Golpo romantic golpo দিশেহারা

দিশেহারা পর্ব ১৩


দিশেহারা (১৩)

সানা_শেখ

শ্রবণকে হসপিটালে নিয়ে আসা হয়েছে অনেক আগেই। জ্ঞান ফেরানো হয়েছে, ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়েছে, এখন ঘুমের ইনজেকশনের প্রভাবে ঘুমিয়ে আছে। চেহারা কেমন ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে। শাহীন রেজা চৌধুরীর আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে, শ্রবণ স্ট্রোক করেছে। জ্ঞান ফেরার পরেও সেরকম রেসপন্স করছিল না। আরেকটু দেরি করে হসপিটালে পৌঁছালে বড়ো ধরনের ক্ষতি হয়ে যেত। অল্পের জন্য বেঁচে গেছে।

কেবিন থেকে বেরিয়ে ডক্টর সামাদ চৌধুরী আর শাহীন রেজা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে বলেন,

“আপনারা কী ছেলেটাকে একে বারে শেষ করে ক্ষান্ত হবেন? এত বার নিষেধ করার পরেও ওকে কেন স্ট্রেস দিয়েছেন?”

শাহীন রেজা চৌধুরী মৃদু স্বরে বলেন,

“স্ট্রেস দিতে হয় না, ও নিজেই নেয়।”

“কেন নেয়? আপনারা এত গুলো মানুষ আছেন বাড়িতে, ওকে সামলাতে পারেন না? খেয়াল রাখতে পারেন না ওর দিকে? ওকে উত্তেজিত করে এমন কাজ করেন কেন, এমন ধরনের কথা বলেন কেন? জানেন তো ওর মানসিক অবস্থা ঠিক নেই। আগের বার কী হয়েছিল ভুলে গেছেন?”

শাহীন রেজা চৌধুরী কিছু বলেন না। সামাদ চৌধুরী বলেন,

“ডক্টর, শ্রবণ এখন বিপদ মুক্ত তো? আর কোনো বিপদ নেই তো?”

“বর্তমানে বিপদ মুক্ত আছে, ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর কেমন আচরণ করবে সেটার উপর নির্ভর করছে ওর পুরোপুরি বিপদ মুক্ত হওয়ার। শ্রবণের রাগ তো অনেক বেশি। রেগে গেলে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। কোনো ঘটনার মধ্যে প্রবেশ করলে সহজে বেরিয়ে আসতেও পারে না। গোলক ধাঁধার মতো আটকে থাকে সেই ঘটনার মধ্যে। আল্লাহ ডাকুন যেন ঘুম থেকে ওঠার পর শান্ত থাকে।”

স্পর্শ পাশের চেয়ারে বসে থেকে ডক্টরের সবকথা শুনেছে। বড়ো ভাইয়ের জন্য ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। ওর নিজেরই এত কষ্ট হচ্ছে সব জানার পর নাজানি শ্রবণের কত কষ্ট হয়েছিল তখন। কেমন পাগলের মতো আচরণ করছিল সব বুঝতে পেরে।
সকলের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিল অনেক আগেই। দাদা ভাই ছাড়া কেউ ওকে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারতো না। বাড়িতে গেলেই কেমন ছটফট করতো। রুম থেকে বের হতে চাইতো না। কারো দিকে তাকাতো না।

শ্রবণকে আগে ওর কাছে ভীষণ রকমের অদ্ভুত লাগতো, কিন্তু এখন বুঝতে পারছে এমন অদ্ভুত হওয়ার কারণ। কিন্তু শ্রবণ তো আগে সব সত্যি জানতো না, তবুও কেন এমন করতো? স্পর্শ স্পষ্ট বুঝতে পারছে আরো অনেক কিছু আছে যা এখনও ওর অজানা। শ্রবণের সাথে ছোটো বেলায় হয়তো কিছু ঘটেছিল।

সিয়াম মাথা নিচু করে বসে আছে চেয়ারে। কোনো এক কারণে বাবার দিকে তাকাতে পারছে না। ওর আশে পাশে কি হচ্ছে-ঘটছে সেদিকেও নজর নেই। নিচের দিকে দৃষ্টি স্থির করে রেখেছে, হয়তো কিছু ভাবছে। চোখ দুটো লাল টকটকে হয়ে গেছে। শরীরও চলতে চাইছে না, কেমন অবশ হয়ে গেছে। নিজের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন জাগছে মনে।


সোহা শ্রবণের রুমে বসে আছে। কাঁদতে কাঁদতে চোখ মুখ ফুলে উঠেছে। মাথা ঝিমঝিম করছে এখন, বুক ভারি হয়ে আছে। অনিমা চৌধুরীকে অনেক প্রশ্ন করেছিল উনি কোনো উত্তর দেননি। নিজের রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিয়েছেন। সোহা অনেক ডেকেছিল, উনি সাড়া দেননি।
তনিমা চৌধুরীও ওর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। শামীম রেজা চৌধুরী আর তনিমা চৌধুরী নিজেদের রুমে দরজা লাগিয়ে বসে আছেন।

শ্রবণের জন্য কষ্ট হচ্ছে। শ্রবণের কথা শোনার পর এখন নিজের অস্তিত্ব নিয়েও মনে প্রশ্ন জাগছে। শ্রবণের কথা গুলো কী সত্যি? ও আসলেই কী ওর আব্বুর মেয়ে না? কেমন উদ্ভট সব চিন্তা ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এত অশান্তি ভালো লাগছে না।

শ্রবণের জ্ঞান ফিরেছে? কেমন আছে ও?
স্পর্শ ঠিক আছে? সব জানার পর ওর এখন কেমন অবস্থা? ওর মতো উল্টা পাল্টা ভাবনা কী সিয়ামের মাথাও ঘুরপাক খাচ্ছে? ওতো কী ওর মতোই কষ্ট হচ্ছে? ওর মা সত্যি সত্যিই ইচ্ছে করে শ্রবণের বোনকে মে’রে’ছি’ল? নাকী সেটা দুর্ঘটনাই ছিল?

এত প্রশ্নের উত্তর এখন কে দেবে ওকে?
বাবাকে দেখেছিল, কেমন হয়ে ছিল চোখ মুখ। উনিও অনেক কষ্ট পেয়েছেন।


শ্রবণের পাশে ঝিম ধরে বসে আছে স্পর্শ। এক মনে তাকিয়ে আছে বেডে শুয়ে থাকা ভাইয়ের দিকে। দিনের আলো মিলিয়ে গিয়ে রাত নেমে এসেছে ধরণীর বুকে। কেবিনের ভেতর শুধু ফ্যানের শো শো বাতাসের শব্দ।

একটু আগেই জোর করে তিন জনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে স্পর্শ। নিজেই রয়ে গেছে ভাইয়ের কাছে। ওকে দেখে তিন জন অবাকই হচ্ছে। শ্রবণের এত অবহেলার পরেও ওকে ছেড়ে যাচ্ছে না ছেলেটা। বাপটা যতটা স্বার্থপর বেঈমান হয়েছে ছেলে দুটো ততটাই ভালো হয়েছে। একজনের জীবন তো নষ্ট করেই দিয়েছে অনেক আগে, এখন দ্বিতীয় জনের জীবন সেই পথে না আগালেই হয়। ছেলেটা কেমন যেন হয়ে গেছে সব কিছু জানার পর থেকে।

স্পর্শ হাত বাড়িয়ে বড়ো ভাইয়ের বাম হাতটা মুঠো করে ধরে। ওর চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। না চিৎকার করে কাঁদতে পারছে, আর না নিজের কষ্ট গুলো কাউকে বলতে পারছে।
তেইশ বছরের জীবনে সবচেয়ে বেশি কষ্ট অনুভব ওই দিন হয়েছিল যেদিন সোহাকে হারিয়েছিল সারা জীবনের জন্য। ভালোবেসেও ভালোবাসার মানুষটিকে আপন করে পায়নি। আর আজকের কষ্টের তুলনায় সেদিনের কষ্ট কিছুই নয়। সোহাকে হারিয়েও এত কষ্ট হয়নি আজকে যতটা হচ্ছে। আর শ্রবণের একদিনের কষ্টের কাছে ওর সারা জীবনের কষ্টও কিছুই না।

এক হাতে ভাইয়ের হাত ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে চুলে হাত বুলিয়ে দিতে শুরু করে।


চৌধুরী বাড়ির দরজা পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তিন জন। ড্রয়িং রুমে মেড ব্যতীত কেউ নেই। অন্য দিন এই সময়ে বাড়ির সবাই সোফায় উপস্থিত থাকতো।
সিয়াম না দাঁড়িয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যায়। সামাদ চৌধুরী নিজের রুমের দিকে আগান। শাহীন রেজা চৌধুরী মেডের দিকে তাকিয়ে সোফায় বসতে বসতে বলেন,

“কফি নিয়ে আসো।”

মেড দু’জনেই উঠে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে যায়।
শাহীন রেজা চৌধুরীর এখন অনিমা চৌধুরীর মুখও দেখতে ইচ্ছে করছে না, ওই রুমে যেতেও ইচ্ছে করছে না। দেখলেই তো খু’ন করতে ইচ্ছে করবে।

সিয়াম নিজের রুমের দিকে যেতে গিয়েও থেমে যায়। ঘুরে শ্রবণের রুমের দিকে আগায়। বড়ো হওয়ার পর এই রুমে ওর আসা হয়নি কখনও। শ্রবণ পছন্দ করতো না ওর রুমে কেউ প্রবেশ করুক। ও বাড়িতে না থাকলেও ওর রুমে বাড়ির কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। শুধুমাত্র মেড প্রবেশ করতো পরিষ্কার করার জন্য।

দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করে। বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখে সোহা শুয়ে আছে কাত হয়ে। পিঠ ব্যতীত কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
বিছানার দিকে এগিয়ে মৃদু দুর্বল স্বরে ডাকে,

“সোহা।”

ভাইয়ের গলার স্বর শুনেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় সোহা। ভাইকে দেখে তড়িঘড়ি করে শোয়া থেকে উঠে বসে। সোহার চোখ-মুখ দেখে সিয়ামের বুক কেঁপে ওঠে। কেঁদেকেটে কী অবস্থা করেছে নিজের।
সোহা বিছানা থেকে নেমে এসে ভাইকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। সিয়াম নিজের কান্না আটকে রেখে বোনের চুলে হাত বুলায়।

বেশ কিছুক্ষণ পর যখন সোহার কান্না একটু কমে আসে তখন সিয়াম বলে,

“কী অবস্থা করেছিস নিজের?”

সোহা কাঁদতে কাঁদতে বলে,

“ভাইয়া, শ্রবণ ভাইয়ার ওই কথা গুলো কী সত্যি? আম্মু কিছু বলছে না আমাকে।”

সিয়াম বোনকে কী বলবে বুঝতে পারছে না। বলার মতো কোনো কথাও খুঁজে পাচ্ছে না।
সোহা কাঁদতে কাঁদতে পুনরায় বলে,

“আমরা কী সত্যি সত্যিই এই বাড়ির স—

সিয়াম বোনকে থামিয়ে দেয়। বুকে আগলে রেখে পিঠে হাত বুলিয়ে জড়ানো গলায় থেমে থেমে বলে,

“চুপ, ওসব কথা বাদ।”

“শ্রবণ ভাইয়া কেমন আছে?”

“ভালো আবার ভালো না।”

“গুরুতর কিছু হয়েছে?”

“স্ট্রোক করেছিল, এখন বিপদ মুক্ত আছে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”

সোহা হেঁচকি তুলে কাঁদতে থাকে। সিয়াম বোনের চুলে হাত বুলিয়ে বলে,

“ভাইয়া তোকে অনেক কষ্ট দিত? মা’রধ’র করতো?”

সোহা দু’দিকে মাথা নাড়ায়।

“দুপুরে খাসনি নিশ্চই, হাত-মুখ ধুয়ে খেয়ে আয়।”

“খেতে ইচ্ছে করছে না। আম্মু সত্যি সত্যিই খারাপ মানুষ?”

সিয়াম নিশ্চুপ হয়ে থাকে। তনিমা চৌধুরীর বোনই তো অনিমা চৌধুরী। দুই বোনের শরীরে তো একই র’ক্ত বইছে। শ্রবণ যেভাবে বললো সেসবের পর অবিশ্বাস করার মতো কোনো কারণ পাচ্ছে না সিয়াম।

সোহাকে ছেড়ে দিয়ে চোখের পানি মুছিয়ে দিতে দিতে বলে,

“ফ্রেশ হয়ে খেয়ে আয়।”

“তুমি খাবে না?”

“পরে খাব।”

সিয়াম রুম থেকে বেরিয়ে যায়। সোহা আগের মতোই দাঁড়িয়ে থেকে ঝরঝর করে কেঁদে ওঠে আবার।

বাবা মায়ের রুম ক্রস করার সময় বাবার রাগী গলার স্বর শুনতে পায় সিয়াম। দাঁড়িয়ে যায় রুমের সামনে। দরজাটা অর্ধ খোলা রয়েছে। শাহীন রেজা চৌধুরী ভীষণ রেগে অনিমা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলছেন। কথা বলার একপর্যায়ে প্রহার করে বসেন অনিমা চৌধুরীর উপর। শাহীন রেজা চৌধুরী স্ত্রীর টুটি চেপে ধরে হিস হিসিয়ে বলেন,

“বল কার কার সাথে নষ্টামি করেছিস?”

“তুমি ওই পাগলের কথা শুনে এমন করছো কেন? ও মিথ্যে বলেছে।”

আরেক চড় বসান অন্য গালেও। চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বলেন,

“তোর এত বড়ো সাহস হয় কীভাবে শ্রবণকে পাগল বলার? তোর জিব টেনে ছিঁড়ে ফেলবো আরেকবার ওকে পাগল বললে। আর মিথ্যেবাদী কাকে বললি তুই? শ্রবণ কখনও মিথ্যে বলে না সেটা খুব ভালো করেই জানি আমি। নিজে নষ্টামি করবি আর আরেকজন দেখলে-বললে সে পাগল আর মিথ্যেবাদী?”

অনিমা চৌধুরী চুপ থাকেন। শাহীন রেজা চৌধুরীর হাত সরিয়ে দেওয়ার জন্য ছটফট করছেন।

“ছেলেমেয়ে কার বল।”

অনিমা চৌধুরী শাহীন রেজা চৌধুরীর হাত সরিয়ে দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে বলেন,

“আমাদের।”

ঘাড়ের নিচ পর্যন্ত থাকা চুল গুলো শক্ত হাতে মুঠো করে ধরে বলেন,

“আমাদের বলতে কাকে কাকে বোঝাচ্ছিস তুই?”

“তোমার আর আমার। ওদের বাবা তুমিই, আমার কথা বিশ্বাস না হলে ডিএনএ টেস্ট করে দেখতে পারো।”

“তুই কেমন স্ত্রী আর কেমন মা? এখন আমার নিজের সন্তানদের ডিএনএ টেস্ট করতে হবে আসল পরিচয় জানার জন্য? দুনিয়া উল্টে গেলেও ওরা আমার সন্তান হয়েই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে কিন্তু তুই আর আমার স্ত্রী হয়ে এই বাড়িতে থাকতে পারবি না। তুই আজকেই এই বাড়ি ছাড়বি, তোকে আমি আর একমুহুর্ত এই বাড়িতে দেখতে চাই না। তোর মতো নষ্ট মহিলার জায়গা নেই এই বাড়িতে।”

সিয়াম সরে যায় দরজার সামনে থেকে। বাকী কথা শোনার আর আগ্রহ নেই।

রুমে এসে টাওয়েল হাতে সোজা ওয়াশরুমে প্রবেশ করে। মাথা ব্যথায় ফেটে যাচ্ছে যেন। মস্তিষ্ক উতপ্ত লাভার ন্যায় গরম হয়ে আছে। মাথায় পানি না ঢাললে আর ঠান্ডা হবে না।


রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ছে একটু একটু করে। বাইরে এখনো পুরোপুরি আলো ফোটেনি, কিছুটা অন্ধকার হয়ে আছে এখনো।

শ্রবণের ঘুম ভাঙে। কত গুলো দিন পর এমন লম্বা ঘুম দিলো হিসেব নেই। ঘুমের ইনজেকশনের প্রভাবে সারা বিকেল আর রাত ঘুমিয়েছে।
চোখ মেলে তাকাতেই নিজেকে ছোটো একটা রুমে আবিষ্কার করে। চারদিকে নজর বুলিয়ে বুঝতে পারে এটা হসপিটালের কেবিন। ডান হাত উঁচু করতে পারলেও বাম হাত উঁচু করতে পারছে না। ঘাড় ঘুরিয়ে বাম পাশে তাকায়। ওর বাম হাত জড়িয়ে ধরার মতো করে ধরে টুলে বসে বেডে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে স্পর্শ। ফ্যানের বাতাসে সিল্কি চুল গুলো দুলছে এলোমেলো হয়ে। নিজের হাত টেনে সরিয়ে আনার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। ভালোই শক্ত করে ধরে আছে স্পর্শ। বিরক্তিতে কপাল ভ্রু কুঁচকে গালি দেয় দুটো।

পুনরায় স্পর্শের দিকে তাকিয়ে ডুবে যায় অতীতে। সেদিনের বিকেলটা ওর জীবন আরো এলোমেলো করে দেয়। মা-বোনকে হারিয়ে শ্রবণ যখন পুরোপুরি ভঙ্গুর, বাবাকেও কাছে পায় না বুকে মুখ গুঁজে একটু সান্তনা পাওয়ার জন্য তখন ওর বাবা ওকে আরো ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার জন্য মেশিন নিয়ে এসেছিল বাড়িতে। দেখতে মানুষের মতো হলেও ছিল আস্ত জা/নো/য়া/র।

চলবে………….

নেক্সট পার্ট আগে আগে পড়তে পেজ টি ফলো দিয়ে রাখবেন সবাই তাহলে পরবর্তী পার্ট পোষ্ট করার সাথে সাথেই পেয়ে যাবেন, ধন্যবাদ সবাইকে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply