Golpo romantic golpo জাহানারা

জাহানারা পর্ব ৮


জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :০৮
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অ’কথ্য ভাষা এবং স”হিং’সতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সং’বে’দনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

“তোর মতো নি’র্লজ্জ মেয়ে আমি দুটো দেখি নি। ছি ছি ছি, আজ তোর জায়গায় আমি থাকলে গ’লা’য় দ’ড়ি দিতাম। শুনো ইফান, ওর মুখে পনেরো লাখ টাকা ছু’ড়ে মে’রে ডিভোর্স দিয়ে ঘাড় ধাক্কা মে’রে চৌধুরী বাড়ি থেকে বের করে দাও।”

সবাই তাকিয়ে আছে আমার শাশুড়ী নাবিলা চৌধুরীর দিকে। সেই কখন থেকে সবার সামনে আমাকে হু’মকিধামকি দিচ্ছে। কিন্তু কেউ কোনো প্রতিবাদ করছে না। যদিও শ্বশুর মশাই কয়েকবার শাশুড়ী’মাকে থামতে বলেছেন। কিন্তু নাবিলা চৌধুরী উল্টো ওনাকেই কথা শুনিয়ে দিয়েছে। সাথে হু’মকিধামকিও । ভাবা যায় কতবড় সেনা মহিলা এই নাবিলা চৌধুরী! মন্ত্রী ইকবাল চৌধুরীকেও হু’মকি দেয়! বুঝতে হবে শাশুড়ী সেই বড়লোক প্রভাবশালীর মেয়ে। তো আমি কি উনার বাপের টাকায় খায় নাকি? একটুও ছাড় দিবো না। আমিও চোখ উল্টে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে নাবিলা চৌধুরীকে বলে উঠলাম,
–“কি যে বলেন সাসুমা, আমার শ্বশুর মশাইও তো আপনার মুখে বিশ লাখ টাকা ছু’ড়ে দিয়ে ডিভোর্স দিতে চেয়েছিলেন। পেরেছেন কি?তাহলে ভাবলেন কিভাবে আপনার ছেলে পারবে?”

–“যত বড় মুখ নই তত বড় কথা,ফকিন্নির বাচ্চা,,,”

–“ব্যাস অনেক নাটক হয়েছে। সবাই ব্রেকফাস্ট করে নিজেদের রুমে যাও।আর এই চে’মরি আমার সাথে রুমে এসো।”

নাবিলা চৌধুরী আমার উপর চেঁচিয়ে তেরে আসতে নিলে ইফান ধমকে থামিয়ে দেয়। এতক্ষণ শ’য়তানটার মুখ দিয়ে রা এলো। এতক্ষণ বসে বসে আমাকে করা তার মায়ের অ’পমানগুলো শুনছিল আর ঠোঁট টিপে হাসছিলো। আসলে আমি কাউকে বিশ্বাস করাতে পারবো না, এমন খারাপ লোক আমি আমার জীবনে আর কখনো দেখি নি। যাব না তার সাথে। কেনই বা যাবো? আমি তো এখনো ভুলতেই পারছি না, সে যে আমার রে’পি’স্ট। আর এখন সারারাত মেয়েছেলে নিয়ে ফূ’র্তি করে আমাকে ডাকছে। হাহ্ শা’লা খা’ই’ষ্টা।

আমি চুপ করে একই জায়গায় আরাম করে বসে রইলাম। ইফান এতক্ষণে সিঁড়ির কাছে চলে গিয়েছে। কি ভেবে আবার পিছনে তাকালো আমার দিকে। আমার মধ্যে কোনো লড়চড় নেই বলে আবার ফিরে এসে আমার হাত ধরে টেনেহিঁ’চড়ে নিয়ে যাওয়া শুরু করেছে। আমি যেতে নারাজ এমন খা’রাপ চরিত্রহী’ন লোকের সাথে। তাই শক্তি কাটাতে লাগলাম।একপর্যায়ে ইফান আমার সাথে না পেরে সিঁড়ির অব্ধি এসে এক টান মেরে আমাকে কাঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া শুরু করেছে। আমি তার কাধে উল্টো ঝুলে আছি। আর তার পিঠে এবারো থেবড়ো কি’ল ঘুষি দিতে দিতে চেঁচাতে লাগলাম,
–শয়’তান লোক ছাড় বলছি।একবার ছাড়া পাই তোকে কাঁচা চিবিয়ে খাবো।”


–“নাও এবার খাও..”

ঘরে ঢুকে ঠাস করে আমাকে বিছানায় ছেড়ে দিয়ে উক্ত বাক্যটি আওরালো। ওর ঠোঁটের কোনে নোংরা হাসিটা দেখে রা’গে আমার শরীরটা জ্ব’লছে। ধপাস করে বিছানায় ছেড়ে দেওয়ায় পেটের দিক থেকে শাড়িটা সরে গেছে, তা আমার খেয়াল নেই।
আমি দাঁতে দাঁত চেপে ওর দিকে তাকাতেই দেখলাম জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে একটা ঢোক গিললো। তাতে পুরুষালি অ্যাডামস অ্যাপল তরঙ্গায়িত হয়েছে।তারপর ঠোঁট টিপে হাসতে লাগলো। ইয়াক কত নোংরা সেই হাসি। আমি চোখমুখ কুঁচকে নিলাম।
ইফান অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে। ওর দৃষ্টি অনুসারে আমি তাকাতেই চোখ কপালে। আমার শাড়ি সরে ফর্সা উদর দৃশ্যমান ।

আমি তাড়াতাড়ি উঠে শাড়ি ঠিক করবো তার আগেই ইফান আমার দু’পায়ে টান মেরে নিজের কাছে নিয়ে এসে আমার উপর ঝুঁকে পড়লো।আমি ওর বুকে জোরে ধাক্কা দিয়ে সরাতে চাইলাম। তবে আবারো ব্যার্থ হলাম।লোকটার জিম করা পেশিবহুল বলিষ্ঠ দেহ। ইসস এটা কারো শরীর না কি পাথর? বেশি ভাবতে পারলাম না। তার আগেই ইফান আমার দুই হাত তার একহাত দিয়ে বিছানার সাথে চেপে ধরলো।আমি চোখ গরম করে তাকালাম। কত আর গা’লিগা’লাজ করবো এই নি’র্লজ্জ লোকটাকে? এই দুই দিনে তো আর কম করলাম না।

–“আর কতবার তোমায় বুঝাতে হবে ঝাঁ’ঝওয়ালি আমার সাথে তেজ দেখাবা না ।তোমার শরীরের তাপ আপাতত তোমার কাছেই রাখো। সামনে শীতকাল রাতে দু’জনেই আরাম পাবো।”

ইফানের লাগামহীন বাক্যটা আমার কান অব্ধি পৌঁছাতেই দাঁতে দাঁত পিষে বললাম,
–“শালা কু’ত্তা, আমার তাপ তর লাগবো কেন? ক্লাবে নোংরামি করার জন্য মেয়েছেলের কি আর অভাব?”

–“ধুর কি যে বল! অভাব থাকবে কেন? আসল বিষয়টা হলো ওরা বেশি কোল্ড থাকে। আই মিন, দে ডোন্ট মুভ অ্যাট অল, জাস্ট লাইক পেট ক্যাটস। দেন আই ফিল এক্সট্রিমলি বোর্ড বেইবি। বাট ইয়্যু আর মাই ওয়ান এন্ড ওয়ানলি ঝাঁঝওয়ালি। আই লাইক ইউর তিরিং বিরিং। বিকজ ইট মেকস মি ফিল ইভেন মোর এক্সাইটেড।”

–“আল্লাহ আল্লাহ গো এই দু’শ্চরিত্র পুরুষকে হেদায়েত দান কর।”

–“আমিন..”

আমার মাথার রগগুলো কেমন যেন ছিঁ’ড়ে যাচ্ছে এই অসভ্য লোকের লা’গামহীন কথা শুনে। মানলাম মানুষ খা’রাপ তাই বলে এসব কথা? বউয়ের সামনে পর নারীর সাথে কিভাবে সময় কাটায় এসব গুনগান ছি ছি! আবার আমাকে জ্বা’লানোর জন্য আমিন বলে দাঁত বের করছে ।
ইফান আমার মুখের দিকে আরেকটু ঝুকে পরেছে। মতিগতি একদমই সুবিধার লাগছে না, আচ্ছা এখন কি আমার সাথে আ’স্তাগফিরুল্লাহ। মনে মনে ভাবনাগুলোর মধ্যেই আমি উচ্চ স্বরে আস্তাগফিরুল্লা বলে ওর মেইন পয়েন্টে হাটু মা’রলাম। আচমকা তাকে আ’ঘাত করবো হয়তো কল্পনাও করে নি। তাই হাঁটু মা’রায় ঐ জায়গায় হাত চেপে ধরে আমার উপর থেকে সরে যায়। মুখ দিয়ে মৃদুস্বরে আহ্ বেরিয়ে আসে। কয়েক মূহুর্তে সে নিজের ব্যথা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি এক ছুটে ঘর থেকে বেড়িয়ে যাই।

এদিকে ইফান চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে হুংকার ছুড়লো,
–“হারা’মজাদি তোকে একবার একা পাই একদম কাঁচা খেয়ে দেবো। ব’জ্জাত মহিলা কোথাকার, তোর ঠেং ভেঙে বেডে ফেলে রাখবো……”

চলবে,,,,,,,

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply