জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :৩১
🚫ক’পি করা নিষিদ্ধ
🔞 সতর্কবার্তা:
এই গল্পে অশ্রাব্য ভাষা, অশ্লীলতা এবং সহিংসতার উপাদান রয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সী বা সংবেদনশীল পাঠকদের জন্য উপযুক্ত নয়। পাঠক নিজ দায়িত্বে পড়বেন।
★
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।।।
শরৎকালীন সকাল। আকাশটা আজ যেন একটু বেশিই স্বচ্ছ, নীলের ভেতরে সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে।গ্রামের পিচঢালা রাস্তার উপর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে গাড়িটা। সকালের শরৎবাতাস জানালার ফাঁক গলে ভেতরে ঢুকছে, এই হালকা শীতল পরশে যে কারো মন ফুরফুরে হয়ে উঠবে। দুই পাশে ছায়া ফেলে রেখেছে কাশফুলের সাদা সারি, হাওয়ার দোলায় দুলতে দুলতে যেন গাড়ির সঙ্গেই ছুটছে তারা।
❝ব্লাড হাউন্ডস!!❞
অনেক অবাক হয়ে শব্দটা একত্রে উচ্চারণ করলো জুই আর তার দুই বান্ধবী মিনা এবং সোমা।আবির একই তালে মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলো,
–হ্যা ব্লাড হাউন্ডস।
গাড়ির বেক সিটে বসে আছে জুই,সোমা আর মিনা।ফ্রন্ট সিটে বসে আছে আবির আর আরমান।আরমান খুব মনযোগ দিয়ে ড্রাইভিং করছে।সে বোনকে প্রাইভেটে দিয়ে আসতে যাচ্ছে। ইদানীং জুইকে একা ছাড়া হয় না।কিভাবেই বা ছাড়বে এই কদিনে এখান থেকে রাতারাতি চারটা মেয়ে নিখোঁজ।এদিকে এই ঘটনার পর আবার শেখ বাড়ির সকলের মনে পড়ে গেছে আজ থেকে প্রায় তিন চার বছর আগের ঘটনার কথা।তাই আর কেউ রিস্ক নিতে চাইছে না।এই জন্যই জুইদের প্রতিদিন কেউ না কেউ দিয়ে যায়।আবার পড়া শেষ হলে নিয়ে যায়।আজ বাড়িতে আরমান থাকায় সে ওদের দিয়ে আসতে যাচ্ছে। সেই তখন থেকে আবির জুইদের এটা ওটা বলে ভয় দেখিয়ে যাচ্ছে।
–ব্লাড হাউন্ডস এটা আবার কেমন শব্দ?
জুইয়ের ভয়ে চুপসে যাওয়া ফেইস দেখে মনে মনে কিছুটা হাসলো আবির।তারপর স্পুকি টোনে অর্থাৎ ভীতিকর সুরে আবার বললো,
–ঠিক শুনেছ।ব্লাড হাউন্ডস, ব্লাড অর্থ রক্ত আর হাউন্ডস হচ্ছে শিকারী কুকুর।সম্পূর্ণ মানে দাঁড়ায় রক্তের গন্ধ শুঁকে শিকারকে যেখানেই থাকুক না কেন খুঁজে বের করা।আর কু*খ্যাত মাফিয়া টেরোরিস্টরা ঠিক তেমনই।ওদের হাত থেকে শত্রুরা সহজে পার পায় না।গর্তে লুকিয়ে থাকলেও ব্লাড হাউন্ডসের মতো টেনে হিঁচড়ে সেখানে থেকে বের করে আনবে।যেমন আন্ডারওয়ার্ল্ডের শক্তিশালী মাফিয়া টেরোরিস্ট গ্রুপ ব্ল্যাক ভে-নম।
–ব্ল্যাক ভে-নম!!!
আবার অবাক হয়ে তিন বান্ধবী এক সাথে বলে উঠলো।এবারও ওদের ভয় পাওয়া দেখে আবির পুনরায় ঠোঁট টিপে হাসলো।তারপর আগের ন্যায় স্পুকি টোনে বললো,
–হুম ব্ল্যাক ভে-নম।এটা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত টেরোরিস্ট গ্রুপ। স্মাগলিং, অস্ত্র পাচার, মাদক, নারীপা*চার সহ এমন কোনো কাজ বাকি নেই যে তারা করে না।
জুই একটু ঠোঁট ভিজিয়ে বললো,
–নারীপা*চারও করে??
–হুম মেয়েদেরকে বোকা বানিয়ে বিভিন্ন কিছুর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের সাথে নিয়ে যায়।তারপর বেঁচে দেয়।
জুই ভয়ে ভয়ে বান্ধবীদের সাথে চোখাচোখি করে আমতা আমতা করে বললো,
–তা তারপর?
আবার জোরে শ্বাস ফেলে বললো,
–তারপর আর কি, বড়বড় মাফিয়াদের ক্লাবের প্রোস্টিটিউট বানিয়ে দেয়।তারপর আ,,,,,,,
বাকি কথা শেষ করতে পারলো না আবির।আরমানের কড়া চোখের দৃষ্টি লক্ষ করেই মাঝ পথে থেমে গেলো।জুইরা এখানো চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে আবিরের দিকে।আবির মৃদু হেসে সোজা হয়ে বসলো।এতক্ষণ ঘার বাকিয়ে কথা বলতে বলতে ঘার ব্যাথা হয়ে গেছে।জুই বেশ কিছুক্ষণ পরেও উত্তর না পেয়ে আবার প্রশ্ন করবে তখনই আরমানের কন্ঠ কানে আসে,
–যেভাবে দিয়ে আসবো সেভাবেই থাকবি। একদম বাদর গিরি করবি না।ছুটির শেষে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবি। বাড়ির গাড়ি এসে নিয়ে যাবে।
–একদম ঠিক বলেছেন স্যার।দিনকাল ভালো না।দরকার পড়লে আমি এসে বাড়িতে দিয়ে আসবো।
আবিরের কথায় আরমান সরু চোখে তার দিকে তাকালো।আবির মাথা চুলকে দাঁত বের করে দিলো।আরমান গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করলো,
–সকাল সকাল আমাদের বাড়িতে আসার কারণ কি?
আবির গলা খাঁকারি দিয়ে বললো,
–ঐ আরকি আপনাকে নিয়ে যেতে এসেছিলাম।
আরমান চোখ সরু করে তার দিকে তাকিয়ে ড্রাইভিং এ মনযোগ দিলো।পিছন সিট থেকে জুই বললো,
–ভাইয়া জাহান আপু কবে আসবে?তুমি না বলেছিলে নিয়ে আসবে।কই আনছ না তো।
–সময় হলে নিজেই চলে আসবে,,,
ঘড়ির কাঁটা টিকটিক শব্দ করে দশের ঘরে আসলো।অথচ আমার রুমে এখনো সূর্যের আলো এসে পৌছায় নি।পৌঁছেবেই বা কি করে,রুমের সকল দরজা জানালা বন্ধ।ফলে পুরো রুম মৃদু অন্ধকারাচ্ছন্ন।সারা রুম কাঁপিয়ে লাউডলি মিউজিক চলছে ,,,
A lucky, lucky girl
She got married to a boy like you
She’d kick you out if she ever, ever knew
‘Bout all the – you tell me that you do.
এই আধো অন্ধকারাচ্ছন্ন রুমে কাউচে শিথিল হয়ে বসে বলিষ্ঠ দেহি পুরুষ ইফান চৌধুরী।দৃশ্যমান তার ঢেউ খালানো বুক।পড়নের প্যান্ট বেলি বাটনের নিম্নাংশে নেমে আছে।তার সামনে টি টেবিল, যেখানে নিখুঁতভাবে সাজানো বেশ কিছু নামিদামি ব্র্যান্ডের হুইসকির বোতল।সেখানে আসেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সাদা পাউডারের মতো কিছু, যা কিছুক্ষণ পর পর নাকের সাথে ঘষছে।মনে তো হচ্ছে ড্রা*গস।সেগুলোর এক পাশে তার দু’পা ক্রস করে তুলে রেখে বারবার নাড়াচাড়া করছে।তার এক হাতে একটি চকচকে Rocks Glass, তা হালকা নাড়িয়ে যাচ্ছে।ফলে হুইসকি ধীরে ধীরে ঘূর্ণায়মান হচ্ছে।আরেক হাত দিয়ে ঠোঁটের ফাঁকে থাকা সিগারেটের শলাকাটা নিয়ে উপর দিকে মুখ ভর্তি ধোঁয়া কুন্ডলী ছাড়লো।অতঃপর ক্রস করা পা টা সোজা করে আমার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো।সিস্টেমে লাউডলি গান চলছে,
Dirty, dirty boy
You know everyone is talking on the scene
I hear them whispering ’bout the places that you’ve been
And how you don’t know how to keep your business clean.
ড্রেসিং টেবিলের উপর বসে আছি আমি।তবে নিজের ইচ্ছেয় নয় ইফান কু*ত্তার বাচ্চার জন্য। আমার দেহে এক সুতা পরিমান কাপড়ও নেই। হাত দু’টো ইফানের টাই দিয়ে ড্রেসিং টেবিলের মাথায় বাঁধা। ফেলে রাখা শাড়ি দিয়ে পা দু’টোও বাঁধা।মুখে টেপ লাগানো।শুধু অবশিষ্ট আছে চোখ দু’টো।আমার নিচের অংশ ব্লাড দিয়ে মেখে একাকার। আমি না পারছি নিজেকে মুক্ত করতে আর না পারছি চিৎকার চেচামেচি করতে।উপায়ন্তর না পেয়ে ক্ষ্যাপা দৃষ্টিতে ইফানের দিকে সেই ভোর বেলা থেকে তাকিয়ে আছি।ইফান কখনো মদ খাচ্ছে, কখনো সিগারেটে টান দিচ্ছে আর আমাকে দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হাসছে।প্রথমে তল পেটে ভিষণ ব্যথা করছিলো।আর এখন বন্দি অবস্থায় সারা শরীর ব্যথায় জর্জরিত।এতটা বিধস্ত অবস্থায় আমি নিজেকে কখনো কল্পনাও করিনি।সারা শরীরে অসংখ্য কামড় আর আঁচড়েরর দাগ।ইফান এখনো আমার দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গার্থক হাসছে।এখনও সিস্টেমে বাজছে Unholy গানের সুর,
Mummy don’t know daddy’s getting hot
At the body shop, doing something unholy
He’s sat back while she’s dropping it, she be popping it
Yeah, she put it down slowly
Oh-ee-oh-ee-oh, he left his kids at
Ho-ee-oh-ee-ome, so he can get that
Mummy don’t know daddy’s getting hot
At the body shop, doing something unholy (woo)
ইফান হুইস্কির গ্লাসে আরেকটা ছোট্ট চুমুক দিয়ে উঠে দাঁড়াল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে অলস ভঙ্গিতে শরীর টানা দিলো।ওর বুকে সকালে আবার নতুন করে ওয়ান টাইম বেন্ডেজ লাগিয়েছে।মাথার গজটা রাতেই টেনে খুলে ফেলেছে।ইফানের গা জ্বালানো হাসি দেখে ওকে এক্ষুনি মেরে ফেলতে ইচ্ছে করছে।রাগের তোড়ে আমার শরীর রিরি করছে।এই মূহুর্তে নিজেকে ছাড়াতে পারলে নিশ্চয়ই আজ আমার হাতে ওর মরণ নির্ধারিত। ইফান জিহ্বার আগা দিয়ে গাল ঠেলতে ঠেলতে__হেলেদুলে আমার কাছে এসে দাড়াল।আমি চোখ গরম করে তাকিয়ে জোরে জোরে শ্বাস ফেলছি।ফলে আমার বুকও সমান তালে উঠানামা করছে।ইফান এটা কিছুক্ষণ মনযোগ দিয়ে দেখে,বুকের নিচের তিলটায় তার খরখরে ঠোঁট শুইয়ে শব্দ করে চুমু দিলো।আমি নিজেকে ছাড়ানোর জন্য বৃথা চেষ্টা করছি না।ইফান আমাকে উপর থেকে নিচ একবার জহরি চোখে পরক করলো।আমার পা-ফ্লোর রক্তে মাখামাখি। ইফান তপ্ত শ্বাস ছেড়ে আমার মাথা তার বুকের ক্ষত স্থানের উপর রাখলো।তারপর হাস্কি স্বরে বললো,
–খুব কষ্ট হচ্ছে জান?
কিছু সময় পেড়িয়ে গেলেও যখন আমার উত্তর পেলো না তখন ইফান তার বুক থেকে আমাকে সড়িয়ে আমার মুখের দিকে তাকালো।এসির মধ্যেও আমি ঘেমে একাকার। বাবরি চুলগুলো কপালে চোখে মুখে লেপ্টে আছে।ইফান লেপ্টে থাকা চুলগুলো সরিয়ে সারা মুখে হাত বুলিয়ে ঘামটা মুচে নিলো।অতঃপর মুখ থেকে টেপ টা খুলে দিতেই আমি জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে হাঁপাতে থাকলাম।ইফান আমর চুলের ভেতর দিয়ে হাত দিয়ে ঘারে ধরে তার কাছে টেনে নিতেই বাঁধা হাত দু’টো তে টান পড়ে। আমি মুখ তুলে ওর মুখে এক দলা থুতু মেরে অশ্রাব্য ভাষা ছাড়লাম,,,
–চুদির ঘরের চুদি সাহস থাকলে হাত দুইটা খুলে দে, তর গুডা দুইটা পানিতে গুলে তরেই খাওয়াইয়াম।
আমি থুতু নিক্ষেপ করতেই ইফান চোখ দুটো কুঁচকে নিলো।অতঃপর হাত দিয়ে মুখের থুতুটা মুছে আমার দিকে অগ্নি চোখে তাকালো।গালে হাত দিতেই আমি আরেক পাশে মুখ ফিরিয়ে নিলম।ইফান চোখ সরু করে আমাকে দেখে ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো।তারপর দুগাল চেপে ধরে জোর করে তার দিকে ঘুরালো।ইফান আমার কানে ঠোঁট ছুঁইয়ে হাস্কি টোনে বললো,
❝মাই ডিয়ার ফা*কিং বুলবুলি, কতবার বলেছি সোনা আমার সাথে তেজ দেখাবা না।তাও এমন কর কেন?❞
আমি তৎক্ষনাৎ দাঁত কিরমির করে প্রতিত্তোর করলাম,
❝তর পা*ছা মারা খাওয়ার জন্য।❞
ইফান নিজের ঠোঁট কামরে ধরলো__উফফ ঝাঁঝওয়ালি কি শুনালে এটা শরীরের সব লোম দাঁড়িয়ে গেছে।
আমি আর পারছি না।সত্যি আর পারছি না।ইচ্ছে তো করছে ওকে কাঁচা চিবিয়ে খাই।এরই মাঝে ইফান আমার হাতের বাধন খুলছে।তারপর ওর হাতের বাঁধনে আটকে রেখে চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসিয়ে বললো,
–এটাই লাস্ট বার ওয়ার্ন করছি বুলবুলি।আমি বেঁচে থাকতে তোর মুখে যেন আর কোনোদিন অন্যকোনো পুরুষের নাম না শুনি।
ইফানের কথাটা শুনেই ভোরের কথা মনে পড়ে গেলো।
ইফান তখন ফোন কল শেষ করে নিজের বুকের ড্রেসিংটাও করে।আমি তখনো দুর্বল শরীর নিয়ে বেঘোরে ঘুমোচ্ছিলাম।ইফান আস্তে আস্তে আমার উপর ঝুঁকে পড়ে।অতঃপর আমার ক্লান্ত মলিন চেহারাটায় প্রায় দুই ঘন্টার মতো একই ভাবে তাকিয়ে থাকে।জানি না এতক্ষণ আমার মাঝে কি খুজছিলো।সে বারবার ঢোক গিলছিলো।তার চাউনি তে ছিলো একরাশ কোমলতা।আস্তে আস্তে ইফান ওর সিগারেটে পোড়া ব্রাউন কালার ঠোঁট দু’টো আমার কপালে রাখলো।ঠিক তখনই ঘুমের ঘরে আচমকা অস্পষ্ট স্বরে বললাম,
❝জায়ান ভাই__❞
আমার অস্পষ্ট ভাবে বলা শব্দটা বুঝতে দেরি হলো না ইফানের।মূহুর্তেই ইফানের চেহারার সকল কোমলতা উড়ে গিয়ে অগ্নি বর্ণ ধারণ করলো।ঘুমের মধ্যেই এক থাবা মেরে, টেনে হেচরাতে হেচরাতে ড্রেসিং টেবিলে এনে বেঁধে রেখেছে।
–আর যদি তুই’ই বেঁচে না থাকিস।
আমার কথা শেষ হতে না হতেই ইফান আমার ঠোঁট নিজের ঠোঁটের দখলে নিয়ে পাঁজা কোলে তুলে নিলো।আমি ব্যথায় জর্জরিত দুর্বল হাতে ওকে ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করছি।ইফান কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমার ঠোঁট ছেড়ে হাস্কি স্বরে বললো,
–আমি না থাকলে তোমারও অস্তিত্ব থাকবে না সুন্দরী।
এটুকু বলে ইফান আবার আমার ওষ্ঠের ভাজে ডুব দিলো।সেভাবেই ওয়াশরুমের দিকে নিয়ে গেলো।
ইফান আমাকে বাথটবে রেখে তড়িঘড়ি করে গায়ে একটা শার্ট জড়িয়ে রুম থেকে বের হতেই ইতি আর পলি দরজায় এসে হাজির।সকাল থেকে একবারও আমাকে নিচে নামতে না দেখে তারাই উপরে এসেছে খোঁজ নিতে।যেহেতু ইফানও সকাল থেকে একবারও নিচে নামে নি তাই একা কেউ আসতে চায়নি আমার রুমে।সেজন্যেই দুজন এক সাথে ভয়ে ভয়ে এসেছে।ইফান সবে রুমে লক লাগাতে যাচ্ছিল তখনই ওরা হাজির। পলি ইতির পশ্চাতে হালকা চিমটি দিয়ে মনে করিয়ে দিলো আমার কথা জিজ্ঞেস করতে।ইতি তৎক্ষনাৎ একটা ঢুক গিলে বললো,
–ভা ভাইয়া ভাবি কি রুমে।
ইফান কপালে দুই আঙ্গুল ঘষে বললো,
–হুম গিয়ে বস, ও শাওয়ার নিচ্ছে।
পলি আর ইতি ঝটপট রুমে ঢুকতে নিতেই পেছন থেকে ইফান শক্ত গলায় বলে,
–আমি না আসা পর্যন্ত ঘর থেকে এক পা বের হবি না।আর কেউ যেন রুমে ঢুকতে না পারে।
ইতি আর পলি মাথা নাড়িয়ে হ্যা বলতেই ইফান তাড়াতাড়ি স্থান ত্যাগ করলো।
আমাদের রুমে ঢুকতেই পলি আর ইতির চোখ কপালে।পুরো বিছানা জুড়ে ব্লাডে ছোপ ছোপ হয়ে আছে।পলির বিষয়টা বুঝতে দেরি হলো না।তক্ষুনি হাঁপ সাপ শুরু করলো ইতির সামনে।ইতি আশ্চর্য হয়ে পলিকে বললো,
–ও পলি ভাবি বিছানা লাল হয়ে আছে কেন জাহানারা ভাবির কি ঘুমের মধ্যেই মিন্স হইসে। হায়হায় সবটা বিছানা ময়লা হয়ে গেছে। ইসস আমার মনে হচ্ছে এসব দেখেই ভাইয়া লজ্জায় একটু আগে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেছে।
ইতির কথা শুনেই খুকখুক করে কেশে উঠলো পলি।তখনই ইতির নজরে পড়ে ড্রেসিং টেবিলের সামনের রক্ত মাখা ফ্লোর। ইতি আঁতকে উঠে লাফ মেরে পলির পেছন চলে গেলে।পলি সেদিখে একবার তাকিয়ে দেখলো খুব বাজে অবস্থা রুমের।সেও এখন বুঝতে পারছে না কি থেকে কি।তারপর দশ মিনিট পেড়িয়ে গেলো ওয়াশরুম থেকে আমাকে বের হতে না দেখে ইতি দরজার সামনে এসে ডাকলো,
–ও ভাবি এখনো তোমার গোসল হয়নি?
আমি ভেতর থেকে মৃদু আওয়াজে উত্তর করলাম,
–বোন ওয়ার্ডরোব থেকে আমার কাপড়গুলো দাও তো সোনা।
ইতি লাফিয়ে একটা শাড়ি ব্লাউজ আর পেটিকোট দরজার ফাঁক দিয়ে ভেতরে ধরলো।তখন সে ভেতরে তাকাতে নিলে আমি বারণ করে বললাম,
–ইতি ভেতরে কাউকে আসতে দিও না। আমি কাপর-চোপর খুলে শাওয়ার নিচ্ছি।
–তুমি কোনো টেনশন করো না ভাবি। পলি ভাবি আর আমি থাকতে কেউ ভেতরে আসতে পারবে না।
আরও দশ মিনিট পেরিয়ে গেল, আমি ধীরে সুস্থে শাওয়ার নিচ্ছি।পলি আর ইতি কাউচে বসে আমাদের অগোছালো রুমটা পরক করছে।তখনই তারাহুরো করে রুমে প্রবেশ করে ইফান।তার হাতে একটা শপিং ব্যাগ।ইফান কোনো দিক না তাকিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগোলো।ইফানের আচমকা আগমনে ধরফরিয়ে উঠলো ইতি আর পলি।ইফানকে ওয়াশরুমের দিকে যেতে দেখে ইতি এক দৌড়ে ওয়াশরুমের দরজার আঁকড়ে ধরলো।ইফান ইতির হঠাৎ এমন কাজে কপাল কুঁচকালো।তখনই ইতি বলতে লাগলো,
–ভেতরে যাওয়া যাবে না ভাইয়া,ভাবি গোসল করছে।
ইফান ইতির কথা কানে তুলার প্রয়োজন মনে করলো না।বরং ওর ডানায় ধরে দরজার সামনে থেকে সরাতে নিলে ইতি রুম কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো,
–ও ভাবি ভাবি গো তাড়াতাড়ি কাপড়চোপড় পড়।ভাইয়া জোর করে ভেতরে ঢুকতে চাইছে,,,
ইফান চোয়াল শক্ত করে ইতিকে ধমক দিলো,
–স্টুপিট সর সামনে থেকে,,,
–না না, সরা যাবে না।এটা ভাবির মানসম্মানের প্রশ্ন।
ইফানের চোয়াল আরও শক্ত হয়ে আসলো।এদিকে ঘরের এক কোণে পলি কখন থেকে দাঁড়িয়ে ইশারাই ইতিকে থামতে বলছে।কিন্তু মেয়েটা থামার নামই নিচ্ছে না।পলি ইতির এমন বাচ্চামতে ভিষণ লজ্জায় পড়ে গেলো। ইফান সামনে থাকায় পাড়ছে না বাচ্চা মেয়েটাকে টেনে নিয়ে যেতে।ইফান বেশ কয়েকবার বলার পড়েও দরজা ছাড়ছে না মেয়েটা।শেষে ইতিকে জোর করে সরাতে নিলে পুনরায় ইতি চেচিয়ে বলতে লাগলো,
–ও ভাবি তাড়াতাড়ি কর, ভাইয়া আমার কথা শুনছে না।তাড়াতাড়ি কাপড় পড়ে নাও,,,
এক পর্যায়ে ইফান অবুঝ ছোট বোনের কাছে হার মেনে নেয়। রুম থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার আগে হাতের শপিং ব্যাগটা দিয়ে বলে,
–বোইন মাপ চাই তোর কাছে।নে এটা অন্তত আমার বউয়ের হাতে তুলে দিস।
ভেবেছিলাম ধীরে সুস্থে শাওয়ার নিব।তা আর হয়ে উঠলো না চেঁচামেচির কারণে।তাই পাঁচ মিনিটের মধ্যে বেড়িয়ে আসলাম।ইতি তখন দরজা ঘেরাও করে ধরে ছিলো।ইফান চলে যাওয়ার পর পলি কতবার বুঝাতে চেয়েছে স্বামী স্ত্রী এক সাথে থকালে কিছু হবে না।অবুঝ ইতি কানে তুললো না পলির কথা।সে আমার তখনকার বলা কথায় ধরে বসে আছে।তার কথা অনুযায়ী, “বড় ভাবি উনার সম্মান আমার হাতে তুলে দিয়েছে।এখন উনার সম্মান প্রটেক্ট করা আমার দায়িত্ব। “
আমি ওয়াশরুম থেকে বের হতেই ইতি খুশিতে গদগদ করতে করতে বললো,
–ও ভাবি ভাবি গো, আজ আমি না থাকলে কি হতো বল তো?
ইতির কথায় পলি ঠোঁট চেপে হাসছে। আমি আর কি করবো__ছোট্ট ননদের কথায় মৃদু হেসে উত্তর করলাম,
–তাই তো, তাই তো।তুমি না থাকলে তো তোমার ভাই আমার সব দেখে ফেলতো।
আমাদের কথার মাঝে আমার ভাইব্রেট করা ফোনটা বেজে উঠলো।পলি বেড সাইট থেকে ফোনটা আমার হাতে দিলো।আমি ফোনটা হাতে নিয়ে দেখি তন্নির কল এসেছে।দেরি না করে ফোনটা কানে ধরলাম। ফোনের ওপাশ থেকে তন্নি কি বললো এটা আমি ছাড়া আর কেউ শুনতে পায় নি।তবে মূহুর্তেই আমার চেহারায় চিন্তার চাপ ফুটে ওঠে। আমি অবাক হয়ে তন্নিকে বললাম,
❝কিহ্? মাঝ রাত থেকে মুক্তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!!!❞
চলবে,,,,,,
(মাত্র লেখা শেষ করে পোস্ট করলাম। আমি যে কি পরিমাণ ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি বলে বুঝাতে পারবো না।তোমরা গল্পের অপেক্ষায় থাকবে বলে এটুকু ঝটপট লিখে ফেললাম।যদিও এই পর্বটা আরও বড় করে গুছিয়ে লিখতাম।কি আর করার নেক্সট পর্বে বাকিটা পাবে🥲💝)
জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :৩২
আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, অদ্ভুত এক স্বপ্নের জগতে ঘুরে বেড়াচ্ছি।সেই কখন থেকে আমার সুন্দর স্বপ্নে কেউ ব্যাঘাত দিয়ে যাচ্ছে অনবরত।
–জায়ান ভাইয়া চলে এসেছে আপুওওও…
জায়ান ভাইয়া,নামটা কানে পৌঁছাতেই মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে উঠলো।আমি আর কোনো কিছু না ভেবেই লাপ মেরে উঠে বসলাম।আমার পড়নে একটা ওভার সাইজ গেঞ্জি আর প্লাজু।ঘুমের মধ্যে প্লাজুর এক পা কখন যে হাঁটুর অনেক টা উপরে ওঠে এসেছে সে খবর আমার নেই।কোমর ছুঁই ছুঁই চুল গুলো জট পেকে পাগলের মতো দেখাচ্ছে।
জানালার ফাঁক গলে সূর্যের তীর্যক সোনালি রশ্মি আস্তে আস্তে ঘরে ঢুকে পড়ছে। সেই আলো এসে পড়ছে বিছানার চাদরে, মুখের উপরও ঝিকমিক করছে হালকা উষ্ণতা নিয়ে।আমি মুখের সামনে এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকা চুল গুলো কানে গুজে দিতে দিতে উদগ্রীব হয়ে বলতে লাগলাম,
–জায়ান ভাই এসে গেছে?জায়ান ভাই এসে গেছে?
বিছানার সামনে দু’হাত কোমরে ধরে দাঁড়িয়ে আছে সিক্সে পড়োয়া জুই।সেই কখন থেকে মেয়েটা আমাকে চিৎকার করে ডেকে যাচ্ছে। অথচ আমার ঘুম ভাঙার নাম গন্ধই নেই। তাই বিরক্তিতে নাকের পাঠা ফুলিয়ে রেখেছে।আমার এমন কথায় তার বিরক্তি আরও বাড়লো,
–না আসে নি, এলো বলে।তুমি কি উঠবে নাকি উঠবে না।না উঠলে না উঠ, আমি গেলাম।
জুই চলে যেতে নিলেই বিছানা থেকে লাপ দিয়ে নেমে, জুইয়ের হাত খপ করে ধরে নিলাম।
–আরে বনু এমন করছিস কেন উনি কি এসে গেছে?
–উনিইইইইই,,,,,,
আমার কথার পাছে আরও কয়েকটা কন্ঠ ভেসে আসে।আমি সামনে মাথা তুলে তাকাতেই দেখি কবিতা আপু আর জিয়াদ দাঁড়িয়ে।ওরা ঠোঁট টিপে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে।আমার আব্বুর বড় ভাই মাহবুব শেখের মেয়ে কবিতা শেখ।আর তার ছোট ভাই নাইম শেখ জিয়াদ।সে এবার ক্লাস নাইনে উঠেছে।আমি যে জায়ান ভাইকে ছোট থেকে পছন্দ করি সেটা এই তিনজনই জানে।তাই আমাকে খুঁচাতে একটা সুযোগও হাত ছাড়া করে না।কবিতা আপু আমার দু বছরের সিনিয়র, এবার অনার্স ফাস্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে।তবুও আমরা এতটা ক্লোজ, যে কেউ দেখে বলবে সমবয়সী।কবিতা আপু এগিয়ে এসে আমার কাঁধে হাত রেখে মজা করে বললো,
–কিরে জান্নু ভাইয়া তো এলো বলে,ফিলিংস কেমন?
আমি একটা ঢুক গিলে,হাতের নখ কামড়াতে কামড়াতে বললাম__প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠার পর যেমন থাকে আরকি,,,
আমার কথা শুনে তিনজনই একসাথে বলে উঠলো __আজকেও!!!!
আমি আর এখানে দাড়ালাম না।এক দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লাম। এখানে দাড়িয়ে থাকলেই আমাকে নিয়ে মজা নিবে।কারণ আমি যে আজও স্বপ্নে জায়ান ভাইয়ের সাথে বাসর করেছি সেটা ওরা এতক্ষণে বুঝে ফেলেছে।শুধু বাসরই নয় স্বপ্নে আমাদের একটা মেয়ে বাবুও হয়েছে। আমার ছোট্ট হৃদয়ে যবে থেকে জায়ান ভাই নামক মানুষ টা গেঁথে গেছে তবে থেকেই তাকে নিয়ে রাতদিন জেগে স্বপ্ন দেখে যাচ্ছি।বয়সের সাথে সাথে তাকে নিয়ে স্বপ্নগুলো আরও গভীর থেকে গভীর হতে থাকে।
ষোল পেড়িয়ে এখন আমি সপ্তদশে পা দিয়েছি। কিছুদিন আগে আমার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট এসেছে, আমি আর্টস থেকে এ প্লাস পেয়েছি।আমার রেজাল্টের খুশিতে সেদিন সকলে আমাকে অনেক উপহার দিয়েছে।কিন্তু জায়ান ভাইয়ের থেকে উপহার তো দূর একটা উইশও পাইনি।জায়ান ভাই মানে আমার বড় আব্বুর বড় ছেলে জায়ান শেখ নীরব।তিনি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার।গত দশ বছর যাবত ফ্রান্সের প্যারিসে আছেন।সেখানেই স্টাডি কমপ্লিট করে উনার কাজের পাশাপাশি আমাদের শেখ বাড়ির বড় বিজনেসের তদারকি করে যাচ্ছেন।
সেদিন রাতে আমি না খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।আমার ছোট্ট হৃদয়ে জমা হয়েছিল এক আকাশ পরিমাণ অভিমান।জায়ান ভাই দেশ ছাড়ার পর তেমন একটা কথা হয়নি আমার সাথে। শুধু আমার সাথেই না, এই বাড়ির সকলের সাথেই যোগাযোগ কমিয়ে দেয়।তারপরও সবার সাথে যতটুকু কথা হয় তার এক ভাগও আমার সাথে হয় নি।হঠাৎ হঠাৎ কথা হয় তাও আবার আমি সালাম দিলে উত্তর দেয় আর কেমন আছিস এটুকু জিজ্ঞেস করে।সেইদিন এসব ভেবে কাঁদেকুটে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।আর যখন ঘুম থেকে উঠি তখনই চোখ কপালে উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়।আমার বেডের উপর থেকে শুরু করে ফ্লোরে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোট বড় গিফটের বক্স।আমি আনন্দে চিৎকার করে উঠলাম। তখনই আবার চোখ পড়ে মাথার সাইটে একটা মেরুন শেডের গিটার দেখে।আমার কত শখ ছিলো একটা গিটার কিনার।কতবার সবাইকে বলেছি একটা গিটার কিনে দাও, একটা গিটার কিনে দাও। কিন্তু কেউ দেয় নি।বলেছে,
–জাহান আম্মু এসব নিয়ে পড়ে থাকলে পড়াশোনা হবে না মা।আর তুমি তো বাজাতেও পার না।এখন গিটার কিনে কি করবে।এসএসসি পরীক্ষা দাও ভালো রেজাল্ট করলে কিনে দিবো।
আমি আমার আরেক পাশে থাকা একটি গিফট বক্স ঝটপট খুলতেই মুখ হা হয়ে যায়।কিছু দিন আগে আইফোন ফরটিন প্রোম্যাক্স লঞ্চ হয়েছে।এদিকে আমার পার্সোনাল বলতে কোনো ফোনই ছিলো না, বর্তমানে আইফোন ফোরটিন প্রম্যাক্স আমার হাতে।সেদিন তো আমি খুশিতে আত্মহারাই হয়ে পড়েছিলাম।আর তারপর ফোনে কিস করতে করতে কতবার যে বলেছি,
–জায়ান ভাই ভালোবাসি, আপনাকে খুব খুব খুব ভালোবাসি।
শেখ বাড়িতে হৈ-হুল্লোড় পড়ে গেছে।বড় আব্বু, আমার আব্বু আর জিতু ভাইয়া, জায়ান ভাইকে আনতে গেছে। বড় আম্মু হেনা বেগম আর আম্মু হালিমা বেগম হাতে হাতে রান্নাঘরের কাজ সারছেন।এই বাড়ির প্রথম সন্তান জায়ান ভাই।এতদিন পর বাড়িতে আসছে তাই বাড়িতে খুশির সীমা নেই।কবিতা আপু আর জুই ড্রয়িং রুমে বসে আছে তাদের অপেক্ষায়।
কিছুক্ষণের মধ্যেই শেখ বাড়ির মূল ফটকের সামনে এসে থামলো পর পর তিনটে গাড়ি।প্রথম দুটো থেকে বেড়িয়ে আসে আব্বু, বড় আব্বু আর জিতু ভাই। ওরা গাড়ি থেকে নামতেই বেড়িয়ে আসে সুট কোট পরহিত ডেসিং লুকে জায়ান ভাই। উনার মায়াবী চোখ দুটো রৌদ চশমার আড়ালে ঢাকা।কানে ইয়ারপড গুঁজা।তিনি কারো সাথে কথা বলতে বলতে গাড়ি থেকে নেমেছেন। তারপর হাত ঘড়িটায় একবার চোখ বুলিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলো।জায়ান ভাই ভেতরে আসতেই বড় আম্মু আর আম্মু কান্নায় ভেঙে পড়লো।এক এক করে উনি সকলের সাথে ভালোমন্দ কথা বললেন।কথা বলার ফাঁকে একবার পুরো ড্রয়িং রুম আরেকবার দোতলায় দৃষ্টিও ঘুরালেন।জিয়াদ উনার সাথে কথা বলে ছুটলো দোতলার দিকে।
আমি আয়নার সামনে দাড়িয়ে শেষ বারের মতো নিজেকে দেখে নিলাম।আজ আমি জায়ান ভাইয়ের দেওয়া গিফট থেকে একটা পার্পল কালার গাউন পড়েছি।এই রংটা মানুষটার খুব পছন্দের।হাতে কয়েকটা একই কালার রেশমি কাচের চুড়িও পড়লাম।হঠাৎ কপালের দিকে নজর পড়তেই ঝটপট একটা ছোট্ট টিপ পড়ে নিলাম।এবার আমাকে একেবারে পার্ফেক্ট লাগছে। নিচে অনেক চেচামেচি হচ্ছে বোধহয় জায়ান ভাই চলে এসেছে।তক্ষুনি আমার রুমে দৌড়ে আসে জিয়াদ।
–আরে জাহানাপু ঐদিকে ভাইয়া কখন চলে এসেছে আর তুমি এখনো রুমে?
আমি জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললাম__উনি চলে এসেছে হ্যা?
আমার কথায় বেশ বিরক্ত হলো জিয়াদ__তাহলে কি আমি মিথ্যা কথা বলছি?
আমার কি পরিমাণ অস্বস্তি হচ্ছে বলে বুঝানোর মতো না।ভাবতেই লজ্জা লাগছে লোকটার সামনে কিভাবে গিয়ে দাঁড়াবো।তবুও নিজেকে কিছুটা শান্ত করে বললাম,
–আমাকে কেমন লাগছে রে?
–ঐটা তোমার জামাই কে গিয়ে জিজ্ঞেস করো।
জিয়াদ আমাকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলো।রুমের বাইরে বের হতেই দেখি জুই কোমরে ধরে দাঁড়িয়ে আছে।আমি কিছু বলতে যাব তার আগেই সে বললো,
–জাহানপু সবাই কথা বলে ফেলেছে আর তুমি এখনো এখানে,,,
আমি আর এক মূহুর্ত দেরি করলাম না।এক ছুটে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অবশেষে মুখ থুবড়ে পড়লাম।সাথে সাথে সকলের দৃষ্টি আমার দিকে ঘুরে যায়।কবিতা আপু আমাকে টেনে দাঁড় করায়।সকলের সামনে পড়ে গিয়ে লজ্জায় মরি মরি অবস্থা। তবুও এক চোখ বন্ধ করে আরেক চোখ খুলে সোফার দিকে তাকাতেই লোকটার সাথে চোখাচোখি। কিভাবে কপাল কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি আর দাঁড়ালাম না চোখ বন্ধ করে রান্না ঘরের দিকে ছুটলাম।
আম্মু শরবত বানাচ্ছে আর বড় আম্মু রান্না করছে।আমি ভোঁতা মুখ করে কিচেন কাউন্টারের উপর বসে রইলাম।আমার সামনে কোমরে হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে কবিতা আপু,জিয়াদ আর জুই।জুই আমাকে ব্যাঙ্গ করে বললো,
–ছি ছি ছি, এমন একটা দবলি মাইয়া এভাবে সবার সামনে পড়লো।যা বুঝলাম, তোমার দ্বারা প্রেমটেম হবে না।
জিয়াদ কপাল চাপড়ে বললো,
–ঠিকই বলেছিস জুই। এই দবলি স্বপ্নেই বাসার করুক।বাস্তবে এর দ্বারা কিছুই সম্ভব না।
আমাদের কখন থেকে ফিসফিস করে কথা বলতে দেখে আম্মু গলা ছেড়ে বললো,
–কিরে তোরা এখানে কি করছিস হ্যা।বাইরে গিয়ে ভাইয়ের সাথে ভালোমন্দ গল্প কর গিয়ে যা।
কবিতা আপু আম্মু কে শরবত বানাতে দেখে হাতে থুড়ি বাজিয়ে বলে উঠলো,
–আইডিয়া,,,,,
আমরা তিনজন একসাথে বলে উঠলাম__কি কি?
কবিতা আপু আমাকে শিখিয়ে দিতে দিতে বললো__তুই শরবত নিয়ে যাবি।নিজের হাতে ভাইয়ার হাতে একটা গ্লাস তুলে দিতে দিতে কনভারসেশন স্টার্ট করবি ওকে।আর একদমই হেংলামি করবি না।অলওয়েজ স্মার্ট হয়ে চলাফেরা আর কথাবার্তা বলবি।
আমি খুশিতে গদগদ করতে করতে জোরে একটা শ্বাস ফেলে শরবতের ট্রে নিয়ে ড্রয়িং রুমের দিকে এগিয়ে গেলাম।পেছন থেকে উঁকি দিয়ে আছে কবিতা আপু, জিয়াদ আর জুই।আমি স্মার্টলি হেঁটে সকলের সামনে দাঁড়াতেই আব্বু আর বড় আব্বু হেঁসে দিলো।জায়ান ভাইয়া এখনো ফোনের দিকে তাকিয়ে, একবারো আমার দিকে তাকালো না।উনার এটেনশন না পেয়ে মনটা একটু খারাপ হয়ে গেলো।তখনই বড় আব্বুর গলা কানে আসে,
–আরে জাহান মা এসো এসো এখানে রাখ এখানে।তুমি নিয়ে আসতে গেলে কেনো? যদি নিয়ে পড়ে যেতে তাহলে তো ব্যথা পেতে।
–না বড় আব্বু আমি পড়বো না।
আমি লাজুক হেসে কথাটা বলে টি-টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলাম।তারপর আড় চোখ আবার জায়ান ভাই কে দেখে নিলাম।অতঃপর ঝুঁকে টি-টেবিলে ট্রেটা রাখতেই আচমকা অনেক শব্দ করে পুত আওয়াজ হলো।তৎক্ষনাৎ আমি ঠোঁট কামরে চোখ খিঁচকে বন্ধ করে নিলাম।এদিকে কিচেন থেকে উঁকি দেওয়া তিন শয়তান কপাল চাপড়ে আপসোসের আওয়াজ বের করে একে অপরকে বলছে,
–ছ্যা ছ্যা ছ্যা, ইজ্জত আর রইলো না।
আব্বু আর বড় আব্বু এদিকে এক বারও তাকিয়ে দেখলো না। বরং নর্মালি একে অপরের সাথে আলাপ করছে।জিতু ভাইয়া আমাকে একবার আড় চোখে দেখে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মাথা চুলকে ফোনে মনযোগ দিলো।এদিকে আমার পাদের শব্দ শুনে এক মূহুর্তের জন্য ফোনে টাইপিং করা হাতটা থমকে গেলো জায়ান ভাইয়ের।উনি একবারও ফোন থেকে দৃষ্টি সরালেন না।বরং পরক্ষণেই স্বাভাবিক ভাবে আগের মতোই ফোনে টাইপিং করতে লাগলেন।জনসম্মুখের সামনে পাদ মেরে আমর শরীর অবশ হয়ে গেছে। লজ্জায় মাটির নিচে ঢুকে পড়তে ইচ্ছে করছে।সামনে ক্রাশ বসে থাকায় কাঁদতেও পারছি না। এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জায়ান ভাই নিজের হাতের ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে শরবতের একটা গ্লাস তুলে নিতে হাত বাড়ালো।এদিকে আমি আর কোনোদিকে না তাকিয়ে উল্টো ভাবে সিড়ি দিয়ে ছুটলাম দোতলার দিকে।আমাকে এমন পাগলা ঘোড়ার মতো ছুটতে দেখে উনার বাড়ানো হাতটা থমকে গেলো।তিনি ঠোঁট কামড়ে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে রইলেন ।আমি আর সেসব দেখলম না।শুধু কানে আসলো জিতু ভাইয়ার হাঁক,
–বনু এভাবে দৌড়াস না পড়ে ব্যথা পাবি।
বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে বাচ্চাদের মতো কেঁদে ভাসাচ্ছি। ফলে সব সাজ নষ্ট হয়ে গেছে। চোখের কাজল লেপ্টে চোখের অবস্থা অসূচনীয়। বিছানার তিন কোনায় বসে আছে তিন শয়তান। সেই তখন থেকে আমাকে কথা শুনাচ্ছে। কবিতা আপু আপসোস করে বলছে,
–জান্নুরে এটা তুই কি করলি বোইন।ভাইয়ার সাথে হায় হ্যালো করার আগেই পেদে দিলি।
জুই কপাল চাপড়ে বলতে লাগলো,
–ছি ছি ছি তোর লজ্জা করলো না একবার সবার সামনে পাদু দিতে।ভাবতেই লজ্জা হচ্ছে তুই আমার বড় বোন।
জিয়াদ জরে জোরে শ্বাস ফেলে__ বুকে থাপড়াতে থাপড়াতে কবিতার সুরে বলতে লাগলো,
,,,,ভাইয়া এসেছে বিদেশ থেকে
জাহান আপু সেজেছে ভূত
সবার সামনে চা দিতে গিয়ে
পেদে দিয়েছে পুতপুত,,,,,
জিয়াদের এসব কবিতা শুনে আমি চেতে উঠলাম।তৎক্ষনাৎ একটা বালিশ ছুড়ে মারলাম ওর দিকে।তারপর আমিও ওকে খ্যাপাতে ওর মতো কবিতার সুরে বললাম,
,,,,,চিগা চিকচিক করে
চিগা হাফপ্যান্ট পড়ে
চিগার বউ নেই,
চিগা বি*ষ খেয়ে মরে,,,,,
মুহূর্তে জিয়াদ খেপে উঠলো।বর্তমানে ও একটা হাঁটু পর্যন্ত হাফপ্যান্ট আরেকটা গেঞ্জি পড়ে আছে।এই কবিতাটায় একমাত্র অস্ত্র ওকে খেপিয়ে তুলার।জিয়াদ রাগে গদগদ করতে করতে চেচিয়ে উঠলো,
–লজ্জা করে না তোমার,বাড়ি ভর্তি মানুষের সামনে পাদ মেরে এখন আমার বউ নিয়ে কথা বলতে।
আমিও রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললাম__না করে না।একটুও করে না,লজ্জা ঘেন্না ভয় তিন থাকতে নয়।আর এই তিনটায় আমার মধ্যে নেই।
এভাবেই কথা কাটাকাটি থেকে জিয়াদের সাথে মারামারি শুরু করে দিলাম।তখন কবিতা আপু চেচিয়ে উঠলো,
–অসভ্যের দল থাম বলছি।এখন এসব না করে কিভাবে ভাইয়াকে পটাবি সেই প্ল্যান কর।
কবিতা আপুর কথা শুনে আমরা থামলাম।অতঃপর সকলে মিলে একটা বৈঠক করলাম কিভাবে জায়ান ভাইকে ইমপ্রেস করা যায়।
আমি কিছুক্ষণ আগে যে সর্বনাশ করে আসলাম নিচে__তাই এখন আর নিচে যাওয়ার মুখ নেই। সেজন্য দোতলা থেকে লুকিয়ে জায়ান ভাই কে দেখতে লাগলাম।ইসস লোকটা এতটা মায়াবী চেহারার অধিকারী কেন?যে একবার দেখবে সেই পা পিছলে উনার প্রেমে পড়বে। বয়স আর কত ২৮ কি ২৯।শ্যামলা গায়ের রং তবুও এতটা আকর্ষণীয় যে আমি চোখ ফিরাতেই পারছি না।লোকটা কি সুন্দর করে আপেলের টুকরো তে ছোট্ট ছোট্ট কামড় দিচ্ছে। তারপর কি সুইটলি সেটা চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। কখনো ঠোঁট দিয়ে জিহ্বা ভিজিয়ে দিচ্ছে তো কখনো জিহ্বার ডগা দিয়ে গাল ঠেলছে।সাথে সকলের সাথে টুকটাক কথা বলছে।আমি বেহায়ার মতো সেই থেকে বড়বড় চোখ করে উনাকে গিলে খাচ্ছি।সাথে ঢুক গিলছি বারবার।আমি মুগ্ধ নয়নে উনার দিকে তাকিয়ে থেকে দুগালে দু’হাত ধরে গুনগুন করে গান গাইতে লাগলাম,
_দেখলে হাসে না,স্বপ্নে ভাসে না, নাম ধরে যে তার,ডাকলে আসে না, ,,,,,,কি করে পড়েছি যে দোটানায়,,,,,, হায় আল্লাহ! হায় আল্লাহ! করবো কি যে হায় এ ছেলের মনটা চুরি করবো কি উপায়🙈❤️🔥
হঠাৎই উনার চেহারা আরও গম্ভীর হয়ে উঠলো।কপালে কয়েকটি সুক্ষ্ম ভাজের সৃষ্টি হয়েছে।আমি মনে করেছি আমাকে কেউ দেখেনি। কিন্তু জায়ান ভাই প্রথমেই আমাকে দোতলার রেলিঙের পেছনে দেখে নিয়েছে।আমি এভাবে ডেবডেব করে তাকিয়ে থাকায় উনি বেশ বিরক্ত। তিনি আপেলের টুকরোতে আরেকটা কামড় দিয়ে বিরবির করে বললো,
❝ ইডিয়ট __❞
জিতু ভাইয়া উনার দিকে তাকিয়ে বললো__কিছু বলছ ভাইয়া?
উনি টিস্যু দিয়ে হাত মুচতে মুচতে বললেন,
❝নাথিং,,,❞
তারপরই উনি উঠে দাঁড়িয়ে সকলের উদ্দেশ্য বললেন,
–আই থিংক আই নিড এ রেস্ট।
সকলেই সম্মতি জানাতেই উনার রুমে যাওয়ার জন্য পা বাড়ান।এদিকে উনাকে উঠে যেতে দেখেই আমি তাড়াতাড়ি সেখান থেকে প্রস্থান নেওয়ার জন্য পিছনে ফিরতেই জিয়াদের সাথে ধাক্কা লাগে।আচমকা ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেরে জিয়াদ একদিকে ফ্লোরে পড়ে যায় অন্যদিকে আমি রেলিঙের সাথে ঠেসে পড়তে পড়তে চিৎকার দিয়ে উঠলাম,
–বাঁচাওওওওও
মূহুর্তেই সকলে স্তব্ধ হয়ে গেছে।জায়ান ভাই সবে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াবেন তখনই আমার চিৎকার শুনে পা ঐখানেই থেমে যায়।তরাগ গতিতে রেলিঙের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো আমি দু’হাত এলোমেলো ভাবে ঝাপটিয়ে নিচে পড়ার হাত থেকে বাঁচতে চটপট করছি।আমাকে এই অবস্থায় দেখে সকলে বাকহারা হয়ে পড়েছে। জায়ান ভাই চিৎকার করে উঠলেন,
❝জারাআআআআ❞
মূহুর্তেই তাল সামলাতে না পেরে রেলিং থেকে উল্টো হয়ে পড়ি।পড়তে পড়তে নিজের গলার সর্বোচ্চ জোর দিয়ে চিৎকার করতে থাকি। আমি নিচে পড়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকলাম।মনে হচ্ছে আজকেই আমার শেষ দিন।জায়ান ভাইকে আর কখনো বলা হবে না আমার মনের কথা।কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ পেরিয়ে গেলেও শরীরে একটু ব্যথা অনুভব করতে না পেরে আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকালাম। সাথে সাথেই চোখ কপালে উঠে গেলো। আমি নিচে পড়ার আগেই জায়ান ভাই আমাকে কেচ ধরে ফেলেছে।বর্তমানে আমি উনার কোলের মধ্যে। উনি জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে ফেলতে উত্তেজিত হয়ে উন্মাদের মতো বলতে লাগলেন,
❝জারা তুই ঠিক আছিস পাখি, তোর লাগে নি তো?❞
_____ღ-.❤️🔥••_____
❝হুম সেদিন, সেদিনই আমার প্রণয়নের প্রথম পুরুষটাকে এতটা কাছ থেকে দেখেছিলাম।তার কোমল স্পর্শে শিহরণ অনুভব করেছিলাম।তার অনিয়ন্ত্রিত হৃৎস্পন্দন আমার হৃদয়ে প্রণয়নের উতালপাতাল ঢেউ তুলেছিলো।ঠিক সেই মূহুর্ত থেকেই শুরু হয়েছিলো আমাদের প্রণয়াসক্তি….❞__
পিচ ঢালা রাস্তার উপর দিয়ে ঢাকা টু কেরানীগঞ্জ যাত্রীবাহী বাসটি নিজ গতিতে চলছে।সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে।আমি জানালার পাশের সিটে বসে আছি।জানালার উপর মাথা রেখে, ফেলে আসা দিনগুলো কল্পনা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি সে খেয়াল নেই।বাতাসে আমার বাবরি চুল গুলো মুখের উপর দোল খাচ্ছে।হঠাৎ ই বাসের ভিতর অত্যাধিক মাত্রায় চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে পিটপিট করে চোখ খোলে তাকালাম।মুখের উপর আঁচড়ে পড়া চুলগুলো সরাতে সরাতে কানে আসে একটা মহিলার কন্ঠ,
–ডাইনির ঘরে ডাইনি,তলার জ্বালা মিটাতে জাগা পাস নাই। তাই আমার বেডার কাছে আইছস।অক্কবারে না পারা মাইরা তরে চেটকাই ফেলবাম।ব*জ্জাত মেয়ে ছেলে তর কাপড় দেইখাই তো বুঝা যাচ্ছে তর পারিবারিক শিক্ষা।
আমি সেদিকে তাকিয়ে দেখি গাড়ির হেল্পার দাঁড়িয়ে__ মহিলাটাকে শান্ত করতে চাইছে,
–আন্টি দয়া করে এভাবে চেঁচামেচি করবেন না। এখানে অনেক প্যাসেঞ্জার আছে। তাদের অসুবিধা হচ্ছে।
মহিলা টা চেতে উঠলো ছেলেটার উপর,
–এই চেংরা এইসব লেংটা মাইয়াকে বাসে তুলে আমার ভুলাভালা জামাইয়ের টাকা মারার ধান্দা করছ।তোমাদেরকে ভালো করেই চিনি।
মহিলার কথায় ছেলেটাও চেতে উঠলো,__এই যে আন্টি শুনেন, আপনি বয়সে বড় বলে সম্মান দিয়ে কথা বলছি।তার মানে এই না আপনি যা খুশি তাই বলবেন।আর এই আপুটা আপনার সাথে কি করেছে?
মহিলাটা নিজের হিজাপের মাথাটা পিছন দিকে ঠেলে মুখ খুলতে যাবে তখনই একটা মেয়ের নেকামি কন্ঠ কানে আসে,
–হেই হটি বয়, ডোন্ট কল মি আপু।আ’ম নোহা ওকে।
বাকি লোকদের আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা নোহাকে দেখে আমার চোখ কপালে উঠার উপক্রম হয়েছে।এই মেয়ে এখানে কি করছে?
সূর্য প্রায় ডুবে গেছে।কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা নামবে।আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।কিছুটা গেলেই শেখ বাড়ি পৌঁছে যাব।আমার পিছন পিছন বকবক করে করে আসছে নোহা।আমি তিনটার দিকে চৌধুরী বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছি।তখন ইফানও বাসায় ছিলো না।তাই আমাকে বাঁধা দেওয়ারও কেউ ছিলো না।এদিকে কখন যে নোহা আমার পিছু পিছু চলে এসেছে বুঝতেই পারি নি।ও জীবনে কখনো বাসে উঠে নি।তখন বাসের টিকেট না কেটে উঠে পড়েছিলো।তাই একটা মধ্যে বয়সী লোকের সাথে চেপে বসে পড়েছিলো।লোকটার পাশে লোকটার বউ মানে ঐ মহিলাটা ঘুমাচ্ছিলো।এদিকে ঘুম থেকে উঠে নিজের স্বামীর সাথে নোহাকে ঘষে বসে থাকতে দেখে আচ্ছা করে চেপে ধরেছিলো।তখন আমি না থাকলে আজ এই মেয়ে গণ ধুলাই খেতো।
–আচ্ছা প্রিটি গার্ল তোমার হেন্ডু ভাইয়াটা কি এখন বাসায় আছে?
আমি কোনো উত্তর করলাম না।নোহার আমার সাথে আসার আসল মতলবই হচ্ছে জিতু ভাইয়ার সাথে দেখা করা।সেই তখন থেকে ভাইয়ার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। নোহা আমার থেকে উত্তর না পেয়ে আবার বকবক করতে লাগলো।হঠাৎই নোহা চেঁচিয়ে উঠলো। আমি পিছন ফিরে তাকাতেই দেখি পায়ে ধরে বসে আছে।মেয়েটার পড়নে একটা গেঞ্জি আর জিন্সের হাফপ্যান্ট।ব্রাউন কালার পিঠে পড়া চুলগুলো জুটি করা।পিঠে একটা পুতুলের পিংক কালার মিনি ব্যাগ।আমি তপ্ত শ্বাস ছেড়ে ওকে টেনে তুললাম।হাই হিল পড়ে আমার সাথে হাঁটায় তাল মিলাতে গিয়ে পায়ে মোচড় খেয়েছে।নোহা মুখ কাদু কাদু করে বললো,
–আর কতদূর তোমাদের বাসা?
আমি ওকে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে যেতে চিবিয়ে চিবিয়ে উত্তর দিলাম,
–আমি কি তোমায় ইনভাইট করে এনেছিলাম, এখন চুপচাপ আমার সাথে সাথে এসো।বেশি কেচর কেচর করলে এখানেই ফেলে চলে যাবো।
চেয়ারের সাথে হাত-পা, মুখ বেঁধে রাখা হয়েছে মুক্তার।তার পাশের আরেক টা চেয়ারে একই ভাবে বাঁধা হাসান।দুজনের শরীরেরই এক সুতা পরিমাণ বস্র নেই।তাদের নগ্ন দেহে দৃশ্যমান শতশত ক্ষত চিহ্ন।সেখান থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত বের হচ্ছে। আজ সারাদিন ওদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।মুক্তার মাথা নেড়া করে ফেলা হয়েছে সেখান থেকে রক্ত ঝরছে।যোনিপথ দিয়ে রড ঢুকানো হয়েছে।সেখান থেকেও রক্তের ধারা বইছে।হাসানের লিঙ্গ কেটে ফেলা হয়েছে।অসহ্য যন্ত্রণায় দুজনেই কাতরাচ্ছে।ওদের পেছনে আগুনের শিখার উপর বসানো দু’টো বিশাল আকারের কড়াই।সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পানি ফুটছে।আর সেই আগুনের শিখা দিয়েই সারা গুদাম হলদে আভায় আলোকিত।ফুটন্ত পানির শব্দের সাথে মুক্তা আর হাসানের গোঙ্গানির আওয়াজ মিশে চার দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
ওদের সামনে চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে ইফান।তার দুপাশে লোড করা রিভলবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইনান আর মাহিন।ইফান সিগারেটে আরেকটা টান দিয়ে মুখ ভর্তি ধোঁয়া কুন্ডলী ছাড়লো। অতঃপর অবশিষ্ট সিগারেটের শলাকা টা মুক্তার উপর ছুঁড়ে মারলো।মূহুর্তেই মুক্তা আরও গুঙ্গাতে শুরু করলো।ইফান গা ছাড়া ভাব নিয়ে ইনানের উদ্দেশ্য থেমে থেমে বললো,
–ও মাই গড,,,,,,
ভাবতে পারছিস ইন্দুর, কত বড় কলিজা হলে আমার বুলবুলি কে হার্ট করে!
এটুকু বলে ইফান ঘারে হাত বুলাতে বুলাতে মুক্তাকে উপর থেকে নিচ একবার পরক করে ঠোঁট কামড়ে বললো,
–নাহ্ ওর সা’উয়াটা তো একবার মেপে দেখতেই হচ্ছে।
তক্ষুনি ইফানের পাশ থেকে ইনান বলে উঠলো __জি ভাই মাপা হয়ে গেছে ১৫ সেন্টিমিটার।
–ছ্যাহ্ পচা নর্দমা,,
এটা বলেই মুক্তার উপর থুতু মারলো।মুক্তা শরীরের যন্ত্রণায় চটপট করছে।ইফান বিরক্তি নিয়ে ইনানকে ইশারা করলো মুখের টেপ খুলে দিতে।ইনান তাই করলো।মুখ থেকে টেপ সরাতেই মুক্তা রুম কাঁপিয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলো।হাসান হাঁপাতে হাঁপাতে অনেক কষ্ট করে উচ্চারণ করলো,
–দেখ ইফান আমাদের ছেড়ে দে। না-হলে কিন্তু তর আসল পরিচয় CID র কাছে পৌঁছে যাবে,,,,,
হাসানের কথা শুনে ইফান সহ উপস্থিত মাহিন, ইনান আর গার্ডরা উচ্চ স্বরে হেসে দিলো।ইফান দু পায়ের মাঝে ফাঁক করে ঝুঁকে বসলো।অতঃপর ক্রর হেসে বললো,
–CID তো তর মতো বোকাচোদা না, যে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সবচেয়ে পাওয়ারফুল টেরোরিস্ট গ্যাং ব্ল্যাক ভে-নম এর মাস্টার মাইন্ড গ্যাংস্টার ইফান চৌধুরীর হাতে ম্রা খেতে আসবে।
তক্ষুনি মুক্তা কাঁদতে কাঁদতে ইফানের কাছে মিনতি করে বলে,
–তোমার পায়ে পড়ি ইফান আমাকে ছেড়ে দাও।তুমি আমার সাথে এমন করতে পার না।ভুলে গেছ কিভাবে জাহানারা কে আমার সাহায্যে তুমি পেয়ে,,,,,
বাকি কথা শেষ করতে পারলো না মুক্তা,তার আগেই ইফানের লাথি পড়ে মুক্তার মুখে।চেয়ার সহ মুক্তা উল্টো পড়ে।ইফান ওর ওপর ঝুঁকে চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত পিষে বলে,
–তোর মতো মাগীর মুখে আমার বুলবুলির নাম আরেক বার উচ্চারিত হলে জিহ্ব টেনে ছিড়ে ফেলবো।ভুলে গেছিস এক রাত আমার সাথে কাটানোর জন্য পায়ে পড়েছিলি।আর আমি এক রাতের বিনিময়ে শর্ত দিয়েছিলাম ওকে আমার মুখোমুখি দাঁড় করাবার। আর সেই হিসাব আগেই শেষ।
চলবে,,,,,,,,
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ১৭+১৮
-
জাহানারা পর্ব ৩৫+৩৬
-
জাহানারা পর্ব ৫৯+৬০
-
জাহানারা পর্ব ১৯+২০
-
জাহানারা পর্ব ৪৩+৪৪
-
জাহানারা গল্পের লিংক
-
জাহানারা পর্ব ৫১+৫২
-
জাহানারা পর্ব ৭
-
জাহানারা পর্ব ১১+১২
-
জাহানারা পর্ব ১০