মাইটক্সিকহাসব্যান্ড
পর্ব_৩৬
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
আবরার জোরে জোরে হাসতেই থাকল।হাসিটা এতই উচ্চ আর অনিয়ন্ত্রিত যে কুহেলির প্রথমে লজ্জা লাগল—তারপর সেই লজ্জাই মুহূর্তে রাগে রূপ নিল।হাসছেন কেন এত?!কুহেলি গম্ভীর গলায় বলতেই,আবরার আরো জোরে হেসে ফেলল।
আর সহ্য হলো না।কুহেলি তাড়াতাড়ি বালিশটা তুলে নিয়ে ধপাধপ করে আবরারকে মারতে শুরু করল।
এই! এভাবে মারছো কেন?
আবরার হেসেই বলল।
উত্তরে কুহেলি আরও জোরে বালিশ চালাল। রাগে তার মুখ লাল টকটকে হয়ে গেছে।
আবরারও চুপ থাকল না—দ্রুত পাশ থেকে আরেকটা বালিশ তুলে নিয়ে কুহেলির ওপর বালিশ-আক্রমণ শুরু করল।রুমভর্তি ধপধপ শব্দ আর আবরারের জোরে হেসে ওঠা।
থামুন!!
কুহেলি রাগে চেঁচিয়ে বলল, কিন্তু ততক্ষণে আবরার নিজেও বালিশ যুদ্ধে লিপ্ত হলো।
একসময় বালিশের সেলাই চিড় ধরে—ফুঁসসস…!তুলা ছুটে বেরিয়ে এল, বাতাসে উড়তে লাগল।
কুহেলি অবাক,
আহ! এটা কি হলো!
কিন্তু আবরার তো থামার পাত্র নয়। তুলা উড়তে দেখে সে আরও জোরে হাসতে লাগল।দু’জনের দমে মারতে মারতে বালিশের ভেতরের তুলাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে গেল—মেঝেতে, বিছানায়, বাতাসে এমনকি দু’জনের চুল ও জামাতেও লেগে গেল।
কুহেলির মুখ রাগে লাল, কিন্তু চোখে একধরনের চঞ্চল ঝিলিক।আবরার সেই রাগটাকে উপভোগ করছে—ঠিক যেমন বাচ্চারা বৃষ্টির পানি দেখে খুশি হয়।
অবশেষে রুমটা যেন বরফ পড়ার পরের দৃশ্য চারদিকে সাদা তুলা,আর তুলার মাঝে দাঁড়িয়ে দু’টি মানুষ,একজন রেগে লাল,অন্যজন হাসতে হাসতে চোখে পানি আনছে।
বালিশের ভেতরের সব তুলা ছড়িয়ে পড়তেই আবরার হঠাৎ সুযোগ বুঝে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
এই! দাঁড়ান!
কুহেলি বিস্মিত হয়ে চেঁচাতে না চেঁচাতেই আবরার সিঁড়ির দিকে পালাল।
কুহেলিও সঙ্গে সঙ্গে রাগে–হাসিতে এক মিশ্র মুখ করে তার পিছনে ছুটল।দৌড়াতে দৌড়াতে কুহেলি চিৎকার করে বলল,
আপনাকে পাই আজকে! আপনার হাসা বের অসভ্য লোক!এভাবে হাসার কী আছে?!নিজেই অসভ্য কথা বলেন, নিজেই আবার হাসেন!
আবরার নিচে নামতে নামতেই হেসে বলল,
পারলে ধরে দেখাও! ধরতে পারলে তারপর কথা বলবে!
বলে সে আরও গতিতে দৌড়ে নিচতলায় নেমে গেল।কুহেলিও হাঁপাতে হাঁপাতে ঠিক তার পিছনেই ছুটল।
দু’জনেরই পদক্ষেপে পুরো বাড়ি কাঁপছে,
ধাপধাপধাপ
সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে কুহেলির রাগ আর আবরারের দুষ্টু হাসির প্রতিধ্বনি বাজছে।
আবরার সোজা বাড়ির বাহিরে বেরিয়ে গেলো
তার শ্বাস দ্রুত, চোখে দুষ্টু ঝিলিক।
কুহেলিও পিছনে পিছনে ছুটতে লাগলো—চুল এলোমেলো, মুখ লাল, রাগে–লজ্জায় নিঃশ্বাস ফেলে ফেলছে।
বাড়ির মেইড দূর থেকে সব দেখে থমকে দাঁড়িয়ে গেল।আবরার আর কুহেলির এভাবে দৌড়াদৌড়ি, চেঁচামেচি, হাসাহাসি—সব দেখে সে পুরো অবাক।
কিন্তু কিছু বলার সাহস হলো না।শুধু নিঃশব্দে দেখল!
