মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_৪৪
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
(১৮+এলার্ট)
খাটের এক কোণে গাল ফুলিয়ে বসে আছে কুহেলি।চোখ দুটোতে স্পষ্ট অভিমান। কারণ একটাই—আবরার তাকে শায়লার কাছে যেতে দিচ্ছে না। বারবার একই কথা বলছে,
ওর একা থাকা এখন খুব জরুরি।
কুহেলি প্রথমে বুঝিয়েছে, তারপর রাগ করেছে, শেষে সিদ্ধান্ত নিয়েছে,
আজ আর কথা বলবেই না।
এই সিদ্ধান্ত নিয়েই সে গম্ভীর মুখে বসে রইল।
অন্যদিকে,আবরার সোফায় বসে ল্যাপটপ খুলে কী যেন জরুরি কাজ করছিল। কীবোর্ডের টুংটাং শব্দে ঘরটা ভরে ছিল, অথচ কুহেলির মনটা তখনো ছাদেই—শায়লার কাছে।
কিছুক্ষণ পর আবরার কাজ শেষ করে ল্যাপটপ বন্ধ করল। চোখের কোণ দিয়ে একবার কুহেলির দিকে তাকিয়ে উঠে এসে তার পাশেই বসতে গেল।
ঠিক তখনই কুহেলি ছিঁটকে একটু দূরে সরে গেল।
এই দৃশ্যটা দেখে আবরারের ঠোঁটের কোণে দুষ্ট হাসি ফুটে উঠল। আর কোনো কথা না বলে হঠাৎ করেই কুহেলির হাত ধরে হ্যাঁচকা টানে নিজের কোলে বসিয়ে নিল সে।
এই যে! হালকা হাসি নিয়ে বলল,আমার ছোট্ট হরিণীর কি হয়েছে? কুহেলির গালে আলতো করে চিমটি কাটতে কাটতে যোগ করল,এভাবে রেগে আছে কেন আমার ওপর?
কুহেলি কোনো উত্তর দিল না। গাল তখনও ফুলে আছে। ঠোঁট দুটো শক্ত করে চেপে ধরে সে অন্যদিকে তাকিয়ে রইল। অভিমানটা যেন আরও পাকাপোক্ত।
আবরার বুঝে গেল—এই রাগ ভাঙাতে একটু আদর, একটু দুষ্টুমি দরকার।সে কুহেলিকে নিজের বুকে একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।এত রাগ করলে কিন্তু হরিণী আরও সুন্দর লাগে।নিচু স্বরে বলল।
তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,আবরার শান্ত গলায় আবার বলল,
আচ্ছা, বললাম তো ওর এখন একা থাকা দরকার। পরে কথা বলো। কালকে সকালে।
কুহেলি সঙ্গে সঙ্গে মুখ ঘুরিয়ে নিল। গাল আরও ফুলে উঠল।কটাক্ষ মেশানো স্বরে বলল,
তাই? একটুও যেতে দেবেন না? তারপর এক নিশ্বাসে যোগ করল,আপনি একজন বাজে লোক!
আবরার হেসে ফেলল। সেই হাসিতে রাগ নয়, বরং আদরের ছোঁয়া।এভাবে বলো না বউ, মৃদু স্বরে বলল,কলিজায় লাগে। চোখ বড় করে তাকাল।
তো আমি কি করবো? একটু রেগে গিয়েই বলল,
আমার যা বলার, আমি সোজাসুজি বলি। এতে কার কেমন লাগলো—তাতে আমার কি?
এই কথাটা শেষ হতে না হতেই আবরার ধীরে ধীরে কুহেলির খুব কাছে ঝুঁকে এলো। কুহেলি কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ করে তার গলার কাছে আলতো কিন্তু দুষ্টু একটা কামড় বসিয়ে দিল আবরার। “এই” কুহেলি ছটফট করে উঠল। দুই হাতে আবরারকে ঠেলে দিতে দিতে রেগে গিয়ে বলল,এই সব অসভ্য লোক! ছাড়ুন আমাকে! ব্যাথ পাচ্ছি ইস!ছাড়ুন!!
আবরার কুহেলি কে ছাড়লো না বরং নিজের মতো করে কামড়ে তারপর ছাড়লো! কুহেলি ছাড় পায় তখনই। তার ঘাড়ের কাছে লালচে দাগ পড়ে গেছে, জ্বালাটা স্পষ্ট। আবরার অজান্তেই সেখানে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নরম অথচ দৃঢ় স্বরে সে বলে,
আমার সাথে ভালো করে কথা না বললে এমনটাই করবো!দেখি তুমি কয়টা কামড় খেতে পারো!
কুহেলির চোখে জল চিকচিক করে ওঠে। ছলছল দৃষ্টিতে সে আবরারের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বলে,
আপনি একটা নিষ্ঠুর পুরুষ!
আবরার এক মুহূর্ত চুপ করে থাকে।তারপর গভীর দৃষ্টিতে কুহেলির চোখের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি টেনে বলে,
আমি জানি, বউ।একটু থেমে যোগ করে, নতুন কিছু বলো।
এই কথায় কুহেলির রাগ যেন আরও বেড়ে যায়। সে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে,
মন চাচ্ছে আপনার ওই চুলগুলো টেনে ছিঁড়ে দেই!
আমাকে খালি কষ্টই দেন।তারপর হঠাৎই নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চায় সে।ছাড়ুন আমাকে, আমি নামবো!
কুহেলির কণ্ঠে তখন শুধু রাগ নয় ছিল অভিমান, অসহায়তা আর ভালোবাসার চাপা আর্তি।
আবরার কুহেলি কে ছাড়লো বরং আরো শক্ত করে ধরে বললো, কোথায় যাবে এতো রাতে শুনি?
কুহেলি বলে, জাহান্নামের চৌরাস্তায়!ছাড়ুন।
আবরার বলে, আচ্ছা আমি না হয় খুন খারাপ কাজ করি তুমি তো পবিত্র মানুষ তাহলে তুমি কেনো জাহান্নামে যাবে?
আবরারের কথাই কুহেলি আরো রেগে যেয়ে বলে, সাউয়া খেতে যাবো!
আবরার বাঁকা হেসে বলে, বউ তুমি চাইলে কিন্তু এখানে বসে কলা খেতে পারো!
রাগে কুহেলির মুখটা লাল হয়ে আছে। দাঁত কিড়মিড় করে সে বলল,আপনার সাথে কথা বলাই বেকার। একদম অসভ্য লোক! আর কথাই বলবো না আপনার সাথে!
আবরার চোখ টিপে হেসে ফেলল।সে নির্লজ্জ ভঙ্গিতে বলল, আচ্ছা কথা বলতে না!এমনিতেও আমার কথার চেয়ে কাজই বেশি পছন্দ।একটু ঝুঁকে এসে যোগ করল,চলো, তাহলে কাজ শুরু করি!
কুহেলি সঙ্গে সঙ্গে চোখ বড় করে বলল,
না! আমার মুড নেই।
আবরার গম্ভীর মুখে, কিন্তু চোখে দুষ্টুমি নিয়ে বলল,
আমাকে পাঁচ মিনিট দাও, মাই ফা*কিং স্কোয়াব!
তোমার মুড ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্ব পুরোপুরি আমার। তখন শুধু বলবে প্লিজ আবরার আমাকে আপনার করে নেন!
কুহেলি হাত গুটিয়ে রাগী স্বরে বলল,
মিস্টার ক্রিমিনাল হাজব্যান্ড,আমি কিন্তু এখনো রেগে আছি!
কুহেলির এই কথার ভঙ্গি শুনে আবরার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফুটে উঠল। তারপর কুহেলির মতো ভঙ্গি করে বললো,
মাই ফা*কিং স্কোয়াব আমি কিন্তু তোমাকে আদর করে তোমার রাগ ভাঙিয়ে দিবো!
আবরার ওর মতো করে কথা বলছে এটা দেখে কুহেলি খিলখিল করে হেসে দিলো!
আবরার বলে, তাহলে কি ম্যাডামের রাগ কমছে?
কুহেলি বলে, আপনি কি ঐরকম মানুষ যে আপানার উপরে সারাদিন রাগ করে থাকবো?
আবরার বললো, আচ্ছা তাহলে এখন তো আদর করতেই পারি তাই না?
কুহেলি বললো, না আজকে আগে বলতে হবে যে আপনি আমাকে ভালোবাসেন তাহলে অবশ্যই আমি আপনাকে অনুমতি দিবো নয়তো আপনাকে আজকে খাটের তলার রেখে দিবো!
আবরার বাকা হেঁসে কুহেলির কোমড় খানা দুই হাত দিয়ে আরো শক্ত করে ধরে ফিসফিস করে হাস্কি বললো, ব্যাপার না বউ আমি খাটের নিচেই করতে পারবো কজ যেখানেই করি নিচে তো তুমি থাকবে!আর আমি সব সময় উপরেই থাকবো!
ঠান্ডা তোমার লাগবে আমার না!
আবরারের কথাই কুহেলির শরীরে লোম দাঁড়ি যায়!তবুও নিজেকে যথা সম্ভব সংযত করে দৃঢ় কন্ঠে বলে,
খান সাহেব!আমি কিন্তু আপনার সাথে মজা করছি না, আমি সত্যি বলছি আপনি আমাকে এখনো ভালোবাসি শব্দ টা বলেন নি এতে আমার মন খারাপ হয়। প্রত্যেক টা মেয়েই চাই তার হাসব্যান্ড তাকে ভালোবাসি শব্দ টা বলুন এই জিনিস টা হৃদয়ের আনন্দের শ্রুত বয়ে যায়!
আবরারের খারাপ লাগলো এই শব্দ ও ভিতরে থেকে বলতে পারে না! কুহেলি কে আরো কাছে টেনে কপালে কপাল ঠেকিয়ে হাস্কি কন্ঠে ফিসফিস করে ডাক দিলো,
“বউ”
কুহেলি হালকা কেঁপে উঠলো, আবরারের এরকম ডাকে। তারপর কাঁপা কন্ঠে বললো,
“হু”
আবরার দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিচু কন্ঠে বললো, তুমি তো জানো বলো তোমার হাসব্যান্ড আর পাঁচ মানুষের মতো বেড়ে উঠে নি। তোমার হাসব্যান্ড আর অন্য মানুষের বেড়ে উঠার মধ্যে তফাৎ আছে আকাশ পাতাল! আমি এই শব্দ টা মন থেকে বলতে পারি না কেমন জানি লাগে মন থেকে আসে না। তুমি আমাকে আর কিছু দিন সময় দাও আমি চেষ্টা করবো বলার। আর যদি তুমি চাও এই কয় দিন আমি তোমার কাছে না আসি তাহলে আমি আসবো না। কারণ আমি বুঝে গেছি জোর করে আর যাই হোক কারো মন পাওয়া যায় না। আমি এখন থেকে তোমার মন মতো চলার চেষ্টা করবো।
বলেই আবরার কুহেলি কে ওর কোল থেকে বেডে বসিয়ে রেখে উঠে দরজার দিকে পা বাড়িয়!কুহেলি উঠে দৌড়ে পিছনে থেকে আবরার কে দুই হাত থেকে বলে,
আমি তো ঐভাবে বলিনি! আমি দুঃখ আসলে আপনার সাথে এতো কিছু হয়েছে অথচ আমি বোকার মতো এসব বলছি! প্লিজ আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন আমি আর এরকম করে কথা বলবো না! তবুও আপনি আমার থেকে দূরে যাবেন না।বলেই কুহেলি কাঁদতে থাকে।
আবরার আঁখি পল্লব বন্ধ করে নেয়। কুহেলির কথাই ও কষ্ট পেয়েছে কিন্তু কুহেলির বা কি দোষ প্রত্যেক টা মেয়েই তো তার হাসব্যান্ডের থেকে এতোটুকু এক্সপ্রেশন থাকতেই পারে। মেয়ের চাই শুধু তার হাসব্যান্ড তাকে ভালোবাসুন আর সেটা মুখে বলুক।
আবরার কুহেলির হাত সরিয়ে সামনে ঘুরে তারপর কুহেলির চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে, আরে পাগলী কাঁদছো কেনো?
কুহেলি বলে, আপনি আমার রাগ করেছেন তাই না?
আবরার বলে না আমি কেনো তোমার উপরে রাগ করবো বলো? তুমি রাগ করার জিনিস তুমি আদর করার জিনিস যাকে আদর করে আগলে রাখতে হয় নিজের বুকের পাঁজরের ভিতরে।
কুহেলি কাঁপা কন্ঠে বললো, তাহলে আমাকে আদর করুন!
আবরার বললো, না পাখি এখন না। তুমি ঘুমাও আমার কাজ আছে।
কুহেলি জিদ ধরে বললো, না এখনি আমার আদর চাই। তারপর আবরার কিছু বুঝে উঠার আগে কুহেলি ওর পায়ের পাতার উপরে দাঁড়িয়ে নিজের পায়ের পাতায় ভর দিয়ে আবরারের শক্তপোক্ত অধরে নিজের কোমর পাতলা অধর খানা মিলিয়ে দেয়। আবরার প্রথমে বিস্মিত হয় পরক্ষনেই আবার বাকাঁ হেসে কুহেলির সাথে তাল মিলায়।
প্রথমে কোমল ভাবে চুম্বন করতে থাকে। কিন্তু আস্তে আস্তে আবরার উগ্ৰ হয়ে উঠে কুহেলি কে এক ঝটকায় কোলে তুলে নেয়। কুহেলি বরাবরের মতোই আবরারের কোমড়ের চারপাশে নিজের দুই পা দিয়ে আকড়ে ধরে। আবরার কুহেলি কে ঠান্ডা দেওয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে এক হাতে ওর চুলে ডুবিয়ে দেয় অপর হাত ওর জামার নিচে ঢুকিয়ে দেয়। কুহেলি নিজের সংযত করতে আবরারের ঘাড়ে কামচে দেয়। তাতে নখ গেঁথে যায় রক্ত বের হয় সেই দিকে আবরারের খেয়াল নেই। সে পাগলের মতো চুমু খাচ্ছে যেনো ছেড়ে দিলেই কোথাও চলে যাবে।
আজকে আবরার ঠোঁটে পাগলের মতো চুমু খাওয়া আর হাতের অস্বাভাবিক স্পর্শে কুহেলির মনে আনন্দ আর চঞ্চলতা মিশ্রিত এক অনুভূতি শিহরণ বয়ে যাচ্ছে।শুধু অনুভব করছে আবরারের উষ্ণ নিঃশ্বাস আর উষ্ণ ঠোঁটের আলিঙ্গন।এভাবে প্রায় আধা ঘন্টা চলে। কুহেলি ঠোঁট আর ঠোঁট নেই পুরো ঠোঁট ফোলে কলা গাছ হয়ে গেছে। কুহেলি এবার আবরারের থেকে নিজেকে সরাতে চাই কিন্তু আবরার ছাড়ে না। এভাবে আরো কিছু ক্ষণ চলার পর যখন আবরার অনুভব করলো কুহেলি নিশ্বাস নিতে পারছে না। তখন ছেড়ে দিলো।
ছাড়া পেয়ে কুহেলি নিচের দিকে তাকিয়ে শব্দ করে নিঃশ্বাস নিতে থাকে। যেনো আবার নতুন জীবন ফিরে পেলো। আবরার দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরে কুহেলি কে দেখতে থাকে। ওর হাত এখনো কুহেলির জামার ভিতরে আঁকাবাঁকা ভাবে চলছে।
কুহেলি কিছু টা স্বাভাবিক হয়ে বললো, আপনি কি মানুষ এভাবে কেউ চুমু খাই? পুরো ঠোঁটের বারো টা বাজিয়ে দিয়েছেন। আর আপনার হাত সরান আমার ব্যাথা লাগছে ইস। বলেই আবরারের হাত ঠেলে সরাতে চাই। কিন্তু এ ইঞ্চি নড়াতে পারে না বরং আবরার আরো গাঢ় ভাবে স্পর্শ করতে থাকে।
কুহেলি বলে প্লিজ সরান ব্যাথা লাগছে তো!
আবরার কুহেলির কানের কাছে মুখ নিয়ে হাস্কি কন্ঠে বলে,
জামাই আদর করলে পৃথিবীর সবাই কষ্ট পাই তবুও এই কষ্টের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। বুঝলে মাই ফা*কিং হোয়াইট রোজ!
বলেই কুহেলি কে কিছু বলার সুজোগ দিয়ে পুনরায় ওর অধরে অধর মিলিয়ে দেয় তারপর চুম্বন করতে করতে কুহেলি কি খাঁটে নিয়ে যেয়ে কুহেলি কে শুয়ে দিয়ে নিজেও কুহেলির উপরে শুয়ে ফিসফিস করে বলে,
তোমার ছায়া পেলেও খুঁজি তোমার অবয়ব,
তৃষ্ণা যেন বাড়ে কেবল, হয় না কখনো নিবারণ!
অতপর দুইজন মিলে ডুব দেয় ভালোবাসার সাগরে….!
চলবে...!!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৫