“আপনি আপনার ধ/র্ষি/তা মেয়েকে আমার ছেলের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মিস্টার লাবিব! এই বিয়ে হবে না, বিয়ে ক্যানসেল। জাকির উঠে আয় ওখান থেকে।”
পাত্রের বাবা জাকারিয়া মির্জার কথা শুনে বিয়ে বাড়ির উপস্থিত সবাই কিছু সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। পরমুহূর্তেই গুঞ্জন শুরু হয়ে যায় সকলের মধ্যে।
পাত্রীর বাবা লাবিব ইসলাম স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে আছেন জাকারিয়া মির্জার মুখের দিকে। বিস্ময় নিয়ে বলেন,
“আপনি এসব কী বলছেন ভাই? আমার মেয়ে কেন
ধ/র্ষি/তা হতে যাবে?”
জাকারিয়া মির্জা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমি সবকিছু জেনে গেছি। আপনি সত্যি লুকিয়ে মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন আমার ছেলের সঙ্গে তবে সৌভাগ্য বশত সত্যিটা বিয়ের আগেই জানতে পেরে গেছি। এই জন্যই আপনি মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য এত তাড়াহুড়ো করছিলেন তাইনা, যেন আপনার ধ/র্ষি/তা মেয়েকে আমার ছেলের ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পারেন?”
“আপনি কী বলছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। কীসের সত্যি লুকাব? মেয়ের বিয়ের বয়স হয়েছে এই জন্যই বিয়ে দিচ্ছি।”
“একদম মিথ্যে বলবেন না। একটা ষোলো বছরের মেয়ের বিয়ের বয়স হয় কীভাবে? আপনি তো একজন টিচার, আপনি নিশ্চই নিজের মেয়ের বাল্যবিবাহ দিতেন না মেয়ের কোনো খুঁত না থাকলে। মেয়ের খুঁত আছে বলেই তাড়াহুড়ো করে বাল্যবিবাহ দিচ্ছেন।”
“আপনাকে কে কী বলেছে? যে বলেছে সে মিথ্যে বলেছে আপনাকে। আমার মেয়ের মধ্যে কোনো খুঁত নেই।”
“আপনার মেয়ের খুঁত আছে কি নেই সেটা আর আমাদের জানার প্রয়োজন নেই, এই বিয়ে হবে না এটাই ফাইনাল। এই চলুন সবাই।”
লাবিব ইসলামের বড়ো ভাই আর ভাতিজা এগিয়ে এসে দাঁড়ান জাকারিয়া মির্জার সামনে। ভাতিজা রওশন চাপা রাগী স্বরে বলে,
“আপনি কী মজা করছেন আমাদের সঙ্গে? শেষমুহূর্তে এসে বলছেন বিয়ে ক্যানসেল। কোন কু’ত্তা’র বাচ্চা কী বলেছে বলুন।”
রওশনের বাবা রোমান ইসলাম বলেন,
“আপনাকে যে যা বলেছে সবই মিথ্যা। আপনি সত্যতা যাচাই বাছাই না করেই বিয়ে ক্যানসেল করছেন কীভাবে?”
জাকারিয়া মির্জা বলেন,
“সব সত্যি জানা হয়ে গেছে আমার, আর কোনো যাচাই বাছাই করতে হবে না। সবকিছু পানির মতো পরিষ্কার, আপনাদের মেয়ে ধ/র্ষি/তা বলেই এত তাড়াহুড়ো করে এত কম বয়সেই বিয়ে দিতে চাইছিলেন। আশেপাশে আগেই খোঁজ খবর নেওয়া উচিত ছিল আমাদের। নেহাতই আপনাদের মেয়ে সুন্দরী বলে বিয়েতে রাজি হয়েছিলাম নয়তো কস্মিনকালেও রাজি হতাম না। আপনাদের ক্লাসের চেয়ে আমাদের ক্লাস অনেক উপরে। বামন হয়ে চাঁদ ধরতে চেয়েছিলেন তাও এক ধ/র্ষি/তা মেয়েকে দিয়ে। দুনিয়ায় মেয়ের অভাব পড়েনি যে কোনো
ধ/র্ষি/তা মেয়েকে আমার একমাত্র ছেলের বউ করতে হবে।”
“মুখ সামলে কথা বলুন, কাকে ক্লাস দেখাচ্ছেন? শহরে থাকেন বলেই আমাদের চেয়ে হাই ক্লাসের আপনারা?”
“রওশন চুপ কর।”
“কেন চুপ করব? এক নাগারে ধ/র্ষি/তা ধ/র্ষি/তা করেই চলেছে তখন থেকে। উনি প্রমাণ দিতে পারবে লামহা
ধ/র্ষি/তা?”
জাকারিয়া মির্জা ছেলের হাত ধরে টেনে নিয়ে বাইরের দিকে এগিয়ে যেতে শুরু করেন। এইসব গ্রাম্য মানুষের সঙ্গে কথা বলে নিজের সময় অপচয় করবেন না তিনি, তার অনেক কাজ আছে।
লাবিব ইসলাম আর কিছু বলার সুযোগও পান না। চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই তার হাতে নেই।
পুরো বিয়ে বাড়িতে গুঞ্জন আর কোলাহল শুরু হয়ে গেছে। বর যাত্রী অনেকেই জাকারিয়া মির্জার পেছন পেছন বেরিয়ে যাচ্ছে আবার অনেকেই ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। একটু সময়ের মধ্যে কি থেকে কি হয়ে গেল। খাওয়া-দাওয়া সব শেষ, বিয়ে পড়ানোর মুহূর্তে এসে জাকারিয়া মির্জা বেঁকে বসলেন।
লাবিব ইসলাম ডান হাতে বুক চেপে ধরেন। ওনার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, বুকে ব্যথা বাড়ছে।
রওশন দ্রুত এসে কাকাকে ধরে বিচলিত হয়ে বলে,
“কাকা, কী হয়েছে তোমার? এমন করছো কেন?”
লাবিব ইসলাম ক্ষীণ স্বরে বলেন,
“আমার মেয়েটার জীবন শেষ রওশন, ওর এখন কী হবে? এইসব নিশ্চই ওই কু’ত্তা’র বাচ্চার কাজ।”
“তুমি নিজেকে সামলাও, এভাবে ভেঙে পড়ছো কেন?”
“তুই বুঝতে পারছিস না, লামহার বিয়ে ভেঙে গেছে।”
“তাতে কী হয়েছে?”
“কী হয়েছে বলছিস? ও এখন বাইরে বের হতে পারবে না, মানুষ জন ওকে কথা শোনাবে, ছোটো করবে। আমার মান সম্মান সব শেষ।”
“তুমি শক্ত করো নিজেকে।”
আরও কিছু বলতে চেয়েছিলেন লাবিব ইসলাম কিন্তু তার আগেই ঢলে পড়েন নিচে। রওশন কাকাকে সামলাতে চেয়েও পারে না।
হুলস্থুল পড়ে যায় পুরো বাড়ি জুড়ে। অনেকেই দৌড়ে পানি নিয়ে আসে।
বাড়ির ভেতর মহিলাদের কানেও এই খবর পৌঁছে গেছে এতক্ষণে। ভেতর থেকে অনেকেই বেরিয়ে এসেছে। লাবিব ইসলামের বউ তানহা বেগম দৌড়ে আসেন স্বামীর কাছে।
ভিড় ঠেলে লাবিব ইসলামের কাছে এগিয়ে আসেন জাবির মির্জা।
লাবিব ইসলামের পালস রেট চেক করে ওনার চোখে মুখে আরও পানি দেন তিনি জ্ঞান ফেরানোর উদ্যেশ্যে।
বাবার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে বাড়ির ভেতর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসে বধূ বেশে থাকা ষোড়শী কন্যা লামহা ইসলাম।
সবাই তাকিয়ে আছে লামহার দিকে। মেয়েটার সৌন্দর্য চোখ ধাঁধানো।
ভিড় ঠেলে নিজেও বসে বাবার পাশে। বাবাকে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“আব্বু, কী হয়েছে তোমার? ওঠো, আব্বু।”
মেয়েটার কান্নারত রিনরিনে গলার স্বরও যেন ছন্দ তুলছে। দু’চোখ বেয়ে টুপটাপ গড়িয়ে পড়ছে পানি। লাল টকটকে লিপস্টিকে রাঙানো ওষ্ঠ জোড়া কাঁপছে তিরতির করে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরে আসে লাবিব ইসলামের তবে কেমন যেন নিষ্প্রাণ হয়ে গেছেন। পিটপিট করে মেয়ের কান্নারত মুখের দিকে তাকান।
“আব্বু, কী হয়েছে তোমার? কোথায় কষ্ট হচ্ছে?”
লাবিব ইসলামকে নিচ থেকে তুলে বসানো হয়। তিনি হাত উঁচু করে মেয়ের মাথায় রাখেন। জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে জড়ানো গলায় থেমে থেমে বলেন,
“মারে, তোর ভালো করতে যেয়ে আরও খারাপ করে দিলাম।”
লামহা বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
“তোমার কী হয়েছে? হাসপাতালে চলো।”
“তোর মধ্যে তো কোনো খুঁত ছিল না, ওরা কেন বিয়ে ভেঙে দিল? আমার কথা কেন বিশ্বাস করলো না?”
জাবির মির্জা রওশন আর রোমান ইসলামের দিকে তাকিয়ে বলেন,
“ওনাকে হসপিটালে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন বড়ো কোনো ক্ষতি হওয়ার আগেই।”
লাবিব ইসলাম মেয়েকে জড়িয়ে ধরে রাখেন। ওনার দু’চোখ বেয়ে ঝরঝর করে পানি গড়িয়ে পড়ছে।
এমনিতেই শকুনের অভাব নেই, এখন সাথে জুটবে কিছু ন’র’পি’চা’শ। ওনার মেয়েটা স্বাভাবিক ভাবে বাঁচতে পারবে না এই সমাজে। আবার বিয়ে দিতে গেলেও অনেক ঝামেলা হবে। ওনার নিষ্পাপ মেয়েটা কেন এত কিছু ভোগ করছে?
জাবির মির্জা লাবিব ইসলামের এক হাত মুঠো করে ধরে বলেন,
“আপনি যদি রাজি থাকেন তাহলে আমি আমার ছেলের বউ করে নিয়ে যাব আপনার মেয়েকে।”
বিস্ফোরিত নয়নে সবাই তাকায় জাবির মির্জার দিকে। কী বলছে এই লোক? বড়ো ভাই বিয়ে ভেঙে দিয়ে চলে গেলো আর ছোটো ভাই নিজের ছেলের বউ করতে চাইছে?
সবচেয়ে বেশি শকড হয়েছে তো জাবির মির্জার বড়ো ছেলে হিমেল মির্জা। বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে। নিজের অজান্তেই জোরে বলে ওঠে,
“তুমি কী বলছো এসব? মাথা খারাপ হয়েছে নাকী? চলো এখান থেকে।”
জাবির মির্জা বসা থেকে উঠে দাঁড়ান। ছেলেকে টেনে একটু দূরে নিয়ে আসেন।
“এভাবে রিয়েক্ট করছিস কেন?”
“আমি বিয়ে করব না ওই মেয়েকে। একজন
ধ/র্ষি/তা/কে আমি কেন বিয়ে করব? চলো এই বাড়ি থেকে।”
“হিমেল তুই বিয়ে করবি লামহাকে এটাই আমার শেষ কথা।”
“দুনিয়া উল্টে গেলেও না, মানে না। তুমি থাকো এখানে, গেলাম আমি।”
হিমেল ঘুরে দাঁড়াতেই জাবির মির্জা ছেলের হাত টেনে ধরেন।
“আমি বলেছি তুই ওই মেয়েকে বিয়ে করবি, মানে করবি কোনো কথা শুনতে চাই না আমি।”
“ভালো হবে না বলছি, ছাড়ো আমার হাত।”
“এসব মিথ্যে কথা, আমি পরে তোকে সব বলবো এখন চল বিয়ে করবি।”
“আব্বু ভালো হচ্ছে না কিন্তু, ছাড়ো আমার হাত। ওই মেয়েকে আমি বিয়ে করব না।”
জাবির মির্জা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আদেশের সুরে বলেন,
“তুই এই বাড়ির মেয়েকেই বিয়ে করবি এটাই আমার শেষ কথা, আমি তোর কোনো না শুনতে চাই না।”
হিমেল রাগে ফেটে যাবে যেন এখন। ফরসা চেহারা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। রীতিমত ফোস ফোস করছে। দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
“এটাই তোমার শেষ কথা?”
“হ্যাঁ।”
“আমি বিয়ে করব না, এটা আমার শেষ কথা। ওই মেয়ের প্রতি যদি এতই দরদ উথলে ওঠে তাহলে নিজের ছোটো ছেলের সঙ্গে বিয়ে করিয়ে দাও।”
চলবে……..
তোমারসঙ্গেএক_জনম (০১)
সানা_শেখ
আপনাদের রেসপন্সের উপর ভিত্তি করে নেক্সট পার্ট আসবে নয়তো আসবে না। রেসপন্স না পেলে গল্প লিখতে ইচ্ছে করে না এখন, তাই গল্প ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট করবেন সবাই। গল্পের প্রত্যেক পার্ট পড়েন প্রায় লাখ মানুষ অথচ রেসপন্স নেই। এত কষ্ট করে লিখি কাদের জন্য? ১৭% ফলোয়ার আর বাকী ননফলোয়ার গল্প পড়েন। পেজ ফলো দেন না আবার রিয়েক্ট কমেন্টও করেন না। আমি তো আপনাদের রিয়েক্ট আর কমেন্টের জন্যই লিখি নাকী? আলসেমি বাদ দিয়ে রেসপন্স করবেন সবাই।
নেক্সট পার্ট আগে আগে পড়তে সানা শেখ পেজটি ফলো দিয়ে রাখবেন সবাই তাহলে পরবর্তী পার্ট পোষ্ট করার সঙ্গে সঙ্গেই পেয়ে যাবেন ধন্যবাদ।
Share On:
TAGS: তোমার সঙ্গে এক জনম, সানা শেখ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২৩
-
দিশেহারা পর্ব ১১
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৩
-
দিশেহারা পর্ব ৩৮
-
দিশেহারা পর্ব ৩০
-
দিশেহারা পর্ব ৩৭
-
দিশেহারা পর্ব ৩১
-
দিশেহারা পর্ব ৪
-
দিশেহারা পর্ব ২১
-
দিশেহারা পর্ব ৭