কাজরী-১৯
সাবিকুননাহারনিপা
সুবর্নগগরে যেন মানুষের জোয়ার নেমেছে। চৌধুরী রাজনীতি থেকে দূরে থেকেও এখানে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, হাসপাতাল তৈরী করে মানুষের ভরসা হতে চেয়েছে। অনেকের মতে এটা রাজনীতির ময়দান কে শক্ত করার উদ্দেশ্যে। তবে উদ্দেশ্য যাই হোক, তার নাম টা জ্বলছে তার কর্মে।
মন্যুজান খাতুন বহুবছর বাদে এলেন সুবর্ননগরে। এই জীবনে এরকম আসা তিনি দু:স্বপ্নেও ভাবতে পারেন নি। ওনার চোখও যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে। সেই চোখে কেবল বিস্ময় ও ব্যথা। কতোশত মানুষ ছুটে এসেছে তার ছেলেকে এক নজর দেখতে৷ এখন যাকে এক নজর দেখার জন্য মানুষের ঢল নেমেছে তিনি এখন আর তার ছেলে নেই, হয়ে গেছে আল্লাহর মেহমান।
আখতারউজ্জামান কে সব দিক সামলাতে হচ্ছে। আশ্চর্য হলেও সত্যি সুবর্ননগরের অনেক উন্নয়ন করা সত্যেও চৌধুরীকে অনেকেই অপছন্দের লিস্টে রাখে নির্দ্বিধায়। এর কারণ আছে অবশ্য। ওয়াজেদ চৌধুরী তার সম্পত্তির পাহাড় গড়েছে যার মাধ্যমে, তার পরিবারকেই ধ্বংস করেছে। প্রাক্তন চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দীন এর মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়েও লোকের মনে ঘৃনা আছে। তবে চৌধুরীর সেসবে তেমন মাথাব্যথা ছিলো না। এলাকার উন্নয়ন করছে, গরীব, দু:খীদের প্রচুর অর্থ দান করছেন। বেকারদের কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা করছেন। রাজনৈতিক ময়দানে সগৌরবে ইলেকশন লড়বেন।
ইশানকে বড্ড ক্লান্ত লাগছে, মাথার ভেতর জট পাকিয়ে গেছে। সবকিছু এতো দ্রুত ঘটে গেল! বাবার সঙ্গে শেষবার ওর কবে ভালো করে কথা হয়েছিল মনে করতে পারে না। ও তাকে এড়িয়ে চলেছে সবসময়। সামনাসামনি বাবা বলে সম্বোধন কবে করেছে সেটাও স্মৃতি হাতড়ে মনে করতে পারছে না। আইসিউতে অচেতন অবস্থায় যখন ছিলো তখন ও ছুটে গিয়েছিল। মলিন, নিষ্প্রাণ মুখ দেখে কী যেন হলো হঠাৎ! বুকের ভেতর নিদারুণ ছটফটানি! ইশান মৃদুস্বরে দুইবার ডেকেছিল, বাবা! বাবা!
বাবাকে ও ঘৃনা করে? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়েও সন্দিহান। যথেষ্ট এটেনশন তিনি ও’কে কখনো দেন নি, তার বুকভরা স্বপ্নও ও’কে নিয়ে ছিলো না। বাবাদের সন্তান দের নিয়ে একটা সূক্ষ্ম, গোপন গর্ব থাকে। ও’কে নিয়ে কী কখনো সেরকম কিছু ছিলো? এই প্রশ্নের উত্তরও জানা নেই। পিতা পুত্রের আশ্চর্য এক সম্পর্ক ছিলো! ইশানের মনে বিতৃষ্ণা ছিলো, তিনিও সবসময় সমান তালে নিশান নিশান করে গেছেন। কখনো ইশানকে নিয়ে তো স্বপ্ন দেখেন নি, কিংবা ইশান বড় কিছু করুক সেরকম কিছু চাপিয়েও দেয় নি।
ইশান রাজার মতো একটা জীবন কাটিয়েছে। পার্টি করা, দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়ানো, ইচ্ছেমতো টাকা খরচ করা সবকিছু করেছে যা ওর ভালো লেগেছে। অনেকবার ইচ্ছেকৃত ঝামেলায় জড়িয়েছে বাবার লজ্জিত মুখ টা দেখার আশায়। তিনি সব ঝামেলা সামলে নিয়েছেন। ইশানের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চোখে চোখ রেখে বলেছেন কেন নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছ! কেন নিজের ক্ষতি করছ!
সেই কথা বলার ধরনে কাঠিন্যতা ছিলো না এক ফোঁটাও। তবে কী মায়া ছিলো! বিন্দু পরিমাণ স্নেহও বোধহয় ছিলো। ইশানের বুক ভারী লাগে, কষ্ট হয়। নিশ্চিতভাবে অনুভব করতে পারে যে ওই মানুষটা’কে ও অবহেলা, অবজ্ঞা করলেও ঘৃনা করতেন না। তিনি চাইলে অনেক কিছু করতে পারতেন। সোজা আঙুলে ঘি উঠানোর ক্ষমতাও তিনি রাখতেন, কিন্তু ইশানকে তিনি মুক্ত পাখির মতো ওড়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে দিয়েছিলেন বিশাল এক আকাশ। আজ তার অনুপস্থিতিতে ইশান উপলব্ধি করতে পারছে সবকিছু। কাজরীর একটা কথা তো সত্যি! বংশ, মর্জাদা, স্ট্যাটাস কে ওয়াজেদ চৌধুরী ভীষণ গুরুত্ব দিতেন। তার নাম খারাপ করা, তাকে বিভিন্ন পন্থায় ঝামেলায় ফেলার জন্য ইশান কে তো কখনো তার আদালতে দাঁড় করায় নি। তার গোপন স্নেহ ওর প্রতি ছিলো, সত্যিই ছিলো। ইশান উদভ্রান্তের মতো ছুটে গেল। আরেকটিবার বাবার মুখটা ও দেখে নিতে চায়। শেষবারের মতো।
কাজরী প্যালেসে একা আছে। স্টাফ আছে কয়েকজন। শবনম এতক্ষন ওর সঙ্গে ছিলো, জোর করে পাঠিয়েছে বিশ্রাম নিতে। বলেছে কিছু দরকার হলে ইন্টারকমে ফোন করে ডাকবে।
কাজরী খানিকক্ষন ভাবলো। ওর চলার রাস্তাটা মসৃন হবে না। শিরিন চৌধুরী কোনোমতেই চাইবেন না ও এই বাড়িতে থাকুক। শুধু এই বাড়ি নয়, ইশানের জীবন থেকেই মুছে ফেলতে চাইবে। আর ইশান! ইশানকে এখন শান্ত মেজাজের মনে হলেও যেকোনো সময় তার মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে। ইশান তো তেমন ই। ওর স্থির লক্ষ্য নয়, ইচ্ছে মর্জি যেকোনো সময় পাল্টে যেতে পারে।
ফোনের রিংটোন বেজে ওঠায় কাজরী সংবিৎ ফিরে পায়। স্ক্রিনে আল্পনার নাম দেখা যাচ্ছে। মেজাজ বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল নিমিষেই। আল্পনাকে ও বোকা ভাবতো, কিন্তু অতি চালাক ধড়িবাজ মেয়েটা হোটেল রুমে…. কাজরীর গা রি রি করে ওঠে। এতোবছর বিদেশী কালচারে থেকেও ও এসবে অভ্যস্ত হয় নি। আর আল্পনা…. ছি:!
প্রথমবার কল বেজে কেটে গেল। দ্বিতীয়বারে কাজরী কল রিসিভ করে গম্ভীর গলায় বলল,
“বলো আল্পনা।”
“কেমন আছ তুমি? “
কাজরী চুপ করে রইলো। এখন দুর্জয় চ্যাপ্টারে কথা বলার উপযুক্ত সময় নয়। আল্পনাকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করবে। তাই স্বাভাবিক গলায় বলল,
“আমি ঠিক আছি। “
“আমি আসব তোমার কাছে? “
কাজরী ঘড়িতে সময় দেখলো। রাত এগারোটা খুব একটা বেশী সময় না। আল্পনা আসলে ওর জন্য সুবিধা হতো। কিন্তু এই সুবিধাটুকু নেয়ার রুচি নষ্ট হয়ে গেল ভিডিও ক্লিপটার কথা মনে করে।
“থাক লাগবে না। তবে তুমি একটু সামলে চলো। নিজেকে স্মার্ট ও চালাক প্রমাণের চেষ্টায় মুখ থুবড়ে পড়ে গেলে ব্যাপার টা লজ্জার হবে কিন্তু। “
আল্পনা দ্বিধাগ্রস্ত হলো। কী কারণে ও’কে এই কথাটা বলল। কাজরী কী ওর গতিবিধি লক্ষ্য করছে! আল্পনা প্রশ্নটা করতে গিয়েও থেমে গেল। আস্তে করে বলল,
“রাখছি। ভালো থেকো। “
কাজরী কলটা কাটলো। বিছানা ছেড়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। মুখটা রোগা লাগছে, শোকগ্রস্তও লাগছে বোধহয়। কাজরী দীর্ঘশ্বাস ফেলে সিড়ির দিকে পা বাড়ালো। আজকের মতো এমন সুযোগ এরপর আর পাওয়া যাবে না। এভাবে ফাঁকা বাড়ি কখনো থাকবে কী না কে জানে! এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে।
নির্জন সুনশান প্যালেসটাকে কাজরীর কেমন যেন অন্যরকম মনে হলো। এমন নির্জন সচরাচর দেখা যায়। রাতেও যেখানে থাকে ঝলমলে আলো। আজ মৃদু আলো জ্বলছে প্যালেসে। অদ্ভুত একটা গন্ধ পেল। গন্ধটার সঙ্গে ও পরিচিত কিন্তু মনে করতে পারছে না গন্ধটা কিসের!
“ম্যাম কিছু লাগবে? “
কাজরী ছেলেটাকে চিনতে পারলো না। প্যালেসে স্টাফের সংখ্যা কতো তার হিসেবও নেই।
“তুমি কী করছ?”
“আমার তো নাইট ডিউটি। “
“আচ্ছা!”
কাজরী আচ্ছা শব্দটা উচ্চারণ করলো বিস্ময়সূচক অর্থে। ওর জানা ছিলো না যে প্যালেসের ভেতরেও কেউ রাত জেগে পাহারা দেয়।
“তুমি সুবর্ননগরে যাও নি?”
“জানাজা শেষে ফিরে এসেছি। “
ছেলেটা ঘামছে। বোধহয় নার্ভাস ফিল করছে। কাজরী ভাবলো, ওর প্রশ্নগুলো কী জেরার মতো শোনাচ্ছে নাকি।
“রেস্ট নাও তুমি, আর ডিউটি করতে হবে না। আমি কিচেনে একটা জিনিস খুঁজতে এসেছি, সেটা পেলেই চলে যাব। “
কাজরী এক পা এগিয়ে থমকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“একটা অদ্ভুত গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এটা কিসের গন্ধ?”
ছেলেটাকে বিভ্রান্ত দেখালো প্রথমে। তারপর বলল,
“আগরবাতি জ্বালানো হয়েছিল ম্যাম। আসলে মরা বাড়িতে….
ছেলেটা পুরো কথা শেষ করলো না কোনো এক কারণে। কাজরী সেটা নিয়ে প্রশ্ন করলো না। আগরবাতির গন্ধটা এর আগেও কোথায় পেয়েছিল সেটা মনে পড়ে গেল। আল্পনার মায়ের মৃত্যুর সময়…..
পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে যাওয়ায় চোয়াল শক্ত হলো। আনমনে বলল,
“যাও তুমি। “
ছেলেটা চলে গেল। কাজরী পা বাড়ালো মন্যুজান খাতুন এর ঘরের দিকে। প্যালেসের একদম শেষ দিকের ঘরটায়। এমন সুযোগ আর কখনো পাবে না ও। বৃদ্ধা আজ নেই, আজ একবার তার সিন্দুক টা খুঁজে দেখা যায়। পেলেও পেতে পারে কিছু অমূল্য রত্ন।
সিন্দুকের চাবির গোছা বৃদ্ধা সচেতন ভাবে তুলে দেয় নি ওর হাতে। ফিরে এলে তাকে হস্তান্তর করতে হবে। কাজরী চাবি ঘুরিয়ে সিন্দুক খুলল। পুরোনো আমলের সিন্দুক, বেশ ভারী। খুলতে বেশ কষ্ট করতে হলো, তবুও শেষ অবধি অসাধ্য সাধন করতে পারলো।
সিন্দুকের বেশীরভাগ জায়গা দখল করে আছে সোনা, রুপার গয়নার বাক্সগুলো। কাজরী সেগুলো খুলে দেখে আবার তেমন ই রেখে দিলো। কাপড়ের পুটলিতে পেল কিছু পুরোনো কাপড়। এছাড়া বিভিন্ন সব ছোট ছোট অকাজের জিনিস। কিছু ভাঙাচোরা এন্টিকের জিনিসপত্র। সুন্দর কারুকাজ খচিত একখানা আয়না, বাক্সে রাখা সেই স্বর্নকাতান ও একটি পুরোনো লাল বেনারশী। লাল সুতোয় বাঁধা এক গোছা কাগজ পেয়ে সেগুলো নিয়ে বসে পড়লো বিছানার উপর। বেশ কিছু চিঠি আছে সেখানে। সবগুলো পড়ে দেখার মতো সময় এখন নেই। বেশীরভাগ চিঠির শব্দগুলো ঝাপসা, অস্পষ্ট। বহু পুরোনো লেখা, কলমের কালী নষ্ট হয়ে লেখাগুলো লেপ্টে গেছে। একটা চিঠির শেষ অংশ টা কাজরীর নজরে তীক্ষ্ণ হলো। চিঠির শেষ অংশে লেখা, ‘ইতি আপনার দুশ্চরিত্র ছেলের বউ’
চিঠিটা কার লেখা সেটা নিশ্চিত না হয়েও কাজরী বুকের হৃৎস্পন্দনের অস্থির গতি টের পেল। জানতে মরিয়া হয়ে গেল অস্পষ্ট অক্ষরগুলোতে কী ছিলো!
ইশান একাই গাড়ি চালিয়ে প্যালেসে উপস্থিত হলো। নিজের ঘরে না ঢুকে প্রথমে বাবার ঘরে গেল। প্রচন্ড অপরাধবোধে দগ্ধ ইশান খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইলো বাবার শূন্য বিছানার দিকে। আর কখনো এই ঘরে ও’কে ডেকে অর্ডারের সুরে কেউ প্রশ্ন করবে না। ও নির্লিপ্ত আচরণ, কথাবার্তায় বোঝাতে চাইবে না যে সেই মানুষটা ওর জীবনে কতটা গুরুত্বহীন।
বাবার ঘরে কাঁচের তাকে বিভিন্ন ধরনের মদের কালেকশন আছে। কখনো সেগুলো ছুঁয়ে দেখেছে কীনা কে জানে! অথচ কালেকশন ভর্তি সব বিদেশী ব্র্যান্ডের জিনিস। ইশান একটা বোতল তুলে নিয়ে ঢকঢক করে খানিকটা খেয়ে ফেলল।
কাজরী ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো ইশান কে দেখে। এমনিতেই অস্থির ছিলো, যেটার ছাপ স্পষ্ট চোখে মুখে। ইশানকে দেখে বিস্মিত গলায় বলল,
“তুমি এতো রাতে?”
ইশান তীর্যক হেসে বলল,
“মেমোরি লস হয়েছে? এটা কার বাড়ি?”
কাজরী ইশানকে লক্ষ্য করলো ভালো করে। ওর কথাবার্তা অসংলগ্ন। বিরক্তির সুরে বলল,
“ড্রিংক করেছ? আজও?”
ইশান হাসলো। বিছানায় ধপাস করে শুয়ে ভাবলেশহীন গলায় বলল,
“তুমি কোথায় ছিলে?”
কাজরী জবাব দেবার সময় চেষ্টা করলো দৃঢ় কন্ঠস্বরে কথা বলতে।
“ঘুম আসছিলো না, তাই একটু…..
ইশান শব্দ করে হেসে বলল,
“আজ তো তোমার আরও ভালো করে ঘুমানোর কথা সুইটহার্ট। তাই না?”
কাজরী জবাব দিলো না। ইশান আজ যা খুশি বলুক ও রিয়েক্ট করবে না। ঠান্ডা গলায় বলল,
“তুমি ঘুমাও ইশান। আমি অন্য ঘরে চলে যাচ্ছি। “
ইশান এক ঝটকায় উঠে বসে বলল,
“তুমি এখানেই থাকো। শান্তিতে ঘুমাও, আমি তোমাকে বিরক্তি করব না। তোমার এতো আনন্দের রাতটাকে নষ্ট করব না প্রমিস।”
কাজরী জবাব না দিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ালো। ইশান ছুটে এসে ও’কে ঝাপটে ধরলো। কাজরী ইশানের খুব কাছাকাছি, ইশান তাকিয়ে আছে রাগী চোখে। কাজরী ঠান্ডা গলায় বলল,
“ইশান তোমার বিশ্রামের প্রয়োজন। মেন্টাল স্ট্রেস রিলিফের জন্য ঘুমানো উচিত। “
ইশান কিছু বলল না। ওর কানে বাজতে লাগলো বাবার বলা সেই কথাটা। কাজরীকে বিয়ে করলে ইশানের ডিমান্ড পূরণ হবে। এই মেয়েটি যা কিছু বলেছে সব কী সত্যি নাকি মিথ্যের জাল বিছিয়ে ইশানকে হাতের মুঠোয় বন্দী করতে চায়!
চলবে……
Share On:
TAGS: কাজরী, সাবিকুন নাহার নিপা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাজরী পর্ব ৮+৯
-
কাজরী পর্ব ১২
-
কাজরী গল্পের লিংক
-
কাজরী পর্ব ১৭
-
কাজরী পর্ব ১
-
কাজরী পর্ব ৬
-
কাজরী পর্ব ১৮
-
কাজরী পর্ব ৫
-
কাজরী পর্ব ১৩
-
কাজরী পর্ব ১৬