Golpo romantic golpo কাছে আসার মৌসুম

কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৫২


কাছেআসারমৌসুম!

নুসরাতসুলতানাসেঁজুতি

(৫২)

তুশি কথা বলল না,চোখ তুলল না। মুখটা পাথর করে ঘুরিয়ে রাখল অন্যদিকে। এত অনীহায়, সার্থ সবল হাতে কনুই চেপে ধরে অমনি। রাগে শরীর কাঁপছে তার। হুঙ্কার ছুড়ল কঠিন স্বরে,
“ আমার দিকে তাকাও। অ্যাই মেয়ে,আমি তোমার সাথে কথা বলছি।”
তুশি তাও ফিরল না। ভান করল কানে শোনেনি। জেদ তো ওরও কম নেই। একইরকম গাট হয়ে রইল। এদিকে পাশের মেয়েটি ব্যাপারখানা ড্যাবড্যাব করে দেখছিল। ভড়কে গেছিল চোখের সামনে একটা ছেলে অন্য মেয়েকে ঠেসেঠুসে ধরায়। কিন্তু এই বার মনে হলো মুখ খোলা উচিত। এ ছেলে নির্ঘাত মেয়েটাকে বিরক্ত করছে। হম্বিতম্বি করে বলল,
“ আচ্ছা, আপনি অসভ্যতামি করছেন কেন?
কেন ওনাকে বিরক্ত করছেন? ছাড়ুন ওনাকে,ছাড়ুন।’’
সার্থ ক্ষিপ্ত চোখে চাইল। দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
“ মাইন্ড ইয়র অউন বিজনেস। ওকে ছাড়ব না ধরব সেটা আমার ব্যাপার।”
“ অউন বিজনেস মানে! আপনি আমার সামনে এমন অভদ্রতা করবেন, আর আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখব?”
“ দেখতে ইচ্ছে না হলে, চোখ বন্ধ করে থাকুন।”
মেয়েটি জবাব দিতে গেলে মৃদূ কণ্ঠে কথা বলল তুশি,
“ উনি,উনি আমার পরিচিত।”
তার বলার ধরণে মেয়েটি থামে। বুঝে নেয়, ব্যাপারটা পরিচিতিতে আটকে নেই, বরং গভীর কিছু হবে। নির্ঘাত বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড,মান-অভিমান চলছে। অতীষ্ঠ শ্বাস ফেলে কাঁধ ব্যাগ হাতে ভরে চুপচাপ বেরিয়ে গেল সে।
দরজা থেকে চোখ সরিয়ে তাকাল তুশি। চাইল ঠিক সার্থর দপদপে চোখের তারায়।
এক সেকেন্ড চোখা-চোখির মাঝেই ফের নামিয়ে নিলো মুখটা। সার্থ বলতে নেয়,
“ তুশি তুমি…”
“ হাত ছাড়ুন!
“ আমি বলছি আমার..
“ হাতটা ছাড়ুন।”
“ বাড়াবাড়ি কর…”
“ বললাম না হাত ছাড়ুন?”
তুশি চ্যাঁচিয়ে ওঠায়,সার্থর শক্ত কপাল মসৃণ হয়ে গেল। সাথে সাথে ছাড়ল ওর হাতটা।
তুশি মাটিতে চেয়ে শ্বাস ঝাড়ল। গায়ে ওরনা ঠিকঠাক করে পাশ কাটাতে নিলো চুপচাপ। বিধিবাম, ওয়াশরুমের পিচ্ছিল মেঝেতে পা-টা হড়কে গেল তখনই। অপ্রস্তুতিতে চিৎ হয়ে পড়তে নিলেই ঘাড়ের পেছন থাবার মতো চেপে ধরল সার্থ। একেবারে চার আঙুল দিয়ে পুঁটি মাছের মতো খপ করে ধরে মাথাটা নিয়ে এলো কাছে। তুশির নাক এসে ঠুকল তার বুকের মাঝে। এক ঝটকা খোলা চুলের ঝাপটায় চোখ খিচে ফেলল সার্থ।
পুরুষালি শিরায় শিরায় চুলের সুঘ্রাণ পৌঁছে গেল বোধ হয়। বন্ধ পল্লব টেনে আস্তেধীরে চাইল সে। তুশি চোখ রাঙিয়ে চেয়েছিল। সার্থ তাকাতেই তুরন্ত গতিতে ঘাড় থেকে হাতটা ছাড়িয়ে দিলো ওর।
সার্থ বিদ্রুপ করে বলল,
“ আগে দু কদম হাঁটতে শেখো,তারপর এইভাবে তাকাবে।”
তুশি উত্তর দেয় না। অবজ্ঞা দেখায়। ঘুরে যেতে নেয়,সাথে সাথে ওরনার মাথা টেনে ধরল সার্থ। গলায় টান পড়তেই থমকে দাঁড়াল মেয়েটা।
ক্লান্ত,অতীষ্ঠ গলায় শুধাল,
“ কী চাইছেন আপনি?”
সার্থ তপ্ত কণ্ঠে বলল,
“ আমি বলেছি না আমার কথা আছে? যতক্ষণ না শেষ হয়,চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকবে। কথার মাঝে এই ধরণের বেয়াদবি আমার একদম পছদ নয়।”
তুশি ফিরে চাইল, বলল,
“ বেয়াদবি তো আপনি করছেন। আমাকে কথা শোনানোর জন্যে মেয়েদের ওয়াশরুম অবধি চলে আসতে হবে?”
সার্থ ঝট করে ওরনায় টান মারল। উত্তাল ঢেউ যেমন তীরে এসে লাগে, সেইভাবে তুশি ফের এসে পড়ল তার বুকের খাঁচায়।
“ তুমি এই মূহুর্তে গর্তে গিয়ে ঢুকলে আমি সেখানেও চলে যাব। কিন্তু তোমাকে আমার কথা শুনতে হবে। ইউ হ্যাভ টু!”
তুশি কাঠ গলায় বলল,
“ আমার আপনার সাথে কোনো কথা নেই।”
সার্থ আগুন চোখে হাসল,বলল,
“ স্বাভাবিক। অয়ন আছে যে!”
মুখের রং বদলে গেল তুশির। নাক ফুলিয়ে বলল,
“ আপনি যদি এমন কিছু ভেবে থাকেন, তাহলে সেই ভাবনার জন্যে আপনাকে অভিনন্দন।”
সার্থর মাথা এমনিই গরম। চেতে বলল,
“ তোমার লজ্জা করে না,সামান্য বিয়ের কথা উঠতেই মাঝরাতে ছাদে বসে অয়নের হাত ধরাধরি করছো! অথচ আমি এখনো আইরিনের শরীরে একটা নখ অবধি ছোঁয়াইনি।”
“ কেন,ছুঁতে দিচ্ছে না? ছোঁয়ার জন্যে ছটফট লাগছে? সেই তেজ কি তাহলে আমার সাথে দেখাচ্ছেন? এটাই বুঝি আপনার পুরুষত্ব!”
সার্থ ডান ভ্রু নাঁচিয়ে বলল,
“ পুরুষত্ব?
তুমি এই শরীরে আমার পুরুষত্ব নিয়ে কথা বলছো?”
তারপর কেমন অদ্ভুত চোখে তুশির কোমর হতে মুখ অবধি দেখল সে। ঠোঁটের কোণ তুলে বাঁকা হেসে বলল,
“ আমি পুরুষত্ব দেখানো শুরু করলে, তুমি এক মাস ঠিক করে হাঁটতেই পারবে না।”

তুশি প্রথমে বোঝেনি। বোকার মতো চাইল। এর মাঝেই খট করে শব্দ হলো দরজায়। আরেকটা মেয়ে ঢুকেছে। সাথে থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে গেছে ওখানেই। সার্থ মেয়েটাকে দেখে আর কথা বাড়াল না। ওরনাটা গুছিয়ে তুশির কাঁধে তুলে দিলো। কণ্ঠ নামিয়ে হুকুম ছুড়ল,
“ রাতে ছাদে আসবে। আই নিড টু ফিনিশ মাই পয়েন্ট।”
ওপাশের উত্তরের আশায় সে রইল না। বেরিয়ে গেল তেজি পায়ে। মেয়েটা হতবাক হয়ে চেয়ে রইল কিছুক্ষণ। পরপর নাক কুঁচকে বিড়বিড় করল,
“ দেশটা আর সভ্য নেই। মলের ওয়াশরুমেও এসব শুরু করে দিয়েছে।”
তুশির কানে কথা গুলো ঢুকল, তবে মাথা অবধি গেল না। কারণ,চোখের সামনে আস্ত দুনিয়া ভো ভো করে ঘুরছে। সার্থর কথা পাই টু পাই গিয়ে গেঁথেছে সেখানে। লোকটা কী বলে গেল! কী শুনল ও? নাকি রাগে,নার্ভাসনেসে আর বুকের ঢিপঢিপ শব্দে তুশি কিছু উল্টোপাল্টা শুনে ফেলল! উনি তো এরকম কথা বলতে পারেন না,তাই না?


তুশি ওয়াশরুম থেকে বাইরে এসে একটা বড়ো শ্বাস নিলো। ঠোঁটে ঝোলাল মিথ্যে মিথ্যে হাসি। পাছে কেউ বুকের কোণে ঠেসে রাখা সুনামি বুঝে না যায়! তারপর হাঁটা ধরল ফুডকোর্টের দিকে। ওখানেই তো ইউশা আর অয়ন ভাই ছিলেন। একদম একা,আলাদা দুজনকে রেখে আসার বুদ্ধিটা মন্দ হয়নি ওর। এতক্ষণে নিশ্চয়ই ওদের সব মিটমাট হয়ে গেছে?
নিশ্চয়ই অয়ন ভাই বুঝে ফেলেছেন,ইউশা ওনাকে পাগলের মতো ভালোবাসে,উন্মাদের ন্যায় চায়।
আচ্ছা তাহলে এখন গিয়ে কী শুনবে তুশি? অয়ন ভাই নিশ্চিত অনুতপ্ত হয়ে বলবেন,তুশি আমি ইউশাকে বিয়ে করব, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। তখন মনে মনে খুব হাসবে তুশি। উল্লাস,আর বিজয়ের হাসি। মেয়েটা ছটফটে পায়ে হাজির হলো সেখানে। ইউশা চেয়ারেই বসে। সামনের টেবিলে একটা সফট ড্রিংকস ভরা অন টাইম গ্লাস রাখা। অথচ খাওয়ার বদলে উদাস চোখে সেটাকে চেয়ে দেখছিল ও। তুশি আসতেই ধ্যান ভেঙে উঠে দাঁড়াল অমনি। বলল,
“ এসেছ,এত দেরি হলো যে?”
তুশির মুখের হাসি মুছে গেল। উদগ্রীব হয়ে দেখল চারিপাশ। অয়নকে না পেয়ে শুধাল,
“ অয়ন ভাই?”
ইউশা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“ রাগ করেছেন।”
“ সে কী,কেন?”
ইউশার স্বর মলিন,
“ আমাকে বারবার জিজ্ঞেস করছিলেন কী হয়েছে! ওনার সাথে কথা কেন বলছি না। উত্তর দিচ্ছিলাম না দেখে নিজেই ধৈর্য হারিয়ে চলে গেল।”
বলেই সরল ঠোঁটে ফিক করে হেসে ফেলল মেয়েটা। তুশির সব আশা,সব উত্তেজনা ফুস করে উবে গেল হাওয়ায়। টাস করে কপালে চড় মারল সে।
ইউশা অবাক হয়ে বলল,
“ ওমা,কপাল চাপড়াচ্ছ কেন?”
তুশি থমথম করে বলল,
“ চাপড়াচ্ছি না। কপালে অনেক সুখ তো,লোড নিতে না পেরে খুলে পড়ছে। তাই চেপে চেপে আটকাচ্ছি।”
ইউশা শব্দ করে হেসে উঠল।
তুশির মুখটা অন্ধকারের মতো কালো হল তাতে। ও জানে ইউশার এই হাসি মিথ্যে,চেহারার এই ঝকঝকে ভাবটুকু মিথ্যে। যদি সত্যি কিছু থাকে,তাহলে সেটা শুধুই ওর যন্ত্রণা, ওর বিরহ। এক তরফা ভালোবাসে যারা,ওরা বোঝে বিরহের দহন কি জিনিস! কী মৃত্যুর মতো নিদারুণ কষ্ট তাতে।
ইউশা এসে হাত ধরল তখনই।
বলল,
“ চলো তুশি, এবার কোমর বেঁধে কেনাকাটা করি। দুটো জামা ছাড়া কিচ্ছু কেনা হয়নি। আইরিন আপুকে দেখেছ? ব্যাগ ধরছে না হাতে।”
তুশি ওর ইশারা করা দিকে ফিরে চাইল। কাচের ওপাড়ে থাকা শো রুমটায় দেখা যাচ্ছে আইরিনকে। শপিং এ মশগুল। গোটা মার্কেটই তুলে নেবে বোধ হয়। দুহাত ভরতি ব্যাগ। অথচ তুশির বেহায়া নজর খুঁজে মরল সার্থকে। তখন বেরিয়ে কোথায় গেল লোকটা? কোথাও দেখতে পাচ্ছে না তো!


বিশাল, রংচঙে লাইট ঝোলানো অর্নামেন্টসের দোকানে ঢুকল ওরা। ইউশা বলল,
“ তোমার না চুড়ি অনেক ভালো লাগে? চলো, কিছু চুড়ি নিয়ে নিই।”
তুশি একটু অন্যমনস্ক। ওয়াশরুমের কথাগুলো ওর মাথা থেকে যায়নি এখনো। বুঝতে পারছে না,হুট করে ওই পাথুরে লোকের হলোটা কী? ছাদে যেতে কেন বলল!
ওহ,নির্ঘাত তুশি কথা বলছে না দেখে ইগোতে লেগেছে। লাগুক,যত ইচ্ছে লাগুক। তুশি ফিরেও তাকাবে না। যাকে বিয়ে করছে তাকে নিয়ে শুয়ে থাকুক ছাদে।
ইউশা ততক্ষণে এক ডজন চুড়ি নিয়েছে হাতে। কিছু নিজের জন্যে,কিছু তুশির। দোকানে সেসময় সেলসম্যান ছিলেন না। আযান পড়ায় নামাজে গিয়েছেন। ম্যানেজার হিন্দু। উনিই বসে ছিলেন সেখানে।
ইউশা দুটো চুড়ি ছাড়িয়ে তুশির হাতে ঢুকাতে গেল,পারল না। মনে হলো ছোটো। জিজ্ঞেস করল,
“ এর থেকে বড়ো সাইজ নেই?”
উনি বললেন,
“ এটাই তো ঢুকবে। আপনি বোধ হয় পারছেন না। দেখি আমাকে দিন।”
বলেই এক টানে তুশির হাতের কব্জি চেপে ধরলেন তিনি। ধরার তোড় এত বেশি,তুশির শরীর সুদ্ধ ঝুঁকে গেল ওদিকে।
সহসা কোত্থেকে উড়ে গিয়েই ক্ষুব্ধ চিত্তে লোকটার কলারে এক হাতে থাবা মারল সার্থ৷ আচমকা আক্রমণে
ভদ্রলোক হকচকিয়ে চাইলেন। কিছু বলার আগেই সার্থ কষে এক চড় মারল গালে। সঙ্গে সঙ্গে একটা ছোট্ট বাজ যেন আছড়ে পড়ল হেথায়। ইউশা মুখ চেপে ধরল,চোখ ফেটে বেরিয়ে এলো তুশির। অয়ন ফোনে কথা শেষ করে হেঁটে আসছিল,সামনের ঐ দৃশ্যে ছুটে এলো এবার।

এদিকে ম্যানেজার থ বনে গেলেন৷ পরপরই গর্যে উঠলেন ভীষণ রাগে,
“ ইউ স্ল্যাপড মি!
আপনি জানেন এই শপের মালিক কে? আমি ওনার…”
পথিমধ্যেই সার্থ দ্বিতীয় চড় মারল। লোকটা ফের বলতে নেয়,
“ আপনার এত বড়ো সা…”
এইবার তিন নম্বর চড়টাও সপাটে বসিয়ে দিল সে। অমন পোক্ত হাতের একেকটা থাপ্পড়ে লোকটার মাথা চক্কর কাটার যোগাড়। ভয়ে আর্তনাদ করে উঠলেন,
“ পুলিশ পুলিশ। মার্কেটে গুণ্ডা পরেছে, পুলিশ। কেউ পুলিশে খবর দিন,প্লিজ। পুলিশ পুলিশ।”
অয়ন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
“ উনিই পুলিশ।”
লোকটার চক্ষু চড়কগাছ। চোয়াল ঝুলে পড়ে নিমিষে।
অয়ন এসে সার্থর মুঠো ধরে টানল,বলল
“ ভাইয়া ছেড়ে দাও।
ছাড়ো ভাইয়া, লোকজন দেখছে।”
সার্থ ঘুরে বাইরেটা দেখল এক পল। দু চারজন লোক এসে দাঁড়িয়েছেন। কানাঘুষা করছেন। কলার ছেড়ে দিল তাই। ভদ্রলোক জান হাতে পেলেন, সোজা হলেন,কোচকানো শার্টের কলার ঠিকঠাক করতে করতে ভীত চোখে দেখে গেলেন সামনের গাট্টাগোট্টা শরীরের এক শক্তপোক্ত পুরুষকে। অয়ন জিজ্ঞেস করল,
“ কী হয়েছে? মারছিলে কেন?”
সার্থ জবাব দিল না। চোখ রাঙিয়ে এক পল চাইল তুশির পানে।
এদিকে ইউশা হাঁ করে সার্থকেই দেখছে। চোখেমুখে বিস্ময়ের ভেলকি! তুশির হাত ধরল বলেই কি মেজো ভাইয়া এভাবে মারল?
অথচ তিতিবিরক্ত শ্বাস ফেলল তুশি। এই বিধ্বস্ত মনে ওর কোনো ঝামেলাই ভালো লাগছে না। শুধু শুধু লোকটাকে মারল না? পারেই শুধু এসব। একটা খাম্বার মতো শরীর,যাকে পায় তাকে পেটায়। নিশ্চিত ইগো হার্ট হওয়া রাগটা লোকটার ওপর ঝেড়েছে। ও মৃদূ স্বরে বলল,
“ ইউশা, আমি বাড়ি যাব। অনেক হয়েছে শপিং। তুমি তোমার কেনাকাটা শেষ করে এসো।”
মেয়েটা গাড়ির দিকে এগোতেই,ইউশাও আর রইল না। মিনমিন করে বলে গেল,
“ ভাইয়া, আমিও যাই।”
তারপর ছুটল বোনের পেছনে। অয়ন একবার ভাইয়ের কাঁধে হাত রাখল। তারপর চলল আস্তেধীরে। সার্থ ঠায় দাঁড়িয়ে রইল তখনো। টগবগে চোখদুটো ঝকঝকে মেঝেতে ফেলে নিচের ঠোঁট কামড়ে গেল সে। ম্যানেজার লোকটা কিছুক্ষণ পরোখ করলেন ওকে। চেয়ে চেয়ে পা থেকে মাথা অবধি মাপলেন। হাইট, হেয়ারস্টাইল, ফিগার সব বলছে পুলিশের নিশ্চয়ই উঁচু পোস্ট হবে। একটু ভালো হওয়ার আশায়
যেচে পড়ে সাফাই দিলেন,
“ আমি দুঃখিত স্যার! উনি আপনার বোন হয় বুঝিনি।”
অমনি ঝট করে ঘুরেই চতুর্থ থাপ্পড়টা মারল সার্থ। কলার ঝাঁকিয়ে ঝাঁকিয়ে চিড়বিড় করে বলল,
“ আমার বউ হয় ননসেন্স,
বউ হয় আমার।”

চলবে…

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply