দিওতোমারমালাখানি – ৭
লাঞ্চের আগে আগে তৌহিদের কাছে দুজন ভিজিটর এলো। দুজনেই একুশ বাইশের গণ্ডিতে। চেহারা থেকে ছোকরা ভাব এখনো দূর হয়নি। তবে ভদ্র। সুন্দর করে সালাম দিলো। ফর্সামতন ছেলেটা ঠান্ডায় লাল হয়ে আছে। নাম বলল রেহান। অন্যজন সজীব। কুশল বিনিময় শেষ করে দুজনেই নিশ্চুপ, আর কোনো কথা বলে না। তৌহিদ বলল,
–আমাকে সালাম সাহেব বললেন, তোমাদের কী দরকার আছে। কী দরকার?
সজীব বলল,
–সালাম সাহেব আমার চাচতো দুলাভাই! আপুর বিয়ে হয়েছে এই দুই বছর!
–আচ্ছা, তারপর?
–একটা বেবি হয়েছে! মেয়েবেবি।
তৌহিদ হেসে ফেলল,
–বিয়ের পরে বেবি হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা জানতে চাইনি। বলছি, আমার কাছে কী দরকারে এসেছ?
ছেলেদুটো আবার নিশ্চুপ হয়ে গেল।
তৌহিদ বারদুয়েক ঘড়ি দেখল। কলম নাড়াল। একটু আগে শীতে কাঁপতে থাকা ছেলেদুটো এখন ঘামতে শুরু করেছে। খুব নার্ভাস দেখাচ্ছে ওদের। তৌহিদ বলল,
–রিল্যাক্স হও। যদি এখন বলতে না চাও, লাঞ্চের পরে আসো। অন্যদিনও আসতে পারো। এপয়েন্টমেন্ট লাগবে না। আমার নাম বললেই হবে। আমি জলিলকে বলে দেবো। এসে জলিলকে খুঁজবে।
লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে। তৌহিদ ঘড়ি দেখে চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়ল। ওকে উঠতে দেখেই রেহান বিড়বিড় করে বলল,
–আপনি বিয়েটা ভেঙে দিন, স্যার!
–হুম?
–রোশনিকে বিয়ে কইরেন না, প্লিজ!
–আমি বুঝিনি কথাটা!
রেহানের গলার স্বর কাঁদোকাঁদো হয়ে গেল,
–আমি রোশনিকে খুব ভালোবাসি। আর রোশনিও আমাকে ভালোবাসে। রোশনির বিয়ে হয়ে গেলে আমি মরে যাব!
তৌহিদ কিছুটা সময় নিয়ে ভাবল। বলল,
–তুমি রোশনিকে পছন্দ করো, এটা ঠিক আছে। কিন্তু রোশনি নিজেই বিয়েতে সম্মতি দিয়েছে। আমার তো মনে হয়, ও বেশ খুশি এই বিয়েতে!
সজীব উত্তর দিলো,
–না, স্যার। রেহান আর রোশনির রিলেশন জেনে গিয়েই তো ওর বাবা এত তাড়াতাড়ি ওকে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। আসলে রেহান পড়াশোনা করে নাই, চাকরিবাকরিও করে না, এইজন্য ওকে রোশনির বাবা পছন্দ করে না। আর জানেন তো, এই দেশের বাবা-মা কেমন। ছেলে বিসিএস ক্যাডার আর বিদেশে থাকে – এই দুইটার একটা পেলেই তাদের মাথা ঠিক থাকে না।
রেহান বলল,
–আমি কোরিয়া যাব। আমার এক বড়োভাই কোরিয়া থাকে। ও সব করে দিচ্ছে। আব্বু টাকাও দেবে। ভিসা এসে গেলেই আমি রোশনিকে বিয়ে করব।
সজীব মোবাইল বের করে তৌহিদের দিকে এগিয়ে দিলো,
–এটা ফেইক না, স্যার। সস দিলে আপনি হয়তো ভাববেন এডিট করা। এটা রেহানের হোয়াটসঅ্যাপ। রোশনির সাথে ওর কথা হয়, দেখেন। মেসেঞ্জারও দেখতে পারেন। আমরা মিথ্যা বলতেছি না। আপনার সাথে বিয়ে ঠিক হওয়ার পরে রোশনি আর রেহানের সাথে কথা বলতেছে না। বেচারা পাগল হয়ে গেছে কয়েকদিনে। চার পাঁচদিন আগে অনেক হাতে-পায়ে ধরে রোশনির সাথে দেখা করতে পেরেছিল রেহান। তখন একটু কৌশল করে ওর ফেসবুকে ঢুকে আপনার একাউন্ট সম্পর্কে জানল। এরপর অনেক লোক ধরেটরে আপনার অফিস এখানে সেটা জেনেছে। তারপর খোঁজ পেলাম সালাম দুলাভাইও এই অফিসে আছে।
তৌহিদ চ্যাটগুলো পড়ল। আসলেই দুজনের মধ্যে সম্পর্ক আছে। বেশ ঘনিষ্ঠ কথা-বার্তা। রোশনি যেভাবে তৌহিদকে মেসেজ দেয়, সেই ভাষায়, সেই ইমোশনে রেহানের সাথেও কথা বলে। পারে কী করে মেয়েটা? এতটুকু একটা মেয়ে!
রেহানের চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। ফ্যাসফ্যাস করে বলল,
–আমি রোশনিকে অনেক ভালোবাসি, অনেক। আমি বাঁচব না ওকে ছাড়া।
তৌহিদের নিজের উপর প্রচন্ড হাসি পেলো। একবার রুচির বিয়ে ভাঙতে এক সদ্য প্রভাষককে মেইল করেছিল ও।
ডিয়ার স্যার,
আই অ্যাম এন আনমপ্লয়েড পার্সন, বাট আই লাভ রুচি উইথ আ ট্রুথ দ্যাট হ্যাজ শেপড মাই এন্টায়ার লাইফ।
ইফ দেয়ার ইজ ইভেন আ স্মল চান্স টু স্টপ দিস ম্যারেজ, প্লিজ হেল্প মি সেভ দ্য পারসন হু ইজ মাই হোল ওয়ার্ল্ড।
এই ছোকরার মধ্যে অর্ধযুগ আগের তৌহিদকে দেখতে পেলো ও। সেই তৌহিদ রুচিকে ভীষণ ভালোবাসত।
তৌহিদের মনে হলো ওর জ্বর ছেড়ে গেল। জ্বরটা যাওয়ার আগে ভীষণরকম কাঁপিয়ে দিয়ে গেল। শরীরটা চাঙা হয়ে উঠল। যেন রোশনি একটা মারণব্যধি ছিল। মুক্তি পেয়ে হোহো করে হাসলো তৌহিদ। বলল,
–কিন্তু আমি বিয়ে ভেঙে দিলে রোশনির বাবা অন্য কোথাও ওর বিয়ে দিয়ে দেবে। সবগুলো আটকাবে কীভাবে?
রেহানের চোখে সংশয়। ও নিজেও জানে না। সজীব বলল,
–রোশনিই খারাপ, স্যার। বয়স কম হলে কী হবে, ছেলে নাচাতে ওস্তাদ মেয়ে। চোখেমুখে কথা বলে। সেই কথা একে কে বুঝাবে? এ শুধু কাঁদে। মরবে, আর কী?
রেহান চোখ নামিয়ে ফেলেছে,
–আমার ভিসা এসে যাবে, স্যার। তারপর ওর বাবা আমার সাথেই ওকে বিয়ে দেবে।
তৌহিদ মাথা নাড়ল,
–বেশ, তাহলে আমি বিয়ের দাওয়াতের জন্য অপেক্ষা করব!
রেহান চোখে অবিশ্বাস,
–বিয়েটা সত্যিই ভেঙে দিচ্ছেন, স্যার?
তৌহিদ চওড়া হাসি দিলো,
–সার্টেইনলি! নিজের ভালোবাসার মানুষ থাকতে পরের প্রেমিকাকে কে বিয়ে করে? তোমার জন্য শুভকামনা।
তৌহিদের মন ফুরফুরে হয়ে গেল। অফিস ছুটির পরে ও গেল ছোটোভাইয়ের বাসায়। তৌফিক খুব বেশি আয় করে না। সংসারে স্বচ্ছলতার অভাব আছে। কিন্তু ওকে দেখলে খুব সুখী মনে হয়। তৌহিদের কাছে সব শুনে ও মাথা নাড়ল,
–অসম্ভব এই বিয়ে! মাথা খারাপ নাকি যে এরপরেও এই বিয়ে করবে তুমি? মাকে বলেছ?
–না। ফোনে বললে কী না কী করে বসে। মা কেমন জানিসই তো। সামনাসামনি বলব ভেবেছি।
–সেটা ঠিক। তবে, আমার মনে হয় না, এরপরেও রুচি ভাবিকে মা একসেপ্ট করবে।
তৌহিদ নড়েচড়ে বসল,
–আমার জায়গায় তুই হলে কী করতি?
–সেটা আমি অলরেডি করে ফেলেছি! তুমি রাগ করো না, একটা কথা বলি। আমাদের জন্য মায়ের যে স্যাক্রিফাইসটা, সেটার জন্য তুমি গিল্টফিল করো। আসলে ভাইয়া, তুমি মাকে ভক্তি যে করো সেটা লোকদেখানো, নিজেকে বোঝানো। এই যে মাকে খুশি করতে তুমি নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে অন্য কাউকে বিয়ে করতে যাচ্ছ, এতে কি মায়ের প্রতি তুমি সন্তুষ্ট? তার উপর তোমার শ্রদ্ধা থাকছে? আফটার ম্যারিজ তুমি যে সুখী হবে না, সেটা তুমি জানো। মনে মনে মাকেই তোমার অসুখী জীবনের জন্য দায়ী করে যাবা সারাজীবন – এখন থেকেই করছ সেটা। তাহলে মাতৃভক্তি থাকল কোথায়? বলবা, আমি মাকে ফেলে নিজের মতো সংসার করছি, আমি তো এসব বলবই। কিন্তু আমি আমার কোনো পরিণতির জন্যই মাকে দায়ী করব না। আর মা-ই তো, আজ না হয় কাল, আমাকে ডেকে নেবেই! আমার বউকে হয়তো মেনে নেবে না কখনোই। না নিক। ও তো মাকে ভরসা করেনি, আমার হাত ধরতে এসেছে। মাকে তো এটা বুঝতে হবে, আমার স্ত্রী বা তোমার বউ – কেউ মায়ের জন্য আসে নাই, বা মায়ের জন্য মায়ের স্ত্রী হয়ে আসবে না। সে আসবে তোমার জন্য। তুমি মাকে খুশি করার জন্য আত্মাহুতি দিলে কি তাতে আসলেই মা সুখী হবে? এই মা-বউ টানাটানিতে তুমি আজীবন পেরেশান হবে। নিজের জন্য স্ট্যান্ড নিতে জানতে হয়। তুমি নিজে অসুখী হয়ে থাকলে, কাউকে সুখী করতে পারবে না। না মাকে, না ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে।
–তুই একবার যাবি, মাকে একটু বোঝালি?
–চলো যাই? মায়ের গালাগাল খেয়ে আসি। আমারই তো মা। বকলেই বা কী, মারলেই বা কী? তাকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে তো আমি কিছু করি না, সে যদি অহেতুক কষ্ট পায়, তাতে আমার মন খারাপ হয় না!
কথা পাড়তেই তাহমিনা তেতে উঠলেন। প্রথমে দোষারোপ করলেন তৌহিদকে। ও রুচিকে বিয়ে করবে বলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রোশনির বদনাম করছে। তৌহিদ, রেহানের মোবাইল থেকে কিছু স্ক্রিনশট নিজের হোয়াটসঅ্যাপে ফরোয়ার্ড করেছিল। তাতে কিছু ছবিও ছিল। রেহান, রোশনির যুগল ছবি। আরও বিশ্বাসযোগ্য করতে রেহানকে ফোনেও যোগাযোগ করিয়ে দিলো। তাহমিনা মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন,
–ওইটুকু মেয়ে, কী আশ্চর্য! এরা কি পেট থেকে পড়েই প্রেম করে? খবিশ কোথাকার! বাপ মা কেমন শিক্ষা দিয়েছে?
তৌফিক ফুট কাটলো,
–যেমন শিক্ষা তুমিও তোমার ছেলেদেরকে দিয়েছ!
তাহমিনা চোখ পাকালেন। ঘটককে ফোন দিয়ে বিয়ে নাকচ করলেন। সেই সাথে তৌহিদের জন্য আরও ভালো সম্বন্ধ আনতে বললেন।
তৌফিক মায়ের কাছাকাছি এসে মাকে জড়িয়ে ধরল,
–মা এখন রিলেশন খুব সহজ হয়ে গেছে। এখন প্রেমের সম্পর্ক থাকে না, এমন ছেলে মেয়ে খুবই রেয়ার। এই মেয়েরটা তো বিয়ের আগে জানা গেছে, ভাগ্য ভালো বলতে হবে আমাদের। যদি বিয়েটা হয়ে যেত, কী হতো বলো তো? যদি ওই মেয়ে ভাইয়াকে কখনো আপন করতে না পারত, তাহলে কি কেউ সুখী হতো? ওই মেয়েটাও না, ভাইয়াও না। তুমি না তোমার জীবনের চাইতে বেশি ভালোবাসো ভাইয়াকে? ও দাম্পত্যে সুখী না হলে তোমার কি শান্তি হবে? এরপরে যাকে আনবে, তারও যে কেউ থাকবে না, সেটা তুমি গ্যারান্টি দিতে পারবে?
–তুই বলতে চাস কী? সোজা করে বল?
–আমার একজন পরিচিত আছে। যার জীবনে অন্য কেউ নেই!
তাহমিনা আগ্রহী হলেন,
–কে? তোর চেনা? কেমন দেখতে? বাবা কী করে?
–তুমিও চেনো। রুচি ভাবি!
তাহমিনা ক্ষেপে গেলেন,
–কী জাদু যে ওই মা*গী করেছে। আমার দুইটা নালায়েক ছেলে, দুইটারেই বশ করে ফেলেছে!
তৌফিক ক্ষেপে গেল না। শান্ত গলায় বলল,
–এই সেদিন কী হয়েছে, জানো মা? আমাদের বাসা যেখানে ওই মহল্লাতেই। এক বাড়িওয়ালার ছেলের বিয়ে হলো। ডাক্তার ছেলে। মেয়েটাও খুব সুন্দরী। অনার্স ফার্স্ট ইয়ার শুনেছিলাম। খুব জাঁকালো অনুষ্ঠান হয়েছিল। সাতদিন ধরে তো পুরো এলাকা লাইটিং করা ছিল। বিয়ের পরে মাস দুই ভালো। পরে একদিন শুনলাম, মেয়েটার আগে প্রেম ছিল। সেই ছেলের সাথে মিলে স্বামীকে মেরে ফেলে সব সোনাগয়না নিয়ে দুজনে বিদেশ পালিয়ে গেছে!
তাহমিনার শরীর কাঁটা দিলো আতঙ্কে! ধীরে ধীরে বললেন,
–তাহলে কী করতে বলিস তোরা?
–এই শুক্রবারে চলো, আমরা সবাই মিলে রুচি ভাবিদের বাসায় যাই। আংটি পরিয়ে আসি। তুমি গেলে ভাবি আর রাগ করে থাকতে পারবে না। আমরা দিন-তারিখ ফেলে এই মাসেই ছোটো একটা অনুষ্ঠান করে ভাবিকে নিয়ে আসি?
তাহমিনা মুখ আমসি করে সম্মত হলেন,
–তোদের যা মনে চায়!
তৌফিক মায়ের দুই গালে চাপ দিয়ে আহ্লাদ করে বলল,
–খুশি হও তো, মা! তোমার ছেলের খুশিতেই তুমি খুশি, তাই না? তোমার ছেলে রুচি ভাবিকে পেলে স্বর্গ পাবে! খুশি হও, আনন্দ করো। বিয়ের বাদ্য বাজেরে…
তৌফিক ডাইনিং টেবিল চাপড়ে তবলার বোল তুলল।
**
আদনান ফোন করবে বলেও ফোন করেনি। রুচি বিস্ময়ের সাথে আবিষ্কার করল, সারাদিনে অসংখ্যবার ও ফোন চেক করেছে। অবচেতনে কি আদনানের ফোনের জন্য অপেক্ষা করে আছে?
ঠিক শুরুর দিকে তৌহিদের একটা মেসেজের জন্য কিংবা ভার্সিটিতে গিয়ে দেখা পাবার আগ পর্যন্ত যেমন উৎকণ্ঠিত হয়ে থাকত, ঠিক সেরকম যেন খানিকটা। নিজের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেল ও! কীসব ঘটছে জীবনে? এখনো নতুন করে কেউ মনে দোলা জাগাতে পারে? কীভাবে?
রুচি বাসায় ফিরলে জাকিয়া বেশ উৎফুল্ল মুখে এগিয়ে এলেন,
–শান্তা ফোন করেছিল। ওই যে, মাহমুদ, সেদিন দেখা করে এলি যার সাথে, ওদের দিক থেকে নাকি খুব আগ্রহ আছে। তোকে খুব পছন্দ হয়েছে ওদের, তাই বলল। তোর ফোন নম্বর দেবে কিনা জানতে চাইল শান্তা। ওরা নাকি চেয়েছে। আমি বলেছি দিয়ে দিতে।
রুচিকে খুব দ্বিধাগ্রস্ত দেখা গেল!
চলবে…
আফসানা আশা
দশে_দশ বইছবি কৃতজ্ঞতা – দিলরুবা রহমান রুবা আপু!
Share On:
TAGS: আফসানা আশা, দিও তোমার মালাখানি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ১
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ২
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৮
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৫
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৮ (খ)
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৩
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৪
-
দিও তোমার মালাখানি পর্ব ৬
-
দিও তোমার মালাখানি গল্পের লিংক