#আসবো_ফিরে_আবারো
#পর্ব_৭৪
#সুরভী_আক্তার
( অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষেধ
)
চকিতে পাশ ফিরলো শাফাহ্ । যুবকের আহত , বিষন্ন মুখাবয়ব । মেয়েটার মাঝেও দ্বন্দ্ব হাজার । সে ইতস্তত । তবে লোকটার ম্লান মুখখানা দেখে মায়া হলো তার । কাতর আবদারে সায় দিয়ে উঠে বসার জন্য উদ্যত হতেই বাঁধা দিলো ইয়াশ…..
” উহুমমম,, শুয়ে থাকো ।
” মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে বললেন যে ?
” হু !
ছোট্ট শব্দ টুকু উচ্চারণ করে একটা অভাবনীয় কান্ড ঘটিয়ে বসলো তপ্ত যুবক । আকস্মিক নিস্তেজ শরীর খানা এলিয়ে দিলো বিছানায় । শাফাহ্’র শরীর ঘেঁষে ডানপাশে । থামলো না এতেই, অপ্রত্যাশিত ভাবে হুট করেই মাথা নামিয়ে রাখলো রমনীর বুকের নিকট । সর্বাঙ্গের ভার বিছানায় পড়লেও যুবকের মাথার ভার পুরোপুরি এসে পড়লো রমনীর বুকের উপর গ্রীবা ঘেঁষে । সে মেয়েটার উদর পেঁচিয়ে নিলো একহাতে । চোখ বুজে ভারী শ্বাস ফেলে বড্ড কাতর স্বরে আওড়ালো অস্ফুটে….
” এবার হাত বুলিয়ে দাও ।
শাফাহ্ পাথরে পরিণত হয় । অসম্ভব শিরশিরানিতে জমে যায় পুরো । প্রথম বার লোকটার এতোটা গভীর আলিঙ্গন তার কোমলাঙ্গে কম্পন তুললো । ভারী করলো শ্বাস প্রশ্বাস । এক মুহুর্ত দম বন্ধ রাখলেও আর পারলো না । ধক্ করে শ্বাস টানলো বুক ফুলিয়ে । পরপর ফেলতে লাগলো নিঃশ্বাস । দ্রুত বাড়তে লাগলো হৃদস্পন্দন ।
তপ্ত যুবকের তপ্ত শ্বাস রমনীর গ্রীবার নরম ত্বকে আঁচড়ে পড়ছে । ক্ষণে ক্ষণে শিউরে উঠছে সে । ঢোক গিলছে লাগাতার । অস্থিরতায় নড়চড় বাড়লো ক্রমশ ।
ইয়াশ বুঝতে পারলো নারী দেহের তিরতির কম্পন ।
রমনীর অস্বস্তি বুঝে চোখ খুলে শুধালো….
” অস্বস্তি হচ্ছে ? সরে আসবো ?
শাফাহ্ ঢোক গেলে । নড়চড়ের পাশাপাশি ঘন শ্বাস কমিয়ে আনে । সামলায় নিজেকে । প্রত্যুত্তরে মৃদু বুলি ফুটায় ঠোঁট নাড়িয়ে….
” উঁহু !
” তাহলে আমাকে স্বস্তি দাও এখন ! ঘুমাবো আমি ।
বলেই সে এবার মেয়েটাকে বন্দি করলো পুরোপুরি । লোকটা তাকে চেপে ধরেছে । সে কোনো রকমে হাত উঠিয়ে যুবকের চুলের ভাঁজে আঙ্গুল ডোবায় । নড়ে ওঠে ইয়াশ । যেনো আয়েশ পেলো । মাথা গুঁজে নিলো নিবিড় ভাবে । ডাকলো কিয়ৎ কাল বাদ…
” টুকটুকি ।
” হু !
” কিছু জানার নেই তোমার ? জিজ্ঞেস করবে না ?
” নাহ !
” কেনো ?
” ঘুমান ! রেস্ট প্রয়োজন আপনার । সারাদিন অনেক ঝাপটা গেছে আপনার উপর দিয়ে ।
ইয়াশ চুপ থাকলো মুহুর্ত কয়েক । আবার ডেকে বললো…..
” কাল দুপুরে ফ্লাইট । চলে যাবো আবার । তৈরি থেকো ।
শাফাহ্ মুখ কালো করে উত্তর করলো খসখসে গলায়…..
” আচ্ছা ।
” কালকেই যাবো ?
জিজ্ঞাসু স্বর । শাফাহ্ ভেঙিয়ে বলে চোখ মুখ কুঁচকে…..
” ফ্লাইট আছে, তো যাবো না ? ঢং করে আবার আমাকে জিজ্ঞেস করার কি আছে ?
ইয়াশ নিঃশব্দে খানিক হাসে । রমনীর মসৃন গ্রীবার ভাঁজে উষ্ণ শ্বাস ফেলে নাক ঘষে বলে…..
” না মানে,,, হানিমুন করতে এসেছি । সেরেই যাই একেবারে ? সাহস দেখতে চাইছিলে আমার, সেটাও দেখিয়ে দিই ? কি বলো ?
নীরব হুমকিতে মেয়েটা থমকে গেলো মুহুর্তেই । চুলের ভাঁজে আঙ্গুল চালানো হাত খানাও স্থির হলো । জমাট বাঁধলো কোমলাঙ্গ । ওর পরিস্থিতি আন্দাজ করে ঠোঁট কামড়ে ধরে ইয়াশ । বলে গলা ঝেড়ে…..
” খুব উস্কে দিচ্ছিলে কাল আমায় । আজ কি হলো ? এতোটা ঝিমিয়ে গেছো কেনো আজ ? কথাও বলছো না । সারাদিন যা যা ঘটেছে, তার কিছুই বোঝো নি জানি । না বোঝালে বুঝবেও না । পরে বোঝাবো । আগে চলো অলসতা কাটিয়ে ফেলি । এক কাজ করি,, এক সপ্তাহ ছুটি নিয়ে যখন এসেই গেছি, তখন ছুটি কাটিয়ে একেবারে হানিমুন সেরেই যাই । ওকে ?
ওপাশে নীবর । ভারাক্রান্ত মনে ঠোঁট টিপে হাসে ইয়াশ । সাঁড়া পেতে বলে পূণরায়……
” টকেটিভ লেডি,, চুপ করে আছো কেনো ? কথা বলো । এভাবে নিশ্চুপ থাকার জন্য কাছে রাখিনি তোমায় ।
তবুও সাড়া নেই । ইয়াশ বিব্রত হলো । ভাঁজ পড়লো ললাটে । মাথা তুলে তাকাতেই গাঢ় হলো কপালের ভাঁজ । মেয়েটা চোখ খিচে বন্ধ করেছে । ভান ধরেছে ঘুমানোর । যেনো কিছু শুনছে না । ঘুমোচ্ছে বেঘোরে ।
ওর নাটকীয়তা দেখে না চাইতেও ফিক করে হেসে উঠলো ইয়াশ । মেয়েটা আসলেই বোকা । ঠিকঠাক অভিনয় করতেও পারে না । বড্ড কাঁচা তার ঘুমের নাটক । ভয়ার্ত জড়োসড়ো মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ও ঘুমোয় নি । চোখ খিচে রেখেছে কেবলই । হার্টবিট বেড়ে গেছে নির্লজ্জ কথাবার্তায় । সেসবের উত্তর থেকে বাঁচতেই এই পথ বাছাই করা ।
ইয়াশ সবটা বুঝে গেলেও ওর অভিনয়ে সায় দিলো । ঠোঁট ভিজিয়ে দূরত্ব বাড়ালো । সরে এসে আবার ঝুঁকে বললো ফিসফিস করে….
” ঘুমিয়ে গেছো বলেই বেঁচে গেলে স্টুপিড, নয়তো সাহস দেখাতাম । অলসতা কাটাতাম ।
মেয়েটা আর পারে না । বিড়ম্বনায় লাল হয়ে আসে পুরো । ঘুমের ভান ধরেই পাশ ফিরে নিজের মুখাবয়ব আড়াল করে । যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচে এতে ।
ইয়াশ ওষ্ঠপূটে দাঁত বসিয়ে মৃদু হাসে ওর বোকা বোকা কর্মকান্ডে ।
,,,,,,
দিনক্ষণ পেরিয়েছে মাঝে । কাল বিকেলে রৌদ্রের ফ্লাইট । সে চলে যাবে । সারার বিয়ে পরশু । আজ মেহেন্দি । কাবির পরিবারের সবাই না গেলেও রৌদ্র,আদ্র, শিশির আর মেঘা, শিকদার বাড়িতে যাবে আজ । বাকিরা যাবে একেবারে বিয়ের দিন । বাড়ির পরিস্থিতি খুব একটা স্বাভাবিক হলে আজকেই যেতো সকলে ।
শাফাহ্ নেই, তার উপর মেহের অসুস্থ । তাকে ফেলে বাকিরা যায় কি করে ?
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান । বিকেলের পরপর ও বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরোনোর কথা । শিশির আর মেঘা তৈরি পুরো ।
ওদিকে এই অসময়ে শাওয়ারে ঢুকেছে রৌদ্র । বিছানার উপর রাখা তার মুঠো ফোন খানা ভাইব্রেশন মোডে কেঁপে উঠছে কিয়ৎ কাল বাদ বাদ । মেঘা নিচে নেমেছিলো তৈরি হওয়ার পর । এতক্ষণে আবার রুমে ঢুকলো সে । ফোনের আওয়াজ অনুমান করতেই বিছানার দিকে চোখ দিলো । অন্যপাশে তাকিয়ে খুঁজলো রৌদ্র কে । পড়ন্ত বিকেলে এই লোক দ্বিতীয় বারের মতো শাওয়ার নিতে ঢুকেছে । এদিকে দেরি হয়ে যাচ্ছে, তার খেয়াল নেই । একবিংশী ঘাড় ঝাঁকায় দুদিকে । তপ্ত শ্বাস ফেলে কদম এগোয় বিছানার দিকে । কে ফোন করছে কে জানে । ফোন খানা হাতে তুললো সে । স্ক্রিনে ঠিকঠাক ভাবে দৃষ্টি পড়ার আগেই কেটে গেলো কল । খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখালো না মেঘা । নিরুদ্বেগ হয়ে ফোন রাখার আগেই আবারো কেঁপে উঠলো যন্ত্র খানা । এবারে কপাল গুটালো মেঘা । স্ক্রিনে তাকানো মাত্রই গাঢ় হলো কপালের ভাঁজ ।
অপরিচিত নাম্বার । সেভ নেই । তার উপর কান্ট্রি কোড ভিন্ন । রৌদ্র তো সুইজারল্যান্ডে থাকতো । সেই কান্ট্রি কোড হয়তো । এতোবার লাগাতার ফোন দিচ্ছে , নিশ্চয়ই ভীষণ দরকারি কল । মেঘা ওয়াশ রুমের দিকে তাকায় । এই লোকের বেরোনোর নাম নেই ।
ধীরে বিছানায় বসলো একবিংশী । কি একটা ভেবে ফোন রিসিভ করে কানে ঠেকালো ।
মুখ খুলবে, তার আগেই ওপাশ থেকে বাচ্চা বাচ্চা আদুরে ডাক ভেসে আসে…..
” পাপা ?
স্থির রমনী কেঁপে ওঠে । ছলাৎ করে প্রকম্পিত হয় তার দূর্বল কায়া । তৎক্ষণাৎ কান থেকে ফোন নামিয়ে স্ক্রিনে তাকায় চোখ গোল গোল করে । ঝিঁঝিঁ ধরে সর্বাঙ্গে ।
বুঝে পায় না কিছু । কে ডাকলো ? কোন বাচ্চা ? হ্যাঁ, বাচ্চাই তো ! কিন্তু কে সে ? রৌদ্রের ফোনে কল করে কাকে খুঁজছে ? কাকে ডাকছে পাপা ?
অবিলম্বে মেঘার চোখ ভরে আসে অপ্রত্যাশিত সন্দেহে । শুষ্ক ঢোক গেলে একবিংশী । কম্পন রুখে ফের কানে ঠেকায় ফোন । চুপটি করে শোনে । ওপাশের বাচ্চা টা বলছে মিহি আওয়াজে……
” আই মিস ইউ,পাপা ! কবে আসবে তুমি ? মিনি তোমায় মিস করছে । তুমি বলেছিলে নেক্সট মানথ আসবে । এখনো আসোনি । আই মিস ইউ পাপা ।
দ্বিতীয় বারের মতো দুলে ওঠে মেঘার শরীর । বসা অবস্থায় কেমন পিছিয়ে যায় সে । হাত ফসকে ফোন খানা পড়ে যায় বিছানায় ! তবুও কানে আসে আওয়াজ…..
” পাপা । আর ইউ হেয়ার ? মাম্মা ফোন করে না তোমায় । মিনি ফোন করেছে আজ । ইউ নো, মিনি ব্রেভ গার্ল । সব পারে । মিনি গুড গার্ল হয়ে আছে পাপা । মাম্মা কে ডিস্টার্ব করে না একটুও । মাম্মা বলেছে, মিনি গুড গার্ল থাকলে মিনির পাপা মিনির কাছে আসবে । কিন্তু আসে না মিনির পাপা । মিনি অ্যাংগ্রি পাপা ! তুমি আসো না ।
বারংবার পাপা ডাকে কান ঝালাপালা হয়ে যায় রমনীর । যেনো ঝংকার ওঠে দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে । চোখের বৃহৎ পাপড়ি ছাপিয়ে পানি ঝরে টুপ করে । সাঁড়া না পেয়ে ওপাশে ডেকেই যাচ্ছে বাচ্চাটা । একবিংশীর মস্তিষ্ক জেঁকে ওঠে । দরজার শব্দ পেতেই তড়িঘড়ি করে কেটে দেয় ফোন । উপরে ভেসে ওঠা নাম্বার টা ডিলিট করে দেয় নিজ হাতে ।
সে লম্বা লম্বা শ্বাস টেনে স্বাভাবিক করে নিজেকে । বদল টানে হাঁসফাঁস অবস্থায় । জবজবে ভেজা চোখ মুখ মুছে নেয় তড়িতে ।
ততক্ষণে রৌদ্র ওয়াশ রুম থেকে বেরিয়ে এসেছে । পড়নে কেবলই একখানা সাদা টাওয়েল পেঁচানো । টুপটাপ জল কনা চিকচিক করছে উদ্যম শরীরে ।
বেরিয়েই মেঘাকে দেখে ভরা গালে হাসলো সে । একবিংশী সেজেছে টুকটাক । মেঝের দিকে দৃষ্টি নামিয়ে নীরবে বসে আছে খাটের একপাশে । রৌদ্র সোজাসুজি এগিয়ে আসলো । ঝুঁকে ঠোঁট নামিয়ে চুমু খেলো কপালে….
” আর ইউ রেডি, সুইটহার্ট ?
রমনী অনড়, নিশ্চুপ । রৌদ্র ক্লজেট থেকে দুটো শার্ট বের করে । একটা সাদা অন্যটা কালো । সে দুটোই মেঘাকে দেখানোর চেষ্টা করে বললো….
” ইভারা,, দেখোতো কোনটা পড়বো । হোয়াইট অর ব্লাক ?
মেঘা অনড় তবুও । স্থানচ্যুত হলো না বিন্দুমাত্র । আর না দৃষ্টি তুললো । রৌদ্র কপাল গুটায় ওর উদ্বেগহীনতায় । হেতু না বুঝে বলে আবার…..
” কি হয়েছে MP ? বলো না কোনটা পড়বো ? দেরি হয়ে গেছে অলরেডি ! যেতে হবে তো ?
সাঁড়া নেই এবারেও । রৌদ্র কদম বাড়িয়ে মুখোমুখি হলো । শার্ট দুটো রেখে চিবুক উঁচিয়ে ধরলো একবিংশীর । অত্যন্ত মোলায়েম কন্ঠে শুধালো….
” হোয়াট হ্যাপেন্ড ইভারা ? এভাবে পাথরের মতো বসে আছো কেনো ? কথা বলছো না যে ? কি করেছি আমি আবার ?
মেঘা নিস্পৃহ দৃষ্টি তুললো কেবলই । চোখাচোখি হলো আলগোছে । কিছু বললো না রমনী । হয়তো বোঝার চেষ্টা করলো মুখোশধারী লোকটার আসল রুপ । ধীরে ধীরে চোখে পলক পড়লো তার । তিনটে পলক পড়ার আগেই টুং টাং শব্দে বেজে ওঠে রৌদ্রের ফোন । হকচকিয়ে যায় বেপরোয়া যুবক । দ্রুত ফোন হাতে নিয়ে নজর দেয় স্ক্রিনে । পরক্ষণে মেঘার দিকে তাকিয়ে ঢোক গেলে শুষ্ক । ফোন কেটে সাইলেন্ট করে ছুঁড়ে মারে বিছানার উপর । মুখ গোল করে শ্বাস ফেলে । ভাগ্যিস সময় মতো ফোন এসেছে । রৌদ্র এখানে না থাকলে কেলেঙ্কারি ঘটে যেতো এতক্ষণে । তার উপর এই আনসেভ নাম্বারটা থেকে অনেক আগেই নাম সহ মিনির ছবি মুছে দিয়েছে রৌদ্র । নাম্বার দেখে সে চিনলেও আর কারো চেনার উপায় নেই ।
রৌদ্র দম টানে । বলে হেসে…..
” ইম্পর্ট্যান্ট কল নয় । তুমি বলো, কি হয়েছে ? এমন মনমরা হয়ে বসে আছো কেনো ?
মেঘা উঠে দাঁড়ায় । দুহাতে ডলে চোখ মুখের সাজ ঘাটতে ঘাটতে বলে নির্দ্বিধায়….
” কিছু না ।
” কিছু না মানে অনেক কিছু । কি করছো ইডিয়ট ? মেকআপ ঘেঁটে যাচ্ছে তো ?
” ঘাটছি আমি । চেঞ্জ করে আসি ।
উদ্যত কদম বাড়ায় সে । পেছন থেকে হাত টেনে ধরে রৌদ্র….
” চেঞ্জ করবে মানে ? সারার মেহেন্দি আজ , যাবে না । দেরি হয়ে গেছে অলরেডি ।
মেঘা ঘাড় ঘোরালো না । না তাকিয়ে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বললো ঢিলে কন্ঠে…..
” কোথাও যাবো না আমি । আপনার ইচ্ছে থাকলে চলে যান । বাঁধা নেই ।
সে আর থামলো না । দ্রুত ওয়াশ রুমে ঢুকলো । পিছু ডাকে রৌদ্র, রমনী শোনে না । তার উপেক্ষায় বিস্তর ভাঁজ পড়ে যুবকের মসৃণ ললাটে ।
প্রায় মিনিট দশেকের মাথাতেও চেঞ্জ করে বেরোয় না মেঘা । রৌদ্র আঁকুপাঁকু করে দরজায় কড়া নাড়ে..
” ইভারা ,, আর ইউ ওকে জান ? এতক্ষণ লাগছে কেনো চেঞ্জ করতে ? কি হয়েছে হঠাৎ ? রেডি হয়েছিলে তো যাওয়ার জন্য, যাবে না কেনো তাহলে ? সারা মন খারাপ করবে না গেলে । আমিও থাকতে পারবো না ওর বিয়েতে । আজ গেলে ভালো হতো ।
এতক্ষণে খট করে দরজা খুলে বেরিয়ে আসলো মেঘা । চেঞ্জ করে ঘরের কাপড় পড়েছে ।
মুখশ্রী তার জবজবে ভেজা । পানি ছিটিয়েছে । ঢেকেছে চোখ থেকে গড়ানো নোনা জল । সে উদ্যমী হয়ে রৌদ্র কে পাশ কাটিয়ে টাওয়েলে মুখ মুছতে মুছতে মিররের সামনে এসে দাঁড়ায় । পিছু পিছু ছটফটে যুবক । রমনীর পানে দৃষ্টি প্রখর করা মাত্রই চমকে যায় রৌদ্র । তার স্ত্রীর চোখে অস্বাভাবিকতা, লালচে আঁখি দ্বয়ের আর্দ্র কিনার । যেনো কান্না করেছে । তা দেখে ধক্ করে ওঠে রৌদ্র । রমনীর দু বাহু আঁকড়ে নিজের দিকে ঘোরায় । বলে আতঙ্কে…..
” কি হয়েছে সানি, শরীর খারাপ লাগছে ? কোথায় কি প্রবলেম হচ্ছে বলো ?
“………
” কিছু বলছো না কেনো ইডিয়ট ? জালাচ্ছো কেনো এভাবে ? কিছু জিজ্ঞেস করেছি আমি, হঠাৎ কি হলো তোমার ?
” কিছু না তো । ভালো লাগছে না, ছাড়ুন ।
” ভালো লাগছে না কেনো ? একটু আগেও তো খুশি ছিলে !
” এখন একটু পর,,, এই একটু পরে আর খুশি নেই আমি ।
চোখে চোখ রেখে ধারালো জবানে কথা টুকু বললো রমনী । নিজেকে ছাড়িয়ে ভেজা চোখ মুখ ভালো মতো মুছে নিলো । রৌদ্র কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ধীর কদমে ঘর ছাড়লো । ওর যাওয়ার পানে আশ্চর্য হয়ে চেয়ে রয় রৌদ্র । বুঝে পায় না কিছু । কি হলো হঠাৎ এই মেয়ের ?
নিচে আদ্র আর শিশির অপেক্ষা করছে অনেকক্ষণ হলো । রৌদ্র আর মেঘা নামলেই চারটে মিলে রওনা দেবে একসাথে ।
মেঘা নিস্তেজ কদমে নামতে নামতে বুঝতে পারে, তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে । ঘোলাটে দেখছে আশপাশ । কান্নার বেগে হুঁ হুঁ করে কেঁপে উঠছে অন্তঃস্থল । ঠোঁট ভেঙে কান্না পাচ্ছে তার । সে নিজেকে সামলাতে পারে না । অসম্ভব হয়ে পড়ে বুক চেরা কান্না আটকানো ।
নামতে গিয়ে কধাপ সিঁড়ি উপর থেকেই শরীর ভেঙ্গে টলে পড়ে আকস্মিক । তার দূর্বল কায়া গড়গড়িয়ে এসে থামে সিঁড়ির শেষ প্রান্তে । গলা চিরে বেরোয় আহ্ সূচক মৃদু আর্তনাদ ।
শিশির আর আদ্র বসে ছিলো । ধড়ফড়িয়ে চকিতে তাকালো ওরা । মেঘাকে ওভাবে পড়ে যেতে দেখে চিৎকার দিয়ে ওঠে আদ্র…
” মেঘ ?
ছুটে যায় তাৎক্ষণিক । রমনীকে টেনে আগলে নেয় ।
ব্যাথা না পেলেও এই সুযোগে হুঁ হুঁ করে কেঁদে ওঠে মেঘা । আদ্র বিচলিত হয়ে পড়ে……
” মেঘ,,, পড়লি কি করে তুই ? ইশশ্,,, ব্যাথা পেয়েছিস খুব । কোথায় লেগেছে , পায়ে ? দেখি…..
পায়ে তাকালো সে । এ ব্যাথা কি উপর থেকে বোঝা যায় নাকি ? কোথায় ব্যাথা পেলো কে জানে !
মেয়েটা কাঁদছে ডুকরে । অস্বাভাবিক ক্রন্দন তার । আদ্র ভড়কায় । এভাবে শব্দ করে কাঁদছে, নিশ্চয়ই গুরুত্বর চোট পেয়েছে । সে আরো উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলো..
” এই মেঘ বুড়ি,, কি হয়েছে বোন ? কোথায় লেগেছে বল আমায় । বুঝতে পারছি না তো আমি । কোমরে লেগেছে, নাকি পায়ে লেগেছে, হ্যাঁ ? বল আমায় ।
শিশির, বরফ নিয়ে এসো যাও । মেঘ, ওঠে দাঁড়াতে পারবি ? দেখি, চেষ্টা কর । আমি ধরছি তোকে ।
মেঘা কিচ্ছুটি বলে না । কাঁদে শুধু । তীব্র ব্যথা পেলেও এতো জোরে কাঁদার মতো মেয়ে নয় সে । মুখো ভঙ্গিমাও জর্জরিত । আদ্র আর কিছু শুনলো না ওর থেকে । আলগোছে দুহাতে তার ছিমছাম নারী তনু আগলে সোফায় বসালো । বাড়ির সবাই জড়ো হয়েছেন মুহুর্তেই ।
রৌদ্রও মেঘার কান্নার শব্দ পেয়ে হুড়মুড়িয়ে নামলো নিচে । সোফার উপর একবিংশীকে ওভাবে মুখ চেপে কাঁদতে দেখে ছলকে উঠলো দ্বিগুণ । আদ্র আর শিশির দুপাশে বসে । সবাই বিচলিত । রুবিনা কাবির হেতু শুধোতে ব্যস্ত । রৌদ্র ভড়কে যায় । গলা চিরে ডেকে ওঠে….
” ইভারা !!
ডেকেই দমে না । তেড়ে যায় । আদ্র কে টান মেরে সরিয়ে সেখানে বসে । রমনীকে বাহু বন্দি করে হাঁসফাঁস করে শুধোয়……
” কি হয়েছে সুইটহার্ট । কাঁদছো কেনো এভাবে ?
মম , কি হয়েছে আমার ইভারার ? ও কাঁদছে কেনো ? আদ্র, কি করেছিস তুই ওকে ?
তার কন্ঠে চাপা উদ্বিগ্নতা, তপ্ত রাগ, ঝাড়ি, সব প্রকাশ পায় । হিতাহিত ধ্যান খোয়ায় বেপরোয়া যুবক । রুবিনা কাবির নিজেও কিছু বোঝেন না । আদ্র বোঝায়…..
” সিঁড়ি থেকে পড়ে গেছে । ব্যাথা পেয়েছে । কিন্তু কোথায় লেগেছে, বলছে না কিছু । মেঘ বলনা,, কোথায় লেগেছে তোর ?
মেঘার কান্না হেঁচকিতে রুপ নেয় । বাড়ে পাল্লা দিয়ে । সে কাঁদে আপন দুঃখে । ব্যাথা পায় নি মোটেও । তবে ভান ধরলো ব্যাথাতুর । কেঁদে নিচ্ছে এই সুযোগে । প্রয়োজন ছিলো একটা বাহানা ।
রৌদ্রের স্পর্শ তার কাছে অসহ্য লাগে । তড়তড় করে বাড়ায় যন্ত্রণা । কানে বাজে ফোনের ওপারের সেই পাপা ডাক । সে হাউমাউ করে ডুকরে ওঠে অসহনীয় যন্ত্রণায় । চোটে গিয়ে ধাক্কা মেরে দূরে সরায় রৌদ্র কে ! ঝাঁজিয়ে ওঠে চিৎকার করে……
” দূরে যান আমার থেকে । খবরদার কাছে আসবেন না । আমি চাই না আপনাকে । প্রয়োজন নেই আপনার মতো বেইমানের । আপনি ঠগবাজ,, বেইমান । চলে যান আমার চোখের সামনে থেকে । ছোঁবেন না আমায় ।
পিছিয়ে যায় রৌদ্র । তার কাঁপা কাঁপা চিৎকারে থরথরিয়ে কেঁপে ওঠে দালানকোঠা । তাজ্জব বনে যান সকলে । মেঘা পাশ ফিরে দুহাতে জাপটে ধরে শিশির কে । মুচড়ে ওঠে ভেতর । কেঁদে ওঠে আরো উঁচু স্বরে ।
শিশির ঢোক গিলে আওড়ায় ঠান্ডা গলায়…
” মেঘা,, কি হয়েছে তোর ? এমন করছিস কেনো ? পড়ে গেছিলি, ব্যাথা পেয়েছিস খুব ? কোথায় লেগেছে সেটা বলবি তো ? না হলে বুঝবো কি করে বল !
রমনী নিজেকে সামলাতে হিমশিম খায় । ফুঁপিয়ে ওঠে আওয়াজ কমিয়ে ।
কিয়ৎ কাল বাদ নিভে আসে তার দাপুটে কান্নার বেগ । সে ফোপায় শুধু । আলগোছে ছাড়ে শিশির কে । শিশিরের কাঁধ ভিজে জবজবে মেঘার কান্নার অজস্র জলে । মেয়েটার চোখ মুখ লাল টকটকে । কান্নার তোপে কম্পন শুরু হয়েছে অঙ্গে । ফিকড়ে ফিকড়ে উঠছে সে ।
রৌদ্র ধীরে অগ্রসর হয় । নিজের মনের আজগুবি ধারনা থেকে বলে গলা নামিয়ে…..
” ইভারা,, হঠাৎ এমন করছো কেনো আবার । সব ঠিক ছিলো তো ।
আচ্ছা,, তুমি চাও না আমি সুইজারল্যান্ড চলে যাই, তাই তো ? এ কারনেই এমন করছো ? আচ্ছা যাবো না । শোনো,,, কোত্থাও যাবো না আমি । তোমার কাছেই থাকবো । কালকের ফ্লাইট ক্যান্সেল । কোথাও যাচ্ছি না আমি । সব কাজ বাদ । শুধু তুমি সবার আগে । তবুও প্লিজ এমন করো না । আমি সইতে পারি না জানেমান ।
রৌদ্রের ভাঙা স্বর । মেঘা কান্নার মাঝে তাচ্ছিল্য করলো তার অভিনয়ে । কান্না গিলে চোখ মুছলো । ধরে আসছে গলা । না তাকিয়ে ধিক্কার জানিয়ে এভাবেই বললো থেমে থেমে……
” আমি চাই না আপনি আমার কাছে থাকুন । চলে যান আপনি । আর কোনদিন আসবেন না আমার কাছে । কোনো দিন না । চলে যান যেখানে যাওয়ার । চাই না আপনার মতো কাউকে ।
একবিংশী আর থামলো না । উঠে দাঁড়ালো ঝট করে । পায়ের গোড়ে চিনচিন করে উঠলো । সামান্য ব্যাথা পেয়েছে । তোয়াক্কা করলো না । সেভাবেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ছুটলো উপরের দিকে ।
রৌদ্র কেবলই আহত চোখে চেয়ে রয় । সাথে বাকিরাও । রুবিনা কাবির শুধান…..
” একটু আগেও তো মেয়েটা সেজেগুজে তৈরি ছিলো, খুশি ছিলো মেহেন্দির অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য । মাঝপথে কি হলো হঠাৎ ?
” আমি জানি না মম ।
আদ্র চোখ সরু করে রাশভারী গলায় জানতে চাইলো…..
” জানিস না মানে ? আবার কি হয়েছে তোদের মাঝে ? চলে যাওয়াটা এতই বেশি ইম্পর্ট্যান্ট তোর কাছে ? মেঘের থেকেও বেশি ?
বিপরীতে রৌদ্রের অকপট জবাব…..
” ওর থেকে বেশি আমার লাইফে আর কোনো ইম্পর্ট্যান্স নেই । ইনফ্যাক্ট আমার লাইফ ও নয় ।
জাস্ট দু বাক্য । অতঃপর সেও গটগটিয়ে উঠে যায় উপরে । ফেলে যায় কিছু মূর্ত চাহনি । আর সকলের দীর্ঘ শ্বাস ।
,,,,,
রাত্রি দশটা ।
আনমনা হয়ে লাস্ট দেড় ঘণ্টা ধরে একটানা সারার সাথে কথা বলতে ব্যস্ত মেঘা । রাতের ডিনারের পর থেকেই কথা বলতে শুরু করেছে । সারা মন খারাপ করেছিলো মেঘা না যাওয়াতে । একবিংশী মলিন হয়েও কিছু বুঝতে না দিয়ে তার অভিমান ভাঙালো । কতশত গল্পগুজব করলো অসুস্থ মন নিয়ে । ব্যস্ত রাখলো নিজেকে ।
তখন পিছু পিছু রৌদ্র উঠে হাজার চেষ্টা করেছে মেঘার সাথে কথা বলার । কিন্তু মেঘা টু শব্দেও কথা বলে নি । বরং লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়ে মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিয়েছে ঠাস করে । অতঃপর লোকটাও হম্বিতম্বি করে বেরিয়ে গেছে বাড়ি থেকে । এখনো ফেরেনি আর । তার ফিরে আসার আগেই ঘুমিয়ে পড়বে মেঘা । ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো দশটা পনেরো । সারার সাথে কথা শেষ করলো রমনী । ফোন রেখে শুয়ে পড়লো গুটিসুটি হয়ে ।
একলা মনে জেঁকে উঠলো সব দগ্ধ ব্যাথা আর ভুল ধারনার পাহাড় । তবে তার নিকট সত্য সব । সে তো জানে না কিছু । নিজ কানে যা শুনেছে, তাই চিরন্তন । সেই শুরু থেকেই সন্দেহ করে এসেছে । প্রথমে রৌদ্র নিজে মুখ ফসকে বলেছিলো সে বিয়ে করে বাচ্চা সামলেছে , অতঃপর তার ফোনে বাচ্চার ছবি দেখেছে মেঘা, বারংবার রৌদ্রকে হাস্যোজ্জ্বল মুখে চুপিচুপি ফোনে কথা বলতে দেখেছে কারোর সাথে । এসব কি কেবলই ভ্রান্তি ছিলো ?
আর সবচেয়ে বড় কথা রৌদ্র বিদেশ যাবে কেনো ? এতোই দরকারি কাজ তার সেখানে ? কি দরকার, তা তো বলে না ! সে কি করে সেথায় ? সংসার ? দ্বিতীয় সংসার রয়েছে সেখানে তার ? নাকি প্রথম ? মেঘা প্রথম, নাকি সে প্রথম ? কে আসল রৌদ্রের জীবনে ? এতো বছর রৌদ্র সেখানে এমনি এমনি থেকেছে ? শুধু নিজেকে বদলানোর জন্য ? পাঁচ বছর লাগে নিজেকে বদলাতে ? কি বদলেছে ? ফিরেও তো আঘাত করেছে একবিংশীকে ।
বদলই যখন করেছে,, তখন ফিরেই ভালোবাসলো না কেনো ? আঘাতের পর দরদ দেখাচ্ছে এখন ?
প্রেম ফুরিয়ে এসেছে, তাই ফিরে যাচ্ছে বাহানা দিয়ে ? সত্যিটা বলে না কেনো সে ? কি লুকায় ? বোকা মেঘাও অন্ধের মতো বিশ্বাস করে তাকে ।
তবে আজ বিশ্বাসে ছেদ পড়েছে ।
অবশেষে পাকাপোক্ত ভাবে প্রমান পেয়েছে আজ । এর পরেও নিজেকে অবিশ্বাস করে কি করে ?
সব মনে ভাসতেই ভরে উঠলো রমনীর ডাগর দুচোখ । যেনো অগ্নি তাপে জ্বললো আঁখি যুগল । রৌদ্র তাকে ঠকালো ? এতোটা নির্ভুল তার অভিনয় ? ভালোবাসার মায়াজালে ফাঁসালো ? এই মোহে নাকি লোকে অন্ধ থাকে । তবে কি মেঘাও অন্ধ ছিলো এতদিন ?
আর না । মনে মনে অনেক কিছু ভেবে নেয় মেঘা । রৌদ্র তাকে কিছু বলেনি । লুকিয়েছে সত্য !
সেও কিছু শুধোবে না । এবার নিস্তার নেবে সব থেকে ।
রমনী কাঁদলো না আর ।
রৌদ্র আসে মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই । মেঘা আভাস পেলেও নড়লো না । চুপচাপ পড়ে রইলো ।
বেপরোয়া যুবক চেয়ে দেখে তাকে । ঠাহর করে বোঝে, মেঘা ঘুমোয় নি । সে এগিয়ে যায় । কাত হয়ে শুয়ে থাকা রমনীকে টেনে জড়িয়ে নেয় পেছন থেকে । সুডৌল কাঁধের কাছে মুখ গুঁজে ভীষণ কাতর স্বরে আওড়ায়…..
” সরি সুইটহার্ট,, আ’ম রিয়েলি সরি ।
কোত্থাও যাবো না আমি তোমায় ফেলে । সত্যিই বলছি । আর যাবো না ।
বেপরোয়া যুবকের খোঁচা খোঁচা খড়খড়ে দাড়ির খোঁচায় সুপ্ত অনুভূতিতে শিরশির করে উঠলো রমনীর সর্বাঙ্গ । কুঁকড়ে গেলো সে । তবুও অনুভুতির জোয়ারে ভাসলো না আজ । সামলালো উচাটন । বললো গলা চড়িয়ে…..
” ছাড়ুন ।
রৌদ্র ছাড়ে না । উল্টে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নেয় আরো বেশি । গলায় মুখ ডুবিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলে…..
” উঁহু , ছাড়বো না । সরি জান । আর কোনো ভুল করেছি ? কি করেছি বলো ? আমি যাবো না বলছি তো !
” আমি ছাড়তে বলেছি । ছাড়ুন আমায় !
বেপরোয়া যুবক এবারে তাৎক্ষণিক ছাড়লো । উঠে বসলো মেঘা । মুখো ভঙ্গিমা নিরেট । গমগমে কন্ঠ তার । রৌদ্রের চোখে চোখ রাখলো সে । বললো…..
” কাল আপনি চলে যাবেন, তাই তো ?
” না, যাবো না । কোত্থাও যাবো না তোমায় ফেলে ।
” না , আপনি যাবেন । কালকেই যাবেন ।
” যেতে বলছো,,, তুমি রেগে আছো কেনো তাহলে ?
” রেগে নেই তো । যেতে বলছি, তবে একা নয় । আমি যাবো আপনার সাথে ।
রৌদ্র যেনো আঁতকে উঠলো । সূক্ষ্ম চোখ জোড়া বৃহৎ হলো তার । প্রশ্ন সূচকে বললো গলা নুইয়ে…..
” হ্যাঁ ?
” হ্যাঁ ! আমি যাবো । আমাকে নিয়ে যাবেন আপনি ।
” কিন্তু ইভারা,,,
ওকে কথা শেষ করতে দেয় না একবিংশী….
দাপুটে বাণী আওড়ায় গলা কাঁপিয়ে…..
” হয় আমাকে সাথে নিয়ে যাবেন । নয়তো ডিভোর্স দিয়ে মুক্ত করে দিয়ে তবেই যাবেন ।
” ইভারা !!
” আর যদি সেটাও না করেন, তাহলে ফিরে এসে পাবেন না আমায় ।
রৌদ্র তাজ্জব বনলো আকস্মিক এমন কথায় । ঘন পলক ঝাপটালো চোখে । অস্ফুটে বললো…..
” হোয়াট হ্যাপেন্ড ইভারা,,, কি হয়েছে তোমার ?
” কিছু হয়নি । আমি যাবো আপনার সাথে !
” হঠাৎ কেনো ? আর কি বলছো এসব ? কিসের ডিভোর্স ? প্লিজ ইভারা, আই কান্ট টলারেট ইট । মরে যাবো কিন্তু !
মেঘা প্রথম বাক্য ধরে বললো নিজেকে সামলে…..
” হঠাৎ নয় । আপনি বলেছিলেন না , আমার জন্য সংসার সাজিয়ে রেখেছেন ওখানে ? তো আমার সংসারে আমাকে নিয়ে যেতে ভয় পাচ্ছেন কেনো ? আমি আপনার সাথে সংসার করতে চাই রৌদ্র । আপনাকে ছাড়া থাকতে পারবো না একদন্ড । যতদিন আপনি ওখানে থাকবেন , আমিও ততদিন থাকবো আপনার সাথে । যেখানে যাবেন সেখানে যাবো । অভ্যাস হয়ে গেছেন আপনি আমার । আমি যাবো আপনার সাথে । ব্যাস,,, আর কিছু শুনতে চাই না আমি ।
মেয়েটার গলা নিভে এসেছে বলতে গিয়ে । পানি জমেছে আঁখি কোটরে । নাছোড়বান্দা হয়ে জেদ ধরেছে । রৌদ্র যেনো হাঁফ ছাড়লো এতক্ষণে । আর যাই হোক, হয়তো সিরিয়াস কিছু নয় । মেঘা ওকে ছাড়া থাকতে পারবে না , তাই এমন অস্বাভাবিক আচরণ করছে ।
রৌদ্র ওকে জড়িয়ে নিলো । সংকট হীন হয়ে বললো বিনা দ্বিধায়….
” আচ্ছা,,, কিছু শুনতে হবে না তোমায় । আমি নিয়ে যাবো । ওকে ? যেখানে যাবো সেখানে আমার সাথে যাবে তুমি । কাল একসাথে সুইজারল্যান্ড যাবো আমরা । ওকে সুইটহার্ট ? হ্যাপি নাউ ?
মেঘা কিছু বললো না । চোখ ছাপিয়ে যুবকের কাঁধে টুপ করে পানি পড়লো, টেরও পেলো না বেপরোয়া যুবক । বুঝলো না তার রমনীর অন্তঃস্থলের উথাল পাতাল তান্ডব । কিচ্ছুটি টের পেলো না ঘুনাক্ষরেও । বরং আবেশিত কন্ঠে ভালোবাসা প্রকাশ করলো কাঁধে ছোট্ট চুমু এঁকে…..
” আই লাভ সুইটহার্ট !
রমনী ফুঁপিয়ে বলে…..
” বাট আই হেইট ইউ রাইনো মুখো । রিয়েলি আই হেইট ইউ ,, রুডভিক কাবির রৌদ্র ।
গল্প দেওয়ার ইচ্ছে মরে গেছে আমার । আমি গল্পের পর্ব দেওয়ার আগেই AI দিয়ে লেখা পর্ব দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্লাটফর্মে । ইউটিউবেও দিচ্ছেন এক বেয়াদব । সেগুলোর সাথে আমার গল্পের মিল নেই কোনো । পাঠক চরম বিভ্রান্ত এতে । আমার ইনবক্সে অনেক কমপ্লেন আসছে । একেই আমার অনুমতি হীন ফেইসবুকের বিভিন্ন পেজ, ইউটিউব, টিকটক , সব জায়গায় আমার গল্প দেওয়া হচ্ছে । তার উপর এই বাটপারি । অনেক গল্পের অ্যাপে আমার নাম অবধি পরিবর্তন করা হয়েছে । এসব মানা যায় কি করে ভাই ? আমি চুপচাপ থাকি, কিন্তু এখন তাদের স্পর্ধা দেখে অবাক হচ্ছি আমি । লেখকদের কোনো নিজস্বতা নেই ?
আর এমনিতেও তাদের পেছনে লাগার মতো বিন্দুমাত্র ইন্টারেস্ট নেই আমার । আমি ঝামেলা মুক্ত থাকতে চাই সর্বদা । তাই বলছি, আমার পাঠক যারা আছেন , তারা অন্য কোথাও গল্প পড়ে বিভ্রান্ত হবেন না । এটাই আমার পেজ । সবাই ফলো করুন এটাকেই । অন্য কোথাও গল্প না পড়ার অনুরোধ রইল ।
বাই দ্যা ওয়ে,,, এবার সুইজারল্যান্ড চলুন সবাই । না মানে ওখানেই সব হবে । দ্রুত রেসপন্স পূর্ণ করবেন । ওকে পাঠক ? 
#চলবে………
Share On:
TAGS: আসবো ফিরে আবারো, সুরভী আক্তার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ২৯+বোনাস
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৭
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৬৫
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩২
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৬
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৫৫
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ৩
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১২
-
আসবো ফিরে আবারো পর্ব ১৪+বোনাস
-
আসবো ফিরে আবারো গল্পের লিংক