Golpo romantic golpo কী ভয়ংকর মায়া তোর

কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৭


কিভয়ংকরমায়া_তোর

পার্ট:০৭

লেখিকা:আরিফা তাসনিম তামু

[কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ❌]

তিনটে ক্লাস শেষ এখন ইংরেজি ক্লাস কিন্তু স্যার নেই তাই সবাই চেঁচামেচি করছে এরি মধ্যে প্রিন্সিপাল স্যার সহ এক সুদর্শন যুবক ডুকলো।যুবকটিকে দেখেই চারপাশে চাপা ফিসফিস শুরু হয়েছে গেছে এইদিকে পিছনে বসে এখনো ঝগড়া করে চলছে তিহান আর সাইফা রোদ আর তিহা সামলাতেই পারছেনা ক্লাসে যে স্যার এসেছে সে খেয়ালও তাদের নেই। হঠাৎ সবাইকে দাড়িয়ে সালাম দিতে দেখে তাড়াহুড়ো করে ওরাও দাঁড়ালো।

প্রিন্সিপাল স্যার সবাইকে বসতে বলল তার পর আদ্রেকে সবাইর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে লাগলো

—উনি মিস্টার ফাইজান নেওয়াজ আদ্র অ্যান্ড তোমাদের ইংলিশ টিচার শিশির নেওয়াজ ফাইজ স্যারের বড় ভাই তোমরা নিশ্চয়ই ইতি মধ্যে জেনেছো যে ফাইজ স্যার পড়ালেখার কারণে দেশের বাইরে গিয়েছে কয়েক মাসের জন্য আর উনার দায়িত্বটা উনার বড় ভাইকে দিয়ে গেছে তাই মিস্টার আদ্র এখানে গেস্ট টিচার হিসেবে জয়েন করেছে উনি কিন্তু বিদেশ থেকে পড়ালেখা করে এসেছে উনার মতো এখন মানুষ আমাদের এখানে জয়েন করেছে তার জন্য আমরা অনেক খুশি।উনি আজকে থেকে ক্লাস নিবে তোমাদের।

এ কথা শুনা মাএই ক্লাসের চার পাশে কেমন সোরগোল শুরু হয়েছে গেছে মেয়েরা তো আদ্রকে সুন্দর হ্যান্ডসাম সুদর্শন বলতে বলতে মুখে ফেনা তুলে ফেলছে।এদিকে রোদ এসব দেখে বেজায় গরম হয়ে যাচ্ছে এরা কী জীবনে ছেলে দেখেনি?এর মধ্যে তিহাও ফিসফিস করে বলে উঠল

—স্যারটা আসলেই হ্যান্ডসাম সুদর্শন আমি তো পুরা ফিদা হয়ে গেছি ফাইজ স্যারের চেয়েও বেশি সুদর্শন অবশ্য দু’ভাই কারো থেকে কেউ কোনো অংশে কম না

তিহার সাথে সাইফাও তাল মিলিয়ে বলল

— হ্যাঁ ঠিক বলেছিস কোনোটাকে ফেলে দাওয়ার মতো না আমি তো উনাদের দুই ভাইয়ের উপর ফিদা হয়ে গেছি।

ওদের কথা শুনে রোদ আদ্রের দিকে ভালো করে তাকালো কী আছে এই ছেলের মধ্যে সেও দেখবে। আদ্র এখন প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত। রোদ আদ্রের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত স্ক্যান করতে করতে চোখ যায় আদ্রের থুঁতনিতে থাকা সেই তিলটার দিকে কিছুক্ষণ আদ্রের তিলটার দিকে চেয়ে মনে মনে বলল

—লোকটা আসলেই সুদর্শন তবে আমার প্রিয় মানুষটর সাথে একটা জিনিসের খুব মিল সেটা হচ্ছে থুঁতনির তিলটা।তবে এই তিলটা লোকটার সৌন্দর্য আরো দ্বিগুণ করে দিলো না?ফর্সা থুঁতনিতে বেশ ফুটে উঠেছে তিলটা উফ

এসব ভাবতে ভাবতে মনে মনে আবার তওবা করলো কী সব ভাবছে সে?ছিঃ
এরি মধ্যে প্রিন্সিপাল স্যার বের হয়ে যায়।আদ্র সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গম্ভীর কন্ঠে বলল

—হ্যালো এভরিওয়ান লুক অ্যাট মি

সবাইকে তাকালো আদ্রের দিকে রোদও লড়ে চড়ে বসলো।

—আমার পরিচয় তো তোমরা জেনেছো বাকি রইল তোমাদের টা সেটা আস্তে আস্তে হয়ে যাবে এবার পড়ার বিষয় এ যাওয়া যাক?

সবাই শায় দিতেই আদ্র লেকচার দিতে শুরু করলো। রোদ একটা জিনিস ভালো করে খেয়াল করছে আসার থেকে আদ্র কোনো মেয়ে স্টুডেন্টের দিকে তেমন তাকাচ্ছে না চোখ নামিয়ে নামিয়ে কথা বলে বা ছেলের দিকে চেয়ে।তিহার কানে ফিসফিস করে বলল

—আচ্ছা তুই কী একটা জিনিস খেয়াল করেছিস তিহু এই স্যার মেয়েদের দিকে তাকাচ্ছে না

তিহাও রোদের মত ফিসফিস করে বলল

—হ্যাঁ রে আমিও সেটা খেয়াল করেছি স্যার মনে হয় মেয়েদের সম্মান করে এজন্য

—হতে পরে আবার নাও হতে পারে

রোদের কথায় তিহা চোখ ছোট ছোট করে বলল

—নাও হতে পারে মানে?

—মানে হচ্ছে খুবই সিম্পল এতো হ্যান্ডসাম ছেলের গার্লফ্রেন্ড থাকবে না এটা হতে পারে?হয়তো এক নারীতে আসক্ত এজন্য

—তাও ঠিক

এরি মধ্যে আদ্রের লেকচার দাওয়া শেষ পিছন থেকে কথার আওয়াজ অনুসরণ করে তাকাতেই থামকে যায়।সাদা কলেজ ড্রেস তার উপর সাদা এপ্রোন সাথে মাথায় সাদা হিজাব মাক্সে ভিতর সেই বাদামি চোখ গুলা যা দেখার পর তাকে থমকে যেতে বাদ্য করছে।আর এই দিকে আদ্রে এই চাহনি দেখে রোদ এলোমেলো দৃষ্টি ফেলছে শ্বাস বন্ধ করে রেখেছে এই বুঝি আদ্র দিলো ধমক সে ভেবেছে সে যে কথা বলছে এটা আদ্র শুনে নিয়েছে প্রথম দিন আসতে না আসতে রোদ ধমক খাবে এটা মান সম্মানের ব্যাপার।

ঘন্টার পড়াতেই আদ্রের ভাবনা ভাঙ্গে রোদের দিকে এক পলক চেয়ে বের হয়ে গেলো আদ্র বের হতেই রোদ আটকে রাখা শ্বাস টা ছাড়লো।পিছন থেকে তিহান গুঁতা মেরে ফিসফিস করে বলল

—চল আজকে কলেজ পাকি দিয়ে কোথাও গুরে আসা যাক এখন পেট মোটা স্যারে ক্লাস এ বেডার ক্লাস করতে একদম ভালো লাগে না

সাইফা আর তিহাও শায় জানিয়ে বলল

—হ্যা চল এই পেট মোটার ক্লাস করতে একটুও ভালো লাগে না

তবে রোদ রাজি না রোদ্র যদি জানে বকা দিবে এমনিতেই ছোট থেকে দেখে আসছে রোদ্র রোদকে নিয়ে বেশি সিরিয়াস কোথাও একা যেতে দেয় না যেখানেই জাবে সে নিজে নিয়ে যাবে।তবে রোদের না বেশিক্ষণ টিকলো না শেষমেষ রাজি হয়ে সব কয়টা সবার আড়ালে পিছনের দরজা দিয়ে বের হলো। বের তো হলো কিন্তু এখন কলেজের গেট পার হবে কেমনে গেটে দারোয়ান দাড়িয়ে আছে।


আদ্র অসিফ রুমে চেয়ারে বসে আছে বুক কাঁপছে ওর হার্টবিট ফাস্ট চলছে।একজনকে পাঠিয়েছে সে কখন মেয়েটাকে ডেকে আনতে কিন্তু মেয়েটা থাক দূরে সেও আসছে না।আদ্র মোবাইলের ওয়ালপেপারে দাওয়া ছোট আহির হাসি দাওয়া পিকটার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বিরবির করে বলল

—তোর কথা ভাবলেই আমার বুকটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।আমার কথা কী তোর একবারও মনে পড়ে না অবুঝ পাখি?

এরি মধ্যে কেউ বলে উঠলো আসতে পারি আদ্র আসার অনুমতি দিতেই লোক এসে জানায় মেয়েটা আর ওর বন্ধুরা কেউই ক্লাসে নেই এমন কী ওদের ব্যাগও নেই।

আদ্রের আর বুঝতে বাকি নাই এরা কলেজ পাকি দিয়েছে।

(যাদের টেলগ্রাম আছে তারা এই লিংক জয়েন হও প্লিজ আর হ্যা ভালো রেসপন্স করলে নিয়মিত এই গল্প আসবে এখন সব তোমাদের হাতে
https://t.me/revarixbot/app?startapp=6347845777

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply