ডেনিম_জ্যাকেট — পর্ব ৫২
অবন্তিকা_তৃপ্তি
~ বাসর স্পেশাল পর্ব🔕~
————- ‘তুই আমার বাচ্চার খু নি কুহু; আমার একজীবনে আমি তোকে কখনোই মাফ করবো না।’
কাব্য কুহুর দুহাত ধরে দেয়ালের সঙ্গে চেপে রেখেছে। কুহু অবিরাম মাথাটা নিচু করে কাঁদছে। আজ কাব্যের চোখেও জল; হৃদয় আহত; ক্ষতবিক্ষত! কাব্য একহাতে নিজের চোখের জল মুছে ফেলল! কুহু থামে; কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি উঠে গেছে। পাগলের বেশে কাব্যের গলা জড়িয়ে ধরে আবার মাফ চাইতে গেল! কাব্য দিল না ধরতে, দ্রুত ওকে ছেড়ে, চোখের জল মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেল ঘরটা থেকে।
পাগল-অস্থির কুহু মাটিতে পরে যায়; মাটি খামচে চিৎকার করে ডাকে———-‘কাব্য . . কাব্য ভাই!’
টিং. টিং. টিং.
এলার্মের শব্দে কুহুর কানে বাজতেই,কুহু আচমকা চোখ খুলে তাকাল। কাপতে কাপতে ধীরে ধীরে চোখ খুলে বুঝতে চাইল— ও এইমুহূর্তে আছে কই! আশপাশ দেখে অনেকক্ষণ পর বুঝতে পারল—- ও কাব্যের রুমেই আছে; কাব্যের বিছানাতেই ঘুমাচ্ছে, এতক্ষণ যা দেখছিল সব স্বপ্ন ছিলো।
কুহু পাগলের বেশে ধীরে উঠে বসলো বিছানাতে। মাথার চুল বড্ড এলোমেলো, একটা ক্লিপ দিয়ে পুরোটা চুল আটকালো আনাড়ি হাতে। হঠাৎ বালিশের দিকে চোখ গেলে দেখে — বালিশটার একাংশ বেশ ভেজা । ঘুমের মধ্যেও কাঁদছিল নাকি ও? কি জানি!
কুহু আশপাশে তাকাল—- রাত এখন, কাব্য ভাই কি বাসায় নেই? রুমেও তো নেই। কুহু চোখ কুচকে খুঁজতে খুঁজতে উঠে দাঁড়ালো, একের পর এক পুরো রুম খোজার পর হঠাৎ বারান্দায় এসে দেখতে পেল কাব্য উল্টো ফিরে দোলনায় বসে আছে। কুহুর জানে যেন পানি এলো এতক্ষণে।
স্বস্থির শ্বাস ফেলে, মাথাটা কাত করে হালকা হেসে দৌড়ে এগিয়ে গিয়ে সোজা কাব্যকে পেছন থেকে গলাটা জড়িয়ে ধরে ওর ঘাড়ের একপাশে মাথাটা রাখল।
আচমকা কাব্য কাউকে এতটা পাশে-কাছে দেখে সম্বভত অবাক হয়েছে।ঘাড়টা পাশ ফিরিয়ে দেখে ওর পাগলাটে বউ ওকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে চোখ বুজে ভারী মাথাটা হেলিয়ে দিয়েছে।
কুহুকে দেখেকে কাব্য সাথেসাথেই হাতের আল্ট্রাসোনো রিপোর্ট লুকিয়ে ফেলতে ফেলতে, গলা পরিষ্কার করে বলল———‘তুই! ঘুম শেষ?’
কুহু চোখ বুজে মাথা এলিয়ে ছিলো কাব্যে ঘাড়ের উপর, হঠাৎ কেন যেন সন্দেহ লাগল কাব্যের কণ্ঠ শুনে। ও ছেড়ে দিল কাব্যকে সাথেসাথে। তারপর সোজা ওর সামনে এসে দাঁড়িয়ে কাব্যকে দেখে বলল———‘আপনার গলা কাঁপছে কেন?’
কাব্য থামে, চোরের মত মুখ লুকিয়ে জবাব ছুড়লো—-‘কই? কা.. কাঁপছে না।’
কুহু এগিয়ে এলো; ভ্রু কুচকে বাজপাখির মতো কাব্যের ঠিক সামনে এসে দাড়িয়ে চোখের ভেতরটা অব্দি দেখার চেষ্টা করলো। পরপর হঠাৎ থমকালো, আশ্চর্য হয়ে বলল——-‘আপনার চোখে পানি কেন? হু?’
কাব্য সাথেসাথেই চোখ মুছে উঠে দাড়িয়ে গেল, কুহুর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে তাড়াহুড়ো করে স্যান্ডেল পায়ে পড়তে পড়তে বলল——-‘না. চোখে কিছু পড়েছে তাই। ঘুমাবি চল।’
কাব্য এভাবে চোরের মতো চলে যাচ্ছে? কুহু সাথেসাথেই আটকালো কাব্যকে হাত ধরে। পেছন থেকে আটকে ধরে শীতল কণ্ঠে বলে বসলো————-‘কাঁদছিলেন কেন কাব্য ভাই? আমাকে বলা যায় না?’
কাব্য থামল; কুহুর ওমন শীতল স্বরের প্রশ্নে অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে ঢোক গিলে বলল———‘পুরুষরা কাঁদে না।’
কুহু মৃদু হাসলো এ যাত্রায়। মলিন হেসে কাব্যকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ওর পিঠে মুখ ঘষে আস্তে করে বলল———-‘পুরুষরা কাঁদে না বুঝলাম। স্বামীরাও কি কাঁদে না?বা প্রেমিকরা কাঁদে না?’
কাব্য বহু কষ্টে নিজের সামলে কুহুকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে জবাব বলল——-‘ঘুমাবি চল।’
কাব্য ওকে টেনে ধরতে নিলেই, কুহু কাব্যের দুহাত ধরে আটকে দিল। কাব্য কুহুর চোখের দিকে তাকালো; দুজনের চলহেই চোখ মিলল। কুহু কাব্যকে টেনে এনে দোলনায় আবার বসালো।
কাব্য দোলনায় বসে কুহুর মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। কুহু দাড়িয়ে থাকা স্বত্বেও বসে থাকা কাব্যের সমান লম্বায়। কাব্য মাথা তুলে ওর মুখের দিকে চেয়ে সাথেসাথে চোখ সরিয়ে নিলো।কুহু যেভাবে তাকিয়ে আছে; কাব্য বেশুক্ষণ নিজেকে সামলাতে পারবে না আজ।
কাব্য চোরের মতো মুখ লুকাচ্ছে, কুহু দিল না এইবার আর। আলগোছে কাব্যের মুখটা দুহাতে তুলে নিজের চোখের সামনে ধরলো। কাব্য তাকাচ্ছে না একবারও, অন্যদিকে চোখ ফিরিয়ে আছে; ওর চোখ-দুটো খুব কষ্টে কান্না আটকে রেখেছে। কুহু ডাকে; ভীষণ নরম কণ্ঠে আদর ঢেলে———‘তাকান, তাকান আমার দিকে।’
কাব্য তাকাচ্ছে না; ঢোক গিলে মুখটা ছাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করল কুহুর থেকে। কুহু ছাড়লো না; কাব্যের কপালে চুমু খেয়ে আবার ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ভীষণ আদর কণ্ঠে বললো—————‘কষ্ট পাচ্ছেন? হু? বললে কি হয় আমাকে? পুরুষত্ব চলে যায়? হ্যাঁ? আমার কাছে কান্না লুকিয়ে কিসের পুরুষত্ব প্রুভ করবেন আপনি?’
কাব্য তাকাল এবার কুহুর দিকে। ওর চোখ তখনও টলমলে। কুহু দুহাতে কাব্যের চোখ মুছে দিয়ে আবার মুখটা ধরে বাচ্চাদের মতো বলল——————‘আমাকে বলুন; কি কষ্ট? অভিযোগ করুন; প্লিজ। আমার নামেই হোক: তাও করুন। আমি বলছি করুন।’
কাব্য চুপচাপ অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকল কুহুর চোখের দিকে। কুহুর চোখে অনেকটা আশকারা, লাই দিচ্ছে কাব্যকে! কাব্য ওর চোখের ভেতরটা দেখে অনেকক্ষণ, পরপর গলা কেপে বলল——-‘কোনো অ. অভিযোগ নেই আমার তোর উপর।’
‘তাহলে? কার উপর? বলুন না।’ —- কুহু বাচ্চাদের মতো কাব্যের মুখটা দুহাতে তুলে ধরে জানতে চাইল।
কাব্য মলিন হাসল, আঙুল দিয়ে কপালে দাগ কেটে বলল———‘এই চার আঙুলের কপালের উপর, ভাগ্যের উপর।’
কুহু শুনলো, মলিন হেসে কাব্যের চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। পরপর কাব্যের কপালে ঝুঁকে এসে চুমু খেলো, কাব্য সাথেসাথে চোখটা আরামে বুজে নিলো। কুহু সরে এসে বলল———-‘কতটা কষ্ট লুকিয়ে রেখেছেন এই বুকে? বলা যাবে আমাকে?’
কাব্য স্রেফ তাকিয়ে থাকলো, কথা বলার শক্তি হারিয়েছে ও। গলায় এতমাসের সমস্ত কষ্ট দলা পাকিয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে বারবার: অথচ কাব্য দিচ্ছে না সেটা।
কাব্য মুখটা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই: কুহু আবার চেপে ধরে বাচ্চাদের মতো বললো————‘বলুন না, প্লিজ। কেন লুকাচ্ছেন? কি লাভ লুকিয়ে? আমি বলছি বলুন।’
কাব্য কুহুর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, কুহুর চোখে হঠাৎ জল টলমল করে উঠে। কাব্য ওর টলমলে: নেশাল চোখের দিকে চেয়ে কি যেন হয়ে গেল, মলিন কণ্ঠে জবাব দিল————-‘তোর কি এখন বিশ্বাস হয়—- আমি কাব্য তোকে ভালোবাসি? হু?’
কুহু চুপচাপ কাব্যের দিকে তাকিয়ে রইল: পরপর এক বাক্যে জবাব দিল———-‘হ্যাঁ,বিশ্বাস হয়।’
কাব্য হাসল, মলিন হেসে অসহায় কণ্ঠে জবাব দিল————-‘জানিস. . আমি তোর দেওয়া সমস্ত আঘাত মেনে নিয়েছিলাম, তোর এত ঘেন্না অব্দি তোর প্রতি আমার ভালোবাসা এক ফোটাও নড়চড় করতে পারিনি। কিন্তু. . !’
কুহু আশকারা দিল, জানতে চাইল———‘কিন্তু. .!’
কাব্যের গলা কেপে উঠে থরথরিয়ে———‘তুই. . ওইদিন রাতে. আমার ছোয়া; আমার ভালবাসাকে যে নোংরা বললি. . আমার এখনো না, এটা মনে হলে কেমন অস্থির লাগে। তুই. . . আমি ওইদিন তোকে ছুয়েছিলাম কুহু; কতটা আবেগ আমি-তুই দুজনে ওইরাতে দেখিয়েছি তুই জানলি না। অমন একটা রাতের পর . ‘
কাব্য হা করে শ্বাস নিলো। চোখের পানি ওর টলমলিয়ে উঠে; কাব্য দিল না তা গড়িয়ে পড়তে। কুহু কাব্যের মুখটা আরও ভালো করে দুহাতে ধরে———‘তারপর?’
কাব্য থামল: পরপর ঢোক গিলে অসহায় কণ্ঠে বলে উঠল——‘আমি তোকে যতটা না ভালোবেসেছি: ওই একটা রাতের পর আমি নিজেকে তার থেকে বেশি ঘেন্না করতে শুরু করেছিলাম। বারবার মনে হচ্ছিল—- আমি নিজেকে আজ কোথায় দাঁড় করিয়ে রেখেছি তোর সামনে।’
কাব্য থামে। কুহুর থেকে চোখ ফিরিয়ে নামিয়ে নিল, তাকাবার সাহস নেই ওর ওই দুই-চোখে। কুহু চুপচাপ তাকিয়ে থাকল কাব্যের রক্তিম, পুরুষালি মুখটার দিকে। একটা মানুষের মুখে এতটা মায়া.. কিভাবে সম্ভব?
কুহু আবেশিত হলো, পরপর এগিয়ে আসলো, আস্তে করে কাব্যের ঠোঁটে নিজে থেকে চুমু খেলো একটা. . কাব্য চোখ বুজে ফেলে, চোখ থেকে এক ফোঁটা জল গড়ায় এতক্ষণে,আলগোছে।
এই ঠোঁট চুমু. . এটা কামনা নয়, ছিলই না।
অনেকক্ষণ পর কুহু সরে এলো, কাব্যের পুরুষালি খসখসে মুখটা দুহাতে ধরে ভীষণ আবেগ করে বলল——-‘আমি সরি।’
কাব্য ঢোক গিলে একটা। কুহু তারপর কাব্যের গালে আবার চুমু খেলো, পরপর বলল—————‘আপনাকে অবিশ্বাস করার জন্যে সরি।’
কাব্যের বুকটা ধুকপুক করে উঠে। কুহু তারপর আবার কাব্যের কানের লতিতে চুমু খেয়ে ফিসফিস করে বলল————-‘আপনাকে ভালোবেসেও সব ভুলে যাওয়ার জন্যে সরি।’
কাব্য থমকায়, আবেশে কুহুকে দুহাতে ধরে ফেলে খামচে। কুহু কাব্যের কপালের এলোমেলো চুল সরিয়ে সেখানেও চুমু খেলো। ঠোঁট দাবিয়ে চুমু খেয়ে বলল————-‘এই চার আঙ্গুলের কপালে আমার হাজার চুমু পড়ুক: কাব্য ভাই। আমি কুহু. . আপনার কপালের সুখ হই আজ থেকে?প্রমিজ, আর কক্ষনো মনে করতে দিব না— যে আপনার এই চার আঙুলের কপালে সুখ নেই। কখনো না।’
কাব্য চোখ বুজে কুহুকে ধরে নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ওর ঘাড়ে মুখ গুঁজে ফেলে। কুহুর চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পরে। ও কাব্যকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে মুখ গুঁজে বলে————‘ওই রাতে আমি সজ্ঞানে ছিলাম না কাব্য ভাই. . আজ তো আছি।’
কাব্য বুঝে কুহু কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কাব্য মলিন হাসলো, কুহুকে ছেড়ে দিয়ে মুখ লুকিয়ে বলল———‘তোর শরীর সুস্থ না। ঘুমানো উচিত।’
কুহু থামে: কাব্যের হাতটা ধরে ফেলে; কম্পিত কণ্ঠে বলে————‘আপনাকে না পেলে আমার মনে হবে আমি কুহু পুরোটাই খালি: অসম্পূর্ণ। একটা বছর কাব্য ভাই. . একটা বছরের দুরুত্ব আমি মেটাতে চাইছি।’
কাব্য তাকিয়ে থাকল, বুঝতে পারে কুহু কি বোঝাতে চাইল। কুহু থামল, পরপর কাব্যের হাতটা ধরে জানতে চাইল———-‘একটা কথা জিজ্ঞেস করি?’
কাব্য থামে———‘কি?’
কুহু কাব্যের হাতটা ধরলো দুহাতে; পরপর ওর চোখের দিকে চেয়ে টলমলে চোখে জানতে চেয়ে বলল———-‘আপনার একবারও. . মনে হয়েছে আমাদের বাচ্চার খু নী আমি? সত্যি বলবেন কিন্তু।’
কাব্য আশ্চর্য হয়ে চেয়ে থাকে। পরপর কুহুকে টেনে এনে নিজের বুকে ফেলে ওর চুল দুহাতে গুছিয়ে দিতে দিতে বলল————‘একবারও না; নট ইভেন এ সিঙ্গেল টাইম।’
কুহু অমনি যেন শান্ত হয়ে গেল এটা শুনে। কাব্যের বুকের সাথে মিশে চোখ বুজে ফেলে আনন্দে: স্বস্তিতে। কাব্য বলে যায়———-‘আমি যে কুহুকে চিনি. . আমি জানি ও মা হিসেবে চুড়ান্ত ভালো। সে আমাকে ঘেন্না করলেও আমার বাচ্চাকে কিছু করবে না।’
কুহু চুড়ান্ত অবাক হয়ে কাব্যের মুখের দিকে তাকাল। কাব্য দুহাতে কুহুর চুল গুছিয়ে দিয়ে বলল———-‘সিয়ামের একটা মেসেজ এসেছিল আমার কাছে।’
কুহু আতকে উঠে——-‘কি মেসেজ?’
কাব্য ওর ফোনটা এনে কুহুকে দেখাল। কুহু দেখে ওইখানে সিয়ামের সাথে কুহুর সেদিনের হসপিটালের ছবি। এডিট করা, অনেকটাই ক্লোজ দেখাচ্ছে দুজনকে, সাথে নিচে লেখো———‘মরা বাচ্চার জন্যে শুভকামনা।’
কুহু সাথেসাথেই ভয়ার্ত চোখে কাব্যের দিকে তাকাল———-‘আমি. . বিশ্বাস করুন! আমি ওইদিন সিয়াম. সিয়াম আমার কাছে এসেছিল. . বলেছে ঊর্মি . .ঊর্মি প্রেগনেন্ট। আপনি. .আপনার বাচ্চা। আমি সব বিশ্বাস করলেও এটা বিশ্বাস করতে পারিনি কেন যেন। আমি চলে এসেছিলাম ওখান থেকে। ও আমার কান ভাঙানোর চেষ্টা করেছে, পারেনি। আপনি. . বিশ্বাস না হলে শার্লিনকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। ও ছিলো আমার সাথে।’
কাব্য কুহুকে অস্থির হতে দেখে ফোনটা ফেলে এগিয়ে এসে ওর মুখটা দুহাতে ধরে বলতে থাকে———‘হুশ. .হুশ! শান্ত হ, হু? আমি কিছু বিশ্বাস করিনি এসবের।’
কাব্য দুহাতে কুহুকে ধরে এবার নিজের বুকের সাথে মেশায়। কুহু ভীষণ অস্থির, কাব্যের টিশার্ট খামচে ধরে বলল———‘না.. .সত্যি বলুন প্লিজ। আমি এক্সপ্লেইন করব।’
কাব্য একসময় কুহুর মাথায় চুমু খেয়ে মলিন কণ্ঠে বলে————-‘যে জিনিসটার কারণে আমি নিজেই ভুক্তভোগী, সেটাতে আমি তোকে কি ভোগাবো কুহু?’
কুহু বুঝে না কাব্যের কথার অর্থ, বুক থেকে মাথা তুলে কাব্যের মুখের দিকে তাকাল———-‘হু?’
কাব্য বড্ড নরম কণ্ঠে জবাব দিল——-‘আমি সিয়ামের কথা বিশ্বাস করিনি। বাইরের মানুষের থেকে বড় আমার নিজের বিশ্বাস। আর আমি তোকে একজীবনে কোনদিনও অবিশ্বাস করিনি; এক সেকেন্ডের জন্যেও না।’
কুহু ফ্যালফ্যাল করে কাব্যের মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকলো। চোখের সামনে পর্দার ন্যায় ভাসতে লাগে—- গতো এক বছরে কাব্যকে কতটা অবিশ্বাস করেছে, কিভাবে অবিশ্বাসের কারণে অপমান করেছে; ভেঙেছে এই পুরুষকে আগাগোড়াই।
কুহুর অপরাধবোধে মাথাটা ছিড়ে যেতে লাগল. .বুকটা যেন কেউ ভারি পাথর চেপেছে। কাব্যের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ ও ডুকরে কেদে উঠে। কাব্য বুঝে না এই কান্নার কারণ। ওদিকে কুহু পাগলের মতো কাব্যের চোখে-মুখে চুমু খেয়ে কাব্যের ঘাড়ে মুখ গুঁজে কেদে ফেলে, ডুকরে। কাব্য বুঝে না ও কেন কাদছে। কাব্য দুহাতে নিজের সাথে আগলে নিলো। কেন যেন কুহুকে কাঁদতে দিল ওর বুকের উপরেই।
কুহু কাঁদতে কাঁদতে কাব্যের ঘাড়েই মুখ গুঁজে ফুপাচ্ছে এখন। কাব্য ওর চুল গুছিয়ে দিয়ে বলল——-‘কান্না শেষ? না আরও কাঁদবি?’
কুহু কাব্যের শার্ট পাঁচ আঙুলের মুঠোতে মুচড়ে ধরে———-‘আপনি এত ভালো কেন কাব্য ভাই? এতকিছুর পরেও. . এতটা ভালোবাসেন? কেন? আমি যোগ্য না আপনার ভালোবাসা পাবার; পুরো ইউজলেস আমি।’
কাব্য মৃদু হাসে; জবাবটাও দিল ভীষন আস্তে ফিসফিস করে———-‘You fall first: but i fall harder. .!’
কুহু কাব্যের ঘাড় থেকে মাথা তুলে ওর মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে থাকল। কাব্যের ঠোঁটে হালকা একটা হাসি, কুহুও পরপর ওর হাসি দেখে হেসে উঠে কাব্যের গলাতে আবার মুখ গুঁজে আরাম করে শ্বাস নিলো। কাব্যও হাসল পালটা। বহুদিন পর. .নিজেদের মান-অভিমান কেটেছে এই দম্পত্তির। দুজনের মনেই এখন শুধু প্রশান্তি- আর সুখ-সুখ।
কাব্যের বোধ হলো—- কুহু বোধহয় আজ ঘরেই যাবে না। কোলে চেপে ঘাড়ে মুখ বুজে আছে সেই কখন থেকে: আর একটু পরপর কাব্যের গালে-মুখে চুমু খাচ্ছে।
কুহুর এমন পাগলামি দেখে কাব্য হাসল কেন যেন।রাত হচ্ছে, তাই ওকে ওভাবেই সোজা পাজকোলে তুলে নিতেই; কুহু কাব্যের গলা জড়িয়ে ধরে ভীষণরকম আকৃষ্ট হয়ে কাব্যের মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে রইল শূধু।
কাব্য চুপচাপ কুহুকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে ওর চুল গুছিয়ে বলল———‘ঘুমা।’
কুহু কাব্যের গলা তখনও ছাড়েনি, বলল———-‘আপনি ঘুমাবেন না?’
কাব্য নরম কণ্ঠে ওর কপালে চুমু খেয়ে জবাব দিল——-‘কাজ আছে আমার; করে আসি?’
ভীষণ আদুরে কণ্ঠে যেন অনুমতিটা চাইল। কুহু হাসল, কাব্যকে টেনে এনে ঠোঁট উল্টে বলল————‘কি কাজ? পড়াশোনা তো শেষ আপনার।’
কাব্য কুহুর ওভাবে টেনে আনাতে ওর উপরেই শুয়ে গেল এইবার, জবাব দিল রয়ে-শয়ে——-‘ন্যাশনাল ফুটবল টিমে জয়েন হয়েছি।’
‘ফুটবলার হবেন আপনি?’ —— কুহু অবাক হয়ে গেল, আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইল।
কাব্য হাসল, মাথা নাড়ল———‘হু।’
কুহু আবার অবাক কণ্ঠে বললো————-‘আর আপনার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি?’
কাব্য ঠান্ডা স্বরে জবাব দিল———‘ওটা থাকবে; অল্টারন্যাটিভ হিসেবে। আপাতত ফুটবলার হই।’
কুহুর প্রশ্নের ঝুলি শেষ হয়নি এখনও; আবারও বলে———-‘আপনি কি সেলিব্রেটি হতে পারবেন তাহলে?’
কাব্য জবাব দিল———-‘ভালো খেললে তো হবো।’
কুহু আবার জানতে চেয়ে বলল————-‘তারমানে আমি সেলিব্রেটির বউ হবো। সবাই আমাকে দেখে বলবে—- ওটা ফুটবলার কাব্যের বউ?’
কাব্য হেসে ফেলল ওমন প্রশ্নে, কুহুর কপালে চুমু খেয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিয়ে বলল———-‘কি বাচ্চামো প্রশ্ন। আর হ্যাঁ, বলতে পারে, যদি সেলিব্রেটি হই।’
কুহু খুশি হয়ে গেলো একদম। কুহু কাব্যের গলাটা জড়িয়ে ধরে আরও ভালো করে। বলল————-‘আচ্ছা. . তখন এসব মহব্বত থাকবে? এভাবে? আমার এই সাধারণ ঘরের স্বামী কাব্যের মতো সেলিব্রেটি কাব্যের ভালোবাসা একই থাকবে তো?’
কাব্য ভ্রু বাকায়———-‘তোর কি মনে হয়?
কুহু হাসে: কাব্যের গালে চুমু খেয়ে বলল———-‘থাকবে আমি জানি।’
কাব্য হেসে ফেলল। কুহুর কপালে-গালে চুমু খেয়ে টিজ করে বললো——‘আজ অনেক চুমু খেয়েছিস সারাদিনে। গুণে রাখছি কিন্তু, শরীর সুস্থ হলে সবকিছুর সুদে-আসলে ফেরত নেব।’
কুহু লজ্জা পেয়ে মাথাটা নামিয়ে নিলো। পরপর কাব্যের লজ্জার মাথা খেয়ে আস্তে করে বলল——-‘আ. . আমি কিন্তু সুস্থ আছি। চাইলে এখুনি ফেরত নি. .নিতে পারেন।’
কাব্য শুনে অবাক হয়ে বলল———‘ব্লিডিং শেষ?’
কুহু লজ্জায় মাথা নাড়ে——‘হু।’
‘এত দ্রুত? ২-৩ উইকস থাকে না?’ ——-কাব্য অবশ্য এসব ব্যাপারে জানেনা, গুগল ঘেটে দেখেছে এসব।
কুহু জবাব দিল———-‘আমাদের বাচ্চা সবে দুই মাসের ভ্রুণ ছিলো। তাই এত কম টাইম ব্লিডিং ছিলো।’
বাচ্চার কথা আসামাত্রই কাব্য এর মুখটা আবার গম্ভীর হয়ে গেল। ও কুহুর কপালে চুমু খেয়ে স্রেফ বলল——-‘কাজটা শেষ করে আসি? হু?’
বলে কুহুর হাতটা গলা থেকে ছাড়িয়ে উঠে গেল ওর উপর থেকে। তারপর ল্যাপটপ নিয়ে বসল সোফাতে। কুহু বিছানায় শুয়ে শুয়ে বালিশে হাত ঠেকিয়ে গালে হাত ঠেসে বেহায়ার মতো কাব্যকেই দেখতে থাকে। তারপর ডাকে———-‘এই শুনুন না? কতসময় লাগবে?’
কাব্য ভীষণ মনোযোগে কাজ করতে করতে জবাব দিল———‘ঘন্টা দুয়েক।’
কুহু মুখটা গোমড়া করে ফেলল শুনে। ঘন্টা দুয়েক? অনেক সময়. !
কুহু এত করে বলল—- বুঝে না নাকি এই বদমাশ লোক! সব মুখে বলবে না বলবে না করেও: সোজাসুজি বলার পরেও ভাবটা নিচ্ছে কেনইবা? কুহুর রাগ হলো এইবার ভীষন। ও মেয়ে হয়ে এতদূর এগুলো: সে ছেলে হয়ে পারছে না. ?
কুহি ঠোট কামড়ে ওভাবেই রাগী মুখে কাব্যের দিকে তাকিয়ে থাকলো। তারপর কি মনে হলো: হুট করে উঠে গেল শোয়া থেকে। কাব্য ওকে উঠতে দেখে দেখে বলল———‘কই যাচ্ছিস?’
কুহু কাব্যকে লুকিয়ে সবে একটা শাড়ি হাতে নিয়েছে; জবাব দিল———‘বাথরুমে।’
কাব্য নিজের মতো আবার কাজে লেগে গেছে। কুহু চুপচাপ চোরের মতো শাড়ি আর কিছু মেকআপ আইটেম নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেল। বাথরুমে চেঞ্জিং এরিয়া থাকায় সুবিধাই হয়েছে।
আধা ঘণ্টা পর. . !
কুহু বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো। আবেদনময়ী রূপে নিজেকে রানীর মতো করে সাজিয়ে বাথরুমের দরজায় টোকা দিয়ে চুড়ান্ত আবেদনময়ী কণ্ঠে ডাকল———-‘এইযে . তাকান এদিকে।’
কাব্য কাজ করছিল, কাজে ব্যস্ত ছিলো. . ! ওভাবেই ভীষণ অবহেলায় তাকাল জোরপূর্বক বাথরুমের দিকে। সাথেসাথেই স্থির হয়ে এলো ওর চোখ, তাজ্জব হয়ে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকিয়ে রইল ঐদিকটায়।
কুহু বাথরুমের দরজার সামনে দেয়ালটায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছে। কালো একরঙ্গা সিল্কের শাড়ি স্লিভলেস ব্লাউজের সাথে পড়েছে; আকর্ষণীয় নগ্ন হাত সম্পূর্ণটাই দেখা যাচ্ছে। কোমরের দিকে শাড়ির আচল গুঁজে রাখা; যার দরুন সম্পূর্ণ নগ্ন-উন্মুক্ত কোমরের দিকটা কাব্যের চোখের সামনে জলজল করছে। মুখে হালকা সাজ; ঠোঁটে রেড লিপস্টিক! চোখ চিকচিক করে কাব্যকেই যেন ইশারা করে ডাকছে।
কাব্য শুকনো ঢোক গিললো একটা।
কুহু দেয়ালে হেলান দিয়ে কাব্যকে চোখ টিপতেই: কাব্য কেশে উঠে ল্যাপটপ রাখতে রাখতে বলল———-‘এটা. . এসব কি পড়েছিস?’
কুহু শয়তানি হাসে: এগিয়ে আসলো আস্তে করে। ধীর পায়ে ঠিক কাব্যের সামনে এসে দাঁড়াল। কাব্য মাথা তুলে অসহায় পুরুষের মতো তাকিয়ে রইল। স্ত্রীর এমন রূপ বেচারা নিতেও পারছে না: আত্মা অব্দি শুকিয়ে যাচ্ছে।
কুহু কোমর বাকিয়ে সোফায় বসা কাব্যের দিকে ঝুঁকে আসতেই কাব্য পিছিয়ে গিয়ে সোফার সাথে মিশে গিয়ে ফ্যালফ্যাল চোখে তাকাল কুহুর দিকে। কুহু কাব্যের কপালের এলোমেলো চুল সরিয়ে দিতে দিতে বলল———-‘লজ্জা লজ্জা কাজগুলো আজ করবেন কি না বলেন?’
পুরোই গুন্ডাদের মত ব্যবহার। কাব্যের বেচারার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনরকম বলল———-‘এখন?’
‘হুম এখন; এইমুহূর্তে।’ ——- কুহু আবার শাসিয় উঠে বলল!!
কাব্যের বুক ধুকপুক করছে,কুহুকে আগগোড়া দেখে কোনরকমে জবাবটা দিল————-‘হু. . ও. . ওকে!’
বলার সাথেসাথেই কুহু ঝাঁপিয়ে কাব্যের বুকের উপর পরে গেল। দু পা সোফার বাইরে আছে, ওভাবেই কাব্যের কোলের উপর বসে ওর ঘাড়ে মুখ গুঁজে ফেলল। কাব্যের বুক অসম্ভব কাঁপছে। ও কোনোরম কুহুকে ধরে সোফায় গা এলিয়ে দিল, চোখ বুজে জোরে একটা শ্বাস নিলো।
একসময় আবেশে বিমোহিত হওয়া কাব্যের হাত-দুটো কুহুর উন্মুক্ত কোমর ছুলো; কোমর থেকে হাতটা ছুয়েই ঘাড়ে মুখ ডুবিয়ে চুমু খেতে যাবে; হঠাৎ কুহু উঠে গেল কাব্যের কোল থেকে।
কাব্য হঠাৎ কাজে বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় আহাম্মক হয়ে তাকালো কুহুর দিকে। কুহু পুরো বদলে গেল, মিছে অনাগ্রহ দেখিয়ে শাড়ির আঁচল কোমর থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ঘুম পাচ্ছে ভান করে বলল———-‘আমার না খুব ঘুম পাচ্ছে, যাচ্ছি আমি, হু?’
বলে চলে যাবে বিছানার দিকে, সাথেসাথেই কাব্য দ্রুত উঠে এসে ওর হাত চেপে ধরে আটকে দিল———-‘ঘুমাবি মনে? দেখ ফাজলামো করিস না।’
কুহু কাব্যের দিকে ফিরে, ভীষণ অবুঝ কণ্ঠে বলল———‘ওমা. . ঘুমাব না?’
কাব্য ওকে টান দিয়ে এনে নিজের বুকে উপর ফেলে দিয়ে কঠোর কণ্ঠে বললো———‘না।’
কাব্য নিজের সাথে কুহুকে যেন পিষে ফেলছে; তবুও কুহু নিজেকে শক্ত করে বলল————‘কি না?’
কাব্য মেজাজ হারিয়ে; কুহুর কোমরের নগ্ন চামড়ায় আঙুল মুচড়ে শক্ত একটা চিমটি কাটতেই কুহু ব্যাথায় ‘আহ’ করে আর্তনাদ করে উঠল। কাব্য ভ্রু বাকায়————‘এতদিন জ্বালাচ্ছিলি কেন তাহলে? না মানে না।’
কুহু কাব্যের চিমটি দেওয়া কোমরের ওই স্থানে হাত ঘষে মুখ গোমড়া করে কাব্যের মুখের দিকে তাকায়———-‘আপনি নিজে থেকে আসেননি কেন কাছে? আমি ডাকলাম বলে এলেন: আর এখন এসব? দিব না আমি কিছু।’
কুহু বলে চলে যেতে নিলে কাব্য সাথেসাথেই কুহুকে পাজকোলে তুলে নিলো। কুহু দুহাতে স্বামীর গলা জড়িয়ে ধরে, মুখটা তখনও গম্ভীর, রাগী করেই রাখা। কাব্য ওকে বিছানায় নিয়ে যেতে যেতে বলল———‘আর ডাকা লাগবে না কোনদিন: সবসময় আমিই ছুটে আসব। তবুও আজকে না করবি না। না করলে মাইর দিব ধরে।’
কুহু কাব্যের গলা জড়িয়ে ধরে এ যাত্রায় মুচকি মুচকি হাসতে থাকে। বাঘ তাহলে বশে এসেছে, না এসে যাবেটাই বা কোথায়। কাব্য কুহুজে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে বলল————‘কাজটা পণ্ড করে ভুল করে ফেললি অনেক।’
‘তাই?’ —- কুহু টিটকারি করে বলল।
কাব্য ওর ঘাড়ে একটা শক্ত কামড় দিয়ে বললো———-‘তাই না কি, সেটা তো আজকেই দেখতে পারবি। কামড়ে-কুমড়ে শেষ করে দেব একদম।’
‘ইস! কি বিশ্রী কথা।’ —- কুহু লজ্জা পেয়ে মুখ লুকিয়ে নিল।
‘বিশ্রী কথা? তুই তো এগুলোই শুনতে চাস। আমি বললেই বিশ্রী কথা? খোদা।’ —— কাব্য টিজ করে বলতেই কুহুর ওর বাহু খামচে ধরে রাগ দেখিয়ে।
কাব্য হেসে উঠে। একপর্যায়ে ওর শাড়ির আঁচলে হাত রাখতেই; কুহু কেন যেন ওর হাত ধরে ফেলল। কাব্য একটু থামল, কুহু কাপতে কাপতে বললো————‘হুসে আছি আজ কিন্তু।’
কাব্য হেসে ফেলে মুহূর্তেই——-‘জানি।’
কাব্য কুহুর কপালে চুমু খেলো একটা। কুহু আবেশে চোখ বুজে নিল। কাব্যের শার্টের বোতামে হাত রাখল আলগোছে, অনায়াসে। কাব্যও তাই উঠে সাথেসাথে নিজের শার্টের সবগুলো বোতাম খুলে ফেলে দিল ওটা একপাশে। কুহুর শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে যাচ্ছে, ছুটছে পাগলা ঘোড়ার ন্যায়।
কাব্য আবার কুহুর উপর উঠে এসে শাড়ির আঁচলে হাত রাখল, পরপর নিজেকে থামিয়ে ভ্রু নাচিয়ে বলল————‘একটা কথা বলি? তুই কিন্তু মারাত্মকভাবে সিডিউজ করতে জানিস। বিয়ে না হলে এই ব্যাপারটা আমার অজানাই থেকে যেত।’
কুহু লজ্জা পেয়ে মুখ লুকিয়ে ফেলল———‘ধুর।’
কাব্য হাসে, শাড়ির আচল সরানোর সময় হঠাৎ শেষমুহূর্তে বলল———‘সরাব? পরে বলবি না,. .অনুমতি নেইনি।’
ইশ. . .ভাব দেখানো হচ্ছে আবার! কুহু রেগে কাব্যের ঘাড় খামচে ধরে——‘বেশি না? মেরে ফেলবো একদম।’
কাব্যও হেসে উঠে কুহুর ঠোঁটের কোনায় চুমু খেয়ে শাড়ির আঁচলে হাত দিয়ে একেবারে সরিয়ে ফেলল। কুহু লজ্জায় কাব্যের ঘাড়ে মুখ গুঁজে লুকিয়ে ফেলল নিজের লজ্জামাখা লাল মুখ!
কুহু, কাব্যকে পাগলের মতো কাছে চাওয়ার পর পুরোটা রাত, মুখ দেখানোর সাহস করতে পারলো না বাকিটাক্ষণ।
তারপর?
তারপর . . বলা হয়., অনেককাল আগে; দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনের সময়. . স্বয়ং গাছের পাতা অব্দি আনন্দে নৃত্য করতো। কাব্য-কুহুর বেলায় হয়তো তাই ঘটেছে।
এই একটা যুগল. .সম্পর্কের অনেকটা উপর-নিচ দেখেছে, দুজন কষ্ট পেয়েছে; একে অপরকে কষ্ট ফিরতি দিয়েছে পাল্টা। আজ ওদের সব কষ্টের অবসান ঘটেছে। একে অন্যের হয়ে মিলেমিশে গেছে দুজন। দুটো শরীর থেকে হয়েছে এক আত্মা!
আজকের রাত.. . দুজনের জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত। আজকের রাতে কোনো ভুল বুঝাবুঝি নেই। শুধু আছে ওকে অন্যের প্রতি আস্থা: সম্মান, অঢেল ভালোবাসা আর প্রেম!
চলবে
স্পেশাল পর্ব এ ৭ হাজার রিঅ্যাক্ট হবে? আর হ্যাঁ— আজ সব্বাই, আবার বলছি সবাই কমেন্ট করবেন। আপনাদের আগ্রহ দেখতে চাই।রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা থাকবে আমার। এই একটা পর্ব পাঠকদের ভীষন আকাঙ্ক্ষার ছিলো; আর আমি লেখার চেষ্টাও করেছি সেভাবেই। কেমন লাগল— অবশ্যই জানাবেন। আমি অপেক্ষা করব, হু?
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, ডেনিম জ্যাকেট
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৫
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৪
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৭
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৬
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৫
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২২