Golpo romantic golpo অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা

অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৯


অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা

[পর্ব ৪৯]

লেখিকাফারহানানিঝুম

(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)

ছোটখাটো কফি শপে একটি টেবিলে বসে আছে রাইসা। অপেক্ষা করছে কাঙ্ক্ষিত মানুষটির জন্য।দশ মিনিট শেষ হতে মাত্র দশ সেকেন্ড বাকি।রাইসা মনে মনে ভেবে নিয়েছে দশ মিনিট শেষ হওয়া মাত্র সে উঠে পড়বে।
দশ মিনিট শেষ হওয়া মাত্র যেই উঠবে আকস্মিক কেউ তাকে বাহু ধরে টেনে বসিয়ে দিল।
“হেই কিউটি পাই অ্যাম স্যরি।”

চিকন নাকটা ফুলে উঠছে রাইসার।নিজেকে ইস্ক্রিয়াসের থেকে ছাড়িয়ে বলে উঠে।
“একদম ড্রামা করবে না। আমি কতক্ষন ধরে অপেক্ষা করছি জানো?”

কিছুটা চেঁচিয়ে বলল রাইসা। ইস্ক্রিয়াস আশেপাশে এক নজর দৃষ্টি বুলিয়ে বলল।
“আস্তে।কাম ডাউন কিউটিপাই।দেখো আশেপাশে সবাই তাকিয়ে আছে।”

থেমে গেল রাইসা। সত্যি তাদের দিকেই তাকিয়ে আছে লোকজন। সে নিজেকে খানিকটা ধাতস্থ করে চুপটি করে বসলো।
“আমি স্যরি কিউটিপাই।আসলে কাজের এতটা চাপ ছিল?”

অমাবস্যার ন্যায় মুখখানি অন্ধকারে ডু’বে গেল রাইসার। ইস্ক্রিয়াস রাইসার হাত দুটো শক্ত করে ধরে বলল।
“এফিয়ান কে মে’রে ফেলা হয়েছে রাইসা।”

চকিতে দৃষ্টি তুলে তাকালো রাইসা।অবাক হওয়ার ন্যায় শুধোয়।
“ওই যে তোমাদের ইনফরমেশন দিতো সেই লোকটা?”

ইস্ক্রিয়াস “হ্যাঁ” সূচক মাথা দোলায়। রাইসা ফের শুধোয়।
“তাহলে এখন কী হবে? তোমরা এল এ বি কে ধরবে কী করে?”

ইস্ক্রিয়াস ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বললো।
“চিন্তা নেই কিছু একটা ভেবে বের করব।”

রাইসা দু পাশে মাথা দোলায়। ইস্ক্রিয়াস উঠে দাঁড়ালো,রাইসাও উঠে গেল। ইস্ক্রিয়াস ফিসফিসিয়ে বলল।
“রেস্ট প্রয়োজন।চলো।”

রাইসা চমকায়। ইস্ক্রিয়াস তাকে নিয়ে রওনা দিল হেডকোয়ার্টারে। ভেতরে আসা মাত্র পাঁজা কোলে তুলে নিল রাইসা কে। বিছানায় শুয়ে আলগোছে চলে এলো তার উপর। প্রথম দিকে একটু ভয় পেলেও পরক্ষণেই সবটা আন্দাজ করতে পেরেছে সে। ইস্ক্রিয়াস বরাবরই এমন করে। হুটহাট তার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকবে ঘন্টার পর ঘন্টা।
এই যে এখন শুয়েছে,ঠিক কখন উঠবে এক মাত্র সে-ই জানে।

🌼🌼
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে বারোটা ছুঁই ছুঁই। পুলিশের জিপ নিয়ে ছুটে চলেছে ইস্ক্রিয়াস।কিছুটা দূরে যাওয়া মাত্র কাঙ্ক্ষিত মানুষটি কে দেখতে পেলো। গাড়ি থামিয়ে নেমে গেল সে। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা লম্বা পুরুষটির দিকে এগুতে লাগলো।কিছুটা এগিয়ে যাওয়া মাত্র লোকটা তাকে দেখতে পায়,তার হাতে কিছু ফাইল ছিল ।যেই না ইস্ক্রিয়াস কে দেখতে পেলো সেই হঠাৎ করে দৌড় লাগায়।
দৌড়াতে গিয়ে সেই লোকটা ধাক্কা খেলো একজন অপরিচিত রমণীর সাথে। আকস্মিক ধাক্কা খেয়ে রেগে গেল সে। ছেলেটা যেই ফাইল গুলো তুলতে যাবে তখনই ওর হাত টেনে ধরে সেই মেয়েটি।

“এই চোখ নেই সাথে?দেখে চলতে পারো না?”

শুকনো ঢোক গিললো লোকটি,পিছনে বার বার উঁকি দিয়ে দেখছিল ইস্ক্রিয়াস আসছে কী না! আকস্মিক মেয়েটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে যেই দৌড়াতে যাবে ঠিক তখনই পায়ে থাকা হাই হিল খুলে তার দিকে ছু’ড়ে দিল মেয়েটা। তৎক্ষণাৎ ইস্ক্রিয়াস চলে আসে, ধরে ফেলল লোকটাকে।

“বা’স্টা’র্ড আর কত পালাবি?”

ইস্ক্রিয়াস কাউকে কল করে ডেকে নিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা পুলিশ জিপ এলো। তাদের হাতেই তুলে দিল লোকটাকে।
ইস্ক্রিয়াস এবারে সম্পূর্ণ দৃষ্টি নিবদ্ধ করে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রমনীর দিক পানে।

“আপনি ঠিক আছেন?”

মেয়েটি অল্প হাসি উপহার দিয়ে বলে।
“ইয়েস।”
“থ্যাংকস আপনি যথেষ্ট হেল্প করেছেন।”
“আপনি পুলিশ?”

খুব উৎকন্ঠা হয়ে শুধোয় সে। ইস্ক্রিয়াস অল্প হেসে বলল।
“হ্যা।”
“হাই আমি রাইসা। আমার পুলিশ ভীষণ পছন্দের।”

ইস্ক্রিয়াস অবাক হয়ে তাকালো রাইসার দিকে। মেয়েটা অদ্ভুত সুন্দরী।
“আমি ইস্ক্রিয়াস।”
“জানি।”

বাঁ ভ্রু উঁচিয়ে শুধোয়।
“কী করে?”

থতমত খেয়ে গেল রাইসা। অতঃপর বিস্তর হেসে বলল।
“আরে এই যে আপনার ওয়ালেট? আইডি টাও পরে গেছিল।”

কোন ফাঁকে ওয়ালেট টা পড়ে গেছে তা দেখেনি সে।
“থ্যাংকস অ্যা লট রাইসা।”

এই থেকে শুরু রাইসা এবং ইস্ক্রিয়াসের কথোপকথন এবং দেখা সাক্ষাৎ। দু’জনের মধ্যে কম দিনেই ভাব বিনিময় হয়, অতঃপর প্রেম। ইস্ক্রিয়াস নিজের অজান্তেই ভালোবেসে ফেলেছে রাইসা কে। খুঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে রাইসা চাইল্ড হোমে বড় হয়েছে, তার ফ্যামিলি বলতে কেউই নেই।যখন প্রথম বার নিজের মনের কথা রাইসা কে জানায় সে আবেগে আপ্লুত হয়ে জাপটে ধরে ইস্ক্রিয়াস কে।

🌿______🌿

রাত্রির প্রথম প্রহর। উপন্যাসের একটি বই নিয়ে করিডোরের কাছে চুপচাপ বসে আছে স্মাইলি।তার ভীষণ ভীষণ পছন্দ উপন্যাসের বই গুলো। এগুলো সব বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা।আসার সময় সব গুলো ল্যাকেজে করে নিয়ে এসেছে।
❝বইয়ের ভাঁজে প্রাণ লুকিয়ে আছে❞

স্মাইলি বই নিয়ে চুপচাপ বসে আছে। পাশের কক্ষ থেকে গুনগুন শব্দ ভেসে আসছে কানে। অবাক হয় স্মাইলি,কারা যেনো মনে হচ্ছে কথা বলছে। শব্দ গুলো ফিসফিসানির মতো কানে আসছে।
বই বন্ধ করে শব্দের উৎস খুঁজতে সেদিকে হাঁটা ধরলো স্মাইলি।করিডোর পাড় করে এগিয়ে যেতেই শব্দটুকু আরো তীব্র হতে লাগলো। স্মাইলি আরো খানিকটা এগিয়ে গেল। ইদ্রানের রুমের কাছে আসা মাত্র শুনতে পেলো মিসেস এনার কন্ঠস্বর। কাতার স্বরে বলছেন।

“তুমি এমন করতে পারো না লুসিফার! আমি কতটা কষ্ট করেছি এত গুলো বছর ধরে সেগুলোর কী হবে?”

মায়ের কাতর স্বরে বলা কথা গুলো শুনতেই বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল স্মাইলির। ইদ্রান কী এমন বলল যাতে তার মা এমন ভাবে বলছে?
এবারে ইদ্রান ভারী কন্ঠস্বর শুনতে পেলো সে।

“মিসেস এনা আপনি একটু বেশী বেশী করছেন না এবারে? যদি আমি আমার জিনিস টা না পাই আর আপনি সেটা নষ্ট করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করেন তাহলে আই সয়ার আমি আপনাকে…

খট করে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো স্মাইলি। ত্বরিতে পিছন দিকে তাকালো ইদ্রান। স্মাইলি শক্ত মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে।
“দ্রিশা তুই এখানে কি করছিস মা? ভেতরে যা।”

এনার চোখ মুখ স্বাভাবিক লাগল না স্মাইলির কাছে।
“মা তোমাকে কি নিয়ে হুমকি দিচ্ছিল উনি?এই যে আপনি কি বলছিলেন মা কে?”

ইদ্রান চুপ করে গিয়ে কাউচের উপর বসলো। মিসেস এনা দ্রুত এগিয়ে এসে বাহু টেনে ধরে স্মাইলির।
“চল তুই ওর সাথে কথা বলতে হবে না।”

স্মাইলি বেঁকে বসল,রাগ দেখিয়ে বলল।
“তুমি যাও মা আমি আজকে এই লোকটাকে দেখে নেব।”

মিসেস এনা কে জোরপূর্বক বাইরে বের করে দিল স্মাইলি।
পূর্ণ দৃষ্টি আকর্ষণ করল এবারে,বসে থাকা ইদ্রানের ঠোঁটের কোণে ঝু’লছে দুষ্টু হাসি।

“হাসছেন কেন আপনি?”

এবারে শব্দ করে হেসে উঠলো ইদ্রান।
“তোমার বোকামো দেখে হাসছি ডিয়ার।”

স্মাইলি অবাক হলো,কী বোকামি করেছে সে?

“মানে?”

“মানে এটাই ডিয়ার বন্ধ রুমে যা কিছু হতে পারে? যেমন ধরো তোমাকে চুমু খেলাম বা এটাও হতে পারে ধুম করে বাসর করে ফেললাম।”

চোয়াল ঝু লে গেল স্মাইলির।
“ও গড আপনি এত ঠোঁট কা’টা কেন?”

মুখশ্রী জুড়ে স্পষ্ট গাম্ভীর্য ফুটে উঠে ইদ্রানের । তীর্যক চোখে তাকায় সামনের হলদেটে রমণীর পানে।যে কিনা হলুদ রঙের টিশার্ট পড়েছে। গলার দুদিকে ঝু’লছে ওড়না।

“লিসেন আমাকে কিছু অহেতুক ব্যাপার নিয়ে বলতে আসবে না লিটল প্রিন্সেস।অন্য কিছু বলার চেয়ে সারা দিন নিজেকে নিয়ে বলো আমি একটুও বিরক্ত হবো না। আর মিসেস এনা ওনাকে বলো সাবধান হতে। না হলে ফল মোটেও ভালো হবে না।”

ইদ্রান থমথমে মুখ দেখে বিরক্ত হলো স্মাইলি।
“দেখুন আপনি একদম গলা বাজি করবেন না বলে দিচ্ছি!
আপনি আমার মা কে কী বলেছেন হু?কেনো মা অসহায় ভাবে বলছিল ওই কথা গুলো?”

ইদ্রান নৈঃশব্দ্যে বেরিয়ে গেল।

🌿____🌿

টুকরো টুকরো মেঘের ভেলা ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশে।কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে স্মাইলি।ওর সাথে আছে ন্যান্সি, অপেক্ষা করছে সে।
“কী হয়েছে তুমি দাঁড়িয়ে আছো কেন? বাড়িতে যাবে না?”

ন্যান্সি উত্তর করলো না, অপেক্ষায় রইল কিছু একটার। এবারে প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছে স্মাইলি। রাগান্বিত স্বরে বলল।
“ন্যান্সি আমি কিন্তু চলে যাব।”

অস্থির হয়ে উঠে ন্যান্সি।
“পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করো প্লিজ।”

অতঃপর ফের পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করল স্মাইলি। কিছুক্ষণ পর একজন লোক কিছু একটা হাতে করে নিয়ে এগিয়ে এলো।হাতের ঝুড়ি টা কাপড় দিয়ে ঢাকা। স্মাইলি ঝুড়িটা নেওয়া মাত্র লোকটি চলে গেল।
“এটাতে কী আছে গোঁ?দেখি!”

ন্যান্সি ঝুড়িটা এগিয়ে দিল স্মাইলির দিকে,কাপড় সরাতেই চমকে উঠে স্মাইলি। এটা তো সেই বিড়াল ছানা,যেটা লুসিফার ভয়ে ফেলে চলে এসেছিল।
“রোজি?”

ন্যান্সি অধর বাঁকিয়ে হাসলো।
“হ্যা।”
“থ্যাংক ইউ সো মাচ ন্যান্সি। আমি তো ভুলেই গিয়েছিলাম ওর কথা, থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ সো মাচ।অ্যাম সো হ্যাপি।”

ন্যান্সি স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো, যাক স্মাইলি নিজের জিনিস টা বেশে খুশি হয়েছে।
“কিন্তু তুমি এটা কোথায় পেলে?”

প্রশ্ন শুনে ঘাবড়ে গেল ন্যান্সি,তাকে বিচলিত মনে হচ্ছে।
“কী হলো বলো? ন্যান্সি তুমি অদ্ভুত!হুট করেই আমার জীবনে এসেছো।এমন ভাবে কেয়ার করছো যেনো এটাই তোমার কাজ। আমি ভাবতে পারছি না একটা মানুষ সব ছেড়েছুড়ে আমাকে নিয়ে সবসময় ভাবে। এখন বলো তো তোমার উদ্দেশ্য কী ?কী চাও তুমি?”

কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে গেল। শুকনো ঠোঁট জোড়া আলতো করে ভিজিয়ে বলল।
“আরে স্মাইলি আমার তেমন কোনো ফ্রেন্ড নেই।আসলে ছোট থেকেই তো একা আছি তাই হঠাৎ তোমাকে পেয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। সবসময় মনে হয় তোমার খেয়াল রাখি, তুমি যাতে আমাকে বিশ্বাস করতে পারো। সত্যি বলছি আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই।”

চোখ দুটো ভিজে উঠেছে ন্যান্সির। অস্থির হয়ে উঠে স্মাইলি, অপরাধী কন্ঠে বলে উঠে।
“স্যরি ন্যান্সি প্লিজ তুমি কেঁদো না। আমি সত্যি ভয় পেয়েছিলাম তাই ওভাবে জাজ করেছি। প্লিজ ন্যান্সি অ্যাম স্যরি।”

ন্যান্সি চমৎকার হাসি উপহার দিলো।
“ঠিক আছে সমস্যা নেই, হঠাৎ করে আসলে এমন সন্দেহ সবাই করে।তবে আমি সবসময় বলব তোমাকে দেখে রাখার দায়িত্ব আমার। তুমি তো অসুস্থ তাই এটা আরো বেশী করে করতে হবে।”

স্মাইলি মুগ্ধ নয়নে তাকালো ন্যান্সির মুখ পানে। মেয়েটা কী চমৎকার একটা মানুষ! হঠাৎ করে এসেই কতটা আগলে নিল। যাক কেউ একজন তো পেলো যে তাকে কতটা ভালোবাসে।

“আচ্ছা ন্যান্সি , তুমি কখনো ভালোবেসেছো?”

এমন সময় এই প্রশ্নের জবাবে কি বলবে ন্যান্সি খুঁজে পেলো না! জোরপূর্বক হেসে বলল,
“হঠাৎ এ প্রশ্ন?”

স্মাইলি প্রফুল্ল চিত্তে আওড়াল,
“জানতে চাইছি। আসলে সত্যি সত্যি ভালোবাসলে কেমন ফিল হয় সেটাই জানতে চাইছি।”

ন্যান্সি আর স্মাইলি গিয়ে বসল বেঞ্চে। ন্যান্সি মৃদু মাথা দুলিয়ে বলল,
“বেসেছি।”

চমকে উঠে স্মাইলি, বিস্মিত নয়নে তাকালো ন্যান্সির দিকে।
“সত্যি? আচ্ছা সে কে? কেমন দেখতে?”

মানসপটে ভেসে এলো সেই সুদর্শন সুপুরুষ। যার চোখ দুটো নীল সমুদ্রের মতো গভীর। যার নীলাক্ষী জোড়ায় দৃষ্টি স্থির হতেই হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে উঠে।

“সে ভীষণ সুদর্শন,এতটাই সুদর্শন তাকে শব্দে ব্যাখা করা সম্ভব নয়। তার চোখ দুটো নীল।”

“ইউ মিন ব্লু আইস?”

ন্যান্সি মাথা দুলিয়ে দুষ্টু হেসে বলল,
“Blue Eyes
hypnotise teri kardi mennu

স্মাইলি খিলখিলিয়ে হেসে বলল,
“তারপর?”

ন্যান্সি মুগ্ধ কন্ঠে বলে চলেছে,
“সে এতটাই সুন্দর যার সামনে আমি নিজেকে ফিকে মনে করি। তার ক্লিন শেভ করা গাল, ঠোঁটের কোণে সবসময় লেপ্টে থাকা হাসিটুকু সবটাই হিপনোটাইস করে। তার বুকের ঠিক মাঝখানে একটা ট্যাটু আছে। একদম সূর্যের মতো।”

স্মাইলি উদগ্রীব হয়ে উঠে, ন্যান্সির মুখে তার সৌন্দর্য শুনে বলল,
“ইশ্ তোমার কথা তো শুনে মনে হচ্ছে এক নজর দেখলে ভালো হতো।”

ন্যান্সি মুচকি হাসলো, শুধু কি দেখা? ন্যান্সি তো তাকে ছুঁয়েছে।খুব কাছ থেকে ছুঁয়ে দেখেছে মাফিয়াকে। তার ব্যাকুলতা , অস্থিরতা উন্মাদনা সবকিছুর সাক্ষী হয়েছে সে।

“সে কল্পনার থেকেও বেশি সুন্দর, তার সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা শব্দে করা অসম্ভব স্মাইলি। আমার দেখা শ্রেষ্ঠ সুপুরুষ!”

মিনিট দশেক পর একটি ব্ল্যাক কার এসে থামল।সেই গাড়ি, কপালে ভাঁজ পড়লো স্মাইলির।লুসিফার?
গাড়ি থেকে নেমে এলো ড্রাইভার।একটি চিরকুট এগিয়ে দিল স্মাইলির দিকে। চিরকুট নেওয়া মাত্র নত মস্তকে দাঁড়ালো। এমন ভাবে দাঁড়িয়েছে যদি চোখ তুলে তাকায় তাহলে বুঝি সে আর বাঁচতে পারবে না! স্মাইলি লক্ষ্য করে দেখেছে ❝এল এ বি প্যালেসের❞ কোনো গার্ড বা সার্ভেন্ট কেউই তার দিকে চোখ তুলে তাকায় না। বরাবরই নত মস্তকে দাঁড়ায়, আজও তার বিপরীত হয়নি।
চিরকুটে স্পষ্টভাবে লিখা আছে “তাড়াতাড়ি গাড়ি উঠে চলে এসো।নো মোর ওয়ার্ডস”
বিরক্তিকর ব্যাপার, এখন কোথায় নিয়ে যাবে এই লোকটা? ন্যান্সি নিরব দর্শক হয়ে সবটা দেখে যাচ্ছে। স্মাইলির চিন্তিত মুখ দেখে শুধোয়।

“কী হয়েছে তোমার? চিন্তিত লাগছে!”

“যেতে হবে আমাকে।”

ন্যান্সি অমত করলো না।যেতে দিল তাকে, গাড়ি উঠে বসতেই ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দেয়। ওদের গাড়ি দৃষ্টি সীমার বাইরে না যাওয়া অবধি দাঁড়িয়ে রইল ন্যান্সি।গাড়িটা অদূরে চলে যেতেই ন্যান্সি গুটি গুটি পায়ে কলেজের পিছনের খালি মাঠের দিকে গেল।একটি বড় কাপড় দিয়ে কিছু একটা ঢাকা দেওয়া। এগিয়ে গিয়ে কাপড়টি সরিয়ে ফেলল, বেরিয়ে এলো চকচকে কালো রঙের বাইক। সাথে রয়েছে হেলমেট,ব্যাগ রেখে মাথায় হেলমেট পরে নিল সে।বাইকে উঠে বসলো সে, যতটা সম্ভব গতি বাড়িয়ে ছুট লাগালো অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।যা কেউ জানে না, শুধু ন্যান্সি ব্যতিত।কিছু মানুষের লুকানো এক সত্তা রয়েছে যা প্রকাশ পায় ধীরে ধীরে।হয়তো ন্যান্সিরও রয়েছে যেটা স্মাইলির কাছে অজানা।
🌼🌼🌼🌼

“শ্যুট!”

বাজখাঁই কন্ঠে বলা শব্দটা শুনলেই ট্রিগার চাপল ন্যান্সি। ভেতর থেকে বিদ্যুৎ বেগে বেরিয়ে গেল গুলি। চমকে উঠে রিভলবার ছেড়ে দিলো মেয়েটা। ভয়ে সেঁধিয়ে গেল সে!

আড়ালে লোকটা দাঁড়ানো ভিডিও করছে।

ইদ্রান রাগে হিসহিসিয়ে বলল,
“এভাবে তুমি গু’লি করে আফরিদকে শেষ করবে?”

ন্যান্সি কেঁপে উঠল রীতিমতো, সত্যি তো এর আগে কখনো রিভলবার ছুঁয়েও দেখেনি তাহলে চালাবে কি করে?
“লিসেন ইলহাম, তোমাকে যদি আফরিদকে শেষ করতে হয় তাহলে নিজেকে শক্ত করতে হবে। নিজেকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে তোমার হাতেই যেন ধ্বংস হয় তার!”

ইদ্রানের কথায় তপ্ত নিঃশ্বাস ছাড়লো ন্যান্সি। আদতেও কি আফরিদকে আঘাত করতে পারবে সে? আফরিদের সামনে দাঁড়ালে বুকের ভেতর কাঁপে তার, ভয়ে সেঁধিয়ে যায়। যতই চোপা করুক সে ভয় পায়না, কিন্তু দিন শেষে খুব ভয় পায় আফরিদ এহসানকে।

“মাউস হয়ে ক্যাটকে অ্যাটাক করতে চাওয়া বোকামি নয় কি?”

কপালের ভাঁজ পড়লো ন্যান্সির, তা আরো গাঢ় হলো ইদ্রানের কথা শুনে।
“ওয়েট অ্যা মিনিট, আপনি আমাকে মাউস বললেন?”

ইদ্রান একপেশে হেসে বলল,
“মাউসকে মাউস বলব না তো আর কি বলব?”

ন্যান্সির মোটেও স’হ্য হলোনা এসব! ইদ্রানের আচরণ গুলো কেমন অদ্ভূত লাগে তার নিকটে।
“তো ডিয়ার তুমি কাল রাতে ভয় পেয়েছিলে বুঝি?”
“মানে?”
“মানে আমি হঠাৎ ফ্ল্যাটে যাওয়াতে?”

গা শুদ্ধু শিরশির করে উঠলো ন্যান্সির। সত্যি সে ভয় পেয়েছিল!
“আমি আপনাকে সতর্ক করে দিচ্ছি,আর কখনো আপনি রাতবিরেতে ফ্ল্যাটে যাবেন না।”

ইদ্রান দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বলল,
“ওকে ডিয়ার,আই অ্যাম রিয়েলি ভেরী সরি। আমি জাস্ট মজা করছিলাম।”

ন্যান্সি মোটেও তার কথায় গললো না!গলবেই বা কেন? এদের বিশ্বাস করা মোটেও উচিত নয়।

ইদ্রান মোটেও এই মেয়েকে সরি বলতো না কিন্তু ওইযে এক বাটপার যে কিনা ফোনে হুমকি দিয়েছে।
এইতো কাল রাতে হুট করেই কল এলো,

“রিমাইন্ডার তুই ইলহামকে সরি বলবি, না হলে আমি স্পেনে গেলে ঠিক কপালে শুট করা হবে।”

ইদ্রান থতমত খেয়ে গেল,এই পাগল বলে কি? আফরিদ রাত থেকেই যেনো উন্মাদ হয়ে আছে ন্যান্সির কান্না ভেজা কন্ঠস্বর শুনে।

“ব্রো,তুই কি পাগল হয়ে গেছিস?আরে ইয়ার আমি একটু ফান করেছি।”

হয়তো আফরিদ সজোরে কিছুতে আঘাত করেছে, ইদ্রান বুঝতে পারল না ঠিক কিসে আঘাত করেছে।
“আমি তোর বন্ধু নই, যেটা বললাম মনে থাকে যেন। তোর ফানের চক্করে ওর চোখে পানি এসেছে।”

“বলব না সরি,কি করবি?”

প্রত্যুত্তরে এমন কথায় ক্ষিপ্ত হলো আফরিদ এহসান। ওষ্ঠো হতে বেরিয়ে একটি শব্দ,

“শ্যুট।”

সহসা দূরের বিলিং থেকে একজন সার্ফ শ্যুটার ট্রিগার প্রেস করল রাইফেলের। ওমনি বিদ্যুৎ বেগে গুলিটা ছিটকে এসে থাইগ্লাস ভেদ করে ইদ্রানের বাহু পাশ কাটিয়ে পোর্ট্রেটে গিয়ে লাগলো। চমকে উঠে ইদ্রান।

“এটা ট্রেলার ছিলো, যেটা বললাম তা না করলে ফিল্ম দেখাবো।”

আফরিদের কথায় আর তর্ক করল না ইদ্রান। দেখা গেল কিং সত্যি রেগেমেগে তাকেই উপরে পাঠিয়ে দিয়েছে।

🌼🌼

নোংরা শার্টটা মুখের উপর ছুড়ে ফেলল ঈশান। তিতলি তেলে বেগুনে জ্ব’লে ওঠে,
“এই সমস্যা কি আপনার? খোঁচাখুঁচি করতেছেন কেন?”

ঈশান আছে মহা টেনশনে,এর মধ্যে এই রংপুরের মাইয়া তাকে জ্বালিয়ে খেলো।
“দেখতে পাচ্ছ না শার্টটা নোংরা? যাও পরিষ্কার করে ধুয়ে দিবে।একদম ঝকঝকে করে দেবে।”

ঈশান রাজার মতো হুকুম শুনে অক্ষিকৌটা বড় হয়ে এলো তিতলির। মুখ বাঁকিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে বলল,
“ওই মিয়া,আমারে কি আপনার চাকর মনে হয়?”

ঈশান অকপটে বলে উঠে,
“না বউ মনে হয়।”

আরেক দফা চমকে উঠে তিতলি,
“ইলহাম আপু একবার আসুক তারপর দেখবেন সব বলব।”

ঈশান কি ভেবে যেনো তিতলির কাছাকাছি এলো, ঠোঁটের কোণ বাঁকিয়ে কিছু একটা ভেবে বলল।
“সব যেহেতু বলবে, তাহলে এটাও বলো ঈশান তোমাকে চুমু খেয়েছে।”

তিতলি বুঝি আকাশ থেকে পড়ল, চমকে উঠে।
“কিন্তু আমি কেন মিথ্যে বলব? আপনি তো আমাকে চুমু খাননি?”

ঈশান তিতলির ভাবনায় ব্যা’ঘাত ঘটিয়ে ঠোঁটের কিনারায় চুমু খেয়ে বসল। তিতলির মনে হলো তার পুরো পৃথিবী ঘুরে যাচ্ছে! এটা কি হলো?

🌼🌼

সদ্য শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে এসেছে ন্যান্সি, ক্লান্ত দেখাচ্ছে তাকে। ট্রেনিংয়ে যে এতটা কষ্ট হয় তা আগে বুঝতে পারেনি সে।

ফোন এলো,এই সময় কে কল করতে পারে তাও জানে ন্যান্সি। অগত্যা ফোনটা রিসিভ করল। ফোন রিসিভ করতেই আফরিদ বলে উঠে।

“একা একা শাওয়ার নিলি, আমাকে মনে পড়েনি?”

ন্যান্সি সামান্য হাসলো, ভ্রু উঁচিয়ে বলল।
“সব দেখেন তাই না?”

আফরিদ সামনের মনিটরে দৃষ্টি স্থির রেখে ঠোঁট কামড়ে হাসলো।
“হুঁ, সব দেখছি।”

ন্যান্সি সতর্ক দৃষ্টি বুলিয়ে চারদিকে দেখল ঠিক কোথায় হিডেন ক্যামেরা লাগিয়েছে এই লোকটা! দৃষ্টি বুলাতে বুলাতে বলল,

“এখানেও শান্তি পাচ্ছি না আপনার জন্য।”

আফরিদ লম্বা নিঃশ্বাস টেনে আফসোসের সুরে বলে,
“তোর শরীরের মিঠা মিঠা ঘ্রাণ মিস করছি আমি।”‌

ন্যান্সি মস্তিষ্ক সজাগ হয়ে ওঠে, দুষ্টু বুদ্ধি খেলে যায়।
মিটিমিটি হেসে বলল,
“তাই?”

আফরিদ দুগালে ভর দিয়ে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখল আদুরে লাল গালওয়ালি মেয়েটাকে, আহ্লাদি কন্ঠে বলে।
“এত কিউট কেন বে?”

ন্যান্সি সাউন্ড বক্সের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়ালো, ঠোঁট বাঁকিয়ে আওড়ালো।
“আপনি লুকিয়ে লুকিয়ে সব দেখেন তাই না? ঠিক আছে তাহলে এবার আমার নাচো দেখুন।”

আফরিদ অনুভব করল তার হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। নাচ মেরি রানী গানটা ছেড়ে দিলো ন্যান্সি। দুষ্টু ভঙ্গিতে এদিক ওদিক ঘুরে নেচে বেড়াচ্ছে।

আফরিদ থমকালো, চমকালো স্থির আর থাকতে পারল না।
অকস্মাৎ ঠোঁটের কোণে লাজুক হাসি খেলে গেল, ফোনটা কানে চেপে রেখেই বলল,
“হায় ম’রে গেলাম জানকি বাচ্চা।”

ন্যান্সি গুনগুন শেষের বাক্য গুলো বলেই চলেছে।
“ড্যান্স মেরি রানী!”

তার ঠোঁটে তাল মিলিয়ে আফরিদ একই সুরে আওড়ালো,
“নাচ মেরি রানী। ইশ্ এখন তোর কাছে থাকা উচিত ছিলো। গভীর আদরের জন্য।”

আফরিদ এক প্রকার লাফিয়ে উঠেছে, এতটা খোলামেলা ন্যান্সিকে,এতটা আপ্লুত কখনোই দেখেনি সে।
ন্যান্সি তার কথায় কিড়বিড়িয়ে উঠে,
“অস’ভ্য।”

আফরিদ নিজের চুল খামচে ধরে, ঠোঁটের কোণে এখনো লাজুক হাসি বিদ্যমান। সে তার বউয়ের নৃত্য দেখে লজ্জা পাচ্ছে। কেন পাচ্ছে? পাওয়ার কথা নয়, কিন্তু তবুও লজ্জা পাচ্ছে।

“ভীষণ অসভ্য। এখন কাছাকাছি থাকলে যোজন বিয়োজন করতাম।”

আশেপাশে তাকিয়ে জিভ বের করে ভেংচি কাটলো, সে জানে আফরিদ তাকে দেখছে।
আফরিদের ইচ্ছে করছে এক ছুটে তার কাছে গিয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসা দিতে। কিন্তু এখন যে সম্ভব নয়।

ক্লান্ত ন্যান্সি রুমে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না।সোফায় লম্বা হয়ে শুয়ে ঘনঘন নিশ্বাস টানতে লাগলো।
আফরিদ আশেপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে দেখল কাইট্যান কোথায়?
বাকেটে চুপচাপ বসে আছে বিড়ালটা! আফরিদ ডাকতেই লোমশ শরীরটা নিয়ে দুলতে দুলতে এগিয়ে এলো। পায়ের কাছে এসে শরীর ঘেঁষে আদর করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে অবুঝ প্রাণীটি!
আফরিদ বিড়ালটাকে কোলে তুলে নিয়ে ল্যাপটপের দিকে ইশারা করল। ততক্ষনে নিঃশ্বাস গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে, একটু পরপর নিঃশ্বাস টানছে সে।

“ওই যে খ্রিস্টান মেয়েটাকে দেখছিস? ওই মেয়েটাকে আমি ভীষণ ভীষণ ভালোবাসি।”

কাইট্যান ল্যাপটপের স্ক্রিনে ন্যান্সিকে দেখে লাফিয়ে ওঠে, ছুঁতে চায় তাকে। তাকে এতদিন ধরে পেলে পুষে বড় করা মানুষটিকে এক নজরেই চিনতে পেরেছে। আফরিদ হালকা হেসে তার মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে চাপা কন্ঠে বলে,

“একটা সিক্রেট শুনবি?”

কাইট্যান প্রত্যুত্তরে ‘ম্যাও ম্যাও ‘ ডাকটা দুবার করল।
আফরিদ ঘুমন্ত ন্যান্সির দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মুগ্ধ নয়নে চেয়ে থাকে। অন্যমনস্ক হয়ে বলে,

“তোর আম্মা একদিন আমার আঙ্গুল ধরে বলেছিল আমার চোখ দুটো ভীষণ সুন্দর,তার পছন্দ হয়েছে। অথচ তাকেই ট্রিগার পয়েন্টে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম আমি। তখন তোর মা এইটুকুনি ছিল।”

আফরিদ দিয়ে মেপে দেখাল,‌ ন্যান্সি ঠিক কতটা ছোট ছিল।
পর মূহুর্তে নিজেই হেসে উঠলো, মন চাচ্ছে সোফা থেকে কোলে তুলে রুমে গিয়ে বুকে নিয়ে ঘুমোতে পারতো। তাহলে বোধহয় ভীষণ শান্তি লাগত।

শেষবারের মতো স্ক্রিনে দৃষ্টি বুলিয়ে মুগ্ধ কন্ঠে বলে,
“আমার বাঘিনী।”

চলবে……….।🌼🫂

(📌 আজকে একটা কথা বলি, অনেকের মনে হতে পারে গল্পটা অহেতুক বড় করছি। কিন্তু বিষয়টা আসলে তা নয়।এই গল্প জুড়ে প্রচুর রহস্য, বর্তমানে এইযে স্পেনের দৃশ্য গুলো লিখছি, এগুলো কাইন্ডলি মনে রাখবেন। প্রতিটা দৃশ্য পরের পর্বগুলোর সাথে কানেক্টেড। সবশেষে বলব রেসপন্স করবেন।)

আমার আইডি Farhana Nijum

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply