কপি করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ ⚠️
খাঁচায় বন্দী ফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
পর্ব – ১৯
এই দীঘি টার যন্ত্রণায় সারাদিন নদী তুমুল কে কল দিতে পারেনি। জেবার সাথে সারাদিন খোঁচাখুঁচি করে, জেবাও খেপে যায়। দুজনের লেগে যায় যুদ্ধ। সেই কোন সকালে তুমুলকে একবার কল করেছিলো। সারাদিন আর কথাই হয়নি। রাত হয়ে গেছে এতখানি। তুমুলকে কল দেবে ভাবতেই তুমুল নিজেই কল দিলো। নদী ভাবছে এখন রাগ না করে আবার। ফোন কানে নিয়ে বলে
“হ্যালো! ভালো আছেন?”
তুমুল গম্ভীর গলায় উত্তর দিলো
“খারাপ থাকার কি আছে?”
নদী শুকনো ঢোক গিলল। আবার জিজ্ঞেস করলো
” ডিনার করেছেন?”
তুমুল রসকষহীন ভাবে জবাব দিলো
” না ডিনার আমাকে করেছে”
এদিকে দীঘি এসে বার বার কানের কাছে ঘেষছে তুমুলের কথা শোনার জন্য। নদী মুখ ভাড় করে বলল
” এভাবে কথা বলছেন কেন?”
” শিখিয়ে দাও কীভাবে বলবো”
নদী বুঝলো ভালোই গরম হয়ে আছে। এখন কথা বললেই বিপদ
” আচ্ছা রাখছি তাহলে”
“রাখবেই তো, এখনো তো সিঙ্গেলই আছে। সমস্যা নেই”
দীঘি নদীর কান থেকে ফোন নিয়ে মিউট করে দিয়ে বলল
” তুই কি সারা জীবন এমন আবার থাকবি রে? বল যে বেবি তোমাকে খুব মিস করছি দেখতে ইচ্ছে করছে খুব”
নদী চোখ বড় বড় করে তাকায়
” আমি এসব বলতে পারবো।”
“আরে বল না রে গাধা। বলদ কোথাকার।”
তুমুল ওপাশ থেকে বলল
” মুখে কি ব্যাঙ ঢুকেছে? কথা বলছেন না কেন?”
নদী মিউট খুলে আমতা আমতা করে বলল
“আ….আমি…
দীঘির দিকে তাকালো নদী। দীঘি হাত ইশারা করে ফিসফিস করে বলল
” আরে বল বল”
“আমি…..না, আ….আপনাকে খুব মিস করছি”
তুমুল কিছুসময় চুপ থেকে বলল
” কে শিখিয়ে দিচ্ছে?”
নদী কাদো কাদো মুখ করে দীঘির দিকে তাকালো। দীঘি কিটিমিটি করে বলল
” ওমন আবালের মতো কথা বললে তো বুঝবেই। ধুররররর”
“পাশে কে তোমার?”
তুমুলের কথায় নদী আমতা আমতা করে বলল
” কেউ না তো। কেউ না, কেউ না”
” ম্যাডাম, শালিকা কে বলে দিন। ওসব পিরিতের কথা আপনার মুখ দিয়ে বেরোবে না”
দীঘি নদীর মাথায় হাত দিয়ে গাট্টা মেরে বেড়িয়ে গেলো। নদী মিনমিন করে বলল
” সরি, কাল থেকে সব কাজ ফেলে আগে আপনাকে কল করবো প্রমিস”
তুমুল কন্ঠ নরম করে বলল
“খেয়েছো?”
“হুম”
“নদী আই লাভ ইউ”
“হ্যাঁ?”
“এই তুমি কি সারাজীবন এমন আন রোমান্টিক ই থেকে যাবে?”
কল কেটে দিলো তুমুল। নদী হা করে বসে রইল। দিঘী আচার খেতে খেতে নদীর রুমে এসেছে।
“মুখ চাপিয়ে বস, মাছি ঢুকে যাবে।”
দিঘী নদীর গা ঘেসে বসলো। আচার খেতে খেতে বলল
“তোর মেরুন কালার হিজাবটা যদি আমাকে দিস তাহলে আমি তোকে ৫টা আইডিয়া বলে দিতে পারি। ভাইয়ার রাগ ভাঙ্গানো।”
নদীর কটমট চোখে তাকায় দিঘির দিকে। উঠে গিয়ে আলমারি থেকে হিজাবটা বের করে এনে দীঘি কে দিলো। দীঘি তো মহা খুশি। হিজাবটা পাশে রেখে বলল
” শোন তুই তো আন রোমান্টিক সারা জীবন এমন আনরোমান্টিক থাকবি। তোর সিঙ্গেলই মারার কথা ছিল, নেহাৎ তুমুল ভাইয়া ভালো মানুষ তোর মতো বলদ কে ভালোবেসেছে।”
নদী চোখ গরম করে বলল
“দে আমার হিজাব আমাকে ফেরত দিয়ে দে। তোকে এসব বলার জন্য হিজাব দিয়েছি আমি?”
দীঘি আঙুল চাটতে চাটতে বলল
” শোন, নম্বর ওয়ান। ভাইয়া যখন খুব বেশি রেগে থাকবে, তখন একবার তুমি করে বলবি। আর যদি লজ্জা করে তবুও বলবি, পরে বলবি যে ভুলে বলে ফেলেছিস”
নদী গোল গোল চোখ করে তাকিয়ে আছে
” এতে কি হবে? “
” প্রথমত ভাইয়া খুশি হবে। তারপর তোকে সব সময় তুমি করে বলার জন্য বলবে। এতে আগের রাগারাগির ঘটনাটা চাপা পড়ে যাবে।”
নদীর মুখ আপনা আপনি হাঁ হয়ে গেল।
“এই এত কিছু তুই শিখলি কি করে?”
দীঘি চোখ টিপলো
” নম্বর ২। যদি রাগারাগির মাত্রা বেশি বেড়ে যায়। তুই কল দিলে রিসিভ না করে। তাহলে তোর একটা ছবি পাঠিয়ে দিবি।”
” নম্বর ৩। যদি কল করতে মনে না থাকে, বা ধর সারাদিন সময়ের ব্যস্ততায় কল করতে পারিস নি। তখন তো ভাইয়া হেব্বি রেগে যাবে। তখন কি বলবি বলতো?”
নদী বোকার মত বলল
“কি বলবো? বলবো কল দিতে পারিনি তো কি, সারাদিন মিস করেছি অনেক”
দীঘি ব্যঙ্গ করে বলল
” আজ্ঞে না। তুই উল্টো ওকে বলবি। যে কল করিনি সারাদিন অনেক মিস করেছেন তাই না? আচ্ছা কতটা মিস করেছেন বলেন তো দেখি? তখন ও বকাবকি বাদ দিয়ে তোকে ভালোবাসার গল্প শোনাবি”
“নম্বর ৫। এটা খুবই কড়া ডোজ। ধর একদিন খুব বোকাচোদা কাজ করে ফেলেছিস। ভাইয়া তোকে হেব্বি কেলাতে চাই। যেই তোর উপর তেরি আসবে। সোজা গিয়ে জাপটে জড়িয়ে ধরবি”
নদীর সন্ধিহান চোখের দিঘির দিকে তাকিয়ে আছে
“খুব পেকেছিস তাই না?”
দীঘি উঠে যেতে যেতে বলল।
” শোন এবার তোকে একটা ফ্রিতে টিপস দেই। যদি তুই দেখিস কোন মেয়ে ভাইয়ের গা ঘেষছে। আই মিন জেবাপু সাইফ ভাইয়ের সাথে যেটা করছে। অমন দেখলে অদিতি ভাবীর মতো ভোদাই সেজে থাকিস না। যে জিদ করে নিজেই দূরে থাকবো। সোজা গিয়ে মেয়েটাকে হেব্বি কেলাবি। আর সাথে ভাইয়া কেও কয়েক ঘা লাগিয়ে দিবি।”
দীঘি গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে রুম থেকে চলে গেল। নদীর চাইতে ছোট হয়েও ওর মাথায় কত বুদ্ধি ধরে। তাহলে নদীর কেন ধরে না? নদী চিন্তা করতে করতে শুয়ে পরলো।”
তুযা বেলা ৩ টা অব্দি ঘুমিয়েছে আজ। জেগে উঠে ফ্রেশ হয়ে সিড়ি দিয়ে নিচে নামছে। এখনো ঢুলছে, ঘুমের ভাব কাটেনি সিঁড়ির নিচে আকবর দাঁড়ানো। ঢলতে ঢুলতে গিয়ে ধপ করে আকবর কে জড়িয়ে ধরল। আকবর হরমুড়িয়ে উঠল
“এই এই কি করেন, কি করেন, ছোট সাহেব কি করেন”
মেহেরজান বেগম তুযা কে আসতে দেখে নিজের বানানো পানির খিলিটা মুখে দিল। কবিতা মেহের জানের পাশে চুপ করে বসে আছে। তুযা মেহজানের পাশে বসে হলে পরলো মেহেরজানের উপর।
” দাদি, শুনলাম তুমি নাকি জোয়ান কাল খুব নাচতে”
” বাজে কথা কবি না কইয়া দিলাম। আমি কি নর্তকী ঘরের মাইরা রে? তুই জানস আমি কত বড় ঘরের মাইয়া?”
ওয়াহাব চৌধুরী টিভি চালু করেছেন। সাউন্ড অনেক বাড়ানো। তার মধ্যে বাংলা সিনেমার একটা গান চলতে লাগলো। তুযা মেহের জানের সামনে গিয়ে নাচতে শুরু করলো গানের শব্দে। মেহেরজান বিরক্ত হয়ে বলল
” ওমন বানর নাচ বন্ধ কর। ভালো দেখায় না।”
কবিতা খিল খিল করে হাসছে। তুযা হাত ধরে টানতেই কবিতাও নাচা শুরু করলো তুযার সাথে। মেহেরজান বিরক্ত হয়ে উঠে যেতে নিলে তুযা মেহের জানের হাত ধরে ঘোরাতে শুরু করলো। মেহেরজান সমানে গালাগাল দিচ্ছে।
” ওরে হা’রামজাদা ছাড় আমারে। এই বয়সে কোমড় ভাঙলে আর হার জোড়া লাগবো না।”
আকবর ও এসে নাচতে শুরু করলো। মেহেরজান এবার রাগ করতে গিয়েও হেসে ফেললো। কিন্তু এর মধ্যে গান বন্ধ হয়ে গেলো। সাথে সবার নাচা ও বন্ধ হয়ে গেলো।
তুযা নাচ থামিয়ে গান গাইতে গাইতে বাইরে চলে গেল
” বাড়ির পাশে মধুমতি, প্রবাল হাওয়া বয় রে।
বন্ধু মনে রং লাগাইয়া প্রাণে দিল জ্বালারে।
অদিতি সাইফ এর সাথে কথা বলে না। সাইফ ডেকে দু একটা কথা জিজ্ঞেস করলে বলে। না করলে বলে না। দু-একটা যা বলে তো কোনো রকম। অদিতির এমন গম্ভীরতা ভালো লাগে না সাইফের। ভালোবাসার মানুষের মন খারাপ করে থাকলে বুঝি কারো ভালো লাগে?
রোজ সন্ধ্যায় সাইফের কফি খাওয়ার অভ্যাস। অফিস থেকে ফিরে হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে কফি খায়। আজ অফিস থেকে ফিরে ফ্রেস হয়ে নিল। আজও অদিতি ঘরে আসেনি। সাইফ কাঠের উপর বসতে জেবা এলো কফি নিয়ে। সাইফের সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বলল
” ইউর কফি “
সাইফ জেবার দিকে একবারও তাকালো না। জেবা পাশে বসে বলল
” নাও না সাইফ। অনেক ভালবেসে বানিয়েছি।”
অদিতি তখনই কফের কাপ নিয়ে ঢুকলো ঘরে। হেসে বলল
” সরি আপু। উনি শুধু আমার হাতের কফি পছন্দ করেন।”
জেবার রাগ হলো।এই মালটার এখনই আসতে হলো। রেগে বলল
” তাই? তা তুমি যখন ছিলে না তখন ওকে কে কফি করে খাওয়াতো?”
সাইফ বলল
” তখন মা বানিয়ে খাওয়াতো। এখন বউ বানিয়ে নিয়ে খাওয়ায়। এর বাইরে কারো হাতের কফি আমি খাই না। তুমি যেতে পারো এখন। আমাদের একটু একা ছেড়ে দাও।”
অদিতি কফির কাপটা সাইফের হাতে দিয়ে বলল
” তুমিও জেবা আপু। কেমন বেয়াক্কেলের মতো রুমে চলে এসেছো।”
জেবার রাগে উঠে দাঁড়িয়ে বলল
” হাউ ডেয়ার ইউ। তোমার সাহস হয় কি করে? আমাকে বে আক্কেলে বলছো? “
অদিতি সাইফের পাশে ঘেঁষে বসে সাইফের কাঁধে হাত দিয়ে বলল।
” বেয়াক্কেলে নয়তো কি? স্বামী সারাদিন পর বাড়িতে ফিরেছে এখন হাজব্যান্ড ওয়াইফ দুজন একটু বসে গল্প করবে। আলাদা সময় কাটাবে। তা না তুমি ঢুকে বসে আছো”
জেবা সাইফের দিকে তাকিয়ে ন্যাকামো করে বলল
” বেবি দেখছো? তোমার ওয়াইফ আমাকে কিভাবে অপমান করছে?”
অদিতি ব্যঙ্গাত্মক স্বরে বলল
“বেইবিইইই? শুনুন আমার স্বামী কোন বাচ্চা নয়, যে তাকে বেবি বলে ডাকবেন। আর যদি তা বলতে হয় সেটা শুধু আমি বলতে পারি । এখন আপনি আসতে পারেন।”
অদিতি সাইফ কে বলল
” জান তুমি কফি খাও। আমি তোমার ঘাড় মাথা ম্যাসাজ করে দিচ্ছি কেমন?”
সাইফ অদিতির কান্ড দেখে মিটিমিটি হাসছে।জেবার শয়তানির জবাব দিতে এখন সাইফকে তুমি তুমি করে ডাকছে। জেবা কফির কাপ হাতে রাগে গটগট করতে করতে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
সাইফ অদিতির বুকে মাথা হেলিয়ে দিল।
” আমার বউটার এত বুদ্ধি কবে হলো?”
সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে জেবা কফির কাপটা টেবিলের উপর ঠাস করে রাখলো। দিঘি বইয়ের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে বলল
” তুমি যখন সাইফ ভাইয়ার ঘরে কফি নিয়ে গেলে না জেবাপু? আমি তোমাকে একবার বলতে চেয়েছিলাম, যে সাইফ ভাইয়া শুধু অদিতি ভাবীর হাতের কফি খাবে। আবার বললাম না, তুমি এত ভালবেসে বানিয়েছো। খেলো না তাই না। আচ্ছা আমাকে দাও আমি খেয়ে নিচ্ছি।”
জেবা এবার ছাড়বে না দীঘিকে। তেরে দিকে দিকে গেলে দিকেও উঠে এসে এগিয়ে দাঁড়ালো। জেবা দাঁতে দাঁত চেপে বলল
” তোকে একদম…… “
দীঘিও শয়তানি করে বলল
” কি করবে? মারবে? মারো না মারো।তাহলে আজই তোমার এই বাড়ি থেকে যাওয়ার টিকেট কনফার্ম হয়ে যাবে।”
জেবা চিন্তা করলো দীঘি খারাপ বলেনি। বাঁদরের মতো চুল ঝাড়ি দিয়ে চলে গেল নিজের রুমে। দীঘি ওর দিকে তাকিয়ে ভেংচি কেটে বলল
” হনুমানমুখী কোথাকার”
আসলে তখন দীঘিই অদিতিকে পাঠিয়েছিল কফি দিয়ে ঠেলেঠুলে। জেবা সাইফের ঘরে কফি নিয়ে যাওয়ায় অদিতি রাগ করে যেতে চাইছিল না। পরে দীঘি এসে বুঝিয়েছে ওর সাথে রাগ করে তুমি নিজের অধিকার কেন ছাড়বে? তুমি তোমার জায়গায় বসে ওকে লা’থি মেরে ফেলে দিবে।
নদী রুম থেকে দৌড়ে বেড়িয়ে হাত ইশারা করে ডাকলো দীঘি কে। দীঘি বই বন্ধ করে এগিয়ে গেল। নদী দিঘির কানে কানে ফিসফিস করে বলল
” তুমুল এসেছে বাইরে, দেখা করতে চাচ্ছে। কি করি বলতো?”
দীঘি সতর্ক ভঙ্গিতে বলল তার
” দাড়া আমি দেখছি”
দীঘি চারিদিকে চোখ বুলিয়ে গেট ফাকা করে নদীকে ইশারা করল। নদী গেট দিয়ে আলগোছে বেরিয়ে যেতেই আবার গেট বন্ধ করে সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বই পড়ার নাটক করতে লাগলো। সদর দরজার সামনে এদিক থেকে ওদিকে হেঁটে হেঁটে বই পড়ছে।
তুমুল বাইরের গেট এর কাছে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নদী মাথায় ওড়না দিয়ে চুপিচুপি চলে গেল তুমুল এর কাছে। কাছাকাছি আসতেই তুমুল হাত ধরে এক হেচকা টানে নদীকে নিজের বুকে নিয়ে এলো। নদী চারদিকে চোখ বুলিয়ে সতর্ক ভঙ্গিতে বলল
” কী করছেন? আর এই রাতের বেলায় কেন এসেছেন?”
তুমুল হেলমেট খুলতে চাইলে নদী খুলতে দেয় না। তুমুল নদীর কোমড় জড়িয়ে ধরে কাছে টেনে এনে বলে
” আমার যদি রাত বিরেতে বউকে দেখতে ইচ্ছে করে, তাহলে আমি কি করবো?”
নদী তুমুলের বুকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে বলে
” হয়ে গেছে দেখা? এখন যাননন”
তুমুল রাশভাড়ি গলায় বলল
” হ্যা জান?”
নদী নিজের কোমর থেকে তুমুলের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল
” জান বলিনি। যান বলেছি। কেউ দেখে ফেলবে”
” একটা চুমু দাও চলে যাব “
নদী রাগ করতে গিয়েও আবার মাথায় অন্য বুদ্ধি আসলো। চট করে তুমুলের হেলমেটের ওপর একটা চুমু খেলো। চুমু দিয়ে দৌড় দিতে গেলেই তুমুল টেনে ধরল নদীর ওড়নার অচল। নদী থামলো। তুমুল নদীর ওনার আঁচল হাতে পেঁচাতে পেঁচাতে নিজের দিকে এগিয়ে আনতে আনতে বলবো
” দিস ইস চিটিং সুইটহার্ট। এভাবে চুমু তো আমি জীবনেও মানবো না।। আমি এভাবে চুমু দিতে বলিনি তো আমি আমার গালে অথবা ঠোটে চুমু দিতে বলেছি। এই যে আমি হেলমেট খুলছি, এখন চুমু খাবে তারপর যাবে। তাছাড়া কিন্তু যেতে দেব না।”
নদী ওড়নার অপরপ্রান্ত ধরে রেখে বলল
” নানা একদমই না। আপনি চিট করছেন। কিভাবে চুমু খেতে হবে সেটা কিন্তু আপনি একবার বলেন নি। আপনি শুধু বলেছেন চুমু খেতে হবে ব্যাস। আমি খেয়েছি। এখন যেতে দিন।”
তুমুল ওড়নাটা নিজের বাইকের হ্যান্ডেলের সাথে গিট মারলো। তারপর হেলমেট খুলে বাইকের উপর রেখে ওড়না ধরে এক টানে নদীকে আবার নিজের কাছে নিয়ে আসলো। কোমর জড়িয়ে ধরে একদম নিজের সাথে মিশিয়ে নিল।
নদীর এবার সত্যিই খুব ভয় করছে। কেউ দেখে ফেললে সর্বনাশ হয়ে যাবে। কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলল
“ছেড়ে দিন না প্লিজ। প্লিইইইইজ”
তুমুল নদীর কোমর জড়িয়ে রেখে নাকের সাথে নাক স্পর্শ করল। জেবা রাগ করতে করতে ঘরে যাওয়ার পর ওর বাবা কল করেছিল। কথা বলতে বলতে ব্যালকনিতে আসে।
নিচে নদীর সাথে কোন পুরুষের অবয়ব দেখতে পায় কিন্তু গেটের সামনের আলো অথবা না থাকায় ক্লিয়ার কিছু দেখা যাচ্ছে না। পুরুষটাকে চিনতে না পারলেও নদীকে জেবা ঠিকই চিনেছে
” বাবা রাখো তো। তোমায় একটু পরে কল করছি”
জেবা ক্যামেরা অন করে ফটাফট কয়েকটা ছবি তুলে নিলো। কিন্তু কোন এঙ্গেল থেকে নদীকে দেখা যাচ্ছে না কারণ পুরুষটা জেবার দিকে পিঠ করে আছে। ওরা দুজন খুব জড়াজড়ি করছে। জেবা কোনভাবেই নদীর ছবিটা নিতে পারছে না।
নদী এতক্ষন দেরি করায় দীঘি সামনের দিকে এগিয়ে গেল ওকে ডাকতে।
” এই হাদা দুটো বজ্জাতের হাড়ি। আমাকে যেখানে দাঁড় করিয়ে রেখে গেল একটুও কি চিন্তা বোধ আছে বাড়ির কেউ জেনে গেলে কি হবে।”
দিঘী এগিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ উপরে ব্যালকনির দিকে তাকালো দেখল মোবাইলের ফ্ল্যাশ চলছে। ওখানে তো গেস্ট রুম। তার মানে জেবা ই হবে। দীঘি মাথায় হাত দিয়ে বলল
” কেলো করেছে রে। এবার কি হবে। আপু আর ভাইয়ার ছবি তো ওই হনুমান মুখী তুলে নিলো এবার যদি বাবা কে দেখিয়ে দেয়”
দীঘি এক ছুটে গিয়ে দাঁড়ালো তুমুল আর নদীর পাশে। দীঘি কে দেখা মাত্রই তুমুল নদীকে ছেড়ে দিল। দীঘি কপাট রাখ দেখিয়ে বলল
” হয়ে গেছে পিরিত করা? হলে এবার চলো নয়তো সর্বনাশ হয়ে যাবে ওদিকে ওই হনুমান মুখি টা ছবি তুলে নিয়েছে তোমাদের।”
তুমুল ভ্রু কুচকে বলল
“কে ছবি তুলেছে?”
দীঘি বলতে গেলে নদী দীঘির মুখ চেপে ধরল।
” হয়েছে আর বলতে হবে না তাড়াতাড়ি চল”
নদী আর দীঘি দৌড়ে চলে গেল কিন্তু দীঘির খানিক পথ গিয়ে আবার তুমুলের কাছে ফিরে আসলো। কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে বলল
” এরকম রাত বিরেতে পিরিত করতে আসলে আমি কিন্তু আর মাগনা মাগনা পাহারা দিতে পারব না।”
তুমুল হাসতে হাসতে বলল
” পরের বার আসলে তোমার জন্য এক বোতল সান্ডার তেল নিয়ে আসব শালিকা। এখন যাও “
দীঘি মুখ বেঁকিয়ে বলল
” মরণ “
সদর দরজা পার হতেই সায়রার সাথে দেখা হল। সায়রা কপাল কুঁচকে বলল
” এই রাতের বেলা তুই বাইরে থেকে আসলি? কোথায় গেছিলি?”
অমনি পেছন থেকে দীঘি এসে হাজির
” মা বাইরে একটা বিড়াল ছাড়া মেও মেও করছিল। তাই আমি আপুকে জোর করে নিয়ে গেছিলাম একটু দেখতে “
সায়রা ধমক দিয়ে বলল
” ওসব বিড়াল টিড়াল ঢুকাবি না বলে দিলাম”
সায়রা চলে যেতেই দীঘি নদীকে জড়িয়ে ধরে বলল
” এ বিড়াল যে সে বিড়াল নয় মাআআআআ”
নদী বুকে হাত দিয়ে বলল
” একটুর জন্য বেঁচে গেছি বল?”
” আমি না থাকলে তো বাঁচতি না”
দীঘির এখন একমাত্র চিন্তা কিভাবে যেবার কাছ থেকে ওই ছবি ডিলিট করা যায়। দিঘি জেবার ঘরের আশেপাশে ঘুর ঘুর করছে কখন সুযোগ পাবে মোবাইল টা নেওয়ার।
তুযা সারাদিন আড্ডা দিয়েছে হাওরের পাড়ে। ডাঙ্গায়ও গেছিলো। আক্কাস স্যার বাড়িটা পরিত্যক্ত। কেউ থাকে না ওই বাড়িতে। তুযা সেখানে যায়। উঠোনের তেতুল গাছটার নিচে দাড়িয়ে থাকে। কখনো বা টিনের জং ধরা চাল টাতে ঢিল ছুড়ে।
তবে এখন আর ঢিল ছুড়লে জোৎস্না বেরোয় না। একাই একাই কিছুক্ষণ সময় কাটায়। ফিরে আসে আবার। বিকেল থেকে রাত হয়ে গেছে। ডাঙ্গার পাড়ে তুযা মানিক সহ কয়েকজন বসে আড্ডা দিচ্ছে। মানিক বলল
” ভাই, অহন ঘরে ফিরার কাম আপনের। কবিতা আবার আমনেরে ছাড়া খাইবার চায় না”
তুযা সিগারেট টার শেষ টান দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলো। কথা মন্দ বলেনি মানিক। উঠে দাড়ালো তুযা। বাড়ির দিকে রওনা হলো। মানিক, শফিক সাথে আসতেছে বলে বলল
” তোরা কই যাস আবার?”
মানিক দাত কেলিয়ে বলল
” কবিতারে একটু দেইখা আইতাম”
তুযা হাসলো
” চল তাইলে”
মিনিট বিশেক পথ হেটে ওরা বাড়িতে আসলো। কিন্তু গেইট থেকে শুরু করে ভিতর পর্যন্ত খুব ভিড়। তুযা লুঙ্গির জমিন ধরে হাটছে। মানিক এগিয়ে এসে বলল
” ভাই ঘটনা কি? আমনে গো বাড়িতে এত লোকজন ক্যা?”
তুযা পারিপার্শ্বিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছে
” আমিও তো বুঝতেছি না। চল দেখি ভিতরে যাই?”
চলবে?
🫶
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৭
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২০
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল গল্পের লিংক