Golpo romantic golpo জাহানারা

জাহানারা পর্ব ৭


জাহানারা

জান্নাত_মুন

পর্ব :০৭
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ

🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অ’কথ্য ভাষা এবং স”হিং’সতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সং’বে’দনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।

রুমের সবাই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে এই বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্য ইতির এহেন কথা শুনে। আমি নিজের হাসি সংবরন করে বললাম,
–“কি বলছ ননদিনী, শাশুড়িমা শ্বশুর মশাইয়ের মতো মানুষ কে সবার সামনে পা’ছায় বেলন দিয়ে মে’রেছে!! উনি কিছু বললেন নি?”

ইতি প্রতিত্তোর করতে যাবে তার আগেই ইমরান বলে উঠলো,
–“কি যে বল ভাবি!! মমের সাথে আব্বু পারবে নাকি? মম যে ডেঞ্জারাস, প্রধান উপদেষ্টার পা’ছাতেও বেলন বসিয়ে দিতে দুই বার ভাববে না।”

সবাই এক এক করে আমার শাশুড়িমার গুনগান করছে। আমি মনযোগ দিয়ে শুনছি আর হাসছি। হঠাৎ করেই দাদি বলে উঠলো,
–“শুন নাতবউ, আমার নাতিরে তোমার কাছে বাইন্ধা রাখা এত সহজ হবে না। আমার বড় নাতি হইতাসে মা ভক্ত বেটাছেলে। ঐ মার শাসন না পাইতে পাইতে এই পর্যন্ত গেছে। আর আমার পোলাও বউয়ের উপরে গিয়া শাসন করসে না। এখন নাতি আমার হয়সে গু’ন্ডা মা’স্তানের মতোই। ঘরে মন ঠিকে না কখনো। মন চাইলে রাইতে আসে, না হলে আসে না। একেবারে পরের দিন আসে। কখনো ঐটাও আসে না।”

–“কেন, রাতে বাসায় আসে না কেন?”

আমি বিষ্ময় নিয়ে সবার দিকে তাকালাম। আমার প্রশ্ন শুনে সবাই একটু বিব্রত হয়ে গেছে যা আমি সবার চেহারা দেখে বুঝতে পারছি। দাদি একটু উশখুশ করে বললো,
–“ইফান মাইয়া মানুষের সাথে দিন রাইত ডলাডলি করে বেড়ায়। যদিও আমার বড় পোলার রাজনৈতিক সব ঝা’মেলা ওই সামলায় দিনে। কিন্তু তোমার সাথে যা ঘটালো তা আগে কোনোদিন করে নি। কাউরে কখনো জোর করে নি। কিন্তু তোমার লগে কি হইলো বুঝলাম না!”

দাদির কথাগুলো শুনার পর আমার মনটা আরো বি’ষিয়ে গেল। কোন নারী চায় তার স্বামী পরকীয়া করে বেড়াক? হ্যা আমি মানলাম ও স্বামীর চেয়ে আসামি বেশি। তবু বুকের কোথাও একটা চিনচিন ব্যাথা অনুভব করছি। হয়তো এটাই নারী সত্তার দুর্বলতা।

আমাকে সবাই ইফানের সম্পর্কে সবকিছু খুলে বললো। আমিও বুঝলাম ওকে সঠিক পথে নিয়ে আসতে হলে আমাকে ভালো করেই মাঠে নামতে হবে। সেই দিন আমি আর ইফানের রুমে যাইনি, দাদির সাথে থেকে যাই ।


আমার ফজরের আজানের সময় ঘুম থেকে উঠার অভ্যস। তারপর ফজরের নামাজ পড়ে আর ঘুমাই না। পড়তে বসি। কিন্তু আজ তো আর পড়া হবে না।গতকাল দাদির ঘরেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সাথে করে জামা কাপড় নিয়ে আসি নি। রাতে পলি তার একটা শাড়ি দিয়ে গিয়েছিলো। সেটা নিয়ে এখন ইফানের রুমে আসলাম। দরজা খুলতেই ঘর অন্ধকার দেখাল, তাই ফোনের ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে সুইচ অন করলাম। রুম একদম ফাঁকা। নোং’রা লোকটা তার রুমে নেই। তারমানে কোনো এক বড়লোকি ক্লাব বা হোটেলে মেয়ে নিয়ে পড়ে আছে। আমার নিজের প্রতি ঘৃ’ণা হচ্ছে কেন এই লোকটাকে বিয়ে করলাম। আমার সাথে যা ঘটলো তা অন্য কোনো সাধারণ মেয়ের সাথে ঘটলে জানি না কি করতো। কিন্তু আমাকে তো শক্ত থাকতেই হবে। ঐ খা’রাপ ইফান চৌধুরী কে শাস্তি না দিয়ে এখান থেকে কিছুতেই যাব না।

গতকাল পুলিশ স্টেশনে যাওয়ার পূর্বে বাবা আর ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছে।কেউ আমাকে ব্লেইম করে নি বরং সাহজ জুগিয়েছে। আর বড় ভাই না থাকলে তো কাল সারা বাংলাদেশে খবরটা এত তারাতাড়ি ছড়াতো না। এই বিয়েতে আমার পরিবার রাজি ছিল না। কিন্তু ঐ শ’য়তানটাকে শা’স্তি দিবো বলে বিয়েতে রাজি হলাম। সকালে আমার ছোট বোন জুইয়ের সাথে কথা হয়েছে। সে বললো এলাকায় অনেকে আমার নামে বাজে কথা বলছে। আবার অনেকে দুঃখ প্রকাশ করছে। আমি তাকে বলে দিলাম অন্যের কথায় কান না দিতে। আমি ফ্রেশ হয়ে রুমটাকে ভালোভাবে দেখে নিলাম।


সকাল সাতটা বাজে। আমি নিচে নেমে এসে দেখলাম বাড়ির কেউই এখনো ঘুম থেকে উঠে নি। বাড়ির কাজের মেয়ে লতা সকালের খাবার তৈরি করছে।আমিও তাকে হেল্প করতে গেলাম, তবে সে আমাকে কাজে হাত লাগাতে দিতে চায়নি। তবু আমি করলাম।আটটার দিকে একে একে সবাই ড্রয়িং রুমে আসতে থাকে।

–“আরে ভাবি আপনি রান্না ঘরে কি করছেন? আপনি যে নতুন বউ ভুলে গেছেন নাকি ?”

পলির গলা শুনে আমি পিছন ফিরে তাকালাম। হালকা পাতলা দেহের গড়ন। ফর্সা গায়ের রং। মেয়েটা দেখতে বড্ড মিষ্টি। তার পরনে শাড়ি। আমি কপাল কুঞ্চিত করলাম। আসছি থেকে দেখছি মেয়েটা শাড়ি পরে ঘুরে বেড়ায়। এইটুকু মেয়ে সবসময় শাড়ি পড়ে থাকে কেন বুঝি না? আমার ভাবনার মাঝেই মেয়েটা বলে উঠলো,
–“আর এত সকালে ঘুম থেকে উঠে পড়লেন যে?”

–“আমার খুব সকালে উঠার অভ্যাস। আর সবার জন্য লতা রান্না করছে তাই আমিও একটু হেল্প করতে আসলাম।”

–“শুধু রান্না ঘরেই হেল্প নয়, আজ থেকে বাড়ির সব কাজ করবে তুমি।”

রান্নাঘরে অন্য কারো গলার আওয়াজ পেয়ে পিছনে তাকালাম। নাবিলা চৌধুরী সিঁড়ি দিয়ে নেমে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বললো,,
–“এই বাড়িতে কি তোমাকে আমরা ফ্রীতে খাওয়াবো নাকি? ডি’ঙ্গি মেয়ে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে আমাদের ঘাড়ে ।”

নাবিলা চৌধুরীর অপমানজনক বাক্যগুলো আমি হজম করতে পারলাম না। তাই তৎক্ষনাৎ ঠোঁট বাকিয়ে বিদ্রূপ করে বলে উঠলাম,
–“আমার তো ক’ষা হয়েছে, যে আপনার ঘাড়ে বসে কুতকুত করছি। যত্তসব ফাউল মহিলা! আমি আমার জামাইয়ের অধিকারে এই বাড়িতে আছি। আপনার এতে জ্বা’লা কিসের হ্যাঁ?”

আমার কথায় তেতে উঠলেন তিনি। দেরী না করে সহসা দাঁতে দাঁত পিষে বললো,
–“ছোটলোকের বাচ্চা, তোর সাহস কিভাবে হয় এই বাড়িতে দাঁড়িয়ে আমার সাথে এইভাবে কথা বলার?”

নাবিলা চৌধুরী চিৎকার করে ধমকাচ্ছেন আমাকে। আমি কি থেমে থাকার পাবলিক নাকি আশ্চর্য? আমিও সমান তালে গলা ছেড়ে বললাম,
–“আমার সাহসের কি দেখছেন? আমি ছোটলোক, তাহলে আপনি কি? ওরে আমার নবাবের বেটিরে! এক পা কবরে চলে গেছে আরেক পা কখন জানি টুকুস করে চলে যাবে আর এখনো এত তেজ দেখাচ্ছেন? আপনার বা’লের তেজ আপনার ভ’গাটে পোলাকে গিয়ে দেখান।”

দুই শাশুড়ী বউমার ঝগড়া শুনে বাড়িতে যারা ছিল সবাই ড্রয়িং রুমে হাজির হয়। এখানে তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে । কেউ ভয়ে জড়সড় আবার কেউ ঠোঁট চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টায় নিয়োজিত। ননস্টপ আমরা চেল্লাচিল্লি করেই যাচ্ছি। মানে কেউ কাউকে ঝগ’ড়ায় জিততে দিবো না।

–“এই মেয়ে তর ঠেং ভেঙে দিবো। আজ আমার ছেলে বাড়িতে আসুক দেখ তর কি হাল করি।”

–“আপনি আর আপনার ছেলে কেউই আমার কোনো বালই ছিঁড়তে পারবেন না।”

তুমুল ঝ’গড়া চলছে শাশুড়ী বউমার মধ্যে। সবাই শুধু তাকিয়ে দেখছে। আমাদের দু’জনের মাঝখানে আসার সাহস কেউ পাচ্ছে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো ইফান ও তার বাবা মন্ত্রী ইকবাল চৌধুরী। এসেই দেখে ড্রয়িংরুমের সবাইকে একসাথে দাড়িয়ে থাকতে। অতঃপর চেঁচামেচি আওয়াজে চোখ ঘুরালো রান্না ঘরের দিকে।

ইফান ও ইকবাল চৌধুরী আমার আর নাবিলা চৌধুরীর ঝগড়া দেখে উচ্চ স্বরে হেসে দিলো। উচ্চ হাসির আওয়াজ পেয়ে সবাই তাদের দিকে দৃষ্টি ঘুরালো।
ইকবাল চৌধুরীকে হাসতে দেখে নাবিলা চৌধুরী দাঁতে দাঁত পিষে কড়া চোখে তাকাতেই ইকবাল চৌধুরী চুপসে গিয়ে তার ছোট ভাই ইরহাম চৌধুরীর সাথে গিয়ে দাড়ায়। কিন্তু ইফান অনবরত হেসেই যাচ্ছে। তার হাসার যথেষ্ট কারণও আছে। তার মা আর বউ যে এক্সপ্রেশন নিয়ে ঝগড়া করছে তাতে যে কেউই হাসতে বাধ্য। আমি ওর হাসিকে পাত্তা দিলাম না। বরং রান্না ঘর থেকে বের হয়ে এসে সোফায় আরাম করে বসলাম। রান্না ঘর থেকে নাবিলা চৌধুরী তৎক্ষনাৎ তেড়ে এসে বললো,
–“বে’হায়া নটি মেয়ে, তোর সামনে যে গুরুজনরা দাড়িয়ে আছে চোখে পড়েনি? তুই নবাবজাদির মতো পায়ে পা তুলে বসে পড়লি!”

নাবিলা চৌধুরীর কথায় বিরক্তি প্রকাশ করে প্রতিত্তোরে বললাম,
–“তো আমি কি সবার পায়ে ধরে রেখেছি নাকি যে ওনারা বসতে পারছে না?”

আমার সাথে কথায় না পেরে ইফানের কাছে অভিযোগ করে বলল,
–“দেখলে বাবা কোন অ’সভ্য তোর ঘাড়ে চেপেছে। তুমি তো ছিলে না, এই মেয়ে আমার সাথে কত বা’জে ব্যবহারই না করেছে।”

নাবিলা চৌধুরীর বাচ্চাসুলভ আচরণে বড্ড হাসি পেল, বাট হাসলাম না। জিহ্বা দিয়ে গাল ঠেলে আড় চোখে কা’পুরষটার দিকে তাকালাম। ওমা দেখি সে আগে থেকেই অদ্ভুত চাওনি দিয়ে আমার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে। কিন্তু আমি তার সেই চোখের ভাষা বুঝতে পারলাম না। একদম অনুভূতিহীন চাওনি।

চলবে,,,,,,,,,,,,,,

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply