পর্ব — ৮
ডার্কসাইডঅফ_লাভ
দূর্বা_এহসান
“ছেড়ে দিন আমাকে বলছি।ভদ্র লোকের মতো। ওকে কাটতে দিন।”
বেডের দুই দিকে দুইহাত শক্ত করে বাঁধা তরুর। চোখমুখে সে কি রাগ। বাঘিনীর মত ফুঁসছে।
জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে মৃন্ময়।মাত্রই যেনো দম বন্ধ হয়ে ছিল। একটুর জন্য বেঁচে গেছে। ঠিক সময় ছুরিটা ধরে না ফেললে আজকে নিশ্চই তার সবথেকে কাছের বন্ধু, সঙ্গসাথী ছোট মিয়ার ইয়াক্কা বুলবুল হয়ে যেতো তরুর হাতে।
তরুর দুই গালে আলতো করে মারতে লাগলো মৃন্ময় হুসে আনার জন্য।
“কানের নিচে দিবো একটা,ডেঞ্জারাস মেয়ে।কি করতে যাচ্ছিলে!”
“হাত খুলে দিন আমার। ওকে আজকে মেরেই ফেলবো। ওকে দিয়ে ঠান্ডায় ব্যাডমিন্টন খেলবো আমি। এক পাশে আপনি থাকবেন আরেক পাশে আমি।যতক্ষন শরীর ঘেমে না যাচ্ছে ততক্ষন।আমাদের খেলা হলে বাচ্চাদের দিয়ে আসবো।ওরা খেলবে।তাতেও যদি আস্ত থাকে তাহলে আগুনে পুড়িয়ে কাবাব বানিয়ে বিড়ালরে খাওয়াবো।”
কি বলা উচিত মৃন্ময়ের?কোনো স্বাভাবিক মানুষ এসব চিন্তা ভাবনা নিশ্চই মাথাতেও আনতে পারেনা।কিন্তু তরু! সে কি আদেও মানুষের মধ্যে পড়ে?
“হুস কি বলছো এসব! মাথার তার কেটে গেছে?”
“আমার মুখ আমি যা ইচ্ছা বলবো।আপনি খুলে দিন আমার হাত। বেয়াদবটাকে আজকেই আমি চাঁন্দের দেশে পাঠাবো।”
দুঃখ শেয়ার করা সাথীকে নিয়ে এসব আর সহ্য করা যাচ্ছে না। মৃন্ময় উঠে দাঁড়ালো। জ্বর হলে যে কেউ এমন উদ্ভট আচরণ করে জানা ছিল না তার।এদিকে পেটে কিছু পরেনি এখনো মেয়েটার।
মৃন্ময় দ্রুত বেড সাইডের ড্রয়ার খুলে একটা টেপ বের করলো। তরুর কাছে এসে মুখে লাগিয়ে দিলো। ছটফট শুরু করলো তরু।
মৃন্ময় তাকালো আর তার দিকে। ঘর থেকে বেরিয়ে কিচেনে চলে গেলো।এই মেয়েটার পাগলামি স্বভাব তাকে প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছিল।মিটিমিটি হাসছে মৃন্ময়। সে কি আবারো প্রেমে পড়ছে? তার কঠিন সময়ে ছেড়ে যাওয়া মেয়েটার প্রেমে কিভাবে পড়তে পারে সে?
বাবা মায়ের মারা যাওয়ার দিনটা মনে পড়তেই চোয়াল শক্ত হয়ে এলো তার।কিছু সময়ের জন্য বেরিয়ে গেছিল সে তার স্বভাবসুলভ গম্ভীর সত্ত্বা থেকে।আবারো তা মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো।তরুর প্রতি ক্ষোভটা মাথায় জেঁকে বসলো। নিজেকে সামলে রান্নায় মন দিলো সে।
সে ফ্রিজ খুললো। ঠান্ডা বাতাস মুখে এসে লাগলো। ভেতরে তেমন কিছু নেই। দুধ আছে। আধা লিটার মতো। একটা ডিমের ট্রে, কিছু সবজি, আর ওটসের প্যাকেট। ঠিক আছে। ওটসই যথেষ্ট। হালকা, পেট ভরবে, জ্বরের শরীরেও ভালো যাবে।
কাউন্টারটপে ওটসের প্যাকেট রাখলো সে। চুলা জ্বালিয়ে একটা ছোট সসপ্যান বসালো। আগুনটা মাঝারি রাখলো। বেশি হলে দুধ ফেটে যাবে, কম হলে রান্না হতে দেরি। সে দুধ ঢাললো প্যানে। সাদা দুধ ধীরে ধীরে প্যানের তলা ঢেকে ফেললো। দুধ গরম হওয়ার অপেক্ষায় সে কাঠের খুন্তিটা তুলে নিলো।
এই খুন্তিটা পুরনো। একপাশে একটু পোড়া দাগ। মা মারা যাওয়ার আগে এটাতেই খিচুড়ি নাড়তেন। মৃন্ময় সেটা বদলায়নি। বদলাতে ইচ্ছে হয়নি কোনোদিন।
দুধ গরম হতে শুরু করেছে। ছোট ছোট বুদবুদ উঠছে প্যানের ধার ঘেঁষে। মৃন্ময় এক কাপ ওটস মেপে নিলো। ঢালার আগে এক সেকেন্ড থামলো। তরু কি দুধে রান্না করা ওটস খায়? হ্যাঁ, খায়। কিন্তু লবণ কম হতে হবে।
সে ধীরে ধীরে ওটস ঢাললো। ঢালার সঙ্গে সঙ্গে দুধের রং বদলে গেল। ঘন হতে শুরু করলো। খুন্তি দিয়ে আস্তে আস্তে নাড়তে লাগলো। নিচে যেন না ধরে যায়।
চুলার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে তার মাথার ভেতর ছবির মতো ভেসে উঠলো তরুর মুখ।
মৃন্ময় লবণের কৌটা খুললো। দুই আঙুলে অল্প লবণ নিলো। প্যানে ছিটিয়ে দিলো। নাড়লো। গন্ধটা বদলালো। দুধ আর শস্যের গন্ধে হালকা নোনাভাব।
কয়েকটা বাদাম ছুরি দিয়ে চেপে চেপে কাটলো। এই শব্দটা তার ভালো লাগে। চাপ, আবার ছেড়ে দেওয়া। চাপ, ছেড়ে দেওয়া। (🌚)কয়েকটা দানা প্যানে দিলো। বেশি না। তরু ঝাল সহ্য করতে পারে না।
ওটস এখন ঘন হয়ে এসেছে। খুব বেশি না, আবার পাতলাও না। ঠিক যেমনটা তরু খেতে পারে। মৃন্ময় চুলার আগুন কমিয়ে দিলো।
সে একটা বাটিতে পানি ঢেলে চামচ ডুবিয়ে রাখলো। পরিষ্কার করার জন্য।
প্যানের পাশে দাঁড়িয়ে সে একটু ঝুঁকে গন্ধ নিলো। ঠিক আছে। দুধ কাঁচা গন্ধ নেই। ওটস নরম হয়েছে। সে খুন্তিতে একটু তুলে মুখে নিলো। গরম। খুব গরম। জিহ্বা পুড়লো সামান্য। তবু বুঝতে পারলো, স্বাদ ঠিক আছে। আরেক চিমটি লবণ দিলো। ব্যস।
চুলা বন্ধ করলো। প্যানটা নামিয়ে রাখলো। একটা গভীর বাটি বের করলো। সাদা বাটি, নীল রিম। এটা তরুর পছন্দ। সে নিজে বলেছিল একদিন।
মৃন্ময় হালকা করে হাসলো। বাটিতে ওটস ঢাললো। ধোঁয়া উঠছে। গরম ধোঁয়া। সে ওপর থেকে সামান্য ঘি দিলো। এক ফোঁটা। এর বেশি না। জ্বরের সময় বেশি ভারী লাগবে।
সব শেষ করে সে একবার হাত ধুলো।
ট্রে-তে বাটি রাখলো। সঙ্গে চামচ। আর এক গ্লাস কুসুম গরম পানি। ট্রে হাতে নিয়ে সে কিচেনের দরজার সামনে দাঁড়ালো। ভেতর থেকে কোনো শব্দ আসছে না। হয়তো তরু ঘুমিয়ে পড়েছে। হয়তো চুপ করে আছে রাগে।
মৃন্ময় এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকলো। গভীর শ্বাস নিলো। তারপর ধীরে ধীরে বেডরুমের দিকে হাঁটলো।ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার আগেই খাওয়াতে হবে।
কিছুতেই মুখ খুলছে না তরু। চামচে খাবার নিয়ে রেগে তাঁকিয়ে আছে মৃন্ময়।অসুস্থ না হলে হয়তো এখনই গলা চেপে ধরতো।
“খেতে বলেছি”
“খাবো না”
অনেকক্ষণ ধরে চলছে খাবো না খাবো না। মৃন্ময় এবার হিমশিম খাচ্ছে রাগ সামলাতে।
“খাবি না তো?”
“খাবো না”
“ওকে।সোজা আঙুলে তো ঘী উঠে না মাথা থেকে বেরিয়ে গেছিল।”
বাটিটা হাত থেকে নামিয়ে রাখলো মৃন্ময়। চামচে যতটুকু ছিল নিজের মুখে নিল।তারপর তরুর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলো। যতক্ষন না গিললো ততক্ষন ছাড়লো না। বাটির বাকিটুকু শেষ করলো একই পদ্ধতিতে।বাধ্য হয়ে জোর করেই খেতে হলো তরুকে।
ওকে এভাবে খাওয়াতে গিয়ে মৃন্ময়ের অন্য কোথাও ক্ষুধা লেগে গেছে।চোখ বন্ধ করলো। দেখলো ভয়ে ভীতু হয়ে থাকা ছোটমিয়াকে।
“এরকম হয়ে আছিস কেন?”
“আমার জানের মায়া আছে”
“মানে?”
“তোর এই অতিরিক্ত উত্তেজনার কারণে তোর বউ আমার জান নিয়ে নিতে ধরেছিল। ভাগ জ্বালাইস না আমারে।”
মুখ কালো করে চোখ খুললো মৃন্ময়।এই মেয়ের জন্য তার ছোট মিয়া তাকে এভাবে মুখের উপর অপমান করলো!
মৃন্ময় তরুর মুখ মুছিয়ে দিয়ে বাটি নিয়ে উঠে দাড়ালো। তখন তরু নরম কন্ঠে ডাকলো ওকে।
“শুনুন”
থমকে দাড়ালো মৃন্ময়।তাকালো। নিস্পাপ বাচ্চাদের মত চেয়ে আছে তার দিকে তরু।এক মুহূর্তের জন্য মৃন্ময়ের মনে হলো সে সেই তরুকে দেখছে।
“কাছে আসুন….”
মৃন্ময় কাছে মুখ নিয়ে গেলো।তরু দাঁত কপাটি বের করে হাসলো।তারপর … থুউউউউউউউ।
চলবে….
(নোট: ২k রিয়েক্ট হলে নেক্সট পার্ট আসবে।বাইরে আছি।ছোট করে লিখে পোস্ট করলাম। পরবর্তী পর্ব বড় করে দিবো।)
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৯
-
প্রিয়া আমার গল্পের লিংক
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৪
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৩
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ২
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৮
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৩
-
প্রিয়া আমার পর্ব ৪
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব – ২
-
প্রিয়া আমার পর্ব ২