Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২১


জেন্টাল_মন্সটার

লামিয়ারহমানমেঘলা

পর্ব_২১

গার্ড’স দের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট ফুঁকছে আদ্রিস, তার বাম কানে ফোন।
তার ফোনের ওপাশ থেকে কেউ কিছু এক্সপ্লেইন করছে। আদ্রিস সেটা মনোযোগ দিয়ে শুনছে।

“ত কি ডিসিশন নিলি?”

আদ্রিস হাত থেকে সিগারেটের শেষ অংশ টুকু চেলে ফেলল।

“আমি রাশিয়া গিয়ে এক বারে সব কিছু ঠিক করতে চাই।”

“আদ্রিতার পেপার্স রেডি?”

“আমি এখানে সব কিছু গুছিয়ে উঠতে পারিনি ভাইয়া৷”

“ঠিক আছে ওর পেপার্স রেডি করতে আমার ৩ দিন সময় লাগবে। শুধু এটা মাথায় রাখিস৷”

“ওকে।”

“ভালো থাক। আমি অফিস যাব।”

“ওকে।”

সায়ের কল কেটে দেয়।
আদ্রিস সোজা তাকায়। তার গার্ড’স রা যেন তার অর্ডারের অপেক্ষা করছে৷

“সেই লোকটা যে সিক্রেট ডিটেকটিভ তাকে আমার চাই।”

“ওকে বস৷”

“আজ রাতের মধ্যেই তাকে বেসমেন্টে চাই। কাল ওর আপ্যায়ন করব।”

আদ্রিস নিজের হাত ছড়িয়ে ঘাড় এদিক ওদিক ঘোরায়,

“বহু দিন রক্ত দেখিনা। উম…. রক্ত আমাকে উত্তেজিত করে দেয়। থ্যাংক কিউ টোটো। অনেক পর আমার ট্রিটের ব্যাবস্থা করে দিলি।”

“কিসের ট্রিট? আমিও চাই৷’

হটাৎ আদ্রিতার কন্ঠ শুনে আদ্রিস রীতিমতো ফ্রিজ হয়ে গেছে।
আদ্রিতা, আদ্রিস কে নড়তে না দেখে এগিয়ে আসে। আদ্রিসের সামনে গিয়ে বলে

” কিসের ট্রিট?”

আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“তুই বাহিরে কি করছিস?”

“আমার আর ভালো লাগছে না। বাড়িতে যাই চলুন।”

“রাত বাজে ২ টা। এখন তোকে বাড়িতে নিয়ে যাব?”

“হ্যাঁ। অনেক বোরিং লাগে।”

“আদ্রিতা কোন ভাবে কি আমাকে তোর পাগল মনে হয়? “

“ও মা তা কেন?’

” তোর কথা শুনে এই মুহুর্তে আমার যা মনে হচ্ছে।”

“আজব।’

” ভেতরে যা। বাহিরে আসলে পা ভাঙব তোর আমি।”

“বকছেন কেন?”

আদ্রিতা চোখ ছোট ছোট করে তাকায়। আদ্রিস সে দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।
সে নিজেকে সংযত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আদ্রিতার চাহনি তাকে সংযত হতে দিলনা। আদ্রিস হুট করেই আদ্রিতার কোমড় জড়িয়ে ওকে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়৷ এবং ওর ওষ্ঠদ্বয় দখল করে নেয়। আদ্রিসের এক হাত আদ্রিতার কোমড়ে অন্য হাত আদ্রিতার মাথার নিচে।
আদ্রিতা সরে যেতে চাইলে সম্ভব হলোনা। আদ্রিস তাকে নড়বার জায়গা দেয়না।
কিছুক্ষণ পর আদ্রিস সরে আসে। আদ্রিতা তাকিয়ে থাকে আদ্রিসের দিকে।

“তুই যাবিনা। চল নিয়ে যাই।’

কথাটা বলে আদ্রিস, আদ্রিতাকে পাজকোলে তুলে নেয়। বাহিরে অনেক ঠান্ডা। রাতের গভীরতার সাথে তাপমাত্রাও নেমে এসেছে ৮ এর দোরগোড়ায়।
গাড়িতে বসিয়ে আদ্রিতাকে সিট বেল্ট লাগিয়ে দেয় আদ্রিস।
আদ্রিতা হসপিটালের দিকে এক বার তাকায়। এখানে সে সত্যি ভালো সময় কাটিয়েছে, ঘরের কোন কাজ করা লাগেনি, কারোর কথা শোনা লাগেনি, কারোর খারাপ মুখ দেখা লাগেনি । একটা মানুষ কতটা অসহায় হলে তার কাছে হসপিটালের কেবিনটা, বাড়ি থেকেও ভালো লাগে? জানা নেই আদ্রিতার। আদ্রিস, আদ্রিতাকে হসপিটালের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে প্রশ্ন করল,

” কিরে তোর কি হসপিটাল ভালো লেগে গেল?”

আদ্রিসের প্রশ্ন শুনে আদ্রিতা অন্যমনস্ক হয়েই উত্তর দিল,

“কিছুটা। বাড়ি থেকে শান্তি আছে।”

আদ্রিস থমকে যায় কথাটা শুনে। ভেতরটা কেমন শূণ্য হয়ে গেল।
মেয়েটার জন্য সে কত কিছু তৈরি করে রেখেছে। মেনশন সহ প্রাইভেট এড়িয়া। অথচ এই একটা মেয়েই কত কষ্ট সহ্য করছে।
নরী বড় অদ্ভুত হয় কারোর শুখের কারণ, অথচ অন্য কারোর বিরক্তির কারণ।

আদ্রিস গাড়ি স্টার্ট করে।

রেভেন রান্না করছে, প্রিয়া রেভেনের পাশে বসে আছে কিচেন কাউন্টারে।
রেভেন কে একেবারে প্রফেশনাল সেফ দের মত লাগছে।
সে অত্যন্ত সুদর্শন। প্রিয়া, রেভেনকে এতটা কাছ থেকে আগে কখনো দেখেনি।
রেভেন রান্না শেষ করে সেটা সার্ভ করে প্রিয়ার দিকে তাকায়।
প্রিয়া তার দিকেই তাকিয়ে ছিল।
রেভেন গলা পরিষ্কার করে,

“খুহুম, আপনার খাবার রেডি।”

“আপনি খাবেন না? “

“হ্যাঁ থাকব যখন খেতেই হবে।”

প্রিয়া হেসে রেভেনের থেকে খাবার নিয়ে টেবিলে সাজিয়ে দেয়।

“এটা কি? “

“এটা একটা রাশিয়ান স্টাইল বিফ গ্রেভি।”

“রাশিয়ান স্টাইল বিফ গ্রেভি!”

“হুম। বসের ভীষণ পছন্দের।’

” আহ বস থেকে মনে পড়ল। ওরা আসবে না? “

“জানিনা। এখনত অনেক রাত। না আসার সম্ভবনা বেশি।’

” ভাইয়া আদ্রিতাকে কত ভালোবাসে তাইনা?”

“হুম। এখনত আমারো কোন সন্দেহ নেই।’

প্রিয়া মিষ্টি হাসে,

” এমন একটা পজেসিভ হাসবেন্ড সবার হোক।”

রেভেন মৃদু হাসে,

“আমিন৷”

প্রিয়া, রেভেনের দিকে তাকায়। কোথাও না কোথাও তারও ভালো লাগা কাজ করছে। রাশিয়ান ছেলেরা এত সুবিধা কেন হয়। প্রিয়া ফিদা হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।

“আপনি জানেন আদ্রিস ভাইয়া অদ্ভুত অনেক ভিড়ের মাঝেও আদ্রিতার দিকে তাকিয়ে থাকে। সেই দৃষ্টি সয়ং আদ্রিতাও উপেক্ষা করতে পারেনা। জানেন যদি আদ্রিস ভাইয়া কখনো ঘাড়টা হালকা কাত করে আদ্রিতার দিকে তাকায়। তাহলে হয়ত আদ্রিতা ভয়ে পারলে সেখানেই কান্না করে দেয়।”

রেভেন হাসে,

“ম্যাম অনেক ভিতু। তবে আমি আশা করি ওনাদের বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।”

“সেটা কিভাবে?’

” তখন ম্যামের ভয়টা কমে যাবে।”

“হুম সেটা অবশ্য ঠিক।”

ওরা কথা বলছিল এমন সময় কলিং বেলের শব্দ শুনে রেভেন দরজার দিকে তাকায়।

“এত রাতে কে?”

“অবশ্যই বস। নাহলে কেউ আসার সাহস নেই। তুমি বসো আমি দেখছি।’

রেভেন উঠে দরজা খুলে।
আদ্রিস দাঁড়িয়ে আদ্রিতাকে পাজকোলে নিয়ে।

” ও বস। আমাকে কল করে দিতেন।’

“নো ইটস ওকে।”

আদ্রিস ভেতরে আসে।
আদ্রিতা প্রিয়াকে দেখে অবাক হয়।

“আমাকে নামান প্রিয়া আপুও এখানে। বললামত হাঁটতে পারব।’

” তোকে না আছাড় মারব। বেশি কথা বলিস।’

আদ্রিতা চুপ হয়ে যায়। পারে শুধু ধমকাতে।

আদ্রিস, আদ্রিতাকে চেয়ারে বসায়।

“আমি আসছি৷”

আদ্রিস উপরে চলে যায়। আদ্রিতা তাকিয়ে থাকে সে দিকে।
প্রিয়া, আদ্রিতাকে খাবার এগিয়ে দেয়।

“কিরে সুস্থ এখন?”

“হ্যা। সুস্থ। এটা কার বাড়ি আপু?”

“আমিও জানিনা।”

“তুমি এখানে কিভাবে এলে?”

“ওই লোকটা নিয়ে এলো।”

রেভেনের দিকে আঙ্গুল পয়েন্ট করে।
রেভেন আসতে আসতে বলে,

“বাহ। লোকটা হয়ে গেলাম?’

” ওইত ছেলেটা।”

রেভেন আসতে আসতে বলে,

“Какой ты бык! (বলদ একটা) “

প্রিয়া রাশিয়ান ভাষা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“কি বললেন?”

“আপনাকে ভালো বললাম ম্যাম। “

রেভেন আদ্রিতার পাশে বসে,

“ঠিক আছো তুমি печень босса। ( অর্থাৎ বসের কলিজা)

আদ্রিতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়।

“পে পেচেন বস্সা। এটা আবার কি?”

রেভেন হেসে ফেলে।
তবে রেভেনের উত্তরের আগেই পেছন থেকে কারোর কন্ঠ ভেসে আসে,

“তোর এত না জানলেও চলবে। অনেক বেশি প্রশ্ন করিস।”

“এটা কেমন কথা। প্রশ্ন করলে কি দোষ?”

আদ্রিস গিয়ে রেভেনের চেয়াট টান দিয়ে ওকে সরিয়ে বসায়।
রেভেন চমকে ওঠে,

“আরে বস আমাকে বললেই হতো।”

আদ্রিস চেয়ারে বসতে বসতে বলে,

“জানিস যখন জায়গাটা আমার। দখল করার আগে ২ বার ভেবে নিবিত৷”

রেভেন মনে মনে হাসছে। পজেসিভনেস ভরে ভরে লোড দেওয়া আদ্রিসের মাঝে।

খাবার শেষে যে যার রুমে চলে যায়। আদ্রিতা , প্রিয়া এক রুমে থাকে আর আদ্রিস, রেভেন এক রুমে।


প্রিয়া এবং আদ্রিতা দু’জন শুয়ে আছে পাশাপাশি।
আদ্রিতা সিলিং এর দিকে তাকিয়ে আছে। প্রিয়া তা দেখে পাশ ফিরে আদ্রিতার দিকে,

“কিরে ঘুম আসছে না? “

“উহু৷”

প্রিয়া, আদ্রিতার নাক টেনে দেয়।
আদ্রিতা ফিরে তাকায়।

“তুমি এখানে কিভাবে এলে?”

“সে অনেক গল্প।”

“বলোনা।”

“পরে বলব। তুই বল আদ্রিস ভাইয়ার সাথে দিন কেমন কাটল?”

“উনি আশেপাশে থাকলে আমার দিন ভালো কাটবে এটা কল্পনা করাও পাপ।”

আদ্রিতার কথায় প্রিয়া হেসে দেয়,

“কেন রে কি করেছে ভাইয়া?”

“কি আর করবে শুধু ধমকায়। এটা করবি না সেটা করবি না। এমন করব তেমন করব৷”

প্রিয়া এবার শব্দ করে হাসি শুরু করে,

“কি বলছিস এগুলো?”

“তোমার হাসি পাচ্ছে। উনি এমনই। তুমিত জানোই। তাও হাসছো কেন?”

“হাসব না কেন বল। তোর কথা গুলোই এত কিউট৷”

আদ্রিতা মিষ্টি হাসে। প্রিয়া আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরে।

“তুই একটা কিউট মেয়ে।”

“আড তুমি একটা কিউট আপু।”

দু’জন ওভাবেই ঘুমিয়ে যায়। প্রিয়ার হাত, আদ্রিতার পেটে।
রাতের শেষ প্রহরের দিকে আদ্রিস সে রুমে আসে। প্রিয়াকে আদ্রিতার সাথে চিপকে ঘুমোতে দেখে বেশ বিরক্ত লাগে তার৷

“ভাইয়ের জিনিস জড়িয়ে ঘুমানো ঠিকনা প্রিয়া।”

ঘুমন্ত প্রিয়া এ কথা তার কান পর্যন্ত আদও পৌঁছানো সম্ভব। আদ্রিস ঝুঁকে আদ্রিতার কপালে চুমু খায়। এরপর বেরিয়ে যায় সেখান থেকে।
তাকে এখনই বের হতে হবে। কাজ আছে। রেভেনকে বলেছে সকালে দু’জনকে যেন মেনশনে পৌঁছে দেয়।


বেসমেন্টের মৃদু আলোতে একটা ক্ষতবিক্ষত শরীর দেখা যাচ্ছে।
লোকটা উবু হয়ে মাটিতে পড়ে আছে।
শরীরের এমন কোন অংশ নেই যেখানে রক্ত লেগে নেই।
আদ্রিস ঘেমে গিয়েছে। হাতে থাকা হকি স্টিক টা ফেলে দেয়। আদ্রিসের মুখশ্রীতে রক্তের ছিটা লেগে আছে। আদ্রিস নিচু হয়ে বসে। লোক টার মাথার চুল গুলো ধরে উঁচু করে,

“তুই আমাকে স্ট্রেস রিলিভ করতে সাহায্য করলি। জানিস আমার কাল থেকেই মনে হচ্ছে আমি কাউকে ভীষণ বাজে ভাবে আঘাত করি। আমার ড্যাড আমার আদ্রিতাকে আঘাত করেছে। আমার আদ্রিতার রক্ত যে আমর সহ্য হয়না। ইচ্ছে করছিল ড্যাডকে সুট করে দেই। কিন্তু কি করার বল ড্যাডকেত আমি মারতে পারিনা। ড্যাড ত আমার জন্মদাতা। কিন্তু ভুলক্রমে তুই আমার সামনে চলে এসেছিস। তোকে আঘাত করতে পেরে তোর রক্ত দেখে আমার ভেতরে যে পৈশাচিক প্রশান্তি হচ্ছে তা বলে বোঝানোর মত নয়।
থ্যাং’স টোটো। তোকে আমি সুদ শহ রিটার্ন গিফট দেব ব্রো।”

আদ্রিস কথা গুলো বলে বিকট হাসি শুরু করে। বেসমেন্টের দেয়ালে হাসির শব্দ বেঁধে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করছে।
ছমছম পরিবেশ। যন্ত্রণায় আধমরা লোকটা কাতরাচ্ছে। আর সেই যন্ত্রণার কাতরের শব্দ আদ্রিসকে শান্তি দিচ্ছে।
প্রচন্ড রকমের মানসিক শান্তি।

“I only love two types of moan:
the painful moan of my enemy, and the moan of her.”

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply