Golpo ডার্ক রোমান্স ডার্ক সাইড অফ লাভ

ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৫


১৫.

ডার্কসাইডঅফ_লাভ (❌১৮+ কন্টেন্ট এলার্ট। ❌⭕যারা পছন্দ করেন না এড়িয়ে যান)

দূর্বা_এহসান


রাত একটা বেজে পনেরো মিনিট। দেয়াল ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটাটা যেন এই মুহূর্তে পৃথিবীর একমাত্র জীবন্ত শব্দ। টিক্ টিক্ টিক্-একটা একঘেয়ে কিন্তু তীক্ষ্ণ শব্দ। তরুর মনে হচ্ছে এই শব্দটা সরাসরি তার মস্তিষ্কের কোষে গিয়ে আঘাত করছে। সে হাঁসফাঁস করছে। মৃন্ময়ের শরীরের ভার আর তার বলিষ্ঠ হাতের বাঁধন থেকে নিজেকে মুক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সে। গত কয়েক ঘণ্টার মানসিক আর শারীরিক ক্লান্তিতে তার শরীর এলিয়ে পড়ার কথা ছিল, কিন্তু তরুর চোখে এখন একবিন্দু ঘুম নেই। অবশেষে অনেক কসরত করে সে মৃন্ময়কে ছাড়িয়ে বিছানার একদম শেষ প্রান্তে সরে গেল।

ঘরের ভেতরটা এখন ভীষণ শান্ত। জানলার হালকা পর্দা সরিয়ে চাঁদের আলো এসে পড়েছে মৃন্ময়ের মুখের ওপর। তরু বিছানার একপাশে জড়োসড়ো হয়ে বসে বড় করে একটা নিশ্বাস নিলো। তার বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করছিল এতক্ষণ।
মৃন্ময় ঘুমিয়ে আছে। কী ভীষণ নিশ্চিন্ত সেই ঘুম! এই সেই মানুষ যে সারা ঘরে ঝড় তুলেছিল, যার জেদ আর একগুঁয়েমির কাছে তরুকে বারবার হার মানতে হয়েছে। অথচ এখন তাকে দেখলে মনে হয় পৃথিবীর কোনো পাপ তাকে স্পর্শ করেনি। সে যেন এক সদ্যজাত শিশু, যার ঘুমের ভেতর কোনো জাগতিক চিন্তা নেই। মৃন্ময় যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন তাকে দেখলে মনে হয় পৃথিবীর সমস্ত সারল্য বুঝি ওর মুখেই ভর করেছে। কোনো কলুষতা নেই,পুরোদস্তুর এক ‘নিস্পাপ’ মানুষ।

কিন্তু এই নিস্পাপ আবরণের আড়ালে কতটা একগুঁয়ে একটা মানুষ লুকিয়ে আছে সেটা তো তরু জানে। সেই মানুষটাই এখন এমনভাবে ঘুমাচ্ছে যেন কিছুই হয়নি।

নিস্তব্ধ রাতের প্রহরগুলো যখন বড় হতে থাকে, তখন মানুষের মনের গহীনে জমে থাকা আবেগগুলোও ডালপালা মেলতে শুরু করে। তরু বিছানার এক কোণে বসে আছে, তার শরীর থেকে একটু আগেই মৃন্ময়ের সেই নিশ্চিন্ত অধিকারের স্পর্শ সরে গেছে। ঘরের আবছা আলোয় সে এখন দেখছে মৃন্ময়কে। এই দেখাতে মিশে আছে অদ্ভুত এক অভিমান, যা কেবল খুব কাছের মানুষের প্রতিই জন্মায়।

তরু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল মৃন্ময়ের দিকে। ওর ঘন চোখের পাতাগুলো যেন নিপুণ কোনো শিল্পীর তুলিতে আঁকা। ঘুমের ঘোরে সেগুলো সামান্য কাঁপছে, হয়তো কোনো স্বপ্নের ঘোরে। কপালে এসে পড়া অবাধ্য চুলের গোছাগুলো তার পুরুষালি চেহারায় এক ধরনের কোমলতা এনে দিয়েছে। সবকিছুই কেমন সাজানো, শান্ত আর মায়াবী মনে হচ্ছে। এই মুহূর্তে মৃন্ময়কে দেখলে মনেই হবে না যে এই মানুষটি ঘর উত্তাল করে তুলেছিল।

তরুর বুকের ভেতর হঠাৎ করেই একটা ইচ্ছে উঁকি দিল। তার ইচ্ছে হলো ওর নাকে একটা জোরে চিমটি কেটে দেয়, যাতে ওই গভীর ঘুমটা এক নিমেষে ভেঙে যায়। কিংবা ইচ্ছে হলো কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে চিৎকার করে বলে ওঠে,

—”এত শান্তি পান কোথায় আপনি?”

মানুষ কীভাবে আরেকজনকে কষ্ট দেওয়ার পর এত দ্রুত সব ভুলে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে যেতে পারে, তা তরুর মাথায় ঢোকে না। এই যে তরুর চোখের পাতা এক হচ্ছে না, ভেতরে হাজারটা কথা কিলবিল করছে, অথচ মৃন্ময়ের কোনো বিকার নেই।

রাগ হলো তরুর।সামলাতে না পেরে তরু মাঝপথেই একটা বিশ্রী ভঙ্গিতে মুখ ভেঙ্গালো। অনেকটা অবুঝ শিশুর মতোই সে যেন নিজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভটা প্রকাশ করল ওই অদ্ভুত মুখভঙ্গির মাধ্যমে। সেই মুহূর্তে আয়না থাকলে তরু নিজেই নিজেকে দেখে হয়তো হেসে ফেলত। কিন্তু এখন হাসার সময় নয়, এখন রাগের সময়।

তরুর মনে হচ্ছিল তার মাথার ভেতর একশ আটটা নীলপদ্ম অপলক তাকিয়ে আছে। সেই পদ্মের পাপড়িতে লেগে আছে মৃন্ময়ের দেওয়া একরাশ অবহেলা। অথচ অদ্ভুত এক মায়াজালে সে বন্দি। এই মানুষটার ওপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এটাই তরুর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। সে মনে মনে হাজারটা প্রতিজ্ঞা করে যে কথা বলবে না, দিনের পর দিন তাকে এড়িয়ে চলবে। কিন্তু ঠিক যেই মুহূর্তে সে মৃন্ময়ের ওই নিস্পাপ ঘুমন্ত মুখটা দেখে, তার সমস্ত জমাটবদ্ধ অভিযোগ মুহূর্তেই মায়ায় রূপান্তরিত হয়ে যায়। পুরোনো প্রেম কি এতটাই শক্তিশালী? নাকি হৃদয়ের তন্তুগুলো মৃন্ময় নামের এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা?

ঘরের মৃদু আলোয় মৃন্ময় ঘুমিয়ে থাকলেও তার অস্তিত্ব যেন পুরো ঘরে ছড়িয়ে আছে। তার নিঃশ্বাসের শব্দে একটা অদ্ভুত ছন্দ আছে, যা তরুকে অস্থির করে তোলে। তরু ওর দিকে তাকিয়ে ভাবে, পৃথিবীর সব পুরুষই কি এমন? যারা অন্যের মনে কালবৈশাখী ঝড় তুলে দিয়ে নিজে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারে? নাকি শুধু মৃন্ময়ই এমন এক অমীমাংসিত , যার সমাধান তরুর জানা নেই? তরুর ভাবনার সুতো ছিঁড়ে যায় জানলার বাইরে রাতের বাতাসের সোঁ সোঁ শব্দে। পর্দার আড়াল দিয়ে আসা চাঁদের আলো মৃন্ময়ের কপালে এসে পড়েছে। তরু আবার এক নজরে দেখে নেয় সেই অবাধ্য চুলের গোছা, যা সবসময় মৃন্ময়ের চোখের ওপর অবিন্যস্তভাবে পড়ে থাকে। রাগের আড়ালে যে ভালোবাসাটা ঘাপটি মেরে বসে থাকে, তা-ই আবার তাকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও মৃন্ময়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

হঠাৎ নিজের হাতের দিকে নজর যেতেই তরুর মনে পড়ে গেল বিকেলের সেই ঘটনা। তরু চোখ বন্ধ করে মনে মনে বেশ কয়েকটা গালি দিল মৃন্ময়কে। মনে মনে বলল, “এক নম্বরের ফাজিল, নির্লজ্জ”

পরক্ষণেই এক অদ্ভুত শয়তানি বুদ্ধি খেলে গেল তার মাথায়। সে হঠাৎই চোখ খুলে বাঁকা হেসে তাকালো মৃন্ময়ের দিকে। হাতের কাছে থাকা একটা বালিশ শক্ত করে তুলে নিলো সে। দুই হাঁটুতে ভর দিয়ে বিছানায় বসলো, ঠিক শিকারি বাঘের মতো। সে বালিশ সমেত ঝুঁকে গেল মৃন্ময়ের দিকে। খুব নিচু স্বরে, প্রায় ফিসফিস করে বলল,

– মিস্টার মৃন্ময়, আজ আপনি… খতম। টাটা, বাই বাই।

বালিশটা সে প্রায় মৃন্ময়ের মুখের ওপর চেপে ধরবে এমন সময় মৃন্ময় ঘুমের ঘোরেই তরুর হাতটা খপ করে ধরে ফেলল। তরু চমকে উঠল। মৃন্ময়ের চোখ এখনো বন্ধ।

মৃন্ময়ের আঙুলের চাপটা শক্ত, কিন্তু তাতে কোনো হিংস্রতা নেই। যেন অভ্যাসবশত, ঘুমের মধ্যেই সে ধরে ফেলেছে তরুকে।
তরুর বুক ধক করে উঠল। বালিশটা তার হাতে থেমে রইল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য সময় যেন স্থির হয়ে গেল। দেয়াল ঘড়ির টিকটিক শব্দটা আবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।মৃন্ময় চোখ খোলেনি। কিন্তু তার ঠোঁট নড়ল সামান্য।

  • কি করছো?

কণ্ঠ ভারী, আধোঘুমে জড়ানো। তবু সেই স্বরে এমন এক পরিচিত টান, যা তরুর রাগকে আবার এলোমেলো করে দিল।
তরু গম্ভীর গলায় বলল,

-আপনাকে শেষ করতে যাচ্ছিলাম।

মৃন্ময়ের ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটল। চোখ এখনো বন্ধ।

-হুম… করো।

তরু থমকে গেল। এই মানুষটা কি সত্যিই ঘুমিয়ে আছে? নাকি সব জানে? তার রাগ আবার মাথা চাড়া দিল।

-আপনি একটা অসহ্য মানুষ জানেন? নিজের মতো করে সব করবেন, তারপর নিশ্চিন্তে ঘুমাবেন। আর আমি এখানে বসে সিলিং দিকে তাকিয়ে থাকবো?

মৃন্ময় এবার ধীরে ধীরে চোখ খুলল। চাঁদের আলোয় তার দৃষ্টি নরম, কিন্তু একেবারে জেগে ওঠেনি এখনো।

-আবার কী করলাম?

তরুর ভেতরের আগুনে ঘি ঢালল যেনো। খেঁকিয়ে উঠলো সে।

-কী করেননি সেটা জিজ্ঞেস করুন! সবসময় নিজের সিদ্ধান্ত, নিজের জেদ। আমার কথা কখনো শুনবেন? কখনো ভেবেছেন আমি কী চাই?

ঘর আবার নিস্তব্ধ। শুধু দুজনের নিশ্বাস।মৃন্ময় হাত ছেড়ে দিয়ে উঠে বসল। চুলগুলো এলোমেলো।

-তুমি না বললে বুঝবো কী করে?

-সব কথা কি মুখে বলতে হয়?

  • তাহলে কিভাবে বলতে হয় হলো শুনি!

তরু করা চোখে তাকালো । মৃন্ময়ের চোখেমুখে দুষ্টুমি। পিছিয়ে গেলো তরু। মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো।সারাদিন মিলিয়ে কতবার পেইন দিয়েও শান্তি হয়নি এই লোকটার?পাশের বালিশটা তুলে ছুঁড়ে মারলো মৃন্ময়ের দিকে।কিন্তু বালিশটা গিয়ে পড়লো মেঝেতে।তরু দেখলো মৃন্ময় ঘুমে। এতক্ষণ কল্পনা করছিল তাহলে? হ্যাঁ সেটাই হবে।নাহলে তরুর ভিতর এতো সাহস আছে নাকি।

তরু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। নিজের ওপরই এখন নিজের রাগ হচ্ছে। এতক্ষণ ধরে মনে মনে ঝগড়া করছিল? আসলে সামনাসামনি কিছু বলার সাহস তার নেই। অহেতুক হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেছে, সেই সাথে গলাটাও শুকিয়ে কাঠ। রাগে শরীর জ্বালা করছে, তৃষ্ণা পেয়েছে খুব।
বিছানা থেকে নামার সময় খুব সাবধানে নামল সে, যাতে খাটটা নড়ে না ওঠে। মৃন্ময়কে জাগানোর সাহস বা ইচ্ছে কোনোটাই এখন আর নেই। মেঝেতে পড়ে থাকা বালিশটা ডিঙিয়ে পা টিপে টিপে সে দড়জার দিকে এগিয়ে গেল।

তরু খুব সাবধানে শোবার ঘরের দরজাটা ফাঁক করল। কবজায় সামান্য ক্যাঁচক্যাঁচে শব্দ হতেই সে থমকে দাঁড়াল। ভয়ে ভয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল বিছানার দিকে। মৃন্ময় পাশ ফিরল কেবল, জাগল না। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে তরু পা টিপে টিপে করিডোর পার হয়ে রান্নাঘরের দিকে এগুলো।

ঠান্ডা পানির বোতলটা বের করে গলায় ঢালল সে। হিমশীতল জলের স্পর্শে ভেতরটা জুড়িয়ে গেল মুহূর্তেই। ফ্রিজের দরজায় হেলান দিয়ে সে অন্ধকারে ডুবে থাকা ডাইনিং স্পেসটার দিকে তাকিয়ে রইল।

  • তুমি এখানে?

চমকে উঠলো তরু ।পিছু ফিরলো । হাতে গ্লাস নিয়ে দাড়িয়ে আছে রজনী ।তরু তাকালো ভালো করে। রেড কালার একটা নাইটি পরনে রজনীর। কেমন যেনো বাঁকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তরুর খুব চেনা চেনা লাগে এই দাঁড়ানোর ভঙ্গিটা।

  • কি প্রবলেম? কথা বলছো না কেন?

ভ্রু কুচকালো তরুর। সে কি এই মেয়ের সাথে কথা বলতে বাধ্য নাকি!

  • কি বলবো?

ভাবলেশহীন জবাব দিলো তরু। রজনী শব্দ করে গ্লাসটা টেবিলে রাখলো। তরুর একদম মুখোমুখি এসে দাড়ালো।

  • তুমি জানো মৃন্ময়কে আমি ভালোবাসি?

একটুও অবাক হলো না তরু। অনেক আগেই বুঝতে পেরেছিল।

  • জানি

চোখে চোখ রেখে বলল তরু।রজনী ভেবেছিল তরু চমকে উঠবে, হয়তো কান্নাকাটি করবে বা অন্ততপক্ষে তার ওপর চিৎকার করে উঠবে। কিন্তু তরুর এই অস্বাভাবিক শান্ত ভঙ্গি তাকে যেন আরও বেশি খেপিয়ে দিল। রজনী দাঁতে দাঁত চেপে আবার বলল,

-জানো যখন, তখন ওর থেকে দূরে থাকো না কেন? কেন বারবার ওর সামনে এসে দাঁড়াও?”

তরু একটুও প্রয়োজন বোধ করলো না কিছু বলার। পাশ কাটিয়ে চলে যেতে চাইলো। কিন্তু রজনী সামনে এসে দাড়ালো।

  • তুমি কি ভেবেছো মৃন্ময় তোমাকে ভালোবাসে? তোমাকে কষ্ট দিতে বিয়ে করেছে। ও আমাকে ভালোবাসে।

তরু রজনীর দিকে ঝুকলো। টেবিলে ঠেকে গেলো রজনী।

  • আমাকে ভালো না বাসলেও অন্তত তোমাকে ভালোবাসবে না…

ক্ষিপ্ত হলো রজনী। হাত তুলল থাপ্পড় মারার উদ্দেশ্যে ।তরু থামিয়ে দিলো। রজনীর গাল হালকা হাতে ছুলো।

  • যে টেবিল ধরে দাঁড়িয়ে আছে সেই টেবিলে তোমার ভালোবাসার মানুষ মৃম্ময়ের সাথে আমার একধাপ বাসর হয়ে গেছে জানো?

রজনীর গালে আঙুল স্লাউড করতে করতে বলল তরু।

  • এখন তুমি যেভাবে ঝুঁকে আছে সেভাবে আমি ছিলাম। আর আমার জায়গায় মৃন্ময়। তবে আমার হাতটা তোমার গালে কিন্তু ওর হাতটা ছিল কোমরে ।
  • শ্যাট আপ তরু
  • উহু শোনো না.. ও আমাকে এখানে…..

তরুকে ধাক্কা দিয়ে সরে গেলো রজনী।

  • তোমাকে দেখে নিবো আমি।

রুমের দিকে যেতে যেতে বলল রজনী।

  • এখানেই তো দাঁড়িয়ে আছি।দেখে যাও….

হাসতে হাসতে বলল তরু। রজনীকে ওরকম তড়িঘড়ি করে যেতে দেখে ভীষণ হাসি পাচ্ছে ওর। রজনীকে যা বললো তা মোটেও মিথ্যে নয়। এই সেই টেবিল।


অতীত:-


“খাবে না?

  • না
  • খাও বলছি?

তরু মজা করছিল মৃন্ময়ের সাথে। চাচ্ছিল নিজে হাতে যেন খাইয়ে দেয়। পরনে তখন ওর মৃন্ময়ের শার্ট & ট্রাউজার ছিল। রান্নাঘরে বাঁদরামি করতে গিয়ে নিজের কাপড় ভিজিয়ে ফেলেছিল।

মৃন্ময় এগিয়ে আসে। ঠোঁটের ভাঁজে খাবার টুকু রেখে তরুর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে । আশা করেনি তরু এরকম কিছু। জীবনের প্রথম চুমু ছিলো এটা। মৃন্ময় তরুর দুইহাত পিছে চেপে ধরে আরেক হাতে গাল। একটু একটু করে খাবারের মিষ্টি ঠোঁট ছাড়িয়ে গলায় নেমে আসে। বাঁধা দেওয়ার উপায় নেই তরুর। মৃন্ময়ের হাতের ছোঁয়ায় হারিয়ে সেও তালে তাল মেলায়।

মৃন্ময় এক ঝটকায় টেবিলে সাজানো সব কিছু সরিয়ে দেয়।শুইয়ে দেয় তরুকে। তরুর অর্ধেক শরীর টেবিলে আর বাকিটা টেবিলের বাইরে।মৃন্ময় আলতো হাতে পেটের দিক থেকে শার্টটা সরিয়ে দেয়। উ ন্মু ক্ত না ভিতে পরপর কয়েকটা চুমু দিয়ে পাশে রাখা মধুর বাটি থেকে খানিকটা আঙুলে নিয়ে ছেড়ে দেয় না ভিতে।তরু চোখ বন্ধ করে। মৃন্ময় জ্বি হ্বা ছোঁয়ায়। শিউরে উঠে তরু। দুই হাতে খামচে ধরে সে মৃন্ময়ের চুল ।মৃন্ময় যেনো আরো দিশেহারা হয়ে যায়। তরু আরো শক্ত করে চেপে ধরে তাকে।

  • হানি
  • উমম
  • নিচে ট্রাই করি?
  • উমম

গোঙ্গায় তরু। সম্মতি পায় মৃন্ময়।মাথা তুলে দুই হাত রাখে তরুর কোমরের ট্রাউজারের উপর। ঠিক সেই মুহূর্তে বাসর কলিং বেল তীব্র শব্দে বেজে উঠে। অবাধ্য দুটো মানুষ শান্ত হয়ে যায় ধীরে ধীরে।

চলবে,,,,,

(২.৫k রিয়েক্ট হলে নেক্সট পার্ট আসবে।বড় করে দিয়েছি)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply