খাঁচায়বন্দীফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ৪৭
প্রথমেই বলে রাখি এক পর্ব পরেই সমাপ্তি কেমন হবে সেটা বিচার করবেন না। আগেও বলেছি আর এখনো বলছি, স্যাড ইন্ডিং আমি দেবো না। তবে গল্পে টুইস্ট থাকবে, গল্প বিভিন্ন সময় নানান রকম মোড় নিবে। সেগুলো পাঠক হিসেবে আপনার বুঝতে হবে। আগেই ভুলভাল কমেন্ট করে বসলে আমি মনোযোগ ক্ষুন্ন হই 🙂
পুরনো মোটা খাতাটা প্রায় ৪ ঘন্টা সময় নিয়ে পড়েছে মাহিয়া। কপাল ঘেমে একাকার। শরীরে যেন বিদ্যুৎ বইছে। কিন্তু এর পর আর কিচ্ছু লেখা নেই। পৃষ্ঠা ফাঁকা। কি হয়েছিলো তারপর? দাদির সব সময় আগলে রাখা বাক্সটা খুলেছিলো মাহিয়া। মহিলাটা কাওকে ধরতে দেন না এই বাক্স। বহুদিন এর কৌতূহল জমিয়ে রেখে মাহিনসএযোগ খুজছিলো। অবশেষে একদিন পেয়েই গেলো। কিন্তু এরপরে কি? দাদিকে সারা বাড়ি খুজতে থাকে মাহিয়া।
প্রধান দের পারিবারিক কবরস্থানের সৌন্দর্য কখনো বহিরাগত দের বুঝতেই দেয় না এটা একটা সমাধি স্থান। এখানে বহু প্রিয় মানুষদের শায়িত করা হয়েছে। প্রবেশের বিশাল লোহার গেট টার সামনে ৭ বছর বয়সি বাচ্চা ছেলেটা মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে। ভিতরে কত্ত কত্ত ফুলগাছ। কত সুন্দর বাগানটা। কিন্তু উঁচু উঁচু ওগুলো কি? বাচ্চাটার সাথে তার দাদি আছে। তার হাত ধরে টেনে বলল
“ও দাদি, ওগুলো কি?”
বাচ্চাটার দাদি সেদিকে তাকিয়ে বলল
“ওগুলো কবর দাদুভাই”
“কবর? কার কবর?”
“গ্রাম প্রধানের পরিবারের সদস্য দের”
বাচ্চা টা দাদির কাছে আবদার করে বসলো
“দাদি আমি ভিতরে যেতে চাই। প্লিজজ দাদি”
“আচ্ছা যাও”
গেট পেরিয়ে ভিতরে ঢুকতেই বাম পাশে একটা কবর পরে। একটা বড় পাথরের ওপর সিল ও বসানো আছে। তাতে কি সব লেখা। বাচ্চাটা এগিয়ে গিয়ে বানান করে পড়লো
মরহুম তুযাউন চৌধুরী
পিতা: ওয়াহাব চৌধুরী
মাতা: লতিফা বেগম
বাচ্চা টা ভ্রু কুচকে দাদির কাছে যায় দৌড়ে।
“ও দাদি দেখো না। এদিকে এসো”
“আমি যাবো না ভাই। তুমি চলে এসো। আরো দেরি করলে কিন্তু মা বকবে পরে”
“আগে বলো এই কবর টা কার?”
মহিলাটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন
“প্রধান বাড়ির বড় ছেলে, তুযাউন চৌধুরীর”
“আর পাশের টা?”
“তার ছোট ভাইয়ের বউ, মিশকাত জাহান অদিতি। বিয়ের পর অবশ্য অদিতি চৌধুরী হয়েছিলো”
বাচ্চাটার হাত ধরে বলল
“চলো এখন”
হাঁটতে হাঁটতে সামনে পড়লো আরো একজন মুরব্বি। এগিয়ে এসে বাচ্চাটাকে হাসি মুখে আদর করলো। ওর দাদিকে বলল
“কি গো ফুল বু। তোমারে যে আইজকাইল দেহাই যায় না হ্যা। ঘর থিকা কি বাহির হও না?”
ফুলমালা মাথায় আচল টা টেনে হাসলো
“না গো। বাইর হওয়া হয় না আর। কাল ছেলে বউ নাতি লইয়া বাড়ি আইছে। তাই নাতি রে ঘুরতে নিয়া আসলাম”
“ভালো করছো। যাইয়ো আমগো বাড়ি”
ফুলমালা নাতি কে নিয়ে বাড়ি ফিরলো। মায়ের কাছে তাকে দিয়ে নিজে ঘরে চলে গেলো। বয়স বেড়েছে, শরীর বেশি নড়াচড়া নিতে পারে না। খাটের ওপর বসতেই কোথ থেকে মাহিয়া চিলের মতো উড়ে এলো। দাদির পায়ের কাছে বসে হাঁপাতে লাগলো। ফুলমালা অবাক হয়ে বলল
“ওমন হাঁপাচ্ছিস কেন মাহি?”
“তার…তারপর কি হয়েছিলো দাদি?”
ফুলমালা ভ্রু গুটায়।
“ কোথায় কি হয়েছিলো? কি বলছিস?”
মাহিয়া হাত ইশারা করে দেখায় খাটের এক কোণে নামানো খাতাটার দিকে। ফুলমালা খাতাটার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে যায়। বড় বড় চোখ করে তাকায় মাহিয়ার দিকে।
“মুখপুড়ি, তুই কেনো হাত দিয়েছিস আমার এই বাক্সে?”
“বাকি টুকু লেখা নেই কেনো? কী হয়েছিলো তারপরে। কোথায় আছে তুযাউন চৌধুরী? সাইফ চৌধুরী আর তার স্ত্রী ই বা কোথায়? বলো না দাদি। তুযাউন চৌধুরী কি আর জোৎস্নার দেখা পেয়েছিলো?”
ফুলমালা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো
“না”
“এগুলো কি তুমি লিখে রেখেছো দাদি?”
ফুলমালার চোখ চিকচিক করে উঠলো
“না। লিখছিলো দীঘি আপা”
দীঘির কথা মনে পড়তেই ফুলমালার চোখে ভেসে ওঠে সেই শ্যামলা মুখশ্রী। তেজী দুটো চোখ। সবার মুখের ওপর উচিত কথা বলার সাহস।
তার কল্পনা আবার ফিরে গেলো অতীতে। যখন বয়স ছিলো কিশোরী। মনে মনে ভালো লাগতো দ্বিগুণ বয়সী এক বেপরোয়া পুরুষকে।
—
নদীর বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর চৌধুরী বাড়ি থেকে যেদিন ফেরত এসেছিলো ফুলমালা আর প্রধান পরিবারের সবাই। তারপর দিন প্রধান বাড়িতে আগমন ঘটে ফুলমালার বাবার। তার বানিজ্য আগেই সমাপ্ত হয়েছে। ফুলমালা কে নিয়ে যেতে চায় এখন। ফুলমালা ঘরের এক কোণে গ্যাট হয়ে বসে আছে সে কিছুতেই যাবে না তুযা না আসা পর্যন্ত। মানিক কে সাথে করে তুযা আযানের পরপরই রওনা হয়েছে ঢাকার উদ্দেশ্যে। কারণ কারও জানা নেই। এদিকে ফুলমালার বাড়ি কয়েকগ্রাম পরে। আজ ওর বাবা গেলে কাল কীভাবে আসবে? আর একদিন যে থেকে যাবে, তুযা কালই আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কবে আসবে কিচ্ছু বলে যায়নি।
তুযার সাথে দেখা না করে ফুলমালা কোনোভাবেই যাবে না। সকলের বোঝানোর কাছে হার মেনে ফুলমালা ছলছল চোখে প্রধান বাড়ি থেকে বেড়িয়েছিলো। কবিতা বারান্দায় দাড়িয়ে দেখছিলো ফুলমালার চলে যাওয়া। বাচ্চা মেয়েটিও দুঃখ পেয়েছিলো ভীষণ।
সারা রাস্তা ফুলমালা কাদতে কাদতে যায়।
পুরান ঢাকার গলির মোড়ে দাড়িয়ে বার বার কাগজে লেখা ঠিকানা টার দিকে তাকাচ্ছে তুযা। ম্যানেজার এর খবর অনুযায়ী এই গলিটার কথাই বলা হয়েছে। সামনে একটা মহিলা হোস্টেল। পাশে দুটো পুড়নো বাড়ি। নিচে কয়েকটা চায়ের দোকান। পরিবেশ খুব একটা পরিষ্কার না। একটু আবর্জনাই। মানিক রোদে ঘেমে একাকার। তুযার দিকে তাকিয়ে বলল
“ভাই অহন কি করবেন? ঠিকানা তো এই অবদিই।”
তুযা চারপাশে তাকিয়ে বলল
“এই মোড়ে ১০-১২ টা বাড়ি আছে। খুঁজে দেখতে সময় লাগবে না। চল”
“ভাই এক মিনিট”
তুযা দাড়ালো মানিকের কথায়।
“ভাই আমি হুনছি যে, এদিকের মানুষ রা অপরিচিত কেউ দরজায় টুহাইলে হাতের সামনে যা পায় তাই ফিক্কা মারে”
“তাইলে তুই সামনে থাকবি, আমি পিছনে। চল”
মানিক এর অনিচ্ছা থাকার পরও যেতে হলো তুযার পিছু পিছু। প্রথম ৬ টা বাড়িতে গিয়ে কথা বলেও কোনো লাভ হলো না। সামনেই একটা মহিলা হোস্টেল। যাওয়া ঠিক হবে কি হবে না ভাবতে ভাবতে অবশেষে গেলো। মূল দরজা টায় বেল বাজাতেই একজন চল্লিশোর্ধ্ব মহিলা দরজা খুলল। সামনে দুজন পুরুষ কে দেখে খ্যাকখ্যাক করে উঠলো
“জানো না এইডা মাইয়াগোরে হোস্টেল। ব্যাডা মানুষ এহানে আইচে ক্যালা?”
তুযা বিনয়ের সাথে বলল
“কাকি, এখানে কি জোৎস্না বলে কেউ থাকে?”
“উহহহহহ, তোমারে কইতে জামু ক্যালা? এডি কওয়া বারণ আচে। যাও তো বাপু, রাস্তা মাপো”
তুযা অনুরোধ করে বলল
“বলুন না চাচি জান। আমার তাকে ভীষণ দরকার। আমি অনেক দূর থেকে এসেছি। বলুন দয়া করে”
মহিলা টি তুযার দিকে সন্দিহান চোখে তাকিয়ে বলল
“হ থাকে। তয় এখন নাই। পাঁচ দিনের ছুটি লইচে। কোন হানে গেচে তা কইবার পারতাচি না। এহন যাওতো বাপ, যাও”
দরজা বন্ধ করে দিতে নিলে তুযা হাত দিয়ে থামালো
“শুনুন। কবে এলে পাবো?”
“ছকালে আইলেই পাইতা, ছক্কাল ছক্কাল বাইট ওই গেচে। আবার পাঁচ দিন পরে আইছো।”
দরজা বন্ধ করে দিলো মহিলাটা। তুযা মনে মনে আফসোস করতে লাগলো, কাল রাতেই রওবা হয়ে গেলে সকালে ওকে পাওয়া যেতো।
মানিক তুযার মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে বলল
“থাইক ভাই। দুঃখ পাইয়েন না। ফিরা সপ্তা আমরা আবার আমু”
দু’জনে সরু চাপা সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসতে লাগলো। মানিক ফের টেনে ধরলো তুযার হাত
“ভাই, হ্যারে তো জিগান লাগতো বুবুর স্বামী আছে কিনা। ভুল কইরা হালাইলাম”
তুযা কিঞ্চিৎ ভ্রু গুটিয়ে তাকিয়ে রইলো গ্রিলের দরজা টার দিকে। পরমুহূর্তেই নেমে আসতে আসতে বলল
“মনে হয় না মহিলাটা কিছু বলবে। তাছাড়া স্বামী নিয়ে তো আর মহিলা হোস্টেলে থাকা যা না।”
দুজনে নেমে আসে নিচে। সাইফ কল করছে বারবার বাড়িতে যেতে। কিন্তু তুযার মন টানছে না। সাইফ কে মানিয়ে বুঝিয়ে বাড়ির দিকে রওবা হলো তারা।
কলেজে পরীক্ষা অদিতির। পড়াশোনা নিয়ে ভীষণ ব্যাস্ত। সাইফ ও অফিস ব্যাবসা বানিজ্য নিয়ে ব্যাস্ত থাকে। রাত ছাড়া স্বামী স্ত্রীর দেখা হওয়াই দুস্কর। তার মধ্যে রিশার সাথে সেদিনের ঘটনা নিয়ে অদিতি এখনো অভিমান করে সাইফের ওপর। সাইফ অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিলো। বাইরের আকাশ মেঘে ঢাকা। কখন জানি বৃষ্টি নামে। অদিতি পড়ার টেবিলে বসার আগে সাইফ কে জিজ্ঞাসা করলো
“কফি দিবো?”
সাইফ সোফায় হেলান দিয়ে বলল
“কফি লাগবে না। তুমি এসো”
অদিতি টেবিলে বসতে গিয়েও আবার গেলো সাইফের কাছে। সাইফ হাত ধরে টেনে অদিতিকে নিজের কোলে বসালো। চোখ দুটোতে রাজ্যের ঘুম। ঘুমঘুম চোখে কেমন অদ্ভুত মাদকতা নিয়ে তাকালো অদিতির দিকে। নরম গাল টা আলতো করে ছুঁয়ে দিয়ে বলল
“এই দূরত্ব আর সহ্য হচ্ছে না আমার”
অদিতি মাথা নিচু করে বলল
“দূরত্ব কোথায়? একসাথেই তো আছি”
“তবুও যে মাঝখানে দেওয়াল। মান অভিমানের দেওয়াল”
অদিতির কোমড় জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রাখলো সাইফ।
“জোৎস্না আপার খবর পাওয়া গেছে বউ। দাদাভাই আজ ঢাকায় এসেছিলো”
অদিতির কপালে দীর্ঘ ভাজ পড়লো
“তারপর? পেয়েছেন ওনাকে?”
“উনি যে মহিলা হোস্টেলে থাকে, সেটা রিশার এক মামি চালায়। সেই সূত্র ধরেই আমি খোঁজ পেয়েছি।”
অদিতি সাইফের কোল থেকে উঠে গেলো
“আপনি কেনো তাকে খুজতে গেলেন? যে এতবছর হলো চলে গেছে, তাকে ডেকে আনার মানে কি? শুনুন, সত্যি কারের ভালোবাসা থাকলপ সে এতদিনে একবার হলেও খোঁজ নিতো। আর তাছাড়া ফুল দাদাভাই কে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছে। আপনি একবারও চিন্তা করেছেন মেয়েটার কি হবে?”
সাইফ তাকিয়ে রইলো অদিতির দিকে
“যা হবে দেখা যাবে”
“খুব দেখিয়েন আপনি। এখন খেতে চলুন।”
“জোৎস্না আপার সাথে কখনো দাদাভাই এর বিয়ে সম্ভব না অদিতি। কিন্তু একবার দেখা করুক শুধু।”
অদিতি বিরক্তি নিয়ে বলল
“আপনি কিচ্ছু বুঝিয়ে বলেন না। ধুরর”
সাইফ ফের অদিতিকে জড়িয়ে ধরলো
“বিয়ে ফুলমালার সাথেই হবে। তুমি চিন্তা করিও না। দাদাভাই এর শেষ বারের মতো আপার সাথে দেখা করার সাধ টাও মিটবে। এবার আদর করো”
“যান রিশার থেকো আদর নিন গিয়ে। এখন আমাকে কেনো বলছেন?”
“নাআআআআ, আমি আমার বউ এর আদর চাইইইইই। বিশ্বাস করো বউ। রিশার সাথে শুধু দরকারেই কথা বলেছিলাম। তাছাড়া ওই মেয়ের সাথে? ছিঃ ওয়াক থু”
অদিতি চোখ পাকিয়ে তাকায়
“সত্যি বলছেন?”
“এই যে তোমাকে ছুঁয়ে বলছি”
বাড়িতে ফিরতে ফিরতে রাত হলো তুযার। বৃষ্টি তেও ধরলো তাদের। ভিজে পুড়ে এসে উঠলো বাড়িতে। লতিফা এখনো কাজ করছে রান্না ঘরে। তুযা বাড়িতে ঢুকেই চেচিয়ে ডাকে
“ফুল, আমার গামছা টা আন তো”
গায়ের ভেজা শার্ট খুলে আবার ডাকলো
“কই রে ফুল”
“ফুল বাড়িতে নেই।”
লতিফার গম্ভীর গলায় বলা কথাটা শুনে তুযা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।
“কোথায় গেছে?”
“ওর বাপ আইছিলো। নিয়া গেছে”
তুযার কপালে সূক্ষ্ম ভাজ পড়লো। ফুল চলে গেছে? তার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেনি? নিজেই ঘরে চলে গেলো। লতিফা কে বলল
“কাল যামু আমি ফুল গো বাড়ি”
চলবে?
কেমন হইছে বলিও পাখিরা। আর খুউব শিঘ্রই তোমাদের বাইজিদ শাহ্ আসতে চলেছে 🤍🫶
ভালোবাসা সবাইকে 🥰🫶
অবশ্যই সুন্দর একটা কমেন্ট করবা যাতে মন ছুঁয়ে যায় লেখিকার 🥹🫶
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৮
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৬
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩৮ এর প্রথমাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১