Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১


বড় বোনের ভাসুরের ফোনে নিজের অর্ধনগ্ন কিছু ছবি দেখে নিজের স্থানে তগদা মেরে দাঁড়িয়ে আছে সেরিন।
জমাট বাধা সিমেন্টের ন্যায় তার পা দু’টো সমুদ্রের বালির মাঝে আঁটকে আছে।
সামনে থেকে আছড়ে পড়া বিশাল সমুদ্রের ঢেউ গুলো ক্রমশ কোমড় পর্যন্ত উঠে যাচ্ছে।
সে দিকে সেরিনের কোন ধ্যান নেই।
তার দৃষ্টি ফোনের স্ক্রিনের দিকে স্থির। হাত পায়ে কম্পন সৃষ্টি হচ্ছে ক্রমশ। মনে হচ্ছে পৃথিবী উল্টো দিকে ঘুরছে।

“সেরিন ছবি তুললে?’

মেহেরীণ ভাবির ডাকে সেরিনের ধ্যান ফিরল।
স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে সামনে তাকালো৷
কারোর লালসার দৃষ্টি তার দিকেই স্থির অথচ হাতে তার ছোট ছেলের হাতটা৷
ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে কোন পুরুষ অন্য নারীর দিকে নিজের এমন দৃষ্টি নিক্ষেপ করতে পারে এটা কি অদও সম্ভব।
সেরিনে মনে প্রাণে দোয়া করছে এটা হোক না একটা দুঃস্বপ্ন। ঘুম থেকে উঠলে সবটা সাভাবিক হয়ে যাক।
সেরিন এসব ভাবছিলই হটাৎ কারোর ঠান্ডা স্পর্শ হাতে অনুভব করে চোখ তুলে তাকায় সে।
সিকদার কায়ান মাহাবুব , ঠোঁটের কোণায় বাঁকা হাসি। হাসিটা যেন সেরিনকে চিৎকার করে জানান দিচ্ছে সে এই মুহুর্তে এই ফোনে যা যা দেখেছে সব সত্যি।
মোলায়েম গাত্রবর্ণের পুরুষ সে। সমুদ্রের ঢেউয়ের ন্যায় কুঞ্চিত কেশ তার। নয়ন দ্বয় গভীর বাদামী রঙা ভয়ঙ্কর সুন্দর। ৩০ উর্ধে বয়স তার। তারই সাথে ২ টা ছোট ছোট সন্তানের বাবা সে।
নামের মাতই তার ক্ষমতা এবং সমাজে উচ্চ পদমর্যাদা প্রকাশ পায়।
কথায় আছে ঐশ্বর্য ক্ষমতা বয়ে আনে। এই পুরুষটির ক্ষেত্রেও তাই। ঐশ্বর্য তার ক্ষমতা বয়ে এনেছে।
ঠান্ডা স্পর্শ টা হাতের উপর থেকে নেমে কব্জি পর্যন্ত পৌঁছে যেতে সেরিনের ধ্যান ফিরে।
সে এক ঝটকায় নিজের হাত সরিয়ে নেয়৷

” ভ ভাইয়া আপনার ফোন৷”..

কায়ানের ঠোঁটে তখন মিষ্টি হাসি,

“রিলাক্স সেরিন। ভুত দেখে ফেলেছো নাকি? এমন চমকে উঠলে যে?”

সেরিন বুঝতে পারছে সে কি করবে বা কি বলবে। সেরিন নিজের চুল কানের পেছনে গুঁজে নিজের অবস্থান থেকে দু কদম সরে দাঁড়ায়,

“ভাইয়া আমি রুমে যাই আমার শরীর টা ভালো লাগছে না।”

কায়ান তখনো এক দৃষ্টিতে সেরিনের দিকে তাকিয়ে আছে। সেরিন নিজের দিকে তাকায়। পানিতে ভিজে সাদা জামাটা লেপ্টে আছে শরীরের সাথে।
কায়ানের দৃষ্টি সেগুলোই পর্যবেক্ষণ করছে। যেন জমা ভেদ করেই সে দৃষ্টি আরও ভেতরে চলে গিয়েছে।
সেরিন পিছিয়ে যেতে নিলে একটা পাথরে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নেয়।
তবে নিচে পড়ার আগেই শক্ত দু’টো হাত সেরিনের কোমড় জড়িয়ে ধরে ।
সেরিন চোখ খুলে তাকায়। কায়ান হাত তখন সেরিনের কোমড়ে আর তার বাদামী চোখ জোড়, সেরিনের মায়াবী নয়নের দিকেই স্থির।
সেরিন নিজের সিচুয়েশন আন্দাজ করে নিজেকে ছাড়াতে চায় কায়ানের কবল থেকে৷ কিন্তু না এক দন্ড নিজের থেকে আলগা করতে পারল না সে কায়ান কে। উল্টে ক্রমশ লোকটার মুঠো যেন আরও শক্ত হচ্ছে, সেরিনের কোমড়ে।
সেরিন ভেতর থেকে প্রচন্ড ভিত অনুভব করছে এই মুহুর্তে। কায়ানের স্পর্শ তার কোমড়ে রক্তিম ক্ষতচিহ্ন ফেলে দিয়েছে।
এরই মাঝে মেহেরীণ এগিয়ে এসেছে সেরিনের দিকে,

“হেই সেরিন, কি হয়েছে? কায়ান হোয়াটস গোইং অন হেয়ার?”

কায়ান, সেরিনকে এক সেকেন্ডও নিলনা ছেড়ে দিতে। সেরিনকে ছেড়ে সে মেহেরীণের কোমড় জড়িয়ে ধরল। মুহুর্তেই গিরগিটির রং বদলায়,

“ডার্লিং দেখোনা সেরিন হয়ত অসুস্থ বোধ করছে।”

“সেরিন, আর ইউ ওকে?”

সেরিন, তুতলে যায়। তার মস্তিষ্কের উপর বিরাট এত ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। সে এই মুহুর্তে সঠিক ভুলের হিতাহিত জ্ঞান টুকু হারিয়েছে। হটাৎ করেই এমন অপ্রত্যাশিত ঝটকা খেয়ে সে সাচ পাঁচ ভাবার মত অবস্থায় নেই।

” আ আব। ভ ভাবি। আপু কোথায়?”

“শিমুলত হোটেল রুমে জেবরানের সাথে।”

“ও। আসলে আমার অসুস্থ লাগছে। আমি একটু রেস্ট নিতে চাই৷”

“ইয়াহ সিওর,
ডার্লিং তুমি যাও সেরিনকে রুম পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এসো।”

কায়ানের চোখ দু’টো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু সেরিনের মুখশ্রী পুনরায় ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে।
কায়ান, মেহেরীণের গাল টেনে দেয় আলতো করে,

“এই প্রথম কোন ভালো কথা বলেছো ডার্লিং।”

“ও মাই হাসবেন্ড, আমি সব সময় ভালো কথাটাই বলি।”

সেরিন তুলতে যায় পুনরায়,

“ন না তার প্রয়োজন নেই। আমি চলে যাব।”

মেহেরীণ ভ্রু কুঁচকে তাকায়,

“না সেটা কি করে হয়। তোমার শরীর দেখো কাঁপছে। হয়ত ঠান্ডা লেগে গিয়েছে। কায়ানের সাথে যাও। কায়ান ফিরে এসে আমাকে আর বাচ্চা দের নিয়ে যাবে। তাইনা?”

কায়ান, মেহেরীণের হাতে চুমু খায়,

“জীবনের প্রথম কোন সুবুদ্ধি দিয়েছে ডার্লিং।”

“আমি সব সময় সুবুদ্ধি দেই।”

মেহেরীণ কথাটা বলে নিজের বাচ্চা দের দিকে অগ্রসর হয়।
সেরিন সেদিকে তাকিয়ে রয়।
সেরিনের ভেতরে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। তর্ক বিতর্কে সে কিভাবে জড়াবে। আদও জড়াবে কিনা।
সেরিনের ভাবনার মাঝেই সে অনুভব করে সে হাওয়াতে ভাসছে। সেরিন হন্তদন্ত হয়ে সামনে তাকায়। কায়ান তাকে কোলে তুলেছে।

“ভ ভাইয়া কি করছেন ছাড়ুন। আমি হাঁটতে পারব৷”

“এত টুকুনইত শরীর তোমার। এত কাপাকাপি করলে হাঁটবে কিভাবে? আমাকে, তোমায় ক্যারি করতে দেও। “

সেরিন, রায়ানের বুকে হাত ঠেকিয়ে নিজের থেকে দুরে ঠেলার চেষ্টা করে,

“ভাইয়া প্লিজ ছাড়ুন আমার অসহ্য লাগছে।”

“মাঝে মধ্যে কিছু কিছু অসহ্য কে সহ্য করা শিখতে হয় সেরিন। নাউ জাস্ট সাট আপ, এন্ড আমাকে আমার কাজ করতে দেও।”

সেরিন আরও কিছু বলবে তার আগেই তারা হোটেল রুমে পৌঁছে গিয়েছে।
কায়ান সেরিনকে কোল থেকে নামায়।
সেরিন সোফার উপরে থাকা টাওয়াল পেঁচিয়ে নেয়।

“ভ ভাইয়া, মেহেরীণ ভাবি আপনাকে খুঁজবে। আপনি আসুন আমি ঠিক আছি৷”

কায়ানের ঠোঁটে বাঁকা হাসি। সে এক দুই পা করে সেরিনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগে।
সেরিন ভয়ে পিছিয়ে যেতে শুরু করে।
একটা সময় সেরিনের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়।
সেরিন এদিক ওদিক তাকায়৷
কায়ান নিজের দু হাত সেরিনের দু পাশে ঠেকিয়েছে,

“সেরিন, মাই ইনোসেন্ট বেবি, তুমি যা দেখেছো সব সত্যি। হ্যাঁ আমার ফোনেই দু’টো ফোল্ডার গ্যালারিতে। একটাতে আমার আর বাচ্চা দের অল্প কিছু ছবি। বাকি একটা সম্পূর্ণ তোমার ছবি।
তুমি ঠিকই দেখেছো এবং ঠিকই বুঝেছো।
ঠিক আমার গ্যালারির মতই মেহেরীণের আমার জীবনে কোন জায়গা নেই।”

কায়ানের পুরো কথা শেষ হতে না হতেই ওর গালে একটা থাপ্পড় পড়ল।
সেরিন নিজের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে মেরেছে থাপ্পড় টা। রাগে দুঃখে সেরিনের শরীর কাঁপছে ভয়ঙ্কর ভাবে,

” নিচ, এতটা নিচ কিভাবে হলেন? আপনার বাচ্চা দের কথাটা মনে পড়ল না। ওরাত আপনাকে নিজের সব মনে করে। ওদের জন্য আপনি ওদের দুনিয়া। “

কায়ান জিহ্বা দিয়ে গালের ওই অংশটা পোক করে,

“মাই নাইট লিলি ইউ আর স্ট্রং। ভেরি স্ট্রং। দ্যাট স্লাপ ওয়াজ নিউ ফর মি। ভেরি নিউ।
জানো নাইট লিলি আমার শরীরে এর আগে কখনো আমার বাবা মাও হাত দেয়নি। “

কায়ান ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছিল, সেরিন সেটা অনুভব করে নিজেকে ছাড়াতে চাইলে কায়ান, সেরিনকে ধাক্কা মেরে সোফায় ফেলে।
কায়ানের এই মুহুর্তে প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। সে মেনে নিতে পারছে না থাপ্পড় টা।
ধাক্কার তীব্রতায় সেরিন নিজেকে ধরে রাখতে ব্যার্থ হয়।
সোফার কোণায় লেগে মাথাটা ঝিম ঝিম করে ওঠে।

“লিসেন, মাই নাইট লিলি, সিগদার কায়ান মাহাবুব এতটা ইজি নয় যতটা তুই ভাবছিস। এটা তোর প্রথম ভুল ছিল তাই ক্ষমা করে দিয়েছি।
এটা কক্সবাজার মাথায় রাখিস। এই হোটেলরুম থেকে একা কোথাও পা বাড়ালে না তোর পা দু’টো কেটে সমুদ্রের বালিতে চাপা দিয়ে দেব। “

কায়ান ঝুকে, সেরিনের ভেজা চুল মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়। রুমের আবহাওয়া মুহুর্তে বদলে গেল।
এতক্ষণ যা থমথমে আর নীরব ছিল এক সেকেন্ডের ব্যবধানে সেটা, ভয়ানক ভায়োলেন্ট হয়ে গেছে।
সেরিন ব্যাথায় চোখ খিচে বন্ধ করে নেয়।
ফাইট ব্যাক করার মত শক্তি তার ভেতর নেই। সেরিনর মুখশ্রী নিজের অতি নিকটে নিয়ে কায়ান দাঁতে দাঁত চিবিয়ে বলে,

“আর কি বলছিলি আমি নিচ। শোন সেরিন তোর জন্য আমি নিচ হতেই পারি। খেয়াল রাখিস শুধুমাত্র তোর জন্য।”

“ছাড়ুন, আপনার দু’টো ছেলে আছে কায়ান ভাইয়া৷”

সেরিনের কথাটা শেষ হতে না হতেই আরেকটা থাপ্পড়ের শব্দ ছড়িয়ে পড়ল রুমের ভেতর। এই থাপ্পড় টা কায়ানের ছিল সেরিনের জন্য।
সেরিন সোফার সাথে লেপ্টে আছে অগোছালো হয়ে। থাপ্পড়টা খাওয়ার পর ভেতরের সব সাহস শক্তি সে হারিয়েছে।

“আমার ছেলেদের মা হতে যদি তোর সমস্যা হয় তাহলে সমস্যা নেই তোকে নতুন করে আমার সন্তানের মা বানাব।
টিল দ্যান, জাস্ট চুপ থাকবি।
আর তুই ভাবছিস মেহেরীণকে বা শিমুলকে বলে দিবি। জাস্ট ট্রায় মাই নাইট লিলি।
কারণ ফলত তুই এমনিতেও পাবিনা৷
আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। কথাটা মাথায় রাখিস জেবরান আমার ভাই আগে তোর বোনের বর পরে। “

কায়ান কথা গুলো বলে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল রুম থেকে।
সেরিনের মন তখন এক অদৃশ্য অন্ধকারে বন্দী ছিল। যন্ত্রণার গভীরতা এমন, যা সে কারো কাছে প্রকাশ করতে পারত না। কথা বলতে গিয়েও শব্দগুলো গলায় আটকে থাকত, চোখগুলো ছলছল করলেও সত্যিকার বেদনা কেউ বোঝার ক্ষমতা রাখত না। গলা শুঁকিয়ে চৈত্রের খড়া।
মরুর বুকে নগ্ন পায়ে মরীচিকায় আকৃষ্ট হচ্ছে সে।
সামনে যা দেখছে তাই পানি বলে মনে হচ্ছে।

“প পানি। “


“সেরিন, সেরিন, আমি শিমুল। ওঠ বোন৷”

সেরিন চোখ খুলে তাকায়। চোখ পুড়ছে তার৷ শরীরটাও পুড়ছে।
ভিজে থাকার জন্য অতিরিক্ত জ্বর এসেছে তার৷

“সেরিন৷”

বোনের নরম কন্ঠে আদুরে ডাকে সেরিন আলতো করে চোখ খুলে।

“হ্যাঁ? “

“পানি এইযে।”

সেরিনকে পানি খাইয়ে দেয় শিমুল।

“ঠিক আছিস সেরিন এখন?”

“হুম৷”

শিমুল, পাশ ফিরে জেবরানের দিকে তাকায়।
জেবরান পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল।

“ওকে খাইয়ে ঔষধ খাইয়ে দেও।”

পাশ থেকে মেহেরীণ বলে,

“আমি ভেবেই ছিলাম সেরিন অসুস্থ। কায়ানকে বললামত ওকে রুমে পৌঁছে দেও। তবে রুমে এসে ও এতটা অসুস্থ হয়ে পড়বে বুঝি নি।”

সেরিন চুপচাপ চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
শিমুল, সেরিনের কপালে হাত দেয়৷

“আপু মনেত হচ্ছে প্রচন্ড জ্বর এসেছে।”

“কায়ানকে বলব ডক্টর কল করতে?”

কায়ানের নাম শুনে সেরিনের জঘন্য লাগছে। সে মৃদু কন্ঠে বলে ওঠে,

“না বলবে না। আমি ঠিক হয়ে যাব৷”

মেহেরীণ এগিয়ে আসে,

“ওর হয়ত সমুদ্রের পানি সুট করেনি শিমুল। তুমি চিন্তা করোনা৷”

“কালত আমাদের ফিরতে হবে সেরিনকে এভাবে নিয়ে ফিরব কিভাবে?”

“আরে সমস্যা নেই আমরা চট্রগ্রাম পর্যন্তইত যাব। সেরিনকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমি বাড়িতে ফিরতে দেবনা। কত শখ করে মেয়েটাকে ঘুরতে নিয়ে এসেছিলাম। এভাবে অসুস্থ হয়ে গেল।”

“আপু ও কতক্ষণ ভিজেছিলো?’

” বেশিক্ষণ না। তুমিত জানো, জিনু আর জারিফ কতটা বিরক্ত করে সমুদ্রে এসে। কায়ান, ওকে ফোন দিয়েছিল আমাদের ছবি তুলে দিতে। ছবি তুলতে নিয়েই সেরিনের শরীর টা খারাপ হয়ে যায়।
আঙ্কেল আন্টিকে কি জবাব দেব আমি।”

“আপু ইট’স ওকে। সুস্থ অসুস্থ হতেই পারে মানুষ৷”

“তার পরেও আই ফিল ব্যাড৷”

“সমস্যা নাই আমি কায়ান ভাইয়াকে কল করে দিয়েছি। ডক্টর এসে সেরিনকে ঔষধ দিয়ে যাবে।”

“হ্যাঁ সেটাই ভালো।”

সেরিন শুধু চোখ দু’টো বন্ধ করে ওদের কথা শুনে গেল। কিছু বলার মত সৎ সাহস সে করে উঠতে পারল না। এখন কিছু বললেও হয়ত ওরা ভাববে জ্বরের ঘোরে সেরিন উল্ট পাল্টা বকছে।


সমুদ্রের বিরাট বিরাট ঢেউ গুলো পাড়ে আছড়ে পড়ছে।
বাতাসের বেগ দক্ষিণ দিকে বইছে।
মাথার উপর পরিষ্কার ঝলমলে তাঁরা যুক্ত আকাশ। এক কোণায় একটি অর্ধখেকো চাঁদ যা তারাী সাথে ঝলমল করছে নীরবে। রাতের নিস্তব্ধতা নিজের ভেতরে নিজেই একটা উপাখ্যান।
কায়ান দাঁড়িয়ে আছে সমুদ্র পাড়ে। তার পেছনে দুজনেই দেহরক্ষী। কায়ানের পরনে কালো সার্ট। বুকের কাছের বোতাম দু’টো খোলা। লোকটার বয়স হলেও মুখশ্রীতে তা প্রকাশ পায়না বেশি একটা।
এখনো সে তার ২০ তে পড়ে আছে এমন লাগে। সব থেকে আকর্ষণ তার কুঞ্চিত কেশ। এই গঠনের সাথে বেশ মানায়।
বাম হাতের সিগারেট টা শেষ টান টুকু দেয়। এরই মাঝ ডান পাশ দিয়ে হেটে আসে দু’টো মানুষ। কায়ানকে দেখে মাথা নুইয়ে গ্রিট করে,

“গুড আফটারনুন স্যার।”

কায়ান হাতের সিগারেট টা বালিতে ফেলে ফিরে চায়,

“গুড আফটারনুন। সব কিছু তৈরি ত?”

“জি স্যার, আপনি যা বলেছিলেন সবই তৈরি।”

“আমাকে তাহলে কবে পাঠাচ্ছেন সব কিছু?”

“আপনি চট্রগ্রাম ফিরলেই সব কিছু আপনার গোদামে মজুদ হবে। এটা আমাদের ওয়াদা৷”

“গুড। ভেরি গুড। আপনাদের বসকে বলে দিবেন। সিকদার কায়ান মাহাবুব ওয়াদা দেওয়া কথাগুলো একটু বেশিই বিশ্বাস করে।
আর ওয়াদা ভঙ্গকারীকে একটু বেশিই ঘৃণা করে।”

“আপনাকে বস বলেছে, ‘ আমরা আপনাকে অভিযোগ করার কোন সুযোগ দেবনা ‘।”

কায়ান বাঁকা হাসে,

“দ্যাটস গ্রেট। আই লাইক দ্যাট।”

কায়ান কথা বলছিলই এমন সময় তার ফোনটা বেজে ওঠ। জেবরানের নাম্বার ফ্লাস হয়। কায়ান, সবাইকে চুপ করতে ইসারা করে। এরপর কল রিভিভ করে,

“হ্যালো জেবরান৷”

“ভাইয়া আপনি কোথায়?”

“কেন?”.

” সেরিন খুবই অসুস্থ হটাৎ জ্বর এসেছে। ডক্টর ডাকলে ভালো হতো।”

কায়ানের ভ্রু জুগল কুঁচকে আসে ক্রোধে। কর্কশ কন্ঠে বলে,

“আমি যে শিমুলকে বলেছিলাম সেরিনের রুমে যেতে।”

“হ্যা শিমুলত এসেছে। এসেই দেখে এই অবস্থা।”

“৪ ঘন্টা পর তাইত?”

“হ্যাঁ ভাইয়া।”

“আমি আসছি ডক্টর নিয়ে।”

“ওকে ভাইয়া৷”

“ওকে।”

ফোনটা কেটে কায়ান বিরক্ত হয়।

“ফাকিং ইউসলেস৷ সিনহা,[ কায়ানের সেক্রেটারি এবং দেহরক্ষী দুটোই]”

“ডক্টর কল করো।”

“ওকে বস।”

চলবে?

পর্ব_০১

কিসঅফবিট্রেয়াল

লামিয়ারহমানমেঘলা

[🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
[ গল্পটা মূলত অনসট আমি শেষ করতে পারিনি তাই দু’টো পর্ব দেব। গল্পে অনেক টুইস্ট আছে। যদি আমাকে রেসপন্স দিতে পারো তাহলে গল্পটা লম্বা করার কথা ভাবতে পারি। নাহলে কালকেই শেষ হবে ইনশাআল্লাহ ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply