Golpo কাজরী

কাজরী পর্ব ২৩


কাজরী-২৩

সাবিকুননাহারনিপা

ইশান চোখ বন্ধ করে আছে। প্রবল জ্বরে কাঁপছে, কপালের উপর যে শীতল হাতখানা আছে তাতে মায়ার স্পর্শ টের পাওয়া যায়। অসুখ, বিসুখে এমন স্নেহস্পর্শ একজনের কাছেই পেয়েছে ও। দাদী মন্যুজান খাতুন। ওর মায়ের এতো সময় কই! তিনি তো শিরিন চৌধুরী। শিল্পপতি প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ওয়াজেদ চৌধুরীর স্ত্রী। তথাকথিত সাংসারিক বিষয় মানে খবরদারি। ছেলেমেয়েদের অসুখ, বিসুখে পাশে থাকা জাস্ট ন্যাকামি।

ইশানের কপালে হাতখানা যার রাখা তার নাম কাজরী। স্বভাবে শিরিন চৌধুরীর সঙ্গে মিল খুঁজে পেলেও পরবর্তীতে আবিষ্কার করেছে ওর ভাবনা ভুল।

কাজরী মৃদুস্বরে ডাকলো,

“ইশান…. ইশান….”

ইশানের জবাব দেবার ইচ্ছে নেই। কাজরী আরও কিছুক্ষন এমন আদুরে স্পর্শে ছুঁয়ে থাকুক। কাজরী এবার ওর গায়ে মৃদু ধাক্কা দিয়ে ডাকলো,

“ইশান একটু উঠবে। চিকেন স্টু ঠান্ডা হলে টেস্ট পাবে না।”

ইশান চোখ খুলল। কাজরী ওর পিঠে বালিশ দিয়ে বসিয়ে দিলো। চিকেন স্টু চামচে নিয়ে গরম এড়ানোর জন্য ফু দিয়ে মুখের কাছে ধরলো। ইশান বিনা বাক্যে সেটা খেয়ে নিলো। গত দুদিন ধরে কাজরী ওর সঙ্গে আঠার মতো লেগে আছে। ভাঙা কাঁচ হাতে ঢুকে রক্তারক্তি হয়ে একাকার হয়ে গেছিলো যখন তখন কাজরী ব্যতিব্যস্ত হয়ে নেমে এসেছিল ও’কে থামাতে। ও’কে শান্তও করতে পেরেছিল শেষমেস। ওষুধ খাওয়ানো, খাবার খাওয়ানো, জল পট্টি দেয়া সবটাই নিজ গরজে করেছে। কেউ বাধ্য করে নি কাজরীকে।

ইশান ভাবছে সুইজারল্যান্ডে ও কাজরীর হাত বেঁধে রেখে শক ট্রিটমেন্ট দিতে চেয়েছিল। একটা থ্রিলার উপন্যাসে এমন ট্রিটমেন্ট সম্পর্কে পড়েছিল। সেটাই এপ্লাই করার চেষ্টা করেছিল। ওর উদ্দেশ্য ছিলো কাজরীর মোটিভ সম্পর্কে জানা। জেনেওছিলো তবে সেটা কাজরীর ইচ্ছেতে। ওর ভয় দেখানোতে নয়।

“কী ভাবছ ইশান?”

“ভাবছি তোমার স্বার্থ কী? উদ্দেশ্য ছাড়া তো কোনো কিছু তোমার করার কথা না। “

কাজরী মৃদু হাসলো। বলল,

“সুস্থ করে তোমাকে সুইমিং পুলে ফেলার দেবার ইচ্ছে আছে। “

ইশানও মুচকি হাসলো। বলল,

“হ্যাঁ, ওটাই তোমার প্রিয় কাজ। যখন আর কোনো ওয়ে খুঁজে পাও না। “

কাজরী খাওয়ানো শেষ করে ন্যাপকিন দিয়ে ইশানের মুখটা যত্ন করে মুছিয়ে দিলো। ওষুধগুলো দিতে দিতে বলল,

“আল্পনার মায়ের কাছ থেকে শেখা। উনিও যখন নিজের মধ্যে থাকতেন না, তখন আমাকে সামনে পেলে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতেন। সুইমিংপুলে না অবশ্য! ওই বিষয়টা আমার মাথায় ঢুকে গিয়েছিল বোধহয়। “

ইশানের মন ভার হলো। বলল,

“তুমি তোমার মা’কে দেখোনি?”

“না। “

“এজন্যই বুঝি সুযোগ পেয়ে দাদীর সিন্দুক খুঁজেছিলে?”

কাজরী চমকালো। ইশানের চোখ এড়ালো না। মৃদু হেসে বলল,

“পুরো প্যালেসে সিসিক্যাম আছে, জানো নিশ্চয়ই? “

কাজরী মাথানিচু করে ফেলল। এতো বড় ভুলটা করলো ও! মন্যুজান খাতুনের ঘরে স্বাভাবিক ভাবেই এমন কিছু থাকার কথা।

“আপসেট হচ্ছো কেন কাজরী? অতি বুদ্ধিমানরাও দুই একটা বোকামি করে ফেলে। “

“উনি নিজেই আমাকে সিন্দুকের চাবি তুলে দিয়েছিলেন, ভালোবেসে।”

ইশান চোখ সরু করে প্রশ্ন করলো,

“ভালোবেসে? আচ্ছা! “

“আমি জোর করিনি, বিশ্বাস না হলে ওনাকে জিজ্ঞেস করতে পারো। “

ইশান রোমাঞ্চিত বোধ করলো। কাজরী ও’কে কৈফিয়ত দিচ্ছে! বাহ! ভালো তো।

“তা কী এমন পেলে মহামূল্যবান? “

কাজরী ভাবলেশহীন গলায় বলল,

“কিছু না।”

“শিওর?”

কাজরী কাগজগুলো সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল। ইশান বোধহয় জানে, আর ব্যাপার টা জানতেও চাচ্ছে।

“তবে তোমার লাক ভালো, শিরিন চৌধুরী ব্যাপার টা নোটিশ করে নি। “

কাজরী মৃদু হেসে বলল,

“নোটিশ করলেও সমস্যা কিছু নেই। “

“ওকে। অফ টপিকে একটা প্রশ্ন করছি, তুমি ঠিক কী চাও? কোনো ফেভার চাইছ নিশ্চয়ই! সেটা কী? আর এশনাকে কী উদ্দেশ্যে নিজের দলে টানছ?”

“ভেরি স্মার্ট! এখন নয়, তুমি বরং সুস্থ হয়ে নাও। আমি ইমোশনলেস হতে পারি, হার্টলেস নই। এশনা ডিপ্রেসড বলেই আমি ও’কে সময় দিচ্ছি। নাথিং এলস। “

কাজরী চলে গেল। ইশান আজ ফুরফুরে মেজাজে আছে। শরীর জানান দিচ্ছে যে জ্বর এখনো কাবু করতে ব্যস্ত, তবে মনটা ফুরফুরে লাগছে। কাজরী ওর জীবনে জাস্ট একটা ডিল ছাড়া কিছু না, তবুও অবচেতন মন বলে, ইশান তুমিই কাজরীর রক্ষাকর্তা। এই পৃথিবীতে ওর আপনজন কেউ নেই। একমাত্র তুমিই একজন যার সঙ্গে ওর সত্যিকারের একটা সম্পর্ক আছে। সেই কারণেই বোধহয় ইশান দূর্বল হয়ে যায় খানিকটা। বড় গলায় বলতে পারবে না যে ও ইমোশনলেস। যথেষ্ট ইমোশন আছে বলেই না পাওয়া অনেক কিছু নিয়ে আক্ষেপ আছে। রিলেশনশিপ কে কখনো সিরিয়াসলি নেয় নি, যারা এসেছে তারা ওর স্ট্যাটাস দেখেই এসেছে। এমনকি প্রবল জ্বরে উত্তাপ মাপার জন্য যে মেয়েটা পাশে ছিলো সেও এসেছে নিজের স্বার্থের জন্য। পার্থক্য শুধু একটাই সে কখনো ইশানের কাছে ভালো হবার ভান করে নি, কখনো ইশানের জন্য ফেক কনসার্ন দেখায় নি। অথচ সবকিছু জানা স্বত্তেও ইশানের শরীর, মন তৃষিত হয়ে আছে কাজরীর এটেনশন এর জন্য।


আখতারউজ্জামান বুঝতে পারছেন যে তরফদারের ছেলের কেস টা নিয়ে তদন্ত চলছে। এবং সবদিক থেকে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। এই বিষয় নিয়ে তিনি চিন্তিত হলেও এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো আল্পনা। কাজরী তাকে সরাসরি কিছু না বললেও এটুকু বলেছে যে আল্পনা এমন একজনের ফাঁদে পড়েছে যে কাজরীর অনিষ্ট চায়। আখতারউজ্জামান এই বিষয়ে আল্পনাকে প্রশ্ন করেও কোনো জবাব পায় নি, তার বিশ্বাস হয় না যে এই মেয়ে হঠাৎ এতো কনফিডেন্স কোত্থেকে ফিরে পেল!

অনেক বছর আগের দুর্ঘটনায় আল্পনা ওর মা’কে হারিয়েছে। তারপর থেকে ও ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটির সঙ্গে লড়ছে। নিয়মিত মেডিকেশন, থেরাপি নিয়ে একটু একটু করে সুস্থ হচ্ছিলো বলেই আখতারউজ্জামান ওর বিয়ের কথা ভেবেছে। সেই বিয়েটা হয় নি, ওর কপাল মন্দ ছিলো। অনেকে ভাবেন আখতারউজ্জামান নিজে কাজরীর ভাগ্য গড়তে আল্পনার স্বপ্নকে দু:স্বপ্নে রুপান্তর করেছিলেন। কিন্তু আসলে তো সেসব কিছু নয়, ওই দুর্ঘটনার সুযোগকে তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন। তিনি তো খু*ন খারাবির মতো কিছু চিন্তাও করতে পারেন না।

“বাবা!”

আখতারউজ্জামান গভীর ভাবনায় মগ্ন ছিলেন। আল্পনার ডাকে বাস্তবে ফিরে এলেন।

“তুমি কিছু বলবে? “

বাবার গম্ভীর গলা শুনে আল্পনার কষ্টের চেয়ে লজ্জা বেশী হলো। মৃদু স্বরে বলল,

“আমাকে একবার প্লিজ কাজরীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবার ব্যবস্থা করুন। “

“তুমি বিশ্রাম নাও কিছুদিন। হুটহাট বাইরে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। যা কিছু দরকার বাসায় আনিয়ে নিও। “

“বাবা আমার কাজরীর সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন….

আখতারউজ্জামান চোখ তুলে মেয়ের দিকে তাকালেন। বললেন,

“প্রয়োজন নেই। আর হ্যাঁ আমার সময়টা খারাপ যাচ্ছে বলে এতটাও খারাপ যাচ্ছে না যে তুমি বাইরে রাত কাটিয়ে এলেও সেই আমি জানতে পারব না। কাজরী তোমাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য লোক রাখতেই পারে, ওর যুক্তি তো সঠিক। তুমি কোন সাহসে ড্রাইভারকে টাকা দিয়ে মিথ্যাচার করছ!”

আল্পনা হতভম্ব মুখে দাঁড়িয়ে রইলো। সব দিক থেকে কোনঠাসা হয়ে গেল ও।


শিরিন অনামিকার আসা পোস্টপন্ড করেছে। এই মুহুর্তে বাসার পরিবেশ ঠিক নেই কথাটা বলার পর অনামিকার মা বলেছিল,

“বাসার পরিবেশ ঠিক নেই নাকি তোমার ছেলেরা ঠিক নেই। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই ইশানের নিউজ দেখা যায়। রাত বিরাতে ক্লাবে পার্টি করে বেড়াচ্ছে। “

শিরিন হালকা হেসে বলল,

“মন ভালো নেই, এজন্য একটু বেসামাল হয়ে যাচ্ছে। ওসব কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে।”

“নিশান ঠিক আছে তো? নাকি সেও বেসামাল?”

“কী যে বলো! নিশান আমার শ্রেষ্ঠ সন্তান। বিচক্ষনতা, দুরদর্শি চিন্তা ভাবনা তো আছেই, সেই সঙ্গে বড়দের সম্মান করা! আরে ও’কে চৌধুরী সাহেব নিজ হাতে গড়েছেন। সোনার পুতুলের মতো তৈরী করেছেন। তার অবর্তমানে সবটা তো ও সামলাচ্ছে। “

এই কথা শুনে অনামিকার মা একটু নির্ভার হন। শিরিন সোশ্যাল স্ট্যাটাসে বিশ্বাস করেন খুব। অনামিকা সেদিক থেকে সমান সমান ই। আখতারউজ্জামান এর অর্থ, সম্পদ যতই থাকুক, চৌধুরীদের ধারে কাছেও নয়। সেটা নিয়ে তার অতো মাথাব্যথাও ছিলো না, তিনি আবছা শুনেছিলেন যে কোমলের মেয়ে আখতারউজ্জামান এর কাছে বড় হচ্ছে। সেজন্যই ঘোর আপত্তি ছিলো, নাহলে তো থার্ডক্লাশ লোভী ত্বরিতাকেও ইশানের বউ হিসেবে তিনি মেনে নিতেন।

এখন তার প্রধান সমস্যা ইশান নয়, কাজরী। যথেষ্ট স্মার্ট আর বুদ্ধিমতি মেয়ে। কখনো চুপচাপ থেকে নিজেকে অন্যের কাছে দূর্বল প্রমাণ করছে, আবার কখনো ছো*বল মারছে। রোদেলার সঙ্গে টক্কর গেলেও রোদেলা বিচলিত হয় নি তেমন। খালামনি আছেন তিনি সামলে নিবেন, কিন্তু এখন রোদেলা কাজরীকে ঘাটাতে চাইছে না। ভয় পাচ্ছে, এটা শিরিনের জন্য অস্বস্তির। কাজরীকে তিনি অপশনাল সাবজেক্ট ভেবে সাইড করে রেখে অন্যসব কিছুতে ফোকাস করছেন। সেটাই কী ভুল হচ্ছে!

শিরিন ছাদে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করছেন তিনজন কে। কাজরী, এশনা আর মন্যুজান খাতুন গার্ডেনে হাটছে। মন্যুজান খাতুন কিছু একটা বলছেন আর ওরা দুজন তাল মিলিয়ে তাতে হাসছে। শিরিন অস্বস্তি বাড়ে, সবকিছু হাতের মুঠোয় আনতে চাইলেও হাত ফস্কে বেরিয়ে যাচ্ছে না তো!


দুর্জয়ের জন্য চমৎকার একটা সকাল আজ। কিছু তাজা ফুল দিয়ে বসার ঘরটা সাজিয়েছে। যে আসছে তাকে ওয়েলকাম জানানোর ছোট্ট একটা প্রয়াস। একটা ঢাউস সাইজের ফুলের বুকেও এনে রেখেছে সংবর্ধনা দেবার জন্য। যদি সম্ভব হতো তবে একশ একটা নীল পদ্ম যোগাড় করে ফেলতো। কোনো এক সময় কাব্যিক স্টাইলে এমন কিছু করার কথা ভাবাই যায়!

কাজরী আসছে ফাইনালি! সেই আশাটা অবশ্য অন্যভাবে হলো। দুর্জয়কে মাথা খাটিয়ে, জটিল পরিকল্পনা করে আনতে হলো। অবশ্য স্পেশাল যারা তাদের ক্ষেত্রে প্ল্যানটা একটু জটিলই হয়। সুন্দর সকাল, বিকেল, দুপুর কাটিয়ে দুর্জয় উপলব্ধি করেছিল যে কাজরীর সুন্দর চোখের দিকে তাকিয়ে ও বিরক্তি ছাড়াই অনেকগুলো বছর কাটিয়ে দিতে পারবে। প্রস্তাবও রেখেছিল, কিন্তু ফলাফল! রিজেকশন। সব রিজেকশন মেনে নেয়া যায় না। সমস্যা কী, দুজনের মেন্টালিটি গ্যাপ! উঁহু! কাজরী ব্রুটালি মেনিফেস্ট করেছিল একটা নির্দিষ্ট মানুষের লাইফ পার্টনার হবার জন্য। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর ও জানেনা। তবে ওর মেইল ইগো হার্ট হয়েছে। এতোটা হার্ট হয়েছিল যে এরপর লজিক আর পজিটিভ ওয়েতে কাজ করে নি। দেশে ফিরে ওর প্রতিটা মুভমেন্ট ফলো করেছে। তারপরই প্ল্যানগুলো এক্সিকিউট করার কথা ভেবেছে। কাজরীর প্রতি পূর্ণ সম্মান ও রাখে। ওর ম্যানিফেস্টেশনও ফুলফিল হয়েছে, এবার তো অন্যকিছু ভাবতেই পারে!

দুর্জয় ডাইনিং টেবিলে খাবার গুলো গুছিয়ে রাখলো। ধানমন্ডি সাতাশ এর চব্বিশ’শ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটটা সাজানো গোছানো সার্থক হলো তবে। কলিং বেলের টুংটাং শব্দ। বুকের ভেতর থইথই অনুভূতি নিয়ে দরজা খুলল। ঠিক তাই, কাজরী দাঁড়িয়ে আছে। আকাশী রঙের জর্জেট শাড়িতে গর্জিয়াস সাজ। কী সুন্দর! কাজলপরা চোখ দুটোতে রাতজাগা ক্লান্তি, দুর্জয়ের বুকের ভেতর থইথই এর পরিবর্তে সূক্ষ্ম জেলাসি ব্যথা। তবুও ঠোঁটে হাসি ঝুলিয়ে বলল,

“ওয়েলকাম কাজরী…. ফাইনালি….

কাজরী নাটকীয় ভঙ্গিতে পা বাড়িয়েও থেমে গিয়ে বলল,

“এক মিনিট, আরেকজন আছে তাকেও ওয়েলকাম করতে হবে। মাই হাজবেন্ড ইশান চৌধুরী। “

কালো ব্লেজার, আর সানগ্লাসে ইশান চৌধুরী লিফট থেকে বেরিয়ে কাজরীর পাশে এসে দাঁড়ালো।

চলবে…..

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply