Golpo romantic golpo বাঁধন রূপের অধিকারী

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৫৬


#বাঁধন_রূপের_অধিকারী

#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী

[৫৬]

‎আকাশ পুনরায় রূপার দিকে দৃষ্টিপাত করে মুচকি হাসে। ঠোঁটের কোণে দুষ্টুমির আভাস ছড়িয়ে বলে,

‎

‎” রূপা।আমি তোকে তখনই বাড়ি নিয়ে যাব, যখন তোর বান্ধবী আমার গালে চুমু দিয়ে ধন্যবাদ জানাবে। তার আগে না আমি যাব। আর না তোকে যেতে দেব। “

‎

‎কথাটি শ্রবণমাত্রই রূপা ও বৃষ্টি পরস্পরের মুখপানে তাকিয়ে থাকে। দুজনেরই বিস্ময়ে বাক্‌রোধ হওয়ার জোগাড়। পরক্ষণেই বৃষ্টির কণ্ঠে প্রতিবাদের বিস্ফোরণ ঘটে।

‎

‎” অসম্ভব। আমি জীবনেও পারব না। আমি গেলাম। “

‎

‎কথা শেষ করেই প্রস্থান করতে উদ্যত হয় বৃষ্টি। কিন্তু মুহূর্তেই তার হাত চেপে ধরে রূপা।

‎

‎” বৃষ্টি। দাঁড়া। “

‎

‎থেমে যায় বৃষ্টি। ঘুরে দাঁড়িয়ে রূপার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকায়। কণ্ঠে জমে ওঠে অভিমানের সুর।

‎

‎” তুই এখন আমাকে চুমু দিতে বলবি? “

‎

‎বৃষ্টির প্রশ্নের কোনো জবাব দেয় না রূপা। বরং দৃষ্টি সরিয়ে তাকায় আকাশের দিকে। ইতস্তত কণ্ঠে আমতা আমতা করে বলে,

‎

‎” আকাশ ভাইয়া। ও চুমু কীভাবে দেবে? না মানে, আমি এখানে আছি। কীভাবে কী? “

‎

‎আকাশ বেশ ভাবগম্ভীর ভঙ্গিতে বলে,

‎

‎” তোর যদি লজ্জা লাগে, তাহলে তুই এমনিই সরে যাবি। “

‎

‎বৃষ্টি ক্রুদ্ধ নেত্রে আকাশের দিকে তাকায়। লজ্জার আভায় গাল দুটো রক্তিম হয়ে উঠলেও মুখ বাঁকিয়ে দৃঢ় কণ্ঠে বলে,

‎

‎” আমি জীবনে আপনাকে চুমু দেব না। “

‎

‎বৃষ্টির অনড় মনোভাবেও আকাশের ভাবভঙ্গির বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটে না। বরং আরও দু-কদম ভাব নিয়ে জবাব দেয়,

‎

‎” তাতে আমার কী? আমিও রূপাকে নিয়ে বাড়ি ফিরব না। “

‎

‎দুজনের এমন অনড় অবস্থানে রূপা পড়ে যায় উভয়সংকটে। অস্থির হাতে আঙুল কচলাতে কচলাতে অসহায় কণ্ঠে প্রশ্ন করে,

‎

‎” চুমু দিতেই হবে আকাশ ভাইয়া? “

‎

‎আকাশ নির্বিকার ভঙ্গিতে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে।

‎

‎” অফকোর্স। “

‎

‎রূপা অসহায় নয়নে তাকায় বৃষ্টির পানে। তার চাহনিতে বিস্ময়ে চোখ বড় বড় করে বৃষ্টি বলে,

‎

‎” কী? চুমু দিতে বলবি? তাহলে শুনে রাখ। আমি পারব না। “

‎

‎সহসা বৃষ্টির হাতখানি আঁকড়ে ধরে রূপা। কণ্ঠে জেদের সুর তুলে বলে,

‎

‎” একটা চুমুই তো দিয়ে দে না। তাছাড়া দুদিন পর তোদের বিয়েই। প্লিজ প্লিজ দোস্ত। একটা চুমু দিয়ে দে না। তুই না আমার ভালো বেস্টি? তাছাড়া হবু বরকে চুমু দেওয়া ভালো। “

‎

‎রূপার আবদারে বিস্ময়ে চোখ কপালে ওঠে বৃষ্টির। রাগরাঙা দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে,

‎

‎” রূপা৷ তুইও? তুই বুঝতে পারছিস না? আমি উনাকে কীভাবে চুমু দেব? “

‎

‎সহসাই বৃষ্টির গালে চুমু এঁকে দেয় রূপা। অধরে হাসি ফুটিয়ে বলে,

‎

‎” এইভাবে চুমু দিবি। “

‎

‎বৃষ্টি দাঁত চেপে বলে,

‎

‎” তুই আমাকে চুমু দেওয়া দেখাচ্ছিস? “

‎

‎রূপা ঠোঁট উল্টে জবাব দেয়,

‎

‎” তুই তো বললি আমি কীভাবে চুমু দেব। তাই তোকে দেখালাম। “

‎

‎বিরক্তিতে কপাল চাপড়ে ওঠে বৃষ্টি। ধমকের সুরে বলে,

‎

‎” ধুর৷ আমি গেলাম। “

‎

‎কথা শেষ করে বাড়ির পথে পা বাড়ায় বৃষ্টি। পেছন থেকে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে আকাশ। হাসতে হাসতেই উচ্চকণ্ঠে রূপাকে শোনায়,

‎

‎” এই রূপা৷ আমরাও যাই। বিয়ের আগে শ্বশুরবাড়িতে থাকা মন্দ হবে না। চল ভেতরে যাই। “

‎

‎নিমিষেই থমকে যায় বৃষ্টির পদযুগল। আকাশের পরিহাসে খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে রূপা। হাসিতে যোগ দেয় আকাশও। দুজনের দিকে ফিরে এগিয়ে আসে বৃষ্টি। বিরক্ত কণ্ঠে বলে,

‎

‎” দুটোই পাগল। “

‎

‎বৃষ্টির দিকে চেয়ে দুষ্টুমিভরা হাসি ঠোঁটে ফুটিয়ে আকাশ বলে,

‎

‎” তুমি বেশি পাগল। মুই আধা পাগল। দুটোই মিলে ফুল পাগল। “

‎

‎আবারও হাসির রেশ ছড়িয়ে পড়ে রূপার মুখে। আকাশও যোগ দেয় সেই উচ্ছ্বাসে। বৃষ্টি আর এক মুহূর্তও দাঁড়ায় না। অভিমানী পদক্ষেপে এগিয়ে চলে বাড়ির পথে।গেট পেরোতেই আচমকা ছুটে আসে আকাশ। বৃষ্টিকে গেটের আড়ালে আটকে ধরে। আকস্মিক স্পর্শে থমকে যায় বৃষ্টি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকাশ ঝুঁকে আসে তার কানের কাছে। নেশা ভরা মাদকতা ছড়িয়ে ফিসফিসিয়ে বলে,

‎

‎” একটা চুমুই তো চেয়েছিলাম, চাঁদপরী। দিলে না। আচ্ছা, থাক। পাওনা জমা রইল। বাসর রাতে সুদে-আসলে আদায় করে নেব। সেদিন কিন্তু পালানোর পথ পাবে না। বাই, মাই লাভ। টেক কেয়ার। “

‎

‎________

‎

‎কয়েক মিনিটের ব্যবধানেই রূপাকে নিয়ে বাড়ি ফেরে আকাশ। নিঝুম বাড়িজুড়ে তখন ঘুমের নিস্তব্ধতা। আকাশ চলে যায় নিজের কক্ষে।আমতা আমতা পায়ে রুমের সামনে এসে দাঁড়ায় রূপা। দরজায় হাত রাখতেই খুলে যায়। অর্থাৎ দরজা খোলাই ছিল। আর কিছু না ভেবে মৃদু উঁকি দেয় ভেতরে।কিন্তু কোথাও নেই বাঁধন। সোফা শূন্য। বিছানাও জনমানবহীন। রূপার ভ্রুযুগল কুঞ্চিত হয়। কোথায় গেল লোকটা?আর স্থির থাকতে পারে না সে। অস্থির পদক্ষেপে কক্ষে প্রবেশ করে। উঁকি দেয় ওয়াশরুমে। ছুটে যায় ব্যালকনিতে। তবু কোথাও মেলে না বাঁধনের দেখান।অবশেষে আপনমনেই বিড়বিড় করে বলে,

‎

‎” এই লোকটা এত রাতে গেল কোথায়? আমি এখন কোথায় খুঁজব ওকে? “

‎

‎সহসাই মনে পড়ে ছাদের কথা। বাঁধন সেখানে যায়নি তো? একবার গিয়ে দেখে আসবে কি? যেই ভাবনা, সেই কাজ। আর বিলম্ব করে না রূপা। ছুটে যায় ছাদের পানে। গভীর রাতে ছাদে উঠতে ভয় জাগলেও এ মুহূর্তে বাঁধনকে খুঁজে পাওয়াই তার একমাত্র ব্যাকুলতা।ছাদে পা রাখতেই থমকে যায় সে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।ছাদের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে বাঁধন। দুহাত পকেটে গোঁজা। পিঠ ফিরে দৃষ্টি মেলে আছে দূর আকাশে। মৃদুমন্দ বাতাসে কপোলছোঁয়া কেশরাশি এলোমেলো হয়ে উড়ছে।

‎

‎ভয়ে ভয়ে পা বাড়ায় রূপা। কয়েক পা এগোতেই হঠাৎ থমকে যায়। বাঁধনের কণ্ঠে ভেসে আসে গানের সুর। দুহাত বুকে ভাঁজ করে চোখ বুজে আপনমনে গেয়ে ওঠে বাঁধন,

‎

‎’ঘুম আসে না চোখেরই পাতায়

‎ভাসতে থাকি ভাবনার হাওয়ায়’

‎’ঘুমিয়ে গেলে’

‎’স্বপ্নে থাকো’

‎’আমারই দু চোখের তারায়’

‎

‎গানের প্রতিটি সুর এসে আছড়ে পড়ে রূপার হৃদয়তটে। বাঁধনের কণ্ঠেই টের পায় পুরুষটির অভিমান। তাকে যেতে দিতে চায়নি সে। তবু জেদ করেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু বিধাতার কী অদ্ভুত বিধান। শেষমেশ নিজের অভ্যাসের কাছেই হার মেনেছে সে। বাঁধনকে ছাড়া থাকা যেন তার সাধ্যের অতীত।আর স্থির থাকতে পারে না । তৎক্ষনাৎ ছুটে গিয়ে পেছন থেকে সজোরে জড়িয়ে ধরে বাঁধনকে। হুহু করে কেঁদে ওঠে। আকস্মিক রূপার স্পর্শে থেমে যায় বাঁধনের গানের সুর। মেলে ধরে দু’চোখের পাতা। তার উপস্থিতি বুঝতে পারলেও মুখে কোনো কথা ফোটে না। বুকের ওপর ভাঁজ করা হাত নামিয়ে পকেটে গুঁজে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে । এদিকে রূপার অশ্রুধারা ভিজিয়ে দেয় বাঁধনের পিঠের শার্ট। যেন বুকের জমে থাকা সমস্ত অপরাধবোধ অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে তার চোখের কোণ বেয়ে।অঝোর ধারায় কাঁদতে কাঁদতে বলে,

‎

‎” হেরে গেছি আমি বাঁধন।আমি হেরে গেছি। থাকতে পারিনি তোমাকে ছাড়া। তুমি আমার মায়া নও। তুমি আমার অভ্যাস। যে অভ্যাস কোনোদিন শোধরানোর নয়। “

‎

‎কোনো প্রত্যুত্তর দেয় না বাঁধন। হৃদয়ের গহিনে ঝড় উঠলেও বাইরে পাষাণের মতো স্থির। তার নিথর নীরবতা সইতে পারে না রূপা। পুরুষটার পাগলামিতেই যে তার সুখের আবাস। তবে কী করে সহ্য করবে এমন নিরুত্তাপ রূপ? স্বামীকে আরও নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে । কান্নাভেজা কণ্ঠে ঘন ঘন শ্বাস টেনে বলে,

‎

‎” তোমার অভিমান সহ্য করতে পারছি না আমি। ভীষণ কষ্ট হচ্ছে আমার। আগের মতো পাগলামি করো। নয়তো আমিই পাগল হয়ে যাব। প্লিজ পাগলামি করো। “

‎

‎তবু নিরুত্তর দাঁড়িয়ে থাকে বাঁধন। রূপার আকুল ডাকেও সামান্য সাড়া মেলে না। আর নিজেকে সামলে রাখতে পারে না রূপা। বুকভরা কান্না উজাড় করে দেয়। দাঁতে দাঁত চেপে নেয় বাঁধন। মেয়েটা কাঁদছে কেন? সে কি জানে না৷ তার চোখের জল সহ্য করার সাধ্য তার নেই। প্রতিটি অশ্রুবিন্দু বুকে বিঁধে। তবে জেনেশুনে কেন এভাবে কষ্ট দেয় তাকে?

‎

‎ঠোঁট কামড়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে বাঁধন। ধীর পায়ে ঘুরে দাঁড়ায় রূপার মুখোমুখি। মুহূর্তেই মিলিত হয় চারটি চোখ। দমকা বাতাসে এলোমেলো হয়ে উড়ে দুজনের কেশরাশি। নীরব দৃষ্টির সেই মায়াবী ক্ষণে কতটা সময় গড়িয়ে যায়, তার হিসাব কারও জানা নেই।সহসা কয়েক পা এগিয়ে আসে বাঁধন। চোয়াল শক্ত করে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,

‎

‎” আই উইল ডিল উইথ ইউ লেটার। “

‎

‎পরক্ষণেই এক টানে রূপাকে বুকের মাঝে টেনে নেয়। বাহুবেষ্টনীতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে। মুখ লুকায় রমণীর ঘাড়ের ভাঁজে। আকস্মিক আলিঙ্গনে কেঁপে ওঠে রূপার অবয়ব। অশ্রুসিক্ত মুখে সেও স্বামীকে আঁকড়ে ধরে। নিমিষে যেন ঝরে পড়ে সমস্ত অভিমান। বুকের গহিনে আবারও জেগে ওঠে ভালোবাসার চিরচেনা সুখ।কিছুক্ষণ এভাবেই কেটে যায়। একসময় রূপাকে ছেড়ে দেয় বাঁধন। ভ্রু কুঁচকে তাকায় তার মুখপানে। গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন করে,

‎

‎” একা এলে? “

‎

‎রূপা মৃদু স্বরে জবাব দেয়,

‎

‎” না। “

‎

‎” তাহলে? “

‎

‎” আকাশ ভাইয়াকে ফোন করে যেতে বলেছিলাম। ভাইয়া গিয়ে নিয়ে এসেছে। “

‎

‎” আসলে কেন? পাঁচ বছর থাকতে পারতে। “

‎

‎” পারব না। “

‎

‎” তোমার দ্বারা সবই সম্ভব। “

‎

‎আবারও বাঁধনকে নিবিড় করে জড়িয়ে ধরে রূপা। মৃদু কণ্ঠে বলে,

‎

‎” তোমাকে ছাড়া আমার কিছুই সম্ভব নয়। তুমি পাশে থাকলে সবই সম্ভব। আর তুমি না থাকলে সবকিছুই অসম্ভব। “

‎

‎বাঁধন গম্ভীর স্বরে শুধায়,

‎

‎” কষ্ট কেন দাও? “

‎

‎রূপা কোমল কণ্ঠে আশ্বাস দেয়,

‎

‎” আর দেব না। “

‎

‎বাঁধন পুনরায় প্রশ্ন করে,

‎

‎” প্রমিস? “

‎

‎রূপা দৃঢ় কণ্ঠে বলে,

‎

‎” হাজারটা প্রমিস। “

‎

‎হঠাৎ বদলে যায় আকাশের রূপ। দুজনের কথোপকথনের মাঝেই বয়ে যায় ঝোড়ো হাওয়া। মেঘের গর্জনে কেঁপে ওঠে আকাশ। মুহূর্তেই রিমঝিম ধারায় নেমে আসে বৃষ্টি। প্রথমে মৃদু বর্ষণ। তারপর ক্রমশ বাড়ে বৃষ্টির বেগ। দুজনের অবয়ব ভিজে ওঠে জলধারায়।রূপার মনে জেগে ওঠে উচ্ছ্বাসের উর্মিমালা। বাঁধনের বাহুডোর ছেড়ে খানিকটা দূরে সরে যায় সে। দুহাত মেলে চোখ বুজে মুখ তুলে ধরে আকাশপানে। বৃষ্টির শীতল ফোঁটাগুলো আলতো ছন্দে ছুঁয়ে যায় তার মুখ। সহসাই আনন্দে আত্মহারা হয়ে নেচে ওঠে রমণী। খিলখিল হাসিতে মুখর করে তোলে ছাদের নিস্তব্ধতা৷ অন্যদিকে বাঁধন গম্ভীর মুখে দুহাত পকেটে গুঁজে দাঁড়িয়ে থাকে। নীরব দৃষ্টিতে অবলোকন করে রমণীর উচ্ছ্বসিত পাগলামি। মুখে গাম্ভীর্যের আবরণ থাকলেও অন্তরে বয়ে যায় প্রশান্তির মৃদু ফল্গুধারা।‎উচ্ছ্বাসে নাচতে নাচতে হঠাৎ পা পিছলে যায় রূপার। মুহূর্তেই টাল সামলাতে না পেরে পড়ে যেতে নেয়। তৎক্ষণাৎ এগিয়ে এসে তার কোমর আঁকড়ে ধরে বাঁধন। রক্তিম চোখে তাকায় রমণীর পানে। কিন্তু বিন্দুমাত্র ভীত না হয়ে বাঁধনের দিকে তাকিয়ে হেসে দেয় রূপা। সেই হাসির মায়ায় মুখের কথা মুখেই থেকে যায় পুরুষটির। পরক্ষণেই এক ঝটকায় কোলে তুলে নেয় তাকে।বাঁধনের গলা জড়িয়ে ধরে বিস্মিত কণ্ঠে শুধায় রূপা,

‎

‎” কোলে নিলে কেন? “

‎

‎ছাদ থেকে নামতে নামতে বাঁধন দুষ্টুমিভরা স্বরে জবাব দেয়,

‎

‎” তোমাকে রুমে নিয়ে ইন্টু-বিন্টু করব তাই। “

‎

‎রূপা ভ্রু কুঁচকে কৌতূহলী কণ্ঠে প্রশ্ন করে,

‎

‎” এই ইন্টু-বিন্টু আবার কী? “

‎

‎বাঁধন মুচকি হেসে রহস্যময় স্বরে বলে,

‎

‎” রুমে চলো। বুঝিয়ে দিচ্ছি। “

‎

‎কক্ষে ফিরেই রূপাকে সোজা বাথরুমে নিয়ে যায় বাঁধন। আলতো করে নামিয়ে দিয়ে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রমণীর মুখপানে। ভেজা পোশাক শরীরের সঙ্গে লেপ্টে আছে। সিক্ত কেশরাশি ছড়িয়ে রয়েছে গাল ও ঘাড়জুড়ে। মুখের ওপর তখনো লেগে আছে বৃষ্টির অজস্র জলকণা।

‎সহসাই অদ্ভুত নেশা গ্রাস করে বাঁধনকে। দৃষ্টিতে নামে ঘোরলাগা আবেশ। মুহূর্তেই রূপাকে দেয়ালের সঙ্গে আটকে ধরে। আকস্মিক স্পর্শে শিহরিত হয়ে ওঠে রূপার সর্বাঙ্গ। তার কানের কাছে মুখ নিয়ে নেশাতুর কণ্ঠে ফিসফিসিয়ে বাঁধন বলে,

‎

‎” তুমি আমার কাছে কবে ধরা দেবে, হার্টওয়াইফ? “

‎

‎বাঁধনের কথার অন্তর্নিহিত ইঙ্গিত বুঝতে অসুবিধা হয় না রূপার। পুরুষটি কী বোঝাতে চাইছে, তা বেশ ভালোই উপলব্ধি করে । লজ্জার রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ে গালজুড়ে। তবু স্বামীর নেশাতুর চোখে চোখ রেখে মৃদু কণ্ঠে বলে,

‎

‎” দেব। “

‎

‎বাঁধনের অধরে দুষ্টু হাসির রেখা ফুটে ওঠে। বেসামাল স্বরে শুধায়,

‎

‎” হাউ সুন? কবে সেই সৌভাগ্য হবে আমার? “

‎

‎রূপা লাজুক কণ্ঠে জবাব দেয়,

‎

‎” খুব তাড়াতাড়ি। “

‎

‎বাঁধনের আর তর সয় না। রূপার ঘাড়ের ভাঁজে মুখ ডুবিয়ে দেয়। মুহূর্তেই শিহরণের শীতল স্রোত বয়ে যায় রমণীর সর্বাঙ্গে। নিশ্বাসের ছন্দ এলোমেলো হয়ে আসে। বাঁধন তার কানের কাছে ঠোঁট রেখে মাদকতামাখা স্বরে ফিসফিসিয়ে বলে,

‎

‎” বিশ্বাস করো হার্টকুইন। আই অ্যাম লুজিং মাই কন্ট্রোল। যেদিন সত্যি সত্যি তোমাকে নিজের করে পাব, সেদিন তোমার এই পাগল স্বামীর ভালোবাসার তীব্রতা সামলানো সহজ হবে না। স্বয়ং খোদা ছাড়া আর কেউ জানে না, কতটা আদরে তোমাকে ভরিয়ে দেব। “

‎

‎স্বামীর উন্মাদনামাখা কথায় শুকনো ঢোক গিলে রূপা। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে আওড়ায়,

‎

‎” কি-কি করবে? “

‎

‎বাঁধনের অধরে খেলে যায় বাঁকা হাসি। রমণীর কানের একেবারে কাছে মুখ নিয়ে আলতো করে ঠোঁট ছুঁইয়ে দেয়। লজ্জায় চোখ বুজে ফেলে রূপা। দুহাতে খামচে ধরে নিজের ওড়না।বাঁধন নেশাতুর স্বরে বলে,

‎

‎” সেদিন এত আদর করব তোমাকে যে সাত দিনেও সেই আদরের ঘোর কাটবে না। বিছানা ছেড়ে ওঠতেও পারবে না, হার্টওয়াইফ। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড সি। “

‎

‎লজ্জায় রূপার কর্ণযুগল যেন অগ্নিবর্ণ ধারণ করে। রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়ে গালজুড়ে। থরথর করে কেঁপে ওঠে অধরযুগল। বাঁধনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আটকে যায় সেখানেই। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে মাদকতামাখা স্বরে বলে,

‎

‎” আই ওয়ান্ট ইউ টু কিস মি। “

‎

‎বিস্ফারিত নয়নে তাকায় রূপা। কিছু বলতে উদ্যত হতেই তার অধরে তর্জনী ঠেকিয়ে দেয় বাঁধন।

‎

‎” শশশ। নো মোর এক্সকিউজ। কিস করো বলছি। নইলে আমিই যদি শুরু করি, সহজে কিন্তু রেহাই পাবে না। আজ তোমার এই পাগল স্বামীটা ফুল মুডে আছে৷ “

‎

‎লজ্জায় অবনত হয় রূপার মুখ। অধর কামড়ে একবার ঢোক গিলে নেয়। ক্ষীণ সাহস সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে মুখ তোলে। অতঃপর চোখের পাতা বুজে আলতো করে বাঁধনের অধরে নিজের অধর ছুঁইয়ে দেয়।মুহূর্তটুকু দীর্ঘায়িত হওয়ার আগেই সরে আসতে চায় । সহসায় তার কোমর শক্ত করে আঁকড়ে ধরে বাঁধন। আরও নিবিড় করে কাছে টেনে নেয় রমণীকে। তারপর রূপার অধর নিজের চুম্বনে আবদ্ধ করে ফেলে। বাঁধনের আকুলতায় রূপার সমস্ত সত্তা শিহরিত হয়ে ওঠে। লজ্জা, সংকোচ আর ভালোবাসায় থমকে যায় তার সকল চঞ্চলতা।

চলবে…!

সীমা ইশতিয়াকের কাহিনি কাল আসবে৷ আজ লেখার মতো মুড পাইনি৷ ক্ষমা করো৷ কাল আসবে ওদের ধামাকা কষ্টের কাহিনি৷

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply