Golpo romantic golpo ওরা মনের গোপন চেনে না

ওরা মনের গোপন চেনে না পর্ব ২৩


ওরা মনের গোপন চেনে না

পর্ব সংখ্যা [২৩]
[ প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত,🚫]
সকালের স্নিগ্ধ রোদ বেলকনির থাই গ্লাসে প্রতিফলিত হয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করছে। মিষ্টি বাতাস ছুঁয়ে দিচ্ছে গা। গতরাতে ঘুমটা দারুণ হয়েছে। আরামে কেটেছে রাতটা। সুখানুভূতি আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখেছে দেহকে। মৃত্তিকা চেতনা পেতেই নিজেকে শক্ত-পোক্ত বাহুর বন্ধনে আবিষ্কার করে। একটি উদাম শক্ত গায়ের সাথে তার উন্মুক্ত দেহ মিশে আছে। আফিমের এক হাত মৃত্তিকার ঘাড়ের নিচে। অপর হাত জড়িয়ে নিয়েছেে তাকে। আফিমের গাঢ় নিশ্বাস আছড়ে পড়ছে মৃত্তিকার ঘাড়ে। ঘাড়ের মাঝে মুখ ডুবিয়েছে ছেলেটা। মৃত্তিকার গাল জোড়া লাল হয়ে উঠেছে লজ্জায়। অস্বস্তিতে হাঁসফাঁস করে ওঠে হৃদয়। আফিম তার দেহের মাঝে মিশে আছে, বক্ষ মাঝে তাকে আগলে রেখেছে ভাবতেই লজ্জায় মৃত্তিকার মরে যেতে ইচ্ছে করছে। লুকোতে ইচ্ছে করছে সবার থেকে। নড়ার শক্তিটুকু পায় না মৃত্তিকা। ভয় হয়, আফিম জেগে গিয়ে তাকে এভাবে দেখলে লাজে মৃত্তিকা প্রাণ হারাবে।

গতরাতের দৃশ্য গুলো মানসপটে ভেসে উঠছে। আফিম, মানুষটা রুক্ষ, রগচটা হলেও মৃত্তিকার কাছে এসেছিল কোমল হয়ে। বাড়াবাড়ি রকমের যন্ত্রণা দেয়নি তাকে, হিংস্র হয়ে চাহিদা মেটায়নি। বরং খুব নরম-সরম ভাবে ধরেছিল ওকে। বুকের মাঝে ঠেসে ধরে একটি গানও গেয়েছিল ঘনিষ্ঠ মুহুর্তে। চোখ বুজলেই আফিমের সেই চমৎকার, গভীর, নিচু কণ্ঠের গানটি কানে বাজছে,
“ Araam de tu mujhe,
barson ka hun main thaka,
palkon pe raate liye,
Tere waste main jagah..

এরপরই আফিমের কণ্ঠ খানিক উঁচু হয়ে ওঠে। মৃত্তিকার অধরযুগলে নিজ অধর চেপে ধরে আবেশিত হয়ে থাকে। পুরো নিস্তব্ধ ঘরটায় আলোড়ন তুলে চেঁচিয়ে, উঁচু কণ্ঠে গেয়ে ওঠে,

“ mere har dard ki,
Gehrai ko,
Mehsoos karta hain tu,
Teri aankhon se gham,
Tera mujhe,
Maloom hone laga…

Tu mila to khuda ka sahara mil gaya
Tu mila ko khuda ka sahara mil gaya”.

ভাবতেই মৃত্তিকার শরীর ঝাঁকি দিয়ে ওঠে। আফিমের কণ্ঠ সর্বদা অভিভূত করে মৃত্তিকাকে। গানের গলা ছেলেটার মারাত্মক। অথচ গান নিয়ে তার চর্চা নেই। কোন এলাকায় গ্যাঞ্জাম বেঁধেছে, কোথায় মারপিট হচ্ছে এসবেই তার প্রবল আগ্রহ। কাকে কখন কিভাবে মারতে হবে তা নিয়েই আফিমের চর্চা। ভাবতে গিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে মৃত্তিকা। ভাবতে ভাবতেই চোখ দুটো লেগে আসে। গভীর নিদ্রায় ফের তলিয়ে যায় সে।

