জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :২৩
কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।ইতিহাসের পাতায় এই নগরটি একটি মনোমুগ্ধকর ঐতিহাসিক স্থান।বুড়িগঙ্গার ওপারে বিস্তৃত কেরানীগঞ্জ। শহরের এত কাছে হয়েও এখানে এখনো টিকে আছে গ্রাম্য শান্তি। চারদিকে নদী, খাল, চর আর সবুজ মাঠের সমাহার।শরৎ আসলেই কেরানীগঞ্জ যেন নতুন পোশাক পরে। আকাশ থাকে ধবধবে নীল, সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়ায় নদীর উপর দিয়ে। ভোরবেলা বাতাসে থাকে হালকা ঠান্ডা, শিশিরে ভেজা ঘাসে হাঁটলে পা ভিজে যায়। সেই ঠান্ডা বাতাসে ভিজে ওঠে নদীর চারপাশ।দাঁড় টানতে টানতে মাঝিদের কপালে শিশির জমে, তবু তাদের মুখে ক্লান্তি নেই—কারণ এটাই তাদের প্রতিদিনের জীবন।ঘাটের পাশে তখন থেকেই ব্যস্ততা শুরু। কেউ মাছ নিয়ে আসে বাজারে, তো কারো হাতে থাকে শাকসবজি ভর্তি ঝুড়ি। পানিতে দাঁড় টানার শব্দ, “ওই দাও, ধরো, সাবধানে নামো” —এমন ডাকাডাকিতে মুখর নদীর পাড়।কিছু নৌকা আবার নদী পাড়ি দিয়ে ঢাকার দিকে রওনা দিচ্ছে। তাতে থাকে গ্রামের মানুষ—কেউ কাজে যাবে, কেউ পড়তে, কেউ বাজারে যাবে। একেকটা নৌকা ভর্তি মানুষ নিয়ে বুড়িগঙ্গার বুক চিরে চলে যায়, দূর থেকে তাদের গলার হাক শোনা যায়।যেন ভোরের প্রথম প্রহরে বুড়িগঙ্গা হয়ে ওঠে এক বিশাল জীবন্ত বাজার—যেখানে নদীই পথ, আর নৌকাই ভরসা।
আর এই অপরুপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা গ্রামটাই হলো আমার মাতৃভূমি।
এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী জুই।প্রতিদিনের মতোই আজও তার কিছু সহপাঠীদের নিয়ে নদীর ঘাটে হাজির। গন্তব্য নদীর ঐপাড়ে গণিত স্যারের বাড়ি।সপ্তাহে চারদিন সকাল নয়টায় বকুল স্যার ছাত্র ছাত্রীদের গণিত পড়ান।নদীর ঐপাড়ে যেতে সময় লাগে আধা ঘণ্টা। কিন্তু আজ ঘাটে আসতে দশ মিনিট লেইট হয়ে গেছে তাদের।ঘাটে প্রতিদিন নৌকা নিয়ে বসে থাকেন হারুন কাকা।তিনিই মূলত তাদেরকে প্রতিদিন ঐপাড়ে নিয়ে যান।তবে আজ এই নৌকায় তিনজন ব্যক্তি আগেই উঠে গেছে। সেসবে নজর নেই কারোর।সকলেই তাড়াহুড়ো করে নৌকায় উঠে বসে।শেষে জুইও তাড়াতাড়ি উঠতে গিয়ে আগে থেকে থাকা একজন ব্যক্তির সাথে ধাক্কা লাগে।আচমকা ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেরে উভয়ই নৌকা থেকে পড়ে যায়।যেহেতু এখনো নৌকা ঘাট থেকে যায়নি তাই জুই আর ঐ লোকটা ঘাটের কাঁদার উপর পড়েছে।জুইয়ের পড়নে গাঢ় গোলাপি রঙের একটা গাউন।পিঠে পড়া চুলগুলো বেনুনি করে কাঁধের একপাশে যত্ন করে ফেলে রেখেছে।পিঠে থাকা স্কুল ব্যাগটা সহ সারা শরীর এখন কাঁদায় ছড়াছড়ি।
জুই পড়ে যেতেই ভুবন কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠলো।সাথে সাথে নৌকা থেকে নেমে আসলো জুইয়ের বান্ধবীরা। তাদের মধ্যে মিনা আর সোমা হলো জুইয়ের বেস্ট ফ্রেন্ড। দুজন জুইকে দু’হাতে ধরে দাঁড় করালো।
–কিরে মাইয়া পইরা গেলি কেমনে?
সোমার কথায় জুই কানে তুললো না।বরং আচমকা চেচিয়ে উঠলো,
–এ কোন বাঙ্গির বাচ্চা আমারে ধাক্কা মারছস?
অতিরিক্ত রাগে দুঃখে কাঁদা মাখা ফর্সা চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। তখনই পিছন থেকে একটা পুরুষালী কন্ঠ স্বর তাদের কানে বারি খেলো,
— What the hell?
সকলে পেছনে তাকাতেই চোখ আটকালো একজন সুদর্শন পুরুষের উপর। যে বর্তমানে কাঁদার স্তুপে পরিণত হয়েছে।যখন নিজের কর্দমাক্ত শরীরে দৃষ্টি বুলাতে ব্যস্ত তখনই নৌকা থেকে নেমে এসে লোকটাকে টেনে দাঁড় করালো আরো দুজন লোক।
–আরে ব্রো পড়ে গেলি কিভাবে?
পাপন নামের লোকটার কথায় কাঁদা মাখা লোকটা জুইয়ের দিকে ক্ষ্যাপা দৃষ্টিতে তাকালো।সেই দৃষ্টি অনুযায়ী বাকি দুজনও তাকাতেই চোখ বড় বড় হয়ে গেলো।কাঁদা মাখা শরীরে জুইও খেপা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তখন সবুজ নামের লোকটা অবাক হয়ে বললো,
–মাহিন তুই একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়লি?
এটা বলেই সুবজ আর পাপন চোখাচোখি করেই উচ্চ স্বরে হেসে দিলো।এতে মাহিন আর জুই রাগে এক সাথে চেচিয়ে উঠলো।জুই আর মাহিন একে অপরের দিকে এগিয়ে গিয়ে আঙ্গুল তাক করলো।
–হাউ ডিয়ার ইউ মিস? আপনার সাহস কিভাবে হলো আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার।
মাহিনের কথায় জুই দ্বিগুণ চেচিয়ে উঠলো,
–বা*লের আলাপ জুরসেন আমার সাথে। আমি আপনাকে ধাক্কা মারসি নাকি আপনি আমাকে ধাক্কা মেরেছেন।
–What আমি আপনাকে ধাক্কা মেরেছি?
–তাহলে কি আমি মেরেছি।অসভ্য বদমাশ লোক,মেয়ে দেখলেই গায়ে পড়ার ধান্দা,,,,,,,
একনাগাড়ে জুই বকাঝকা করেই যাচ্ছে। জুইয়ের কথার মধ্যে মাহিন বাকহারা হয়ে পড়েছে। একটা মেয়ে এতটা ঝগড়াটে কিভাবে হয় এটা হয়তো জুইকে না দেখলে বুঝতেই পারতো না।এদিকে জুইকে মিনা আর সোমা টেনেটুনে দূরে নিয়ে গেছে।
–আরে বোইন দোষটা তো তরই। তুই এভাবে না উঠলেই তো লোকটা পড়ে যেতো না।
মিনার কথায় জুই আরও চেতে উঠে,
–হ্যা হ্যা এখন তো সব দোষ আমারই দেখবি, সুন্দর সেরাইন দেখছস না?
মিনাকে একচোট ঝেরে এবার সোমাকে চেপে ধরলো জুই_
–তুই মা*গি, তোর কারণেই আজ লেইট হয়সে।আরও তলা ভরে খাগা।
এসবের মধ্যে আজ আর ওদের তিন জনের প্রাইভেটে যাওয়া হলো না।এদিকে হারুন কাকা বাকিদের নিয়ে নৌকা ছেড়ে দিয়েছে আরও পাঁচ মিনিট আগে।রাগে মিনা আর সোমা কে গা*লি দিতে দিতে জুইও ওদেরকে নিয়ে নদীর ঘাট ত্যাগ করে বাড়ির উদ্দেশ্য।
এদিকে মাহিনরা এখনো ওদের যাওয়ার দিকে পলকহীন তাকিয়ে আছে।সেভাবেই মাহিন বললো,
–Oh my God.I have never seen such a crazy girl in my life.
পাপন আর সবুজও একইভাবে তাকিয়ে প্রতিত্তোর করলো,
–আমরাও ভাই।
সকাল ১০টা বাজে।দেখতে দেখতে ইফানের এক্সিডেন্টের দশদিন পেরিয়ে গেল।আজ চৌধুরী বাড়িতে যেন উৎসব লেগে গেছে।আমি আজ সকালে উঠে পড়তে বসেছিলাম।নিচে এসেই দেখি সকলে ব্যস্ততার মধ্যে আছে।কাকিয়া, পলি আর কাজের মেয়ে লতা হাতে হাতে কাজ করছে।আমিও গিয়ে তাদেরকে হেল্প করতে লাগলাম।যদিও সকলে আমাকে রান্না ঘর কিংবা বাড়ির কোনো কাজ করতে দেয় না।এত এত রান্না করতে দেখে কাকিয়াকে প্রশ্ন করলাম,
–কেউ কি আসবে কাকিয়া এত এত আইটেম করছ যে?
আমার কথায় কাকিয়া মুচকি হেসে উত্তর দিলো,
–আসলেই দেখতে পাবে বড় বউমা।
আমি পলিকে চোখে ইশারা করে জানতে চাইলাম।সেও মুচকি হেসে ঠোঁট উল্টালো।তার মানে সেও কিছু জানে না।আমি আর কিছু বললাম না।বেশ কিছুক্ষণ কাজ করার পর কাকিয়া আমাকে আর পলিকে রেস্ট নিতে বললো।তাই আমি আর পলি দু কাপ চা নিয়ে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসলাম।
লিভিং রুম আজকে ফাঁকা পড়ে আছে।বেশ কিছুদিন ধরে ইফানকে সময় দেওয়ার ফলে নাবিলা চৌধুরী অফিসে যেতে পারে নি।তাই আজ বোনকে হাসপাতালে পাঠিয়ে তিনি অফিসে চলে গেছেন।অন্যদিকে ইকবাল চৌধুরী আর ইরহাম চৌধুরী বিজনেস প্লাস রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।আমি আর পলি সোফায় বসে গল্প করছি তখনই ইতি এসে আমার পাশে বসে।মেয়েটার চোখমুখ আগের চেয়ে অনেকটা শুকিয়ে গেছে। কয়েকদিন পরই এসএসসি পরীক্ষা দিবে।তাই আজকাল বেশিরভাগই রুমে বসে বসে পড়াশোনা করে।
–কি হলো ইতি মুখ এভাবে গুমরা করে রেখেছ কেন?
আমার কথায় মেয়েটা আমার কোমর জড়িয়ে ধরলো_
–ভাবিজান পড়ালেখা বিষয়টা ভিষণ কঠিন। আমার পড়তে একটুও ভালো লাগে না।
–তাহলে একমাত্র ননদিনী কে বিয়ে দিয়ে দিই, কি বল জাহানারা ভাবি।
পলির হেয়ালিতে লজ্জায় নাকমুখ লাল হয়ে গেছে ইতির।নাজুকতা নিয়েই উত্তর করলো,
–ইশশশ তোমরা খালি বলতেই জান কাজের কাজ করতে আর পার না।নাহলে তো আমিও পড়ালেখা ছেড়ে ডেক মাস্টারি করতাম।
ইতির কথায় আমরা হেসে দিলাম_
–তো ডেক মাস্টারি করতে কষ্ট লাগবে না।
আমার কথায় সাথে সাথে মাথা ঝাঁকাল ইতি_
–একটুও লাগবে না।এই যে পলি ভাবি করে না।ভাবির কি কষ্ট লাগে নাকি।তাই আমার ডেক মাস্টারি করতে কষ্ট লাগবে না।
আমি আর পলি একমাত্র ননদীনির কথায় আবার হেসে দিলাম। তখনই পেছন থেকে আরেক জনের কন্ঠ স্বর কানে আসে,
–What is ডেক মাস্টারি?
আমরা পিছনে তাকিয়ে দেখার আগেই আমার আর পলির মাঝখানে ধপাস করে বসে পড়লো নোহা।এই মেয়েটার উপর আমার বহুত রাগ অথচ প্রকাশ করতে পারছি না ওর এমন সব আচরণে।মেয়েটা সারাক্ষণ আমার সাথে ডলাডলি করে বেড়ায়।কত গালাগালি করি তবুও লজ্জার ল টাও ওর মধ্যে দেখতে পাই না।
–কি হলো প্রিটি গার্ল বল!
–এই মেয়ে যা বুঝ না তা নিয়ে এত পেনপেন কর কেন।তোমার কি বয়স হয়নি এটুকু বুঝার যে তোমার এসব ডিজগাস্টিং বিহেভিয়ারে অনেক মানুষ বিরক্ত হয়।
আমার বিরক্তি তে কান দিলো না মেয়েটা।নিজের মতো করে আবার বকবক শুরু করে দিলো,
–OMG কি খাচ্ছ।
এবার রাগে আমার চোয়াল শক্ত হয়ে এলো,
–চোখে কি দেখতে পাচ্ছ না চা খাচ্ছি।
–তুমি টি লাইক কর।বাট আমি করি না।আমি তো এভরিডে টির বদলে ওয়াইন খাই।ঐটা খুব ইয়াম্মি। তুমি খাবে?
–তোমার মতো যাদের মাথায় গুয়ে ভরা তাদের নিয়ে খাও যত্তসব।
আমার কথায় পলি আর ইতি মুচকি মুচকি হাসছে। নোহা ঠোঁট উল্টালো,
–ঠিক আছে আজ আমিও তোমার মতো চা খাব।
এইটুকু বলে নোহা পলির দিকে তাকালো তার সব বিরক্তি নিয়ে। তারপর আদেশ করে বলে,
–হেই দার্টি চিপ গার্ল আমার জন্য এরকম করে টি বানিয়ে আন।
নোহার কথা শুনে পলির হাস্য উজ্জ্বল চেহারাটা নিভে গেল তৎক্ষণা। চোখগুলো সাথে সাথে জ্বলজ্বল করে উঠলো।এভাবেই পলি উঠে যেতে নিলে আমি বাঁধা দিই,
–How dear are you? তুমি কোন সাহসে পলিকে চিপ বললে?
–ও তো চিপই।
চোখ উল্টে উত্তর করলো নোহা।আমি পলির মিইয়ে যাওয়া চেহারা একবার দেখে শক্ত ভাবে নোহাকে উত্তর দিলাম,
–ওকে, পলি চিপ আমিও চিপ। সো দূরত্ব বজায় রাখবে।নেক্সট টাইম যদি আমার সাথে ঘষাঘষি করতে দেখি তাহলে বিষয় টা খুব খারাপ হয়ে যাবে।
–কেন কেন?তুমি চিপ কেন হতে যাবে প্রিটি গার্ল। বেইবি আমাকে বলেছে তুমি হাই ক্লাস ফ্যামিলির মেয়ে।
আমি নোহাকে সুক্ষ্ম চোখে ভালো করে পরখ করলাম।কিন্তু তাকে তার উত্তর দেওয়ার আগেই কানে আসে টিভির শব্দ ,
❝ব্রেকিং নিউজ, আজ কেরানীগঞ্জ বুড়িগঙ্গা নদীতে ভাসমান অবস্থায় একজন দম্পত্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে নৌবাহিনী। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ লাশ দুটো কে নিয়ে গেছে।এখানে মৃত্যুর আসল কারণ জানতে না পারলেও লা*শ দুটোর পরিচয় পাওয়া গেছে। দম্পতি তার একমাত্র সপ্তাদশী কন্যাকে নিয়ে গাজীপুর থেকে কেরানীগঞ্জ আসছিলেন।তবে পথেই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে মেয়েটির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি❞
আমার সম্পূর্ণ মনযোগ নিউজে চলে গেছে নিমেষেই।এদিকে লাশের কথা শুনেই ইতি আমার সাথে চেপে বসে।ইতি স্বভাব বসত রক্ষ,লা*শ এসবে ভীষণ ভয় পায়।সাধারণ যেকোনো মানুষই ভয় পাবে।আমি ইতিকে এক হাতে আগলে পলির দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলাম,
–মাত্র কোন জায়গার নাম বললো নিউজে।
–কেরানীগঞ্জ, বুড়িগঙ্গা নদী,,,
তৎক্ষণাৎ পলির দিক থেকে উত্তর পেয়ে গেলাম।আমি কি ভেবে তাড়াতাড়ি উঠে দাড়ালাম। আমি যখন এখান থেকে চলে যাচ্ছি তখন পেছন থেকে নোহার অনেকগুলো ডাক শুনতে পেলাম।এই মেয়েটা কি সবসময় মাতাল হয়ে থাকে কিনা বুঝতে পারি না। না হলে এত ভয়ংকর একটা নিউজ দেখলাম অন্তত একটু তো ঘাবড়ে যাবে।তা কিছুই তার মধ্যে নেই সে এখনো চা অব্দিই পড়ে আছে।এক্কেবারে পাক্কা মাতাল প্লে গার্ল।
আমি রুমে এসে বাড়িতে কল করলাম।সাথে সাথেই কল রিসিভ করে অপর প্রান্ত থেকে জুইয়ের গলা ভেসে আসে,
–আপুনি কেমন আছ।
–হুম ভালো।তুই কেমন আছিস।
–অনেক ভালো আছি।শুধু তোমাকে একটু মিস করছি।কবে বাড়ি আসবে বল?
–এই তো দেখি কবে আসা যায়।আর এই সময় তুই কল ধরলি কেন?আজ কি প্রাইভেট নেই।
–ছিলো তো।নদীর ঘাট পর্যন্ত গিয়েওছিলাম কিন্তু,,,
আমি জুইয়ের মুখের কথা কেড়ে নিলাম _
–কিন্তু কি?
তারপর অচেনা লোকটাকে বকতে বকতে সকালের সব ঘটনা খুলে বললো আমাকে।আমি আর এ নিয়ে কিছু বললাম না।বরং ভালোভাবে চলাফেরার জন্য কিছু এডভাইজ দিলাম,
— নিউজ তো দেখেছিস নিশ্চয়ই। সাবধানে থাকবি বুঝলি।একদমই এদিক সেদিক টইটই করে বেড়াবি না। একবার কানে এরকম খবর আসলে ভাইয়াকে জানিয়ে দিবো মনে রাখিস।
জুইয়ের সাথে কথা বলে আম্মুর সাথেও আরও কিছু সময় ভালোমন্দ খোঁজ খবর নিয়ে ফোন কেটে দিলাম।তারপর একা বসে বসে আনমনে এটা সেটা ভাবতে লাগলাম।
আসরের নামাজ পড়ে ফোন টিপতে থাকলাম।আজকাল সব কিছু বোরিং লাগে।না এভাবে এখানে আর থাকা সম্ভব নয়। তাই আজ সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম কাল পরশু বাপের বাড়ি যাব কেরানীগঞ্জ। এমনিতেও ইকবাল চৌধুরী কয়েকদিন আগে বাড়িতে আব্বু আর ভাইয়ার সাথে কথা বলেছেন।আব্বু তেমন কিছু না বললেও ভাইয়া বলেছে আমাকে কয়েকদিনের জন্য নিয়ে যাবে।আমি যখন বাড়ির কথা ভাবতে মগ্ন তখনই বাইরে থেকে চেচামেচির আওয়াজ কানে আসে।আমি চোখ বন্ধ করে নিজেকে স্থির করে নিলাম।তারপর ফোনটা বিছানায় রেখে রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।আজ আর নিচে নামতে ইচ্ছে করছে না।তাই রেলিং ধরে লিভিং রুমে দৃষ্টিপাত করলাম।এই মূহুর্তে চৌধুরী বাড়ির সকলেই সেখানে উপস্থিত।দাদি আর কাকিয়ার কান্নার আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। তখনই চোখ আটকায় নুলক চৌধুরীর পাশে পঙ্কজ কে হুইলচেয়ারে এমন অবস্থায় দেখে।এই চরিত্র খারাপ লুচ্চাটাকে হাত পা ভাঙা অবস্থায় দেখে হাসি পেয়ে গেলো।আমিও ঠোঁট কামরে হাসতে থাকলাম।তখনই চোখ আটকায় নুলক চৌধুরীর তীক্ষ্ণ চাউনিতে।কিছুক্ষণ একে অপরের দিকে তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে নিলাম।
তখনই আবার সদর দরজা দিয়ে ইনান খন্দকার মানে ইফানের পিএ প্রবেশ করে।সাথে সাথে মাথায় আসে তাহলে কি আজ ইফানকেও হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়েছে।ভেবেই তরাগ গতিতে আরেক পাশে তাকাতেই চোখ পড়ে কাঙ্ক্ষিত মানুষটার উপর।সে আগে থেকেই আমাকে দেখছে।তার ঠোঁটের কোণে লেগে আছে সেই চিরচেনা কুটিল হাসির রেখা। আমার সাথে চোখাচোখি হতেই চোখ টিপ মেরে ঠোঁট গোল করে চুম্মা দেখালো।তার এমন কাজে আমার ঠোঁটের কোণের হাসিটা আরো প্রশস্ত হলো।কালো শার্ট পড়ে আছে।সামনে তিনটা বোতাম খোলা তাতে বুকের ভেতরের বড়বড় পশম গুলো দৃশ্যমান, যদিও আগে বুকে এগুলো ছিল না। হয়তো এই কয়দিনে গজিয়েছে।শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত তুলা।হাত পা ছড়িয়ে সোফায় গা ছেড়ে বসে আছে।ইফানের কপালে হাতের অনেক অংশে ছোট ছোট ব্যান্ডেজ করা।শরীরের এমন অবস্থাতেও যে নির্লজ্জতা ছাড়ে না আমর মনে হয় মরার সময়ও ছাড়বে না।সে এখনো সকলের দৃষ্টির আড়ালে আমার দিকে তাকিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে হাসছে।আমিও হেঁসে তাকে মিডল ফিঙ্গার দেখালাম। তাতে সে আরও ঠোঁট বাঁকাল।জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে দু আঙ্গুল দিয়ে কপালে স্লাইড করল।অতঃপর সবার আড়ালে বাঁকা হেসে গার কাথ করে সেও মিডল ফিঙ্গার দেখালো।শেষে নিঃশব্দে ঠোঁট নাড়িয়ে বুঝালো,
❝ Fu*ck you ঝাঝঁওয়ালি❞
আমি জোর করে হাসি দিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে আবার নিজের রুমে চলে গেলাম।তবে যাওয়ার সময় সদর দরজায় কলিং বেল বাজার শব্দ কানে আসে।
চলবে,,,,,,,
জাহানারা
জান্নাত_মুন
পর্ব :২৪
এতদিন পর চৌধুরী বাড়ির দুই সদস্যকে কাছে পেয়ে দাদি আর কাকিয়া আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেছেন।ইফানের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে ডাক্তাররাও আশা ছেড়ে দিয়েছিল।তারপরও যে এত তাড়াতাড়ি ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে তা হইতো কেউ কল্পনায় করতে পারেনি।আমি নিজ রুমে চলে যেতেই সদর দরজাই কলিং বেল বেজে উঠে। কাজের মেয়ে লতা দরজা খুলে দিতেই প্রবেশ করে একজন লোক।লোকটা ফর্মাল ড্রেসআপে, দেখতে ভীষণ সুদর্শন লাগছে। দু’হাতে দু’টো ট্রলি বেগ নিয়ে অ্যাটিটিউডের সাথে লোকটা কিছুটা ভেতরে হেঁটে এলো।এখনো সকলে ইফানদের কে নিয়ে ব্যস্ত। তাই কে আসলো সে দিকে কারও খেয়াল নেই। লোকটা এক হাতের সাহায্যে চোখের সানগ্লাসটা খুলে সকলের উপর একবার দৃষ্টিপাত করে। অতঃপর ঠোঁট প্রসারিত করে মুচকি হেসে সকলের উদ্দেশ্য বাক্য ছাড়ে,
–“Hey guys, I’m back.”
অতিপরিচিত কন্ঠ স্বর কানে আসতেই সকলে সদর দরজার দিকে চোখ রাখলো।অনেকদিন পর আপন জনকে দেখে সকলের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। যদিও প্রথমে অবাক হয়েছিলো কিছুটা।কেউ কিছু বলার আগেই মনিরা বেগম এক ছুটে ছেলের বুকের উপর হামলে পড়ে।ছেলেও অনেকদিন পর মাকে কাছ থেকে দেখতে পেয়ে দু’হাতে আগলে নেয়।অত্যাধিক আনন্দে কাকিয়ার চোখ টলমল করছে।ভেজা গলায় ছেলেকে ধমকাতে লাগলেন,
–পাজি ছেলে মার কথা কখনো ভাবিস না।তুই আসবি বলে সকাল থেকে কত কি রান্নাবারা করলাম।কিন্তু তোর দেখা মিললো না।আমি তো ভেবেই নিয়েছিলাম এবারও মিথ্যা আশা দিয়েছিস।
মায়ের কান্না মিশ্রিত কন্ঠে কথাগুলো শুনে মাহিন তার মাকে আরও শক্ত করে বুকের সাথে আগলে ধরলো।কাকিয়ার মাথায় থুতনি ঠেকিয়ে নরম কন্ঠে বলে,
–আর বলো না মম।আমার সাথে পাপনও দেশে ফিরেছে।তখন ও জোর করে ওদের গ্রামে নিয়ে গেছে। সেখানে আমার আরও কিছু কলেজ ফ্রেন্ড ছিল। এতগুলো বছর পর দেখা হবে তাই আর না করতে পারি নি।
মা ছেলের কথার মাঝে বাকিরাও এসে মাহিনের সাথে কথা বলতে থাকে। ইরহাম চৌধুরী মাহিনের কাঁধে হাত রেখে বলেন,
–কি আব্বু আজ যে দেশে আসবে আমাদের কে তো জানালে না।
বাবাকে কাছে পেয়ে তাকেও জড়িয়ে ধরলো_
–কি বল আব্বু!আমার দুই ভাই হাসপাতালে আর আমি ছোট ভাই হয়ে দেখতে আসবো না।
–ছেলেটা জার্নি করে এসেছে। এখনো তোমরা ওকে দাঁড় করিয়ে রেখেছ।
ইকবাল চৌধুরীর গলা শুনতে পেয়েই মাহিন উনাকেও জড়িয়ে ধরলো_
–বড় আব্বু তুমি কেমন আছ?
–আলহামদুলিল্লাহ ভিষণই ভালো।আফটারল বাড়ির সকল ছেলে আজ এক সাথে।তো কখন দেশে আসলে?
–জ্বি রাত তিনটার ফ্লাইটে বিডিতে ল্যান্ড করেছি।তারপর আরকি বন্ধুদের সাথে রাতটা কেরানীগঞ্জেই কাটিয়েছি।
–রাতে না হয় ছিলে। তাহলে সারাদিন গেলো সবে বাসায় আসলে?
নাবিলা চৌধুরীর কথা শুনে সেদিকে তাকিয়ে মেকি হাসলো।নাবিলা চৌধুরী কেও জড়িয়ে ধরে মহিন_
–বড় মা কেমন আছ তুমি? তোমাকে যে কত মিস করতাম কি বলবো।
নাবিলা চৌধুরী মাহিনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,
–I know বেটা।আমাদের ছেলেমেয়েরা আমাদেরকে কতটা ভালবাসে তা বুঝাতে হবে না,আমরা জানি।
মাহিন সোজা হয়ে দাঁড়ায়_
–আমি তোমাদের সকলকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্যই বলে আসি নি।শুধু মমকেই জানিয়ে রেখেছিলাম।আর বাসায় আসতে লেইট হওয়ার করান হচ্ছে,,,,
–কিরে ভাই রোগীসব এইখানে আর তুই ঐখানে কি বাল ফেলছিস।
ইফানের কন্ঠ কানে যেতেই ওর দিকে তাকালো মাহিন।ইফান গা ছেড়ে সোফায় বসে আছে।গারটা হালকা বাকিয়ে মাহিনের দিকে তাকিয়ে আছে।মাহিন ইফানের সাথে সোফায় বসে পড়লো।
–ব্রো কেমন আছ এখন?
–আমি আবার কোন জীবনে খারাপ ছিলাম রে?
ইফানের হেয়ালি কথায় হেসে দিলো মাহিন-
–সে তো তুমি অলওয়েজ চাঙ্গা থাক আমি জানি।আর এখন তো বউ পেয়ে আরও বেশি।
মহিনের কথায় ইফান দোতলার দিকে তাকিয়ে শিশ বাজালো যেখানে একটু আগে আমি দাড়িয়ে ছিলাম।মাহিনও দৃষ্টি অনুযায়ী ঐদিকে একবার তাকিয়ে ইফানের বাহু চাপরে দিলো।
–যা ভাই, আমাকে দেখা শেষ হলে লেংরাটাকে দেখ।
ইফানের ইশারা অনুযায়ী মহিন সহ সকলে ঐদিকে তাকালো।এদিকে লেংরা বলায় পঙ্কজের চোয়াল শক্ত হয়ে এসেছে। সে রাগে ইফানের দিকে তাকিয়ে। গত সাতদিনে ইফান পঙ্কজ কে যে পরিমাণ জ্বালিয়েছে অন্য কেউ থাকলে হয়তো পাগল হয়ে যেতো।পঙ্কজ কে রাগতে দেখে ইফান চোখ মেরে ঠোঁট বাকালো।ইফান আর পঙ্কজ কে থামাতে ইমরান আর মাহিন শুকনো কাশলো।
–পঙ্কি ভাই কেমন আছ?
মাহিনের গলার আওয়াজ শুনে ইফানের দিক থেকে খেপা দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।খুব কষ্ট করে ঠোঁটে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে প্রতিত্তোর করলো,
–দেখে কি মনে হচ্ছে?
মাহিন বলার আগেই পঙ্কজের মুখের কথা কেড়ে নিলো ইফান_
–দেখে তো মনে হচ্ছে তর টুক্কুরু ভাই আর দাড়াতে পারবে না!!
ইফানের বাক্যটা যেন আগুনে ঘি ঢালার মতো পঙ্কজের শরীরে লাগলো।পঙ্কজ রাগে মুখ খুলতে যাবে তখনই আবার মাহিন আর ইমরান কেশে কথা ঘুরাতে অন্য আলাপ শুরু করে দিলো।ইফানের কথায় বড়দের মধ্যে কোনো ভাবান্তর দেখা দিলো না।সকলে জানে ইফান যে কত বড় ঠোঁট কাটা নির্লজ্জ পাবলিক।
পুরো লিভিং রুম হইচইপূর্ণ।মাহিন সকলের সাথে কথাবার্তা বলছে।এদিকে এতক্ষণ পর হৈচৈ আওয়াজে ঘুম ভাঙে নোহার।ডুলুডুলু পায়ে হেঁটে চোখ কচলাতে কচলাতে লিভিং রুমে হাজির হয় সে।পুরোপুরি চোখ খুলতেই চোখ আটকায় ইফানকে দেখে।আর কি? এক চিৎকারে পুরো চৌধুরী বাড়ি কাপিয়ে দিলো মেয়েটা।সকলে ওর দিকে তাকানোর আগেই এক দৌড়ে ইফানের দিকে আসতেই হঠাৎ ব্রেক কসে। উপস্থিত সকলের দৃষ্টি নোহাতে আবদ্ধ। তেমনই মাহিনও নোহার দিকে তাকিয়ে। হঠাৎ এত সুদর্শন পুরুষ কে দেখতে পেয়ে পা থেমে যায় নোহার।মাহিনের দিকে তাকিয়ে থেকেই কয়েকটা ঢুক গিললো মেয়েটা।
–কি হচ্ছে কি নোহা? এক্ষুনিই তো পড়ে যেতে।
নুলক চৌধুরীর কথা কানে তুললো না মেয়েটা।সে তার শর্ট কাট চুলগুলো কে সুন্দর করে কানে গুজে মাহিনকে হাত নাড়িয়ে হায় দিলো।মাহিনও মৃদু হেসে হায় দিলো।তারপর আবার সকলে আড্ডায় মেতে উঠলো।কাকিয়া আর পলি সকলের জন্য বিভিন্ন ধরনের সরবত,পকরা, পিঠা এনে দিলো।নোহা আস্তে আস্তে ইফানের পাশে ঘেঁষে বসে পড়লো।তার দৃষ্টি এখনো মহিন তেই আবদ্ধ।
–কিরে শালি কয় কেজি শশা, বেগুন খেয়েদিলি এ কদিনে।
ইফানের কথা কানে যেতেই তার দিকে দৃষ্টিপাত করলো নোহা।আবার দু’টো ঢুক গিলে, জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে ইফান কে বললো,
–বেইবি ওরটা কতটুকু হবে?
নোহার ইশারা অনুযায়ী ইফানও মাহিনের দিকে তাকালো_
–একবার মেপে দেখতে পারিস।
ইফান ঠোঁট কামরে উত্তর দিলো।নোহার চোখমুখ জ্বলজ্বল করছে ইফানের কথা শুনে।ইফান শুধু তাকিয়ে দেখলো খুশিতে গদগদ করা নোহাকে।তারপর অস্পষ্ট ভাবে বিরবির করলো,
–শালি জিনিস একটা,,,,
বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা নামলো।আজ কয়েকদিন পর আকাশে পুরো চাঁদের হদিস মিললো।কদিনের কুত্তা মরা গরম থাকায় বাইরে বাতাসের ছিটেফোঁটাও ছিলো না।তবে বিকেল থেকেই দক্ষিণ দিক থেকে শীতল হাওয়া বইছে। আমি মাগরিবের নামাজ আদায় করে বেলকনিতে এসে দাঁড়ালাম।খুব ভালো লাগছে এই ঠান্ডা হাওয়াটা।বিকাল থেকেই নিচে হৈ-হুল্লোড় হচ্ছিল। এখন চেচামেচির আওয়াজ কম আসছে। মনে হয় সকলে রেস্ট নিতে লিভিং রুম ত্যাগ করছে।
ধরণী সম্পূর্ণ আঁধারে তলিয়ে গেছে।বিশাল বড় বড় দালান গুলোর প্রতিটি ইউনিটে আলো জ্বলমল করছে।ব্যস্ত ঢাকা শহর ইলেকট্রনিকাল বিদ্যুৎতে আলোকপূর্ণ হয়ে উঠেছে।হঠাৎ ধমকা হাওয়ায় পরম আবেশে চোখ দুটো বন্ধ করে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকলাম।জোরো হাওয়ায় আমার সামনের ছোট ছোট বাবরি চুলগুলো আর শাড়ির আঁচল টা উড়ছে।আমি গভীর ভাবনায় হারিয়ে যেতে থাকলাম।তখনই ইফানের কর্কশ কন্ঠ কানে এসে প্রতিধ্বনিত হয়,
❝ঝাঁঝ ওয়ালির ঝাঝ বেড়েছে
ঠান্ডা হবে কিসে
অনেক ভেবে ফার্মেসি থেকে
কন*ডম নিয়ে এসেছি সাথে❞
__
আস্তে আস্তে দুর্বল শরীরটাকে টেনে নিজের রুমের দিকে আসছে ইফান।তাকে ধরে রুমে নিয়ে আসার জন্য সবাই বললেও কারো কথাই কানে তুলে নি।তার মতে,”তাকে রুমে কেন কেউ দিয়ে যাবে সে কি পঙ্কির মতো লেংরা নাকি।এখন সে না পারলেও কারো হেল্প নিবে না। এতে তার প্রেস্টিজে লাগবে।”
অবশেষে নিজের রুমের সামনে এসে থামলো লোকটা।ইদানীং কোনো পুরুষ বাসায় বেশি থাকে না। তাই ঘুমানোর আগ পর্যন্ত দরজা খুলে রাখি।দরজার সামনে আসতেই ইফানের ঠোঁটের কোনে শয়তানি হাসিটা ফুটে উঠলো।ঐসব উল্টো পাল্টা বকে বকে দরজায় মৃদু ধাক্কা দিতেই খুলে যায়।রুমে দৃষ্টিপাত করতেই দেখতে পায় সারা রুম অন্ধকারাচ্ছন্ন।সে ভেবেছিলো আমি হয়তো রুমেই। তাই তার এই সব নোংরা কবিতা বলতে বলতে দরজা খুলে।তবে পুরো রুম অন্ধকার থাকায় হাসি মুখটা কঠিন হয়ে গেলো।সে বিরক্তি নিয়ে লাইট ওয়ান করতেই সারা ঘর আলোকিত হয়ে পরে।রুমের সকল কোণায় একবার চোখ বুলিয়ে দেখে।অতঃপর আমাকে না দেখতে পেরে বুঝার বাকি থাকে নি আমি কোথায় থাকতে পারি।হাত চালিয়ে সে তার পড়নের কালো শার্টের বাকি বোতাম গুলো খুলে শার্ট টাকে বিছানায় অযত্নে ছুড়ে ফেলে দেয়।তারপর নিঃশব্দে বেলকনিতে গিয়ে পেছন থেকে আমাকে সংবেদনশীল স্পর্শে জড়িয়ে ধরে।আমি আগে থেকেই এটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।এ যে কত বড় নির্লজ্জ তা আমার আর বুঝার বাকি নেই।এর মুখে হাজার বার ঝাড়ু মারলেও সে আমার গু খেতেই আসবে।লোকটার শরীর থেকে অতি পরিচিত ক্লোনের গন্ধ বারবার নাকে এসে বারি খাচ্ছে।আমি বিরক্তিতে নাকমুখ কুঁচকে ফেললাম।রাগে কটমট করে মুখ খোলার আগেই ইফানের মাদকীয় কন্ঠ ধ্বনি কানে আসে,
❝বুলবুলি❞
চলবে,,,,,,,,
(ভিষণ অনিহা নিয়ে গল্প লিখতে বসে রাইটিং ব্লকে আটকা পরেছি।যারা আমার গল্প রেগুলার পড়ে তাদের জন্যই আজ খুব কষ্ট করে এটুকু লিখেছি।যদিও আজকের পর্বটা একদমই মন মতো হয়নি।যাই হোক লুমান্টিক কাহিনি নেক্সট পর্বে দিবো তার আগে লাইক কমেন্ট করে দাও 🥹🫶)
Share On:
TAGS: জান্নাত মুন, জাহানারা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জাহানারা পর্ব ৮
-
জাহানারা পর্ব ৪১+৪২
-
জাহানারা পর্ব ১৫+১৬
-
জাহানারা পর্ব ৪৮
-
জাহানারা পর্ব ৩৭+৩৮
-
জাহানারা পর্ব ৪
-
জাহানারা পর্ব ৪৯+৫০
-
জাহানারা পর্ব ১
-
জাহানারা পর্ব ২৯+৩০
-
জাহানারা পর্ব ১১+১২