Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২


কিসঅফবিট্রেয়াল

পর্ব_০২

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
চোখের উপর পানিতে ভেজা কাপড় পড়তে সেরিন পিট পিট করে ওঠে।
চোখটা হলাকা খোলার প্রচেষ্টা তার, মস্তিষ্ক যেমন কাজ করা বন্ধ করেছে। তেমনই গোটা মাথাটাই প্রচন্ড ভার এবং অসহনীয় যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিমুল, সেরিনের হাতে হাত রাখে,

“থাক চোখ খুলিস না। ডক্টর এসেছিল। তোকে লবন জলের পটি দিতে বলেছে। তাই দিচ্ছি।”

সেরিন কোন শব্দ করল না কথাটা শোনার পর।
রুমের ডান দিকে বিরাট এক জানালা।
গ্লাস খুলে দিতেই সমুদ্রের কূল এবং সেদিক থেকে ধেয়ে আসা বাতাসের অপূর্ব এক প্রাকৃতিক মিশ্রণ।
কিছু নরকল গাছ আকাশের দিকে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
একটি ৫ তারকা হোটেলের সব থেকে সুন্দর ভিউ এনজয় করার মত জায়গা। সেই রুমটাই সেরিনের।
জানালার পাশেই দাঁড়িয়ে সিগারেট টানছে কায়ান।
মেহেরীণ বাচ্চা দের নিয়ে রুমে চলে গিয়েছে।
কায়ান ডক্টর নিয়ে আসার পর ডক্টর ঔষধ দিয়ে চলে গিয়েছে। রেস্ট করতে বলেছে সেরিনকে।
আপাততঃ রুমে শুধুমাত্র সেরিন, শিমুল, জেবরান এবং কায়ান উপস্থিত।
জেবরান ভাইকে এত গুলো সিগারেট টানতে দেখে কিছুটা অবাক হলো।

“ভাইয়া, আপনি ঠিক আছেন?”

কায়ান, হাতের সিগারেট ডাস্ট কৌটায় ফেলে গম্ভীর কন্ঠে উত্তর দেয়,

“কেন?”

“না মানে এত গুলা সিগারেট আপনি সচরাচর…. “

থেমে যায় জেবরান। বড় ভাইয়ের উপর এর থেকে বেশি কথা বলার সাহস তার নেই।
সেরিনের কানে যখন কায়ানের গম্ভীর কন্ঠ ভেসে আসে তখন তার ভেতরটা কেমন করতে শুরু করে।
সেরিন বোনের হাত শক্ত করে ধরে।
শিমুল তা দেখে, সেরিনের দিকে ঝুঁকে যায়,

“সেরিন কিছু লাগবে বোন আমর?”

“আপু।”

“বল?”

“আজ রাতে এখানে থাকবে?”

“হ্যাঁ থাকবত। তোকে একা রেখে কোথায় যাব?”

সেরিন শস্তি পায়। সে হাতটা সরিয়ে নিয়ে বাম দিকে কাত হয়ে গেল।
অনেকটা সময় সোজা হয়ে থাকার কারণে কোমড় যন্ত্রণা করছে।

কায়ান বাঁকা হাসে। মনে মনে বলে,

“মাই ‘নাইট লিলি’ ইজ স্কেয়ার্ড। তাকে, আমার জন্য ভয় পেতে দেখাটা সো ফাকিং আমেজিং।”

“ভাইয়া ডিনার করতে যাবে না? “

“না, তোরা যা ততক্ষণ আমি আছি সেরিনের পাশে। শিমুল এলে এরপর আমি চলে যাব।”

শিমুল ফিরে চায় কায়ানের দিকে। কায়ান কে সে সম্মান করে। কায়ানের এমন আচরণ তাকে আরও বেশি সম্মান করতে বাধ্য করে,

“ভাইয়া আপনি থাকবেন?”

“এনি ডাউট?”

“না না ভাইয়া।”

“শিমুল চলো তাহলে।”

“চলো।”

শিমুল এবং জেবরান বেরিয়ে যায়। ততক্ষণে সেরিন প্রায় ঘুমের প্রভাবে মাতাল।
এমনিতেই চোখ পুড়ছে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা দিচ্ছে।
তার উপর শরীরটা যেন এক অদ্ভুত যন্ত্রণায় কাতর হয়ে আছে। জ্বরের তীব্রতা একটু কমেছে কিনা বলা মুসকিল।

কায়ান, সেরিনের পাশে বসে। নিজরে পাশে কারোর উপস্থিতি বেশ অনুভব করল সেরিন।
ভেবেছে হয়ত আপু।
কিন্তু হটাৎ করেই কপালে পুরুষালি স্পর্শ পেয়ে নিজের সর্বোচ্চ টা দিয়ে চোখ দু’টো খুলল সেরিন।
ভয়ানক রক্তিম হয়ে আছে চোখ জোড়া।
কায়ান, সেরিনের চোখে হাত রাখে,

“চোখ খুলেছো কেন? কষ্ট হচ্ছে না?”

“আপনি চলে জান প্লিজ।”

“কেন সেরিন? আমাকে কি এতটাই অপছন্দ? “

সেরিন নিজের যুক্তি তর্ক সব হারিয়েছে। সে এই মুহুর্তে পারছে না যুক্তি দিয়ে তর্কে জড়াতে।
এ কেমন মায়াজাল।
কায়ান, সেরিনের কপাল থেলে চুল গুলো সরিয়ে দেয় আলতো করে।

“সেরিন, সুইটহার্ট, বিহেব লাইক নাথিং হ্যাপেন্ড। এত প্যারা তুমি একা নিলে আমি কি নিব বলো? আমাকে ছেড়ে দেওনা প্যারা নিতে। দেখবা তুমি কোন উপায় পাচ্ছো না রাগ করার।”

সেরিন, নিজের কপাল থেকে কায়ানের হাতটা এক ঝটকায় সরিয়ে দেয়। নিজের অবশিষ্ট শক্তি টুকু দিয়ে নিজেকে সরিয়ে নেয় কায়ানের থেকে।
কায়ান তখনো নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। যে হাতটা সেরিন ঝটকা দিয়েছে।

“ঘৃণা হচ্ছে আমার। দয়া করুন। বেরিয়ে জান। প্লিজ।”

কায়ান শান্ত কিংবা ধৈর্য রাখার মত মানুষ নয়। তবে সে এই মুহুর্তে চুপ আছে। সেরিনকে কষ্ট দিলে ইতে বিপরীত হবে।

“সেরিন, তুমি কি চাইছো তোমার সাথে খারাপ কিছু হোক?”

সেরিন, চোখ জোড়া বন্ধ করে নেয়।

“কি চান আপনি?”

“চাওয়ারত কিছু নেই সেরিন। ইউ আর মাইন। এন্ড দ্যাটস দ্যা অনলি ট্রুথ৷”

“আর এসব কবে থেকে হলো?”

“কোন সব?”

“এই যে আমি আপনার এইটা৷”

“সুইটহার্ট এটাত তোমার জন্ম থেকেই। তুমি জানোনা
স্ত্রী কে বানানো হয় স্বামীর বাঁকা পাজড়ের হাড়ের ন্যায়৷”

সেরিন বিরক্ত। আর তর্ক করতে পারছে না সে। কায়ান বাঁকা হাসে,

“সেরিন, আমি কেন টিনএজ নই। তাই আমাকে কোন টিনেএজ এর মত নিজের অবাধ্য গুলোকে মানাতে চাইও না। আমি যদি তোমাকে না মানাতে পারি তাহলে পিটিয়ে সোজা করব। সো বি কেয়ার ফুল।”

সেরিন পাশ থেকে কুসুম বালিস দিয়ে কায়ানের দিকে নিক্ষেপ করে,

“নিচ। নিচ আপনি!”

কায়ানশ সেটা ফট করেই ক্যাচ করে নিলো।

“সুইটহার্ট, অনলি ফর ইউ৷”

কায়ান এগিয়ে সেরিনের চোয়াল ধরে নিজের দিকে ফেরায়,

“আমাকে রাগাতে এসোনা। আমার ক্রোধের আগুন কোন সাধারণ আগুন নয় মেয়ে। এটা দাবানল। তোমার গোটা পৃথিবীকে এক সেকেন্ডে ধ্বংস করে দিতে পারে। সো বি কেয়ারফুল মাই ডিয়ার সেরিন।”

সেরিনের চোখে পানি। অসুস্থতার এক যন্ত্রণা আর এটা আরেক যন্ত্রণা।
দু’টো মিলিয়ে সে পাগল প্রায়।
সেরিনের দোয়াতে একটা বিষয় বার বার প্রতিফলিত হচ্ছে। কোথা থেকে কোন কিছু হয়ে যাক, এসব ঘটনা শুধুমাত্র একটা দুঃস্বপ্ন হিসাবে থেকে যাক।

কায়ান সেরিনের কপালে হাত বুলিয়ে দেয়।

“স্লিপ ওয়েল। রাতে দেখতে আসব৷ গুড নাইট।”

কায়ান কথাটা বলে উঠে দাঁড়ায়।
সেরিন একটা শস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

কায়ান সেরিনের রুম থেকে বের হতেই সামনে কারোর সাথে ধাক্কা খায়।
কায়ান সোজা তাকায়। মেহেরীণ দাঁড়িয়ে।

“হোয়াট হ্যাপেন্ড?”

“নাথিং কায়ান। বাচ্চা রা ঘুমিয়ে গেছে ভাবলাম সেরিনকে দেখে আসি।”

“সি ইজ স্লিপিং। ডিসটার্ব না করাই ভালো।”

“ওকে। ডিনার করেছো?”

“না আমার ক্লাইন্ট আসবে। আমি রেস্টুরেন্টে যাচ্ছি।”

“ওকে টেক কেয়ার।”

“বাই। “

কায়ান বেরিয়ে যায়। মেহেরীণ সে দিকে তাকিয়ে রয়।

“কায়ান, প্লেইং ডার্টি লিটিল গেইম।
আমি থাকতে সব কিছু এত সহযে হয়ে যাবেনা মি. সিকদার কায়ান মাহাবুব।”


ডিনারে হোটেল থেকে বুফে ছিল। শিমুল খেতে খেতে মায়ের কল আসে।
শিমুল এবং সেরিন দুই বোন। ওদের কোন ভাই নেই। সেরিন সবে অনার্সে ভর্তি হবে। শিমুলের অনার্স শেষ।
মা বাবার দু’টো মাত্র সন্তান তারা তাই ছোট থেকে বেশ আদর পেয়েছে।
শিমুলের বিয়ের পর, সেরিন বেশ কয়েকবার চট্রগ্রাম আসলেই। ইন্টার পরিক্ষা শেষে সেরিনকে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করার পরামর্শ দেয় শিমুল। তাদের বাড়ির দিকে বিশ্ববিদ্যালয় যেমন নেই তেমই সেরিন একা তেমন একটা থাকেনি।
তবে সেরিন এক্সাম দিয়েছে ফলাফল এখনো আসেনি।
সেরিনের কপালে আরও কি কি কাকতালীয় আছে সেটা সেরিন বোধহয় নিজেও জানেনা।

“আম্মা।”

“কিরে সেরিন কোথায়? রোজ পাগল বানিয়ে দেয় ফোন দিয়ে আজ দিল না।”

“মা সেরিন আজ সমুদ্র ভিজেছে অনেকটা সময়। তাই জ্বর এসেছে।”

“কি বলিস আমাকেত জানালি না।”

“আমি ব্যস্ত ছিলাম ওকে নিয়ে। বোঝইত এটাত টুরিস্ট স্পট। ভাগ্য ভালো কায়ান ভাইয়া ছিল। নাহলে ডক্টর কোথায় পেতাম।”

“হ্যা রে কায়ান ছেলেটা আসলেই ভালো। অনেক সাহায্য করে সবাইকে।”

“সেটাই। আমি সেরিনকে বাড়িতে পাঠাতে পারব না। কিছু দিন রাখব আমার কাছে। দুর্বল হয়ে গেছে মেয়েটা।”

“সমস্যা নেই রাখিস। এমনিতেও সে জার্নি করতে পারেনা। এই অবস্থায়ত পারবেই না। আর ওর রেজাল্টওত দিবে তাইনা।”

“হ্যাঁ ভর্তি হয়ে গেলে তোমরা একবার এসো। ওকে আর পাঠাব না। আসার দিনও ভয়ঙ্কর রকমের অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।”

“আচ্ছা মা খেয়াল রাখিস সেরিনের।”

“আচ্ছা রাখছি।”

“আচ্ছা।”

শিমুক কল কেটে দেয়। জেবরান খাবার হাতে নিয়ে কিছু একটা ভাবছে শিমুল তা দেখে অবাক হয়,

“জেবরান,”

“হু?”

“কি হয়েছে?”

“কিছু না।”

“চিন্তিত কিছু নিয়ে?”

“না। মেহেরীণ ভাবিকে দেখেছো।’

” কি দেখব?”

“আমার মনে হচ্ছিল উনি কিছু নিয়ে আপসেট৷”

“হয়ত সেরিনকে নিয়ে।”

“হয়তবা৷”..

দু’জন খাবারে মনোযোগ দেয় পুনরায়।

চলবে?

[।গল্প সম্পর্কে যে কথা। সেটা হলো। রহস্য আছে প্রচুর। দয়া করে ধৈর্য ধরুন। থ্রিলার একটা ভাইব পাবেন ইনশাআল্লাহ। আর কায়ান। মোস্ট রহস্যময় চরিত্র সাথে মেহেরীণও। সো রেসপেক্ট ফর নেক্সট পার্ট]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply