Golpo ডার্ক রোমান্স ডার্ক সাইড অফ লাভ

ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৪


৪.

ডার্কসাইডঅফ_লাভ

দূর্বা_এহসান

তরুর আত্মা যেনো শুকিয়ে গেছে মৃন্ময়এর কথায়।তাকে খাবে মানে! জ বা ই করার আগে শেষ খাবার যেমন কোনো প্রাণীকে খাওয়ায়, তরুকেও কি তাহলে সেভাবে খাওয়ালো। ব্যাপারটা সেরকম হয়ে গেলো না!

তরু পিছিয়ে গেলো একদম। খাটের সাথে লেগে।

“এ–এই কি বললেন আপনি?”

জবাব মিলল না।মৃন্ময় ঠোঁটে বাকা হাসি দিয়ে এগিয়ে এলো তার দিকে।টিশার্ট টা খুলে ফেললো।কোনো কথা বার্তা ছাড়াই এগিয়ে এসে তরুর গায়ে থাকা জামাটাও সরিয়ে ফেললো। চিৎকার করে উঠল তরু।

“কি করছেন?ছাড়ুন”

“হুস,কথা বলো না।”

তরুর ঠোঁটে আঙুল ঠেকিয়ে বললো মৃন্ময়। ধীরে ধীরে হাতটা এদিক ওদিক যেতে শুরু করল। তরু ছটফট শুরু করলো। মৃন্ময় ডিস্টার্ব ফিল করলো।মুহূর্তেই সে তরুর দুটো হাত বিছানার দুই দিকে বেঁধে ফেললো।ঠোঁট ঠেকালো তরুর ঠোঁটে। চিৎকার থামিয়ে দিলো।পা দুটো চেপে রাখলো নিজের পায়ের ভাঁজে।

“তিনটা বছর পুড়িয়েছো আমাকে। কোথায় কোথায় না তোমাকে খুঁজেছি। যে মৃন্ময় আবরার খানের চোখের দিকে চেয়ে কেউ কথা বলার সাহস দেখায় না, তার সাথে ছলনা করেছো তুমি। ছলনাময়ী। কী ভেবেছিলে, পালিয়ে গেলেই বাঁচতে পারবে? যে আগুনে আমাকে পুড়িয়েছো, তার দশ গুণ ফেরত পাবে তুমি।”

তরুর কানের কাছে মুখ নিয়ে কথাগুলো বললো মৃন্ময়। এত কাছ থেকে বলায় তার নিঃশ্বাসের উষ্ণতা তরুর গলায় এসে লাগলো। কণ্ঠটা অদ্ভুত। চাপা, কিন্তু ভেতরে জমে থাকা রাগ আর যন্ত্রণার ভারে ভাঙা ভাঙা।

তরু ধীরে মাথা ঘুরিয়ে তাকালো মৃন্ময়ের চোখের দিকে। বুকের ভেতর কেমন একটা ধাক্কা লাগলো। এটা কি ঘৃণা? ঘৃণার দৃষ্টি কি এমন হয়? না, হয় না। এই দৃষ্টি সে চেনে। খুব ভালো করেই চেনে। হাজারবার দেখেছে এই চোখ। এই দৃষ্টিতে রাগ আছে, কিন্তু রাগের নিচে জমে আছে ক্ষত। গভীর, পুরনো ক্ষত।

তরু চোখ নামিয়ে নিলো। এত বছর পরেও মৃন্ময়ের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকাটা তার পক্ষে সহজ না। মনে হয়, তাকিয়ে থাকলে সব মিথ্যে খুলে পড়বে। সব অজুহাত, সব পালানোর চেষ্টা ভেঙে যাবে।

“আমি পালাইনি”
খুব আস্তে বললো সে। গলাটা শুকিয়ে আসছে।
“আমি শুধু… থাকতে পারিনি।”

মৃন্ময় ঠোঁটের কোণে একটা তিক্ত হাসি টানলো।

“থাকতে পারোনি? বাহ। খুব সহজ কথা। আমি তিনটা বছর ধরে বেঁচে থেকেছি কীভাবে জানো? প্রতিদিন নিজেকে বোঝিয়ে যে তুমি ফিরবে। যে কোনো একদিন বুঝবে, আমি তোমাকে ছাড়া কিছুই চাইনি।”

তরু কি বলবে এই আশায় মৃন্ময় তাকালো।কিন্তু তরু আর একটা কথাও বললো না।একদম শান্ত হয়ে গেলো।

মৃন্ময়ের চোখের সামনে ভেসে উঠল সেই দিনটা।যেদিন বাবা মাকে হারিয়ে পাথর সে।ঠিক সেদিনই তরু হাত ছেড়েছিল তার। বছর তিনেক আগের বিভীষিকাময় সেই দিনটা।

নিজেকে হারিয়ে ফেললো মৃন্ময়।এতক্ষন শান্ত থাকলেও এখন যেনো হিংস্র হয়ে উঠল।তরুর শরীরকে বানালো নিজের রাগ, কষ্ট কমানোর বস্তু।

শরীরের যে জায়গাগুলো উন্মুক্ত তার একটাও ছাড়লো না কামড় ছাড়া। তরু চোখমুখ খিঁচে সব সহ্য করে নিচ্ছে।কোনো প্রতিবাদ করছে না।
আপাতত তার শরীরে দুই টুকরো কাপড় মাত্র।হয়তোবা কিছুক্ষণের মধ্যে সেটাও থাকবে না।

মৃন্ময় থামছে না।ধীরে ধীরে কষ্ট দেওয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।শরীরের এদিকওদিক চলছে তার কষ্ট দেওয়ার মাত্রা।

একটা সময় এসে ছেড়ে দিলো মৃন্ময় তাকে। তরু আশ্চর্য হলো। ভাবেনি মৃন্ময় তাকে এভাবে ছাড়বে।মৃন্ময় যেভাবে হিংস্র হয়ে উঠেছিল সে ভেবে বসেছিল আজ আর রক্ষা নেই।

তরুর কোমরের দুই পাশে হাঁটু গেড়ে বসে মৃন্ময় জোড়ে জোড়ে কয়েকবার শ্বাস নিলো।তার সামনেই তরু শুধু ইনারে। হাত খুলে দিলো তরুর।

“ফ্রিজ থেকে বরফ নিয়ে আয়, ফাস্ট”

অনেকটা জোরে বললো মৃন্ময়।তরু ছাড়া পেয়ে খুশি ছিল। কোনরকম জামাটা গায়ে জড়ালো সে।
তারপর দরজার দিকে দ
খুব দ্রুত গেলো।হাত কাঁপছিল, বুকের ভেতর এখনো ধকধক করছে। ফ্রিজ খুলে বরফ বের করতে গিয়ে বুঝলো আঙুলে ঠিক শক্তি নেই। তবু কোনোমতে বরফ তুলে নিয়ে ফিরে এলো।

দেখলো মৃন্ময় কোথাও নেই। হাতে বরফ নিয়ে হঠাৎ ওর মাথায় এলো মৃন্ময় এখন বরফ কি করবে। সাথেই সাথেই মস্তিষ্ক সচল হয়ে উঠল।বুঝতে পেরেই সেখানেই স্থির হয়ে গেলো। ছি!

ওয়াশরুম থেকে মৃন্ময়ের গলা ভেসে এলো।তরু এগিয়ে গেলো সেদিকে।মৃন্ময় দরজা খুলে তরুর হাত থেকে বরফ ছিনিয়ে নিলো। মুখের উপর ঠাস করে দরজাটা লাগিয়ে দিল।তরু হ্যাবলার মত সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো।


ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে মৃন্ময়।

“বেয়াদপ, নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারিস না?”

“না”

“কেন?”

“তোর মত কন্ট্রোললেসের শরীরে আছি যে”

“তাই বলে যখন তখন এইভাবে চেইতা যাবি। তোরে সামলাইতে কত কসরত করতে হয় জানোস?”

“কষ্ট করে কি শান্তি পাস না?”

“পাই”

“তাহলে যে?”

“আর এইভাবে চেতবি না”

“তুই চ্যাতার কাজ করলে চেতমু না? তোরে কি আমি কইছি ওর কাছে যেতে?”

“কন্ট্রোল করতে পারিনা তো।”

“তাইলে মাঝ পথে ছাইড়া দিস কেন?আমারে কি তোর ছোট মনে হয়?নাকি দুর্বল মনে হয়?তুই কি ভাবোস আমি পারমু না?”

“আরেহ ব্যাপারটা এরকম না”

“তাহলে কি রকম”

“জোর করে কিছু করতে চাইনা “

“জোর করে কিছু করতে চাস না তো কাছে যাস কেন? হুদাই হুদাই আমারে জ্বালাতন করস। একবার শ্যাম্পু,একবার বরফ।শীতকালে শান্তিতে একটু ঘুমাই। তুই ব্যাটা সেই শান্তি টুকু কাইরা লস।এখন বরফ দিয়া আমারে কষ্ট দিতাছোস”

“একটু সহ্য করে নে “

মৃন্ময় চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করছিল এতক্ষন এক মনে। উন্মুক্ত তরু বার বার ভেসে আসছে চোখের সামনে। মেয়েটাকে ছেড়ে দিচ্ছে কেন বার বার সে।হাতে বরফগুলো এখন আর ঠান্ডা লাগছে না।

(🌚)


রাত নামছে। আশেপাশে আলো আছে, তবু অন্ধকার। স্ট্রিটলাইটের হলুদ আলো ভেজা রাস্তার ওপর। দূরে কোথাও কুকুর ডাকে, আবার থেমে যায়। মাঝে মাঝে ট্রাকের ভারী শব্দ শোনা যায়, তারপর আবার নীরবতা।

জায়গাটা শহরের ভেতরেই। পুরোনো একটা গুদামঘর। উঁচু দেয়াল, দেয়ালের গায়ে ফাটল। ভেতরে ঢুকলে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ নাকে লাগে। লোহা, পুরোনো কাঠ, জমে থাকা ধুলো। মেঝেতে ভাঙা কাচ ছড়িয়ে আছে। আলো কম, একটা মাত্র বাল্ব ঝুলছে ছাদ থেকে। বাতাসে দুলে দুলে বাল্বটা মাঝে মাঝে আলো কমিয়ে দেয়, মাঝে মাঝে বাড়িয়ে দেয়।

এক পাশে একটা ভারী কাঠের চেয়ার রাখা। সেই চেয়ারে বসে আছেন ইখতিয়ার খান।
ইখতিয়ার খানের বসার ভঙ্গি খুব শান্ত। এক পায়ের ওপর আরেক পা তুলে রেখেছেন। পিঠটা চেয়ারের সাথে হেলানো। হাতে সিগারেট, ধোঁয়া ধীরে ধীরে ওপরে উঠছে। মুখে কোনো ভাব নেই। চোখ দুটো অর্ধেক খোলা।

চেয়ারের সামনে, একটু দূরে, একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তার হাত বাঁধা। জামাটা নোংরা, ছেঁড়া। মুখে আতঙ্ক, চোখে ঘাম। সে বাঁচার আকুতি করছে।

আরেক পাশে দাঁড়িয়ে আছে মৃন্ময়। চুপচাপ দাঁড়িয়। শরীর শক্ত। মুখে কোনো রাগ নেই, কোনো আবেগ নেই। সে হাত মুঠো করে, আবার খুলে। নিশ্বাস ভারী, কিন্তু নিয়ন্ত্রিত। সে চেয়ারের দিকে একবার তাকায়। ইখতিয়ার খান তার দিকে তাকান না, কিছু বলেন না।

মৃন্ময় সামনে এগোয়।প্রথম ঘুষিটা হঠাৎ আসে। কোনো কথা নেই। লোকটার মুখ পাশ ফিরে যায়। দাঁত ঠোকরায়। সে কেঁপে ওঠে। মেঝের ওপর থুতু পড়ে, রক্ত মেশানো।

মৃন্ময় থামে না।আরেকটা ঘুষি। এবার পেটে। লোকটা কুঁকড়ে যায়। শ্বাস আটকে আসে। সে হাঁপাতে থাকে, শব্দ করে নিশ্বাস নিতে চেষ্টা করে। হাত বাঁধা, সে কিছুই করতে পারে না।
চেয়ারে বসে থাকা ইখতিয়ার খান ধোঁয়া ছাড়েন।

ধোঁয়া বাল্বের আলোয় পাক খায়। তিনি চোখ তুলে তাকান। মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। যেনো এই দৃশ্য তার কাছে নতুন কিছু না।

মৃন্ময় আবার মারতে থাকে।ঘুষি, লাথি। প্রতিটা আঘাত হিসেব করে দেওয়া। সে জানে কোথায় মারলে বেশি ব্যথা লাগে, কিন্তু মৃ ত্যু আসে না। লোকটার মুখ বেয়ে র ক্ত নামতে থাকে। মেঝেতে ফোঁটা ফোঁটা পড়ে।

লোকটা এবার শব্দ করে কাঁদে। অস্পষ্ট কিছু বলে। ক্ষমা চায়। নাম ধরে ডাকে। কেউ শোনে না।

ইখতিয়ার খান পা নাড়ান। চেয়ারটা কড়মড় শব্দ করে। এই ছোট শব্দটাও ঘরের ভেতর ভারী হয়ে ওঠে। মৃন্ময় এক সেকেন্ডের জন্য থামে। সে আবার চেয়ারের দিকে তাকায়।

মৃন্ময় আবার শুরু করে।এবার সে লোকটার কলার ধরে টানে। মুখ কাছে আনে। চোখে চোখ রাখে। তার চোখে কোনো দ্বিধা নেই। শুধু কাজটা শেষ করার তাড়া।সে লোকটার মাথা দেয়ালে ঠুকে দেয়।একবার।আরেকবার।

দেয়ালে র ক্তের দাগ লাগে। লোকটার হাঁটু ভেঙে যায়। সে মেঝেতে পড়ে যায়। হাত বাঁধা থাকায় শরীরটা কেমন বাঁকা হয়ে যায়। সে নড়াচড়া করে, কিন্তু উঠতে পারে না।

মৃন্ময় নিচু হয়ে দাঁড়ায়। লাথি মারে। পাঁজরে। পেটে। পিঠে।
ঘরের ভেতর শুধু আ ঘা তের শব্দ, হাঁপানোর শব্দ।

ইখতিয়ার খান সিগারেট শেষ করেন। ছাই মেঝেতে ঝরিয়ে দেন। তিনি তবু কিছু বলেন না। তার চুপ করে থাকা সবচেয়ে ভয়ংকর।

মৃন্ময় ঘামছে। কপাল থেকে ঘাম গড়িয়ে পড়ে। সে হাত দিয়ে মুখ মুছে। নিশ্বাস নেয়। লোকটার দিকে তাকায়। লোকটা নড়ছে, কিন্তু আগের মতো না। চোখ আধখোলা, মুখে অস্পষ্ট শব্দ।
মৃন্ময় একটু পিছিয়ে যায়। মনে হয় সে থামবে।

কিন্তু ইখতিয়ার খান এবার চোখ তুলে তাকান। সরাসরি। সেই দৃষ্টি খুব ছোট, কিন্তু ভারী। কোনো কথা নেই, তবু মৃন্ময় বোঝে।
সে আবার সামনে এগোয়।
লোকটার চুল ধরে মাথা তোলে। চোখের দিকে তাকায়।

“বল”

মৃন্ময় নিচু গলায় বলে।
লোকটা কিছু বলতে চেষ্টা করে। জিভ ভারী, শব্দ জড়িয়ে আসে।
মৃন্ময় অপেক্ষা করে না। সে আবার মারতে থাকে।
এই মার ধীরে, কিন্তু গভীর। একেকটা আঘাতের মাঝে সময় নেয়।

চেয়ারে বসে থাকা ইখতিয়ার খান এবার সামান্য নড়েন। পা নামান। সামনে ঝুঁকে বসেন।

শেষ পর্যন্ত লোকটা আর প্রতিরোধ করে না। শুধু শ্বাস নেয়। শব্দ করে। চোখ বন্ধ করে রাখে, যেনো অন্ধকারে লুকাতে চায়।
মৃন্ময় থামে।সে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। বুক ওঠানামা করছে। সে আবার চেয়ারের দিকে তাকায়।

ইখতিয়ার খান মাথা একটু নাড়েন। খুব সামান্য। যেনো কাজ শেষ।মৃন্ময় পিছিয়ে যায়। আর মারছে না।ঘরের ভেতর আবার নীরবতা নামে। শুধু লোকটার শ্বাসের শব্দ আর দূরের শহরের আওয়াজ।

ইখতিয়ার খান চেয়ারে হেলান দিয়ে বসেন। নতুন সিগারেট ধরান। ধোঁয়া ছাড়েন।

“ওকে টু ক রো টু ক রো করে ,পার্সেল করে পাঠাও”

চলবে….

(নোট: ২k রিয়েক্ট আসলে নেক্সট পার্ট আসবে)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply