Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৩


জেন্টাল_মনস্টার

লামিয়ারহমানমেঘলা

পর্ব_৩৩

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]

আদ্রিতা, প্রিয়ার কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে সোফায়।
রেভেন কলে কারোর সাথে রাশিয়ান ভাষায় কথা বলছে। প্রিয়ার এক হাত আদ্রিতার মাথায় কিন্তু চোখ দু’টো রেভেনের দিকে স্থির।
আদ্রিতা প্রিয়ার চোখ বরাবর তাকিয়ে, রেভেনকে দেখে অবাক হয়। প্রিয়া খুব ঘোর লাগা চাহনিতে তাকিয়ে আছে। যেন সব টুকু পর্যবেক্ষণ করছে।

“আপু।”

প্রিয়ার ধ্যান ফিরে।

“হ্যাঁ বল?’

” কি দেখছো?”

“কিছু না৷’

আদ্রিতা আর পাল্টা প্রশ্ন করলোনা।
আদ্রিতার পা দু’টো ভয়ানক রক্তিম হয়ে আছে। আদ্রিতা উঠে বসে।

” আপু৷”

“হ্যাঁ? “

“আমার না ব্যাথা করছে।”

প্রিয়া দেখে,আদ্রিতার পায়ের কড়া পরা জায়গা দু’টো ক্ষত হয়ে আছে।

“ইস, অনেক ব্যাথা কি?”

“হ্যাঁ।”

“আচ্ছা আমি ভাইয়াকে বলছি।”

এমন সময় মিরা এবং আদ্রিস কলিডোরে প্রবেশ করে। আদ্রিস শুনে ফেলে প্রিয়ার কথা।

“কি বলবি?”

প্রিয়া ফিরে চায়। মিরাকে ইসারা করে আদ্রিতার পায়ের দিকে। মিরা বুঝতে পারে।

“আদ্রিস বলছিলাম কি, খুলে দে না কড়া দু’টো এরপর পালাতে চাইলে পা কেটে দিস৷”

আদ্রিস দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
সে গিয়ে আদ্রিতাকে পাজকোলে তুলে নেয়।

“সবাই রেস্ট করো। সন্ধ্যায় দেখা হবে।”

কথাটা বলে আদ্রিস, আদ্রিতাকে নিয়ে উপরে চলে গেলো।
মিরা,প্রিয়ার পাশে বসে,

“কিরে কি মনে হয়?”

“মনেত হচ্ছে খুলেই দেবে।”


আদ্রিস, আদ্রিতাকে রুমে এনে বিছনায় বসায়৷
আদ্রিতার পায়ের লোহার বেড়ি দুটো চাবি দিয়ে খুলে দেয়।
রক্তিম ক্ষত হয়ে আছে ফর্সা পায়ে।
আদ্রিস কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে সে দিকে।

“Does it hurt?”

আদ্রিতা মৃদুস্বরে উত্তর দিলো,

“হুম।”

আদ্রিস টেবিল সাইড ড্রোয়ের থেকে ফাস্টএইড বক্স নিয়ে ঔষধ বের করে এপর আদ্রিতার পায়ে আলতো হাতে লাগিয়ে দিতে শুরু করে।
আদ্রিতার, যন্ত্রণাটা যেন তার হচ্ছে। মুখ দিয়ে ফু দিচ্ছে আলতো করে।

ঠিকঠাকমতো মলম লাগিয়ে দিয়ে আদ্রিস সবটা গুছিয়ে রাখে।
আদ্রিতা তাকিয়ে আছে আদ্রিসের দিকে।
আদ্রিস এগিয়ে গিয়ে আদ্রিতার পাশে বসে।
আদ্রিতার ঘাড়ে পেছনে হাত দিয়ে নিজের নিকটে নিয়ে আসে।
আদ্রিতার কপালে চুমু খায়। আদ্রিতা চোখ বন্ধ করে নেয়।
আদ্রিস ধিরে ধিরে আদ্রিতার পুরো গালে চুমু খায়।

“একটু বেশি রুড হয়ে গেছিলাম সরি।”

আদ্রিতা বেড়াল ছানার মত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে আদ্রিসের বুকে। এই একটু খানি জায়গা একান্ত তার৷ সব চলে যাক শুধু এই একটু খানি জায়গা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার থাক।
আদ্রিতা জানে এই জায়গায় ভুল তার আছে। সে দিন আদ্রিস সঠিক সময় না পৌঁছালে লোকগুলো তার সাথে কি করত।
সে কোথাও না কোথাও জানত আদ্রিস ভয়ঙ্কর। কিন্তু তার আন্দাজে কখনো আসেনি এতটা ভয়ঙ্কর।
আদ্রিতার ভয়ের খাতায় আরও একটা জায়গা জোগ হলো। আর সেটা হলো আদ্রিস নিজেই।
এই পৃথিবীতে যে বুকটাকে তার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সেই বুকের অধিকারীকেই সে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়।

আদ্রিস, আদ্রিতাকে নিয়ে শুয়ে পড়ে।

“বিয়ে করবি আদ্রিতা?”

আদ্রিতা অবাক হয়ে যায়।
সে মাথা তুলে আদ্রিসের দিকে তাকায়।
আদ্রিস নিচু হয়ে তাকায় আদ্রিতার মুখের দিকে। আদ্রিতার চুল গুলো সরিয়ে ওর গাল টেনে দেয়।

“পারমিশন নিচ্ছি না। বিয়েত তুই আমাকেই করবি। কিন্তু এখন না রাশিয়া গিয়ে। আমাদের অনেক গুলা বাচ্চা হবে। আমার মেনশন ভরে থাকবে বাচ্চা দের হাসির শব্দে।”

“না৷”..

আদ্রিস ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

” কি?”

“এত গুলো বাচ্চা দিয়ে কি কাজ?”

“তোর কাজ নেই তুই শুধু শুয়ে থাকবি বাকিটা আমিই দেব৷’

আদ্রিতার কান লাল হয়ে গেল কথাটা শুনে। এমন বেহায়া বেটামানুষ সে জীবনে দেখেনি।
আদ্রিতা নিজের মুখ লুকিয়ে নেয়। আদ্রিস হেঁসে ফেলে। আদ্রিতার দিকে ফিরে আদ্রিতাকে জড়িয়ে নেয়। আদ্রিতার মাথাটা আদ্রিসের বুকে। মাথাটা আদ্রিসের হাতের উপর।

“আদ্রিতা”

“হুম?”

“সব মঞ্জুর, আমার বুকে থেকে তুই যা চাইবি সব হাজির করব৷ কিন্তু দুরে যেতো চাইলে, মেরে ফেলব।”

আদ্রিতা মাথা তুলে তাকায়।
আদ্রিস, আদ্রিতার গাল টেনে দেয়,

“সত্যি বলছি। মেরে ফেলব। খুব একটা কঠিন না মানুষ মারা। সহজই আছে৷”

আদ্রিতা, ফের মাথা নামিয়ে নেয়।
আদ্রিস বাঁকা হাসে। চোখ বন্ধ করে নেয়।
আদ্রিতাও চোখ বন্ধ করে নেয়।
বাঙালীর ভাত ঘুম৷


রাশিয়া,
একটা ব্যাস্ত দিন ছিল আজ।
আদ্রিসের অনুপস্থিতিতে সায়েরের মাথার উপর কাজের চাপ দ্বিগুণ বেড়ে যায়৷
সায়ের নিজের মেনশনে প্রবেশ করে।
সায়েরের সেক্রেটারি তাকে একটা ফাইল সেন্ড করে।
সায়ের রুমে এসে সেটা ওপেন করে।
মিরার ডিটেইলস।

“মিরা বিবাহিত? “

সায়ের ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
পরনের কোর্ট খুলে টাই লুস করে বিছনার এক কেণায় বসে পড়ে।

“ওর হাসবেন্ড ওকে বুলি করে।”

সায়ের বাঁকা হাসে,

“ইট’স ওকে ডার্লিং, তোমার না পাওয়া সব আদর আমি পুশিয়ে দেব৷”

সায়ের পাগল হয়ে গেছে।
সায়ের সেক্রেটারিকে কল করে,

“হ্যালো বস৷”

“আদ্রিস জানে তুই যে আমায় ডিটেউলস দিয়েছিস?”

“হ্যা স্যারই ত আমাকে সব কিছু গুছিয়ে পাঠিয়েছে।”

“হেয়াট?”

“হ্যাঁ, আরও একটা কথা বলেছে।”

“কি বলেছে?’

“Пока я не выйду замуж, ты жениться не сможешь. Устрой сначала мою свадьбу, иначе Миру-апу не отдам.”
[আমার আগে তোমার বিয়ে হচ্ছে না। আমার বিয়ের ব্যাবস্থা করো নাহলে মিরা আপুকে দেবনা।]

সায়ের হেঁসে ফেলে।

“ওকে ওকে।”.

সায়ের কল কেটে দেয়।

” জাস্ট কিছু দিন মিরা।”

সায়ের ওয়াসরুমে চলে যায়৷


সন্ধ্যা ছায়া নেমেছে ধরণী জুড়ে।
সূর্য গেছে অস্ত।
বাগানের এক কোণায় বার্বিকিউ করার জন্য চুলা পাতা হয়েছে।
অনেকটা সময় ধরে সার্ভেন্ট এসব কাজেই লেগে আছে।
রেভেন জাস্ট কমান্ড দিয়ে চলে গেছিলো রুমে।
কখন জানি সে ঘুমিয়ে গেছে। ঘুম ভাঙলে ঘড়িতে বাজে সন্ধ্যা ৬ টা।
রেভেন ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে আসে।
প্রিয়া এবং মিরা দু’জন বসে আছে গার্ডেন এড়িয়াতে।
ওদের পাশেই সব কিছুর আয়োজন করা হয়েছে।
চিকেন, ল্যাম সব কিছু মেরিনেট করে রাখা হয়েছে।
রেভেন প্রিয়াকে দেখে, মিরার সাথে গল্পের ঝুড়ি নিয়ে বসেছে।
এত হাসছে বলার বাহিরে।
রেভেন এসব ভাবতে ভাবতে হটাৎ সায়েরের ম্যাসেজ পেয়ে চোখ বড় বড় করে নেয়।

“মিরার ফটো পাঠা। এখন কি করছে সেই ফটো।”

রেভেন কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে ম্যাসেজের দিকে। এরপর ভালো করে চেক করে। হ্যাঁ এটাত সায়েরই।

আবার সায়ের ম্যাসেজ করল,

“কিরে কোথায় মরেছিস?”

রেভেন রিপ্লাই করে,

“না মরিনি অবাক হয়েছি।”

“তোর চাকরি খেয়ে দেব সালা।”

“তাহলে আপুর ছবি দেব না৷”

“আরে না না এমন করেনা। দে ভাই৷”

“বস এটা আপনিত?”

“হ ভাই আমি। প্রেমের আঠা কাঠালের আঠা জানিস না? “..

” হুম ভাগ্যিস আমি দুরে আছি।”

“বকবক করবি তুই? আমার সময় নেই৷”

রেভেন ফেন উঠিয়ে মিরার কিছু ছবি তুলে সায়ের কে পাঠায়।
সায়ের ছবি গুলো দেখে মৃদু মৃদু হাসছে।

“এঞ্জেল সি ইজ এন এঞ্জেল।”


আদ্রিস ঘুম থেকে উঠে দেখে আদ্রিতা ওয়াসরুম থেকে বের হয়েছে মাত্র।
আদ্রিস উঠে বসে।

“আমাকে ফেলে উঠেছিস কেন?”.

“বাথরুমে যেতে হতো৷ কতক্ষণ চেপে রাখব?”

আদ্রিস আড় চোখে তাকায়। আদ্রিতা মাথা নুইয়ে নেয়।

“বাগানে যাই? সবাই নিচে।”…

” যা৷”.

আদ্রিসের যা বলতে দেরি নেই আদ্রিতার ফুড়ুৎ হয়ে গেলো।
আদ্রিস তাকিয়ে রইল অবাক হয়ে।

“পাখির মত ডানা পেয়ে গেছে নাকি?”


আদ্রিস ছুটে নিচে আসে।
মিরা আর প্রিয়ার দিকে এগিয়ে যায়৷

“আরে আস্তে ধিরে পড়ে যাবিত৷? “

“আরে না পরব না৷”

“কিরে কিছুক্ষণ আগেত বলছিলি পয়ে ব্যাথা৷”

আদ্রিতা ছোট ছোট চোখে তাকায়।
প্রিয়া মিরা আদ্রিতার এমন রূপ দেখে হেসে খুন।

“হাসছো কেন?”

“সরি বনু৷”

“হুহ সবাই তোমরা খিল্লি করো আমাকে নিয়ে। “

মিরা, আদ্রিতা নিজেদের মাঝে বসায়।

“না না। সোনা বনু। কিউটি কিউটি৷’

প্রিয়া, মিরা আদ্রিতার দু গাল ধরে টানে।

চলবে?

( আমার পরিশ্রমের দাম দিও। রেসপন্স করিও)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply