Golpo romantic golpo দিশেহারা

দিশেহারা পর্ব ৪৭


দিশেহারা (৪৭)

সানা_শেখ

সোহাকে ফ্রন্ট সিটে বসায় শ্রবণ। সোহার পা দুটো গাড়ি থেকে বাইরে রয়েছে। সমান তালে কাঁপছে হাত দুটো। শ্রবণ টিস্যু দিয়ে সোহার চোখমুখ মুছিয়ে দিয়ে বলে,

“শান্ত হ, কিছু হয়নি।”

“বাবুর কিছু হবে না তো? ভয় লাগছে আমার।”

“তোকে বলেছিলাম আমার সঙ্গে যাওয়ার জন্য, তুই রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েছিলি কেন? আমি যদি সঠিক সময়ে পেছন ফিরে না তাকাতাম তাহলে কি হতো এখন?”

শ্রবণের রাগী গলার স্বর শুনে সোহার কান্না বাড়ে।
কাঁদতে কাঁদতে বলে,

“জুতোর নিচে কি যেন লেগে গিয়েছিল সেটাই ছাড়ানোর চেষ্টা করছিলাম। ভুল হয়ে গেছে গেছে, আমি বুঝতে পারিনি এমন কিছু হবে।”

শ্রবণ সোহাকে আলতো হাতে জড়িয়ে ধরে বলে,

“দোষটা আমারই, তোর হাত ছাড়া ঠিক হয়নি আমার।”

“বাবুর কি কোনো ক্ষতি হবে?”

“কিছু হবে না, ইনশা-আল্লাহ। ভয় পাস না, আগামীকাল চেক-আপ করিয়ে নিয়ে আসবো।”

সোহাকে ছেড়ে পানির বোতল হাতে নিয়ে আবার পানি খাওয়ায়। সোজা করে বসিয়ে দিয়ে সিট বেল্ট লাগিয়ে দেয়। ঝুঁকে সোহার তল পেটে চুমু খায় কয়েকটা। হাত বুলিয়ে বলে,

“কিছু হবে না তোমার, ইনশা-আল্লাহ। বাবা এরপর থেকে আরও সতর্ক থাকবে।”

সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। শ্রবণ সোহার গাল মুছিয়ে দেয় আবার। গাড়ির দরজা লাগিয়ে ঘুরে এসে নিজে বসে ড্রাইভিং সিটে। এসি অন করে টেম্পারেচার কমিয়ে দেয়। ভয় পেয়ে দুজনেই ঘেমে নেয়ে জবজবে হয়ে গেছে।

সোহা সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে দুই হাত নিজের পেটের উপর রাখে। শ্রবণ ওর দিকে একবার তাকিয়ে গাড়ি স্টার্ট দেয়।


আজকে হাসান আর রিতার বিয়ে।
শ্রবণ একটু পরেই সোহাকে নিয়ে কমিউনিটি সেন্টারের উদ্যেশ্যে রওনা হবে।

এর মধ্যে শ্রবণের ফোন আবার বেজে ওঠে। রিসিভ করে কানে ধরতেই হাসানের গলার স্বর ভেসে আসে,

“কোথায় তোরা? বের হয়েছিস?”

“বের হবো এখন।”

“বলেছিলাম সকালে বাড়িতে আসতে, আসলি না।”

“বিয়ে হবে সেন্টারে, বাড়িতে গিয়ে কি করবো? তোর কোন পর্যন্ত? বের হয়েছিস?”

“বের হবো।”

“বিয়ে তোর, তুই-ই বের হোসনি আর আমাকে তাড়া দিচ্ছিস?”

“আমার বিয়ে বলে কি আমি আগে আগে গিয়ে তোদের জন্য ওয়েট করব? তোরা যা, আমাকে ওয়েলকাম করার জন্য ওয়েট কর।”

শ্রবণ মুচকি হাসে।

“আচ্ছা, রাখছি তাহলে।”

“হুম।”

শ্রবণ ফোন রেখে দেয়।
সোহা অফ হোয়াইট গাউন পরেছে, সঙ্গে বেধেছে অফ হোয়াইট কালার হিজাব। লাইট মেক-আপ করেছে।
শ্রবণ পরেছে ব্ল্যাক প্যান্ট আর অফ হোয়াইট শার্ট। শার্ট ইন করা, গায়ের সঙ্গে ফিটিং হয়ে আছে। চুলগুলো স্পাইক করেছে। হাতে ব্র্যান্ডের ঘড়ি, সানগ্লাস এখনো পরেনি তবে পরার জন্য বের করে রেখেছে।
নিজেকে আরও একবার আয়নায় দেখে নেয়, হ্যান্ডসাম লাগছে।
সোহার দিকে ঘুরে দাঁড়ায়। সোহা বিছানায় বসে আছে, তাকিয়ে ছিল এতক্ষণ ওর দিকেই। ও তাকাতেই সোহা দৃষ্টি নামিয়ে নিয়েছে।

“হলো তোর?”

শ্রবণের গম্ভীর স্বর শুনে চোখ তুলে তাকায় আবার। মৃদু স্বরে বলে,

“হয়েছে তো অনেকক্ষণ আগেই, এখন শুধু জুতো পরবো।”

“পর তাহলে, বসে আছিস কেন?”

সোহা বিছানা ছেড়ে নেমে এসে জুতো পরে নেয়। শ্রবণ কাভার্ড থেকে গিফট বক্সটা বের করে। সানগ্লাস পরে সোহার হাত ধরে ফ্ল্যাট থেকে বের হয়। বের হতেই সেই ভদ্র মহিলার সঙ্গে দেখা। শ্রবণ দেখেও না দেখার ভান ধরে সোহাকে টেনে নিয়ে লিফটের দিকে আগায় দ্রুত পায়ে।

“কোনো অনুষ্ঠানে যাচ্ছো নাকি দুজন?”

শ্রবণ চুপ করে থাকে। সোহা শ্রবণের ভয়ে কিছু বলছে না। ভদ্র মহিলা ওদের দুজনের সঙ্গেই লিফটে প্রবেশ করে। শ্রবণ বুঝতে পারে না যখনই ওরা ফ্ল্যাট থেকে বের হয় তখন এই মহিলাও কীভাবে বের হয়। সোহাকে নিয়ে ফ্ল্যাট থেকে বের হলে ভদ্র মহিলার সঙ্গে দেখা হবেই হবে।

শ্রবণের গাড়ি এসে সেন্টারে পৌঁছায়। গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াতেই ওর বন্ধুরা এসে ওর পাশে দাঁড়ায়।

“এত দেরি করলি কেন?”

“তোদের মতো তো আজাইরা বসে থাকি না।”

সোহা গাড়ি থেকে বের হতেই চারজন একসঙ্গে সালাম দেয় সোহাকে। সোহা সালামের জবাব দিয়ে শ্রবণের হাত ধরে।

“কেমন আছেন, ভাবী?”

“আলহামদুলিল্লাহ, আপনারা?”

“আমরাও আলহামদুলিল্লাহ। চলুন, ভেতরে যাই, নতুন জামাইয়ের আসার তো এখনো নাম-ই নাই।”

ভেতরের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে সিফাত আফসোসের সুরে বলে,

“সকলেরই বউ হয়ে যাচ্ছে শুধু আমারই হচ্ছে না।”

বাকি তিনজন বলে,

“আমাদেরও কিন্তু হয়নি।”

শ্রবণ গম্ভীর গলায় বলে,

“চারজন একে অপরের গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু কর এখানে বসে, কেউ দয়া মায়া করে যদি বউ ভিক্ষা দিয়ে যায়।”

“এই শা/লা, অন্যের বউ দিয়ে কি করব?”

“চুপ কর, ইডিয়ট। তোদেরকে বউ ভিক্ষা দেবে সেটা বলেছি, অন্যের বউ তোদের দিয়ে যাবে এমনটা বলিনি। গর্দভ কোথাকার।”

রাফি (রাব্বির নাম চেঞ্জ করা হয়েছে) বলে,

“এক লাইন বেশি বোঝে।”

সাকিব বলে,

“তুই তো চার লাইন বেশি বুঝিস, শা/লা।”

“তোর বোনকে নিয়ে আয় বিয়ে করে নেই হাসানের সঙ্গেই, এক কাজে দুই কাজ হয়ে যাবে।”

“তোর কাছে বোন বিয়ে দিচ্ছে কে?”

“তুই দিবি।”

“থাকো এই আশাতেই।”

বকবক করতে করতে ভেতরে প্রবেশ করে ছয়জন।

লাইটের রোশনাইয়ে পুরো কমিউনিটি সেন্টার ঝলমল করছে।
হাসান সাদা শেরওয়ানি আর গোলাপী পাগড়িতে গম্ভীর মুখে প্রবেশ করে ভেতরে। বন্ধুরা দু’পাশে ঘিরে ধরে আছে। শ্রবণ হাসানের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলে,

“কী হয়েছে? মন খারাপ কেন?”

হাসান নিজেও মৃদু স্বরে বলে,

“আজকে আমার জীবনের বিশেষ একটা দিন অথচ আজকে আমার পাশে আমার মম-ড্যাড কেউ নেই। একজন পৃথিবীতে নেই, আরেকজন থেকেও নেই। তোর আর আমার ভাগ্যটা এমন না হলেও তো পারত।”

হাসানের কথা শুনে শ্রবণের-ও মন খারাপ হয়ে যায় তবুও নিজেকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করে বলে,

“এত খুশির একটা দিনে কেন মন খারাপ করছিস? আমাকে এত জ্ঞান দিস অথচ নিজেই এখন মুড অফ করে আছিস।”

“মমকে অনেক মনে পড়ছে। মম যখন ছিল আমি তাঁর গুরুত্ব বুঝতে পারিনি, যখন হারিয়ে গেলো তখন যেন আমার সবকিছু নিয়েই হারালো, সেসবকিছু আমি এখনো ফেরত পাইনি, আর কোনোদিন পাবোও না।”

“আজকে অন্তত মন খারাপ করিস না।”

“হুম।”

কথা বলতে বলতেই স্টেজের কাছে চলে আসে ওরা।
আস্তে আস্তে স্টেজের উপর উঠে সামনের দিকে ঘুরে দাঁড়ায় হাসান। ওকে দাঁড় করিয়ে রেখে ওর বন্ধুরা নিচে নেমে আসে।
সামনে থাকা সকলের দিকে একবার নজর বুলায় হাসান। এত এত মানুষজনকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে অস্বস্তিতে ছটফটিয়ে ওঠে ভেতরটা।

হঠাৎ করে লাইট ডিম হয়ে আসে। মাইকে ঘোষণা হয়,

“এবার আসছেন আজকের রাতের সবচেয়ে সুন্দর মানুষটি, আমাদের কনে।”

হাসান সামনের দিকে তাকায় আবার। লাল বেনারসি শাড়িতে রিতা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে আসছে বাবার হাত ধরে। মাথার ঘোমটা হালকা করে নামানো, মুখে লাজুকতার আবরণ। দুরুদুরু বুক আর কাঁপা কাঁপা পায়ে এগিয়ে আসছে জীবনের নতুন অধ্যায়ের দিকে। কয়েক দফায় চোখ তুলে তাকিয়ে হাসানকে দেখে নিয়েছে ইতি মধ্যেই।

হাসানের চোখ আটকে আছে ওর দিকেই। চারপাশের শব্দ যেন মুহূর্তে স্তব্ধ। রিতা কাছাকাছি আসতেই দুজনের চোখাচোখি হয়, একটুখানি লজ্জা, একটুখানি হাসি, আর অনেকখানি নতুন স্বপ্ন।
দেখতে দেখতে স্টেজে উঠে দাঁড়ায়। হাসান রিতাকে সঙ্গে নিয়ে বসে।

পর পর ক্যামেরার ক্লিক হতে শুরু করে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে।

কাজিকে স্টেজে নিয়ে আসা হয়। এখন পাঁচজনের স্বাক্ষর আর ওদের দুজনের কবুল বলার মাধ্যমে দুজন প্রবেশ করবে নতুন জীবনের সূচনায়।

রিতার সামনে রেজিস্ট্রি পেপার দেওয়া হয় স্বাক্ষর করার জন্য। ওর হাতে কলম তুলে দেন রেজোয়ান আহমেদ। রিতা বাবার মুখের দিকে তাকায়।

“স্বাক্ষর কর।”

ঘাড় ঘুরিয়ে হাসানের মুখের দিকে তাকাতেই হাসান চোখের ইশারায় স্বাক্ষর করতে বলে।

স্বাক্ষর করতে গিয়ে রিতার হাত মৃদু কাঁপছে। কাঁপা কাঁপা হাতে স্বাক্ষর করে দেয়। রিতার হাত থেকে নিজের হাতে কলম তুলে নেয় হাসান, তাকায় প্রাণ প্রিয় বন্ধুর দিকে। শ্রবণ সোহাকে নিয়ে সামনেই বসে আছে চেয়ারে। হাসানকে নিজের দিকে তাকাতে দেখে হাত তুলে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে শুভ কামনা জানায়।
বাকি বন্ধুদের দিকে তাকাতেই ওরা একসঙ্গে বলে ওঠে,

“প্যারাময় জীবনে প্রবেশ করার জন্য শুভ কামনা, বন্ধু। নিজেকে লিখে দে বউয়ের নামে, বেস্ট অফ লাক, বন্ধুউউউ।”

চারজনের কথা শুনে অনেকেই শব্দ করে হেসে উঠেছে। হাসান নিজেও মুচকি হেসে স্বাক্ষর করে দেয়।
তিন কবুল বলার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয় দুজনের।


বর বউকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে এসেছে সবাই। গেস্টরা সেন্টার থেকেই ফিরে গেছে। রেজোয়ান আহমেদের বাড়িতে অল্প সংখ্যক গেস্ট এসেছেন। রিতার নানার বাড়ির মানুষ আর হাসানের দাদার বাড়ির কয়েকজন। হাফিজ আহমদ ভিডিও কলে ছেলের বিয়ে দেখেছেন।

হাসানের বন্ধুরাও এসেছে এবাড়িতে।
শ্রবণ সোহাকে একা ছাড়েনি আর। পুরোটা সময় সোহার সঙ্গেই আছে।

সোহা চোখমুখ ডলে শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে বলে,

“ফ্ল্যাটে কখন ফিরবে? ঘুম পাচ্ছে আমার।”

“এই তো একটু পরেই ফিরব।”

শ্রবণ হাসানকে ডেকে আনে নিজের কাছে।

“এখন তাহলে আমরা যাই।”

“চলে যাবি?”

“হ্যাঁ।”

“খাওয়াদাওয়া করে যা সবাই।”

সাকিব বলে,

“আর কত খাবরে ভাই? সেই বিকেল থেকে শুধু খাচ্ছি আর খাচ্ছি, আর খেলে পেট ফেটে যাবে।”

শ্রবণ সোহাকে নিয়ে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। ওদের দুজনের সঙ্গে চার বন্ধুও উঠে দাঁড়ায়।
হাসানের মামা-মামি আর নানির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাইরের দিকে আগায়। ওদের এগিয়ে দেওয়ার জন্য হাসান-ও ওদের সঙ্গে সঙ্গে বাইরের দিকে পা বাড়ায়। রিতাকে বাসর ঘরে বসিয়ে দিয়ে এসেছে সোহা।

বাইরে বেরিয়ে এসে রাফি হাসানের দিকে তাকিয়ে বলে,

“জামাই, তোর বউ তোর অপেক্ষায় বসে আছে তো বাসর ঘরে।”

সিফাত বলে,

“আহারে, আমার যে কবে একটা বউ হবে? এই দুজন নাকি জীবনে বিয়েই করবে না অথচ একজন বাপ হতে চলেছে আরেকজন একটু পর বাসর ঘরে যাবে। বিয়ে করবো না করবো না করেই সবার আগে বিয়ে করে নিলো দুজন। যদি বিয়ে করবো বলতো তাহলে নাজানি এতদিনে কয় সন্তানের বাপ হয়ে যেত দুজন।”

সোহা শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে বাকিদের দিকে তাকায় আবার। এদের কথা শুনে ওর শুধু কান গরম হয় আর গাল লাল হয়।

সাকিব সুর তুলে গান গেয়ে বলে,

“আজ লুডু খেলবে রে হাসান….।”

হাসান পায়ের জুতা খুলে ছুড়ে মা’রে সাকিবের গায়ে।

“জুতা মা’র’ছিস কেন, ভাই? খেলবি-ই তো।”

হাসান মুখ খোলার আগেই সিফাত দূরে সরে গিয়ে বলে,

“হাসান ভাই, ছক্কা হাঁকানো চাই।”

হাসান দ্বিতীয় জুতোটাও খুলে সিফাতের গায়ে ছুঁড়ে মা’রে। সিফাত নিজের পায়ের একটা জুতো খুলে হাসানের জুতোটা পরতে পরতে বলে,

“নতুন জামাইয়ের জুতা পরি সেই বদলৌতে যদি আমি দ্রুত জামাই সাজতে পারি।”

সাকিব দ্বিতীয় জুতোটা পরতে পরতে বলে,

“তাহলে আমি বাদ থাকবো কেন?”

একটু থেমে আবার বলে,

“ভাই, ছক্কার আগে যেন উইকেট না পড়ে।”

মাসুম বলে,

“এই নষ্টদের সঙ্গে থাকতে থাকতে আমার মনটাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিনদিন।”

রাফি বলে,

“তোর সঙ্গে থেকেও তো আমরা ভালো হোলাম না, সেই নষ্টই হচ্ছি দিনদিন ।”

শ্রবণ গম্ভীর গলায় বলে,

“হবি কীভাবে? তোরা তো স—

শ্রবণকে থামিয়ে দিয়ে সাকিব বলে,

“দেখ ভাই—

“দেখা, কি দেখাবি। অবশ্য তোর কোনোকিছু দেখার ইচ্ছে আমার নেই।”

রাফির কথা শুনে সাকিব রাফির পেছনে একটা লাগায়। কটমট করে তাকিয়ে বলে,

“তোকে কে দেখাতে চেয়েছে?”

“তুই-ই তো বললি। তুই তো এটা বলিসনি, দেখ অমুক ভাই।”

শ্রবণ হাসানের দিকে তাকিয়ে বলে,

“এই পাগলদের কথা না শুনে তুই ভেতরে যা, রিতা তোর অপেক্ষায় বসে আছে।”

“দেখ ভাই হাসান, ছক্কা কিন্তু হাঁকানো চাই।”

কথাগুলো বলেই দৌড় গেটের দিকে। বাকিরা সিফাতের যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইল। শ্রবণ সহ সবাই আরও একবার হাসানের কাছ থেকে বিদায় নেয়। গাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে শ্রবণ পেছন ফিরে হাসানের দিকে তাকায়। ডান হাত তুলে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে হাসি মুখে বলে,

“বেস্ট অফ লাক, ভাই।”

“শ্রবণ, তুইও!”

“যা যা ভেতরে যা।”

সোহাকে গাড়িতে বসিয়ে নিজেও বসে ড্রাইভিং সিটে। বাকিরা যার যার বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেছে রাস্তায়।
শ্রবণ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বলে,

“আমারও কেমন বাসর বাসর ফিলিংস হচ্ছে।”

শ্রবণের কথা শুনে লজ্জা পেয়ে মুখ ফিরিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে সোহা।
শ্রবণ গম্ভীর গলায় আবার বলে,

“এটা কেমন হলো না? আমি তো এখনো বাসর-ই করলাম না। বিয়ে করেছি কিন্তু বাসর করিনি, এটা মানা যায় না। আমিও বাসর করতে চাই।”

সোহা হা করে শ্রবণের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। শ্রবণ সামনের দিকে তাকিয়ে ড্রাইভিং করছে।
এই ছেলে কী বলছে এসব? বাপ হয়ে যাচ্ছে অথচ বলছে কিনা বাসর করেনি!

চলবে…………

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply