মাইটক্সিকহাসব্যান্ড
পর্ব_৪৮ (প্রথমাংশ)
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
হসপিটালের কেবিনটা অস্বাভাবিকভাবে নীরব। চারদিকের সাদা রঙ যেন আরও বেশি নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে—যেন কোনো অনুভূতি নেই, কোনো মায়া নেই। মাঝখানে সাদা বিছানায় নিথর হয়ে শুয়ে আছে আবরার। শরীরটা শান্ত, অচল, বুক ওঠানামা করছে যন্ত্রের সাহায্যে। বুকের গুলিগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে, ব্যান্ডেজে ঢাকা—কিন্তু মাথার গুলিটা সেটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডাক্তার খুব সংক্ষিপ্ত, খুব নির্দয় গলায় বলেছে,
হেড ইনজুরি সিরিয়াস। বাহাত্তর ঘণ্টা খুব ক্রিটিক্যাল। এই সময়ের মধ্যে জ্ঞান না ফিরলে সে কোমায় চলে যেতে পারে।
এই কথাটাই যেন কুহেলির মাথার ভেতর বারবার আছড়ে পড়ছে। কুহেলি বিছানার পাশে বসে আছে। চোখ লাল, ফুলে গেছে। কান্না করতে করতে হেঁচকি উঠছে—শ্বাস নিতে পারছে না ঠিকমতো। দুই গালে স্পষ্ট পাঁচটা করে আঙুলের ছাপ!ঠোঁট কেটে রক্ত জমে শুকিয়ে গেছে, তবুও সে খেয়ালই করেনি। তার সমস্ত অস্তিত্ব এখন ওই বিছানায় শুয়ে থাকা নিথর মানুষটাকে ঘিরে।
সে কাঁপা হাতে আবরারের হাতটা ধরে। হাতটা ঠান্ডা, শক্ত।
উঠুন…!
গলা ভেঙে আসে।
একবার চোখ খুলুন প্লিজ
কোনো সাড়া নেই।
মনিটরের শব্দ—বিপ… বিপ…! এই যান্ত্রিক শব্দটাই এখন প্রমাণ দিচ্ছে যে আবরার বেঁচে আছে। শুধু এই শব্দটাই। কুহেলি মাথা নিচু করে আবরারের হাতের ওপর কপাল ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলে,
আপনি তো বলেছিলেন আমাকে একা রেখে যাবেন না..! হেঁচকি তুলে আবার কাঁদতে থাকে।
আমি আপনাকে রাগ দেখিয়েছি, অভিমান করেছি কিন্তু কখনো ভাবিনি এভাবে শাস্তি দিবেন!
কেবিনের জানালার বাইরে রাত। আলো ঝলমল শহর চলছে নিজের নিয়মে—কেউ জানে না, কেউ বোঝে না, এখানে একটা জীবন ঝুলে আছে সুতোয়।
~~
তিন ঘণ্টা আগের কথা….!
কুহেলির কান্নাটা তখন আর কন্ট্রোল ছিল না—ওটা ছিল ভেঙে পড়া একটা প্রাণের আর্তনাদ। ছাদের বাতাস কাঁপিয়ে সেই চিৎকার নীচে পৌঁছাতেই ফেটিক্স প্রথম দৌড়ে আসে। তার পেছনে শায়লা, আর কয়েকজন গার্ড—সবাই এক মুহূর্তে থমকে যায় দৃশ্যটা দেখে। ছাদের মেঝেতে রক্তে ভেজা আবরার। কুহেলি তাকে আঁকড়ে ধরে বসে আছে—চুল এলোমেলো, চোখ বেপরোয়া, মুখে ভয় আর উন্মাদনার মিশ্রণ।
— “এইটা হওয়ার কথা ছিল না… ”
ফেটিক্সের গলাটাও কেঁপে ওঠে। এক মুহূর্ত দেরি না করে গার্ডরা আবরারকে তুলে নেয়। কুহেলি ছাড়তেই চাইছে না। না! ওকে ছুঁবেন না! ও আমার! চেঁচিয়ে ওঠে সে। শায়লা শক্ত করে কুহেলির কাঁধ ধরে বলে,
কুহেলি! ওকে বাঁচাতে চাইলে ছাড়!
এই কথাটাই যেন কুহেলিকে ছুরি দিয়ে কাটার মতো বিঁধে যায়। সে ঢোক গিলে হাত ছাড়ে। দ্রুত আবরারকে গাড়িতে তোলা হয়। কুহেলিও উঠে পড়ে—রক্তে ভেজা হাত, শাড়ির আঁচল লাল হয়ে গেছে, চোখে কোনো দৃষ্টি নেই। গাড়ি ছুটছে। সাইরেনের শব্দ। কুহেলি আবরারের মাথাটা নিজের কোলে তুলে ধরে আছে।
চোখ খুলো! একবার তাকাও!
— “প্লিজ…প্লিজ..”
আবরারের ঠোঁট নড়ে না। শুধু নিঃশ্বাস—ভাঙা, দুর্বল।
হসপিটালে পৌঁছাতেই সবকিছু দৌড়ের মতো। স্ট্রেচার, সাদা আলো, ডাক্তারদের চিৎকার—
অটি রেডি করো! আবরারকে নিয়ে যাওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। ঠিক তখনই কুহেলি ভেঙে পড়ে। সে মেঝেতে বসে পড়ে, দুই হাত দিয়ে নিজেরমাথা চেপে ধরে পাগলের মতো চিৎকার করে বলতে থাকে,
আমি ওনাকে রক্ষা করতে পারলাম না কণ্ঠ ভেঙে যায়, শ্বাস আটকে আসে। আমি ওনার পাশেই ছিলাম, তবুও কিচ্ছু করতে পারলাম না। আমি আসলে স্ত্রী হিসেবে পারফেক্ট না। আমি কিছু পারি না। আমি কোনো কাজের না। এই কথাগুলো বলতেই সে নিজেকেই ঘৃণা করতে থাকে। বুক চাপড়াতে থাকে, যেন এই বুকটাই তার অপরাধের সাক্ষী। কান্না এবার শব্দ ছাড়িয়ে হেঁচকিতে রূপ নেয়।
শায়লা আর সহ্য করতে পারে না।
সে এক ঝটকায় কুহেলিকে শক্ত করে বুকে টেনে নেয়। এমনভাবে জড়িয়ে ধরে, যেন ছেড়ে দিলে কুহেলি ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যাবে। চুপ কর! শায়লার গলাও কাঁপছে, তবু সে শক্ত থাকার চেষ্টা করে।
একদম এসব বলবি না। কুহেলি শায়লার বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে থাকে। শায়লা তার চুলে হাত বুলিয়ে দিতে থাকে।
প্রায় এক ঘন্টা তিরিশ মিনিট মৃত্যুর সাথে লড়াই করার পর অবশেষে অপারেশন থিয়েটারের দরজা খুলে যায়। লাল বাতিটা নিভে যেতেই করিডোরে দাঁড়িয়ে থাকা সবার বুক একসাথে কেঁপে ওঠে। স্ট্রেচারে শুয়ে থাকা আবরারকে ধীরে ধীরে বাইরে আনা হয়—সাদা চাদরে ঢাকা শরীর, মাথায় ব্যান্ডেজ, বুকের ওঠানামা কেবল যন্ত্রের সাহায্যে টিকে আছে।
কুহেলির পা দুটো আর এগোতে চায় না। এতক্ষণ ধরে যে মেয়েটা কান্না করতে থাকা মেয়েটার হাঁটু কাঁপতে শুরু করে। তবু সে উঠে দাঁড়াতে যায় কেবিনের দিকে যেতে নিবে ঠিক তখনই—হঠাৎ করে কেউ পেছন থেকে ওর হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে। কুহেলি ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই—সজোরে এক থাপ্পড় এসে পড়ে গালে। কুহেলির মাথার ভেতর ঝাঁঝরা শব্দ ওঠে। চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই—আরেকটা থাপ্পড়, আগের চেয়েও শক্ত।এইবার কুহেলির শরীর আর সইতে পারে না। এতক্ষণ ধরে জমে থাকা কান্না, ভয়, অপরাধবোধ—সব একসাথে ভেঙে পড়ে। বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ঝরতে থাকে।
—আ… আ..!
কণ্ঠ বেরোয় না, শ্বাস আটকে আসে।পা দুটো টলে যায়। শরীরের ভার আর ধরে রাখতে না পেরে কুহেলি মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে। হাসপাতালের ঠান্ডা ফ্লোরে পড়ে থাকা অবস্থায় সে কেবল পেট চেপে ধরে কুঁকড়ে যায়—ব্যথায় না, অপমানে। ধীরে ধীরে চোখ তুলে সামনে তাকায়।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে শিশা।
চোখে কোনো অনুশোচনা নেই। মুখে জমাট বাঁধা কঠোরতা, ঠোঁটে কাঁপনহীন বিদ্বেষ। কুহেলির দুই গালে লাল দাগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ঠোঁট কেটে রক্ত বেরোচ্ছে—কিন্তু শিশার চোখে একফোঁটাও নরমভাব নেই।
কুহেলি কাঁপা হাতে নিজের পেট চেপে ধরে। শরীরটা যেন আর তার নিয়ন্ত্রণে নেই।
ঠিক তখনই করিডোরের নিস্তব্ধতা চিরে ঝড়ের মতো এসে পড়ে ফেটিক্স। চোখে আগুন, চোয়াল শক্ত। সে এক মুহূর্তও দেরি না করে সামনে গিয়ে—
একটা থাপ্পড় পড়ে শিশার গালে। পরপর আরও কয়েকটা। শব্দে পুরো করিডোর কেঁপে ওঠে।
শিশা হতভম্ব হয়ে এক পা পিছিয়ে যায়। এতক্ষণ যে মেয়েটার চোখে বিন্দুমাত্র ভয় ছিল না, সেই চোখে এবার অস্থিরতা দেখা দেয়।
ফেটিক্স দাঁত চেপে গর্জে ওঠে—নিয়ে যাও। এখনই। গোডাউনে আটকে রাখবি। আমার নির্দেশ ছাড়া যেন মুখও না খোলে। দু’জন বডিগার্ড সাথে সাথে শিশার হাত ধরে টেনে তোলে। টানতে টানতে নিয়ে যাওয়ার সময়ও শিশা থামে না। যাওয়ার আগে সে একবার ফিরে তাকায়—মেঝেতে ভেঙে পড়ে থাকা কুহেলির দিকে। চোখে বিষ ঢেলে সে বলে—
তুই একটা অলক্ষী মেয়ে। তোর জন্যই আবরারের এই অবস্থা। তোর পা সেখানেই পড়ে সেখানেই সর্বনাশ হয়।
কথাগুলো যেন ছুরির মতো কুহেলির বুকে গেঁথে যায়।
কুহেলির কান্না এবার আর নীরব থাকে না। বুক ফেটে হাউমাউ করে উঠতে থাকে। হাত দিয়ে মুখ ঢেকে সে কাঁপতে কাঁপতে বসে পড়ে—নিজেকে আর সামলাতে পারে না। ঠিক তখনই দূর থেকে দৌড়ে আসে শায়লা। কুহেলির এই অবস্থা দেখে শায়লার চোখও ভিজে ওঠে। সে ঝুঁকে পড়ে কুহেলির পাশে, শক্ত করে জড়িয়ে ধরে—যেন ভেঙে পড়া শরীরটা নিজের শক্তিতে ধরে রাখবে।
নরম কিন্তু দৃঢ় গলায় শায়লা বলে—
শোন, এসব কথায় কান দিস না। একটা কথাও না। তুই এখন আবরারের কাছে যা। ওর এই সময়ে তোর দরকার।
কুহেলি কিছু বলে না। বলার শক্তি নেই। চোখে জমে থাকা পানি মুছে নেয়, কাঁপা হাতে নিজেকে সামলে তোলে। শায়লার হাত ধরে উঠে দাঁড়ায়—পা দুটো ভারী হয়ে এসেছে, তবু এগোয়।
এক পা…. দুই পা…!
হাসপাতালের করিডোর ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় সে। শেষমেশ এসে দাঁড়ায় সেই কেবিনের সামনে—যেখানে সাদা আলোয়, নিথর শরীরে শুয়ে আছে আবরার। দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢোকার মুহূর্তে কুহেলির বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে।
সব অপমান, সব ব্যথা, সব কান্না পেছনে ফেলে—
সে কেবল একটাই পরিচয় নিয়ে ঢোকে সেখানে—
আবরারের স্ত্রী।
বর্তমান…!
সাদা কেবিনের ভেতরটা নিঃশব্দ।
মনিটরের একঘেয়ে বিপ… বিপ… শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যায় না। সেই শব্দটাই যেন কুহেলির বুকের ভেতর আঘাত করে বারবার। কুহেলি বিছানার পাশে বসে থাকা চেয়ারটা ছেড়ে হঠাৎই মেঝেতে নেমে পড়ে। দুই হাত দিয়ে আবরারের নিথর হাতটা আঁকড়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে ওঠে,
আমি সত্যিই অলক্ষী, আবরার দেখুন না, আমি আপনার পাশে থেকেও কিছুই করতে পারলাম না। আমাকে কেন গুলি করলো না? আপনাকে কেন করলো? আমাকে করলেই তো হতো আমি মরে যেতাম।
তার গলা ভেঙে আসে। শব্দগুলো ঠিকমতো বেরোয় না, কান্নার সাথে হেঁচকি মিশে যায়। বুকের ভেতরের কষ্ট যেন আর ধরে রাখা যায় না।
আমার এতো কষ্ট সহ্য হচ্ছে না, কুহেলি অস্ফুট স্বরে বলে, মরে যেতে মন চাচ্ছে আবরার, এই আবরার প্লিজ উঠুন না। আবরারের হাতটা নিজের কপালে ঠেকায়। ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে আবার বলে
একবার ডাকুন না একবার পাখি বলে ডাকুন। আপনি না আমাকে হোয়াইট রোজ বলতেন? দেখুন, আপনার হোয়াইট রোজ কেমন নেতিয়ে গেছে। এই লড়াই আর পারছে না আবরার একদমই পারছে না।
কুহেলির চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া অশ্রুগুলো আবরারের হাতে পড়ে ভিজিয়ে দেয়। সে যেন আশা করে আছে—এই অশ্রু স্পর্শ করলেই আবরার নড়ে উঠবে, চোখ খুলে তাকাবে, মৃদু হেসে বলবে, “পাগলী, কাঁদছো কেন?”
কিন্তু কিছুই হয় না।
রাত বাড়তে থাকে। জানালার ফাঁক দিয়ে দূরের আলো ফ্যাকাশে হয়ে আসে। কুহেলি একই ভঙ্গিতে বসে থাকে—কখনো কথা বলে, কখনো চুপচাপ কাঁদে, কখনো আবার নিথর শরীরটার দিকে তাকিয়ে থাকে।ক্লান্তি ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করে। চোখ দুটো জ্বালা করতে থাকে, মাথা ভারী হয়ে আসে। তবু সে উঠতে চায় না। আবরারের হাতটা বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে শেষবারের মতো ফিসফিস করে বলে,
প্লিজ ফিরে আসুন… আমি ছাড়া আপনি তো পারবেন না..! আর আমি—আমি আপনাকে ছাড়া একদমই পারবো না।
কথাগুলো অসম্পূর্ণই থেকে যায়। একসময় দীর্ঘ কান্না, হেঁচকি আর ভেতরে জমে থাকা অসীম যন্ত্রণার ভারে কুহেলির চোখ দুটো আপনাতেই বন্ধ হয়ে আসে। ভোরের দিকে, আবরারের হাতটা আঁকড়ে ধরেই সে ঘুমিয়ে পড়ে—অশ্রু ভেজা গাল, ভাঙা শ্বাস, আর বুকভরা একটাই প্রার্থনা নিয়ে—
আবরার যেন ফিরে আসে।
সকালের সোনালি রোদের প্রথম ঝিলিকটা জানালার কাঁচ পেরিয়ে কেবিনের মেঝেতে এসে পড়তেই কুহেলির চোখ দুটো পিটপিট করে খুলে যায়।
রাতভর কান্না আর ক্লান্তিতে শরীরটা যেন পাথর হয়ে আছে। মাথাটা ভারী, চোখের পাতা জ্বালা করছে। কিছুক্ষণ সে বুঝতেই পারে না—কোথায় আছে, কীভাবে এখানে এসেছে। ধীরে ধীরে চেতনাটা ফিরতেই..!
এক সেকেন্ড…!
ঠিক এক সেকেন্ডেই সবকিছু থমকে যায়। গলাটা শুকিয়ে আসে। চোখ দুটো বড় বড় হয়ে যায়। সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়, ভয়ে যেন হাত-পা জমে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে কুহেলির মনে হয়, মাথার উপর থেকে পুরো আকাশটা ভেঙে পড়েছে। বুকের ভেতর এমন একটা চাপ অনুভব করে যে মনে হয় এই বুঝি দমটাই বন্ধ হয়ে যাবে।
না… না… না… এটা হতে পারে না…!
কথাগুলো ফিসফিস করে বেরোয়, নিজের কানেই যেন শোনা যায় না। তার চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে আসে। পৃথিবীটা যেন হঠাৎ ঘুরে যেতে থাকে। কুহেলি আর নিজেকে সামলাতে পারে না।
হঠাৎই বুক ফাটানো এক চিৎকার কেবিন জুড়ে প্রতিধ্বনিত হয়,
“নননননননননননননননননননননননা—!!!”
১৫৩৩+শব্দ
চলবে...!!
মাইটক্সিকহাসব্যান্ড
পর্ব_৪৮ (শেষাংশ)
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
এখন আর সাধারণ কোনো হাসপাতাল নেই—
এটা যেন অদৃশ্য এক যুদ্ধক্ষেত্র। পুরো ফ্লোর জুড়ে কড়া নিরাপত্তা। করিডরের দুই পাশে কালো স্যুট পরা বডিগার্ডরা দাঁড়িয়ে আছে নিঃশব্দ প্রহরীর মতো। কারো চোখে ঘুম নেই, কারো মুখে কথা নেই—সবাই সতর্ক, সবাই প্রস্তুত। সামান্য শব্দেও মাথা ঘুরিয়ে তাকাচ্ছে তারা। দুটো কেবিন নেওয়া হয়েছে। একটায় আবরার—সাদা চাদরের নিচে নিথর শরীর, অসংখ্য তার আর মেশিনে বাঁধা জীবন-মৃত্যুর দোলাচলে। কেবিনের ভেতরের বাতাসটাও ভারী, যেন নিশ্বাস নিলেই কষ্ট হয়।
আরেকটায় শায়লা। বাড়ি যেতে সে রাজি হয়নি। চোখেমুখে আতঙ্ক, আর ক্লান্তি একসাথে জমে আছে। কুহেলিকে একা ফেলে যাওয়ার কথা সে ভাবতেই পারেনি।
হাসপাতালের বাইরে, ভেতরে—সবখানেই লোক। কেউ সাধারণ মানুষ নয়। এই মুহূর্তে সবচেয়ে অস্থির মানুষটা ফেটিক্স। রাত থেকেই সে নড়েচড়ে বসেছে। সেই অজ্ঞান লোকটা কে খোঁজছে। কিন্তু লোকটা যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে। ফেটিক্সের চোখে রাগ জমে আছে। ঠোঁট শক্ত করে চেপে রেখেছে, চোয়াল শক্ত। সে জানে—এটা কোনো সাধারণ হামলা নয়। এটা ছিল পরিকল্পিত। নিখুঁত। এবং ভয়ংকরভাবে ব্যক্তিগত।
ফাহিমকে রাতেই আটক করা হয়েছিল।
ঘন্টার পর ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ। একই উত্তর বারবার—সে কিছুই করেনি। তার কথার সত্যতা যাচাই করা হয়েছে।ল্যাব ছিল সারারাত, সিসি ক্যামেরা ফুটেজে স্পষ্ট—সে এক জায়গা থেকেও নড়েনি। সময়, লোকেশন—সব মিলে গেছে।
ফাহিম বাদ।
তাহলে কে?
কে এত বড় সাহস পেল আবরারের মতো মানুষকে টার্গেট করার? যার দিকে তাকানোর সাহসও গ্যাংস্টাররা করে না, তার বুকে গুলি চালানোর সাহস কার? এই প্রশ্নটাই এখন হাসপাতালের বাতাসে ভাসছে।ফেটিক্স জানে—এই অজানা শত্রু সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ সে এখনো লুকিয়ে আছে।
শায়লা কেবিন থেকে বেরিয়ে কুহেলির কাছেই আসছিল। মাথার ভেতর এখনো আগের রাতের আতঙ্ক ঘুরপাক খাচ্ছিল। হঠাৎ করেই করিডর চিরে কুহেলির সেই আর্তচিৎকার কানে আসতেই শায়লার বুক কেঁপে উঠল। এক মুহূর্তও দেরি না করে দৌড়ে গেল। কিন্তু সামনে যা দেখল তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না।
কুহেলি মেঝেতে বসে আছে। দুই হাত দিয়ে পেট চেপে ধরেছে, শরীরটা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। সাদা হাসপাতালের ফ্লোরে লালচে দাগ ছড়িয়ে পড়ছে, ধীরে ধীরে, নীরবে—কিন্তু ভয়ংকরভাবে। শায়লার মাথা ঝিমঝিম করে উঠল।দৌড়ে গিয়ে কুহেলির কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে আতঙ্কিত কণ্ঠে বলল,
কুহেলি! কী হয়েছে তোর? এতো ব্লাড… কেন এমন হচ্ছে? আমার দিকে তাকাও!”
কুহেলির ঠোঁট কাঁপছে। চোখ দুটো আধখোলা, দৃষ্টি ঝাপসা। যেন কথা বলার শক্তিটুকুও শরীর আর মানছে না। সে খুব কষ্ট করে ফিসফিস করে বলল,
বেবি…!
শায়লার বুক ফেটে কান্না আসতে চাইল। হ্যাঁ, আমি আছি। আমি আছি কুহেলি, কথা বল!
কুহেলি আবার ঠোঁট নাড়াল,
বেবি…!
কিন্তু বাকিটুকু আর বের হলো না।
চোখ দুটো হঠাৎ উল্টে গেল, শরীরটা ঢিলে হয়ে শায়লার বুকে ঢলে পড়ল।
—“কুহেলি!”
শায়লা চিৎকার করে উঠল। দু’হাত দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল ওকে, যেন ছুটে যাওয়া প্রাণটাকে নিজের শরীর দিয়ে আটকে রাখতে চায়।
গলার স্বর কাঁপছে, ভেঙে যাচ্ছে,কেউ আছেন? প্লিজ! কেউ আছেন! তাড়াতাড়ি আসুন!
করিডর কেঁপে উঠল তার চিৎকারে। ডাক্তার! নার্স! প্লিজ আসুন!
কুহেলির মাথাটা শায়লার কাঁধে এলিয়ে পড়ে আছে। নিঃশ্বাসটা ক্ষীণ, ঠোঁট ফ্যাকাসে। শায়লার হাত রক্তে ভিজে গেছে, কিন্তু সে খেয়ালই করছে না। তার চোখ শুধু কুহেলির মুখে আটকে আছে।
কুহেলি চোখ খোল…. প্লিজ….!
এক ঘন্টা পর….!
মিস-ক্যারিজ শব্দ টা ভিষন খারাপ! শুনলেই যেনো কেমন লাগে আর তা যদি সত্যি হয় তাহলে? হ্যাঁ কুহেলির মিস-ক্যারিজ হয়ছে!
কেবিনের বাতাসটা ভারী, ধোঁয়াশার মতো ঘন। চারপাশে নিঃশব্দ, শুধু মনিটরের বিপ… বিপ.. শব্দগুলো কানের মধ্যে রেজোনেট করছে। কুহেলি শুয়ে আছে, শরীরের নড়াচড়া নেই, চোখ বন্ধ। সেলাইন এখনও চলছে, তার শরীরকে জীবনধারার মতো ধরে রেখেছে। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেন ঘুমন্ত আগুনের মতো হালকা কাঁপছে, আর বুকের ভেতর যেন এক অদৃশ্য কষ্টের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
আবরারের বিশ মিনিট আগে জ্ঞান ফিরেছে। চোখ খোলা, কিন্তু মন শান্ত নয়। জ্ঞান ফিরতেই সব কিছু শুনে যেনো শ্বাস নিতে ভুলে গেছে। কুহেলির অবস্থা দেখেই তার বুকটা আঁটকে গেছে। কুহেলি কে অন্য কেবিনে নেওয়া হয়ছিলো তারপর আবরার নিজের কেবিনে আনছে। দুই বেড একসাথে করা হয়েছে, যেন একে অপরের পাশে থেকে একরকম সমর্থন দেয়া যায়। আবরারের চোখে শূন্যতার সাথে সাথে গভীর আতঙ্ক, কিন্তু সে জানে—এখন কান্না বা অসহায়তা কাজে আসবে না।
কেবিনের এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে ফেটিক্স আর শায়লা। তারা দু’জনেই থতমত, চোখে চোখে ভয়, মুখে অসহায়তা। কেউ কিছু বলতে পারছে না, শুধু নিঃশ্বাস নেয়ার শব্দ কানে ভেসে আসে।
ফেটিক্সের হাতে টেনশন, শরীর অস্থির, সে যেন মুহূর্তে সব পরিস্থিতি সামলাতে চায়, কিন্তু কুহেলির ওপর নজর রাখতেই দৃষ্টি আটকে যায়। শায়লা কেবল কুহেলির দিকে তাকিয়ে আছে, চোখে পানি জমে গেছে, কিন্তু কোনো শব্দ নেই। কেবলমাত্র মৃদু কান্না, হালকা হাঁচকি—যা কেবিনের শূন্যতা ভেদ করছে। কেউ কিছু বলছে না, অথচ কেবিনটা যেন শূন্য নয় এখানে শুধু ব্যথা, আতঙ্ক আর এক অদৃশ্য অশান্তি ভাসছে। কুহেলি অজ্ঞান, আবরার আতঙ্কিত, সবাই থতমত—এই এক মুহূর্ত যেন সময়কে স্থির করে দিয়েছে, এবং হাসপাতালের চারপাশের নিঃশব্দ কেবিনে বসে আছে শুধু অনিশ্চয়তার চাপ।
আবরারের কণ্ঠ শান্ত, কিন্তু চোখে অদ্ভুত গভীর চিন্তার ছাপ। সে কুহেলির দিকে কিছুক্ষণের জন্য চুপচাপ তাকিয়ে থাকে, যেন সময় থমকে গেছে। হাসপাতালে চারপাশে এখনও বডিগার্ডরা চলাফেরা করছে, কিন্তু কেবিনের ভেতর যেন এক নিস্তব্ধতা।
আমাকে কে গুলি করতে চেয়েছিলো, তার খোঁজ পেয়েছো?আবরার ধীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো।
ফেটিক্স মাথা নাড়লো, কণ্ঠে সতর্কতা,না, স্যার। তবে খবর নিচ্ছি। আবরার চোখের কোনে সামান্য চাপ অনুভব করলো। আচ্ছা, এখন তোমার বের হও।
ফেটিক্স আর শায়লা বিনা বাক্যেই কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়। দরজা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিঃশব্দ ভিড়ের চাপ কেটে যায়। কেবিনের মধ্যে একাকিত্ব নেমে আসে। আবরার কিছুক্ষণ কুহেলির দিকে তাকিয়ে থাকে। সে তার কোমল, নিঃশব্দ শ্বাসগুলো শোনে, চোখে চোখ রেখে শরীরের তাপ অনুভব করে। তারপর ধীরে ধীরে কুহেলির হাতটি নিজের হাতের মুঠোয় তুলে ধরে। হাতের স্পর্শে যেন আবরারের সমস্ত আবেগ, সব ভয়, সব প্রতিজ্ঞা এক মুহূর্তে প্রকাশ পায়। তারপর নিচু কন্ঠে বলতে শুরু করলো,
জানো, পাখি,তোমার উপরে আমার অনেক বেশি রাগ হচ্ছে। তুমি কেনো আমাকে আগে বললে না? যদি তুমি বলতো, আমি আরও সাবধান হতে পারতাম আমাদের বাচ্চাকে বাঁচাতে পারতাম। কেনো এইভাবে করেছিলে? কেনো আমাকে জানানো হলো না? জানো, আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে! আমি আর তোমার সাথে কথাই বলবো না, তুমি ভালো না। তুমি কেনো আগে বললে না? আবরারের কণ্ঠ যেন ফাটে, রাগ আর কষ্টের মিশ্রণে কাঁপছে। কথার শেষ মুহূর্তে, দুটি ফোটা নোনাজল স্বাভাবিকভাবেই আবরারের চোখ থেকে টুপ করে পড়ে। কুহেলির কপালে এসে লেগে যায়, যেন তার আবেগ আর দুঃখের গভীরতা স্পর্শ করছে। আবরারের চোখে সেই নোনা ফোটা কেবল রাগ নয়! সন্তান হারানোর কষ্ট!
ঠিক সেই মুহূর্তে কুহেলির শরীরটা হালকা নড়ে উঠল। চোখের পাতা কেঁপে কেঁপে খুলে গেল। যেন গভীর অন্ধকার থেকে হঠাৎ আলোয় ফিরে এসেছে।
আবরার মুহূর্তেই সেটা টের পেয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে কুহেলির হাতটা ছেড়ে দিয়ে একটু দূরে সরে বসে। তার শরীর শক্ত, মুখে অদ্ভুত এক কঠিন ভাব—যেন নিজেকে শক্ত না রাখলে ভেঙে পড়বে।
কুহেলি চোখ মেলে প্রথমেই অবচেতনে নিজের পেটে হাত দেয়। বুকের ভেতর কেমন একটা শূন্যতা হাহাকার করে ওঠে। চোখ বড় বড় হয়ে যায়। তারপর ধীরে ধীরে সামনে তাকায়।
দেখে—আবরার। চুপচাপ বসে আছে। কিন্তু সেই চেনা আবরার না। কুহেলির চোখ মুহূর্তেই ভিজে ওঠে।
আবরার…!
এক ঝটকায় উঠে বসে সে, শরীর দুর্বল হলেও বুকের ভেতরের টানটা প্রবল। আবরারকে জড়িয়ে ধরতে যাবে—এই মুহূর্তে তার একমাত্র আশ্রয় তো সেই মানুষটাই। কিন্তু ঠিক তখনই আবরারের কঠিন কণ্ঠ আকাশ ভেদ করে ওঠে—
আমার থেকে দূরে থাকো তুমি!
কুহেলি থমকে যায়। শব্দটা যেন গুলির মতো এসে লাগে বুকে। আবরার দাঁতে দাঁত চেপে, চোখে জমে থাকা আগুন আর জল একসাথে সামলে বলে ওঠে—
তোমার জন্য আজকে সন্তান হারালাম!
একটা নিঃশ্বাসে যেন সব জমে থাকা ব্যথা উগরে দেয় সে। আমাদের সন্তান ছিলো, কুহেলি! আমাদের!
কুহেলির কান ঝাঁ ঝাঁ করে ওঠে।
হাতটা শূন্যে ঝুলে থাকে। শরীরটা কাঁপতে শুরু করে, যেন হঠাৎ শীতল বাতাসে পড়েছে।
আবরার আর নিজেকে থামাতে পারে না। কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে ওঠে, শেষ কথাটা প্রায় ধমকের মতো বেরিয়ে আসে,
কেনো আগে আমাকে বলোনি কিছু? কেনো?
এই প্রশ্নটাই যেন কুহেলির ভিতরটা ভেঙে চুরমার করে দেয়। তার চোখ দিয়ে অঝোরে পানি নামতে থাকে। ঠোঁট কাঁপে, কিন্তু শব্দ বের হয় না। পুরো শরীর কেঁপে ওঠে—ভয়, অপরাধবোধ, শোকে।
কেবিনের ভেতর আবার নেমে আসে নিস্তব্ধতা।
শুধু দু’জন মানুষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে এক না-ফেরা শূন্যতা—একটি না-জন্মানো সন্তানের নীরব উপস্থিতি।
কুহেলির চোখ দুটো স্থির, কিন্তু দৃষ্টির ভেতর কোনো বিশ্বাস নেই—শুধু শূন্যতা। যেন কথাগুলো কানে ঢুকছে, কিন্তু মস্তিষ্ক তা মানতে অস্বীকার করছে। বুকের ভেতরটা ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। ও এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না—ওর সন্তান নেই। ওর ভেতরে আর কোনো ছোট্ট প্রাণ নেই।
মাত্র দুই দিন আগে..!
হ্যাঁ, আবরারের জন্মদিনের ঠিক দুই দিন আগে ও বুঝতে পেরেছিল। প্রথমে ভয়, তারপর অদ্ভুত এক আনন্দে বুক ভরে গিয়েছিল। ভাবছিল নতুন বছরের প্রথম দিনে, আবরারের জন্মদিনে—সবচেয়ে সুন্দর সারপ্রাইজটা দেবে। ওর “ক্রিমিনাল হাসব্যান্ড”-কে বলবে, তুমি শুধু স্বামী না, বাবা হতে যাচ্ছো! কিন্তু এমন কিছু হবে—এটা তো কল্পনাতেও আসেনি।
হঠাৎ কুহেলির বুকের ভেতর জমে থাকা সবকিছু একসাথে ফেটে পড়ে। সে চিৎকার করে ওঠে
না! আমাদের সন্তান নষ্ট হতে পারে না! গলার স্বর ভেঙে যায়, কান্না শব্দকে ছাপিয়ে যায়। এভাবে আমাকে রেখে চলে যেতে পারে না!কুহেলি নিজের পেটটা আঁকড়ে ধরে, যেন এখনো সেখানে কিছু আছে, যেন জোর করে ধরে রাখলে সব ঠিক হয়ে যাবে।
আমি কত স্বপ্ন দেখেছি, জানেন? কাঁপা কণ্ঠে কথাগুলো বের হয়। ছোট্ট একটা প্রাণ আমার ভেতরে আমি ওর জন্য কত কিছু ভেবেছি। কেনো এরকম হলো আমার সাথে? কেনো? চোখ দুটো লাল, মুখ ভেজা অশ্রুতে। সে আবরারের দিকে তাকিয়ে অসহায়ভাবে বলে,আপনি মিথ্যা বলছেন, তাই না?
শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে কুহেলি প্রায় মিনতি করে ওঠে, আমাদের সন্তান ঠিক আছে, বলুন না! প্লিজ বলুন!
কেবিন টা নিস্তব্ধ।
কুহেলির কান্নার শব্দ দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে।
আবরার কিছু বলছে না।আর সেই নীরবতাই কুহেলির জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর উত্তর।
চলবে...!!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৮+স্পেশাল
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫১(সমাপ্ত)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড গল্পের লিংক
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৪