সকাল নয়টায় মৃত্তিকার যখন ঘুম ভাঙে তখন আফিম বিছানায় নেই। মৃত্তিকার গায়ে আফিমের শার্ট। এটা কখন পড়িয়েছে? মনে পরছে না মৃত্তিকার। ভোরে যখন ঘুম ভাঙল তখনও তো সালোয়ার কামিজ ছিল পরনে। আফিম কখন এসব করেছে? টের পায়নি কেন মৃত্তিকা? ঘুমটা আজ একটু বেশিই গভীর ছিল? ভ্রু কুঁচকে ফেলে মৃত্তিকা। মুখ থেকে কম্ফোর্টার টেনে সরায় সে। শোয়া থেকে উঠে বসতেই ওয়াশরুমের ছিটকিনি খোলার শব্দ শুনতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে ভেতরের অনুভুতি গুলো এলোমেলো হয়ে পরে তার। আফিম আসছে হয়তো। গতরাতে যা হয়েছে, তাতে মৃত্তিকার মুখ নেই লোকটার সামনে যাওয়ার। লাজে, শরমে চোখ দুটো তুলতেই পারছে না মৃত্তিকা। আফিমকে দেখলে সে বুঝি মরেই যাবে। চট করে পায়ে আটকানো কম্ফর্টার টেনে ঝটপট শুয়ে পড়ে মৃত্তিকা। ঘুমোনোর ভান ধরে স্থির হয়ে থাকে।

আফিম ঘরে প্রবেশ করে। তার গায়ে একটি কালো স্যান্ডো গেঞ্জি আর কালো হাফ প্যান্ট। মোটা বাহু উন্মুক্ত। বুক-পিঠ দেখা যাচ্ছে। সবে গোসল করে বেরিয়েছে আফিম। ভেজা চুল বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে তার। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকোয় আফিন। মৃত্তিকা চোখের উপর থেকে কম্ফর্টারের মোটা আবরণ সরিয়ে আফিমকে দেখতে গেলেই আয়নায় মৃত্তিকার প্রতিবিম্ব দেখতে পায় আফিম। চুল শুকোনোর ফাঁকেও তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল বিছানায় কম্ফর্টার জড়িয়ে শুয়ে থাকা নারীটির দিকে। মৃত্তিকা না বুঝে তাকে দেখতে গিয়ে ধরা পরে গিয়েছে আফিমের চোখে। আফিমের সবুজাভ চোখ জোড়া হেসে ওঠে মৃত্তিকাী কাণ্ডে। মৃত্তিকা আড়চোখে চেয়ে আবার কম্ফর্টারে মুখ লুকোতেই আফিম গাঢ় চোখে চেয়ে বলে,

“- মৃত্ত, শাওয়ার নিয়ে এসো। যাও”।

মৃত্তিকা না শোনার ভান করে। আফিম দ্রুত এগিয়ে এসে হেঁচকা টানে সরিয়ে ফেলে কম্ফর্টার। মৃত্তিকা চোখ খিঁচে নেয়। আকুতি করে তৎক্ষনাৎ বলে ওঠে,

“- আপনি চলে যান, আমি উঠছি”।

আফিম বলে ওঠে,
“- আমি যাচ্ছি না কোথাও, ওঠো। দেখি আমার শার্টে তোমাকে কেমন লাগছে”।

মৃত্তিকার শ্বাস আটকে আসে। অস্বস্তিতে জুবুথুবু হয়ে চোখ বুজে পড়ে থাকে বিছানায়। আফিমের থেকে যদি পালাতে পারতো, তাহলেই সুখ পেত মৃত্তিকা। কিংবা অদৃশ্য কোনো দৈব শক্তির দ্বারা অদৃশ্য হতে পারলে মৃত্তিকার জড়তা খানিক কমতো। লজ্জায় সে কিছুতেই আফিমের সামনে যেতে পারবে না আর। গতরাতের অসহ্যকর আচরণ মনে পরলেই শরীর হীম হয়ে আসছে মৃত্তিকার। আফিমকে দেখলে আড়ষ্টতা বাড়ছে, লাজে নুইয়ে যাচ্ছে সে। খুব বিচলিত কণ্ঠে মৃত্তিকা বলে,

“- আমাকে একা থাকতে দিন প্লিজ।”

খানিক সময় চাই মৃত্তিকার। প্রথমবার কোনো পুরুষের গভীর ছোঁয়া পেতেই শরীর ভেঙে এসেছে মেয়েটার। দুর্বল লাগছে খুব। আফিমের সামনে পড়তে ইচ্ছে করছে না, ভীষন লজ্জা লাগছে। এই অস্বস্তিকর পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতেই কথাটি বলে ওঠে মৃত্তিকা। কিন্তু তার কথায় আফিমের উজ্জ্বল চোখটা ঘোলাটে হয়ে আসে। স্বচ্ছ চোখ জোড়া আঁধারে ডুবে যায়। হাস্যজ্বল মুখ চুপসে যায়। মৃত্তিকাকে আর না জ্বালিয়ে সে বলে,

“- ঠিক আছে, আমি যাচ্ছি। খেয়ে নিও, শরীর খারাপ লাগলে বলো।”

আফিম শার্ট-প্যান্ট পড়ে চলে গেল বাইরে। তার শব্দ না পেয়ে মুখ তুলে চেয়ে স্বস্তির শ্বাস ফেলে মৃত্তিকা। তড়িঘড়ি করে উঠে গোসল সেরে নেয় সে। মাথায় ওড়না চেপে রান্নাঘরে অগ্রসর হতেই দেখে কিচেন এপ্রোন পড়ে চপিং বোর্ডে সবজি কাটছেন আশরাফ মির্জা। এ সময় তার বাড়িতে থাকার কথা নয়। আজ হয়তো কাজে যাননি তিনি। মৃত্তিকা দ্রুত এগিয়ে আসে রান্নাঘরে। ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলে,
“- স্যরি বাবা, আজকে ঘুম থেকে উঠতে লেট হয়ে গেছে। আপনি কাজে যাবেন না জানলে আমি আগেই উঠতাম”।

আশরাফ মির্জা হেসে বললেন,
“- কেন? বাবার হাতের রান্না খেতে ইচ্ছে করে না”?

“- না না, তেমনটা নয়। আমি তো ছিলাম রান্নাবান্না করার জন্য”।

কথাটি নিয়ে আর কথা বাড়ালেন না আশরাফ মির্জা। বললেন,
“- আফিমকে দেখলাম বের হতে, একটা কথাও বলল না আমাকে দেখে। পুলিশ ওকে কখন ছেড়ে দিয়েছে”?

মৃত্তিকা বিব্রত হয় ভীষণ। আফিম ছেলেটা আসলেই বজ্জাত। জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে, একটিবার সেকথা বাবাকে জানাবে না? দেখা হওয়ার পরেও কিছুই নাকি বলেনি বাবাকে। এ ধরণের ছেলেদের আর কি বলা যায়? মুক্ত হয়ে সর্ব প্রথম বাবার সাথে দেখা করা উচিত ছিল আফিমের। তিনি এ দুদিন কতটা কষ্ট পেয়েছেন তা কি আফিম বোঝে না? বাবার সাথে আফিমের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে না। বরং দিন দিন তাদের সম্পর্কে দুরত্ব আরো বেড়ে যাচ্ছে। মৃত্তিকা হতাশ হয়ে বলে,

“- উনি এমন কেন বাবা? এত জেদ, রাগ, অহমিকায় নিজেকে ঘিরে রাখে কেন? আপনার সাথেই বা তার কিসের শত্রুতা”?

আশরাফ মির্জা শসা স্লাইস করতে করতে বলেন,
“- ওর মাম্মাও এমন জেদী ছিল, তাই ও এমন একরোখা হয়েছে। শত্রুতা কি আমি করতে চাই বলো? তোমার বর আমাকে খুব একটা পছন্দ করে না”।

“- পছন্দ করে না কেন”?

“- কারণটা খুব ছোট। অবান্তর কথা বলে আফিম। বলে আমাকে বিয়ে করতে হবে। তুমিই বলো, আমার কি বিয়ে করার বয়স আছে? এখন নাতি-পুতি নিয়ে ঘুরবো, খেলবো। এ বয়সে এসব নিয়ে ভাবা যায়”?

“- যখন ভাবা যেত, তখন কেন ভাবেননি বাবা”?

“- আফিমের জন্য। আফিম খুব কঠোর প্রকৃতির ছেলে। ওর মা চলে যাওয়ার পর আমি রীতিমতো ভেঙে পড়লেও আফিম খুব স্বাভাবিক ছিল। ওতটুকু বয়সের ছেলে কিনা মা হারানোর কোনো ব্যথাই অনুভব করেনি। একটিবারও কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়েনি, মাকে আবারো নিজের কাছে ফেরত পেতে চায়নি। খুব শক্ত ছিল ছেলেটা। আমি ভেবেছিলাম আফিম ওর মা কে হারিয়ে আর পাঁচটা বাচ্চার মতোই কান্নাকাটি করে পুরো বাড়ি মাথায় করবে, অযত্নে নিজেকে ফেলে রাখবে। কিন্তু ছেলেটা তেমন কিছুই করেনি। বরং ওর মা চলে যাওয়ার এক মাস পর থেকেই আফিম আমাকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে জোর করে। আমি না করি, ও আরো বেশি জোর করে। আমি ওকে বোঝাতেই পারলাম না যে গর্ভে ধারণ করা মা ও ছোট বাচ্চাকে ছেড়ে নিজ স্বার্থে চলে যায়, সেখানে সৎ মা কিভাবে বিশ্বাসযোগ্য হয়। আমি আফিমকে নিয়েই জীবন কাটাতে চেয়েছি। অন্য কেউ ঘরে আসবে, আরো সন্তানের বাবা হবো, এসবের রেষারেষিতে আমার আফিমের যে কোনো অভিযোগ থাকবে না এ নিশ্চয়তা আমি পাইনি।”

একটু থেমে তিনি পুনরায় বলে ওঠেন,
“- ছেলেটা একদম বখে গেছে। ছোট-বড় কাউকে মানে না। দিন-রাত গুণ্ডামি করে বেড়ায়। এখানে-ওখানে আড্ডা দেয়, সিগারেট খায়। আমি ওকে শাসন করবো না? শাসন করি বলে আমাকে আফিম দু চোখে দেখতে পারে না।”

কথাগুলো বলেই দীর্ঘশ্বাস ফেললেন আশরাফ মির্জা। মৃত্তিকা মনোযোগী শ্রোতার ন্যায় শুনে যায় তার অকপট স্বীকারোক্তি। আশরাফ মির্জা নিঃসন্দেহে চমৎকার মানুষ। মৃত্তিকাকে তিনি নিজের মেয়ের মতোই সমীহ করেন। আর এ কারণেই অকপটে সব কথা বলতে পারেন, দ্বিধা রাখেন না কোনো। অন্য কেউ হলে কি এভাবে বলতে পারতো?, শিক্ষা, মর্যাদা, দায়িত্ববোধ সব কিছু পরিমাপ করলে বলা যায় আশরাফ মির্জা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ। তারই ছেলে কি করে যে বখে যায় ভেবে পায় না মৃত্তিকা। নামকড়া মাস্তান হিসেবে আফিম মির্জা পরিচিত। আশরাফ মির্জার ছেলে হিসেবে তাকে দাম দেয়া হয় না। বোধ করি আফিম সে দাম চায়ও না। নিজের কুখ্যাত পরিচয়টাই তার জন্য শান্তির।


আফিম ফিরেছে কিছুক্ষণ। ফ্রেশ হতে গিয়েছে। মৃত্তিকার মনটা খারাপ। ও বাড়িতে যাওয়া উচিত। সদ্যজাত শিশুটিকে দেখার জন্য মনটা আকুপাকু করছে। কিন্তু ওই ছোট্ট শিশুর জন্য ও বাড়িতে গেলেও পুরোটা সময় তাকে অস্বস্তি আর অভিযোগের মাঝে আটকে থাকতে হবে। শত শত প্রশ্ন করে ওরা জ্বালিয়ে মারবে মৃত্তিকাকে। ভাইয়া-ভাবির কটু কথা এখন একটু গায়ে বিঁধে মৃত্তিকার। এর অবশ্য একটা যুক্তিযুক্ত কারণ আছে। আগে মৃত্তিকার যাবার জায়গা ছিল না। কটু কথা শুনে, পরিশ্রম করেও তাকে ওই বাড়িতেই থাকতে হতো। ও বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় ছিল না। কিন্তু এখন মৃত্তিকার আরেকটা জগত আছে। এই জগতের একটি মামুষকে সে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, ভরসা করে। সেই মানুষটি মৃত্তিকার বাবার স্থান দখল করেছে। এই তো কিছুক্ষণ আগেই বাবা তেলাপিয়া মাছ, ডাল রান্না করে মৃত্তিকাকে পরিবেশন করে খাইয়েছেন। মৃত্তিকার তখন এত ভালো লেগেছিল। অন্তত শ্বশুরবাবার প্রতি মৃত্তিকার একটা আলাদা টান আছে। তার মাঝে মৃত্তিকা নিজের বাবাকে খুঁজে পায়, ভরসা করতে পারে বাবাকে।

আফিম ঘরে ফেরায় খালাদের কাজ বুঝিয়ে দিয়ে মৃত্তিকা ঘরে ফেরে। দরজায় দাঁড়াতেই সংকোচ নেমে আসে। আফিমকে দেখলেই মৃত্তিকার লজ্জা লাগছে। সারা সকাল আফিম বাড়িতে ছিল না। মুক্ত পাখির মতো ডানা ঝাপটে উড়েছে সে। এখন আফিমকে দেখেই গাল জোড়া লজ্জায় লাল হয়ে উঠছে। আশ্চর্য! এত লজ্জা পাওয়ার আদৌ কিছু আছে? আফিম ঠিকই স্বাভাবিক ভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ অনুভুতি, এ মিষ্টি যন্ত্রণা তো আফিমের কাছেও নতুন। কই সে তো কোনোরকম সংকোচ করছে না। তাহলে মৃত্তিকা লাজে নুইয়ে পড়ছে কেন? কেন চোখ তুলে আফিমের দিকে তাকাতেও পারছে না? এভাবে কত সময় সে পালিয়ে পালিয়ে বাঁচবে? আফিম যদি জানতে পারে গতরাতের ঘটনার জন্য মৃত্তিকা লজ্জা পাচ্ছে, নির্ঘাত লোকটা তাকে আরো লজ্জা দেবে।

আফিম চেঁচিয়ে ডাকছে মৃত্তিকাকে। শোনামাত্র ধীর পায়ে ঘরে ঢোকে মৃত্তিকা। মৃত্তিকাকে দেখে আফিম ভনিতা ছাড়াই শান্ত, ধীর কণ্ঠে বলে,

“- কাবার্ডে কয়েকটা শপিং ব্যাগ আছে, তোমার জন্য কিছু শাড়ি এনেছি”।

মৃত্তিকা বিস্মিত ভঙ্গিতে বলে,
“- আপনি টাকা কোথায় পেলেন”?

আফিম ফোন চার্জে লাগিয়ে বলে,
“- বাইক রেসে জিতে টাকা পেয়েছি”।

মুহুর্তেই মৃত্তিকার ঠোঁটের কোণ হেসে ওঠে। উজ্জ্বল হয়ে ওঠে মুখটা। বলে,
“- আপনি আগেও কম্পিটিশনে পার্টিসিপেট করতেন”?

“- হু, যখন প্রয়োজন হয় তখন করি”।

“- আপনি এ কথা আমায় আগে বলেননি কেন”?

“- এটা কোনো পেশা নয় মৃত্ত, তাই বলিনি”।

মৃত্তিকা কাবার্ড খোলে। সেখানে অনেকগুলো শপিং ব্যাগ দেখতে পায় সে। সবগুলো ব্যাগ খুলে মৃত্তিকা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে পড়ে। মসলিন, জামদানি, সুতি, কাতান, জর্জেট সহ আরো বিভিন্ন ধরণের শাড়ি এনেছে আফিম। পঁচিশটি শাড়ি একত্রে দেখে মৃত্তিকা থ বনে যায়। হতভম্ব হয়ে বলে,

“- এতগুলো শাড়ি? কার কার জন্য কিনেছেন”?

আফিম টি টেবিলে থাকা পানির গ্লাস তুলে বলে,
“- শুধু তোমার জন্য”।

‘- তাই বলে এতগুলো? আমি তো শাড়ি তেমন পড়ি না।”

আফিম স্বাভাবিক হয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলে,
“- আজ থেকে পড়বে, শাড়ি পড়লে বউ বউ লাগে।”

মৃত্তিকা উল্টেপাল্টে দেখে শাড়ি গুলো। সব গুলো শাড়িই সুন্দর, হয়তো অনেক দামীও। আফিম নিজে রোজগার করে তাকে শাড়ি উপহার দিয়েছে, ভাবতেও ভালো লাগছে মৃত্তিকার। যদিও বাইক রেস সাধারণ কোনো বিষয় না। বাইক রেসে ভীষণ ভয় মৃত্তিকার। স্বাভাবিকের চেয়ে সামান্য উচ্চ গতিই সহ্য হয় না মৃত্তিকার। সেখানে এত রিস্ক নিয়ে আফিম রেসে পার্টিসিপ্যান্ট করে, ভাবতেই গায়ে কাটা দিয়ে ওঠে। খয়েরি রঙের একটি শাড়িতে মৃত্তিকার নজর আটকায়। পুরো শাড়িটা মেলে দেখে সে। সহসা আফিম এগিয়ে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। মৃত্তিকার পাশে এসে বসে সে। তাকে পাশে বসতে দেখেই মৃত্তিকা নড়েচড়ে ওঠে। আফিমের গায়ের কড়া পারফিউমের ঘ্রাণ নাকে ভেসে আসে। আফিম কিয়ৎক্ষণ মৃত্তিকার পানে গাঢ় চোখে তাকিয়ে থেকে হঠাৎই বলে ওঠে,

“- মৃত্ত, আ’ম স্যরি”।

মৃত্তিকা চট করে আফিমের দিকে তাকাতেই ভড়কে যায় মেয়েটা। আফিমকে বিষণ্ণ দেখাচ্ছে। সচরাচর লোকটাকে এতটা উদাস দেখায় না।

“- স্যরি কিসের জন্য”?

আফিম অকপটে বলে ওঠে,
“- গতরাতে তুমি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে আমার স্পর্শ গ্রহণ করেছিলে”?

মৃত্তিকার শ্বাস আটকে আসে। থেমে যায় শাড়ির উপর হাতের বিচরণ। বুঝতে পারে না আফিমের কথার মানে। তবে লজ্জায় গাল দুটো রাঙা হয়ে ওঠে মেয়েটার। কণ্ঠদেশে চিবুক ঠেকে। চরম অস্বস্তিতে হাসফাস করে ওঠে মেয়েটা। আফিম পুনরায় বলে ওঠে

“- তুমি আমার কাছে সময় চেয়েছিলে। আ’ম স্যরি”।

লোকটাকে এ মুহুর্তে বড্ড অসহায় দেখায়। কণ্ঠস্বর কিছুটা করুণ শোনায়। মৃত্তিকা তার এই অনুতপ্ত বোধকে ধূলিসাৎ করে দিয়ে হেসে বলে,

“- আফিম, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বৈধ, হালাল। আপনাকে আমি হয়তো ওভাবে ভালোবাসি না, হয়তো বিয়েটা মাঝে মাঝে আমি মেনে নিতে পারি না। কিন্তু এটা যে সত্য। আমি আপনার স্ত্রী, আপনার অধিকার আছে। আমি নিজেই ধরা দিয়েছি, হক পূরণ করেছি। এসব স্বাভাবিক ভাবে নেয়া উচিত, বরং ঘনিষ্ঠ না হওয়াটাই অস্বাভাবিক”।

আফিমের উদাস, মলিন মুখটায় প্রশান্তিতে আলাদা রকমের উচ্ছ্বাসের দেখা দিল। চোখ গুলোও দারুণ ভাবে হেসে উঠল ওর। আগের মতোই দুষ্টুমিরা ভর করল তার ভেতরে। দুরত্ব ঘুচিয়ে মৃত্তিকার অতি নিকটে এসে আবদার জুড়ল,

“- তাহলে আরেকটা চুমু খাই? ছোটখাটো চুমু না, দীর্ঘ চুমু, শব্দ চুমু, ভেজা, নরম চুমু”।

বাচ্চাসূলভ ভঙ্গিতে কথাটা বলে উঠল আফিম। মৃত্তিকা ভড়কে গেল। এখনই লোকটা মনমরা ছিল, চোখে মুখে কোনো দুষ্টুমির রেশ ছিল না। মুহূর্তের মাঝেই লোকটার ভাবনা-চিন্তা বদলে গেল? চুমুর উদ্ভট ধরণ শুনে খুব হাসি পেলেও তা চেপে গেল মৃত্তিকা। আফিম অস্থির, অধৈর্য্য ভঙ্গিতে বলল,

“- অ্যাই মৃত্ত, খাই না? আমার তর সইছে না। তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। সত্যি বলছি, তোমার মতো আগুন সুন্দরী মেয়ে আমি আগে কখনো দেখিনি”।

বলেই আফিম মৃ্ত্তিকার নাকের ডগায় আলতো পরশ এঁকে দিল। মৃত্তিকার মাথার ওড়না বাতাসের দাপটে উড়ে মৃত্তিকার অর্ধেক মুখ ঢেকে দিল। ঘটনাটায় বিরক্ত হলো আফিম। ললাটে ভাঁজ ফেলে বলল,

“- যখন আমি কাছে থাকবো, তখন গায়ে ওড়না রাখবে না”।

মৃত্তিকা লজ্জায় নুইয়ে পরল। দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে লাজুক স্বরে বলল,
“- কিসব বলছেন? দোহাই লাগে, জবানে লাগাম টানুন। আমি লজ্জায় মরে যাবো”।

“- তোমার জন্য আমি কতটা বদলেছি জানো? এই দেখো, তোমাকে তুমি করে বলি, আদর করি, ভালোবাসি। আমি কখনো কাউকে ভালোবাসিনি মৃত্ত, কখখনো না”।

বলেই মৃত্তিকার গালে গাল ঘষে দেয় আফিম। মৃত্তিকার সর্বাঙ্গ কেঁপে ওঠে। আফিমের ক্লিন সেভ গালে মৃত্তিকার মসৃণ গাল একত্রিত হতেই মৃত্তিকা সরিয়ে দেয় আফিমকে। মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বলে,

“- সিগারেট খেয়ে এসেছেন”?

আফিম প্রগাঢ় হেসে মৃত্তিকার চিবুকে আঙুল ছুঁয়ে বলে,
“- আজ খাইনি, গতরাতের নেশাটাই কাটেনি”।

তার দুষ্টুমির স্বর ঠিকই ধরতে পারে মৃত্তিকা। লাজে মুখ খিঁচে ফেলে সে। আফিম মোহগ্রস্ত হয়ে ডাকে,

“- নেশাআআআআ”।

মৃত্তিকা সাড়া দেয় হেসে,

“- হু”?

“- মাতাল করো কেন আমায়? মাদকতা তুমি?”

মৃত্তিকা জবাব দেয় না। একটু নীরব থেকে সে বলে ওঠে,
“- আমি তো অসাধারণ কাউকে চাইনি, নিখুঁত সঙ্গী চাইনি। আমি একজন সাধারণ, সাদামাটা মানুষ চেয়েছি। যাকে দেখলে চোখের শান্তি মিলবে, যাকে দেখে কেবলই আমার আমার মনে হবে। আপনি একটু সাধারণ হতে পারলেন না আফিম? আরো আগে আমার জীবনে আসতে পারলেন না? তাহলে পৃথিবী আমায় এতটা দুঃখ দিতে পারতো না”।

আফিম মৃত্তিকাকে নিজের বুকে মিশিয়ে নেয়। মৃত্তিকার মাথার তালুতে হাত বুলিয়ে দেয়। অনেকটা সময় কেটে যায় এভাবেই। মৃত্তিকার কান্নার শব্দ শোনা যায়। মেয়েটা হাউ মাউ করে দাপিয়ে কাঁদে। গুনগুন করে নয় প্রচণ্ড চিৎকার করে কেঁদে ওঠে মেয়েটা। আফিমের শার্ট নখ দিয়ে টেনে ঝরঝর করে উদভ্রান্তের ন্যায় কাঁদে। আফিম চোখ বুজে নেয়। আরো চেপে ধরে। আফিম বাঁধা দেয় না একটুও। মৃত্তিকা ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলে ওঠে,

“- আমায় আগলে রাখবেন তেমন করে, যেমন করে দুঃখরা আমায় আঁকড়ে ধরে থাকে”।


পুরোনো জঙ্গলটায় এক প্রকার নিস্তব্ধতা বিরাজমান। ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ জায়গাটা। পা ফেললেই শুকনো পাতা খরখর করে শব্দ তুলছে। অন্ধকারে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। রাত বাজে দুটোর কাছাকাছি। আফিম একটি মোটা বট গাছের গুড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। জঙ্গলের পেছনে একটি প্রবাহমান নদী। নদীটির গভীরতা যত সামনে এগোনো যায় ততই বেশি মনে হয়। প্রবল স্রোত ক্ষুরের ন্যায় ধারাল। ওরা বয়ে চলেছে অবিরাম। নদীটির পাড়ে একটি লঞ্চ আটকে রাখা। বেশ বড়সড় লঞ্চটার মধ্যে গুটিকয়েক লোক দাঁড়িয়ে আছে। অপেক্ষা করছে গুপ্তচরের মতো। আফিম তাদেরকে দেখে বাঁকা হাসে। আফিমের পরণে কালো শার্ট, কালো প্যান্ট আর ব্রাউন জ্যাকেট, পায়ে বুট জুতো। জুতোর ভেতরে ছোট্ট বারুদযুক্ত বোম রয়েছে। কোমরে ও পিঠে দামি, ব্যবহারযোগ্য, আধুনিক পিস্তল রয়েছে, আফিম বুলেট পিস্তলে লোড করে রেখেছে মিশনে আসার আগেই। আফিমের গলার চেইনে বডি ওয়্যার ক্যামেরা লাগানো, কানে মাইক্রো এয়ারপিস। সবরকম প্রটেকশন নিয়েই মিশনে নেমেছে আফিম। চোখে কালো লেন্স লাগিয়েছে। তার এ চোখই অত্র এলাকায় তার পরিচয় বহন করে। তার চোখই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। তার নিঃশ্বাস, পা ফেলার শব্দ নিয়ন্ত্রিত, চোক জোড়াও এক দিকে স্থির। তীক্ষ্ণ চোখে অদম্য সাহসিকতা ফুটে উঠেছে।

আফিমের সাথে পুলিশ ফোর্স আছে। কিন্তু তারা আফিমের থেকে আলাদা সরে আলাদা জায়গায় অবস্থান করছে। ওদের কেউই আফিমকে দেখেনি। আফিম লুকিয়ে সরকারের জন্য কাজ করে। সে অদৃশ্য এক মানব, যার কাজটাই সকলে দেখতে পায়। তাকে কেউ দেখতে পায় না। আন্ডারকভার এজেন্ট বিশেষ করে ফিল্ড অপারেটিভ যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে তাদের জীবনটা ঝুঁকিপূর্ণ। সবার সাথে এদের মিশতে হয়, গুণ্ডাদের সাথে গুণ্ডা হতে হয়, ক্রিমিনালদের সামনে তাদের মতোই খারাপ হবার অভিনয় করতে হয়। সবার সাথে মিশে তথ্য সংগ্রহ করে, বিচার-বিশ্লেষণ করে ডকুমেন্ট সাবমিট করতে হয় সরকারের কর্মীদের। অতঃপর ফোর্সের সাথে মিলে অপারেশনে নামতে হয়, ধরতে হয় দেশের শত্রুদের। দেশকে বিপদমুক্ত করাই এজেন্টদের কাজ।

জঙ্গলের ভেতর দিয়ে হঠাৎ ক্ষীণ আলো নড়ে উঠল। কয়েকজন লোক জঙ্গল মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে নদীর লঞ্চের দিকে। সামনে থাকা মাস্ক পড়া ছেলেটা ফিসফিস করে নির্দেশ দিচ্ছে। ওরা লঞ্চে থাকা বক্স গুলো একে একে খুলে দেখে।
বাক্স খুলতেই ওদের টর্চ লাইটের আলোতে ঔষধের প্যাকেট দেখতে পায় আফিম। আরেকটা বাক্সে সারি সারি প্যাকেটে বিভিন্ন নেশাদ্রব্য দেখা যায় । বক্স গুলো লঞ্চ থেকে নামিয়ে নেয় ওরা। মাদক দ্রব্যর পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ পশ্চিমবঙ্গের পদ্মা নদীর অংশ দিয়ে এসেছে। নতুন মোড়কে ঔষধ গুলোকে ভরে পুনরায় বিক্রি করে মুনাফা লাভ করাই বাংলাদেশের কিছু মুখোশধারী লোকের উদ্দেশ্য। এ ঔষধ মরণঘাতী। মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ সেবন করে মৃত্যুর মুখে পড়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। এ জঙ্গলটা রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড়ে অবস্থিত। বিশাল বড় জঙ্গল ও পদ্মা নদী থাকায় অবৈধভাবে মাল আনা-নেওয়া করা যায়। ভারত থেকে বিভিন্ন অবৈধ গ্যাস, ফসল এদিক দিয়েই আসে বাংলাদেশে। চড়া দামে বিক্রিও হয়। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।

মাল নিতে আসা একজন লোক বলে,

  • “কাল ভোরের আগেই সব নামিয়ে ফিরতে হবে। আবার পাঠাতে হবে সব এলাকায়”।

ওরা তাড়াহুড়ো করে বক্স গুলো কাঁধে তুলে নেয়। সতর্ক ভঙিতে জঙ্গল মধ্য দিয়ে বক্স গুলো নিয়ে যেতে উদ্যত হয়। আফিম তখনই এয়ারপিসে হাত রেখে বলে,

“- টার্গেট কনফার্মড। শ্যুট দেম”।

বলতে দেরি হলে। বজ্রকণ্ঠে বুলেট ছুটে চলল দল গুলোর উপর। সমান তালে ওরাও বোম ছুড়তে লাগল। আফিম বুটের নিচ থেকে বোমাটা তৎক্ষনাৎ ছুঁড়ে দেয়। একের পর এক শ্যুট করে। পুলিশরা ঝাঁপিয়ে পড়ে ওদের দিকে। বিকট শব্দ তুলে অনবরত বাতাসে গুলি গুলো উড়ে যায়। কয়েকজনের পা ও হাতে নিশানা অনুযায়ী গুলি ছোড়ে আফিম। একে একে দলগুলোর বেশিরভাগ মানুষ লুটিয়ে পড়ে। বক্সগুলোর দ্রব্য ছড়িয়ে পরে ঘাসে। আফিম পকেট থেকে কালো মাস্ক পড়ে এগিয়ে আসে এক ছেলের কাছে। পায়ে গুলি ছোড়ায় ব্যথায় কুকিয়ে যাচ্ছে। আফিমকে দেখেই সে চিৎকার করে বলে,

“- ছেড়ে দেন, ভাই”।

আফিম মাস্কের আড়ালে হাসে। শিহাব অজ্ঞান হয়ে যায়। আফিম কন্ঠ খানিক ভারী করে বলে,

“- শিহাব, তোর কাহিনী এখানেই শেষ। এখন সেলে বসে দিন গোনা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই তোর। আমার এলাকায়, আমার সামনে দিয়ে মাদক পাচার করবি, এক্সপায়ার্ড মেডিসিন ছড়িয়ে দিবি। আমি দেখবো বসে বসে”?

আফিম বহুদিন ধরে বখাটে হয়ে শহরের অলিগলিতে ঘুড়ে বেড়ায়। তাকে সকলেই মাস্তান হিসেবে চেনে। কেউ জানে না বখাটে নামটা তার ছদ্মনাম, মুখোশ। তার আসল পরিচয় স্বয়ং আশরাফ মির্জাও জানেন না। আফিম এই বখাটে সেজে কত অপরাধীকে যে ধরেছে, তার হিসেব নেই। শিহাবকেও ধরে ফেলেছিল অনেক আগে। তবে তার কার্যক্রমের ফুটেজ, প্রমাণ কিছুই ছিল না। উপযুক্ত প্রমাণ আজ জোগাড় হলো। শিহাব আফিমকে খারাপই ভাবে। সে কখনো ভাবতে পারে না তার অন্যায় গুলোকে আফিম অন্যায় ভাববে। কারণ আফিম নিজেও গুণ্ডা, সন্ত্রাস। আফিম সবার সামনে নিজেকে এমন ভাবে উপস্থাপন করেছে যে আফিম একজন এজেন্ট এ কথা শুনলে কেউই বিশ্বাস করবে না। বরং হেসে কথাটা উড়িয়ে দেবে। দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে এ পরিচয়টা গড়েছে সে, সবার চোখে খারাপ হলেও রাষ্ট্রের জন্য সে অনেক বেশি উপকারী।

এয়ারপিসে ফোর্সের হেড বলে ওঠে,
“- ইউ আর জিনিয়াস।”

আফিম হেসে বলে,
“- মাই প্লেজার”।

চলবে?
লেখনীতেঃ #বৃষ্টি_শেখ

[ কাল সাবিহার বিষয়টা উন্মোচিত হবে। আপনারা রেসপন্স করুন, সম্ভবত কাল একটা নতুন পর্ব আসবে। আর এটা শেষ হতে আরো দেরি আছে, এন্ডিং নিয়ে এত দ্রুত ভাববেন না। ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply