কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
খাঁচায়বন্দীফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ২২
তুযা হন্তদন্ত হয়ে গাড়ি থেকে নামলো।
“ কে নেই? কে নেই?”
“ জেবা আপু নেই”
তুযার বুকের ওঠা নামা একটু হলেও কমলো। সাইফ ঠিক আছে অন্তত। অদিতি কে বলল
“ তুই এই অমানুষ রে নিয়া ঘরে যা। আমি আইতাছি। এই ছ্যাদর মা*গি গেলো কই আমি দেইখা আসি”
অদিতি সাইফের বাহু নিজের কাধের ওপর দিয়ে নিয়ে বলল
“ আপনি যেতে পারবেন?”
তুযা ঢুলছে। পা দুটোও কাপছে। কাল সারাদিন না খেয়ে ছিলো। আজও সারাদিন কিচ্ছু মুখে দেয় নি। মেহেরজান কে হারানোর শোক তাকে আরো দুর্বল করে তুলেছে। তার মধ্যে এসব করতে হচ্ছে এখন। চোখে সব ঝাপসা দেখছে সামনের।
তুযা ঘাড় কাত করলো
“ পারবো তুই ভিতরে যা। যাইয়া খিল দে ভিতর থিকা। আরে জলদি যা আমি থাকতে যা”
অদিতি সাইফ কে নিয়ে ভিতরে ঢুকলো। খিল আটকে গিয়ে ঘরে নিয়ে গেলো সাইফ কে। ভিতর ভরা অভিযোগ, রাগ। সব নিয়েও সাইফের মাথার রক্ত ধুয়ে দিলো। মাথা মুছে ব্যাগ থেকে ওষুধ বের করে লাগিয়ে দিলো। আচমকা সাইফ শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো অদিতিকে। কিন্তু অদিতি ধরলো না। সাইফ মুখ তুলে বলল
“ আমি কত চিন্তায় পরে গেছিলাম জানো? জেবা বলেছিলো কয়েকজন ছেলে তোমাকে জোর করে নাকি জঙ্গলের দিক নিয়ে গেছে। সারাটা দিন তোমায় খুজেছি”
“ও বলল আর আপনি বিশ্বাস করে নিলেন? নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল দুজনের?”
সাইফ কিছু বলতে নিলে অদিতি হাত দেখিয়ে থামালো
“ দেখুন। আমি আপনার কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো যে আপনি আমাকে বাচিয়েছেন। নয়তো আজ আমার জায়গা হতো নোংরা জায়গায়। আমাকে ভালোও বেসেছেন অস্বীকার করছি না। তবে ইদানীং আপনার কিছু ব্যাবহারে আমার মনে সংশয় তৈরি করছে। আদৌ যদি আপনার এমন মনে হয়ে থাকে যে আপনি আমাকে এনে ভুল করেছেন কিংবা এখন আর ভালো লাগছে না। সরাসরি বলে দিতে পারেন। আমি এক কাপড়ে আপনার বাড়ি ছাড়বো। তারপর যা হয় হোক আমার।”
অদিতি চোখ মুছলো। আজ কষ্টের চাইতে জিদ আর রাগ বেশি চোখে
“ আপনি একবার বলুন শুধু। আমি চলে যাবো। কিন্তু আমার স্বামীর সাথে সারাদিন কেউ ঘেঁষাঘেঁষি করবে, তার গায়ে ঢলে পড়বে। এসব সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব না। ভোর হোক। আমি চলে যাবো”
অদিতি ভুল বুঝছে সাইফ কে। কেন সাইফ এমন করছে তা বলাটা কি অদিতি কে ঠিক হবে? সাইফের মাথা ফেটে যাচ্ছে যন্ত্রণায়। অদিতি যদি সত্যিই চলে যায়? অদিতিকে ছাড়া সাইফ থাকতে পারবে নাকি? সাইফ অদিতির পিছন পিছন যাওয়ার জন্য উঠতেই তুযা এসে দাড়ায় রুমের সামনে। চোখ মুখ কঠোর।
“ কেন গেছিলি জেবার সাথে?”
সাইফ মাথা নিচু করলো সামান্য
“ দাদাভাই! আমি……”
“ কি আমি?”
চেচিয়ে উঠলো তুযা
“ বল কি আমি? সমস্যা টা কি তোর? এই নষ্টা টার গা ঘেষবিই যখন তখন অদিতি কে কেন বিয়ে করেছিস?”
সাইফ চোখ মুখ শক্ত করে বলে
“ আমি বাধ্য হয়ে করছি দাদাভাই। আমি বাধ্য। বুঝেছো তুমি?”
তুযা এগিয়ে যায় সাইফের দিকে
“ কে করেছে বাধ্য তোকে? বল তো”
“ জেবা”
“ কি ভাবে?”
“ ও……”
সাইফ কিছুক্ষণ থামলো।
“ ও অদিতির কিছু আপত্তিকর ছবি আর ভিডিও করে নিয়েছে। আর সেগুলো ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেবে যদি আমি ওর….. “
“ এক মিনিট”
তুযার কথায় থামলো সাইফ। তুযা বলল
“ তোকে জঙ্গলে কেন নিয়ে গেছিলো?”
“ ও বলেছিলো সারাদিন ওর সাথে ঘুরতে হবে। আমরা তাই ঘুরছিলাম। হঠাৎ রাশেদের লোকজন আমাদের পিছু নেয়”
সাইফ খাটে গিয়ে বসলো
“ আমার কিছু করার ছিলো না দাদাভাই। স্ত্রীর সম্মান তো বাচাতে হবে”
তুযা বলল
“ বিষয় টা আমি দেখতেছি। তুই নাটক টা আপাতত চালিয়ে যা। আর অদিতি কে কিচ্ছু বলিস না”
“ কিন্তু না বললে তো ও বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে।”
“ যাবে না। আমি দেখছি।”
তুযা বেড়িয়ে যায়। অদিতি পাশের ঘরে কাদছে আর নিজের কাপড়চোপড় সব একটা ব্যাগে ভরছে। তুযা দরজার সামনে থেকে বলে
“ কোথাও যাবি না তুই। আর যদি যাস, ঠ্যাং ভেঙে আবার বাড়িতে নিয়ে আসবো আমি। এবার তুই ঠিক কর, ভাঙা পা নিয়ে থাকবি নাকি সুস্থ ভাবে থাকবি”
সাইফের সাথে রাগ দেখাতে পারলেও তুযার সামনে অদিতি টু শব্দ টিও করতে পারবে না। বাধ্য হয়ে জামাকাপড় ব্যাগে ভরা বন্ধ করলে। খাটের ওপর বসে হাটুতে মাথা ঠেকালো। সাইফের থেকে এমন ব্যাবহার একদমই আশা করেনি কখনো। অন্ধকার ঘরটাতে চদের আলো এসে সামান্য আলোকিত করে রেখেছে। বিদ্যুৎ ও নেই খাটের ওপর বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে অদিতি। হঠাৎ মাথায় কারো হাতের স্পর্শ পেয়ে কান্না থামালো। তবে মাথা তুলল না। অদিতি ভাবলো সাইফ এসেছে। অভিমানি কন্ঠে বলল
“ আপনি যান আপনার জেবার কাছে। ছোবেন না আমায় সরুন। লাগবে না আপনার দরদ দেখানো।”
তখনই অদিতির কানে গেলো তুযার হাস্কি কন্ঠস্বর
“ আরে কাদিস না পাগল। সাইফ যা করছে, তোর ভালোর জন্যই করছে।”
অদিতি চট করে মাথা তুলে। চোখ বড় বড় করে তাকায় সামনের দিকে। তার মানে তুযা এসেছে। তুযা একটু পিছনে সরে দাড়ায়। অদিতি কে বলে
“ নিচে চল দেখি একটু। আমায় দু’টো ভাত বেরে দে দেখি। সেই রহমানের মায়ের সাথে বসে খেয়েছিলাম। আর খাওয়া হয়নি। এখন তো আর রহমানের মা নেই, যে আমার জন্য ভাত বেরে বসে থাকবে”
হঠাৎ বিদ্যুৎ আসলো। রুম টা আলোকিত হয়ে উঠলো। অদিতি কেদে কেদে চোখ মুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। তুযা বেরিয়ে যেতে যেতে বলল
“ চোখে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে আয়। আমার খিদা লাগছে খুউব”
অদিতি ওয়াশরুম থেকে হাত মুখ ধুয়ে ডাইনিং এ গেলো। তুযার ব্যাবহার অদিতিকে ক্রমে ক্রমে অবাক করে তুলছে। রান্নাঘর থেকে খাবার গরম করে থালায় সাজিয়ে টেবিলে দিলো। তুযা খেতে শুরু করলো।
“ সকালে নদী রে কইবি ওই ঢেমনি শালি রে যেন ডাক্তার এর কাছে নিয়ে যায়। মাথায় ভালোই লাগছে”
অদিতি চেয়ার ধরে চুপচাপ দাড়িয়ে আছে। কথা গুলো যে জেবার উদ্দেশ্যে বলা তা সে বুঝেছে। তুযার খাওয়া খুব চালু। তাড়াতাড়ি খেয়ে উঠে সবসময়। খাবার খেতে খেতে বলল
“ কবিতা কোন হানে রে? খাইছে কিছু বাচ্চা ডা আমার?”
অদিতি ওপর নিচ মাথা নেড়ে বলল
“ আমি খাইয়ে দিয়েছি। দীঘি আপুর সাথে ঘুমিয়েছে”
তুযা খাবার চিবোতে চিবোতেই বলল
“ তোর পোলা হইলে নাম রাখমু রহমান। রহমানের মা বাড়িতে আবার ফিরা আইবো। অহন থিকা তো আর বাড়ি আইয়া কাওরে রহমানের মা কইয়া ডাকতে পারমু না। মেহের তো গেলো গা। তোরেই রহমানের মা ডাকমু ভাবছি।”
অদিতি তুযার এমন রুপ এর আগে কখনো দেখেনি। লোকটা সত্যিই বদলে গেলো? ফজরের আযান পরে গেছে। তুযা গামছা দিয়ে হাত মুছতে মুছতে উঠলো।
“ সাইফ রে কিছু নিয়া খাওয়া পারলে। তারপর শুইয়া পর গা। সকাল হইয়া যাইবো একটু পরই”
তুযা নিজের ঘরে চলে গেলো। অদিতি প্লেটে খাবার নিয়ে সাইফ এর কাছে গেলো। কি বলল তুযা? সাইফ অদিতির ভালোর জন্য করছে? কেমন ভালো? নানা ভাবনার মধ্যেই ঘরে গেলো। সাইফ তখনো বসে। অদিতি খাবার সামনে রেখে বলল
“ আপনার জেবা অসুস্থ। তাই আমি খাবার নিয়ে এলাম। কাল থেকে ওকেই পাঠাবো”
সাইফ অদিতির হাত টেনে ধরে। নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে বলে
“ আমার বউ হলেই হয়, জেবা কে লাগবে কেন?”
“ সে তো দেখতেই পাচ্ছি বউ দিয়ে আপনার কতটা হয়। বেশি নাটক না করে খেয়ে নিন”
সাইফ বাচ্চাদের মত আবদার করে বলে
“ খাইয়ে দাও”
অদিতি সাইফ কে সত্যি সত্যি খাবারটা খাইয়ে দিলো।
ফজরের আযানের সময় উঠেছে নদী। অযু করে নামাজ পরে নিলো। পাগল তুমুল টাও যা হয়েছে। একের পর এক কল করেই চলেছে। নদী কল রিসিভ করে জানালার পাশে গিয়ে দাড়ায়। নিচ তলার একটা রুমে ঘুমিয়ে ছিল। বড় জানালাটা দিয়ে দূরে সর্ষের, ফসলের ক্ষেত দেখা যাচ্ছে। যদিও তা কুয়াশার জন্য অস্পষ্ট। আলোও ভালো করে ফুটেনি। নদী জিজ্ঞেস করল
“ এত ভোরে উঠে কি করছেন?”
“ ঘুমাই নি, উঠবো কিভাবে”
তুমুলের কণ্ঠস্বর কেমন ক্লান্ত শোনায়। নদী উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল
“ সেকি! আপনি সারারাত জেগে ছিলেন কেন? কি হয়েছে? শরীর খারাপ? অসুস্থ? খারাপ লাগছে কোথাও ?”
তুমুলের ঠোঁট জোড়া এবার প্রশস্ত হল। তার রাত জাগার কথায় নদী কতটা চিন্তিত এবং ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এটা ভাবতেই ভালো লাগায় ছেয়ে গেলো হৃদয়
“ না শরীর খারাপ না। অফিসের কিছু কাজ ছিলো। তারপর তোমাকে মিস করছিলাম। তাই আর ঘুম আসিনি। ভাবলাম তোমার সাথে কথা বলেই ঘুমাবো”
“কথা হয়ে গেছে তো। এখন ঘুমান”
তুমুলের কন্ঠ জড়িয়ে আসছে ঘুমে
“ উমমমম, হয়নি। আরো কথা বলবো। তোমাদের ওদিকের অবস্থা কেমন? ঠিক আছে সবাই?”
“ হুম সবাই আলহামদুলিল্লাহ এখন একটু ঠিক আছে”
“ আর আমার বউটা কেমন আছে?”
নদী মন খারাপ করে বলল
“ এখনো অদি….ইয়ে মানে ভাবীর সাথে কথা হয়নি।”
“ আররররে চাপ নিও না। তোমার ভাবিকে অনেক ভালো মানুষই দেখতে লাগে। কাউকে বলবে না দেখো।”
“ হুমমমম”
“ বউউউউউউ”
তুমুলের ডাকে কিঞ্চিৎ রাগ দেখেয়ে নদী বলল
“ আপনার এই বউ বউ বুলি কি মুখ থেকে যাবে না? এই বউ বউ ডাকার জন্য আজ ফেসে যাচ্ছি।
কে বলেছিো ফোন রিসিভ করে সাথে সাথে বউ বলে ডাকতে?”
তোমার মন খারাপ করার ভান করে বলল
“ আমি আমার বউকে বউই বলবো। নাম ধরে ডাকতে পারবো না বলে দিলাম। তবে ভবিষ্যতে যদি বাচ্চা হয় সে বাচ্চার নাম নিয়ে বাচ্চার মা বলে ডাকতে পারি। ডেমো শোনাবো?”
নদী ভ্রু কুচকে বলল
“ মানে?”
“ আচ্ছা আমাদের বাচ্চা হলে কি নাম রাখবে?”
নদী একটু লজ্জা পায়
“ জানিনা”
“ আহা বলোনা। আচ্ছা আমি বলছি। আমাদের মেয়ে হলে নাম রাখবো নীরা। তোমার নামের সাথে মিলিয়ে। তখন তোমাকে না হয় নীরার মা বলে ডাকবো।”
“ এত আজগুবি কথা পান কোথা থেকে বলুন তো”
“ বলবো না, বললে তুমিও শিখে যাবে”
“ বয়েই গেছে আমার ওসব শিখতে”
“ আমার শালিকা কোথায়?”
“ নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে”
“ আর ওই হনুমানমুখী টা”
নদী কপাল কুচকে বলল
“ কিইইইইই?”
তুমুল ওপাশে থেকে ফিক করে হেসে ফেলল
“ না সেদিন শালিকা বলছিলো কোনো এক হনুমানমুখী আছে তোমাদের বাড়িতে”
নদী একটু বিরক্তি নিয়ে বলল
“ আপনিও না, রাখছি বাই”
“ ওকে, আই লাভ ইউ”
“ আসছে, হুহহহ”
—-
এমন সময় সকলে গ্রামে এসেছে। দীঘিরও ক’দিন পর মাধ্যমিক পরীক্ষা। নদীর পরীক্ষা কাল থেকেই। হাসান চৌধুরী কে দোয়া মাহফিলের আয়োজনে থাকতে হবে। তাই হাসান চৌধুরী সিদ্ধান্ত নিলো নদী, দীঘি কে আজই ঢাকাতে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু দুই মেয়েকে একা বাড়িতে রাখা যাবে না বলে সাথে সায়রা কে ও পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলো হাসান চৌধুরী। কিন্তু তুযা বাধা দিলো সায়রা কে।
“ চাচ্চু কাকিয়া যদি চলে যায় তাহলে, মনি মা একা একা সব সামলাতে পারবেনা, দেখছো ই তো মায়ের অবস্থা”
কথাটা খারাপ বলেনি তুযা। এটা চিন্তা করে হাসান চৌধুরীর নদী আর দীঘি কেই পাঠালেন ঢাকাতে। জেবা সুস্থ থাকলে হয়তো জেবা কে ও পাঠিয়ে দিতো। সকাল সকাল নাস্তা পানি করে দু’বোনকে বাড়ির গাড়িতে উঠিয়ে দিল সবাই। নদী বলল চিন্তা না করতে সিমিকে বাসায় এনে রাখবে।
তুযা রাশেদের ঘটনার কথা এখনো জানায়নি ওয়াহাব চৌধুরীকে। দাদির মিলাদ হয়ে যাক তারপর সুদে আসলে বুঝে নেবে সবটা।
নদী আর দীঘি এগারোটা বাজে রওনা হলেও বাড়ি ফিরতে তাদের চারটে বেজে গেল। ফিরে নদী আগে রাতের জন্য রান্না করে নিল। দেখি ফিরে পড়তে বসেছে। কবিতাকে খুব মিস করছে। এই দুইদিনের কবিতা তার খুব ভালো বন্ধু হয়ে গেছে। আসার সময় সে কি কান্না। নদী রান্না শেষ করে দীঘির পাশে সোফায় এসে মোবাইলটা হাতে নিয়ে বসলো। কলেজের গ্রুপে ঢুকতে দেখতে পারলো পরীক্ষার ডেট আরো ১১ দিন পেছানো হয়েছে। নদীর এখন আফসোস হচ্ছে এর আগে থেকে যদি দেখতাম শুধু শুধু ঢাকায় চলে আসলাম। বিষয়টাকে কল দিল।
“মা আমার পরীক্ষার ডেট তো পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে “
সায়রা কপাল কুঁচকে বলল
“ কদিন?”
নদী মন খারাপ করে বলল
“ আমরা কি কালকেই চলে আসবো মা আবার?”
সায়রা বলল
“ না চারদিন বাদে তো আমরা আসছি। এখন আর আসতে হবে না। দীঘি কি ভালো মতো পড়াও”
“ আচ্ছা”
নদীর দীঘি কে খাবার খেয়ে নিতে বলল। দু’বোন খেয়ে যে যার ঘরে গেলো।
নদী ফ্রেশ হয়ে চুল আচড়ে মাত্র বিছানায় গিয়েছে শুতে। এরমধ্যে তুমুল কল করলো। নদী এমনিতেও ভাবছিল তুমুলকে কল দেবে। ফোন রিসিভ করে কানে ধরতেই ওপাশ থেকে তুমুল বলল
“ গেট খোলো”
নদী ভরকে যায়
“ মানে?”
“ আমি তোমাদের গেটের সামনে। গেট খুলো ভিতরে আসব”
“ এই আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? আপনি এখন এসেছেন কেন?”
তুমুলের কপালে ভাজ পরলো
“ খুলতে বলেছি খোলো”
নদী বিছানা থেকে উঠে গিয়ে দ্রুত গেট খুলে দিল। আগে চারিদিকে দেখে নিলো দীঘির রুমের বাইরে আছে কিনা। দীঘির ঘরের দরজা বন্ধ ভিতর থেকে। নদীর দরজা খুলতেই তুমুল ভেতরে ঢুকলো। নদী দুরজা বন্ধ করে দিয়ে তুমুলের পিছন পিছন দিয়ে আসলো।
“ আপনি জানলেন কি করে আমি বাড়িতে এসেছি?”
তুমুল কথা না বলে নদীর দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে আছে। নদীর একটু অস্বস্তি হল।
“ ওভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? আমি যা জিজ্ঞেস করছি তার উত্তর দিন”
“ তোমার ওড়না কই?”
নদী তখন খেয়াল করল সে রুম থেকে বের হওয়ার সময় তাড়াহুড়াতে ওড়নাটা নিয়ে আসেনি। নদী মাথা নিচু করে বলল
“তারাহুরো তে রুমে ফেলে এসেছি। আপনার কথা হয়ে গেলে এখন যান দেখি দেখে ফেলবে তো”
তুমুল অবাক হয়ে বলে
“ যাব মানে? আজ রাত তো আমি আমার বউয়ের সাথে থাকতে এসেছি”
নদীর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল।
“ পাগল হয়ে গেছেন? দীঘি দেখে ফেললে কি হবে জানেন?”
“ কি হবে?”
তুমুল একটু একটু করে এগিয়ে আসছে নদীর দিকে, আর নদী পিছিয়ে যাচ্ছে। নদী চারদিকে চোখ বুলিয়ে বলল
“ প্লিজ চলে যান এখন। দীঘি দেখলে কিন্তু খুব বড় সর্বনাশ হয়ে যাবে”
তুমুল কি আর কথা শুনবে। নদীর ঘাড়ের পিছনে ধরে ঠোটে ঠোট লাগিয়ে দিলো তুমুল। নদী ছাড়ানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। কিন্তু তুমুল এর সাথে পেরে উঠছে না। কিছু সময় পর তুমুল নিজেই ছেড়ে দিলো। নদী ছিটকে পড়লো দূরে। হাপাতে লাগলো মুখে হাত দিয়ে।
কাদো কাদো মুখ করে বলল
“ প্লিজ, দীঘি দেখলে কিন্তু অনেক সমস্যা হয়ে যাবে”
তুমুল নাছোড় বান্ধা। যাবে না। এগিয়ে গিয়ে নদীর মুখের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল
“ এখন তুমি যদি আমাকে ঘরে নিয়ে না যাও আমি কিন্তু নিজেই চেচিয়ে দীঘিকে ডাকবো”
তোমার দিদিকে ডাকতে উদ্ধত হল
“ শা…..”
মুখ থেকে শব্দ বের করতে নদী মুখ চেপে ধরল তুমুলের। হাত ধরে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে গেল। ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে তুমুলের দিকে গিয়ে এলো
“ কি করছেন টা কে আপনি? ধরা পড়ে গেলে কি হবে ভেবে দেখেছেন?”
“অবৈধ কিছু করছি নাকি? আমার বউ তো তুমি”
নদীকে টেনে এনে নিজের কোলে বসালো তুমুল। ঘাড় থেকে চুল সরিয়ে আলতো করে চুমু খেলো। নদীর ঘাড় শিউরে উঠলো। তুমুল জড়িয়ে ধরল নদীর কোমর। চুম্বন আরো গাঢ় হলো।
নদীর কেমন অদ্ভুত লাগছে। এ কয়দিনে একবারও তুমুল কে এরকম ভাবে দেখেনি। নদী কে বিছানায় ছুড়ে মেরে তুমুল ও এগিয়ে আসলো নদীর দিকে। নদীর দুই হাত তুমুলের এক হাতে বন্দী। ঘাড়ে মুখ গুজে দিলো। নদীর নিশ্বাস ভারী হয়ে আসছে
“ আপু, এই আপু?”
দীঘির দরজা ধাক্কানো আর ডাকে দুজনেই চমকে উঠলো। নদী তুমুলকে নিজের থেকে ঠেলে সরানোর চেষ্টা করছে। তুমুল বিরক্ত হয়ে বলল
“এই শালি কে বিয়ে দিচ্ছল না কেন তাড়াতাড়ি?”
বিরক্ত হয়ে সরে আসে তুমুল। নদী তারাতাড়ি লুকাতে বলে তুমুল কে। তুমুল জিদ করে বলে
“লুকাবো না আমি। আসুক তোমার বোন”
চলবে?
কেমন হইছে বলিও পাখিরা 🥹🫶
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৮