Golpo romantic golpo অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে

অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১১


অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়

লেখিকাসুমিচৌধুরী

পর্ব ১১

🚫অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ🚫

পুরো কলেজ যেন হঠাৎ এক পলকেই নিস্তব্ধ হয়ে গেল। সবার উৎসুক চোখ এখন গেটের দিকে। যেখানে একটা দানবীয় বাইক গর্জন করে এগিয়ে আসছে। বাইকের ওপর বসা সুদর্শন পুরুষটিকে দেখে মনে হচ্ছে কোনো সিনেমার ফ্রেম থেকে উঠে আসা নায়ক। পরনে ধবধবে সাদা শার্ট যার হাতাগুলো কনুই পর্যন্ত নিখুঁতভাবে ভাঁজ করা। বাঁ হাতে ব্র্যান্ডের ঘড়ি আর চোখে কালো সানগ্লাস। এক কথায় এই টুকুতেই পুরুষটা মেয়েদের হার্টবিট বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। আর এই পুরুষটা আর কেউ নয় স্বয়ং সাইফান শুভ্র চৌধুরী।।শুভ্রকে এই বেশে দেখে রিদি জাস্ট হা হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে কল্পনাও করতে পারেনি যে আজ এই সময়ে শুভ্রকে সে কলেজে দেখতে পাবে।

শুভ্র বাইক চালিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় পার্ক করল। তারপর হেলমেটটা হাতে নিয়ে গটগট করে সোজা অফিস কক্ষের দিকে চলে গেল। রিদির মাথায় তখন হাজারটা চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। হঠাৎ শুভ্র কেন কলেজে এল? রিদির ভাবনার মাঝেই রিয়া পাশে এসে ফিসফিস করে বলল।

“ব্যাপার কী রে? শুভ্র ভাই আমাদের কলেজে? হঠাৎ কী মনে করে এল উনি?”

পাশ থেকে মিথি মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল।

“যাই বলিস শুভ্র ভাইকে আমি যতবার দেখি ততবারই নতুন করে ক্রাশ খাই। আল্লাহ এই পুরুষটাকে এত নিখুঁত করে কেন বানিয়েছে? যে নারী একে পাবে সে সত্যি ভাগ্যবতী।”

কথাটা যেন তপ্ত সীসার মতো বিঁধল রিদির কানে। বুকের ভেতর জ্বলে ওঠা ঈর্ষার আগুন সে আর দমাতে পারল না। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে মিথির উদ্দেশ্যে রিদি তর্জনী উঁচিয়ে চিৎকার করে উঠল।

“আরেকবার আমার শুভ্র ভাইয়ের দিকে ওভাবে তাকালে তোর চোখ টেনে আমি কাক মামুর কাছে ধরিয়ে দেব বলে দিলাম।”

কথাটা বলেই রিদি নিজের জিহ্বায় নিজেই কামড় দিল। কী বলতে গিয়ে কী বলে ফেলল। রিদির এই অস্বাভাবিক চিল চিৎকার শুনে শুভ্রা রিয়া মিথি আর ভাবনা সবাই থমকে গিয়ে ভ্রু কুঁচকে তাকাল। রিদি নিজের অস্বস্তি কাটাতে আমতা আমতা করে সবার উদ্দেশ্যে বলল।

“ইয়ে মানে আমি বলতে চাইছিলাম শুভ্র ভাই তো আমার ভাই তাই প্রোটেক্টিভ হয়ে গেছিলাম তাই…।”

বাকিটুকু বলার সুযোগ আর পেল না। রিয়া বাঁকা হেসে টিপ্পনী কেটে বলে উঠল।

“ভাই হলে তুই মিথির কথা শুনে এতটা খেপে গেলি কেন? তোর ব্যবহার কিন্তু মোটেও সুবিধার মনে হচ্ছে না। তুই কি শুভ্র ভাইয়ের প্রেমে-টেমে আগে থেকেই হাবুডুবু খাচ্ছিস নাকি?।”

রিদি যেন ধরা পড়ে গেল এমন একটা অবস্থা। তার বুকের ভেতরটা দুরুদুরু কাঁপছে। তবু কোনো রকম নিজেকে সামলে নিয়ে আড়ষ্ট গলায় বলল।

“তোরা যা মনে আসে মুখে তাই বলিস। দূর।”

বলেই রিদি দ্রুত পায়ে ক্লাসে চলে আসল। কিন্তু তার মনের ভেতর হাজারটা প্রশ্ন—শুভ্র কেন কলেজে এলো? শুভ্রর সেই রহস্যময় হাসির মানে কি তবে এটাই ছিল?

অনেকক্ষণ পর ক্লাসে প্রবেশ করলেন প্রিন্সিপাল স্যার আর তার ঠিক পেছনেই গটগট করে হেঁটে আসলেন শুভ্র। শুভ্রকে ক্লাসে দেখামাত্রই রিদি যেন নিজের অজান্তেই স্প্রিংয়ের মতো দাঁড়িয়ে গেল। বাকি ছাত্রছাত্রীরাও সম্মানের সাথে যার যার জায়গা থেকে উঠে দাঁড়াল। প্রিন্সিপাল স্যার অত্যন্ত গম্ভীর মুখে সকল ছাত্রছাত্রীর উদ্দেশ্যে বললেন।

“প্রিয় ছাত্রছাত্রীরা। তোমাদেরকে বলেছিলাম আজ আমাদের ভার্সিটিতে একজন নিউ প্রফেসর আসবেন। তো এই হচ্ছে আমাদের প্রফেসর সাইফান শুভ্র চৌধুরী। এখন থেকে শুভ্র তোমাদের ক্লাস নেবেন। তবে একটা বিশেষ সতর্কতা। শুভ্র কিন্তু বেশি কথা বলা বেয়াদবি আর দুষ্টুমি একদম পছন্দ করেন না। তাই তোমরা স্যারকে কক্ষনো বিরক্ত করবে না। পড়ার বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে কোনো কথা বলবে না স্যারের সাথে। যদি আমি শুনি যে তোমরা শুভ্রকে বিরক্ত করেছো তাহলে তোমাদের শাস্তি দিতে আমি পিছপা হবো না।”

কথাটা শোনা মাত্রই রিদির মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। বিস্ময়ে আর অবিশ্বাসে তার চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেল। সে কি সত্যিই শুনলো যে শুভ্র তাদের প্রফেসর? সত্যি শুনলো নাকি ভুল? কিন্তু কান ভুল হলেও চোখ তো ভুল হতে পারে না। নিজের চোখেই দেখছে শুভ্র সামনে দাঁড়িয়ে আছে। শুভ্রর সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তখন পুরো ক্লাসের ওপর একবার ঘুরে এসে স্থির হলো ঠিক রিদির চোখের ওপর। শুভ্রর ঠোঁটের কোণে সেই চেনা বিষাক্ত আর বাঁকা হাসিটা এখন আরও স্পষ্ট। রিদির মনে পড়ে গেল কাল বিকেলের সেই কথাগুলো”প্রফেসরটা খুব একটা সুবিধার হবে না।”

শুভ্র সানগ্লাসটা খুলে শার্টের কলারের সাথে ঝুলিয়ে রাখল। তারপর ডাস্টারটা হাতে নিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর আর ভারী গলায় বলল।

“সিট ডাউন এভরিওয়ান।”

রিদি যেন কাঠের পুতুলের মতো নিজের বেঞ্চে বসে পড়ল। তার মনে হচ্ছে পায়ের তলার মাটি এখনো দুলছে। শুভ্র ভাই এখন স্যার। তার প্রফেসর। ভাবতেই রিদির গলার কাছে একটা দলা পাকিয়ে এল। প্রিন্সিপাল স্যার তার বক্তব্যগুলো দিয়ে চলে গেলেন।

প্রিন্সিপাল স্যার চলে যাওয়ার পর পুরো ক্লাসে এক অদ্ভুত স্তব্ধতা নেমে এলো। কিন্তু সেই নিস্তব্ধতার নিচে বইছে ফিসফিসানির ঢেউ। ছাত্রীরা নিজেদের মধ্যে কানাকানি শুরু করে দিয়েছে। একজন বলছে, “প্রফেসর এত হ্যান্ডসাম হবে জানলে আজ পার্লারে গিয়ে সেজে আসতাম রে।” পাশ থেকে আরেকজন দম্ভের সাথে বলছে, “তুই দেখিস আমি স্যারকে পটিয়েই ছাড়ব। আমার বাবার যে টাকা আর আমার যা ফিগার, স্যার এমনিতেই পাগল হয়ে যাবে।”

এসব কানাঘুষার মাঝেই শুভ্র ক্লাসের মাঝখানে এসে দাঁড়াল। তার ব্যক্তিত্বের ভারে চারপাশটা যেন আরও গুমোট হয়ে গেল। শুভ্র গম্ভীর আর তীক্ষ্ণ গলায় সবার উদ্দেশ্যে বলল।

“এটেনশন এভরিওয়ান। আমি সাইফান শুভ্র চৌধুরী। আজ থেকে তোমাদের প্রফেসর হিসেবে আমিই ক্লাস নেব। তোমাদের প্রিন্সিপাল স্যার হয়তো অলরেডি আমার নিয়মকানুন সম্পর্কে একটা ধারণা দিয়েছেন। আমি ক্লাসে ডিসিপ্লিন আর প্রফেশনালিজমের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। তাই শুরুতেই আমি সবার সাথে একটু পরিচিত হতে চাই।”

শুভ্র একে একে সবার নাম জিজ্ঞেস করতে লাগল। মেয়েরা তো নাম বলার সময় স্টাইল আর ঢংয়ের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। কেউ চুলে হাত দিচ্ছে, কেউবা চোখের পাপড়ি নাচাচ্ছে। কিন্তু শুভ্রর পাথুরে চাউনিতে কোনো পরিবর্তন নেই। তার চোখ যেন শুধু তথ্য সংগ্রহ করছে, কোনো আবেগ নেই সেখানে।

ধীরে ধীরে শুভ্র নিজের বোন শুভ্রার বেঞ্চের সামনে এসে দাঁড়াল। শুভ্রা ভয়ে আর বিস্ময়ে কাঁপছে। শুভ্র স্থির গলায় জিজ্ঞেস করল।

“আপনার নাম?”

শুভ্রা থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।

“ভাইয়া… তুমি এখানে?”

শুভ্রর কপালে একটা ভাজ পড়ল। সে চোখের পলক না ফেলে শীতল গলায় জবাব দিল।

“দুঃখিত। আমি আপনার ভাইয়া নই। এই চার দেয়ালের ভেতর আমি আপনার শিক্ষক। অনলি স্যার। নেক্সট টাইম যেন আমি এই সম্বোধন আর না শুনি। এখন আপনার নাম বলুন।”

শুভ্রার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল। সে ঢোক গিলে নিচু স্বরে বলল, “শুভ্রা চৌধুরী।”

শুভ্র এবার রিদির বেঞ্চের দিকে এগোতে লাগল। রিদি অনুভব করল তার হৃদস্পন্দন যেন কান ফেটে বাইরে বেরিয়ে আসবে। শুভ্র রিদির একদম টেবিলের সামনে এসে থামল। রিদির মাথা নিচু, সে শুভ্রর চোখের দিকে তাকানোর সাহসটুকু হারিয়ে ফেলেছে। শুভ্র অত্যন্ত শান্ত কিন্তু ধারালো গলায় রিদির উদ্দেশ্যে বলল।

“এন্ড ইউ? নিচের দিকে না তাকিয়ে মাথা সোজা করুন, আপনি আসামী না যে মাথা নিচু করে রাখতে হবে,যাই হোক নাম বলুন?।”

রিদির এবার সত্যি হালকা রাগ হলো। নাম জানা সত্ত্বেও এভাবে আনকোরা মানুষের মতো নাম জিজ্ঞেস করছে! মানলাম প্রফেসর, কিন্তু তাই বলে এত ভাব নিতে হবে? হঠাৎ রিদির মাথায় দুষ্টু বুদ্ধি খেলে গেল। সে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু তার আগেই শুভ্র টেবিলের ওপর ডাস্টার দিয়ে একটা শব্দ করে ধমক দিয়ে বলল।

“শুনতে পাননি নাম জিজ্ঞেস করেছি? আই ডোন্ট লাইক ওয়েটিং ফর অ্যানসারস। সো, নাম বলুন।”

রিদি এবার একদম ইনোসেন্ট একটা মুখ করে দপ করে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর ক্লাসের সবার সামনে গম্ভীর মুখে বলল।

“জ্বি স্যার। আমার নাম জরিনা সুন্দরী।”

কথাটা শোনামাত্র পুরো ক্লাসে যেন হাসির বোমা ফাটল। রিদির বান্ধবীরা তো মুখ চেপে হাসতে হাসতে বেঞ্চের ওপর লুটিয়ে পড়ার অবস্থা। শুভ্রর কপালে এবার রাগের রেখা ফুটে উঠল। সে চিবুক শক্ত করে রাগী চোখে রিদির দিকে তাকিয়ে বলল।

“ইউ! আপনি কি মজা করছেন? ডু ইউ থিংক দিস ইজ এ জোকিং প্লেস?”

রিদি এবার আরও এক কাঠি বাড়িয়ে একদম কাঁদো কাঁদো চেহারা করে বলল।

“না শুভ্র ভাইয়া… ইয়ে মানে স্যার। সত্যি আমার নাম জরিনা সুন্দরী। ছোটবেলায় আমার নানি এই নাম রেখেছিল। আপনি না জানলে আমি কী করব?”

শুভ্রর মেজাজ এবার সপ্তমে চড়ল। সে বুঝতে পারছে রিদি ইচ্ছে করে তাকে সবার সামনে অপদস্ত করার জন্য এই নাটক করছে। শুভ্র ফাইলটা ডেস্কে সজোরে আছাড় দিয়ে থমথমে গলায় বলল।

“শাট আপ! জাস্ট শাট আপ। প্রথম দিনেই আপনি অনেক বেশি স্মার্টনেস দেখাচ্ছেন। আই নো হাউ টু হ্যান্ডেল স্টুডেন্টস লাইক ইউ। ইমিডিয়েটলি কান ধরুন!”

রিদি এবার থতমত খেয়ে গেল। সে ভেবেছিল শুভ্র হয়তো দমে যাবে, কিন্তু সে তো সরাসরি পানিশমেন্ট দিয়ে দিল! রিদি আমতা আমতা করে বলল।

“স্যার, মানে…। “

শুভ্র এবার রিদির একদম সামনে এসে দাঁড়াল। তার চোখের দৃষ্টি এতটাই তীক্ষ্ণ যে রিদির শিরদাঁড়া দিয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। শুভ্র নিচু স্বরে কিন্তু প্রচণ্ড রাগে বলল।

“কান ধরুন বলেছি! ডু ইট রাইট নাও। নয়তো এই মুহূর্তেই আপনাকে ক্লাস থেকে গেট আউট করে দেব।”

রানিং…!

রীচেক দিতে পারেনি সবাই মানিয়ে নিও আর হ্যাঁ পর্বটা ছোট হলো, সামনের পর্ব বড় আসবে ইনশাআল্লাহ, সবাই রেন্সপন্স কইরো প্লিজ 🫰🥹

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply