অবাধ্য_হৃৎস্পন্দন (৩৬ এর বর্ধিতাংশ)
সোফিয়া_সাফা
পেটাল এস্টেটের সুবিস্তীর্ণ ড্রয়িংরুমে বসে কথা বলছে অনি, লুহান, মেলো আর সোহম।
“বাহ, তেহ মিশনে এসেও বউকে ইম্প্রেস করার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। খুব ভালো লাগল।” লুহানের কথার পৃষ্ঠে মেলো বলল, “আর এসব তোর কাছে স্বাভাবিক লাগছে?”
লুহান আইসড আমেরিকানো ভর্তি গ্লাসে চুমুক দিতেই যাচ্ছিল, কিন্তু মেলোর কথায় তার কপালে গাঢ় ভাঁজ পড়ল। “অস্বাভাবিক লাগার কী আছে? হতেই পারে আমরা এখানে মিশনে এসেছি, তাই বলে কি তেহ বউকে খুশি করার চেষ্টা করতে পারবে না?”
মেলো ফোনের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে ভারী গলায় বলল, “আমি কখনো তেহকে স্ট্র্যাটেজির বাইরে গিয়ে অকারণে কাউকে কিছু গিফট করতে দেখিনি। সেখানে তেহ এই বাড়িটা নিলামে কিনে ফুলের নামে লিখে দিল। তার ওপর ও এই দুদিন রিদমের চেয়ে ফুলের প্রতি বেশি ফোকাসড ছিল। আমার মনে হচ্ছে আমরা কোনো মিশনে আসিনি, বরং তেহুর হানিমুনে বিন বুলায়ে মেহমান হয়ে এসেছি।”
সোহম খুক খুক করে কেশে উঠল। বেচারা আমেরিকানো সবেমাত্র মুখে দিয়েছিল। নাদিয়া এক গ্লাস পানি নিয়ে এগিয়ে এল। ঢকঢক করে সম্পূর্ণ পানিটুকু খেয়ে সোহম অস্থির গলায় বলল, “যা মুখে আসছে তাই বলে দিচ্ছিস? আরে, তেহ হানিমুনে এলে আমাদের কখনো নিয়ে আসত না। আমরা মিশন ‘ফাইন্ড আউট রিদম’ বাস্তবায়ন করতে এসেছি। কোনোপ্রকার কাবাবে হাড্ডি হতে আসিনি।”
অনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “হ্যাঁ, আমারও তাই মনে হয়। আমাদের অত ভাগ্যও নেই যে বউকে নিয়ে হানিমুনে যেতে পারব। আমি বিগত কয়েক বছর ধরে বিবাহিত হয়েও সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করছি। তেহুর বিয়ের তো এখনো এক বছরই হয়নি। আমার মনে হয় না ও এত তাড়াতাড়ি হানিমুনে গিয়ে ম্যারেড লাইফ এনজয় করতে পারবে।”
লুহান সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে টিটকারি মেরে বলল, “তোর সাথে তেহুর তুলনা করিস না। ও সোহমের মতো লয়্যাল, তোর মতো ফা’কার নয়। আমার মনে হয় না ওকে খুব বেশি সাধনা করতে হবে।”
অনি রেগে গেল। চাপা গলায় বলল, “আমি রিদমের মতো অত বড় ফা’কারও ছিলাম না। বিয়ের পর ভালো হয়ে গিয়েছিলাম। বউয়ের বোঝা উচিত আমি বর্তমানে তার প্রতি লয়্যাল।”
লুহান খোঁচা মেরে বলল, “তুই বোঝাতে পারছিস না কেন?”
অনি উক্ত প্রসঙ্গে হেরে গিয়ে কথা ঘুরিয়ে ফেলল, “তুই বিয়ে করছিস না কেন? আমাদের সবার চেয়ে তোর বয়স বেশি। আমার জানামতে, তুই শুধু একবার প্র’স্টিটিউট ক্লাবে গিয়েছিলি। তারপর আর কখনো যাসনি। এই নিয়ে কত প্রশ্ন করলাম কিন্তু কোনো উত্তর দিলি না। আমার মনে হয় তুই যার সাথে ইনটিমেট হয়েছিলি তার প্রতি তোর ফিলিংস জন্ম নিয়েছিল, যার জন্য তুই আর কখনো কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হতে পারিসনি। তোর উচিত নিজের ফিলিংস উপেক্ষা না করে সেই মেয়েকে খুঁজে এনে বিয়ে করে ফেলা।”
মেলো তাল মিলিয়ে বলল, “হ্যাঁ, আমারও তাই মনে হয়। তুই বিয়ে করে নে লুহান। বউয়ের পেছনে তোদের ঘুরঘুর করতে দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগে।”
লুহানের মুখাবয়বে অদ্ভুত গাম্ভীর্য ফুটে উঠল। রুমা টেবিল পরিষ্কার করছিল। তাদের কথা শুনে তার হাত-পা কাঁপছে। মুখে হয়তো সে কখনো লুহানের বউ হতে চাইবে না, কিন্তু মনে মনে সে চায় এমন কারো বউ হতে যে তাকে ভালোবাসবে; তাকে চাইবে, কেয়ার করবে। অবশ্য একজন প্র’স্টিটিউটের এই জিনিসগুলো চাওয়া শোভা পায় না। লুহান শুধুমাত্র তার সাথেই ইনটিমেট হলেও সে অগণিত লোকের সাথে হয়েছে। যদিও এর পেছনে লুহানই দায়ী ছিল।
লুহান কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে হঠাৎ মেলোর উদ্দেশ্যে হাসিমুখে বলল, “বুঝতে পারলাম তুই আমাদের ঘুরঘুর করতে দেখতে খুব পছন্দ করিস। আমার মাথায় একটা প্ল্যান আছে, যা করলে তেহ আরও বেশি করে ফুলের পেছনে ঘুরঘুর করবে। তার জন্য আমাদের তোর সাহায্যের প্রয়োজন। করবি সাহায্য?”
মেলো অহর্নিশ তাকিয়ে রইল লুহানের মুখপানে। বুঝতে পারল লুহান ইচ্ছা করে তার দুর্বলতার মজা ওড়াচ্ছে। এই ক্ষেত্রে মেলোও কম নয়, সে কখনো নিজের দুর্বলতা স্বীকার করবে না। “তুই জানিস আমি কত ব্যস্ত থাকি। আমার জায়গায় অনিলার সাহায্য নিতে পারিস। ও আমার চেয়ে বেশি তোদের সাহায্য করতে পারবে।”
অনি ভাবল সত্যিই লুহানের মাথায় হয়তো ফুল-উদ্যানকে কাছে আনার প্ল্যান আছে। তাই সে আগ্রহী হয়ে জানতে চাইল, “অনিলার সাহায্য লাগলে অবশ্যই করবে। আগে বল তোর প্ল্যানটা কী?”
লুহান বিড়ম্বনায় পড়ে গেল। প্রকৃতপক্ষে তার মাথায় কোনো প্ল্যান নেই। শুধুমাত্র প্রসঙ্গ পাল্টাতে আর মেলোকে অস্বস্তিতে ফেলতে চেয়েছিল সে। সোহম কথা টেনে নিয়ে বলল, “আমাদের মিশন ‘ফাইন্ড আউট রিদম’-এ ফোকাস করা উচিত।”
অনি সোজা হয়ে বসে বলল, “মিশনে ফোকাস করার জন্য তেহ একাই যথেষ্ট। আমাদের শুধু ওর কথামতো কাজ করতে হবে। এর ফাঁকে ফুলবানু আর তেহুর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে খারাপ হয় না। তোরা কেউ তেহুর কষ্ট বুঝতে পারছিস না, আমি বুঝতে পারছি। আমরা ছাড়া ওকে সাহায্য করার মতো আর কে আছে বল।”
লুহান অনির সঙ্গে একমত হলেও আপাতত কোনো প্ল্যান দিয়ে সাহায্য করতে পারছে না। সোহম বিরক্ত হয়ে বলে ফেলল, “দেখ, সাকসেসফুলকে তেহুর কাছাকাছি পাঠানো কোনো ব্যাপারই না। ব্যাপারটা হলো তেহুর কাছাকাছি গিয়ে ফিয়ারফুলের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আমাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। তোদের কী মনে হয়, তেহ ওর ওপর জোর খাটাতে পারে না? পারে, কিন্তু তেহ চায় না জোর খাটাতে।”
সোহমের কথার সারমর্ম বুঝতে পারল অনি। সেও চায় না উদ্যান ফুলের অমতে গিয়ে জোরাজুরি করুক। অনি হতাশার সুরে বলল, “এমন কিছু কি করা যায় না যাতে ফুলবানু নিজ ইচ্ছায় তেহুর কাছে যায়?”
হঠাৎ লুহানের মাথায় সত্যি সত্যিই একটা প্ল্যান উঁকি দিল। সে কিছু বলতে যাবে তন্মধ্যেই ফুল ত্রস্ত পায়ে ভেতরে প্রবেশ করল। ড্রয়িংরুমে সবাইকে বসে থাকতে দেখে সে অনিলাকে খুঁজতে শুরু করল। কিন্তু অনিলা সেখানে অনুপস্থিত।
“তেহ কোথায়?” মেলোর প্রশ্নে ফুল আঙুল উঁচিয়ে বাইরে ইশারা করল।
অনি বলল, “মেলো ওকে ওর রুম দেখিয়ে দিয়ে আয়।”
মেলো দোনোমোনো করে বলল, “আমি কেন? সার্ভেন্টদের বল।”
সোহম যোগ করল, “তোকে কেন বলেছে তা তুই খুব ভালো করে জানিস।”
মেলো নিরুপায় হয়ে হাঁটা ধরল। ফুলও আনমনেই তার পিছু নিল। সার্ভেন্টদের ওপর বিশ্বাস করা যায় না বলেই মেলোসহ বাকিরা নিজেদের টুকটাক কাজ নিজেরাই করে। যতদিন না স্পাইকে খুঁজে বের করা যাচ্ছে, ততদিন তারা এভাবেই ফুলের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
অনবরত ফোনকলে অতিষ্ঠ হয়ে উদ্যান হাভেলির ভেতরে ঢোকে। সবাই ডিনার করবে বলে তার জন্য অপেক্ষা করছিল। উদ্যান বিনাবাক্যে সবার সঙ্গে খেতে বসল।
“মিস্ট্রেসাকে ডেকে আনব মাস্টার?” নাদিয়ার প্রশ্নের প্রত্যুত্তরে উদ্যান নির্লিপ্ত সুরে বলল, “না, ডেকে আনার প্রয়োজন নেই। ওর খাবার বেড়ে রাখ।”
নাদিয়া মাথা নেড়ে প্লেটে খাবার বেড়ে নিল। সিঁড়ির অভিমুখে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরতেই উদ্যান উঁচু গলায় বলল, “ওর রুমে কোনো সার্ভেন্টের যাওয়ার অনুমতি নেই।”
নাদিয়া পাল্টা কোনো প্রশ্ন করার সাহস পেল না। চুপচাপ ফিরে এসে প্লেটটা ঢেকে টেবিলের ওপর রেখে দিল। খাওয়া-দাওয়া শেষে উদ্যান একনজর প্লেটটার দিকে চেয়ে চোখ সরিয়ে নিল। অনিলার উদ্দেশ্যে বলল, “খাবারটা তুমি গিয়ে দিয়ে আসবে।”
অনিলা হালকা হেসে বলল, “ঠিক আছে, আমি এমনিতেও ওর সঙ্গে আড্ডা দিতে যেতাম।”
উদ্যান হেঁটে চলে এল নিজের রুমের সামনে। পাশের রুমটাই ফুলের। দরজা বন্ধ, উদ্যান চাইলেই সেই বন্ধ দরজা পেরিয়ে ফুলের কাছে চলে যেতে পারে। কিন্তু না, এখন সে যেতে চায় না তার কাছে। শুধু শুধু নিজের জন্য পরিস্থিতি কঠিন করার কোনো মানে হয় না। তার উচিত ফুলকে সময় দেওয়া আর নিজেও সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকা। উদ্যান এক হাত পকেটে গুঁজে নিজের রুমে চলে গেল। রুমে তানকে মেডিসিন খাওয়াচ্ছে একজন মেইড, যার নাম ‘মারিয়া’; সে মূলত তানের কেয়ারটেকার। মেয়েটা মেক্সিকান।
“Puedes retirarte.” (অর্থ: তুমি যেতে পারো।)
উদ্যানের আদেশে মারিয়া মাথা হালকা নিচু করে রুম ত্যাগ করল।
রুম খালি হতেই উদ্যান নিজের লাগেজ খুলে ফুলের ডায়েরিটা খুঁজতে লাগল। পেয়েও গেল খুব অল্প প্রচেষ্টায়।
ডায়েরি হাতে নিয়ে সে এগিয়ে গেল স্টাডি টেবিলের দিকে। হঠাৎ অনুভব করল তান তার পায়ের কাছে এসে ডলাডলি করছে। উদ্যান তানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ডায়েরির পাতা উল্টাতে লাগল। সে বুঝে উঠতে পারছে না, এত কিছু করেও কেন সে ফুলের মনের নাগাল পাচ্ছে না। তার মতো পাথর মানব যেখানে ফুলের মোহে দিকভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে, সেখানে ফুল সাধারণ মেয়ে হয়ে কীভাবে নিজেকে সামলে রাখছে?
অন্যদিকে ফুল খাটের ওপর জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে। গলায় থাকা পেন্ডেন্টটি হাতের মুঠোয় চেপে ধরা। সে খুব বুঝতে পারছে তার দিন ঘনিয়ে আসছে। এভাবে আর বেশিদিন নিজের অনুভূতিগুলোকে দমিয়ে রাখতে পারবে না সে।
***সকালবেলা।
ফুলের রুমটা হাভেলির পেছনের দিকে। রুমের সাথে লাগোয়া খোলা বারান্দা আছে একটা। সেখানে দাঁড়িয়ে বাইরের প্রকৃতি অন্বেষণ করছে ফুল। বারান্দার ঠিক নিচের একাংশে অনাবৃত জমি। তারপর শুরু হয়েছে ঘন জঙ্গলে আবৃত পাহাড়ি উঁচু-নিচু জমি। যতদূরে চোখ যায় পাহাড় আর পাহাড়। নিচের খোলা জায়গায় তানকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছে মারিয়াসহ আরও দুজন মেইড। ফুল তাদের ছোট ছোট কার্যক্রম দেখে আনন্দিত হচ্ছিল। দূরত্ব থাকায় তানকে দেখে আপাতত তার সাইনোফোবিয়া ট্রিগারড হচ্ছে না। কারণ সে নিশ্চিত তান ওখান থেকে তার কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না।
“তোমার সাইনোফোবিয়া থাকা সত্ত্বেও কত আগ্রহ নিয়ে তানকে অবজার্ভ করছো। অথচ আমি তোমার হাজব্যান্ড হওয়ার পরেও আমার দিকে কখনো এত আগ্রহ নিয়ে তাকাও না।” হঠাৎ উদ্যানের কণ্ঠ শুনে ফুল হকচকিয়ে পেছনে ঘুরে গেল।
উদ্যান বারান্দার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ফুল উদ্যানের অভিব্যক্তি দেখে চমকিত হলো। দানবটা ঠোঁট উল্টে রেখেছে; যেন ইচ্ছাকৃতভাবে আদুরে সাজার চেষ্টা করছে। ফুলের আদর পেল কি না জানা নেই, কিন্তু হাসি পেল অবশ্যই। সে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে ফিক করে হেসে ফেলল। উদ্যান তার পাশে এসে থামল। রেলিংয়ে হাত রেখে দৃষ্টি অদূরে নিক্ষেপ করে প্রশ্ন ছুড়ল, “পেটাল এস্টেট পছন্দ হয়েছে?”
ফুল হাসি চেপে স্বাভাবিক গলায় বলল, “জি পছন্দ হয়েছে। ধন্যবাদ, এত বড় হাভেলি গিফট করার জন্য।”
কথায় কথায় ফুলের হঠাৎ মনে হলো উদ্যান ঘরে ঢুকল কীভাবে? সে তো দরজা লাগিয়ে রেখেছিল। মুহূর্তেই বিস্ময়ে তার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। বার দুয়েক আঁখিপল্লব ঝাপটে আওড়াল, “এই বাড়ির লকগুলোও আপনার হাতের ইশারায় খুলে যায়?”
উদ্যান উত্তর দিল না। কথা ঘুরিয়ে বলল, “বিকালে আমরা ঘুরতে যাব। রেডি থেকো।”
ফুল মনে মনে খুশি হলো। ঘোরাঘুরি করতে তার দারুণ লাগে। সকালের সূর্যের তাপে উদ্যানের চেহারা অতি উজ্জ্বল দেখাচ্ছে। ফুল একবার আড়চোখে দানবটাকে দেখে নিল। লক্ষ্য করল বৈপরীত্যে দানবটা ভুল করেও তার দিকে তাকাচ্ছে না। আলোর প্রতিফলনে উদ্যানের গাঢ় বাদামী চোখজোড়া অদ্ভুতভাবে চকচক করছে। যেন বাদামী রঙ স্বচ্ছ অ্যাম্বার রঙে পরিণত হয়েছে। ফুলের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির প্রতিমুখে উদ্যান জিভের অগ্রভাগ গালের অভ্যন্তরীণ ত্বকে ঠেকাল। সে না তাকিয়েও ফুলের প্রখর দৃষ্টি অনুভব করতে পারছে। মেয়েটা যে কী চায় উদ্যান কখনোই বুঝে উঠতে পারে না।
উদ্যান মনে মনে হাঁফ ছাড়ল। রুম ত্যাগ করার উদ্দেশ্যে ঘুরে গেল ঠিকই কিন্তু পা বাড়ানোর আগেই তার অভিব্যক্তি পাল্টে গেল। তৎক্ষণাৎ ফুলের বাহু আঁকড়ে ধরে তাকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরল। অন্য হাতে প্রবল বেগে এগিয়ে আসা তীরের ফলা খপ করে ধরে ফেলল।
ফুল ব্যথাতুর চোখে উদ্যানের হাতের পানে চেয়ে আছে। সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেল যে সে প্রতিক্রিয়া দেখানোর সময়টুকু পেল না। হঠাৎ দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে অসামান্য ব্যথা পেয়েছে মেয়েটা। ঠোঁটের ফাঁক গলে অস্ফুট গোঙানির শব্দ বেরিয়ে আসছে। উদ্যান ফুলের দিকে না তাকানোর সংকল্প নিয়ে রুমে ঢুকলেও এই পর্যায়ে এসে সব মনস্থিরতার ঊর্ধ্বে গিয়ে তাকাতে বাধ্য হলো। ফুলকে নিজের প্রশস্ত বুকের ছায়াতলে এনে ফুলের পুরো শরীর আড়াল করে দাঁড়াল।
ফুল ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে, চোখের কোল ঘেঁষে অশ্রুকণা গড়িয়ে এসে চিবুকে ঠেকেছে। ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে উঠছে তার ভীতসন্ত্রস্ত তনুমন। পাল্লা দিয়ে কাঁপছে তার রক্তিম বর্ণের সরু ওষ্ঠদ্বয়। উদ্যানের চাহনি নিমিষেই প্রগাঢ় হয়ে উঠল। মেয়েটাকে এত অল্পতেই এলোমেলো হয়ে যেতে দেখে থমকে গেল তার সমস্ত চিন্তাধারা। সে ঘাড় বাঁকিয়ে পেছনে দৃষ্টি ফেরাল। দেখতে পেল, কয়েকজন গার্ডস তীর নিক্ষেপ করা ব্যক্তিকে খুঁজতে দৌড়ঝাঁপ করছে। উদ্যান কালক্ষেপণ না করে হ্যাঁচকা টানে ফুলকে রুমের ভেতর ঠেলে দিল। কিন্তু নিজে বারান্দাতেই থাকল। রেলিং দিয়ে মুখ বাড়িয়ে আদেশের স্বরে বলল, “Entra con Tan, rápido.” (অর্থ: তানকে নিয়ে ভেতরে এসো, দ্রুত।)
তানের কেয়ারটেকারসহ অন্য মেইডরা মাথা নিচু করে দ্রুত হাভেলির ভেতর প্রবেশ করল।
উদ্যান তীরটা সামনে এনে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে একটুকরো প্যাঁচানো কাগজ খুঁজে পেল। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে উদ্যানের চোয়াল শক্ত হয়ে এল। প্রচণ্ড ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে দৃষ্টি বাজপাখির মতো বিদ্ধকারী হয়ে উঠল। সে বাম হাতে কাগজটা খোলা মাত্রই চোখে পড়ল লাল লাল অক্ষরে অহং মেশানো লেখাগুলো: “আমার তালাশে এই পর্যন্ত এসে মস্ত বড় ভুল করেছিস। তোর কী মনে হয়, এত সহজে রিদমকে উদ্ধার করতে পারবি? ইউ কার্সড বিস্ট, কয়েকদিন শান্তিতে থাকতে চাইলে নিজের আস্তানায় ফিরে গিয়ে লুকিয়ে থাক। আর ফ্লোরিতাকে আমার নজরে পড়তে দিস না। ফ্লোরিতাকে চিনতে পারলি না? আরে তোর বিউটিফুল ওয়াইফিকে আমি না দেখেই কার্সড নেইম দিয়ে দিয়েছি। শুনলাম, ফ্লোরিতার নাকি পুরুষ মানুষের স্পর্শে অ্যালার্জি আছে। ছুঁতে গেলেই নাকি সু’ই’সাইড করার হুমকি দেয়। যার জন্য তুই বিয়ের এত দিন পরেও ফুলশয্যার মজা লুটে নিতে পারিসনি। এই তথ্যগুলো আমাকে আরও বেশি করে টানছে ওর দিকে। একনজর দেখার আশায় উদগ্রীব হয়ে আছি।”
উদ্যান দাঁতে দাঁত পিষে কাগজটা দুমড়ে-মুচড়ে ছুড়ে ফেলে দিল বাইরে। মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে যেন যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। সে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে রইল বেশ কিছুক্ষণ। তারপর ঠোঁটের কোণ হালকা প্রসারিত করে তড়াক করে চোখ মেলল। উল্টো ঘুরে ফিরে এল রুমে। ফুল তখনও সেভাবেই ঠায় দাঁড়িয়ে আছে, চোখজোড়া পানিতে টলমল করছে। উদ্যান এবার চিন্তিত বদনে তার মুখোমুখি এসে থামল।
“ব্যথা পেয়েছো?” উদ্যানের ফিসফিসিয়ে করা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো মনোবল ছিল না রমণীর। সে কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই উদ্যানের ডান হাতের কবজি টেনে সামনে আনল। তীরের ফলার ধারালো অংশ চেপে ধরার কারণে উদ্যানের হাতে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাজা র’ক্তে হাতের মাখামাখি অবস্থা। উদ্যান খেয়াল করল, ফুলের হাত সমানতালে কাঁপছে। সে হাত সরিয়ে নিতে চাইলে ফুল কান্নাভেজা কণ্ঠে বলে ওঠে, “আপনি কেন এভাবে হাতটা ক্ষতবিক্ষত করলেন?”
উদ্যান নিষ্প্রাণ গলায় জবাব দিল, “তোমাকে প্রোটেক্ট করতে গিয়ে এর চেয়েও বেশি ক্ষতবিক্ষত হতে প্রস্তুত আছি আমি।”
উদ্যানের স্বীকারোক্তি মুহূর্তেই ফুলকে স্থবির করে দিল। সে উল্টো হাতে চোখ মুছে নিল। কিছুতেই যেন নিজের হৃদয়ের ব্যাকুলতা লুকাতে পারছে না রমণী। মন-মস্তিষ্ক সব উদ্যানের চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠছে। “কিন্তু কে এমন অতর্কিত আক্রমণ করল?”
উদ্যান ঠোঁট নেড়ে বলল, “আমার মনে হয় এখানের স্থানীয় আদিবাসীরা শিকারে বের হয়েছিল। তখনই তাদের ছোড়া তীরটা লক্ষ্যচ্যুত হয়ে এদিকে এসে পড়েছে।”
উদ্যানের বিশ্বাসযোগ্য যুক্তিতে ফুল সেই ভাবনা থেকে সরে এসে উদ্যানের হাতের ক্ষত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। অস্থিরচিত্তে বলল, “আপনার হাত থেকে অনেক র’ক্ত বের হচ্ছে। কী করব এখন?”
উদ্যান হাত ছাড়িয়ে নিয়ে দরজার মুখে হাঁটা ধরল। অবিচলিত কণ্ঠে বলল, “কিছু হয়নি। এত আতঙ্কিত হয়ে পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।”
ফুল অপরিসীম উৎকণ্ঠা নিয়ে ছুটে এসে উদ্যানের পথরোধ করে ফেলল। “আপনি এখানে বসে ডাক্তারকে কল করে আসতে বলুন।”
ফুলের ছটফটানি দেখে উদ্যান অবাক হলো। কিন্তু এখন ফুলের ভাবভঙ্গি বিশ্লেষণ করার সময় নেই। এক্ষুনি গিয়ে তাকে গার্ডসদের পিন্ডি চটকাতে হবে। এতগুলো গার্ডস থাকার পরেও কীভাবে কেউ ফুলকে নিশানা করে তীর ছোড়ার স্কোপ পেল?
“পেটাল, আমার রাস্তা ছেড়ে দাঁড়াও। আমাকে যেতে হবে।” কথাটা উদ্যান দমিত কণ্ঠে বলল। যেন সে বোঝাতে চাইছে এখনই তার পথ ছেড়ে দেওয়াটা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু ফুল তার সতর্কতায় কর্ণপাত করল না। “আমি জানি, আপনি নিজ উদ্যোগে ডাক্তারের কাছে যাবেন না। আর না তো কল করে ডেকে নেবেন। তাই আগে আমার সামনে ক্ষতস্থানের চিকিৎসা করবেন। তারপরই বের হতে পারবেন।”
উদ্যান দু পা পিছিয়ে গেল। ফুল ভাবল সে হয়তো তার কথা মেনে নিয়েছে, কিন্তু ক্ষণিকেই তার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো। উদ্যান তার বাহু আঁকড়ে ধরে তাকে সরিয়ে দিয়ে হনহনিয়ে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার আগে দরজার ছিটকিনি লাগাতে ভুলল না। ঘটনার আকস্মিকতায় ফুল হতভম্ব হয়ে গেল। এই লোকটা কখনো কোনো বাধানিষেধের তোয়াক্কা করে না কেন?
উদ্যানকে তড়িঘড়ি করে নামতে দেখে লুহান লুকানোর বৃথা চেষ্টা করতে লাগল। সোহম তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, “চিন্তা করিস না, তেহ অনেকদিন হলো কাউকে পানিশড করে না।”
“লুহান!” উদ্যান গর্জে উঠল। ফোঁসফোঁস করতে করতে চারদিকে চোখ বুলিয়ে খুঁজতে লাগল লুহানকে। পেয়েও গেল খুব তাড়াতাড়ি। বেচারা অনির পেছনে সিঁটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তার মতো হাতির বাচ্চাকে লুকিয়ে ফেলার সাধ্য অনির ছিল কোথায়? উদ্যান ঘাড় কাত করে হিংস্র চোখে তাকাল। তার লাল হয়ে আসা চোখজোড়া দেখে সোহম শুকনো ঢোক গিলল।
উদ্যান তীব্র আক্রোশ মিশিয়ে বলল, “লোবো, গেট দ্য রড।”
লুহান অসহায় চোখে অনির পেছন থেকে উঁকি মেরে ম্রিয়মাণ কণ্ঠে বলল, “আমাকে পানিশড করার জন্য আমাকেই লাঠি আনতে বলছিস?”
উদ্যান দাঁত খিঁচিয়ে পুনরায় আওড়াল, “লোবো, গেট দ্য রড!”
লুহান বাধ্য হয়ে দ্রুতপায়ে চলে গেল। ফিরে এল সেই পুরোনো বেতের লাঠি নিয়ে। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে অনিলা সবকিছুই দেখছিল। উদ্যানের রাগের পরিমাণ আঁচ করতে পেরে গলা শুকিয়ে এল তার। ফুলকে স্মরণ করে দ্রুত পাশ ফিরে ছুট লাগাল।
লুহান বশ্যতা স্বীকার করে হাঁটু থুবড়ে বসে পড়ল। উদ্যান তাকে প্রহার করার উদ্দেশ্যে লাঠি তুলতেই ফুলের দমনাত্মক কণ্ঠ ভেসে এল, “আপনি আবারও বসগিরি দেখাচ্ছেন? আমি ভেবেছিলাম আপনি ভদ্রলোক হয়ে গেছেন।”
উদ্যানের হাত সঙ্গে সঙ্গে থেমে গেল। গ্রীবা বাঁকিয়ে ফুলের দিকে ক্ষুব্ধ দৃষ্টি নিক্ষেপ করল। ফুলের শরীর থরথর করে কাঁপলেও সে কোনোমতে সিঁড়ি ডিঙিয়ে নিচে নামল।
“কেন মারছেন লুহান স্যারকে?” ফুল প্রশ্নবিদ্ধ নয়নে উত্তর খুঁজে চলেছে। লুহান মুখ তুলে একবার তার রক্ষাকর্ত্রীকে দেখে নিল। উদ্যান মুখ ঝামটা মেরে লাঠি ছুড়ে ফেলল। রাগ সংবরণ করে বলল, “ও গার্ডসদের সঠিক পজিশনে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে তাই…”
“এক মিনিট, সঠিক পজিশন মানে?” ফুলের প্রশ্নের তোপে পড়ে উদ্যান ভড়কে গেল। সংক্ষেপে বলল, “ও প্রোটেকশন চিফ হিসেবে নিয়োজিত আছে। তাই তোমাকে পর্যাপ্ত প্রোটেকশন দিতে না পারাটা ওর ব্যার্থতা। আমি যদি সেই সময় সেখানে উপস্থিত না থাকতাম, তোমার পরিণাম কী হতো আন্দাজ করতে পারছো?”
ফুল স্থিরতা বজায় রেখে আওড়াল, “এখন ওনাকে মারলে কি আগের ঘটনা পাল্টে যাবে? আপনার হাতের ক্ষত সেড়ে যাবে? যদি যায় তাহলে মারুন, আর যদি না যায় তাহলে ক্ষতটার চিকিৎসা করান।”
উদ্যান নাক কুঁচকে সোফায় গা এলিয়ে দিল। হাতের আঙুল বেয়ে তখনও র’ক্তকণিকা অনর্গল ধারায় গড়িয়ে পড়ছে। লুহানকে একভাবে বসে থাকতে দেখে ফুল দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “উঠুন লুহান স্যার, ওনার জন্য ডাক্তার ডাকুন।”
লুহানের মাঝে ভাবাবেগ ঘটল না। ফুল নিরুপায় হয়ে সোহমের সামনে গেল, “আপনি ডাক্তার ডাকুন।”
সোহম জোরপূর্বক ঠোঁটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে কপাল চুলকাতে লাগল। অপ্রস্তুত হয়ে বলল, “ডাক্তারকে সাথে আনার কথা মনে ছিল না মার্সিফুল। তুমি বললে আজই তাকে আনার ব্যবস্থা করব।”
তার কথার প্রেক্ষিতে উদ্যান চোখ খুলে সোহমের পানে চাইল। উদ্যানের সাথে চোখাচোখি হতেই সোহম আঁতকে উঠল। উদ্যানের রক্তচক্ষু যেন অশনি কিছুর সংকেত দিচ্ছে।
ফুল কপালে জমে থাকা ঘামটুকু ওড়না দিয়ে মুছে লম্বা শ্বাস টেনে নিল। অনির দিকে ফিরে বলল, “অনি স্যার, ফার্স্ট এইডও কি নেই?”
ফুলের উন্মনা আচরণে অনি কিয়ৎক্ষণ ভাবনায় পড়ে গেল। অনিলা দোতলা থেকে হাত নাড়িয়ে বলল, “আমার কাছে আছে। আমি এখনই নিয়ে আসছি।”
অনিলা ফার্স্ট এইড নিয়ে নিচে এলে, ফুল সেটা হাতে তুলে উদ্যানের পাশের গদিতে বসে পড়ল। হাত বাড়িয়ে উদ্যানের হাত ধরতে গেলে উদ্যান বাম হাতে ফুলের হাত শক্ত করে ধরে থামিয়ে দিল। আচমকা হস্তক্ষেপে ফুলের শরীরে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলো। উদ্যান সোফায় ঘাড় নামিয়ে রেখে অত্যন্ত বিরসমুখে বলল, “তুমি ভুলে যাচ্ছো আমার ক্ষতস্থানে মলম লাগানোর অনুমতি নেই তোমার।”
ফুল বিরক্ত হয়ে ঠোঁট কাঁপিয়ে বলল, “বাচ্চাদের মতো বেহুদা জেদ করছেন কেন? আপনার ক্ষতস্থানে মলম লাগিয়ে আমি বড়লোক হয়ে যাব না, বুঝলেন? ভদ্রলোকের মতো হাত এগিয়ে দিন।”
উদ্যান বিড়বিড়িয়ে বলল, “বড়লোক না হয়ে গেলেও তুমি এমন ক্ষত সারিয়ে তুলতে পারো, যেগুলো আমি বয়ে বেড়াতে চাই। সাইকোলজির মতে, কারো যন্ত্রণা লাঘব করার চেষ্টাই তাকে নিজের প্রতি সবচেয়ে নিখুঁতভাবে দুর্বল করে তোলে। মূলত তোমার সহানুভূতি, কোমলতা, সদয়তা থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছি আমি।”
কথাগুলো ফুলের কানে মন্ত্রপাঠের মতো শোনাল। “আপনি যদি মনে করে থাকেন মন্ত্রপাঠ করলে ক্ষত শুকিয়ে যাবে, তাহলে ভুল ভাবছেন।”
উদ্যান সোজা হয়ে বসল। ফুলের হাত থেকে ফার্স্ট এইড কেড়ে নিয়ে একটুকরো ব্যান্ডেজ বের করল। সেটা হাতের তালুতে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে বলল, “তোমাকে কষ্ট করতে হবে না পেটাল। এই দেখো, আমি ব্যান্ডেজ প্যাঁচিয়ে নিয়েছি; এবার খুশি তো তুমি?”
ফুলের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ল। ঠোঁট ফুলিয়ে আপত্তি জানাল, “শুধু ব্যান্ডেজ প্যাঁচালেই ক্ষত সেরে যাবে?”
উদ্যান ঝটপট উঠে দাঁড়াল। ফুলের কথা খুব সূক্ষ্মভাবে এড়িয়ে গিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেল দৃষ্টিসীমার বাইরে। ফুল নিরাশ হয়ে দৃষ্টি নামাতেই ফ্লোরে পড়ে থাকা র’ক্তের ফোঁটাগুলো নজরে এল। সে কিছুটা তুলো নিয়ে রক্তগুলো মোছার উদ্দেশ্যে অনেকটা ঝুঁকে গেল।
সোহম বলল, “আরে ওউফুল, তোমাকে ফ্লোর পরিষ্কার করতে হবে না। আমি সার্ভেন্ট ডেকে দিচ্ছি।”
ফুল স্ফীত হেসে বলল, “এটুকু কাজ আমি অনায়াসে করে ফেলতে পারি, সোহম স্যার। আপনি বরং শাহজাদার পিছু পিছু গিয়ে দেখুন, যেই দাম্ভিকতার সাথে বেরিয়ে গেছে—কখন কাকে পানিশমেন্ট দিয়ে বসে বলা যায় না।”
চলবে,,,
(আপনারা রিএক্ট আর মন্তব্য করতে ভুলবেন না। 4k রিএক্ট পূর্ণ হলে তবেই নেক্সট পার্ট আসবে।)
Share On:
TAGS: অবাধ্য হৃৎস্পন্দন, সোফিয়া সাফা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৪
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৬
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৯
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৯
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ১০
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৭
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ২৪
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৪
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ৩৯
-
অবাধ্য হৃৎস্পন্দন পর্ব ১৭