কীভয়ংকরমায়া_তোর
পার্ট_২৪
লেখিকাআরিফাতাসনিম_তামু
কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ 🚫❌
রৌদ্রের রুমে বসে রাগে আদ্র ফোঁস ফোঁস করেছে।রুমের এককোণে রৌদ্র দাঁড়িয়ে আছে।সে ভুলেও আদ্রের ধারে কাছেও যাচ্ছে না। আর না গেলেও একটু পর যে ঘূর্ণিঝড় তার উপর দিয়েই বয়ে যাবে সেটা তার খুব ভালো করেই জানা আছে।অতিরিক্ত রাগে আদ্রের ফর্সা মুখশ্রী লাল হয়ে গেছে।নাকের আগাও টকটকে লাল হয়ে গেছে। টোকা দিয়েই যেন সেখান থেকে রক্ত ঝরবে।কপালের হাতের রগ গুলা পুলে উঠেছে। আদ্রকে পর্যবেক্ষণ করে রৌদ্র বিড়বিড় করে নিজেকে নিজেই বলল —
—লজ্জা পাচ্ছে নাকি এভাবে ব্লাশ করছে যে?আরে লজ্জা ফেলে আমাকে বলতে তো একবার পারতো তাহলে আমি ওড়না এনে নতুন বউয়ের মতো ঘোমটা দিয়ে বসিয়ে রাখতাম।
কথাটা বলে আদ্রের দিকে তাকাতেই রৌদ্রের মুখটা চুপসে যায়।আদ্র ওর দিকে খেয়ে ফেলার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।বেচারা রৌদ্র বুঝলো তার বিড়বিড় করে বলা কথাটা একটু জোরেই শুনা গেলো। যা আদ্রও শুনে নিয়েছে।রৌদ্র বোকা হেঁসে বলল
—হে হে আমি তো মজা করছিলাম সোনা।তুই আবার রাগ করছিস না।যাই বলিসনা কেন তোকে দেখতে কিন্তু সেই লাগছে একদম পাকা টমেটোর মতন।
এমনিতেই রাগে আদ্রের শরীর জ্বলে যাচ্ছে তার উপর রৌদ্রের কথা আগুনে ঘ্রী ডালার মতো লাগলো।আদ্রের এতো রাগের কারণ হচ্ছে একটু আগে সে রৌদ্র দুজন মিলে নিচে ড্রয়িং রুমে যেতে নিবে। কিন্তু সিঁড়ি কাছে গিয়ে দেখতে পায় ড্রয়িং রুমে সোফায় বসা ফাহিদ এক দৃষ্টিতে রোদের দিকে চেয়ে আছে।আর রোদ নিচে দিকে তাকিয়ে বসে আছে পাশে ফাহিদের বোন ফারাহ তাকে এটা ওটা বলছে সাইফা ও আছে। বড়রা কেউ-ই নেই।এই দৃশ্য দেখার পর আদ্রের মাথা গরম হয়ে গেলো।নিচে না নেমে উল্টো হেঁটে রৌদ্রের রুমে এসে বসে রাগে ফোঁস ফোঁস করছে।রৌদ্রও আর নিচে যায়নি। সেও আদ্রের পিছন পিছন রুমে এসে এককোনায় দাঁড়িয়ে আছে।
—কী আছে ওই ডাব্বাওয়ালার মাঝে যে তোর বোন তার প্রেমে পড়লো?আমার এতো ভালোবাসা কী তার চোখে পড়ে না?আমার ১৫ বছরের ভালোবাসার চেয়ে ওই ডাব্বাওয়ালার দুইদিনের ভালোবাসা তোর বোনের কাছে বেশি হয়ে গেলো?
চেঁচিয়ে বলে উঠলো আদ্র।রৌদ্র এবার আর দাড়িয়ে না থেকে এগিয়ে এসে।আদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে শান্ত স্বরে বুঝানোর ভঙ্গিতে বলল
—আদ্র শান্ত হ।দেখ এখানে বনুর ও দোষ নেই। ওর এখন আবেগের বয়স এই বয়সে সবারই কারো না কারো প্রতি একটু আধটু ভালো লাগা কাজ করে।বনু ক্ষেএেও তাই হয়েছে। কিছুদিন পর দেখবি ও নিজ থেকে দূরে সরে যাবে।আর ওর তো এখন স্মৃতি নেই। ক
রৌদ্র আর বলতে না দিয়ে আদ্র অতিরাগে হুঁশ হারিয়ে রৌদ্র কে ধাক্কা দিয়ে বলে উঠলো
—হ্যাঁ তো বোন দুধে ধোঁয়া তুলশী পাতা। কীভাবে ওই ছেলের সামনে বসে ছিলো তোর চোখে পড়েনি সেটা?দোষ তো আমারই নিজের সবটা দিয়ে তোর বোনকে ভালোবাসাই আমার জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল চিলো।আম”
আর বলতে পারলো না ডান পাশ ফিরে তাকাতেই আদ্রের হুঁশ ফিরে।নিচে কপালে হাত চেপে বসে আছে রৌদ্র কপাল বেয়ে তাজা রক্ত ঝরে পড়ছে।রৌদ্র স্বাভাবিক ভাবেই আদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো আদ্র যে ধাক্কা দিবে বুঝতে পারেনি।আর আদ্রও রাগের বসে ধাক্কা দিয়ে পেলেছে আর রৌদ্র ডান দিকে ব্রেড সাইড ছোট্ট কাঁচের টেবিলের সাথে কপাল ঠেঁকে কিছুটা কাটা যায়।আদ্র তড়িঘড়ি করে উঠে রৌদ্রকে ধরে উঠিয়ে অসহায় কন্ঠে বলল
— সরি ভাই আমি ইচ্ছে করে ধাক্কা দি নি।দেখি কতটা কেটেছে।
বলেই খাঁটে বসিয়ে রৌদ্রের হাত ছাড়িয়ে দেখতে লাগলো।বেশি না একটু কেটেছে। আদ্র দ্রুত ফাস্ট এইড বক্স এনে।ঔষধ লাগিয়ে একটা ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দেয়।আর এই পুরোটা সময় রৌদ্র মুচকি হেঁসে আদ্র’কে দেখছিলো।পুরোনো একটা কথা মনে পড়ে গেলো রৌদ্রের
অতীত
স্কুল শেষে আদ্র আর রৌদ্র ক্লাসের কিছু ছেলেদের সাথে মাঠে নেমে ক্রিকেট খেলছিলো।রৌদ্র বল করছে আর বিরোধী দলের একজন ব্যাটিং করছে।ব্যাটিং করা ছেলেটা আউট হয়ে যায় কিন্তু সেই দলের কেউই মানতে চায় না।এক পর্যায় কথা কাটাকাটি হয়ে ঝগড়া বেঁধে যায়।একটা ছেলে পিছন থেকে ব্যাট দিয়ে রৌদ্র কে আঘাত করতে যাবে আদ্র ব্যাট ধরে গরম চোখে ছেলেটার দিকে চেয়ে শক্ত কন্ঠে বলল
—ওর গায়ে একবার হাত দিয়ে তো দেখ। হাত আর হাতের জায়গায় রাখবো না।
এই বলে ছেলেটাকে ধাক্কা দিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠলো
—আদ্র শরীরে প্রাণ থাকতে রৌদ্রের শরীরে সামান্য আঁচড় ও লাগতে দিবে না।
রৌদ্র ছলছল চোখ এক দৃষ্টিতে আদ্রকে দেখছিলো।এরি মধ্যে আদ্র ছেলেটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো।বিরোধী দলের ছেলেরাও ক্ষেপে যায় আরো।রৌদ্র চেয়েও আদ্রকে থামাতে পারছে না।বিরোধী দলের একটা ছেলে মোটা একটা লাঠি দিয়ে আদ্রের মাথায় বাড়ি দিতে নিবে রৌদ্র সেটা দেখে আদ্রকে ছেড়ে লাঠিটা শক্ত করে চেপে ধরে রক্তচক্ষু নিক্ষেপ করে ছেলেটার দিকে চেয়ে আদ্রের মতো চেঁচিয়ে বলে উঠলো
—রৌদ্রের দেহে প্রাণ থাকতে আদ্রের শরীর থেকে একফোঁটা রক্তও ঝাড়তে দিবে না।
এরপর দুই বন্ধু একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে ঝাপিয়ে পড়লো ছেলেগুলার উপর।এমন কেলানি দিয়েছে সবকটাকে হসপিটালে পাঠিয়েছে।
—খুব বেশি ব্যথা করছে?
আদ্রের কথায় রৌদ্রের ধ্যান ভাঙ্গে।সে মুচকি হেঁসে বলে
—তোর মতো এমন একটা বন্ধু থাকলে ব্যথা লুঙ্গি তুলে দৌড়ে পালাবে।
রৌদ্রের কথায় আদ্র অল্প হাসলো।এই ছেলের কথা কী আর বলবে সিরিয়াস সময়ও এর মুখ থেকে আলতো ফালতু কথা বের হবেই।তবে রৌদ্রের কথা গুলা শুনতে আদ্রের অনেক ভালো লাগে। উপরে রাগ দেখালেও ভিতরে বেশ ভালো লাগে মনে মনে হাসে।
আদ্রকে কেউই জোর করে আজকের রাতটা রাখতে পারছে না।সে থাকবে না মানে থাকবেই না।রাইসা বেগমও কম কিসে থাকবে না মানছে বাট না খাইয়ে ছাড়বে না।আদ্রও মেনে নেয়।ড্রয়িং রুমের সোফা বসে মোবাইল টিপছে।রৌদ্র বোনের পাশে বসে আছে।নিচে নামার পর রোদ তাকে পাগল বানিয়ে ফেলছে প্রশ্ন করতে করতে।কীভাবে কাটা গেলো?বেশি রক্ত ঝড়েছে কিনা?ব্যথা করছে কিনা?আরো অনেক কিছু।রৌদ্র শান্ত স্বরে বোনের প্রশ্নের উওর দিচ্ছে।আদ্রের কথা এড়িয়ে বলল বাথরুম পা পিছলে পড়ে গেছে।আদ্র মাঝে মধ্যে আড়চোখে দুই ভাই বোনকে দেখছে।ফারাহ রোদের পাশে বসে হা করে আদ্রকে দেখছে।আদ্র সেটাও লক্ষ্য করে বিড়বিড় করে বলে
—যার হা করে তাকিয়ে থাকার কথা সে তো চোখ তুলেও তাকাচ্ছে না।আর একে দেখো হা করে তাকিয়ে যেন মশাদের বলছে আয় আমার মুখে এসে ডুক তোদের জন্য দরজা খুলে রেখেছি হুম।
রৌদ্রও সেটা খেয়াল করলো।সে বোনের পাশ থেকে উঠে।ফারাহ মুখটা বন্ধ করে বলল
—মশা ডুকবে।
সঙ্গে সঙ্গে ফারাহ কেঁশে উঠলো।সত্যি মুখে মশা ডুকে গেছে।সে দ্রুত উঠে দৌড় মারলো।রোদ মুখ বেঁকালো।ফাহিদ নেই এখানে জরুরি কল আসায় একটু বাইরে গিয়েছে।রৌদ্রের ফোন আসায় সে এক সাইডে চলে যায় এখন এখানে রোদ আর আদ্র।আদ্র নিজের মতো করেই ফোন দেখছে।রোদ উশখুশ করছে কিছু বলার জন্য। আশেপাশে তাকিয়ে মিনমিন করে বলল
—সবাই এতবার করে বলছে যখন থেকে যান রাতটা।অনেক রাত হয়ে গেছে।বিপদ হতে পারে।
কথাটা কানে যেতেই তাড়াক করে আদ্র রোদের দিকে চাইল।সে আশা করেনি তার বার্বিডল তাকে এটা বলবে। তার জন্য মেয়েটা চিন্তা করছে? মনে মনে খুশি হলেও মুখে স্বাভাবিক ভাবেই বলে
—সবাই কোথায় বলল?কই তুমি তো একবারও বলোনি?
আদ্রে কথায় রোদ আমতা আমতা করতে থাকে।সে বললে কী লোকটা থেকে যেতো নাকি?এতগুলো মানুষ বলে কাজ হলো না আর সে বললেই হয়ে যেতো?আম্মু আব্বু ভাইয়া কত জোর করেছে।গাড় ত্যাড়া লোকটা থাকবেই না আর এখন কী বলছে সে বলেনি একবারও।
—এখন তো বলছি থেকে যান।
কথাটা বলেই অস্বস্তিতে পড়ে যায়।লোকটা যদি কিছু মনে করে?রোদের কথায় আদ্রের ঠোঁটের কোণে হাঁসি ফুটে।
—তুমি বলছো থাকতে?
—হুম
ছোট করে ‘হুম’বলে রোদ দ্রুত উঠে চলে গেলো।তার কেন যেন লজ্জা লাগছে।সে কেন বলল কথা গুলা তার জানা নেই।তবে মন চেয়েছে বলে দিয়েছে।লোকটা যা ভাবার ভাবুক হুম তাতে তার কী?এই দিকে আদ্র রোদের পালানোর দিকে অপলক চেয়ে আছে।মুখ থেকে হাসিই সরছে না।
—আমাকে বলিস আমি পাগলের মতো হাসি।এখন তুই কেন একা একা পাগলের মতো হাসছিস?
রৌদ্রে কথায় আদ্র পাশ ফিরে চাইল।রৌদ্র তার দিকে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে আছে।
—বউয়ের বড় ভাই সমন্দী আজকে কোথাও যাচ্ছি না।বউয়ের কাছে থাকবো।
—মানে?
—তোর এতো মানে টানে বুঝতে হবে না।বউ চেয়েছে আজকে আমি তার কাছে থাকি।আর আমিতো বরাবরই বউয়ের বাদ্য স্বামী তাই আবদার টা ফেলতে পারলাম না।
[অনেক ব্যস্তার মাঝে লেখলাম ভালো হয়নি জানি।তবুও এইটুকু কেমন হলো তোমরা বলিও]
চলবে,,,,,
Share On:
TAGS: আরিফা তাসনিম তামু, কী ভয়ংকর মায়া তোর
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর গল্পের লিংক
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২৩
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ২১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১২
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৬
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৫
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ৭
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১
-
কী ভয়ংকর মায়া তোর পর্ব ১৯