একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব ৩২
আজ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছে শ্রাবণ ।ঘুম থেকে উঠেই ফ্রেশ হয়ে নিচে চলে এলো ।এসেই দেখল মেঘলা এবং লামিয়া ড্রয়িং রুমে বসে একা একা কিছু করছে ।মেঘলা রিমোট দিয়ে টিভি দেখছে কিন্তু লামিয়া কোন একটি প্রজেক্ট এর কাজ করছে।
শ্রাবণ হেলতে দুলতে এসে ড্রয়িং রুমে আরেকটি সোফায় বসে তাকালো মেঘলার দিকে ।মেঘলার কোন হেলদোল নেই ।টিভিতে এত টাই মগ্ন কে এসেছে কে গেল তাতে কোন খেয়ালই নেই মেঘলার।
শ্রাবণ মেঘলা দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললো,” মেঘলা এক গ্লাস পানি নিয়ে আয় ।”মেঘলা সাথে সাথে পিছনে একটু ঘুরে তাকিয়ে দেখলো শ্রাবণ ভাইয়া এসে বসেছে ।অথচ মেঘলা খেয়াল করেনি ।কি বলেছে তাও শোনে নি।মেঘলা বললো,” জি কিছু বললেন ?”
শ্রাবণ বললো,” হ্যাঁ পানি আনতে বলেছে এক গ্লাস।”
সাবিহা সুলতানা রান্না ঘরে ছিলেন
সাবিহা সুলতানা শুনলেন শ্রাবণ পানি আনতে বলছে মেঘলা কে কিন্তু আসমা বেগম সামনে তাই কিছু বলছে না ।সাথে সাথে আসমা বেগম বললেন ,”আমি নিয়ে আসছি দাঁড়া মেঘলা।তোর আসতে হবে না।”
বলেই রান্নাঘর থেকে উনি এসে পানি ঢেলে দিলেন শ্রাবণের হাতে।
মেঘলা উঠেছিল তবে আসমা বেগমের কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেছে ।মেঘলা আবার নিজের জায়গায় যেয়ে বসলো।
শহীদুল খান সাজ্জাদ খান আজ একটু বেশি ভোরেই চলে গিয়েছে ।সাজ্জাদ খানের অফিসে আজ একটি মিটিং আছে এবং শহিদুল খানের ও জরুরী দরকার তাই দুই ভাই একসাথে বের হয়ে গেছে।
আসমা বেগম শ্রাবণকে জিজ্ঞেস করলেন নাস্তা দিব তোকে ?শ্রাবণ দেখলো সবারই খাওয়া হয়ে গেছে। তানিয়া এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি অবশ্য শ্রাবণের তাতে কোন মাথা ব্যথা নেই ।
শ্রাবণ জিজ্ঞাসা করেনি তানিয়ার ব্যাপারে ।শ্রাবণ উঠে দাঁড়ালো ।দাঁড়িয়ে আসমা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললো,” মা নাস্তা ও কফিটা উপরে পাঠিয়ে দাও ।”
বলে শ্রাবণ সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে যেতে লাগলো ।শ্রাবণ জানে মেঘলা কে দিয়ে মা নাস্তা এবং কফি পাঠিয়ে দিবে।
হঠাৎ শুনলো আসমা বেগম বলে উঠলেন ,”লামিয়া তোর ভাইকে কফি আর নাস্তাটা উপরের দিয়ে আয় ।”
শ্রাবণের পা জোড়া থমকে গেল ।পিছনে তাকালো না তবে ভাবতে লাগলো আসার পর থেকে দেখছে মা সবসময় কিছু চাইলেই মেঘলাকে দিয়ে পাঠিয়ে দেয় ।অথচ আজ লামিয়া ব্যস্ত কাজ করছে তারপরও লামিয়াকে পাঠাচ্ছে যেখানে মেঘলা ফ্রী বসে আছে।
শ্রাবণ কোন কথা বললো না ।চুপচাপ হেঁটে নিজের রুমে চলে গেল ।ব্যাপারটা খুব অদ্ভুত ঠেকলো শ্রাবণ এর কাছে।
শ্রাবণ বুঝতে পারতো মা ইচ্ছে করেই মেঘলা কে সব সময় ওর কাছে পাঠায় ।কিছু একটা চাইলে গত দুই একদিন শ্রাবণ জেনে শুনেই মার কাছে এটা ওটা চাইতো কারণ শ্রাবণ জানতো মেঘলাকে দিয়েই পাঠাবে।
লামিয়া উপরে নাস্তা নিয়ে এলে শ্রাবণ লামিয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,” নিচে কিছু হয়েছে ?”
