিয়ে সম্পন্ন হতেই সোহার হাত ধরে টেনে নিয়ে অফিসের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে। হাসানের কাছ থেকে গাড়ির চাবি নিয়ে সোহাকে ফ্রন্ট সিটে বসিয়ে দেয়। দরজা লক করে পাঁচ ফ্রেন্ডের দিকে তাকিয়ে বলে,
“সায়মন মামার রেস্টুরেন্ট থেকে যা ইচ্ছে খেয়ে নিস। বলবি আমি পরে পেমেন্ট করে দেব।”
পাঁচ জন মাথা নাড়ায়। শ্রবণ নিজে ড্রাইভিং সিটে উঠে বসে। সোহার দিকে তাকায় একবার। সোহা মাথা নিচু করে কেঁদেই চলেছে। ভালোবাসলো এক ভাইকে আর বিয়ে করলো আরেক ভাইকে।
গত এক সপ্তাহেই স্পর্শকে ভালোবেসে ফেলেছে।
স্পর্শ আর শ্রবণ, এই দুই ভাইয়ের স্বভাব চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। স্পর্শর চেহারায় আলাদা একটা মায়া মায়া ভাব আছে যেটা শ্রবণের চেহারায় নেই।
শ্রবণ গাড়ি নিয়ে চলে যেতেই ওর এক ফ্রেন্ড হাসানের দিকে তাকিয়ে বলে,
“শ্রবণ এই মেয়েকে কেন বিয়ে করলো এভাবে জোর করে?”
“পুরোটা আমি নিজেও জানি না। সোহা শ্রবণের কাজিন। আজকে সোহার সাথে শ্রবণের ছোট ভাই স্পর্শের বিয়ে ছিল।”
হাসানের কথা শুনে চার জন চমকে ওঠে। একজন বিস্ময় নিয়ে বলে,
“শ্রবণ ছোট ভাইয়ের হবু বউকে এভাবে বিয়ে করল?”
“হ্যাঁ।”
“ছোট ভাইকে তো সহ্যই করতে পারে না তাহলে তার হবু বউকে কেন বিয়ে করল?”
“গাধা বুঝিস না কিছু?”
চৌধুরী বাড়ির গেট পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে শ্রবণের গাড়ি।
বাড়ির ভেতর পরিবারের সকলের চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে। শ্রবণ জানে এই চেঁচামেচির কারণ।
সোহা সময় মতো সেন্টারে পৌঁছায়নি, পার্লারে গিয়েও খুঁজে পায়নি, দু’জনকে কল করেও পায়নি।
গেস্টরা বোধহয় সবাই সেন্টারে চলে গেছে এতক্ষণে।
গাড়ির ভেতর থেকে বেরিয়ে সোহাকে টেনে বের করে। সোহা কেঁদে দিয়ে বলে,
“আমি ভেতরে যাব না। আমি এই মুখ কাউকে দেখাতে পারবো না।”
“মুখ তো দেখাতেই হবে তোর। যা বলার আমি বলবো তুই শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবি। মুখ খুলে একটা কথা বললে একদম জানে মে রে ফেলবো। ভেতরে চল এখন।”
সোহা শক্ত হয়ে দাঁড়ায়। শ্রবণ ঘাড় কাত করে তাকায় ওর মুখের দিকে। চোখ উল্টে আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা ভাবে। পুনরায় সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে শ’য়’তা’নি এক হাসি ফুঁটিয়ে তোলে চোখে মুখে।
সোহাকে পাঁজা কোলে তুলে নিয়ে ভেতরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
“ভেতরে গিয়ে মুখ দিয়ে একটা টু শব্দও বের করবি না। করলে তুই আজকে খতম।”
ভয়ে সোহা চুপচাপ রইলো শ্রবণের কোলে।
দু’জন ভেতরে প্রবেশ করতেই ড্রয়িং রুমে উপস্থিত সবাই ওদের দু’জনের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসে। সোহাকে শ্রবণের কোলে দেখে অনিমা চৌধুরী বলেন,
“সোহার কী হয়েছে? ওকে কোলে তুলে নিয়ে এসেছো কেন? পার্লারে না গিয়ে কোথায় গিয়েছিলে?”
শ্রবণ সকলের দিকে নজর বুলিয়ে সোফার দিকে এগিয়ে যায় কোনো উত্তর না দিয়ে।
অনিমা চৌধুরী আতঙ্কিত হয়ে বলেন,
“সোহার কী হয়েছে? ও কাদঁছে কেন?”
শ্রবণ ঘাড় কাত করে তাকায়। ওর তাকানো দেখে সকলে বুঝতে পারে কিছু একটা হয়েছে। কেঁদে কে টে সোহার বেহাল দশা।
অনিমা চৌধুরী সোহার দিকে আগাতেই শ্রবণ বাধা দিয়ে গম্ভীর স্বরে বলে,
“আমার স্ত্রীর দিকে আগাবেন না আপনারা, কেউ ছোঁবেনও না ওকে।”
ড্রয়িং রুমে যেন বিস্ফোরণ ঘটে। সকলের চোখ যেন কোটর থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে।
বাকরুদ্ধ সবাই, কী বলছে এই ছেলে? ওর স্ত্রী মানে?
শামীম রেজা চৌধুরী শ্রবণের সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলেন,
“শ্রবণ কী বলছো এসব? সোহা তোমার স্ত্রী হতে যাবে কেন?”
শ্রবণ বাবার দিকে তাকায়ও না, কিছু বলেও না।
শাহীন রেজা চৌধুরী বলেন,
“শ্রবণ তোমরা কোথায় ছিলে এতক্ষণ?”
শ্রবণ কাকার দিকে তাকিয়ে বলে,
“কাজি অফিসে।”
সকলে শকড।
“কাজি অফিসে কেন?”
“কাজি অফিসে মানুষ কী করতে যায়? নিশ্চই বিয়ে করতেই যায়, আমরাও বিয়ে করতেই গিয়েছিলাম।”
স্পর্শ নিচে এসে বড়ো ভাইয়ের কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। আর আগাতে পারছে না, কিছু বলতেও পারছে না। এসব কী বলছে ওর ভাই? সোহাকে বিয়ে করেছে মানে? একটু পর তো ওর সাথে সোহার বিয়ে হওয়ার কথা। ওর ভালোবাসা, ওর সোহা।
শরীর ঠেলে নিয়ে বড়ো ভাইয়ের সামনে এসে দাঁড়ায় স্পর্শ। পা দুটো চলতে চাচ্ছে না, বুকের সাথে সাথে শরীরও কাঁপছে।
করুণ চোখে সোহার মুখের দিকে তাকায়। সোহা ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ঝরঝর করে কেঁদে ওঠে আবার। স্পর্শের মনে হচ্ছে ওর বুকের ভেতর হাত ঢুকিয়ে কেউ ওর কলিজা এর হৃৎপিণ্ড টেনে বের করছে। চোখের সামনে সব কিছু দেখেও বিশ্বাস হচ্ছে না। মনে হচ্ছে স্বপ্ন দেখছে। ওর ভাইয়া ওর সাথে মজা করতে এমন করছে, নিশ্চই মজা করছে।
সোহার দিকে এগিয়ে বলে,
“সোহা তুই—
বাকি কথা শেষ করার আগেই সোহা আর স্পর্শের মাঝখানে বাধা হয় শ্রবণের পা। এক পা তুলে বাধা সৃষ্টি করে রাগী স্বরে বলে,
“একদম আমার স্ত্রীর দিকে আগাবে না। দূরে থাকো, যাও সরো।”
স্পর্শ করুণ সুরে বলে,
“তুমি মজা করছো তাইনা ভাইয়া?”
“কে তোমার ভাই? আমি তোমার কেউ হই না আর না তুমি আমার কেউ হও। তোমার সাথে আমার মজা করার মতো সম্পর্কও নেই।”
“তুমি এসব কী বলছো ভাইয়া?”
“জাস্ট শাট আপ, ভাইয়া বলবে না আমাকে। কান খুলে শুনে রাখো আমি তোমার ভাইয়া না।”
“মিথ্যে বলছো তুমি, তুমিই আমার ভাইয়া।”
শ্রবণ রাগে ফুঁসে ওঠে। ক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে স্পর্শের দিকে তাকিয়ে বলে,
“আমাদের সামনে থেকে সরো।”
“সোহা আমার হবু স্ত্রী।”
“হতে পারে কিন্তু সোহা এখন আমার স্ত্রী।”
“সোহা ভালোবাসে আমাকে, তাহলে তোমাকে কেন বিয়ে করবে?”
শ্রবণ বলে না কিছু। স্পর্শ সোহার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,
“সোহা ভাইয়া মিথ্যে বলছে তাইনা? তোরা বিয়ে করিসনি বল।”
সোহার কান্নার শব্দ বাড়ে, দুদিকে মাথা নাড়ায়, মুখে বলতে পারছে না কিছু।
শামীম রেজা চৌধুরী বলেন,
“একটু পর স্পর্শের সাথে সোহার বিয়ে হওয়ার কথা, আর এখন বলছো তুমি ওকে বিয়ে করেছ? যদি ওকেই বিয়ে করবে তাহলে আগে কেন বলোনি? আজকেই কেন এমন করতে হলো? এত গুলো মানুষের সামনে আমি মুখ দেখাবো কীভাবে? মান সম্মান টা কোথায় নামবে বুঝতে পারছ?”
“আপনি কীভাবে মুখ দেখাবেন সেটা নিয়ে আমি কেন টেনশন করব? আপনার মান সম্মান নিয়েই বা কেন ভাববো?”
তনিমা চৌধুরী কিছুটা রাগী স্বরে বলেন,
“শ্রবণ তুমি মজা করছো আমাদের সাথে? তোমার সাথে এখন মজা করতে মোটেও প্রস্তুত না আমরা। সোহা উঠে আয়, সেন্টারে যেতে হবে; সকল অতিথিরা পৌঁছে গেছে বোধহয়।”
শ্রবণ খ্যাপাটে দৃষ্টিতে তনিমা চৌধুরীর দিকে তাকায়। এক হাতে সোহার হাত চেপে ধরে রেখে বলে,
“আপনার সাহস হলো কীভাবে আমার সাথে এভাবে কথা বলার? নিজের লিমিট ভুলবেন না।”
বড়ো ছেলের কথা শুনে শামীম রেজা চৌধুরী ধমক দিয়ে বলেন,
“শ্রবণ, ভদ্র ভাবে কথা বলো।”
শ্রবণ চিৎকার করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়।
“জাস্ট শাট আপ, উঁচু গলায় কথা বলবেন না আমার সাথে।”
ওর চিৎকারে সোহা সোফার সাথে সিটিয়ে যায়। উপস্থিত সকলেই কেঁপে উঠেছে।
অনিমা চৌধুরী বলেন,
“এটা কোন ধরনের ফাজলামো শ্রবণ? স্পর্শ তোমার ছোট ভাই আর সোহা তোমার ছোট ভাইয়ের হবু স্ত্রী। তুমি ছোট ভাইয়ের হবু স্ত্রীকে কীভাবে বিয়ে করতে পারো?”
“কে ছোট ভাই? স্পর্শের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, ছিলও না কখনো। ওর র’ক্ত আর আমার র’ক্ত পুরোপুরি আলাদা। না ও আমার ভাই, আর না তো ও এই বাড়ির সন্তান। ওকে ওর মা নিয়ে এসে শামীম রেজা চৌধুরীর সাথে বিয়ে করেছিল। ওর বাপ-ভাই অন্য মানুষ, আমরা না। ওর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার যাকে ইচ্ছে হয়েছে আমি তাকেই বিয়ে করেছি। কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই আমি।”
“মাথা খারাপ হয়ে গেছে তোমার।”
শ্রবণ ক্ষুব্ধ হয়ে বাবার দিকে তাকায়। বজ্র কন্ঠে বলে,
“আমাকে মাথা খারাপ বানিয়েছেন আপনি, নিজের হাতে যত্ন করে।”
সোহার হাত ধরে টেনে তুলে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলে,
“খিদে পেয়েছে আমার। আমার খাবার রুমে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।”
সবাই ওদের চলে যাওয়া দেখে। স্পর্শ পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে। মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে শ্রবণের বলা কথা গুলো। পর পর দুটো শকড খেয়ে বেচারা নড়াচড়াও করতে ভুলে গেছে যেন।
এত গুলো বছর ধরে যাকে ভালোবাসলো তাকে হারিয়ে ফেললো চিরদিনের জন্য। যাকে নিয়ে ও স্বপ্ন দেখলো সে এখন ওরই বড়ো ভাইয়ের স্ত্রী।
না বড়ো ভাই না তো। শ্রবণ তো বললো স্পর্শ শ্রবণের ভাই না, আর না তো এই বাড়ির সন্তান। যাকে ছোট বেলা থেকে আব্বু ডেকে আসছে সে ওর আব্বু না? যেই পরিবারকে নিজের পরিবার ভেবে আসছে সেই পরিবারের ওর নিজের পরিবার না? যেই বাড়িকে নিজের বাড়ি মনে করে আসছে সেই বাড়ি ওর না? তাহলে ওর আসল পরিচয় কী?
চলবে…………….
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২৭
-
দিশেহারা পর্ব ১০
-
দিশেহারা পর্ব ১৬
-
দিশেহারা পর্ব ২১
-
দিশেহারা পর্ব ৩৬
-
তোমার সঙ্গে এক জনম গল্পের লিংক
-
দিশেহারা পর্ব ১৩
-
দিশেহারা পর্ব ৪২
-
দিশেহারা পর্ব ৯
-
দিশেহারা পর্ব ২৮