অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৪৮](শেষ অর্ধেক)
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
আজ স্মাইলির কলেজের প্রথম দিন। ল্যায়ার ড্রেস সাথে মাথায় একটু লেডিস ক্যাপ পরে নিল। কাঁধে ব্যাগ চাপিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে স্মাইলি। নতুন জায়গা, সব কিছুই নতুন করে শুরু হয়েছে। গেটের ভেতর পা রাখা মাত্র ব্যস্ত স্টুডেন্ট গুলো কে দেখতে পেলো।ঘাবড়ে গেল সে,কার সাথে কথা বলবে? কাউকেই তো চিনে না! ক্যান্টিন থেকে শুরু করে আশেপাশে স্টুডেন্টদের ভিড় জমেছে রিতিমত।কেউ বা বেঞ্চে বসে আছে বই খাতা নিয়ে।
কলেজে নতুন স্মাইলি, ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে এবারে।ঠিক কোন দিকে যাবে তা নিয়ে দ্বিধায় ভুগ’ছে।
“হেই স্মাইলি!”
পরিচিত কন্ঠস্বর,পিছন ফিরে তাকাতেই পিলে চমকে উঠে স্মাইলির। ন্যান্সি? এখানে? অবাক হওয়ার ন্যায় শুধোয়।
“তুমি এখানে?”
এক গাল হাসি উপহার দিয়ে বলল ন্যান্সি।
“হ্যা আমি তো এই কলেজের স্টুডেন্ট।”
আরেক দফা চমকালো স্মাইলি।এ কী সবটাই কাকতালীয় ভাবে ঘটছে? প্রথমে আমেরিকার এয়ার পোর্টে দেখা , এরপর একই দেশ এবং কী একই কলেজে?
“তুমি সত্যি এই কলেজের?”
“আরে হ্যাঁ। কিন্তু তুমি এখানে কি করছ?”
জোরপূর্বক হাসার চেষ্টা করে স্মাইলি।
“আমিও এই কলেজের।”
অবাক হওয়ার ন্যায় তাকালো ন্যান্সি।
“ওয়াও তাহলে তো আমরা একসাথে। এখন থেকে আমি তোমার সাথেই থাকব সবসময়।”
স্মাইলি বিষয়টি কাকতালীয় ভেবে উড়িয়ে দিল। ন্যান্সি চোখে হাসে, আফরিদের পাগল করা মহারানী সে। আজ ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা নাকি অন্য একজনের গার্ড হয়েছে। ইদ্রান বলেছে স্মাইলির সুরক্ষা করা প্রয়োজন।
ন্যান্সি চায় এই সব বিপদের সম্মুখীন হতে, যাতে নিজের উদ্দেশ্য সফল হতে পারে সে। তাইতো জোরপূর্বক স্মাইলির গার্ড হয়েছে। ইদ্রান তার প্রস্তাবে কতক্ষন যে হেসেছে বলার মতো নয়। বারবার খোঁচা দিয়ে বলেছে,
“আফরিদের মাতারি শেষমেষ গার্ড?হা হা!”
প্রত্যুত্তরে ন্যান্সি একটাই জবাব দিয়েছে,
“আমি ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা,সব পারি।”
ইদ্রান তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। অবশ্য সে এমনিতেও ন্যান্সি ব্যবস্থা করে দিয়েছে কলেজে। আরো একবার কলেজে পা রেখেছে মেয়েটা। দুজনেই অনার্সে ভর্তি হয়েছে। ইদ্রানের জন্য এটা তুড়ির কাজ ছিলো।
অন্যদিকে ওর ফাইটিং ট্রেনিং শুরু করবে।
প্রথম দিনের ক্লাস ভীষণ ভালো লেগেছে ন্যান্সি আর স্মাইলি দুজনের।গেইটের বাইরে পা রাখা মাত্র একটি ছোট্ট বিড়াল নজরে এলো স্মাইলি।খুব সুন্দর দেখতে বিড়ালটি,সাদা রঙের লোমশ ভর্তি শরীর। চকিতে দৌড়ে গিয়ে বিড়ালটিকে কোলে তুলে নিল স্মাইলি। ন্যান্সি নিজেও ছুট্টে গেল তার দিকে।
“আরে স্মাইলি কী করছ কী এখুনি তো গাড়ি চলে আসতো?”
বিড়ালটিকে কোলে নিয়েই হেসে ফেলল।
“আমি যদি না আসতাম তাহলে বিড়াল টা যে চা’পা পড়ে যেতো!”
ন্যান্সি অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ক্ষণকাল। অতঃপর সন্দিহান কন্ঠে বলে।
“এখান বিড়ালটিকে নিয়ে কী করবে তুমি?”
ছোট্ট বিড়াল ছানা কে আদর করতে করতে বলে ।
“আমার কাছেই থাকবে এখন থেকে। আমি এটাকে বড় করব।উমমম এটার নাম কি দেওয়া যায় বলো তো?”
ভাবনায় পড়ে গেল ন্যান্সি, তৎক্ষণাৎ হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলে উঠে স্মাইলি।
“আচ্ছা এটার নাম যদি রোজি রাখি তাহলে? কত্ত কিউট তাই না?”
ন্যান্সি পরম আনন্দে নেচে উঠে, স্মাইলির হাস্যোজ্জ্বল মুখশ্রী দারুন লাগল তার নিকটে।
“তুমি খুশি তো? তাহলে রোজিই ওর নাম।”
বুকটা ভার হয়ে উঠে ন্যান্সির। কাইট্যানের কথা মনে পড়ছে। আচ্ছা আফরিদ কে দেখে রেখেছে নাকি ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে?
🌿__🌿
ছোট কাইট্যান টা পায়ের কাছে বসে আছে আফরিদের। সে একটু পরে পরে লোমশ শরীরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। কাইট্যান ম্যাও ম্যাও করছে।
আফরিদ হেসে বলল।
“কি রে শা’লা তোর আম্মা তো চলে গেছে অনেকদিন হলো, তুই এখন কি করবি?”
বিড়াল টা এগিয়ে এসে পা চাটতে লাগল আফরিদের। আফরিদের আবার দয়ার শরীর,দয়া দেখিয়ে বলল।
” ঠিক আছে রাখব তোকে আমার কাছে।”
কাইট্যান জানে কখন কাকে কিভাবে ম্যানেজ করতে হয়। আফরিদ নিজের শার্টটা খুলে বাকেটে রেখে কাইট্যানকে তুলে নিল কোলে। কাইট্যান শুধু “ম্যাও ম্যাও” করে উঠল। আফরিদ গেল ওয়াশ রুমে। বাথটাবের পানিতে বসে পড়ল কাইট্যানকে নিয়ে।
সাবানের ফেনায় একাকার দুজনে। দুজনেই গভীর চিন্তায় মগ্ন। আফরিদ মাথায় দুলিয়ে দুলিয়ে বলল,
“কি করলে তোর আম্মুকে আনতে পারব বলতো?”
কাইট্যান আবারো ম্যাও ম্যাও করে বলে উঠে,
“আমার সিক্স সেন্স বলছে আম্মা আর আসবেনা খচ্চ’র বাপ।”
বিড়াল কী কখনো কথা বলতে পারে? উঁহু পারেনা অথচ আফরিদের মনে হলো কাইট্যান এটাই বলেছে। তেতে উঠল রীতিমতো ,চিবিয়ে চিবিয়ে বলে।
” প্রথম পাঁচটা সেন্স তো কাজই করেনা ,আবার সিক্স সেন্সের কথা বলছিস? ননসেন্স কোথাকার!”
কাইট্যান দ্বিতীয় বারের মতো ম্যাও ম্যাও করে উঠে। আফরিদ তাকেও গোসল করালো। তার জানকি বাচ্চার পছন্দের বিড়াল, যদি পছন্দ না হতো তাহলে এটার জায়গা কোথায় হতো কে জানে!
🌼🌼
বিছানায় শুয়ে আছে আফরিদ, তার পাশেই কাইট্যান বসে আছে। আফরিদ আদুরে ভাবে একটু পরপর গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
সদর দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলো ঈশান।
“বস নতুন ট্রলার ইদ্রান ভাই ছেড়ে দিছে।”
বিরক্ত হলো আফরিদ “চ” বর্গীয় শব্দ করে ,কাইট্যান কে সরিয়ে উঠে দাঁড়ালো। ফোন বের করে করে ইদ্রানের নাম্বারে।
“হ্যালো?”
“কি আ’বালের ঘরের বাল। আমার শাউ’য়্যারে তোমার বা’লের বডিগার্ড না বানালেই হতো না?”
ইদ্রান সবে পানির গ্লাস টা মুখে নিচ্ছিল। এমন বিশ্রী কথায় বলে উঠে।
“স্টুপিড তোর ওয়াইফ এসেছে কেন? আর আমি মোটেও ওকে বলিনি বডিগার্ড হতে।ও নিজে থেকেই হয়েছে।”
আফরিদ দাঁতে দাঁত পিষে বলে।
“আমার বউটা সাদাসিধে তোর বা’লের গার্লফ্রেন্ডকে ওর থেকে দূরে রাখ।”
হেসে ফেলল ইদ্রান।
“সাদাসিধে আর সে? তুই জানিস এসে কি করেছে?”
আফরিদ বিনা দ্বিধায় বলল,
“এসেই তোমার শাউ’য়্যার ফাটিয়ে দিছে,জানি আমি।”
এহেন কথায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ইদ্রান। কতবড় খারাপ এই মাফিয়া! জামাই বউ দুটোই তাকে পাগল করে দিচ্ছে।
“তোর ওয়াইফ খুব শীঘ্রই তোকে মা’রতে চলছে মাফিয়া কিং আফরিদ এহসান।”
আফরিদ ভাবলেশহীন ভাবে বলল।
“মারুক তাতে তোর বা’লের কি বে? চুপচাপ আমার বউয়ের থেকে দূরে থাকবি, নয়তো কে টে পিস পিস করব বলে রাখলাম।”
ইদ্রান হেসে ফেলল।
“তোর বউ আস্ত একটা ভীতু!”
আফরিদ চট করে উঠে বসলো, ইদ্রানের উদ্দেশ্যে বলল।
“হ্যাঁ এতটাই ভীতু যে গিয়েই তোর মেইন পয়েন্টে দিছে।”
এহেন খোঁচায় থতমত খেয়ে গেল ইদ্রান। রাগে ফুঁসে উঠে,
“মেয়ে বলে ছেড়ে দিয়েছি নয়তো…
“নয়তো আমার বউ তোমার শাউ’য়্যার ফাটিয়ে দিতো। শালা খচ্চ’র। এটা কেন বলছিস না ছেলে বলে আমার বউ তোকে ছেড়ে দিয়েছে।”
ইদ্রানের প্রচন্ড রাগ হলো, মন চাইল আফরিদকে সামনে পেলে কাঁচা চিবিয়ে খেতো সে।
আফরিদ রাগে ঈশানের দিকে তাকিয়ে বলল।
“সব রেডি কর এখানে, আমরা ঠিক একমাস পর স্পেন যাচ্ছি।”
ঈশান আঁতকে উঠে।
“কিন্তু বস স্পেনে..
“আমি যেটা বললাম সেটা কর ফাস্ট।”
🌿_____🌿
রাত গভীর হচ্ছে ধীরে ধীরে।
ইদানিং আফরিদ বাড়িতে থাকেনা খুব একটা। কোথায় যায়, কী করে কিছুই জানেনা এহসান মঞ্জিলের কেউ।
মাইমুনা এহসান ছেলের অবস্থা দেখে প্রতি ক্ষণে ক্ষণে ন্যান্সিকে দোষারোপ করে চলেছেন। ন্যান্সির মনে পড়ে যাচ্ছে কাল রাতের কথা। মাঝরাতে কল করে মাফিয়া কিং বলছে তার নাকি বিছানা খালি খালি লাগছে। নরম কিছু মিস করছে। এটা শুনে তেতে উঠল ন্যান্সি। চিড়বিড়িয়ে বলে।
“আপনার কি মনে হয় আমি বোকা? ঘাসে মুখ দিয়ে চলি?”
আফরিদ কর্দয হেসে উঠে দাঁড়ালো, টাওয়েল নিয়ে ওয়াশ রুমে গিয়ে শাওয়ার অন করে দিলো।
লম্বা নিঃশ্বাস টেনে নিজেকে উন্মুক্ত করে ঝর্নার নিচে দাঁড়িয়ে আছে। ছটপট করে ন্যান্সির জন্য। তাকে কাছে না পেয়ে প্রণয়ের আ’গুনে জ্ব’লছে।
ফোনটাও ভিজে যাচ্ছে অথচ তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই। উল্টো ন্যান্সিকে রাগাতে বলল,
“না আমার মনে হয় তোর মুখেই ঘাস উঠে। মাথায় তো গোবর ছাড়া কিছুই নেই!”
এহেন জবাবে হা হয়ে গেল ন্যান্সি। চাপা স্বরে চিৎকার করে উঠল।
“আফরিদ!”
“আস্তে সোনা, হার্টবিট মিস করছি।”
ঠিক সেই মূহূর্তে ফোন বন্ধ করে দিয়েছিল ন্যান্সি।
ন্যান্সি নিজের জন্য রান্না করেছে আজ। কাল থেকে তার নতুন যাত্রা শুরু। ইতিমধ্যেই ছবিতে থাকা লোকটার সম্পর্কে জেনেছে সে, লোকটার মিস্টার আলবার্ট। তিনি বেশ নামকরা একজন সায়েন্টিস্ট। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় তিনি গায়েব। তার কোনো অস্তিত্ব নেই কোথাও! এখন ন্যান্সিকে খোঁজ করতে হবে তিনি ঠিক কোথায় আছেন?
কলিং বেল বেজে উঠতেই চমকে উঠে ন্যান্সি। বুকের ভেতর ধক করে উঠল। ন্যান্সির ষষ্ট ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছে অন্য কিছু। এই মূহুর্তে কে আসতে পারে?
কিচেনের কেবিনেট থেকে তুলে নিল চাকু, খুবই সতর্কতার সাথে গুঁজে নিল কোমড়ে।
দরজা খুলে দিতেই হাস্যোজ্জ্বল মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল ইদ্রানকে। এই সময় তাকে প্রত্যাশা করেনি মোটেও।
“আপনি? এখানে কি করছেন?”
ইদ্রান এগিয়ে এলো, ন্যান্সি বাধ্য হলো সরে আসতে!
“এমনি এলাম। তুমি একা একটা মেয়ে যদি ভয় পাও?”
ন্যান্সির বুকের ভেতর দুরুদুরু কাঁপছে।
“ভয় পাবো কেন?”
ইদ্রান চট করে তার দিকে ঘুরে বলল,
“যদি কিছু হয়ে যায়?”
ইদ্রানের অদ্ভুত দৃষ্টিতে ন্যান্সির কেমন অনূভুত হচ্ছে! শরীরের রোমকূপ অবধি দাঁড়িয়ে পরে।
“মানে?কি বলতে চাইছেন স্পষ্ট করে বলুন।”
ইদ্রান ক্রূর হেসে দু পা এগিয়ে এলো। সহসা পিছিয়ে গেল ন্যান্সি। আচমকা কোমরে গুঁজে রাখা ধারালো চাকুটা বের করে আনে,
“খবরদার আমার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করবেন না। নয়তো জানে মে রে দেব।”
ধুরন্ধর ন্যান্সিকে দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারল না ইদ্রান। সে দুহাত তুলে আত্মসমর্পণ করে বলল,
“ওকে ওকে, রিল্যাক্স ইয়ার। আমি একটু মজা করছিলাম!”
ন্যান্সির কাছে এটা মোটেও মজা মনে হয়নি। পা দুটো কাঁপছে মেয়েটার।
“আপনি এই মূহুর্তে এখান থেকে বের হন।”
“আরে…
“বের হন এখুনি। যা কথা বলার কাল সকালে বলব, আপনি যান।”
ইদ্রান কিছু বলতেই পারল না তার আগেই ন্যান্সি তাকে বের করে দিলো।
ন্যান্সি ঠাস করে দরজাটা বন্ধ করে দেয় ঠেস দিয়ে বসলো ফ্লোরে। হাত কাঁপছে তার। চোখের পাতা ভারী হয়ে এসেছে। উঁহু আফরিদ ঠিকই বলে, এই দুনিয়ার মানুষগুলো মুখোশধারী! সে ছাড়া ন্যান্সির কেউ নেই!
কই ন্যান্সি তো কখনো আফরিদের নিকটে এতটা অপবিত্র অনুভব করেনি?
আফরিদ কাছাকাছি থেকেছে,বকেছে,ধমকেছে,ভয় দেখিয়েছে। ন্যান্সি সব স’হ্য করে নিয়েছে। দিন শেষে সে এটুকু বুঝেছে আফরিদ তাকে কখনোই ব্যথা দেবে না।
কাঁপা হাতেই পকেট থেকে ফোন বের করে আনল ন্যান্সি। লাস্টবার যে নাম্বার থেকে কল এসেছিল তাতেই ডায়াল করে বসে।
পরপর দুবার রিং হতেই রিসিভ হলো তা।
“হেই মাই পার্সোনাল পিরানহা ফিশ।”
ন্যান্সির কি হলো সে ডুকড়ে উঠে।
“আপনি ঠিকই বলেছেন এহসান, সবাই কেমন যেনো। আমি আপনাকে মিস করছি।”
কথা বলতে বলতে ফুঁপিয়ে চলেছে ন্যান্সি।
প্রিয় অবাধ্য নারীর কান্নায় দুনিয়া ঘুরে যাচ্ছে আফরিদের।
নতুন একটা প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত ছিলো আফরিদ,যার দরুন সকাল থেকে ন্যান্সির খোঁজ নেওয়া হয়নি। এই মূহুর্তে তার কান্না অপ্রত্যাশিত তার জন্য।
আফরিদ অনুভব করে তার শক্তপোক্ত বুকের ভেতর মাংসপিণ্ড কাঁপছে! দ্রুত হাতে সেন্টার টেবিলের উপর রাখা ল্যাপটপ নিয়ে কিবোর্ডে হাত চালাতে চালাতে বলল,
“আমি চলে আসি? কাল?”
ন্যান্সি নাক টানছে একটু পরপর! কাউকে বিশ্বাস করতেই পারছেনা! কিন্তু ন্যান্সি লড়ল কিভাবে ইদ্রানের সাথে? তারমতো লোকের সাথে তো পেরে ওঠার কথাই নয়! যদি সত্যি সে ন্যান্সির কাছে আসতো তাহলে কি করত?
ন্যান্সির আবারো চোখ ছাপিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।
ওমনি ল্যাপটপে সবটা দেখে রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে এলো আফরিদের । কোঁকড়ানো চুল গুলো খামচে ধরে, এটা মোটেও ভালো করল না ইদ্রান, এমন ভয় দেখানো উচিত হয়নি এই ভীতু মেয়েকে।
“ওই ওই এটা কি? সামান্য জিনিসে ভয় পাওয়া পাবলিক চলে গেছে স্পেনে! ছিহ্ ছিহ্ তোকে বউ বলতে ভীষণ লজ্জা করছে!”
ন্যান্সির চোখ বেয়ে টুপটুপ অশ্রু গড়ায়, অকস্মাৎ গ্রীবা ঝুঁকিয়ে হাঁটুর ভাঁজে মুখ লুকিয়ে ফিসফিসিয়ে বললো,
“এহসান ,হোল্ড মি প্লিজ।”
আফরিদ ল্যাপটপ হাতেই উঠে দাঁড়ালো, সেও গিয়ে দরজার কাছে ঠেস দিয়ে বসলো।
মনে হচ্ছে কক্ষের এপাশ ওপাশে দুজনে বসে আছে। আফরিদ তপ্ত নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,
“আমি চলে আসি? না আসলে কিভাবে জড়িয়ে ধরব?”
“আপনি ভীষণ খারাপ এহসান, আমাকে একটা নরমাল লাইফ দিতে পারেননি।”
কেঁদে কেঁদে করা অভিযোগ গুলো নিঃশব্দে মাথা পেতে নিলো আফরিদ। আসলেই সে নরমাল লাইফ দিতে পারেনি এই মেয়েকে!
“অ্যাঞ্জু রিল্যাক্স, ফিল কর আমি তোর কাছেই আছি।”
“নেই আপনি আমার কাছে। ভালো লাগছেনা আমার।”
আফরিদ হালকা হাসলো, দরজার মাথা হেলিয়ে চোখ বুঁজে নিল।
“সকালে উঠেই অগ্নিমূর্তি ধারণ করবি। রাতবিরেতে প্রেমিকার মতো আচরণ করছিস! এটা একটা সিম্পল বিষয়। তুই চাইলেই তার মেইন পয়েন্টে লাথি মারতে পারতি। সবসময় তো আমাকে লাথি মারিস!”
ন্যান্সি না চাইতেও হেসে ফেলল আফরিদের কথায়। আসলেই সে আফরিদকে কতবার যে কিক দিয়েছে মনে পড়লেই হাসি পায়।
পুলিশ স্টেশনে আছে ইস্ক্রিয়াস। ল্যাপটপে কিছু একটা কাজ করতে ব্যস্ত। তড়িঘড়ি করে এলো তার একজন সহকারী পুলিশ অফিসার।
“স্যার।”
“হ্যা।”
ল্যাপটপে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেই জবাব দিল।
দিবাং মৃদু স্বরে বলল।
“স্যার এফিয়ান কে মে’রে দেওয়া হয়েছে।”
‘এফিয়ান ‘ ইদ্রানের বিশ্বস্তত একজন ছিল। বলতে গেলে তার বিজনেসের খবরাখবর সবটাই জানতো।এই তো তার ব্ল্যাক বিজনেস সম্পর্কে অনেক বড়সড় একটা প্রমাণ হাতে আসতে চলেছিল, অথচ তা আসার আগেই এফিয়ান কে মে’রে দিল?
তৎক্ষণাৎ ল্যাপটপের শাটার বন্ধ করে দিল ইস্ক্রিয়াস। রাগে দাঁতে দাঁত চেপে ধরল সে।
“এটা কি করে হতে পারে দিবাং?হাউ ইজ দিস পসিবেল?”
দিবাং ফাঁকা ঢোক গিলল।এখন কী হবে? ইস্ক্রিয়াস ভাবনায় পড়ে গেল। আশ্চর্যের ব্যাপার ইদ্রান এসব খবরাখবর পায় কী করে? সবচেয়ে বড় কথা তাদের এই মিশন টা ছিল সিক্রেট।যাতে কেউ জানতেই না পারে,গুটি কয়েক অফিসার ছাড়া আর কেউই জানে না।তবে কী সরষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে আছে?
হাতে থাকা ফোনটি বেজে উঠা মাত্র তা রিসিভ করল ইস্ক্রিয়াস।ওপাশ থেকে মেয়েলি কন্ঠস্বর ভেসে এলো।খুব রাগান্বিত স্বরে কেউ একজন বলে উঠে।
“কোথায় তুমি?আধ ঘন্টা ধরে আমি অপেক্ষা করছি!”
হাতে থাকা ঘড়িটায় সময় দেখে নিল।সাড়ে পাঁচটা বাজে।সে ভুলে গিয়েছে একজন তার অপেক্ষায় আছে।সে যে তার হৃদয় স্পন্দন।
“স্যরি ডিয়ার আমি…
“স্টপ।”
কথার পিঠে ওপাশে থাকা মেয়েটি থামিয়ে দিল ইস্ক্রিয়াস কে। চাপা রাগ দেখিয়ে বলল।
“আসতে হবে না তোমাকে। আমি প্রথম থেকেই জানতাম তুমি আমাকে শুধু শুধু অপেক্ষা করাবে। আমার থেকে তোমার কাজ খুব ইম্পোর্টেন্ট।”
“প্লিজ ডিয়ার আমি এখুনি চলে আসব।জাস্ট টেন মিনিটস প্লিজ।”
সেই অপরিচিত মেয়েটি সময়টা দেখে নিল।এবারে বলে উঠে।
“ওকে জাস্ট টেন মিনিটস।এর থেকে বেশি হলে আমি..
“আই প্রমিজ আমি তার আগেই চলে আসব।”
ইস্ক্রিয়াস দ্রুত গতিতে ওয়ালেট এবং গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।
চলবে………।✨
(📌 মন চাচ্ছে আফরিদকে স্পেন বার্সেলোনা পাঠিয়ে দেই 😾😞)
(📌 সবাই বেশি বেশি রেসপন্স করবেন।)
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮ {প্রথম অর্ধেক}
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪০
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২২