আবরার দৌড়াতে দৌড়াতে সরাসরি গার্ডেনের দিকে চলে গেল। সন্ধ্যার কোমল আলো তখনও পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি, চারদিকে হালকা বাতাসে ফুলের গন্ধ মিশে আছে। কুহেলি ঠিক পিছনেই, রাগ আর লজ্জার মিশেলে মুখ লাল হয়ে ওঠা।
আজকে আপনাকে ধরলে ছাড়বো না আবরার! এত হাসির কী আছে? অসভ্য লোক!কুহেলি হাঁপাতে হাঁপাতে চেঁচিয়ে উঠল।
আবরার হেসেই চললো।
পারলে ধরে দেখাও!বলেই সে আবার দৌড়ে গার্ডেনের এক কোণে ঢুকে গেল।
কুহেলিও পিছনে যায় তারপর তারা আরেক দফা দৌড়ায়। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে এক পর্যায়ে করে আবরারের চোখে পড়ে রঙিন ফুলের পাশে পড়ে থাকা পানির পাইপ খানা।চোখে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠলো তার। ঠিক তখনই কুহেলি প্রায় তার কাছে এসে পড়েছে।
এক মুহূর্ত দেরি না করে পাইপের মুখ ঘুরিয়ে দিলো আবরার—ঝাপা করে পানি উড়ে গিয়ে লাগলো কুহেলির গায়ে।
ঘটনাটা এত দ্রুত হলো যে কুহেলি কিছু বুঝতেই পারল না। কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে শুধু পানি ঝরতে লাগল তার চুল, মুখ, পোশাক বেয়ে। চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে আছে।
আবরার দূর থেকে হেসে বলল,
এইবার ঠান্ডা হবে নিশ্চই!
কিন্তু পরের মুহূর্তেই কুহেলির চোখে সেই পুরনো দুষ্টু ঝিলিক ফিরে এলো।সে বজ্রগতিতে এগিয়ে গিয়ে আবরারের হাত থেকে পাইপটা ছিনিয়ে নিল।
তারপর বললো,
এবার বুঝবেন, মাফিয়া সাহেব!
বলেই সে একই জোরে পানি ছাড়লো আবরারের উপর।আবরার প্রথমে হতভম্ব—তারপরই জোরে হেসে উঠলো। গার্ডেনের সবদিকে পানি ছিটকে ছড়িয়ে পড়ছে, দু’জনেই ভিজে একাকার, কিন্তু হাসির শব্দ আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে।
ফুলের গন্ধ, ঠান্ডা পানি আর দু’জন মিলে হাসতে হাসতে ভিজে যাওয়া—মুহূর্তটা যেন পুরো গার্ডেনকে প্রাণবন্ত করে তুলল।
তারপর আবরার কুহেলির হাতে থেকে হাত থেকে পাইপ খানা নিয়ে ছুরে মেরে এক টানে কুহেলি কে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলে আবরারের শক্ত হাতের স্পর্শ পেয়ে কুহেলি চোখ বন্ধ করে ফেলে আবরার কুহেলির দিকে তাকিয়ে থাকে ওর বার বার চোখের পাতা কাঁপতে থাকা গোলাপি অধর জোরা তিরতির করে কাঁপতে থাকা দেখে ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,
মাই ফা*কিং হোয়াইট রোজ!তুমি নিজেই আমাকে সিডিউল করো আর আমি করলেই দোষ হয় আমার আর আমার ছোট ভাইয়ের…!
আবরারের কথা শুনার সাথে সাথে কুহেলি ঠাস করে চোখ খোলে ফেলে তারপর বলে, সিরিয়াসলি আপনার মতো একটা মানুষ কে আমি সিডিউল করি!আর ছোট ভাই মানে কি?
আবরার কিছু একটা ইশারা করতেই কুহেলি মৃদু চিৎকার করে বলে ছিঃ! অসভ্য লোক কি সব বলে!এই আপনার কি লজ্জা করে না?
আবরার কুহেলি কোমর আরো শক্ত করে ধরে নিজের কাছে এনে বলে, লজ্জা বরাবরই আমার কম আর যদি হও তুমি তাহলে তো লজ্জা পাওয়ার কোনো মানেই হয় না কজ তুমি আমার অর্ধাঙ্গিনী!আর এমন না যে প্রথম প্রথম তাই লজ্জা পাচ্ছো আমি তো এর আগেও তোমার সামনে পেন্ট ছাড়া থাকছি!
কুহেলি লজ্জায় লাল নীল বেগুন সব হয় যাচ্ছে। তবুও দাঁড় কটমট করে বললো, আপনি কি চুপ করেন? এরকম ঠোঁট কাটা কেনো আপনি? আপনার মুখে কি কিচ্ছু আটকে না?
আবরার বলে, না বউ বিশ্বাস করো আমার একটুও লজ্জা করে না!আর যদি আমারো লজ্জা করে তোমারো লজ্জা করে তাহলে তো আর আগামী প্রজন্ম হবার কোনো চান্স নেই!তখন সবাই বলবে মাফিয়া কিং এর সিস্টেমে প্রবলেম আছে আমি কি তা মেনে নিতে পারবো তুমি বলো!
কুহেলি বলে, আপনার জন্মের সময় মনে হয় আপনি লজ্জা নিয়েই পৃথিবীতে আসেন নি!তা লজ্জা নেই আপনার!
আবরার সরু চোখে তাকিয়ে বলে, কেনো বউ তুমি জন্মানোর সময় বুঝি কাপড় পড়ে জন্ম নিয়েছিলে তাই তোমার এতো লজ্জা..?!
কুহেলি বলে, আপনার সাথে কথা বলার কোনো মানে নেই ছাড়ুন আমাকে আমি বাড়ি যাবো। পুরো ভিজিয়ে দিয়েছেন!
আবরার বলে না বউ সাত পাঁচ করবো এখন!
কুহেলি কপাল কুঁচকে বলে, সব সময় এই বাজে চিন্তা করে ঘুরে তাই না ছাড়ুন বলেছি!
আবরার বলে, এরকম হঢ বউ যদি সারাদিন চোখের সামনে দিয়ে ঘুরাঘুরি তাহলে তো এসব মাথায় আসা স্বাভাবিক!
কুহেলি বলে, ছেড়ে দে শয়তান তুই আমার দেহ পাবি কিন্তু মন পাবি না!
কুহেলির এরকম বাংলা সিনেমার মতো ডাইলক দিতে দেখে আবরার বলে, বাহ্ আমার বউ যে বাংলা সিনেমার এতো বড় ফ্রেন্ড আমি জানতাম না তো!
কুহেলি মিটমিটে করে হেসে বলে, হু হু অনেক বড় ফ্রেন্ড। আমার ইচ্ছে ছিলো বাংলা সিনেমার মতো একটা রুমান্টিক স্বামী হবে তারপর যেখানে সেখানে রুমাঞ্চ করতে যাবে আর আমি মুখে লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে বাংলা সিনেমার সেই ঐতিহাসিক ডাইলোক দিবো!
এই ছাড়োনা!কেউ দেখে ফেলবো তো!
বলেই কুহেলি লজ্জা লজ্জা মুখ করে। কুহেলির রিয়েকশন দেখে আবরার অবাক হয় এটা কি তার সেই ভোলা ভালা বউ..?!
আবরারের মুখের ভাব দেখে কুহেলি খিলখিল করে হেসে দেয়। কুহেলির হাসি দেখে আবরারো স্নাত হেসে বলে, খুব দুষ্ট হয়ে গেছো পাখি!
কুহেলি হাসি থামিয়ে আবরারের বুকের জায়গায় শার্টের দুই টা বোতাম খোলে সেখানে আঁকিবুকি করতে করতে বলে, আপনারি তো!
তারপর বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে আবরারের দিকে তাকায়। আবরার তা দেখে শব্দ করে কুহেলির ঠোঁটের চুমু খেয়ে কোলে তুলে নেয় তারপর বাড়ির দিকে যেতে যেতে বলে খুব দুষ্ট হয়ে গেছো সাথে আমাকে পুরো তোমার কন্ট্রোলে নিয়ে নিছো জান! কুহেলি মুচকি হেসে আবরারের বুক মুখ লুকিয়ে বলে, মেয়েরা পারে না এরকম কোনো কাজ নেই..!
আধা ঘন্টা পর…!
কুহেলি ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে আছে আবরার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওর চুল হেয়ার ড্রায়ার শুকিয়ে দিচ্ছে। কুহেলির সোনালী আর সাদা মিশ্রিত চোখ আবরারের সব থেকে বেশি পছন্দ।
নীরবতা ভেঙে কুহেলি বললো, আপনার সাথে থাকার পর থেকে আমাকে দিনে রাতে দুই তিন বার গোসল করান!আর আমি আগে তো সাত দিনে এক বার গোসল করতাম! ইসসস কতো সুন্দর ছিলো সেই দিন গুলো এই আপনার জন্য এখন প্রতিদিন গোসল করতে হয়!
কুহেলির কথা শুনে আবরার হাত থেকে যায় হেয়ার ড্রায়ার খানা পাশে রেখে কুহেলি কে তুলে ড্রেসিং টেবিলের সামনের জায়গায় বসিয়ে বলে কি বললে..? তুমি এতো দিন গোসল ছাড়া থাকতে ছিঃ! আর আমাদের ফাস্ট নাইটেও তার মানে তুমি গোসল করে আসছিলে না?!
কুহেলি চোখ গোল গলো করে আবরারের দিকে তাকিয়ে অবুঝ বাচ্ছাদের ন্যায় উত্তর দেয় নাহ!
আবরার চোখ মুখ কুঁচকে বলে ছিঃ বউ তুমি এতো খাচ্চর কেনো..?!
কুহেলি কিছু বলতে যাবে তখনি দরজায় টুকা পড়ে আবরার যেয়ে দরজা খোলে তখন একটা মেইড বলে, স্যার শিশা ম্যাম আর সাথে একজন স্যার এসেছে ঐ যে সকালে আসছিলো না ওনি!
আবরার বিরবির করে বলে, দুই শয়তান হাসি তাহলে আমার সুখের সংসারে আগুন লাগানোর জন্য…! কিন্তু পারবে না কারণ আমি নিজেই জ্বলন্ত আগুন তাই আমাকে যে পুড়াতে আসবে সে নিজেই পুড়ে ছাই হয়ে যাবে…!”
চলবে....!
(রিচকে করতে পারি নি অসুস্থতার কারণে ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৮(প্রথমাংশ + শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)