জেন্টাল_মন্সটার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_২০
আসরাফ খান অফিস থেকে আদ্রিতার কথা শুনে খুব একটা গুরুত্ব না দিলেও মাধবী বেগম যখন বললেন আদ্রিস সকাল থেকেই আদ্রিতার সাথে আছে তখন তিনি আর বসে থাকতে পারলেন না।
অফিস থেকে বেরিয়ে গেলে হসপিটালের উদ্দেশ্যে।
রাস্তায় তিনি ট্রাফিকে ফেঁসে গেছেন।
গাড়ির সামনে এত গুলো গাড়ি দেখে বিরক্ত হলেন।
“আদ্রিস। তোকে আমি মানুষ কবে বানাতে পারব?”
এর ভেতরেই গাড়ি চলতে শুধু করে। আসরাফ খান দ্রুত গাড়ি এগায়।
আদ্রিতার কেবিনের বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে দু’জন গার্ড।
তারা সকাল থেকেই আছে। আদ্রিস কোন রিস্ক নিতে চায়না। তারা এই মুহুর্তে বাড়ির বাহিরে আছে যেহেতু।
আসরাফ খান নিচ থেকে আদ্রিতার কেবিন নাম্বার শুনে উপরে চলে আসে।
আদ্রিতার কেবিনের বাহিরে গার্ড দেখে হাসলেন,
“এত বেশি প্রটেকশন। একটা থার্ড ক্লাস মেয়ের জন্য।”
আসরাফ খান কেবিনের সামনে এসে দাঁড়ায়,
“আমাকে ভেতরে যেতে দাও।”
“সরি বস কোন অপরিচিত মানুষকে ভেতরে যাওয়ার পারমিশন দেয়নি।”
আসরাফ খান ভরখে গেলেন,
“আমি অপরিচিত নই। আমি আদ্রিসের ড্যাড।”
“সরি স্যার। বাট আমাদেরকে বসকে জানাতে হবে প্রথম।”
“ঠিক আছে।”
গার্ড, আদ্রিসকে কল করে।
আদ্রিতাকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে ছিল আদ্রিস। হটাৎ ফোন বাজার শব্দে বিরক্ত হয় সে।
আদ্রিতা জেগেই ছিল। আদ্রিসকে নড়তে দেখে সে পিটপির করে তাকায়।
আদ্রিস বিরক্ত হয়ে ফোন তুলে নেয়।
“হ্যালো।”
“বস আপনার বাবা এসেছে।”
“কোথায়?”
“এইত আমাদের সামনে, ওনাকে যেতে দেব?”
“হুম।”
“ওকে।”
গার্ড ফোন কেটে দেয়।
আদ্রিস, আদ্রিতাকে রেখে বিছনা ছেড়ে নেমে দাঁড়ায়।
ঘড়ি পড়তে পড়তে সে সোফায় এসে বসে।
আসরাফ খান দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে দেখে আদ্রিতা শুয়ে আছে আর আদ্রিস বসে আছে সোফায়। আদ্রিসের চুল এলোমেলো হয়ত ঘুমিয়ে ছিল।
“কোথায় ঘুমোচ্ছিলে?”
“আপনি কি এখানে আমার ঘুমানোর হিসাব নিতে এসেছেন?”
আসরাফ খান বিরক্ত হয়। আদ্রিতার সামনে থাকা টুল নিয়ে আদ্রিসের মুখোমুখি বসে।
“না সেটা না। বাড়িতে যাওনি কেন? তোমার মম আমাকে বলল তুমি সকাল থেকেই এখানে।”
“ড্যাড আই এম নট এ কিড। আমি কি করব কি না করব সেটার কৈফিয়ত আমি কাউকে দেইনা৷”
“কাম অন আদ্রিস, আদ্রিতা বাচ্চা নয়। সেত সুস্থই আছে তাহলে তুমি কেন এখনো এখানে?”
আসরাফ খান গলাটা একটু উঁচু করেই বললেন। আদ্রিতার খুবই খারাপ লাগছে। কিন্তু সয়ে গেছে। তাকে এত টুকু মূল্য কেউই দেয়না সে জানে ভালো করেই।
“ড্যাড”
আদ্রিসের কন্ঠ শীতল এবং গম্ভীর। আসরাফ খান চুপ হয়ে গেলেন।
“হসপিটালে কোন সিনক্রিয়েট করবেন না। আপনি ফিরে জান। আমি বিরক্ত হচ্ছি।”
“তুমি এখন তোমার ড্যাড এর সাথে এমন আচরণ করছো?”
“ড্যাড।”
আসরাফ খান মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
“আচ্ছা যাও ফ্রেশ হয়ে এসো। বাড়িতে যাও তোমার মম চিন্তা করছে। আমি আছি আদ্রিতার সাথে।”
আদ্রিস বাঁকা হাসে,
“ডেয়ার ড্যাড তুমি কি বলোত তোমার প্রিয় একটা খরগোশের বাচ্চা কে তুমি কি বাঘের মুখে ঠেলে দেবে?”
“এটা কেমন প্রশ্ন? “
“বলোনা।”
“অবশ্যই না৷”
“তাহলে তুমি কিভাবে সেই আশা করছো?”
“আদ্রিস ইউ আর সিরিয়ালি গেটিং অন মাই নার্ভ’স।”
“কি চাও ড্যাড?”
“তোমার মম চিন্তা করছে। আমি আদ্রিতার চাচা। আমি আছি ওর পাশে তুমি যাও। “
আসরাফ খান এবার কন্ঠটা সাভাবিক করে,
“আদ্রিস বাবা, তোমার বোন প্রিয়া রেগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে।”
“কেন?”
“তোমার মায়ের সাথে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। আমি এসব নিয়ে একটু চিন্তিত ছিলাম। আমি আছি আদ্রিতার সাথে প্লিজ একটু গিয়ে দেখো প্রিয়া কোথায় গেছে।”
বোনের কথা শুনে আদ্রিস নরম হয়ে যায়। আদ্রিস কিছু বলবে তার আগেই প্রিয়ার কল আসে আদ্রিসের কাছে।
“হ্যালো। “
ওপাশ থেকে প্রিয়ার কান্না কন্ঠ ভেসে এলো,
“ভাইয়া। কোথায় তুই প্লিজ আয়। দ্রুত আয়।”
“তুই কোথায়?”
“ফ্লাইওভারের উপরে।”
“ওখানে কি করছিস?”
“তুই নিয়ে যা প্লিজ আমাকে।”
“ওখানেই থাক আমি আসছি।”
আদ্রিস কল কটে আদ্রিতার দিকে তাকায়।
এরপর নিজের বাবার দিকে,
“ড্যাড তুমি যাও আদ্রিতা একাই ভালো থাকবে।”
“ঠিক আছে। তুমি যেটা চাও।’
আদ্রিস আর দেরি করেনা। সোফা থেকে জ্যাকেট নিয়ে বেরিয়ে যায়।
আসরাফ খান, আদ্রিসের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
আদ্রিস পুরোপুরি চলে গেলে আসরাফ খান আদ্রিতার দিকে তাকায়।
আদ্রিতার নাম হাতে সেলাইন চলছে।
আসরাফ খান আদ্রিতার দিকে ফিরে বসলেন,
” আদ্রিতা। নিজের সীমা কি ভুলে যাচ্ছো দিন দিন?”
“আমি কি করেছি?”
“এখন উল্ট প্রশ্ন করা শিখে গেছো? আদ্রিতা, একটা কথা শুনে রাখো। আদ্রিস আমার রাজ্যের রাজপুত্র আর তোমার অবস্থান সেখানে দাসীর মত। দাসী কখনো রাজপুত্রের স্ত্রী হতে পারেনা।
তুমি নিজের খোলা চোখে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো।”
“আমি কোন স্বপ্ন দেখিনা।”
আসরাফ খান ক্রোধে, আদ্রিতার সেলাইন লাগান হাতটা চেপে ধরে,
“আ আহ চাচু।”
রক্ত উঠে গিয়েছে। ক্যানলাটা মাংশ ছিড়ে বেরিয়ে গেছে।
“চাচু লাগছে।”
“আদ্রিসের থেকে দুরে থাকো। তোমার জন্য ভালো হবে। আমায় যদি তোমাকে দুর করিনা তাহলে তোমার জন্য ভালো হবেনা।”
কথা গুলো শেষ করে আসরাফ খান বেরিয়ে গেলেন। আদ্রিতা নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে।
ধিরে উঠে বসল।
রক্তের ফোঁটা টুপ টুপ করে নিচে পড়তে থাকল।
আদ্রিতার অবশ্য সয়ে গেছে এইসব।
আদ্রিতার হাতটা ভেদ করে সুই গেথে গিয়েছে।
আদ্রিতা চোখ বন্ধ করে দু একবার ভাবে হাত থেকে খুলবে। কিন্তু সাহস করে পারছে না৷
“উফ…….”
আদ্রিস বেরিয়ে নিচ পর্যন্ত আসে। পেছন থেকে আসরাফ খানও আসে।
আদ্রিস পেছনে বাবাকে দেখে দাঁড়িয়ে যায়।
“কি হলো। যাবেনা?”
আদ্রিস আসরাফ খানের হাতে লক্ষ করে। রক্তের দাগ লেগে আছ। আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়। আসরাফ খান সরিয়ে নেয় হাত।
“আব আমার কাজ আছে আমি আসছি। “
আসরাফ খান চলে যায় সেখান থেকে দ্রুত।
আদ্রিস, দ্রুত রেভেন কে কল করে,
“হ্যালো বস৷”
“ফ্লাইওভারের উপরে যা। প্রিয়া সেখানে। ওকে নিয়ে আমার ভিলায় যাবি। মেনশনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।”
“বস হটাৎ কি হয়েছে?”
“যেটা বলছি সেটা কর”
“ওকে।”
আদ্রিস ফোন কেটে ফিরে আসে।
আদ্রিতা একটা নিঃশ্বাস নেয়।
“উফ এটাকে বের করতেই হবে।”
আদ্রিতা টান দিতে গিয়েও থেমে গেল। এমন সময় হটাৎ দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে আদ্রিস৷
আদ্রিতা হুট করে শব্দ শুনে কেঁপে ওঠে।
আদ্রিস এগিয়ে এসে আদ্রিতার হাত ধরে।
“এটা কিভাবে হলো?”
“ঘুরে গেছিলাম ভুল করে।”
“ঘুরে গেছিস তাই এমন হয়েছে?”
“হ্যাঁ।”
“আমাকে বাচ্চা বলে মনে হয়?”
“না।”
“আমার সামনে বসে মিথ্যা কথা বলা বন্ধ কর। আমি সবই জানি।”
আদ্রিতা চুপ হয়ে যায়।
“চোখ বন্ধ কর।”
আদ্রিতা চোখ বন্ধ করে নেয়। আদ্রিস সুইটা টেনে বের করে।
রক্তের বন্যা বইছে।
“আর ইউ ক্রেজি আদ্রিতা।”
আদ্রিতা চোখ খুলে তাকায়।
“তোকে কেউ আঘাত করবে আর তুই চুপ থাকবি? এভাবে কত দিন?”
“কি বলতাম? আমার বাবার টাকা নেই। না আছে আমার টাকা। আমি কিভাবে দিন পার করছি সেটা শুধু আমিই জানি।”
আদ্রিস বিরক্ত হয়ে আদ্রিতার হাত চেপে ধরে,
“আহ৷ “
“তোকে ঠিক কিভাবে মারলে আমার রাগ শান্ত হবে বলত।”
দাঁত কিড়মিড় করে কথা গুলো বলছে আদ্রিস। আদ্রিতার চোখে পানি চলে এসেছে।
“ল লাগছে।”
“অসুস্থ বলে বেঁচে গেলি। তোকে থাপ্পড় মারার জন্য আমার হাত উসকুস করছে বেয়াদব।”
আদ্রিতা হেঁচকি তুলে।
আদ্রিস হাত সরিয়ে আনে।
“শোন বেয়াদব, তোকে এরপর কেউ কিছু বললে জাবাব না দিলে ভাবব তুই বোবা। এখন বোবাত তুই নস। আমি আবার সত্যি ছাড়া ভাবতে পারিনা। ত আমি তোর জিহ্বা কেটে ফেলব। এরপর তুই বলতে পারবি না আর বলবিও না৷”
আদ্রিতা চুপ হয়ে যায়।
“আমার মাথা নষ্ট করে দিস তুই।”
“আ আপনি কেন কিছু বললেন না? “
“আমার সামনে ঘটনা ঘটলে দেখতি। বেয়াদব তর্ক করিস।”
আদ্রিস উঠে দাঁড়ায়। আদ্রিতা চোখ বন্ধ করে নেয়। না চড়টা মেরেই দেয় বোধ-হয়।
আদ্রিস রাগ কনট্রোল না করতে পেরে বেরিয়ে যায়।
আদ্রিতা তাকিয়ে থাকে।
“সব সময় রাগ করে।”
হাতের দিকে তাকায়। খানিকটা জায়গা জুড়ে কালচে হয়ে গেছে।
চলবে
( জানি ছোট হয়েছে। আমার আসলে আজ হাতের ভেতর যন্ত্রণা করতেছে। আমি বেশি লিখতে পারিনি। ভাবলাম যা পারছি তাই পোস্ট করি। রেসপন্স করিও।)
Share On:
TAGS: জেন্টাল মন্সটার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৪
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ২১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৬
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৫
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৭
-
জেন্টাল মন্সটার গল্পের লিংক
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৬