দিশেহারা (৪৮)
সানা_শেখ
সোহা বিস্মিত হয়ে বলে,
“তুমি বাসর করোনি?”
শ্রবণ শান্ত গলায় বলে,
“না।”
“তাহলে আমি প্রেগন্যান্ট হলাম কীভাবে? পেটে বাবু আসলো কীভাবে?”
রাস্তার সাইডে গাড়ি দাঁড় করায় শ্রবণ। গাড়ি থামাতে দেখে ভয় পেয়ে যায় সোহা, ভুল কিছু কি বলে ফেলল?
শ্রবণ সোহার দিকে তাকায়। গম্ভীর গলায় বলে,
“তুই যেভাবে প্রেগন্যান্ট হয়েছিস সেটাকে বাসর বলে না। বাসর ঐভাবে হয় না।”
কিছুক্ষণ চুপ করে শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার পর মিনমিন করে বলে,
“বাসর না বললে কী বলে? বাসর কাকে বলে? কীভাবে বাসর হয়?”
শ্রবণ সিট বেল্ট খুলে সোহার উপর ঝুঁকে আসে অনেকটা। ভয়ে সোহা সিটের সঙ্গে সিটিয়ে যায়। শ্রবণ গলার স্বর আগের চেয়েও ভারী আর গম্ভীর করে বলে,
“বাসরের আগে ফুল দিয়ে খাট সাজাতে হয়, ফুল আর ক্যান্ডেল দিয়ে সুন্দর করে রুম সাজাতে হয়, নাহলে বাসরের ফিলিংস আসবে? হাসান আর রিতা আজকে যেটা করবে সেটা বাসর, যা আমি আর তুই করিনি। আমি বাসর করতে চাই, ফুল আর ক্যান্ডেল দিয়ে খাট আর রুম সাজিয়ে। তুই নতুন বউ সাজবি, আমি বর সাজব।”
শ্রবণের কথা শুনে লজ্জায় মুখ লুকাতে চায় সোহা।
“ব্রাইড আনবক্সিন করারও সুযোগ হয়নি আমার। বউয়ের ঘোমটাও তুলিনি, বিয়ের রাতে বাসরও করিনি। আমি আবার বিয়ে করবো, তারপর সব করব।”
শ্রবণের কথা শুনে সোহার মুখ কালো হয়ে গেছে। বুকের ভেতর কেমন করছে। মৃদু স্বরে বলে,
“তাহলে আমি কোথায় থাকব?”
শ্রবণ কপাল ভ্রু কুঁচকে বলে,
“মানে?”
“তুমি আবার বিয়ে করলে আমি কোথায় থাকব?”
সোহার কথা শুনে দাঁতে দাঁত চাপে শ্রবণ। কটমট করে বলে,
“ডাইনীর বাচ্চা, তোকেই তো আবার বিয়ে করব। তুই এক ডাইনীর বাচ্চাকে নিয়েই জীবন ত্যানা ত্যানা, এই জীবনে তোকে ছাড়া আর কাউকেই চাই না। বিয়ে করলে তোকেই আরও নিরানব্বইবার করব।”
সোহা নিজের ভুল বুঝতে পেরে আর শ্রবণের রাগ দেখে ভয়ে আরও গুটিয়ে যায়। ভয়ে ভয়ে বলে,
“চ… চলো, ফ্ল্যাটে ফিরি।”
“আমার বাসর বাসর পাচ্ছে।”
“গাড়ি স্টার্ট দাও।”
শ্রবণ সোহার মুখের দিকে আগায়। সোহার কম্পিত ওষ্ঠজোড়া শ্রবণকে আকর্ষিত করছে।
সোহার মাথার পেছনে হাত দিয়ে যেই ওষ্ঠজোড়ায় চুমু খাবে তখনই সোহা শ্রবণের ওষ্ঠের ওপর হাত রেখে বাধা দেয়। দুদিকে মাথা নেড়ে বলে,
“এখানে না, এটা রাস্তা।”
সোহার হাত সরিয়ে দিয়ে শব্দ করে একটা চুমু খায় সোহার ওষ্ঠজোড়ায় তারপর নিজের সিটে সোজা হয়ে বসে। সোহার মনে হলো শ্রবণ চুমু নয় ওর ঠোঁটে ঠাস করে একটা চড় বসাল। শ্রবণ সোহার মুখের ওপর দৃষ্টি স্থির রেখে বলে,
“আমি জানি এটা রাস্তা, আমি বাসর করতে যাইনি জাস্ট একটা চুমুই খেতে গেছি কিন্তু তুই আমার মুডের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছিস। আমাকে কি তোর জন্তু জানোয়ার বা ফকির, বখাটে মনে হয় যে রাস্তা-ঘাটে, জঙ্গলে, গুহায় যেখানে সেখানে বাসর করব? আমার বাড়ি আছে, ঘর আছে, ফ্ল্যাট আছে সঙ্গে আছে বিছানাও। শ্রবণ চৌধুরী ছোটলোক নয় যে বাড়িঘর বিছানা ছেড়ে রাস্তা ঘাটে এসব করবে।”
কথাগুলো বলেই গাড়ি স্টার্ট দেয়। সোহা আড়চোখে তাকিয়ে জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল।
হাসান ড্রয়িং রুমে আসতেই ওর নানি হোসনে আরা বেগম বলেন,
“কিরে নাতজামাই, এত দেরি করছোস কেন বাসর ঘরে যেতে?”
“দেখো নানু, এসব উল্টাপাল্টা নামে একদম ডাকবে না আমাকে।”
“উল্টাপাল্টা কোথায়? তুই তো আমার নাতনির জামাই-ই।”
“আমিও তো তোমার নাতি, তাই ওই বাচালকে নাতিবউ বলে ডাকবে।”
রিমা বেগম শাশুড়ি মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“আম্মা, আপনি শুধু শুধু কেন ওর পেছনে লাগেন? হাসান, তুমি যাও।”
হাসান নানির দিকে কড়া দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। ড্রয়িং রুমে এখন আর কেউ নেই, সবাই হয়তো চেঞ্জ করতে গেছে।
রুমে প্রবেশ করে ধীর পায়ে। হার্টবিট বেড়ে গেছে। কেমন নার্ভাস ফিল হচ্ছে। বিছানায় বসে থাকা রিতার দিকে একবার তাকিয়ে সালাম দেয়,
“আসসালামু আলাইকুম।”
রিতার দিক থেকে কোনো শব্দ আসে না হাসানের কানে, হয়তো মৃদু স্বরে সালামের জবাব দিয়েছে।
দরজা লাগিয়ে দেয়। হেঁটে এগিয়ে এসে বিছানার সামনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল।
পাঁচ/সাত মিনিট পেরিয়ে যায় নীরবতায়। অধৈর্য হয়ে রিতা মুখ তুলে হাসানের মুখের দিকে তাকায় ঘোমটার আড়াল থেকে। ওর কাছে না এসে এমন খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছে কেন?
হাসান গম্ভীর গলায় বলে,
“কিরে, এখনো বসে আছিস কেন?”
রিতা অবাক কন্ঠে বলে,
“কী করব?”
“কী করবি মানে? আমার পা ছুঁয়ে সালাম করবি।”
“অ্যাহ্!”
“অ্যাহ্ আবার কী? নাম বিছানা থেকে, সালাম কর।”
“কীসের? তুমি এসে আমার ঘোমটা তুলবে।”
“তুই আগে সালাম করবি।”
“না। আমি বিছানা থেকে নামতে পারবো না এখন। তুমি এসে ঘোমটা তোলো।”
“বাসর রাতে জামাইয়ের পা ছুঁয়ে সালাম করতে হয় জানিস না?”
“কে বলেছে তোমাকে? সব আজাইরা নিয়ম। তুমি এসে আমার ঘোমটা তোলো দ্রুত।”
“পারবো না।”
“চলে যাব কিন্তু এই রুম থেকে।”
“যা।”
রিতা বিছানা থেকে নামার জন্য উদ্যত হতেই হাসান ওকে থামিয়ে বিছানার কাছে এগিয়ে আসে দ্রুত।
“ঘাড় ত্যাড়ামি ছাড়বি না জীবনে?”
“না।”
হাসান বিছানায় উঠে বসে রিতার সামনে। দুজনেরই হার্টবিট দ্রুত গতিতে ছুটে চলছে।
হাসান ধীরে ধীরে রিতার ঘোমটা তোলো। মায়াবী চেহারা উন্মুক্ত হয় হাসানের চোখের সামনে। দুজন একে অপরের মুখের দিকে পলকহীন তাকিয়ে থাকে অনেকক্ষণ। হাসান ঘোমটা ফেলে দেয় পেছনে। রিতার হাত দুটো দুই হাতে মুঠো করে ধরে চুমু খায়। হাসানের ওষ্ঠের গভীর ছোঁয়া পেয়ে রিতার গায়ের প্রত্যেকটা লোম খাড়া হয়ে গেছে।
হাসান রিতার মুখের দিকে তাকায় আবার। হাত ছেড়ে দুই হাতে আগলে ধরে মুখশ্রী। রিতা হাসানের হাতের উপর নিজের দুই হাত রাখে। দৃষ্টি একে অপরের চোখে স্থির। হাসানের ঘোর লাগা দৃষ্টি, চোখ দুটোই যেন মনের কথা বলে দিচ্ছে।
হাসানের স্পষ্ট মনে আছে, ও যখন প্রথম এই বাড়িতে এসেছিল তখন রিতা ওর ধারে কাছেও ঘেঁষতো না। ওকে দেখলেই লুকিয়ে লুকিয়ে থাকতো, মায়ের আঁচল ধরে ঘুরতো আর ওকে দেখলেই মায়ের আড়ালে নিজকে আড়াল করে নিত। তারপর আস্তে আস্তে সময় গড়ায়, রিতা পরিবর্তন হয়। হাসান যতক্ষণ বাড়িতে থাকতো ওর পেছন পেছন ঘুরঘুর করতো, হাজারও বায়না ধরতো হাসানের কাছে।
সময়ের ব্যবধানে হাসানের মায়ায় জড়িয়ে পড়ে। একদিন বিকেলে হুট করেই হাসানকে বলে বসে, “আমি তোমাকে ভালোবাসি।” হাসান অনেক জোরে ধমক দিয়েছিল সেদিন রিতাকে। রিতা কাঁদতে কাঁদতে ছাদ থেকে নেমে এসেছিল। কিন্তু ও থেমে থাকেনি, প্রতিদিন হাসানকে মনে করিয়ে দিয়েছে ও হাসানকে ভালোবাসে। হাসান প্রচুর বকাঝকা করতো, রিতাকে ইগনোর করতো, ও একা থাকলে রিতাকে নিজের আশেপাশে ঘেঁষতে দিতো না সহজে।
তারপর একদিন উপলব্ধি করে ও নিজেও রিতাকে ভালোবেসে ফেলেছে। তখন থেকে রিতাকে আরও বেশি ইগনোর করতো, কর্কশ স্বরে কথা বলতো। কিন্তু কোনো কিছুতেই থেমে থাকেনি রিতা, ওর অনুভূতি একটুও ম্লান হয়নি হাসানের খ্যাক খ্যাক আর কঠোর আচরণে।
রিতা হাসানের গালে হাত রেখে বলে,
“কি ভাবছো এত?”
হাসান মুচকি হেসে দুদিকে মাথা নাড়ায়। রিতার গাল থেকে এক হাত সরিয়ে নিয়ে রিটার কপালে ওষ্ঠ ছোঁয়ায়। রিতার কপালের সঙ্গে নিজের কপাল ঠেকিয়ে বলে,
“কি চাস আমার কাছে?”
রিতা হাসানের ঘাড়ের উপর হাত রেখে বলে,
“তোমাকে।”
“আর।”
“তোমাকে।”
“আর।”
“তোমাকেই।”
হাসান মৃদু হাসে। সোজা হয়ে বসে বলে,
“আমি তো আজ থেকে তোরই। আমাকে ছাড়া আর কি চাস আমার কাছে?”
“তুমি যখন আমার তখন তোমার সব কিছুই তো আমার, আলাদা করে আবার কেন চাইতে হবে?”
হাসান কথা বলে না, নিঃশব্দে আলিঙ্গন করে নববধূকে। রিতা নিজেও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। ওর হাজার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ওর প্রিয় পুরুষ ওর হয়েছে, একান্তই ওর।
দুই রাকাত নফল নামায আদায় করে উঠে দাঁড়ায় দুজন। হাসান নিজেই জায়নামাজ দুটো ভাজ করে রেখে দেয়। গায়ের শুভ্র রঙা পাঞ্জাবি খুলে রেখে মেইন লাইট অফ করে ডিম লাইট অন করে। দ্রুত পায়ে এগিয়ে এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে রিতাকে। ডিম লাইটের আবছা আলোয় ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় দুজনকে দেখা যাচ্ছে। দুজনের দৃষ্টি আয়নার দিকে স্থির।
“রিতা।”
“হুম।”
“ভালোবাসি তোকে।”
রিতা হাসানের মুখের দিকে দেখার চেষ্টা করে। হাসান রিতার গালে চুমু খায়। গালের সঙ্গে নিজের গাল ঠেকিয়ে বলে,
“নিজে প্রেমে পড়লি, ভালোবাসলি, মায়ায় জড়ালি সঙ্গে আমাকেও ভালোবাসা শেখালি, মায়ায় ফেললি, তারপর নিজের করে নিয়েই ছাড়লি। এত ভালো কীভাবে বাসলি?”
রিতা জোর করে হাসানের কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। গলার স্বর কিছুটা কঠোর করে বলে,
“আমার কাছে একদম আসবে না তুমি।”
হাসান বিস্মিত হয়ে বলে,
“কেন?”
“তুমি আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছ। খ্যাক খ্যাক করে কথা বলেছো সবসময়। সেদিন তো ঠাস করে একটা চড়ও বসিয়ে দিলে।”
বলতে বলতে নিজের গালে হাত রাখে। কি জোরেই না চড়টা দিয়েছিল সেদিন। অনেক ব্যথা পেয়েছিল।
হাসান নিজেও কিছুটা রাগী গলায় বলে,
“শুধু তো চড় দিয়েছি, তোকে তো উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা উচিত ছিল। ম’রতে চাইলি কেন?”
“বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিলে না কেন?”
“বিয়ে করতে না চাইলেই ম’রতে হবে?”
রিতা কিছু না বলে বিছানার দিকে এগিয়ে বলে,
“ভুলেও আমার ধারে কাছে ঘেঁষার চেষ্টা করবে না। একদম আসবে না আমার কাছে।”
“এ্যাহ্! আজকে আমাদের ফার্স্ট নাইট।”
“এ্যাহ্ নয় হ্যাঁ। ফার্স্ট নাইট তো কী হয়েছে? আসবে না আমার কাছে।”
“বিয়ে করে বাসর রাতে যদি বউকে কাছে না পাই তাহলে বিয়ে করে লাভ হলোটা কী? আর বাসর ঘরে বউ রেখে করবোটা কী? যা নিজের রুমে গিয়ে ঘুমা।”
“সত্যি চলে যাব?”
“হ্যাঁ। যা।”
রিতা ঘুরে দরজার দিকে এগিয়ে যায়। হাসান পেছন থেকে চিবিয়ে চিবিয়ে বলে,
“বাকি জীবনে এই রুমে প্রবেশ করলে তোর খবর আছে।”
রিতা দরজার কাছে এসে থেমে যায়। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় হাসানের দিকে। হাসান আবার বলে,
“যা।”
রিতা দরজার কাছ থেকে ফিরে এসে হাসানের সামনে দাঁড়ায়। কোনো কথা না বলে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাসানকে। হাসান ওকে ঠেলে দূরে সরানোর চেষ্টা করে বলে,
“যাচ্ছিস না কেন? যা। আমাকে এভাবে ধরেছিস কেন? সর।”
রিতা মায়া ভরা স্বরে বলে,
“এই যে ধরেছি মৃ’ত্যুর আগে আর কোনো ছাড়াছাড়ি নেই। আমি রিতা নিজেকে সপে দিলাম তোমার কাছে অনন্ত কালের জন্য।”
ফ্রেশ হয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে সোহা। শ্রবণ ফ্রেশ হয়নি, শুধু প্যান্ট পরে বিছানায় বসে আছে। সোহার দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলে,
“এই ডাইনীর বাচ্চা, এদিকে আয়।”
সোহা শ্রবণের কাছে এগিয়ে আসে। শ্রবণের চাহনি দেখেই বুঝতে পারছে শ্রবণ কি চাইছে। গাড়িতে তো বলেছেও বেশ কয়েকবার। মিনমিন করে বলে,
“আমি ভীষণ ক্লান্ত এখন।”
“আমিও ভীষণ ক্লান্ত তোর মাঝে ডুব দেওয়ার জন্য।”
সোহা ফ্যালফ্যাল করে শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ওর সত্যি সত্যিই ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। এখন একটু ঘুমোতে পারলেই ভালো লাগবে।
শ্রবণ বসা থেকে উঠে মেইন লাইট অফ করে ডিম লাইট অন করে। দুই কদম এগিয়ে সোহার কাছে এসে দাঁড়ায়।
সোহার অতিরিক্ত ছটফটানিতে বিরক্ত হয় শ্রবণ। সোহা শ্রবণের কাছ থেকে ছোটার চেষ্টা করতে করতে বলে,
“ছাড়ো, বমি আসছে।”
“এই সিরিয়াস মুহূর্তে এসে কীসের বমি? সেদিনও এমন করেছিস, আজকে এমন কিছু করলে খবর আছে তোর, চুপচাপ থাক।”
সোহা শ্রবণকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গলগল করে বমি করে দেয়। শ্রবণ হতভম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মুহূর্তেই রাগে রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ে ফর্সা চেহারায়।
চোয়াল শক্ত করে ওয়াশরুমের দিকে তাকায়। বেশ কিছুদিন আগের কথা। সেদিন তো একদম সিরিয়াস মুহূর্তে এসে সোহার বমি পেয়ে যায়। ওকে ঠেলে নিজের উপর থেকে সরিয়ে রুমেই বমি করে বসিয়ে দিয়েছিল, শ্রবণ নিজেও বমি করতে করতে আধম’রা হয়ে গিয়েছিল। সেদিনের পর আর এমন কিছু মাথায়ও আনেনি শ্রবণ।
বেশ কিছুক্ষণ পর কুলকুচি করে চোখেমুখে পানি দিয়ে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসে সোহা। আবছা আলোয় শ্রবণের চোখজোড়া স্পষ্ট না দেখতে পেলেও বুঝতে পারছে ওকে ভস্ম করে দেওয়ার মতো অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আছে শ্রবণ। ও কি ইচ্ছে করে এমন করে নাকি? বমি পেয়ে গেলে কি করবে?
“শান্তি লাগছে এখন?”
“আ… আমি ইচ্ছে করে করিনি।”
“আজকে থেকে আলাদা রুমে ঘুমাবি তুই। বের হ এই রুম থেকে।”
দাঁতে দাঁত পিষে কথাগুলো বলে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। ওর কি যে রাগ হচ্ছে। সোহা বিড়বিড় করে বলে,
“একা রুমে থাকতে ভয় লাগে তো।”
শ্রবণ একেবারে গোসল সেরে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে। ট্রাউজার পরে বিছানায় উঠে শুয়ে পড়ে চুপচাপ।
সোহা নিজেও শুয়ে পড়ে। দুজনের মাঝখানে অনেকটা দূরত্ব। দুইজন দুই পাশ ফিরে শুয়ে আছে।
সোহার খারাপ লাগছে। শ্রবণ অনেক রেগে আছে বুঝতে পারছে। ও তো ইচ্ছে করে এমন করেনি।
সোহা নিজে থেকেই ভয়ে ভয়ে শ্রবণের গা ঘেঁষে আসে। পেছন থেকে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরে বলে,
“আমি সত্যিই ইচ্ছে করে বমি করিনি। তোমার পারফিউম আর গায়ের গন্ধে গা গুলিয়ে উঠেছিল।”
শ্রবণ ঝাড়ি দিয়ে সোহার হাত সরিয়ে দিয়ে এপাশ ফিরে বাজখাঁই গলায় বলে,
“তুই কি বলতে চাইছিস, আমার গায়ে দুর্গন্ধ?”
“না না, এমন কিছু না। তুমি তো জানোই সব কিছুই কেমন গন্ধ গন্ধ লাগে আমার কাছে। বাইরে ঘুরাঘুরি করেছো, ফিরে গোসল করোনি সেজন্যই বোধহয় এমন হয়েছে। অন্যদিনগুলোতে তো গোসল সেরে আমার কাছে আসো তাই হয়তো বমি পায় না।”
শ্রবণ চুপ করে থাকে। হুট করে সোহাকে টেনে এনে জড়িয়ে ধরে বলে,
“আমার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে শান্তির ঘুম ঘুমা এখন।”
“ইচ্ছে করে করিনি।”
“হ্যাঁ জানি, সব আমার দোষ। বাবু না হওয়া পর্যন্ত আলাদা রুমে থাকবি তুই।”
চলবে……….
Share On:
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২৫
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৪
-
দিশেহারা পর্ব ২৮
-
দিশেহারা পর্ব ১৮
-
দিশেহারা পর্ব ১১
-
দিশেহারা পর্ব ৩১
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১
-
দিশেহারা পর্ব ২৪
-
দিশেহারা পর্ব ৩৫
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৭