লামিয়া বললো,” কই না তো ?কি ব্যাপারে ভাইয়া ?”
শ্রাবণ বললো,” আচ্ছা কিছু না যা নিচে।”
লাঞ্চ টাইম ।সাজ্জাদ খান না এলেও শহিদুল খান চলে এলেন ।সাজ্জাদ খান ডিউটিতে চাকরি করে চাইলেও চলে আসা যায় না তবে শহিদুল খান চলে এলেন ।আর ছেলের সাথে কথা বলতে হবে বোঝাপড়া করতে হবে ।তাই বাড়িতে ঢুকবে এমন সময় হঠাৎ শব্দ পেয়ে পিছনে তাকালেন ।দেখলেন একটি গাড়ি বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করছে।
এই সময় বাড়িতে কেউ আসতে পারে বলে তার জানা জানা নেই ।তাই কে এসেছে জানার জন্য দরজায় দাঁড়িয়ে রইলেন ।গাড়িতে ধীরে ধীরে কাছাকাছি চলে এলে গাড়ি থেকে নামলো একজন ব্যক্তি ।বয়স ৬০ / ৬৫ কাছাকাছি হবে।
পোশাক আশাকে আভিজাত্যের ছোঁয়া ।দেখেই মনে হচ্ছে অভিজাত ফ্যামিলির কোন লোক।
লোকটি ধীরে ধীরে এসে দাঁড়ালো শহিদুল খানের সামনে ।দাঁড়িয়ে বললেন,”হ্যালো। আমি তানিয়ার বাবা। রফিকুল আলম। আলম গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার ।নাইস টু মিট ইউ ।আপনি নিশ্চয়ই শ্রাবনের বাবা ?চেহারা দেখে অনুমান করা যাচ্ছে অনেকটা আপনার মতই লুক পেয়েছে।”
শহীদুল খান অবাক হয়ে গেলেন ।শ্রাবণ কে কোথায় দেখলেন তাই জানতে চাইলেন আপনি শ্রাবনের সাথে দেখা করেছেন ?রফিকুল আলম বললেন ,”সামনা সামনি দেখা হয়নি তবে ছবিতে দেখেছি । তানিয়া আমাকে ছবি দেখিয়েছিল।”
শহিদুল খান মুচকি হাসলেন ।হেসে বললেন ,”প্লিজ ভিতরে আসুন। “
বলেই রফিকুল আলমকে ভিতরে নিয়ে এলেন।
তানিয়ার সাথে যেহেতু যোগাযোগ করে এসেছে তানিয়া জানে ওর বাবা আসছে তাই সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে দৌড়ে বাবা বাবা বলে চিৎকার করতে করতে নেমে এল মেয়েটি ।আজ প্রায় ৬ বছর পর দেখছে বাবাকে।
তানিয়া চিত্কার শুনে সবাই অবাক হয়ে দেখতে এলো ঘটনা কি? হলো রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন শাবিহা সুলতানা এবং আসমা বেগম ।নিচে বসে ছিল মেঘলা লামিয়া এমনকি উপর থেকে সিয়াম ও উকি ঝুঁকি মারতে শুরু করলো ।কারণ তানিয়া চিৎকার করেছিল অনেক জোরে।
এই সমস্ত কোন সাউন্ড যায়নি শ্রাবণের কানে কারণ শ্রাবণ কানে হেডফোন লাগিয়ে মিউজিক শুনছে ।মন মেজাজ ভালো নেই শ্রাবণের।মন মেজাজ ভালো না থাকলে চুপচাপ শুয়ে শুয়ে মিউজিক শুনে শ্রাবণ।
শহিদুল খান আসমা বেগমের দিকে তাকিয়ে ইশারা দিয়ে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে বললেন ।আসমা বেগমের মন না চাইলেও বাড়িয়ে আসা অতিথিকে অপমান করবেন না তাই উনি চুপচাপ রান্না ঘরে গেলেন ।রান্নাঘরে যেতেই চোখে চোখ পড়ল সাবিহা সুলতানার সাথে ।শাবিহা সুলতানা মুখে কিছু বললেন না কিন্তু চেহারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে অভিমানের গারো ছায়া।
আসমা বেগম বললেন ,”সাবিহা আমি আসলে…….সাবিহা সুলতানা আর কোন কথা বলতে দিলেন না ।বললেন ,”এসব কথা শুনতে চাচ্ছি না। আপনাদের আত্মীয় এসেছে তাকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করুন ।আমার কি করতে হবে বলে দিন ।একই বাড়িতে থাকি অন্তত এটা যেন কেউ বলতে না পারে আমি হিংসে করে বা কোন কিছু করে আপ্যায়ন করিনি।”
আসমা বেগম আর কথা বলার সাহস পেলেন না ।কি বা বলবেন সাবিহা সুলতানা কে ?
সাবিহার জায়গায় যদি উনি থাকতেন যদি মেঘলা জায়গায় লামিয়া থাকতো ভাবতেই বুকটা কেঁপে উঠে আসমা বেগমের।
শহিদুল খান বসলেন রফিকুল আলম এর সাথে ।রফিকুল আলমের সাথে তানিয়া বসলো।আগে থেকেই উপস্থিত ছিল লামিয়া এবং মেঘলা সবাই মনোযোগ দিয়ে তাকালো রফিকুল আলমের দিকে ।
রফিকুল আলম বললেন ,”অনেকদিন ধরে আসতে চেয়েছিলাম তবে আমেরিকায় ছিলাম একটা বিজনেস ট্যুরে তাই আসতে পারিনি।
তবে নিশ্চয়ই জানেন কেন আসতে চেয়েছিলাম ?আমার আবার সময় একটু সল্পতার কারণে কথাবার্তা দ্রুতই আগাতে চাচ্ছি যদি আপনারা কিছু মনে না করেন।”
শহিদুল খান অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন রফিকুল আলমের দিকে ।উনি এসেই বোঝাচ্ছেন ওনার সময় কম এটা সেটা নানান কিছু। অবাক হচ্ছেন মেয়ের বিয়ের কথা বলতে এত অল্প সময় নিয়ে আসে যেন এতটা অল্প সময় মানুষ কোন বিজনেস মিটিং এ ও দেয় না। শহিদুল খান হাসতে হাসতে বললেন ,”মেয়ের বিয়ের কথা বলতে এসেছেন কোন মিটিং আসেননি ।সময় নিয়েই তো বলতে হবে ।এক কথায় দুই কথায় তো আর বিয়ে হয় না।”
রফিকুল আলম হাসলেন ।হেসে বললেন ,”তা ঠিক এক কথায় দুই কথায় বিয়ে হয় না তবে ছেলে মেয়েরা তো আমাদের কথা বলার জন্য অবশ্য বাকি কিছু রাখেনি ।ওরা নিজেরাই নিজেরাই ঠিক করে ফেলেছে আমরা তো শুধু ডেট ফিক্সড করব।”
বিয়ের কথাগুলো মেঘলার কানে যেতেই মেঘলার বুকের ভিতর কেমন যেন ধক করে উঠলো ।শ্রাবণ ভাইয়ের অবশেষে সত্যি সত্যি তানিয়া আপুর সাথে বিয়ে হচ্ছে ।কেমন যেন অনুভূতি হচ্ছে মেঘলা ঠিক বলে বুঝাতে পারবেনা ।তবে খুশি হতে পারছে না। অথচ ওর তো খুশি হওয়া উচিত ছিল বাড়িতে বিয়ে হবে আনন্দ উৎসব হবে নতুন নতুন ড্রেস কিনবে ।কিন্তু না খুশি হতে পারছে না মেঘলা ।লামিয়ার ও সেম অবস্থা লামিয়ার কেন যেন তানিয়াকে একদমই পছন্দ নয়।
উপর থেকেসব শুনলো সিয়াম।শুনেই নিজের রুমে চলে গেলো। বিরক্ত লাগছে সিয়ামের। সাথে রাগ ও।কি কমতি ছিলো ওর বোনের? কেনো বিয়েটা ভেঙে দিতে হবে?
লামিয়া ধীরে ধীরে উঠলো ।মনে হল শ্রাবণভাইয়া এখানে নেই শ্রাবণ ভাইয়াকে গিয়ে একটু বলে আসুক যেয়ে নিচে ওনার বিয়ের কথাবার্তা হচ্ছে ।
লামিয়া চুপচাপ সিড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠে গেল তবে মেঘলা সেখানেই ঠায় বসে রইল।
শ্রাবনের রুমে দরজার কাছাকাছি আসতেই দরজার নক করে বললো,” ভাইয়া ভিতরে আসব ?”শ্রাবণ কোন কথাই শুনতে পারছে না ।যেহেতু কানে হেডফোন দেওয়া।
লামিয়া আবারো দরজা নক করলো ।কিন্তু শ্রাবণের কোন সাড়াশব্দ নেই তাই লামিয়া দরজা ধাক্কা দিয়ে ভিতরে ঢুকে দেখল শ্রাবণ ভাইয়া শুয়ে আছে কানে হেডফোন দিয়ে ।
মনে মনে ভাবল নিচে বিয়ের কথা চলছে আর এখানে উপরে মহাশয় নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে।
লামিয়া ভিতরে ঢুকতে কি করে যেন শ্রাবণ টের পেয়ে গেল ।সাথে সাথে চোখ খুললো। লামিয়া বললো,” ভাইয়া তাড়াতাড়ি ওঠো কান্ড ঘটে গেছে।”
কান থেকে হেডফোন খুলে শ্রাবণ বললো,” কি বললি ?”
লামিয়া বললো ,”নিচে কান্ড ঘটে গেছে ।তাড়াতাড়ি এসো ।”
শ্রাবণ বুঝতে না পেরে আর কিছু জিজ্ঞেস করল না ।সাথে সাথে ওই ভাবেই সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে আসতে আসতে হঠাৎ চোখ পড়ল তানিয়া বসে আছে ওর বাবার সাথে।
শ্রাবণের চোয়াল শক্ত হলো ।র*ক্ত চক্ষু নিয়ে তাকিয়ে রইল তানিয়ার দিকে । তানিয়া ও তাকালে।তবে তাকিয়ে চোখ জোড়া নামিয়ে ফেললো। শ্রাবণ জানে না বাবার আসার কথা।তাই তাকানোর সাহস পাচ্ছে না।
শ্রাবণ ভাবলো,”এই মেয়েটাকে কতবার বলেছে এই মুহূর্তে নয় ।আগে ও নিজে কথা বলবে ও পরিবারের সাথে তারপর ।কিন্তু তারপরও না শুনে না বলে ওর বাবাকে এখানে নিয়ে এসেছে ।”
ভাবতে ভাবতেই আবার চোখ পড়ল মেঘলা দিকে ।মেঘলা ও উৎসুক নয়নে তাকিয়ে ছিল ওদের দিকেই।
শ্রাবণের বুকটা কেঁপে উঠলো। অপরাধী মনে হচ্ছে নিজেকে।মনে মনে ভাবলো,”যার বিয়ের কথা শোনার জন্য এত উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে মেয়েটা ,জানেও না সে আর কেউ নয় ওর নিজের বিয়ে করা স্বামী।”
চলবে_
একশ্রাবণমেঘের_দিনে
neela_rahman
পর্ব ৩৩
শ্রাবণ অবাক হলো ।ধীরে ধীরে সিড়ি ভেঙ্গে নিচে নেমে এলো । দৃষ্টি জোড়া এখনো নিবদ্ধ মেঘলার দিকে ।মেঘলা উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে সবার দিকে। শ্রাবণের চোখে চোখ পড়তেই মেঘলা এক মুহূর্তও তাকিয়ে থাকলেও পরক্ষণে চোখ নামিয়ে নিল।
শ্রাবনের ও কেমন অদ্ভুত লাগছে বুকের ভিতর যেমন দামামা বাজছে ।এরকম বিরক্ত লাগছে তানিয়ার উপর ।যেখানে গতকাল স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিল আগে পরিবারের সবাইকে জানাবে তারপর ওর বাবার সাথে বিয়ের কথা বলবে ।সেখানে আজ এমন একটি ঘটনা ঘটিয়ে ফেলল।
শ্রাবণ সোফার কাছাকাছি আসতে তাকালো রফিকুল আলমের দিকে। রফিকুল আলম সোফার বসে থেকে শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে বললেন,” হ্যালো ইয়াং ম্যান। হাউ আর ইউ ?”
শ্রাবণ বললো,” আসসালামুয়ালাইকুম আঙ্কেল।(মেঘলার দিকে তাকিয়ে)
রফিকুল আলম বললেন,”তোমার বিয়ের কথাবার্তাই চলছিল।”
শ্রাবণ তানিয়ার দিকে র*ক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে থেকে বললো,” তাই ?আমার বিয়ে অথচ আমি জানিনা?”
রফিকুল আলম একটু অবাক হলেন ।তারপর আবার মুখে হাসি বজায় রেখে বললেন ,”সমস্যা নেই এখন তো জানলে ।”
শ্রাবণ রফিকুল আলমের দিকে তাকিয়ে বললো,” বিষয়টা জানার নয় আংকেল ইনভলভ থাকার ।বিয়েটা যেহেতু আমার আমি সবকিছুতে জড়িত থাকবো ইনভল্ভ থাকব এমন না হুট করে আমাকে জানাবে আর আমি বিয়ের পিঁড়িতে বসে যাব।”
রফিকুল আলমের সাদা মুখ যেন কালো অন্ধকার হয়ে গেল ।উনি আর চোখে তাকালেন তানিয়ার দিকে ।তানিয়া সাথে সাথে মাথা নিচু করে ফেলেছে ।রফিকুল আলম বুঝতে পারলেন তানিয়া কাউকে জানাইনি রফিকুল আলম এখানে আসবে।
শহিদুল খান সিচুয়েশন কন্ট্রোল করার জন্য শ্রাবণের দিকে তাকালেন ।শ্রাবণ শহিদুল খানের দিকে তাকাতেই বুঝতে পারলেন এখানেই থেমে যাওয়া উচিত ।শহিদুল খান বললেন ,”বস সবাই কথা বলছি।”
শ্রাবণ দেখে দেখে খুঁজে এমন একটি জায়গায় গিয়ে বসল যেখানে মেঘলা বসেছিল ।শ্রাবণকে বসতে দেখে মেঘলা একটু সরে গেল শ্রাবণ ইচ্ছে করে মেঘলার পাশে গিয়ে বসলো।
শ্রাবণ ভাইয়ের বিয়ের কথা হচ্ছে মেঘলার খুশি হওয়া উচিত কিন্তু কেমন যেন অনুভূতি হচ্ছে মেঘলার ।মেঘলার খুশি লাগছে না ।তারপরও দেখতে চাচ্ছে কিভাবে বিয়ের কথাবার্তা হয়।
শ্রাবণ আবারো আর চোখে তাকালো মেঘলা দিকে ।মনে মনে ভাবল ,”মেঘলা কিভাবে উৎসুক হয়ে ওর বিয়ের কথা শুনতে চাচ্ছে ।অথচ মেঘলা যদি জানত যার বিয়ের কথা শুনতে বসেছে সে আর কেউ না সে ওর বিবাহিত স্বামী।”
একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল শ্রাবণ ।তারপরে তাকালো তানিয়া দিকে ।দেখল তানিয়া ওদের দিকে তাকিয়ে আছে ।শ্রাবণ ইচ্ছা করে এখানে বসেছে যেন তানিয়াকে দেখাতে চাচ্ছে অপছন্দের কাজ করলে কেমন লাগে।
শহিদুল আলম বললেন ,”দেখুন ভাই যেহেতু ছেলেমেয়েরা একজন আরেকজনকে পছন্দ করে তাই আমার মনে হয় বিয়েটা খুব তাড়াতাড়ি ঠিক করে ফেলা উচিত ।এমনি সামনে আমাদের একটি ট্যুর আছে এই সপ্তাহখানেক আছি যদি এর মধ্যে এনগেজমেন্ট টা করে রাখা যেত।”
শহিদুল খান শ্রাবণের দিকে তাকালেন ।তারপর বললেন ,”এই ১ সপ্তাহের মধ্যে এনগেজমেন্ট টা সম্ভব না ।আমাদের কিছু কাজ আছে যেগুলো কমপ্লিট না করে আমরা এই মুহূর্তে এনগেজমেন্ট করতে পারবো না ।তবে আমি শ্রাবনের সাথে কথা বলব ।দেখি ও কি বলে ।দুজনের মতামত তো নেওয়া জরুরী ।শ্রাবণ যেহেতু আমাদেরকে এই ব্যাপারে এখনো কিছুই বলেনি। আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনতে পারলাম দুজন দুজনকে পছন্দ করে ।বিয়ের কথাবার্তা হবে অথচ আমি জানিও না যে আপনি আসবেন ।তাহলে হয়তো আরো ভালো করে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতাম ।এই কথাগুলো বলতে বলতে হঠাৎ দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো সাজ্জাদ খান ঢুকছে।
সাজ্জাদ খান মিটিং শেষ করে আজ একটু তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরেছিলেন ।গতকাল থেকে সাবিহা সুলতানা মন ভালো না ।তাই ভেবেছিলেন সাবিহাকে নিয়ে একটু বাইরে যাবে শপিং শপিং করবে মনটা ভালো হবে।
সাজ্জাদ খান এসেই প্রথম অবাক হয়ে গেলেন ভাইয়ের কথা শুনে ।শেষের কথাটুকু শুনতে পেরেছে ।শ্রাবনের বিয়ের কথা ।তারপর তাকালো দেখল একজন ব্যক্তি তার সাথে বসে আছে তানিয়া ।বুঝতে আর দেরি হলো না এই লোক হয়তো তানিয়া বাবা এবং তানিয়ার সাথে বিয়ের কথাবার্তা হচ্ছে ।সন্দেহ হয়েছিল সাজ্জাদ খানের তবে কিছু জিজ্ঞেস করিনি।
শহিদুল খান লজ্জায় এবং অপমানে এবং সাজ্জাদ খানের দিকে তাকিয়ে অপরাধবোধে ভুগে মাথা নিচু করে ফেলল।
সাজ্জাদ খান একবার তাকালো শ্রাবণের দিকে। শ্রাবনের ব্যাপারটা খুব খারাপ লাগছে এরকম করে সবার সামনে আসাটা উচিত হয়নি ।এখন কিছু করার নেই ।শ্রাবণ মাথা নিচু করে ফেলল ।সাজ্জাদ খান হতাশাগ্রস্ত হয়ে তাকালো মেঘলার দিকে ।তারপর বললেন,” মেঘলা মা চলো উপরে চলো। বড়দের কথার মধ্যে থাকতে হয় না ।”
মেঘলার ইচ্ছে করছিল না তারপরও বাবার কথা শুনে উঠে গেল
শ্রাবণ দেখলো বিষয়টা বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে । আসলে শহিদুল খান যেহেতু জানে না শ্রাবনের সাথে তানিয়া সম্পর্ক কি তাই শ্রাবণকে এখন মুখ খুলতেই হবে ।শ্রাবণ সাথে সাথে দাঁড়িয়ে গেল ।মেঘলা যাবে ঠিক তার আগে দাঁড়িয়ে গেল। শ্রাবন দাঁড়িয়ে আছে মুখোমুখি হয়ে শহিদুল খানের ।শ্রাবণের ঠিক পিছনে সাথে দাঁড়িয়ে পরলো মেঘলা ।যাওয়ার রাস্তায় শ্রাবণ দাঁড়িয়েছে তাই মেঘলাও দাঁড়িয়ে রইল।
শ্রাবণ রফিকুল আলমের দিকে তাকিয়ে বলল ,”আঙ্কেল আপনি হয়তো ইনফরমেশন কিছুটা ভুল জানেন ।বারবার বলছেন ছেলে মেয়ে একজন আরেকজনকে পছন্দ করেছে সম্পর্ক আছে আসলে এমন কিছুই নয় । তানিয়া আমাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিলে আমি বলেছিলাম বাসায় প্রস্তাব দিতে মুরুব্বিরা ভেবে দেখবে যদি তাদের মনে হয় সম্পর্ক ঠিক আছে তাহলে বিয়ে হবে ।তবে আমাদের মধ্যে কোন সম্পর্ক নেই।”
কথাটি শুনেই সাথে সাথে শ্রাবনের দিকে চোখ তুলে তাকাল শহীদুল খান ।সাজ্জাদ খান তাকিয়ে ছিল ।হঠাৎ মেঘলা মনের মধ্যে যেন একটু শীতল হাওয়া কোথায় বয়ে গেল ।মেঘলা নিজেও জানেনা ।পা জোড়া যেন কাঁপছে মেঘলার। রান্নাঘরের থেকে সবকিছু শুনলেন আসমা বেগম এবং সাবিহা সুলতানা।
আসমা বেগম যেন এবার একটু স্বস্তির শ্বাস ফেললেন ।মনে মনে কত খারাপ ভেবেছিলেন ছেলেকে !যাক ছেলে তাহলে এতোটুকু ক্লিয়ার করে দিয়েছে তানিয়ার সাথে কোন প্রেম ভালোবাসা সম্পর্ক নেই।
বাকি রইলো মুরুব্বীরা কথা বলে বিয়ে ঠিক করবে এটা কখনোই হবে না কারণ আসমা বেগমের তানিয়াকে কখনোই পছন্দ না।
সাজ্জাদ খানের ও যেন কথাটা শুনে মনের ভিতরে একটু হলেও ভালো লাগলো ।ডিভোর্স হয়ে যাক সমস্যা নেই কিন্তু তার মেয়ের সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ থাকা অবস্থায় তারই নিজের আপন রক্তের ভাতিজা আরেকটি মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে নিজের রক্তের প্রতি ক্ষোভ জন্মে গিয়েছিল সাজ্জাদ খানের।
শ্রাবণ রফিকুল আলমের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”আই এম সরি আঙ্কেল তবে বিষয়টি আপনার জানা উচিত ছিল ।এই মুহূর্তে এনগেজমেন্টের কথা বলতে হবে না ।আমাদের কিছু পারিবারিক সমস্যা আছে সমস্যাগুলো মিট করে তারপর আমরা ভেবে দেখব ।এই বিয়ে হবে কি হবে না হুট করে তো বিয়ে হয় না ।এর চেয়ে ভালো আপনি না হয় ওয়ার্ল্ড টু্ রে ঘুরে আসুন। তবে এবার পরিবার সাথে করে নিয়ে যাবেন মানে তানিয়া কেউ এমনিতো ৬ বছর আপনাদের ছাড়া থেকেছে। আপনারা ছিলেন না তাই বন্ধুত্বের খাতিরে আমি আমার বাসায় নিয়ে এসেছিলাম ।এখন যেহেতু চলে এসেছেন অবশ্যই তানিয়াকে সাথে করে নিয়ে যাবেন ।যদি বিয়ে হওয়ার হয় তাহলে কথাবার্তা বলে সামনে এগোবে তবে আমাদের সমস্যা সমাধান হয়ে নিক।”
চলবে_
Share On:
TAGS: এক শ্রাবণ মেঘের দিনে, নীলা রহমান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ১৪৮+১৪৯+১৫০
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৮
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪৪
-
এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ১৭+১৮
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৭৮
-
এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ২৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ২০+২১+২২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ২৩+২৪
-
এক শ্রাবণ মেঘের দিনে পর্ব ৬+৭