জেন্টাল_মনস্টার
লামিয়ারহমানমেঘলা
পর্ব_৪২
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
আদ্রিতা লেপ্টে থাকে আদ্রিসের বুকে। ঠিক বেড়াল ছানার মত৷
আদ্রিস বুঝে। এই সব কিছুই আদ্রিতার জন্য নতুন।
তবে হটাৎ আদ্রিসের ঠোঁটে ফোটে বাঁকা হাসি। চোখে সাইকোনেস। আদ্রিতার চুলে হাত বুলাতে বুলাতে আদ্রিস ওর চুলের ঘ্রাণ নেয়। মনে মনে বলে,
“আমাতে অভ্যস্ত হতে তোর সতেরোটা বছর লেগেছে, আদ্রিতা।
সতেরোটা দীর্ঘ বছর।
কিন্তু জানিস? সময় যতই লাগুক, শেষমেশ তুই আমার ছায়ার সাথেই শ্বাস নিতে শিখেছিস। এটাই আমার জয়।
তুই কি সত্যিই ভাবিস,
এই পৃথিবীর কোনো শক্তি তোকে আমার থেকে আলাদা করতে পারবে?
পৃথিবীটা খুব বড় না, আদ্রিতা।
আমার ইচ্ছের চেয়ে বড় কিছু এখানে নেই।
ভুল কল্পনা করিস না, পাগলি।
তোকে কেউ নিতে আসলে, আগে তাকে আমার বুক চিরে যেতে হবে।
আর আমি কাউকে এত সহজে রক্তের গন্ধ উপহার দিই না।
আমি আদ্রিস খান।
মনস্টার, হ্যাঁ, স্বীকার করি।
মানুষের জন্য আমি দুঃস্বপ্ন হতে পারি…
কিন্তু তোর জন্য?
তোর জন্য আমি সেই মনস্টার,
যে নিজের নখ গুটিয়ে রাখে,
শুধু তোর চুলে হাত রাখার সময় যেন আঁচড় না লাগে বলে।
মনে রাখিস,
পৃথিবী যদি তোর বিরুদ্ধে যায়, আমি পৃথিবীর বিরুদ্ধে যাব।
কিন্তু তোকে,
তোকে কখনো আমার বিরুদ্ধে যেতে দেব না।”
কিছুক্ষণ পর আদ্রিতা সরে আসে৷
আদ্রিস মৃদু হেসে আদ্রিতার গালে স্পর্শ করে৷
” চোখ বন্ধ কর আমি পাশেই আছি তোর৷”
আদ্রিতা নিশ্চুপ হয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়৷
আদ্রিস ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
কিছুক্ষণের মাথায় আদ্রিতা ঘুমিয়ে যায়৷
আদ্রিস ধিরে নিচু হয়ে আদ্রিতাকে দেখে।
আদ্রিতার কপালে চুমু খায় আদ্রিস।
এরপর ধিরে সুস্থে সরে আসে আদ্রিতার থেকে৷
আদ্রিস উঠে দাঁড়িয়ে আদ্রিতার পাশে দু’টো বালিশ রেখে দেয়।
এরপর সে বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
পকেট থেকে ফোন বের করে দেখে সায়ের ম্যাসেজ দিয়ে রেখেছে।
আদ্রিস বাঁকা হাসে।
পুনরায় ফোনটা পকেটে রেখে হাঁটা ধরে বেসমেন্টে এর পথে।
আদ্রিসের মেনশনের বেসমেন্ট টা কিছুটা সিক্রেট।
সহজে কেউ বুঝতে পারবে না এটা বেসমেন্টের রাস্তা। আবার সেটা সবার সামনেই।
আদ্রিস বেসমেন্টে পৌঁছে যায় কিছুক্ষণের মাঝে৷
অন্ধকার বেসমেন্টের চারিদিকে কোন জানালা নেই। আছে শুধু একটা লোহার দরজা যেটা দিয়ে প্রবেশ করা যায়। তবে আদ্রিসের অনুমতি ছাড়া বাহিরে যাওয়া যায় না৷
ছোট ছোট কিছু ছিদ্র আছে লোহার দরজায় যা দিয়ে মূলত আলো প্রবেশ করে।
বেসমেন্ট কয়েক কক্ষ বিশিষ্ট। অর্থাৎ মাঝে দেয়াল দিয়ে বেশ কয়েকটা রুম।
রুমের ভেতরেই একটা ওয়াসরুম। তবে আলাদা কোন দেয়াল নেই। রুমের বিছনার পাশেই স্লাপ বসানো।
এ থেকে বোঝা যায় এটা ঠিক কি পরিমাণের টর্চার সেল। এখানে কেউ একদিন থাকলে হয়ত সে এমনিই মরে যাবে।
আলাদা করে টর্চাররে প্রয়োজন হবেনা।
তবে এটা বাম দিকের দৃশ্য আর ডান দিকে দু’টো বিরাট রুম৷
যেটার একটায় আদ্রিস এখন আছে।
তার পাশে সায়ের। সামনে একটা লোককে বাঁধা চেয়ারের সাথে।
পেছনে চারজন গার্ড৷
আদ্রিস ইসারা করে গার্ড কে।
গার্ড দ্রুত এক মগ পানি নিয়ে লোকটার মুখে ছুড়ে মারে।
লোকটা ধড়ফড়িয়ে ওঠে।
আদ্রিস ঘাড় কাত করে তাকায়।
“গুড মর্নিং।”
আদ্রিসের কন্ঠ শুনে লোকটা ভয় পেয়ে যায়৷
সে নিজের হাত ছাড়াতে গেলে পারেনা৷
লোকটা ভয় পেয়ে যায়।
“আ আমাকে এখানে কেন এনেছেন? ক কি করেছি আমি?”
আদ্রিস মাথা নাড়ায়।
“হুম গুড কোয়েশ্চেন। কেন এখানে এনেছি?
উম, আমার কলিজাকে সুট করার জন্য সুন্দর জায়গা গুছিয়ে দেওয়া এবং প্লান টাকে সাকসেসফুলি রান করানোর জন্য আসরাফ খান গোকে কত টাকা দিয়েছিলো?”
কথাটা শোনা মাত্র লোকটা আরও থতমত খেয়ে যায়।
” আ আমি কিছু করিনি। আ আমি কাউকে খুন করতে বলিনি। আ আমাকে ছেড়ে দিন৷”
আদ্রিস হাসে শব্দ করে,
“হুম ছাড়বত। এমন ভাবে ছাড়ব যেন পৃথিবীর প্রতি ঘৃণা এসে যায়৷”
কথাটা বলে আদ্রিস হাত বাড়ায়। গার্ড ওকে কিছু টুলস ধরিয়ে দেয়। যেমন কাইচি, সুই, সুতা, চাকু,সাথে দুটো পেরেক ইত্যাদি ইত্যাদি।
আদ্রিস ফিরে চায় সায়েরের দিকে।
সায়ের ফোন বের করে ভিডিও অন করে।
আদ্রিস মাস্ক পরে নেয়। হাতেও মুখেও।
“লেট দ্য গেম বিগেন৷”
কথাটা বলে আদ্রিস পেরেক দুটো লোকটার হাতে ঢুকিয়ে দেয়৷
লোকটা চিৎকার করে ওঠে যন্ত্রণায়। পেছন থেকে সায়ের চিয়ার্স করে,
“উউ নাইস সট ব্রো। “
আদ্রিস মাস্কের পেছন থেকেই বাঁকা হাসে।
চাকুটা নিয়ে লোকটার গালের ঘষতে থাকে,
“এই ঠোঁট দিয়ে সব কিছুর জন্য কমান্ড দিয়েছিলি। সালা ওই কিলারকে পেলে আরও মজা হতো। মারতে আমার ভীষণ ভালো লাগে ভীষণ।”
কথাটা বলে আদ্রিস চাকুটা ঢুকিয়ে দেয় লোকটার মুখে। লোকটা ভয়ঙ্কর চিৎকার করছে। তবে সে চিৎকার শুধুমাত্র বেসমেন্টের ওই চার দেয়ালের ভেতরে থেকে যাচ্ছে। বার বার ফিরে আসছে আদ্রিস এবং সায়েরের কানে।
দু’জন যেন এটাকে এনজয় করছে।
আদ্রিস চাকুটা উঠিয়ে লোকটার দু হাতে কাঁধ থেকে কবজি পর্যন্ত চিরে ফেলে।
লোকটা এত যন্ত্রণা সহ্য না করতে পেরে জ্ঞান হারায়।
আদ্রিস নিজরে ঘামে ভেজা চুল গুলো সরিয়ে নেয় কপাল থেকে।
“এত সহজে হার মেনে নিলো? ভাইয়া এ কাকে তুকে এনেছো। মজাইত হলোনা৷”
“তাইত দেখছি।”
আদ্রিস এবার সুই সুতা দিয়ে লোকটাকে উড়োতাড়া সেলায় দিয়ে দেয়৷
দু হাত তার রক্তে রঙা। আদ্রিস তাকায় হাতের দিকে।
“উম লাইক ইট। আই ফাকিং লাইক ইট৷”
সায়ের ভিডিও বন্ধ করে।
আদ্রিস মাস্ক খুলে নেয়৷
“পাঠিয়ে দেও ড্যাডকে।
ড্যাড ও জানুক আদ্রিতা এই আদ্রিসের জন্য ঠিক কি।”
সায়ের মিষ্টি হাসে,
“ওকে।”
আদ্রিস হ্যান্ডগ্লাবস খুলে ফেলে দেয়।
“এটাকে ওই রুমপ বন্দি করে রাখ।কোন ঔষধ দিবি না। এভাবেই কষ্ট পেতে পেতে মরুক৷”
“ওকে বস৷”
আদ্রিস কমান্ড দিয়েই বেরিয়ে যায় সায়ের কে নিয়ে।
দু’জন বেরিয়ে আসে বেসমেন্ট থেকে।
“আদ্রিস বেসমেন্ট টা দরুন জায়গায় করেছিস৷”
“তাই না? আমি প্লান করার সময় ভাবছিলাম দারুন হবে৷”
দু ভাই কথা বলতে বলতে এগোচ্ছিলো এমন সময় হটাৎ ওদের সামনে চলে আসে মিরা।
মিরাকে দেখে দুজনই থমকে যায়।
আদ্রিস একবার সায়েরের দিকে। সায়ের একবার আদ্রিসের দিকে তাকায়।
মিরা ওদের এমন করতে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“হোয়াট?”
দু’জন যেন নিঃশ্বাস ফিরে পেলো। মিরা কিছু শুনেছি তাহলে।
সায়ের এগিয়ে গিয়ে মিরাকে পাজকোলে তুলে নেয়।
মিরা হটাৎ সায়েরের কান্ড দেখে অবাক হয়ে যায়।
“আরে কি করছেন?”
“কিছুনা চুপ থাকো বেশি কথা বলো মহিলা তুমি৷”
কথাটা বলে সায়ের হেঁটে চলে যায়৷
আদ্রিস হাসতে হাসতে রুমে চলে যায়। রুমে যাবার আগে কিচেন থেকে হাত পরিষ্কার করে যায়।
রুমে গিয়ে আদ্রিস দেখতে পায় আদ্রিতা বিছনায় বসে আছে। কিছু নিয়ে চিন্তিত ঘেমেছেও প্রচুর।
আদ্রিস দ্রুত এগিয়ে যায়।
আদ্রিসকে দেখে আদ্রিতা জড়িয়ে ধরে আদ্রিসকে শক্ত করে।
আদ্রিস স্পষ্ট শুনতে পারছে আদ্রিতার হৃৎস্পন্দনের গতি। আদ্রিস, আদ্রিতার মাথায় হাত বুলায়,
“রিলাক্স। আমি আছিত। কিসের এত ভয়? বাজে স্বপ্ন দেখেছিস?”
“হ্যাঁ? “
“কি স্বপ্ন? “
“ও ওই”
“ওই?”
“ওই আমার, থেকে কোথায় দুরে চলে গেলেন আপনি৷’
আদ্রিস, আদ্রিতার মাথায় চুমু খায়।
” রিলাক্স যাই নি কোথাও আমি৷”
আদ্রিতা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আদ্রিসের বুকের সাথে লেপ্টে থাকে।
এরপর বলে ওঠে,
“আদ্রিস ভাইয়া, ভালোবেসে ফেলেছি। এতটা যে এখন আপনি বিহীন নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়৷ “
আদ্রিস কথাটা শুনে কিছুক্ষণ থেমে থাকে।
এরপর সে আদ্রিতার দিকে তাকায়।
আদ্রিতা ফের বলে ওঠে,
“আমি কিন্তু আপনারই আদ্রিতা। আদ্রিতা সুবহান আলভি। নাকি সানা সুভহান আলভি।”
আদ্রিস, ফের জড়িয়ে ধরে আদ্রিতাকে।
“রিলাক্স আদ্রিতা, তুই এই আদ্রিসেরই আদ্রিতা। কেউ তোর সাথে কিছু করবে না। আমার থেকে দুরে তোকে আমার ড্যাড এই পর্যন্ত করতে পারলো না। তবে তুই কিসের ভয় পাস জান? তুইত আমার রে। এই আদ্রিসের। “
কথা গুলো বলতে বলতে আদ্রিস, আদ্রিতাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখে।
মেয়েটার ভয় গুলোও তাকে শান্তি দিচ্ছে।
অর্থাৎ আদ্রিতা শুরু তার৷
আদ্রিস হুট করেই আদ্রিতার ঘাড়ের পেছনে হাত দিয়ে নিজের দিকে উঠিয়ে আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয় আবদ্ধ করে নেয়।
আদ্রিতা ঝুকে পড়ে বিছানায়। আদ্রিস চেপে ধরে আদ্রিতাকে বিছনার সাথে।
উন্মাদের মত শুষে নিতে শুরু করে আদ্রিতার ওষ্ঠদ্বয়।
ও যেন পাগল হয়ে গেছে এই মুহুর্তে। কিছুরই খেয়াল নেই আশেপাশে কোথায় কি হচ্ছে।
আদ্রিতা চেয়েও কিছু বলতে পারছে না। তাকে সব দিক থেকে আঁটকে ফেলেছে আদ্রিস৷
কিছুক্ষণ পর আদ্রিতার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে দেখে আদ্রিস একটু উঁচু হয়।
আদ্রিতা ব্রিথ আউট হয়ে গেছিলো। কিছুক্ষণ পর আদ্রিতা সাভাবিক হলে আদ্রিস ফের এটাক করে আদ্রিতার উপর৷
এই-বার আদ্রিতার ঘাড়ে। আদ্রিতা শব্দ করে ওঠে। আদ্রিসের প্রসস্থ হাত তখন আদ্রিতার কোমড় জুড়ে বিস্তৃত। আদ্রিতা কেঁপে উঠছে বার বার আদ্রিসের কান্ডবান্ডে। প্রতিটা স্পর্শ আদ্রিতার শরীরে শিহরন জাগিয়ে দিচ্ছে।
“সম্পূর্ণ ই বুকটি পেয়ে যাবেন শুধুমাত্র বইটই এপে মাত্র ৫৫ টাকায়। লিংক কমেন্ট এ।”
চলবে?
[এই যে কোথায় যাচ্ছো চলে? গল্পত পড়লে এখন আমার কথা শুনো। কাঁচের গ্লাসে পা কেটে ৫ খানা সেলাই লেগেছে। শুধুমাত্র তোমাদের আশা দেখিয়েছি তাই নারাজ করতে পারলাম না। নাহলে আামর পক্ষে এই গল্প লেখা সম্ভব ই ছিলোনা।
আমার জন্য দোয়া করিও।
আর হ্যাঁ আমি গল্প আসবে পোস্ট দেওয়াড পরে পা কেটেছে ]
Share On:
TAGS: জেন্টাল মনস্টার, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১১
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৯
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৮
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৪
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২৭
-
জেন্টাল মন্সটার গল্পের লিংক
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৮
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১১
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৩