মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_৩২
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
(পর্ব টা রুমান্টিক নিজ দায়িত্বে পড়ুন)
রাত ঠিক নয়টা।
হাসপাতালের নরম আলো আর বাইরে ঝিরঝিরে চাঁদের আলো মিলেমিশে কেবিনের ভেতরটা যেন শান্ত একটা আশ্রয়ে পরিণত করেছে। কুহেলি চুপচাপ বিছানায় হেলান দিয়ে বসে আছে। আর সামনে চেয়ারটায় বসে আবরার নিজের হাতেই ওকে খাবার খাইয়ে দিচ্ছে।
আবরার খুব অভ্যস্ত নয় কাউকে খাওয়াতে হাতে কাঁপুনিও আছে—তবুও চেষ্টা করছে যত্ন করে, যেনো এই সামান্য কাজটুকুতেও নিজের সমস্ত মনোযোগ ঢেলে দিচ্ছে।
কুহেলি অবাক হয়ে দেখছিলো মানুষটা কত মনোযোগ দিয়ে, কোমলভাবে প্রতিটা লোকমা ওর মুখে তুলে দিচ্ছে!তার মনে এক অদ্ভুত চিন্তা হঠাৎ গুমরে উঠলো,
ইশ সময়টা যদি এভাবেই থেমে যেতো!
খাওয়া শেষ হলে আবরার চুপচাপ একই প্লেট টেনে নিলো।কুহেলি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো যে মানুষ সবসময় নিজের জন্য আলাদা প্লেট পছন্দ করে,সে আজ কোনও দ্বিধা ছাড়াই ওর খাওয়া প্লেটেই খেতে শুরু করেছে।তার ভেতরটা কেমন জানি নরম হয়ে গেলো।
খাওয়া শেষে আবরার ওকে ওষুধগুলো দিলো।
কুহেলি সাধারণত ওষুধ খেতে ভীষণ অনীহা—কিন্তু আজ অবাকভাবে কোনও কথা না বলে,বিনা আপত্তিতে সব ওষুধ খেয়ে নিলো।
তারপর আবরার বাতি অফ করে দিলো।জানালা খোলা ছিলো,তাই চাঁদের আলো এসে কেবিনের মেঝের ওপর রুপালি পর্দার মতো বিছিয়ে ছিলো। সেই আলোয় দুজনের মুখই হালকা হালকা দেখা যাচ্ছিলো।
আবরার বিছানায় উঠে বসল।এক মুহূর্ত থেমে,খুব ধীরে কুহেলির কাঁধে হাত রেখে কুহেলি কে নিজের কুলে নিলো একদম বাচ্চাদের মতো করে—একটা সুরক্ষার আশ্বাসের মতো।
আবরারের নিঃশ্বাস কুহেলি শুনতে পাচ্ছিলো উদ্বিগ্ন, অস্থির, তবুও ধরা আছে তার ভেতরের দমে রাখা ভালবাসা।
কুহেলি আধো অন্ধকারে মুখ তোলে আবরারের দিকে তাকিয়ে আস্তে বললো,
আপনি কি আমার থেকে কিছু লুকাচ্ছেন?
আপনাকে আজকে খুব উদ্বিগ্ন লাগছে সাথে অস্থিরও লাগছে যেন।আমাকে বললে মনটা হালকা হবে।
আবরার প্রথমে কিছু বলল না।শুধু ধীরে মুখ নিচু করে কুহেলির কপালে গাঢ় চুম্বন দিলো।কুহেলি চোখ বন্ধ করে অনুভব করলো সেই চুম্বন।এটা দরকার ছিলো কুহেলির জন্য কেনো জানি এখন আবরারের আদর ছাড়া ওর নিজেরি ভালো লাগে না।লোকটার প্রেমে পড়ে গেছে বলতে গেছে।
তারপর নিজের কপালটা ঠেকিয়ে দিল কুহেলির ললাটে—একটা নিশ্চুপ, গভীর আশ্বাসের মতো।
আমি কিছুই লুকাচ্ছি না,মাই হোয়াইট রোজ,
আবরারের কণ্ঠটা অদ্ভুত শান্ত,কিন্তু ভেতরে একটা কাঁপা ব্যথার রেখা লুকোনো।
আমার শুধু টেনশন হচ্ছে তোমাকে নিয়ে।বলো এরপর থেকে আমাকে আর জ্বালাবে না।সময় মতো খাবে,নিজের খেয়াল রাখবে।কারণ তুমি জানো তো—আমি রোজ আমি তো একজন এতিম।
এক মুহূর্ত থেমে আবরার গভীর শ্বাস নিল।
আমার এই দুনিয়ায় কেউ নেই তোমাকে ছাড়া।
কেউ কোনোদিন ছিলও না।আমি সবসময় একাই লড়েছি—সবাইকে হারিয়ে, সবকিছু হারিয়ে।
তাই প্লিজ…!
তার কণ্ঠটা ভেঙে গেল অল্প।
আর আমাকে কষ্ট দিও না।
প্রমিস করো,মাই হোয়াইট রোজ তুমি নিজের যত্ন নেবে।আমাকে আর ভয় পাবার মতো কিছু ঘটতে দেবে না।
কুহেলি কিছুক্ষণ চুপ করে আবরারের দিকে তাকিয়ে রইল।ওর বুকের ভেতর অদ্ভুত এক দোলাচল,কৌতূহল,আর একফোঁটা আশা আবরার এতক্ষণ যে কথাগুলো বলল,তাতে তার চোখের ভেতরে কুহেলি যেন নিজের গুরুত্বটাই দেখতে পেল।
তবুও আজকে তার খুব জানতে ইচ্ছে করছে—এই মানুষটা আসলে তাকে কী জায়গায় দেখে?
ধীর কণ্ঠে,প্রায় ফিসফিস করে কুহেলি বলল,
আমি… আমি নিজের খেয়াল রাখব।কিন্তু তার আগে একটা কথা বলুন আপনি কি আমাকে ভালোবাসেন..!?
আবরার শান্ত ভাবে তাকালো তার দিকে তাকাল।কুহেলি দৃষ্টি নামিয়ে নরম স্বরে আবার বলল,
দেখুনআমাকে সত্যিটাই বলবেন।আপনি তো বলেছিলেন,আপনি আমাকে ভালোবাসেন না, আমার শরীরের জন্যই যত্ন নেন।এখনও কি শুধু আমার শরীরের জন্য আমাকে এতো যত্ন নিচ্ছেন? আমি কি আপনার মনে আমার জন্য কোনো ভালোবাসা তৈরী করতে পারিনি..?!তারপর একটু থেমে আবরারের বুকে হাত রেখে বললো,আপনার এই হৃদয়ের কি আমি আমার জন্য একটুকরো ভালোবাসা পেতে পারি না?
তারপর কুহেলি আবরারের লাল টকটকে মনিওয়ালা চোখের দিকে তাকালো আবরার ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলো তাই চোখাচোখি হলো দুই জনি গভীর ভাবে কিচ্ছু ক্ষণ তাকিয়ে রইলো, তারপর আবরার সেই চিরোচেনা স্লান হেসে কুহেলি কে ডাক দিলো,
–”পাখি….!
–”হু…!
কুহেলি ছোট্ট করে উত্তর দিলো।
আবরার বলতে উদাস কন্ঠে লাগলো,
আমি…ভালোবাসা শব্দটা ভীষণ ঘৃণা করি,আমি জানিই না ভালোবাসা মানে আসলে কী?ছোট বেলায় খুব খারাপ অভিজ্ঞতা আছে এই ভালোবাসা নিয়ে।এমন জিনিস,বলার মতো না। তাই আমি তোমাকে ভালোবাসি না পাখি কি….
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই কুহেলি তীক্ষ্ণভাবে বলে উঠল,
থাক। আর বলতে হবে না।
তার গলা কেঁপে উঠলেও চোখে ছিল দৃঢ়তা।
আপনি খারাপ জিনিসের সাথে পরিচিত হয়েছেন এটা ভালোবাসার দোষ না। দায়ি সেই মানুষগুলো, যারা আপনাকে ওই অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।
কুহেলি শ্বাস নিল, গলা ভারী হয়ে এল।
কিন্তু তার জন্য আমি কেন কষ্ট পাবো? কেন আমি আমার স্বামীর ভালোবাসা পাবো না? বলুন..!
তার কণ্ঠ ভেঙে গেল, কিন্তু কথাগুলো কাটলো ছুরির মতো।
আমার মন কি চায় না?আর পাঁচটা মেয়ের মতো নিজের স্বামীর মুখ থেকে ‘ভালোবাসি’ শুনতে?তা হলে কেন আমাকে শুধু আপনার অতীতের শাস্তিটাই সারাজীবন পেতে হবে?
আবরার কুহেলি কে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরে বললো,
তুমি আমার মগ্ধতা তুমি আমার কুয়াশার চাদরে মোড়ানোর স্নাগ্ধতা তুমি আমার শেষ বিকেলের পশ্চিম আকাশে ছড়িয়ে পড়া রক্তিম সূর্যের আলো..!
তারপর একটু থেমে বললো,
ভালোবাসা দিয়েই কি সব হয়..?! এই যে তোমাকে ছাড়া আমার নিজেকে অস্তিত্বহীন ছন্নছাড়া পাগল পাগল লাগে বুকের পা পাশে ব্যাথা লাগে এসব কি যথেষ্ট নয়..!?
কুহেলি আর বলার মতো ভাষা খুঁজে পেলো না লোক টা এতো সুন্দর করে কথা বলে যা বলার বাহিরে। আবরার কুহেলি কে নির্বাক থাকতে দেখে দুই হাত দিয়ে কুহেলির ছোট্ট মুখ খানা তুললো তারপর আস্তে আস্তে কুহেলির অধরের দিকে এগিয়ে নেয় ওর মুখ খানা..!কুহেলি বুঝতে পারে কি হতে চলেছে তবে আজকে কেমন নেশা নেশা লাগছে ওর তাই আটকায় না আবরার মিশিয়ে দেয় কুহেলির পাতলা তুলতুলে গোলাপি কাঁপা কোমল অধরে সাথে নিজের অধর খানা।
আজকে আবরারের চুম্বনে কোনো হিংস্রতা নেই আছে শুধু আদর আর স্নেহ মেশানো কুহেলি চোখ বন্ধ করে তা সামলাতে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো চুম্বন অবস্থায় নিজেকে সামলাতে আবরারের শার্টের কলার চেপে ধরলো। আবরার কুহেলির সায় পেয়ে যেনো ধ্যান জ্ঞান হারিয়ে নিষ্পেষণ ভাবে চুম্বন করতে থাকে। কুহেলি আজকে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে আবরারের আদর নিচ্ছে।
ঠিক তখন ফেটিক্স কেবিনের দরজা খোলে ঢুকতে নেয় হঠাৎ এদের দুই জন কে এক সাথে এই অবস্থায় দেখে লজ্জা পেয়ে বেরিয়ে যায়। আর মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলে,
বস আমার বউয়ের লগে রুমাঞ্চ করে ঠিকই
কিন্তু তার ভাইয়ের যে রুমাঞ্চ করার বয়স হয়ছে তা ভুলে যায়। আর এই আমি সিঙ্গেল থেকে বাসরের তৃষ্ণায় আমি কবে জানি মরেই যায়।
তারপর খবরের কাগজে হেডলাইন হবে,
ব্ল্যাকলাইট ব্রাদারহুডের মাফিয়া গ্যাংস্টার এরিক আবরার খানের এসিস্টেন্ট বাসরের তৃষ্ণায় মারা গেছে..! তখন বসের সম্মান কোথায় থাকবে না..! না না আমার বসের সম্মান বাঁচাতেই হবে। তাই আমি এখনি আমার ললিতা আই মিন শায়লার কাছে যায় বলেই দৌড়ে হসপিটালে থেকে বেরিয়ে যায়।
এদিকে…!
চুম্বন অবস্থায় কুহেলি আবরারের কলার ছেড়ে দিয়ে আস্তে করে হাত নেয় আবরারের শার্টের বোতামে তারপর ব্যাস্ত হাতে খুলতে লাগে, আবরার তা দেখে অবাক হয় তারপর সামান্য হাসে যাক তার বোকা পাখির এতো দিনে সু–বুদ্ধ হয়েছে।কুহেলি একে একে সব বোতাম খোলে ফেলে শার্ট টার তারপর টান দিয় খোলতে চাইলো কিন্তু শক্তি হলো না তাই আবরার সাহায্য করে শার্ট খানা খোলতে তারপর ছুরে ফেলে দেয় ফ্লোরে।তারপর আরো কিছু ক্ষণ চুম্বনের পর আবরার অধর ছেড়ে দেয় কুহেলি ছাড়া পেয়েই কয়েকটা লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে স্বাভাবিক হয় তারপর আস্তে করে আবরারের কন্ঠো নালিতে গাঢ় চুম্বন আঁকে। আবরার চোখ বন্ধ করে নিলো। কুহেলি থামলো না বরং আবরারের গলা থেকে শুরু করে চুম্বন দিতে দিতে নিচের দিকে নেমে একদম পেটের নিচ পর্যন্ত চুম্বনের ভরিয়ে দেয়।কিছু ক্ষণ পর কুহেলি মুখ তুলে তাকায় দেখে আবরার কুহেলির কান্ড দেখে মিটিমিটি হাসছে কুহেলি তা দেখে রাগে ফুঁসে উঠে বললো,
আপনি শুধু আমাকে দূর্বল বলেন আজকে আদর দিচ্ছি তবুও হাসছেন কেনো..?!
আবরার কুহেলির তুলতুলে নরম বদন খানা আঁজলায় নিলো। তারপর কুহেলির কানের একটা হালকা করে কামড় দিয়ে হাস্কি কন্ঠে বললো,
হয়েছে আজকে আর আদর লাগবে না তুমি অসুস্থ সুস্থ হও তারপর না হয় আদর দিবে মন মতো..!
কিন্তু কুহেলি জিদ ধরে বললো, না আমার আজকেই আদর চাই আর এখনি।
আবরার আর না করলো না এমনিতেই কুহেরি কাছাকাছি না আসলে তার ভালো লাগে না।
আবরারের ভাবনার মাঝেই নরম ঠোঁটের ছোঁয়া পেলো তার ঠোঁটে আবরারও তাল মিলালো তারপর আস্তে করে কুহেলি কে বেডে শুয়ে দিয়ে নিজেও শুয়ে পড়লো।তারপর কুহেলির ভক্ষবিজাজিকায় মুখ।তারপর সেখানে সহ গ্ৰিবাদেশে ছোট ছোট চুম্বনের সাথে হালকা কয়েক টা কামড় দেয়।সাথে সাথে কুহেলি সাপের ন্যায় মুচড়ে উঠে আবরার তা দেখে হাসলো তারপর কুহেলির কানের কাছে কাছে ফিসফিস করে বলে,
বউ আজকে অজ্ঞান হলেও প্রবলেম নেই আমরা হসপিটালে। কুহেলি সাথে সাথে হালকা মাথা উঁচু করে আবরারের বুকে কামড় দিলো জোরে আবরার কিছু বললো না চোখ বন্ধ করে সহ্য করে নিলো।
কুহেলি তারপর রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বলে, আজকে আমি জিবনেও অজ্ঞান হবো না।
আবরার বাকা হেসে বলে,
আচ্ছা..?
হু
কুহেলি ছোট্ট করে বললো।
আবরার পুনরায় কুহেলির মাঝে ডুব দেয়। রাত যতো বাড়তে থাকে আবরার তত উন্মাদ হতে থাকে কুহেলি মাঝে মাঝে ব্যাথায় গুঙিয়ে উঠে।ব্যথ সহ্য করতে স্বামীর পিঠে বড় বড় নখ বসায়।সেই দিকে হুস নেই উন্মাদ আবরারের সে নিজের কাজে ব্যাস্ত।এই দিকে কুহেলির চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে থাকে।অথচ ঠোঁট জোরে তৃপ্তিময় হাসি।
অতপর এক জোরা দম্পতির সুখ আর শান্তিময় রাত…!আর তাদের সাক্ষী চাঁদের আলো…!”
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫০(১ম+২য়+শেষাংশ)
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৮+স্পেশাল
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪০